#বাবুইপাখির_অনুভূতি🕊️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম🕊️
— পর্বঃ৪৫
_________________
কিছুটা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে রিনির বাবা মা ভাই রিনির মুখের দিকে। আর ওদের সামনেই কিছুটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে আছে রিনি কিছুক্ষন আগেই হসপিটাল থেকে এসে বসেছে সে সবার সামনে। রিনির বাবা রিনির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠ নিয়ে বললো,
‘ তুমি তোমার মাকে ফোনে কি বলেছো রিনি যার কারনে অফিস রেখে বাড়িতে আসা লাগলো আমার?’
বাবার কথা শুনে রিনি বেশি কিছু না ভেবে বলে উঠল,
‘ কি বলেছি আমি। আমি শুধু বলেছি আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি ওঁকে বিয়ে করতে চাই ব্যাস।’
রিনির কথা শুনে রিনির মা শাড়ির আঁচলে মুখ লুকিয়ে কান্না ভেঁজা কন্ঠে বলে উঠল,
‘ আমি তোমায় বলেছিলাম না তোমার মেয়ে পাগল হয়ে গেছে। এবার বিশ্বাস হলো আমার কথা।’
রিনির মায়ের কান্না দেখে কিছুটা বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে বললো রিনির বাবা,
‘ তুমি একটু চুপ করবে।’
‘ তোমরা তো শুধু পারোই আমায় চুপ করাতে।’ (রিনির মা)
‘ আরে মা তোমার মাথা ঠিক আছে আমি পাগল হতে যাবো কেন?’ (চরম প্রকার বিরক্ত নিয়ে বললো রিনি)
রিনির কথা শুনে রিনির বাবা বলে উঠল,
‘ তুমিও বা কি বলছো এসব।’
‘ দেখো বাবা তোমরা বরাবরই জানো আমি তোমাদের লুকিয়ে কোনো কিছু করি নি আর আজও করবো না। আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি আর বিয়ে করলে ওঁকেই করবো তবে এর মানে এই নয় যে আজ কালের মধ্যেই করবো। তোমরা যেদিন বলবে সেদিনই করবো আমি শুধু ছেলেটার কথা বলেছি ব্যাস এতটুকুই।’
মেয়ের কথা শুনে কিছুটা হতভাগ হয়ে বললো রিনির বাবা,
‘ ছেলেটা কে শুনি?’
‘ ছেলে খুব ভালো বাবা তোমার পছন্দ হবে।ছেলেটার কথা শুনলে তোমরা খুশিই হবে বাবা। ও একজন ডাক্তার আর তোমার বিজনেস পার্টনার আদ্রিয়ানের ছোট ভাই শুভ। ওই যে সোহান ভাইয়ার ট্রিটমেন্ট যে করেছিল সে।’
মেয়ের এবারের কথা শুনে বেশ অবাক হলেন রিনির বাবা মা আর সোহানও। রিনি তাঁর বাবার উওরের অপেক্ষায় না থেকে বলে উঠল,
‘ আমার শুধু একটাই কথা বাবা, আমি যদি বিয়ে করি তবে শুভকেই করবো নয়তো কাউকে নয়। আর বিয়ে তোমরা যেদিন বলবে সেদিনই করবো। এখন বাকিটা তোমাদের হাতে।’
বলেই নিজের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো রিনি। আর বাকি সবাই শুধু রিনির যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। যেন মেয়ের কাজে বিষন্ন তাঁরা। তবে শুভর কথা শুনে খুব একটা খারাপ লাগে নি রিনির বাবার। এখন দেখা যাক কি হয়?’
______
সময়টা যেন আজ ছুটলো ভীষণ জোরে। কখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল বুঝতেই পারলো না আদ্রিয়ান আর আহি। আজ নিলয় একবারও আসে নি হসপিটালে হয়তো অফিসের কাজে ব্যস্ত সে। আর নীরবও চলে গেছে অনেক আগে। নীরব যাওয়ার পর থেকে আদ্রিয়ানও ভীষণ চুপচাপ, হয়তো শরীরটা ভালো নেই তাঁর। আদ্রিয়ানের চুপচাপ থাকাটা কেন যেন আহি নিতে পারছে না, আদ্রিয়ানের রাগী লুকিংটাই যেন বেশ লাগতো আহির কাছে। হসপিটালের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ কথাগুলো ভাবছে আহি। অথৈ,নীরব, রিনি, শুভ, আদ্রিয়ান সবার কথাই যেন স্মরণীয় হয়ে উঠছে তাঁর। ছোট্ট দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আহি। আর তাঁর সামনেই হসপিটালের বেডে চুপচাপ শুয়ে আছে আদ্রিয়ান দৃষ্টি তাঁর মোবাইলের দিকে।’
এসবের ভাবনার মাঝেই আহির ফোনটা বেজে উঠল উপরে মায়ের নাম্বার দেখে খুশি মনে ফোনটা তুললো সে। আহি ফোন তুলতেই অপরপাশে তাঁর মা বলে উঠল,
‘ কেমন আছিস আহি?
মায়ের কথা শুনে আহি নীরব কন্ঠে বললো,
‘ হুম ভালো তুমি মা?’
‘ হুম ভালো আদ্রিয়ান কেমন আছে?’
আদ্রিয়ানের কথা শুনতেই আহি তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে তারপর বললো,
‘ হুম মোটামুটি সুস্থ মা?’
‘ ওহ তা কবে আসবি ওকে নিয়ে বাড়ি
‘ আসবো মা উনি সুস্থ হলেই।’
‘ ঠিক আছে।’
এরপর কিছুক্ষন এটাওটা নিয়ে কথা বললো দুজন। তারপর বলতে না বলতেই কেটে গেলো আরো কয়েক ঘন্টা।’
রাত_৯ঃ৩০টা…
ভিডিও কলে নিলয়ের সাথে কথা বলছে আদ্রিয়ান পাশেই আহি হাতে খাবার নিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে তাঁকে। আজ অফিসে চাপ থাকায় নিলয় আসতে পারে নি হসপিটালে সাথে তাদের নিউ প্রজেক্টের কাজের জন্য আগামী ১০ বারো ১২ দিনের মধ্যে আদ্রিয়ানকে কিছুদিনের জন্য দেশের বাহিরে যেতে হতে পারে। বিষয়টা নিয়ে প্রায় সবাই একটু চিন্তিত। কারন আদ্রিয়ান এখনো সেইভাবে সুস্থ হয় নি। তবে আদ্রিয়ান বলেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সে হসপিটাল থেকে রিলিজ হয়ে বাড়ি ফিরবে আর যদি বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলেও যাবে সে। যতই হোক অফিসের কাজ বলে কথা। আর এবারের প্রজেক্টটা সাকসেসফুলি পার হলে তার কোম্পানি আরো ভালো একটা পজিশনে যেতো পারবে। এইসব নিয়েই বর্তমানে কথা হচ্ছে আদ্রিয়ানের সাথে নিলয়ের। আহির বেশ বিরক্ত লাগছে জিনিসটায় কারন ডাক্তার আদ্রিয়ানকে কথা কম বলতে বলেছে কিন্তু আদ্রিয়ান তো সেই কখন থেকে বকবক করেই যাচ্ছে। হঠাৎই আহি আদ্রিয়ানকে খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়ে এসে সামনে দাঁড়ালো আদ্রিয়ানের। হুট করেই আহির এমন কাজে কিছুটা অবাক হলো আদ্রিয়ান সাথে আহির দিকে তাকিয়ে বললো সে,
‘ কি হলো’
আদ্রিয়ানের কথা কিছুটা রাগী লুক নিয়ে বললো আহি,
‘ কি হলো মানে কি করছেন আপনি এগুলো?’
আহির কথা শুনে বিস্ময় মাখা মুখ নিয়ে বললো আদ্রিয়ান,
‘ কি করেছি আমি?’
উওরে আদ্রিয়ানের হাত থেকে তাঁর ফোনটা নিয়ে নিলয়কে উদ্দেশ্য করে বললো ,
‘ ভাইয়া আজ আর ওনার সাথে কোনো কথা হবে না বাকি কথা উনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেই করবেন।’
বলেই ফোনটা কেটে দিলো আহি। আহির কাজে এপাশে আদ্রিয়ান আর ওপাশে নিলয় দুজনই প্রায় অবাক। আদ্রিয়ান তো চমকে গিয়ে বললো,
‘ আরে এটা কি করলে তুমি আমার নিলয়ের সাথে ইম্পরট্যান্ট কথা চলছিল।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে রাগী কন্ঠ নিয়ে বললো আহি,
‘ যা করেছি বেশ করেছি আর এক কথা বললে মোবাইল ছুঁড়ে ভেঙে ফেলবো।’
আহির কান্ডে আদ্রিয়ান চোখ বড় বড় করে বললো,
‘ কি বলছো তুমি?’
‘ যা ঠিক তাই বলছি এক্ষুনি সব খাবার শেষ করে চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়বেন তা না হলে আপনার একদিন কি আমার একদিন।’
বলেই খাবার বাটিটা হাতে নিয়ে আবার খাওয়াতে শুরু করলো আহি। আহির কাজে চরমই অবাক আদ্রিয়ান সে বুঝলো না হুট করে এতো রেগে কেন গেল আহি।’
অতঃপর চটজলদি খাওয়া শেষ করে ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো আদ্রিয়ান।’
মাঝরাত তখন, বাহিরে বৃষ্টি পড়ছিল খুব। হঠাৎই আকাশে বাজ পড়ার শব্দ কানে আসতেই ঘুম ভেঙে যায় আহির। চটজলদি শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ালো সে। বাহিরে বৃষ্টি নেমেছে দেখে দৌড়ে গিয়ে আদ্রিয়ানের রুমের জানালা বন্ধ করে দেয় সে। অসময়ে হুট করে এত বৃষ্টির প্রবণতা দেখে প্রায় আঁতকে উঠেছিল আহি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়েছে সে।’
এদিকে,
আবারো সেইম স্বপ্নে আঁটকে ধরেছে আদ্রিয়ানকে,সেই ভাঙাচোরা বাড়ি, রক্তের ছাপ, কুকুরের নিথর দেহ থরথর করে কেঁপে উঠল আদ্রিয়ান। হঠাৎই স্বপ্নের ঘোরে আদ্রিয়ানের বাবা মা এসে বললো তাঁকে,
‘ আমাদের মেরে দিলি আদ্রিয়ান?’ তোকে না হয় একটু রাগ করে শুধু বকেই ছিলাম তাই বলে তুই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি। তুই যদি সেদিন বাড়ি থেকে না বের হতি তাহলে এগুলো কিছুই না। শুভও ছোট থেকে এভাবে অবহেলা পেতে পেতে বড় হতো না। এমন কেন করলি?’
মায়ের কথা শুনে ছলছল চোখে আদ্রিয়ান ওদের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ আমি কিছু করি নি মা আমি তোমাদের কেন মারতে চাইবো বলো।’
উওরে তেমন কিছু না বলে চলে যেতে লাগলো তাঁরা। ওনাদের যেতে দেখে আদ্রিয়ান দৌড়ে ওনাদের দিকে যেতে বললো,
‘ আমি কিছু করি নি মা, আমি কিছু করি নি বাবা প্লিজ তোমরা যেও না,
জোরে চিৎকার দিয়ে কথাগুলো বলতে লাগলো আদ্রিয়ান তাঁর বাবা মাকে কিন্তু তারা শুনলো না। অন্যদিকে হুট করেই আদ্রিয়ানকে ঘুমের ঘোরে চেঁচাতে দেখে আহি এগিয়ে আসলো আদ্রিয়ানের দিকে। থর থর করে কাঁপছে আদ্রিয়ান সাথে কিছু বলছে সে। আহি বুঝতে পেরেছে আজ রাতেও হয়তো আদ্রিয়ান স্বপ্ন দেখছে। আহি গিয়ে বসে পড়লো আদ্রিয়ানের পাশ দিয়ে তারপর বললো,
‘ কি হলো আপনার চোখ খুলুন আদ্রিয়ান?’
কিন্তু না আজ আর চোখ খুলছে না আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানের কাজে আহি কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো আদ্রিয়ানকে তারপর বললো,
‘ ভয় পাবেন না কিছু হয় নি আদ্রিয়ান আমি আছি আপনার সাথে।’
হঠাৎই কারো স্পর্শ আর কন্ঠ শুনে চোখ খুলে তাকালো আদ্রিয়ান সামনেই আহির মুখটা দেখে সে নিজেও জড়িয়ে ধরলো আহিকে তারপর ভয়ার্ত কন্ঠ নিয়ে বললো সে,
‘ আমি আমার বাবা মাকে মেরে ফেলেছি আহি?’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে খুবই বিষন্ন আহি। আদ্রিয়ানকে ধরেই বললো সে,
‘ কিচ্ছু করেন নি আপনি ওনাদের হায়াত ওই পর্যন্তই ছিল।’
কিন্তু আদ্রিয়ান যেন নিজেকে শান্ত করতে পারছে না বার বার তাঁর মায়ের বলা কথাগুলো কানে বাজছে তাঁর। আদ্রিয়ান কান্নাভেজা কন্ঠ নিয়ে বললো,
‘ আমার জন্যই আমার বাবা মা মারা গেছে আহি?’
‘ আপনার জন্য কিচ্ছু হয় নি আদ্রিয়ান আপনি শান্ত হন আর ঘুমানোর চেষ্টা করুন দেখবেন ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর আমি তো আছি আপনার কাছে,
আহির এবারের কথা শুনে শুধু ছলছল চোখে তাকালো আদ্রিয়ান আহির দিকে। আহিও তাকিয়ে রইলো আদ্রিয়ানের চোখের দিকে। আহি চোখের ইশারায় বললো আদ্রিয়ানকে ‘ কিচ্ছু হবে না আমি তো আছি আপনার পাশে’।
উওরে আদ্রিয়ান কিছু বললো না শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো সে আহিকে। বাহিরে মুসল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে, সাথে বারংবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আর এসবের মাঝেই আদ্রিয়ান জড়িয়ে ধরে বসে আছে আহি। আজ ভীষণ খারাপ লাগছে আহির আজ প্রথম আদ্রিয়ানের চোখে পানি দেখলো সে। ছোট্ট দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আহি।’
তাদের সামনেই কালো রঙের গোল বৃত্তের দেয়ালে আঁটকে থাকা ঘড়ির কাটাগুলো টিক টিক শব্দ করে ঘুরতে লাগলো। হয়তো নতুন গল্পের আভাস পাচ্ছে তাঁরা।’
🍁🍁🍁
অতঃপর সেই রাতের পর সময় চলছিল সময়ের মতো। রোজ আদ্রিয়ানের সেবা করা, খাইয়ে দেওয়া আর রাতে আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে থাকা। বিষয়টা যেন কিছুদিনের রুটিন হয়ে গেছে আহির। প্রথম প্রথম জড়িয়ে ধরার বিষয়টায় কেমন কেমন লাগলেও এখন আর তেমন কিছু হয় না আহির যেন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে এগুলো।’
আর এমন করতে করতেই দেখতে না দেখতেই কেটে গেল পুরো এক সপ্তাহ। এখন আদ্রিয়ান প্রায় সুস্থ এর মাঝে দুদিন আগেই আদ্রিয়ানের মাথার ব্যান্ডেজ খুলে দিয়েছে শুভ। আদ্রিয়ান চেয়েছিল সেদিনই বাড়ি যেতে কিন্তু শুভ রাজি হয়নি ভাইকে পুরোপুরি সুস্থ না করে সে কিছুতেই বাড়ি যেতে দিবে না। আজ অষ্টম দিন চলছে আদ্রিয়ানের হসপিটালে আর আজই বাড়ি ফিরবে আদ্রিয়ান আর তাঁর সাথে শুভ, আহিও। যদিও আহি আজ বিকেলেই বাড়ি চলে যাবে। কেন যেন বাড়ি ফেরার কথা শুনে প্রচন্ড খারাপ লাগলো আহির।’
অবশেষে কালো শার্ট, কালো প্যান্ট চুলগুলো ঠিক করে, মাথায় ক্যাপ পড়ে প্রস্তুত আদ্রিয়ান। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো শুভ আর নিলয়। শুভ তো ভাইয়ের এমন গেটাপ দেখে সে বুঝতে পেরেছে আদ্রিয়ান আজ ভিষণই খুশি। শুভ খুশি মনে এগিয়ে এসে বললো আদ্রিয়ানকে,
‘ তুমি আজ খুব খুশি তাই না ভাইয়া?’
‘ হুম কতদিন হলো বল তো একি বেডে শুয়ে আছি শোন বিকেলেই আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিবো তুই আর তোর জিনিসপত্র দুটোই চলে আসিস। আজ থেকে দুইভাই একসাথে থাকবো।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে শুভ খুশি হয়ে বললো,
‘ তুমি সত্যি বলছো ভাইয়া।’
‘ হুম।’
উওরে ভাইকে জড়িয়ে ধরে শুভ। আদ্রিয়ানও ধরে। দুই ভাই আজ ভীষণই খুশি, এই এক্সিডেন্টে একটা জিনিস খুব ভালো হয়েছে সেটা হলো আদ্রিয়ান শুভর দুরত্ব কমে গেছে। আজ নিলয়ও খুশি দুই ভাইয়ের বহু বছরের দুরত্ব কমে গেছে বলে। নিলয় নিজের হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ এখন যাওয়া যাক তবে?’
উওরে আদ্রিয়ানও খুশি হয়ে বললো,
‘ হুম।’
তারপর এঁকে এঁকে আদ্রিয়ান আহি নিলয় আর শুভ বের হলো কেভিন নাম্বার ৫০৪ থেকে। শুভকে এখনই নিজের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল আদ্রিয়ানের। কিন্তু কালকে রাতেই শুনেছিল সে আজ শুভ হসপিটালে ব্যস্ত থাকবে খুব। তাই বিকেলের কথা বলছে শুভকে।
হসপিটালের বাহিরে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিয়ান আহি, শুভ, আর নিলয়। এমন সময় সেখানে আসলো রিনি সবাইকে একসাথে যেতে দেখে খুশি মনে বললো সে,
‘ অবশেষে তবে যাচ্ছো আদ্রিয়ান ভাইয়া?’
‘ হুম সাথে তোমাদের জন্যও সু’খবর আছে একটা।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে শুভ রিনি দুজনেই অবাক হয়ে বললো,
‘ সেটা কি ভাইয়া?’
‘ কি আবার তোমার বাবার সাথে কথা বলে তোমাদের বিয়েটা যাতে তাড়াতাড়ি দেওয়া যায় তারই ব্যবস্থা করবো।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে রিনি বলে উঠল,
‘ সেটা কি করে হয় ভাইয়া আগে আপনি বিয়ে না করলে আমরা কি করে বিয়ে করি যতই হোক আপনি শুভর বড় ভাই?’
‘ ঠিকই তো ভাইয়া তুমি না বিয়ে করলে আমি কি করে বিয়ে করবো।’ (শুভ)
‘ তোমাদের বিয়ের সাথে আমার বিয়ের সম্পর্ক কি?’
‘ সম্পর্ক তো আছেই তবে এসব নিয়ে পড়ে কথা হবে ভাইয়া এখন তুমি বাড়ি গিয়ে রেস্ট নেও।’ (শুভ)
উওরে আদ্রিয়ানও কিছু না বলে গিয়ে বসলো গাড়িতে। আর অন্যদিকে আহি আদ্রিয়ানের বিয়ের কথা শুনে কেমন যেন খারাপ লাগলো তাঁর। আহিকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিনি বললো আহিকে,
‘ তোর আবার কি হলো?’
‘ হুম হ্যাঁ কিছু না তো
‘ তুই যাবি তো আদ্রিয়ানের সাথে?’
‘ হুম আচ্ছা শোন আমি আজ বিকেলেই বাড়ি চলে যাবো তুই অথৈদের বাড়ি চিনিস তো?’
‘ হুম কিন্তু কেন?’
‘ কেন আবার ওঁকে ফিরিয়ে আনতে।’
‘ কি?’
!#বাবুইপাখির_অনুভূতি🕊️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম🕊️
— পর্বঃ৪৬
_________________
অতঃপর হসপিটালের মায়া ত্যাগ করে গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছে আহি, নিলয় আর আদ্রিয়ান। আর ওদের হাত নাড়িয়ে বাই জানাচ্ছে রিনি আর শুভ। প্রথমে আহি অথৈদের বাড়ি যাবে কথাটা একটু অদ্ভুত লাগলেও পরক্ষণেই হাসি মনে মেনে নিয়েছে রিনি। রিনি সেদিন শুভর কথা শোনার পর ফোন করতে চাইছিল অথৈকে ফোন করেও ছিল কিন্তু আবার কেটে দেয় চটজলদি। ভিতরে ভিতরে আনিজি ফিল হওয়ার কারনে আর কথা বলা হয় নি তার অথৈর সাথে। কিন্তু এখন যখন আহি যেতে চাইছে অথৈদের বাড়ি তাহলে সেও সেখানে গিয়েই ক্ষমা চাইবে অথৈর কাছে। রিনি মুচকি হেঁসে তাকিয়ে রইলো আহির যাওয়ার পানে। আর আহিও বেশি না ভেবে কিছুক্ষন রিনি ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে চুপচাপ বসে রইলো গাড়িতে। আর তার পাশেই চুপচাপ বসে আছে আদ্রিয়ান। আর সামনে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে আছে নিলয়। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। হয়তো পুরো রাস্তা নীরবতাতেই কাটবে তাদের।’
আর এদিকে নিলয় ওঁরা যেতেই রিনি বলে উঠল শুভকে,
‘ আমিও তবে যাই এখন?’
রিনির কথা শুনে শুভও বলে উঠল,
‘ এখনই চলে যাবে?’
‘ হুম।’
‘ ঠিক আছে সাবধানে যেও।’
‘ আচ্ছা বাই।’
বলে রিনিও বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলো। আর শুভ সেও কিছুক্ষন রিনির যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে চললো হসপিটালের ভিতরে। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে হবে যে তাঁকে। এখন থেকে আদ্রিয়ানের সাথে থাকবে সে,কথাটা ভাবতেই যেন শুভর চোখে মুখে খুশির ছাপ ফুটে উঠছে বারবার।’
____
অবশেষে সেই নীরবতার মধ্যে দিয়েই আদ্রিয়ানদের গাড়ি এসে থামলো আদ্রিয়ানের বাড়ির সামনে। তারপর আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো আহি আর আদ্রিয়ান। শুধু নামলো না নিলয় কারন তাঁকে এখনই অফিসে যেতে হবে। আদ্রিয়ান বলে দিয়েছে সেও কাল থেকে অফিসে যাওয়া শুরু করবে। নিলয়ও মেনে নিয়েছে কারন এই মুহূর্তে সত্যি আদ্রিয়ানের প্রয়োজন আছে অফিসে।’
আদ্রিয়ান আহি নামতেই নিলয় ওদেরকে বাই জানিয়ে চলে গেল নিজের গন্তব্যের দিকে। আর আহি আদ্রিয়ান চললো বাড়ির ভিতরে। শুরুতেই আদ্রিয়ান বাড়ির দরজা খুলে আস্তে আস্তে গিয়ে বসলো সোফায়। আর আহি আশেপাশে চোখ বুলায় চারদিকে, চারপাশে পর্দা থাকায় পুরো বাড়িটায় যেন অন্ধকারে টুইটুম্বর হয়ে আছে আহি শুরুতেই তাঁর হাতের ব্যাগটাগুলো নিচে রেখে এগিয়ে যায় সামনে তারপর আস্তে আস্তে সরিয়ে দেয় থাইগ্রাস জড়িয়ে থাকা সাদা পর্দাগুলো। পর্দা সরাতেই পুরো রুম যেন আলোতে আলোকিত হয়ে গেছে। পর্দা সরাতেই সর্বপ্রথম আহির যেদিকে চোখ যায় সেটা হলো সুইমিংপুল। এই সুইমিংপুলটাকে আগে দেখে নি আহি এর আগের বার যখন প্রথম আদ্রিয়ানের বাড়ি দেখছিল তখন এদিকটা খেয়াল করে নি সে। এক ধমকা হাওয়া বয়ে আসলো রুম জুড়ে। আহি রুমের পর্দা সরিয়ে দিয়ে বললো আদ্রিয়ানকে,
‘ এখন বলুন আপনি কি খাবেন?’
‘ আমি কি খাবো তাঁর চেয়ে তুমি বলো তুমি কি খাবে আমি অর্ডার করে দিচ্ছি।’
‘ কি সারাদিন শুধু বাহিরের খাবার খান, কোনো কিছু অর্ডার করতে হবে না আজ বাড়িতে রান্না হবে।’
আহির কথা শুনে বেশ অবাক হয়েই বললো আদ্রিয়ান,
‘ কিন্তু তা কি করে সম্ভব, এখানে রান্না করার মতো কেউ নেই আহি।’
‘ কে বলেছে কেউ নেই আমি আছি না।’
আহির কথা শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললো আদ্রিয়ান,
‘ মানে?’
‘ মানে আজ আমি আপনাকে রান্না করে খাওয়াবো।’
‘ কিন্তু আহি?’
‘ কোনো কিন্তু নয়। আচ্ছা আপনার বাড়ির রান্না ঘরটা কোনদিকে বলুন তো, এর আগে যখন এসেছিলাম তখন রান্নাঘরটা দেখা হয় নি?’
আদ্রিয়ান কিছু বলবে তাঁর আগেই আহি বলে উঠল,
‘ যাগ গে আপনি বাদ দিন আমি নিজেই খুঁজে নিচ্ছি।’
বলেই এগিয়ে যায় আহি সামনের দিকে। আর আদ্রিয়ান জাস্ট হা হয়ে তাকিয়ে থাকে আহির যাওয়ার পানে সে ভাবে নি এমন কিছু হবে।’
রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আহি কিন্তু রান্নাঘরের অবস্থা দেখে নিরাশ সে। কারন সে বুঝতে পেরেছে এই জায়গাটার ব্যবহার তেমন কেউ করে নি। আহি এগিয়ে যায় ফ্রিজের দিকে কিন্তু ফ্রিজ খুলে আরো নিরাশ যেন সে। কারন ফ্রিজ পুরো ফাঁকা, আশেপাশের সবকিছুর দিকেই চোখ বুলিয়ে দেখলো আহি কিন্তু রান্না করার মতো তেমন কিছুই মিললো না। অবশেষে আহি বুঝতে পারলো এখন কিছু রান্না করতে হলে সর্বপ্রথম তাকে বাজার করতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ আহি কিছুটা নিরাশ হয়ে চলে যায় আদ্রিয়ানের কাছে। আদ্রিয়ান জানতো আহি নিরাশ হয়েই বেরিয়ে আসবে রান্নাঘর থেকে কারন লাস্ট কবে আদ্রিয়ান বাজার করেছিল তাঁর মনে নেই। বাহিরের খাবার খাওয়াতেই অভ্যস্ত আদ্রিয়ান তাই সেইভাবে কখনোই বাজার করা হয় নি তাঁর, কারন নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ার প্রয়োজন কখনোই পড়ে নি তাঁর। আহিকে দেখেই বলে উঠল আদ্রিয়ান,
‘ কি হলো রান্না করবে না?’
‘ কি রান্না করবো আমি রান্নাঘর তো পুরোই ফাঁকা।’
‘ সেটা আমিও জানি লাস্ট কবে রান্না করার জন্য কিছু কিনেছিলাম মনে নেই। যাগ গে এখন বলো কি খাবে আমি অর্ডার করে দেই।’
আদ্রিয়ানের কথার তেমন উওর না দিয়ে বলে উঠল আহি,
‘ চলুন আমার সাথে?’
আহির কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে বললো আদ্রিয়ান,
‘ কোথায় যাবো?’
‘ বাজার করতে।’
আহির এবারের কথা শুনে আদ্রিয়ান চোখ বড় বড় করে বললো,
‘ হোয়াট?’
____
শহরের অলিগলি পথ পেরিয়ে অবশেষে আদ্রিয়ান আর আহি এসে দাঁড়ালো একটা বড়সড় বাজারের ভিতর। অনেক লোকের আগমন সেখানে, এত মানুষের ভিড় দেখে কেমন যেন লাগছে আদ্রিয়ানের। এইসব জায়গায় ভুল করেও কখনো আসা হয় নি আদ্রিয়ানের। আদ্রিয়ান আশেপাশের পরিবেশ দেখে বলে উঠল আহিকে,
‘ আর ইউ শিওর আহি আমরা এটার ভিতরে ঢুকবো?’
‘ হুম আপনি জানেন না এখানে কম মূল্যে ভালো পন্য পাওয়া যায়।’
‘ এর চেয়ে আমরা কোনো সুপারশপে গেলে ভালো হতো না আহি?’
‘ কি যে বলেন ওখানে সবকিছু একদরে বিক্রি করে আর এখানের চেয়ে ডাবলদামে।’
‘ তাতে কি হইছে?’
‘ কি হইছে মানে শুধু শুধু বেশি টাকা খরচ করবো কেন চলুন তো আমার সাথে,
বলেই আদ্রিয়ানের হাত ধরে চললো আহি বাজারের ভিতরে। আর আদ্রিয়ানও কোনো উপায় না পেয়ে মুখে মাস্ক পড়ে চললো আহির সাথে।’
শুধুতেই সবজির দোকানের সামনে গেল আদ্রিয়ান আর আহি। আহি আশেপাশের সবকিছু দেখে চোখ গেল করলার দিকে, তাজা তাজা করলা দেখে বললো সে,
‘ করলার কত করে?’
‘ জ্বী ৭০ টাকা।’
লোকটার কথা শুনে আদ্রিয়ান বলে উঠল,
‘ তাহলে আমাদের ২ কিলো দিয়ে দিন।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে দোকানদারও মাপতে শুরু করলো করলা আর আহি একবার আদ্রিয়ানের দিকে বললো,
‘ আপনার কি মাথা ঠিক আছে সত্তর টাকা দিয়ে করলা কিনবো ৪০ টাকার উপরে একটাকাও দিবো না।’
আহির কথা শুনে দোকানদার হতাশ হয়ে বললো,
‘ এডা কি কইলেন আফা?’
‘ যা বলেছি তাই দিলে দিন না দিলে অন্যদোকান থেকে কিনবো।’
বলেই আদ্রিয়ানের হাত ধরে অন্যদিকে যেতে নিলো আহি। আহিকে যেতে দেখে দোকানদারও বলে উঠল,
‘ দাঁড়ান দিতাছি।’
দোকানদারের কথা শুনে আহিও খুশি হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো সেখানে আর আদ্রিয়ান তো চরম প্রকার অবাক। দোকানদারের করলা মাপা দেখতে দেখতে আবারো বলে উঠল আহি,
‘ এই শাক কত করে?’
‘ ৪০ টাকা।’
‘ হুম ২৫ টাকার নিচে একটুও হবে না।’
এমনই করতে করতে বিভিন্ন পদের জিনিসপত্র কিনলো আহি আর আদ্রিয়ান শুধু হা হয়ে তাকিয়ে রইলো আহির কাজের দিকে কারন দোকানদার যেটারই দাম বলছে আহি সবকিছুই অর্ধেক অর্ধেক দাম বলছে? এভাবে পুরো বাজার ঘুরে এটা ওটা কিনে চললো আহি আর আদ্রিয়ান বাড়ির উদ্দেশ্যে। আজ প্রথমই আদ্রিয়ান এমনভাবে বাজার করার দৃশ্য দেখলো।’
____
রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের কাজ করছে আহি আর ওর পাশেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিয়ান। এমনটা নয় আহি রান্নাবান্না জানে না,টুকিটাকি যা জানে তাই সেভাবেই কাজ করছে সে। মাছ,ভাত, করলা ভাজি, আর ডাল এগুলোই রান্না করবে আহি। ভাত আর ডাল রান্না করা শেষ এখন শুধু মাছ আর করলা ভাজি বাকি। ঘেমে পুরো একাকার হয়ে গেছে সে তারওপর চুলগুলো খোলা। এই মুহূর্তে আহির বিরক্ত লাগছে নিজের ওপর, কেন সে কাজ শুরু করার আগে তাঁর চুল বেঁধে নেয় নি,সামনের চুলগুলোও তাকে বার বার বিরক্ত করছে আর বার বার হাত দিয়ে সেগুলোকে সরাতে সরাতে অতিষ্ঠ আহি।’
অন্যদিকে আহির এমন কাজ দেখে আদ্রিয়ান কিছু একটা ভেবে বেরিয়ে যায় রান্না ঘর থেকে। তারপর সোফার উপর আহির ব্যাগ থেকে একটা রাবার ব্যান্ট বের আবার চলে যায় আহির কাছে। তারপর আহির পিছনে দাঁড়িয়ে ওর সামনের চুলগুলোও পিছনে নিয়ে এসে সুন্দর করে সব চুলগুলো বেঁধে দিতে লাগলো আদ্রিয়ান।’
হুট করেই কিছুর স্পর্শ পেতেই চমকে উঠলো আহি পরক্ষণেই পিছনে আদ্রিয়ানকে দেখে তেমন কিছু ভাবলো না আহি। অন্যদিকে আদ্রিয়ান নিজের কাজ শেষ করে এসে দাঁড়ালো আবার কিছুটা দুরত্ব নিয়ে আর আহি আদ্রিয়ানের কাজে মুগ্ধ হয়ে আনমনেই মুচকি হেঁসে নিজের কাজে মন দিলো। আদ্রিয়ান শুধু তাকিয়ে রইলো আহির কাজের দিকে আজ প্রথম বোধহয় ঘরের রান্না খাবে আদ্রিয়ান তাও আবার আহির হাতের।’
অনেকক্ষন পর,
আহি তাঁর কাজ শেষ করে পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করে জোরে এক নিঃশ্বাস ফেললো। তারপর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো সে,
‘ এখন তবে আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন তারপর আপনাকে খেতে দিচ্ছি আমি।’
উওরে আদ্রিয়ানও খুশি মনে বললো,
‘ ঠিক আছে তুমিও যাও?’
‘ হুম, আপনি যান এই খাবারগুলো টেবিলে রেখে আমিও যাচ্ছি।’
উওরে আদ্রিয়ান আর কিছু না বলে চলে গেল নিজের রুমের দিকে।’
____
উপরের রুম থেকে সিঁড়ি বেয়ে ব্লাক ট্রাউজার সাথে এস কালার ফুল হাতার টিশার্ট পড়ে নিচে নেমে আসতে লাগলো আদ্রিয়ান, চুলগুলো এলেমেলো তাঁর। আর এদিকের নিচের সোজাসুজি রুম থেকে কিছুটা দ্রুত গতিতে, ভেজালো চুল, সাথে ওয়াইট থ্রি-পিচ পড়ে এগিয়ে আসছিল আহি কারন সে ভেবেছে তাঁর আগেই হয়তো আদ্রিয়ান ডাইনিং টেবিলে পৌঁছে গেছে। আর এই দ্রুত গতিতে আসাটাই তাঁর ভুল ছিল কারন হঠাৎই পা পিছলে পড়ে যেতে নিলো আহি।’
অন্যদিকে তাঁর থেকে অল্প কিছুটা দুরত্ব নিয়েই এগিয়ে আসছিল আদ্রিয়ান হঠাৎই আহিকে পড়ে যেতে দেখে চটজলদি ধরলো সে আহিকে। আর সেই মুহূর্তেই বাড়ির ভিতর ঢুকলো শুভ আর রিনি। বাড়ির ভিতর ঢুকতে না ঢুকতেই এমন এক রোমান্টিক সিন দেখবে না তাঁরা ভাবতেই পারে নি। আর আদ্রিয়ান আহি তারাও ভাবেনি এইসময়ই শুভ আর রিনি এসে পড়বে এখানে, চারজনই প্রায় অপ্রস্তুত হয়ে তাকিয়ে রইলো এঁকে অপরের দিকে….
!
!
!
!
!