#হয়তো_তোমারি_জন্য💙
#পর্ব_০৪
#লেখিকা_আয়ানা_আরা (ছদ্মনাম)
[ কারো কারো আয়ানা নাম নিয়ে অভিযোগ তাই আয়ানার বদলে ইনশিরা রাখা হলো]
চারদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজমান। বাহিরে শা শা বাতাস বইছে। ইনশিরা আর আয়াশ পাশাপাশি বসে আছে। নিরবতা ভেঙে ইনশিরা বলে উঠলো,”আয়াশ ভাই আপনি আমাদের বাসায় কেনো হঠাৎ?”
আয়াশ আগের ভঙিতেই ইনশিরার দিকে না তাকিয়ে বলল,”আমার মামীর বাসায় আমি এসেছি তোর কি এতে?”
ইনশিরা কিছু বলল না ও জানে এই লোক অনেক ঘাড়ত্যাড়া!ও কিছু জিজ্ঞেস করলে উলটা উত্তর দিবে সেটার তাই কিছু না বলাই শ্রেয় মনে করছে ও। ইনশিরা উঠে নিজের রুমে চলে আসে। ফোন হাতে নিয়ে দেখে রামিযাহ্ ফোন করেছে। ওর ফোন উঠাতেই রামিযাহ্ বলে উঠলো,”ইনশিইই!দোস্ত শুন!”
ইনশিরা বিরক্তি নিয়ে বলে,”আরে ভাই চিৎকার করা লাগে? তোর যেই গলা,আমার কানের পর্দা ফেটে যাবে তো।”
রামিযাহ্ বলল,”শুন তুই কি গ্রুপে ঢুকস?না মানে তোকে আমার ভিনদেশি প্রানী মনে হয়?কতো কিছু হয়ে গেছে কিছুই তো মনে হয় জানিস না।”
“কথা না ঘুরিয়ে সোজা সোজি বললেই তো পারো! এতো কথা ঘুরানো লাগে?”
রামিযাহ্ শয়তানি হেসে বলে,”হেহে ঘুরতে যাবো চট্টগ্রাম!আগামী শনিবার। স্যাররা বলছে স্টাডি ট্যুরে নিয়ে যাবে।দুইদিনের জন্য, পরীক্ষার আগে যাতে সবার মাইন্ড ফ্রেশ থাকে।পরীক্ষাও ভালো হবে।”
“আচ্ছা এতে লাফানোর কি আছে?ওয়েট ওয়েট তুই কি ভাবছিস ওইখানের কাউকে পটাবি?”
রামিযাহ্ রেগে বলে,”যাহ তো!তোর মাথায় খালি কেনো আসে আমি ছেলে পটাবো?”
ইনশিরা বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে বলে,”তোর এইগুলা ছাড়া কি কোনো কাজ আছে?🤔”
“আরে ভাই ছবি তুলবো তাই একটু বেশি উত্তেজিত। তুই একটু বেশিই বুঝিস।”
ওর সাথে কিছুক্ষন কথা বলে রেখে দেই।
১০.
পরেরদিন_
বট গাছের নিচে গরমে ঘেমে একাকার আর স্যার ভাষণ দিচ্ছেন। সবার হাতেই সবুজ আর বেগুনি কালার বেলুন। স্যারের কথা বলা শেষ হতেই সবাই ছুট লাগালো ক্লাস রুমের উদ্দেশ্যে। গরমে সবাই অস্থির পুরো রোদের মাঝে নিয়ে দাড় করিয়ে রেখেছিলো ইনশিরাদের।
ক্লাস রুমে এসে সবাই বেলুনগুলো ফুটাতে লাগলো। ইনশিরা ভ্রুকুচকে বলে,”ভাই ফুটাবাই যদি তাহলে দিলা কেনো?”
ওদের ইনশিরার কথায় ভ্রুক্ষেপ নেই তারা নিজেদের মতো বেলুন ফুটাচ্ছে। বেলুন ফুটানো শেষে যে যার জায়গায় বসে পরে।
ক্লাস শেষ করে ওরা ভাবে শপিং এ যাবে। ইনশিরা বাসায় ফোন করে জানিয়ে দেয়।
সবাই এক জোট হয়ে মার্কেট করতে ব্যস্ত। সাবা ইনশিরাকে বলল,”ব্রো দেখ ওইটা তোর সেলেব্রিটি ভাই না?”
ইনশিরাও ভালো করে তাকিয়ে দেখলো হ্যা ওইটাই আয়াশ। ও ভেবে পাচ্ছে না আয়াশ এইখানে কেনো?ইনশিরা সাবাকে বলল,”উনি তো মাস্ক পড়া তুই কিভাবে বুঝলি?”
“হেহ আমি ছোট মাছ খাই চোখের জন্য তুই তো খাস না তাই দেখিস নি। বাই দা রাস্তা তোর ভাই সিকিউরিটি এইসব নিয়ে ঘুরে না কেনো?নরমাল সেলেব্রিটিরা তো সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে।”
ইনশিরা মুচকি হেসে বলল,”সবাই কি এক নাকি?উনি ওইভাবেই ঘুরে যাতে কেউ উনাকে চিন্তে না পায় আবার মানুষ চিনলেও কি ডিস্টার্ব করবে নাকি তাকে?”
“হ্যা তাও ঠিক যাই হোক তোর ভাই এইখানে কি কিনতে আসছে সেটা তো বললি না?”
ইনশিরা সাবার দিকে তাকিয়ে বলে,”আমি কি উনার বডিগার্ড নাকি যে জানবো উনি কেনো এসেছে?”
“আচ্ছা জানা লাগবে না চল ওরা আগে চলে গেছে!”
বলে হাঁটা ধরলো তারা। ইনশিরার চোখ বার বার আয়াশের দিকে যাচ্ছিলো ভাবছে এই লোক এইখানে কি করছে কি কিনতে এসেছে কার জন্যই বা কিনতে এসেছে?হাজারো ভাবনা মাথা নিয়ে শপিং করে বাড়ি ফিরলো।
🍁🍁🍁
২০/১১/২০২১
আজ সন্ধ্যায় তারা বের হবে। বাস দিয়ে যাবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের এক হোটেলে দুইদিন থাকবে তারা। ইনশিরা অনেক খুশি। উনিশ তারিখ থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলো তবুও কেনো যেনো ওর মনে হচ্ছে কিছু ভুলে গিয়েছে।
সন্ধ্যায় সাবাকে আর ইনশিরা একসাথেই বের হয় বাস স্টেশনে যাওয়ার জন্য।
১১.
বাস স্টেশনে ওরা দাঁড়িয়ে আছে। এক এক করে সবাইকে সিটে বসাচ্ছে। ইনশিরা আর সাবা একসাথে বসবে। জোয়াইরিয়া আর রামিযাহ্ একসাথে। ওরা বাসে বসে পরে। রামিযাহ্ একটার পর একটা সেলফি তুলতেই থাকে জোয়াইরিয়া বিরক্তি নিয়ে বলে,”ভাই ওকে তোরা নিজেদের সাথে বসা না প্লিজ!”
রামিযাহ্ ভ্রুকুচকে বলে,”কি হয়েছে তোর ছবি তুলবি?তো আয় দুইজন মিলে তুলি।”
“তোর সাথে কথা বলাও বেকার।”
বলে জানালার দিকে তাকালো। সাবা আর ইনশিরা মিটমিটিয়ে হাসছে। সবাই বসার কিছুক্ষন বাদেই বাস ছেড়ে দেয়।
🍁🍁🍁🍁
বাস চলছে নিজের আপন মনে। চারদিকে শীতল বাতাস বইছে। সিটে হেলান দিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখছে ইনশিরা। তার কাছে যেনো এই দৃশ্য দেখতে অসাধারণ লাগছে।
বাকি সবাই ঘুম একমাত্র ইনশিরা বাদে। ও এক ধ্যানে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে ওরও চোখ লেগে আসতে থাকে।
দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা জার্নির পর এসে পৌছায় চট্টগ্রাম। হোটেলে যার যার রুমে ঢুকতেই সবাই ঘুমিয়ে পরে।
রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই!সবাই পরে পরে ঘুমাচ্ছে। ইনশিরা ফ্রেশ হয়ে নিজেও ঘুমিয়ে নেয় যাতে সকালে ঘুম না আসে।
সকালে_
সবাই বসে নাস্তা করছে। নাস্তা শেষেই Foy’s Lake নামক এক জায়গায় যাবে তারা।
যেই বলা সেই কাজ,,তারা বেরিয়ে পরে তাদের গন্তব্যে। foy’s lake পৌছে রামিযাহ্ এক নাগারে ছবি তুলতে থাকে।
সাবা বলে উঠলো,”আচ্ছা চল না আমরা ওদিকে যাই মনে হয় ওই জায়গাটা এইখান থেকে বেশি সুন্দর।”
ওর কথায় সবাই সায় জানায়। সবাই লেক থেকে একটু দূরে হাঁটা ধরলো। হঠাৎই ওদের সবার চোখ আটকে যায় শুটিং সেটের দিকে। শুটিং চলছিলো। এতো সুন্দর জায়গায় শুটিং করাটাই স্বাভাবিক। সবাই কৌতুলহল চোখে উকিঁ মারতেই যাকে দেখলো তাকে দেখে হতভম্ব! কারণ এখানে আয়াশও আছে। ইনশিরা বিস্ফোরিত নয়নে বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলে,”উনি এইখানে কেনো?উনাকে তো কালকেও আমি বাসায় দেখেছিলাম তাহলে এতো দ্রুত কিভাবে এইখানে এসেছে?”
“তোর ভাই তুই জানিস।”
ইনশিরা কিছুক্ষম চুপ থেকে বলল,”চল এইখান থেকে ওরা সবাই নাহলে আমাদের খুজতে খুজতে এইখানে চলে আসবে।”
ওরা আগের জায়গায় এসে দাড়ালো। তবুও ইনশিরার মাথায় অনেক ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে।কাল আসার সময়ও তো আয়াশকে দেখেছিলো তাহলে কিভাবে এইখানে ও?টিচারের ডাক পড়তেই ও ওদের কাছে চলে গেলো।
তারপর তারা Ethnological Museum এ গেলো। জায়গাটাও অসম্ভব সুন্দর। সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত মিউজিয়ামের।
সারাদিন ঘুরে বিকালে হোটেলে এসে পৌছালো। কাল সন্ধ্যায় আবার ঢাকার জন্য ব্যাক করবে তারা। ইনশিরা তো ভেবেই রেখেছে ঢাকায় গেলেই আয়াশকে জিজ্ঞেস করবে ও এইখানে কি করছিলো?
১২.
“জানিস যখন শুটিং চলছিলো তখন তোকে জানি কারা দেখছিলো।”
আয়াশ মাত্রই বসছিলো চেয়ারে তখনই কারো এমন কথায় তার দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে বলল,”কে ছিলো?”
“আমি মেইবি একটা মেয়েকে তোর ফোনে দেখেছিলাম ও ছিলো!”
আয়াশের বুঝতে বাকি রইলো না নিনিকা কার কথা বলছে। ও হেসে বলে,”হ্যা হয়তো ও এইখানে এসেছিলো স্টাডি ট্যুরে। আর ও জানে না ওর বের হওয়ার এক ঘন্টা পরেই আমি বেরিয়েছিলাম এইখানে আসার জন্য তাই হয়তো অবাক হয়েছিলো।”
“হুম ও কে দেখে তাই মনে হচ্ছিলো। আচ্ছা থাক তুই রেস্ট নে আমি যাই।”
নিনিকা আয়াশের ফ্রেন্ড। আয়াশের সাথেই কাজ করে ও।
আয়াশ ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিয়ে গ্যালারিতে যায়।
#চলবে
[