#তোর_শহরে_প্রেম
#নুসাইবা_ইভানা
পর্ব-১৯
মেঘা সামনে তাকাতেই তানিম বলে চিৎকার করে দৌড়ে যায়। ততক্ষণে রিকশার সাথে ধাক্কা লেগে নিচে পরে গেছে। মেঘা তানিমকে ধরে উঠিয়ে বলে,আজকাল তোর ধ্যান কোথায় থাকে?
তানিমের পা সামন্য ছিলে গেছে হাতের কিছু অংশ ও ছিলে গেছে। তানিম দাঁতে দাঁত চেপে বললো, তোর জন্য কোনটা জরুরি। আমি নাকি আমার ধ্যান।
– তুই জরুরি।
– সেটা হলে আগে দেখতি আমার কোথায় লেগেছে।
– ঠিক তো দেখি দেখি তোর কোথায় কোথায় লেগেছে।
– সর তোর আর দেখতে হবে না।
– দেখতে হবেনা মানে কি? আমি না দেখলে কে দেখবে?
– এই তোকে আমি বিয়ে করবো না কিন্তু বলে দিলাম
– তোর করতে হবে না আমি করবো তোকে বিয়ে।
– পালিয়ে যাবো আমি
– সমস্যা নেই সাথে আমি যাবো।
দু’জনে তর্ক করছিলো এমন সময় দু’তিনজন এসে বললো, আপনাদের সাংসারিক ঝগড়া বাসায় যেয়ে করবেন। মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে না।
তানিম বললো, তুই মানেই ঝামেলা।
– সারা জীবন এই ঝামেলা তোকেই বয়ে বেড়াতে হবে।
– এহহহহ শখ কত। তোর শখে সেগুরে বালি।
– সময় হলেই দেখা যাবে এবার চল আমি গাড়ি নিয়ে
এসেছি তোকে পৌঁছে দেই।
– তোর সাথে যাবো না। আমি হেঁটে এসেছি, হেঁটেই যাবো।
মেঘা তানিমর হাত আলতো করে ধরে বলে, এখন আমার সাথে না গেলে রাস্তায় কান্নাকাটি করে মানুষ জড়ো করবো।
তানিম কোন কথা না বলে মেঘার সাথে গাড়িতে বসলো। মেঘা ফাস্টএইড বক্স নিয়ে তনিমের ক্ষতে মেডিসিন লাগিয়ে দিলো। মেডিসিন দেয়া শেষ করে মেঘা বলে, মাঝে মাঝে এমন চোট পাবি আর আমি তোর সেবা করবো। ইয়াহু।
তানিম মেঘার দিকে তাকিয়ে ভাবে,আচ্ছা সব কিছু এতো অদ্ভুত কেনো? যার জন্য আমার অনূভুতি সে হয়তো আমার কথা কখনো চিন্তাতেও আনেনি। আর যাকে এতো করে অবহেলা করছি! সে আঠার মতো লেগে আছে। মনটা কখন যে কি চায় বোঝা দায়।
মেঘা তানিমের সামনে চুটকি বাজিয়ে বলে,কিরে আমি কি দেখতে একটু বেশিই সুন্দর হয়ে গেলাম নাকি। তোর দেখি চোখ সরছেই না।
– দিনদিন পেত্নীর মতো দেখতে হচ্ছিস,সেটাই দেখছি।
– তাড়াতাড়ি বিয়ে করেনে আমাকে দেখবি একদম পরি হয়ে গেছি।
-নামবি নাকি গাড়িতে থাকবি।
– তুই পাশে থাকলে গাড়িতে থাকতেও রাজি।
তানিম মেঘার সাথে কথা না বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাটা শুরু করলো। মেঘাও তানিমের পিছু পিছু গেলো।
______________________________________________
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হবে হবে শেখ বাড়িতে ঘরোয়া অনুষ্ঠান।আজকে সারা আর রায়হান বিয়ে তবে সেটা ঘরোয়া ভাবে। সবাই ব্যস্ত হাতে হাতে কাজ করছে। মেঘাও আছে তাদের সাথে।
ইরা বেগম বললেন, মিফতা কে আসতে বললে হতো- না। পরে জানতে পারলে মন খারাপ করবে বেশি এখন সবটা জানিয়ে দিলেই হয়।
সায়রা বেগম বললেন আমি মিফতাকে সকালেই ফোন করে সবটা বুঝিয়ে বলেছি। মিফতা আর মেহরুবা বিকেলে এসে পরবে।
– ভাবি তুমি মিফতাকে বলে দিতে সাথে করে অনাহিতা কেও নিযে আসতে।
– সেটা তো,স্বরণে ছিলো না। দাঁড়া এক্ষুনি বলছি।
সায়লা বেগম ফোনে কথা বলছেন এমন সময় আদিল সাহেব এসে বললেন, তোমার গুনধর ছেলেকে ফোন করছিলে নিশ্চয়ই। তা সে কোন রাজকার্য করতে গেছে? এখনো বাড়িতে ফিরতে পারলো না।
– আমার সাথে তো কথা হয়নি। তানিম বলেছিলো বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছে। সময় হলে চলে আসবে।
– দেখো সায়লা তোমার ছেলেকে বোঝোও এখন সে ছোট নেই, একন যথেষ্ট বড় হয়েছে। আর তাছাড়া বর্তমান যে পরিস্থিতি কোন সমস্যায় ফেঁসে গেলে। নিজের সাথে আমাদের মানসম্মান ও ধূলিসাৎ করে ছাড়বে।
আদিব হাসন পেছন থেকে বললেন, তুই এসব কথা ভাবিকে কেন বলছিস, আর তাছাড়া তন্ময় এমন কোন কাজ করবে না। কারণ ও আমাদের আদর্শে বড় হয়েছে।
– সে যাইহোক এবার বিয়ের আগে যেন ওকে বাসায় উপস্থিত দেখি। নয়তো আমার চেয়ে খারাপ কেও হবেনা।
আদিল সাহেব চলে যেতেই। সায়লা বেগম বললেন, আমাকে একটা কথা বলোতো ভাইয়া ছেলেটা কোথায় গেলো।
– ভাবি এবার তোমার ছেলে কাজের কাজ করতে গেছে। তাই এতো চিন্তা করার কিছু নেই। আর ঠিক সময় মতো চলেও আসবে।
– সে যে কাজেই যাক সময় মত ফিরলেই হবে।
– সময় মতোই ফিরবে।
ইরা বেগম মেঘাকে বলছে, শোন সুন্দর দেখে একটা শাড়ি পরবে। আর শোন এই জিন্স টপস আর পরবেনা। আমাদের বাড়ির মেয়েরা এসব পরেনা। যাও সারার রুমে যেয়ে সারার একটা থ্রিপিস পরে আসো।
মেঘা সম্মতি জানিয়ে চলে গেলো সারার রুমে।
______________________________________________
অনু মাহির মাথায় তেল দিযে দিচ্ছিল এমন সময় দরজায় টোকা পরলো। মাহি বললো তুই বস আমি দেখি কে এসেছে। মাহি দরজা খুলে বোকা বনে গেলো। নিজের চোখ মুছে আবার তাকিয়ে বললো আমি কি ভুল দেখছি?
আব্দুল্লাহ বললো না আপু তুমি ঠিক দেখছো। আমরা দুলাভাইয়ের সাথে এসেছি।
তন্ময় বললো মাহি এনাদের ভেতেরে নিয়ে বসতে দাও।
মাহি সরে দাঁড়ালো তবে এখনো ঘোরের মধ্যে আছে মাহি।
তন্ময় একটু জোড়ে ডেকে উঠলো মিস হিতা।
সাজু বেপারি সহ সবাই তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তন্ময় বুঝতে পারলো গালতি সে মিস্টেক করে ফেলেছে। তাই পূনরায় ডেকে উঠলো, অনু এদিকে আসো তো।
অনু তন্ময়ের মধুর কন্ঠে ডাক শুনে বিষম খেলো। অনু বারান্দা থেকে বেড় হতে হতে বলছে, এই নিমপাতাময় মুখ থেকে মধুর কথাও বের হয়!
– এসব কি বলছো অনু। সেসব কথা রাখো আর দেখো কে এসেছেন।
তন্ময় সামনে থেকে সরে যেতেই অনু নিজের মা’ বাবা-কে দেখে ছুটে যেয়ে তাদের জড়িয়ে ধরে বলে তোমরা সত্যি এসেছো। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
হালিমা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,কাঁদছিস কেনো বোকা মেয়ে। চোখের পানি মুছিয়া দিয়ে বলে, কান্নাকাটির দিন শেষ।
তন্ময় অনুকে উদ্দেশ্য করে বলে,এতোটা জার্নি করে এসেছে ওনাদের কিছু খেতে দাও তা-না করে ফেঁস ফেঁস করে কাঁদছো।
অনু কিছু বলতে চেয়েও বললো না। কারন সে চায়না বাবা মায়ের সামনে খারাপ ব্যবহার করতে। মাহি পানি নিয়ে এসে সবাইকে দিয়ে বলে, এবার হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেতে বসুন।
তন্ময় বললো, মাহি তুমি আঙ্কেল, আন্টির খেয়াল রাখতে পারবে না।
– কেন পারবো না অবশ্যই পারবো। তারাও তো আমার বাবা মায়ের মত।
– অনু তাহলে ওইদিন যে তোমাকে একটা শপিং ব্যাগ দিয়েছিলাম সেখানে একটা শাড়ি আছে পাঁচ মিনিটে রেডি হও এক্ষুনি বেড় হতে হবে। আর হ্যাঁ আব্দুল্লাহও আমাদের সাথে যাবে।
অনু বললো আমি কোথাও যাবো না।
সাজু বেপারি বললেন, জামাই যা বলছে তাড়াতাড়ি তা করো। শ্বশুর বাড়ি সম্মান আগে।
অনিচ্ছা সত্বেও অনু রেডি হয়ে নিলো।অনু শাড়ি পড়ে বের হতেই তন্ময় ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অনুর দিকে নীল জামদানী শাড়ি গোল্ডেন কালার পাড়। যদিও চেহারায় কোন প্রসাধনীর ছিটে ফোঁটাও নেই। তবুও অনুর রুপে জ্বলসে যাচ্ছে তন্ময়। হালিমা বেগম একটা রকেট সহ চেন মেয়ের গলায় পরিয়ে দিলেন, কানে আগে থেকেই একজোড়া ছোট কানের দুল ছিলো।
মাহি তন্ময়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে ভাইয়া মুখ বন্ধ করুন নয়তো মশা ঢুকে যাবে। আর আপনার জিনিস সারাজীবন আপনি দেখতে পারবেন। এক ঘর লোকের সামনে এভাবে দেখতে হবে না।
মাহির কথায় তন্ময় আমতা আমতা করে বলে, এখন আমাদের বেড় হতে হবে নয়তো দেরি হয়ে যাবে।
তিনজনে বাসা থেকে বেড় হলো। তন্ময় আগেই ফোন করে ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছিলো, গাড়িতে ওঠার সময় আব্দুল্লাহ বললো দুলাভাই এটা তোমার গাড়ি?
– হুম শালা বাবু এটা আমার আর তোমার আপির।
– তোমরা তো মেলা বড় লোক।
– আমাদের হৃদয়টা মেলা বড়। কিন্তু আপসোস মানুষজন তা বোঝে না।
অনু বললো বুঝলি ভাই কিছু মানুষের মন গিরগিটির মতো না-না আকাশের মতো যখন তখন রং পাল্টায়।
– শালাবাবু আমাদের মন সচ্ছ কাঁচের মতো। ক
তবে কি বলতো সেখানে সামান্য ধুলো জমে ছিলো। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সেই ধুলো সরে যেয়ে পুরোনো কিছু স্মৃতি ভেসে উঠেছে।
অনু বলল,ভাই মানুষজন এসব কি আজগুবি কথাবার্তা বলে, বুঝিয়ে বলতে বল।
– শালাবাবু যে বুঝেও না বোঝার অভিনয় করে তাকে বোঝানো মুশকিল।
– ভাই আমি যদি বুঝতাম তাহলে মানুষ জনের এতো ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা লাগতো না।
আব্দুল্লাহ কানে হাত দিয়ে বলে, তোমরা ঝগড়া করবা করো আমার কান কেন ঝালাপালা করছো?
তন্ময় বললো………
#চলবে