#বাবুইপাখির_অনুভূতি🕊️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম🕊️
— পর্বঃ২৭
_________________
বৃষ্টির মধ্যে আহিকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির দিকে অগ্রসর হচ্ছে আদ্রিয়ান। আহিকে কোলে নেওয়ার ফলে হাতের ছাতাটাকে নিচে ফেলে দিয়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে সেটা মাটিতে গোড়াগুড়ি খাচ্ছে। আদ্রিয়ান আহিকে কোলে নিয়ে সোজা গাড়িতে বসিয়ে দিলো তারপর চটজলদি ছাতাটা মাটি থেকে উঠিয়ে সেটা বন্ধ করে গাড়ির ভিতর নিয়ে নিলো সে। তারপর সেও গিয়ে বসলো গাড়িতে। বৃষ্টিতে ভিজে গেছে সেও, আদ্রিয়ান চটজলদি গাড়িতে বসে গাড়ির দরজা আঁটকে বলে উঠল ড্রাইভারকে,
‘ চলো?’
‘ বাড়ি যাবেন স্যার?’
ড্রাইভারের কথা শুনে আদ্রিয়ান কিছুক্ষন ভেবে বললো,
‘ হুম বাড়িই চলো।’
উওরে ড্রাইভার আর বেশি কিছু না বলে গাড়ি চালাতে শুরু করলো। আর আদ্রিয়ান আহিকে ঠিক মতো ধরে চুপটি করে বসে রইলো গাড়িতে। বৃষ্টিতে ভিজে পুরো একাকার হয়ে গেছে আহি। চোখে মুখে পানি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে,আদ্রিয়ান তাঁর গায়ের কোটটা খুলে আহির গায়ে জড়িয়ে দিলো। মুখের সামনে থাকা চুলগুলোও হাত দিয়ে সরিয়ে দিল সে। আদ্রিয়ান বুঝতে পারছে না এই মুহূর্তে তার ঠিক কি করা উচিত?’
বাহিরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির গতি এতটাই তীব্র যে এই রাতে গাড়ি চালাতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে ড্রাইভারকে। আকাশটা পুরো ঘন কালো মেঘে ঢেকে আছে। মাঝে সাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এই বৃষ্টির কথা ভেবে আদ্রিয়ানের শ্রীমঙ্গের সেই রাতটার কথা মনে পড়ছে যেই রাতে আহি পথ ভুলে তাঁর কাছে এসেছিল তাঁর খরগোশ ছানাটাকে নিয়ে। আনমনেই হেঁসে উঠলো আদ্রিয়ান। তবে আহির জন্য বেশ খারাপ লাগছে তাঁর। যদিও এসব ভালোবাসার ওপর বিন্দুমাত্র ধারনা নেই আদ্রিয়ানের। কারন সে তো মেয়েদের একদমই পছন্দ করতো না। তবে সব মেয়েদের চেয়ে এই আহি মেয়েটা ভীষণ আলাদা। ভেবেই আদ্রিয়ান তাকালো আহির ভেজালো মুখের দিকে। একরাশ স্রিগ্ধতা ঘেরা যেন এই চেহারায়, মায়াবী টানা টানা চোখ,গোলাপি ঠোঁট আর বেশিক্ষণ তাকালো না আদ্রিয়ান চটজলদি চোখ সরিয়ে ফেললো আহির ওপর থেকে কেমন এক ঘোরে আঁটকে যাচ্ছে সে। আদ্রিয়ান কিছু একটা ভেবে আহির গায়ে জড়িয়ে দেওয়া কোটটাকে উপরে উঠিয়ে মুখ ঢেকে দিলো আহির। এই জিনিসটা কেন করলো আদ্রিয়ান জানে না কেন যেন আহির চেহারাটায় এই মুহূর্তে তাকাতে চাইছে না আদ্রিয়ান।’
বেশ কিছুক্ষণ পর,
আদ্রিয়ানের গাড়ি এসে থামলো আদ্রিয়ানের বাড়ির গেটের সামনে। গাড়ির থামতেই আদ্রিয়ান আহিকে কোলে তুলে ভিতরে চলে গেল। আর ড্রাইভারও গাড়ি পার্ক করে চলে গেল নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।’
____
আদ্রিয়ান আহিকে কোলে করে নিয়ে এসে সোফার উপর শুয়ে দিলো। তারপর কল করলো নিলয়কে। আজ একটু তাঁড়ায় থাকায় নিলয় আগেই বেরিয়ে গিয়েছিল বাড়ি। প্রথম কলে ফোন না তুললেও দ্বিতীয় কল তুললো নিলয় উপরে আদ্রিয়ানের নাম্বার দেখে বেশ অবাক হয়ে বললো সে,
‘ এতো রাতে ফোন দিলি কোনো কি প্রবলেম হয়েছে?’
‘ হুম।’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে চিন্তিত মাখা মুখ নিয়ে বললো নিলয়,
‘ কি হয়েছে?’
নিলয়ের কথা শুনে আদ্রিয়ানও একে একে সব গুছিয়ে বললো নিলয়কে। নিলয় তো সব শুনে অবাক হয়ে বললো,
‘ এখন তবে কোথায় আহি?’
‘ এই তো ড্রয়িং রুমের সোফায় শুয়ে আছে।’
‘ কি ও এখন তোর বাসায়?’
‘ হুম তবে কি করতাম ওই মেয়েটার বাসার এড্রেস জানি নাকি আমি যে পৌঁছে দিবো, আর ওই বৃষ্টির মধ্যে ছেড়ে আসতেও পারছিলাম না তাই নিয়ে এসেছি, এখন কি করবো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে পুরো তারপর জ্ঞান নেই অজ্ঞান হয়ে গেছে।’
‘ এখন এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?’
‘ তুই কি করতো পারোস মানে তোর গার্লফ্রেন্ডরে ফোন লাগা আর ওঁকে নিয়ে আমার বাসায় চলে আয়?’
আদ্রিয়ানের কথা শুনে নিলয় চমকে উঠে হতভম্ব কন্ঠে বললো,
‘ তোর মাথা খারাপ হইছে এত রাতে ওকে কিভাবে আনবো আমার হিটলার শশুর জানতে পারলে আমায় ওখানেই মেরে দিবে তারওপর এতো বৃষ্টি কিভাবে সম্ভব।’
‘ ওতো শতো জানি না আর এমনিতেও ওর তো ডাক্তার আইথিংক খুব বেশি প্রবলেম হবে না।
আধ ঘন্টার মধ্যে তুই আর তোর গার্লফ্রেন্ড দুজনকেই আমার সামনে দেখতে চাই তা না হলে তোর চাকরি শেষ।’
বলেই ফোন কেটে দিলো আদ্রিয়ান। আর আদ্রিয়ানের কাজে নিলয় দু বার ‘হ্যালো হ্যালো’ করে মাথায় হাত দিলো ‘এখন কি করবে সে।’
_____
রুমের মধ্যে পায়চারি করছে আদ্রিয়ান। ভিষণ টেনশন হচ্ছে তাঁর। তাঁর ওপর আহি এখনো ভেজালো অবস্থায় শুয়ে আছে সোফাতে। ঘড়ির কাঁটায় একটার ছুঁই ছুঁই। এখনও নিলয়ের আসার খবর কেউ?’ বাহিরেও বৃষ্টিটা এতটা বেড়ে গেছে যে নিলয়দের আশা সত্যি টাফ। এরই মধ্যে আদ্রিয়ানের বাসার কলিং বেল বেজে উঠল আদ্রিয়ান বুঝতে পেরেছে কারা এসেছে তাই সেও চটজলদি গিয়ে খুললো দরজা। দরজা খুলতেই আরিশা আর নিলয়ের কাঁদা মাখা মুখ দেখে আদ্রিয়ান অবাক হয়ে বললো,
‘ এভাবে ভূত হয়ে এসেছিস কেন তুই?’
উওরে নিলয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,
‘ তুই তো আর কথাই বলিস না, আসার সময় ঠ্যাং উল্টে পড়ে গেছি।’
বলেই হন হন করে ভিতরে ঢুকে গেল নিলয়। আরিশা অনেক আগেই ঢুকে পড়েছিল রুমে। নিলয়ের কথা শুনে আদ্রিয়ান এগিয়ে এসে হেঁসে বলে উঠল,
‘ তুই কি চোখে দেখিস না?’
উওরে নিলয় কিছু বলবে তার আগেই আরিশা বলে উঠল,
‘ ওর শরীর তো পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে কতক্ষণ যাবৎ অজ্ঞান হয়ে আছে আদ্রিয়ান ভাইয়া?’
আরিশার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো আদ্রিয়ান,
‘ আধ থেকে এক ঘন্টা।’
___
কাঁথা মুড়ি দিয়ে বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে আহি কিছুক্ষন আগেই আরিশা আহির ড্রেস পাল্টে ইনজেকশন পুস করে দিয়েছে। যার ফলে এখন আহি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।’
অন্যদিকে বাড়ির দরজায় সামনে দাঁড়িয়ে আরিশা আর নিলয়কে থ্যাংকস জানিয়ে বিদায় জানালো আদ্রিয়ান। আপাতত আদ্রিয়ান টেনশন মুক্ত। কারন আরিশা বলেছে ভয়ের কোনো কারন নেই কালকের মধ্যেই আহি ঠিক হয়ে যাবে। আদ্রিয়ান ছোট্ট শ্বাস ফেলে দরজা আঁটকে দিয়ে গা এলিয়ে দিলো সোফায়। কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে রইলো সে কিছুক্ষন আগে কি কি হলো সব এঁকে এঁকে মনে করতে লাগলো আদ্রিয়ান। আহির লাস্ট কথাটা এখনো বাজছে আদ্রিয়ানের কানে।’
‘ এমন কেন করলে ভাইয়া আমায় কি একটু ভালোবাসা যেত না?’
সাথে সাথে চোখ খুলে ফেললো আদ্রিয়ান। পরক্ষণেই নিরাশ হয়ে ভাবলো সে এক্ষেত্রে তাঁর কি করার। সবারই নিজের নিজের লাইফ আছে। হঠাৎ আদ্রিয়ানের চোখ গেল আহির দেওয়া সেই বিয়ের দিনের গোলাপি খামের লাভ লেটারের চিঠিটার দিকে। সেটা এখনো আদ্রিয়ানের বুক সেলফের ওপরই আছে। এ কদিনে একবারও এটার কথা মনে পড়ে নি আদ্রিয়ানের। আদ্রিয়ান কিছু একটা ভেবে হেঁটে চলে যায় বুক সেলফের কাছে। তারপর আনমনেই চিঠিটা হাতে নিয়ে চলে যায় সে বুক সেলফের পিছনে থাকা টেবিলটার দিকে। বাহিরে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে, মনে হয় না আজ রাতে আর এটা থামবে। আদ্রিয়ান বেশি কিছু না ভেবেই গোলাপি খাম থেকে চিঠিটা বের করলো। তারপর ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করলো সে,
চিঠিটা খুলতেই প্রথমেই যে নামটা ভেসে আসলো আদ্রিয়ানের চোখের সামনে সেটা হলো,
প্রিয় নীরব ভাইয়া,
ঠিক বুঝতে পারছি না তোমাকে আমার অনুভূতিগুলো কিভাবে গুছিয়ে বলবো। লাস্ট বারো বছর যাবৎ তোমাকে শুধু আমার অনুভূতিগুলোই বলতে চাইছি কিন্তু কিছুতেই জেনো বলতে পারছিলাম না। যতবারই ভাবি তোমার সামনে গিয়ে বলবো আমার অনুভূতিগুলোর কথা ততবারই কোনো না কোনো প্রবলেম এসে দাঁড়ায়। তাই আমার এই অনুভূতিগুলো আজ চিঠির মাধ্যমে লিখে তোমায় বলবো। প্লিজ ভিতরে লেখাগুলো পড়ে আবার রাগ করো না।’
তোমার সাথে সেই ছোট্ট বেলায় যখন প্রথম আলাপ হয়েছিল সেদিনই তোমায় খুব ভালো লেগেছিল আমার। আমি পড়ে যাওয়ায় তোমার এগিয়ে দেওয়া সেই হাত এখনো অনুভব করি আমি। এরপর আবার যখন তুমি আমি একসাথে পড়াশোনা করতাম, তুমি আমায় হেল্প করতে অংক বুঝাতে বিশ্বাস করো আমার বেশ লাগতো এখনো লাগে। তোমার সাথে সেই ছোট বেলা কাটানোর প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা স্মৃতি এখনো যেন খুব মিস করি আমি। তোমার মনে আছে সেই ছোট বেলায় যখন আমাদের বাড়ির পিছনের সেই বড় গাছটার কাছ থেকে দুটো বাবুইপাখি কুঁড়িয়ে এনেছিলাম। তাঁরপর দুজন মিলে কত যত্ন করে বড় করেছিলাম। তোমার সাথে কাটানো সেই প্রতিটা মুহূর্তই আমার আজও চোখে ভাসে ভাইয়া। সেই খোলা আকাশের মাঝে ছোটাছুটি করা, ছাঁদের ওপর পা ঝুলিয়ে অনেকটা সময় কাটানো,বাবুইপাখি দুটোকে খাঁচায় বন্দী করে সারাপাড়া ঘুরে বেড়ানো আরও কত কি? সত্যি বলতে ছোট বেলার সেই প্রতিটি মুহূর্তকে আমি আজও অনুভব করি , কারন সেই সময়গুলোতে যে শুধু তুমি আর আমি ছিলাম। তারপর মনে আছে তোমার সেদিন যখন দুটো পাখির মধ্যে একটা পাখি খাঁচা থেকে উঠে গিয়েছিল সেদিন কতটা কষ্ট পেয়ে কাঁদছিলাম আমি কিন্তু তুমি বলেছিলে একটা চলে গিয়েছিল তাতে কি হয়েছে আর একটা আছে তো কাঁদে না বোকা? আমি তোর জন্য আবার আরেকটা পাখি নিয়ে আসবো।– সেদিনের কথাটা শুনে আমার যে কি অনূভুতি ফিল হচ্ছিল তোমার জন্য সেটা বলে বোঝানো যাবে না। সেদিন হয়তো এই অনুভূতিগুলো বুঝি নি আমি কিন্তু আজ বুঝতে পারি ক্ষনে ক্ষনে প্রতিটা মুহূর্তে অনুভব করি। তুমি যে আমার জন্য কতটা জরুরি একটা বিষয় সেটা হয়তো লিখে প্রকাশ করা যাবে না।’
তোমার মনে আছে ওই একটা পাখি চলে যাওয়ার পর তাঁর কিছুদিনের মধ্যেই যখন আর একটা পাখি খাঁচায় বসেই মারা গেলো সেদিন আমি পুরোপুরিই ভেঙে গিয়েছিলাম কিন্তু সেদিনও তুমি আমায় সামলে নিয়ে একটা সুন্দর কুকুর ছানা গিফট করেছিলে। কিন্তু সেটাকেও আমার কাছে রাখতে পারে নি। হুট করেই সেদিন আমায় ছেড়ে চলে গেল। তবে ওর জন্য আমার কষ্ট যতটা হয়েছিল তাঁর চেয়ে খুশি বেশি হয়েছিলাম কারন ওর জন্যই একটা ছেলেকে বাঁচিয়ে ছিলাম আমি।’
আহির এবারের লেখাটা পড়ে আদ্রিয়ানের আর বুঝতে বাকি নেই সেদিনের সেই কুকুর ছানাটা আহিরই ছিল সাথে ওঁকে বাঁচানো আর জড়িয়ে ধরা মেয়েটাও আহিই ছিল। এবার আদ্রিয়ানের কাছে পুরো জিনিসটা পরিষ্কার কেন আহিকে জড়িয়ে ধরতে তাঁর অস্থিরতা কমে যায়। আদ্রিয়ান সেসব বিষয়কে আপাতত দূরে রেখে আবারো চিঠিটা পড়তে শুরু করলো যেখানে লেখা,
আমার সাথেই এমন কেন হয় বলো তো সবসময় আমার প্রিয় জিনিসটা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। তবে তুমি কখনো ছেড়ে যেও না আমায়। আমি যে তোমায় বড্ড বেশি ভালোবাসি ভাইয়া। সেদিনের সেই বাবুইপাখি কেন মারা গিয়েছিল সেটা সেদিন না বুঝলেও এখন আমি বুঝতে পারি ভাইয়া। আমি হয়তো সবকিছু গুছিয়ে বলতে পারি নি তোমায়। আসলে কি বলবো বলো তো আজ চারদিন যাবৎ তোমার জন্য চিঠি লিখছি তাও মন মতো হয়ে উঠছে না। অবশেষে এতটুকুই বলবো,
‘ i really really love you, Do you love me?’
আমি তোমায় ভিষণ ভালোবাসি ভাইয়া, তোমায় নিয়ে যে আমার কত অনুভূতি জড়ানো চিঠিতে লিখে সেগুলো প্রকাশ করা যাবে না। এতত্তো গুলো ভালোবাসা তোমার জন্য। তোমার উওরের অপেক্ষা রইলাম?’
ইতি তোমার প্রিয়,
আহি।’
পুরো চিঠিটা পড়ে আদ্রিয়ান এতটুকু বুঝতে পেরেছে আহির জীবনে এই নীরব ছেলেটি অনেক জায়গা জুড়ে ছিল। কিন্তু এখন ভীষণ খারাপ লাগছে আদ্রিয়ানের। চোখ বন্ধ করে ভাবলো সে,
‘ কেন নীরব আহিকে ভালোবাসলো না, একটু হলেও হয়তো বাসা উচিত ছিল?’
ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আদ্রিয়ান। ঘড়ির কাঁটায় তখন প্রায় আড়াইটার কাছাকাছি বেজে গেছে। আদ্রিয়ান তাঁর টেবিলের পাশে থাকা জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালো আকাশে মেঘেরা এখনো ভড় করে আছে, বৃষ্টির রেশটা আগের চেয়ে কমে গেছে অনেক, সাথে ঠান্ডা বাতাসও বইছে। প্রকৃতির রূপ দেখে আপাতত এতটুকু বুঝতে পেরেছে আদ্রিয়ান ‘আজ রাতে তাঁর আর ঘুম আসবে না।’
একরাশ বিষন্নতা এসে গ্রাস করলো আদ্রিয়ানকে, সাথে অনেকটা মন খারাপ।’
____
পরেরদিন সকালে….
!
!
!#বাবুইপাখির_অনুভূতি🕊️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম🕊️
— পর্বঃ২৮
_________________
সূর্যের কড়া রোদ্দুর মুখে পড়তেই ঘুম ভাঙলো আহির চোখ বন্ধ করেই এদিক৷ থেকে ওদিকে ঘুরলো আহি। তক্ষৎনাত ঘুমের মধ্যেই কাল রাতের কথা স্মরণে আসলো তাঁর। হঠাৎই আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে ছিল এমনটা মনে পড়তেই হকচকিয়ে উঠলো আহি। সাথে সাথে শোয়া থেকে উঠে বসলো সে। তারপর চারদিক তাকাতেই বুঝতে পারলো আহি সে নিজের বাড়ি নয় অন্যকোনো বাড়িতে আছে। আশেপাশে তাকিয়ে হঠাৎই চোখ পড়লো আহির নিজের দিকে পরনে তাঁর ওয়াইট শার্ট সাথে ব্লাক জিন্স। আহি কিছু একটা ভেবেই দু’কান চেপে ধরে এক চিৎকার। কিন্তু আহির চিৎকার শুনে আপাতত এখানে কেউ আসলো না। আহি তক্ষৎনাত বিছানা থেকে নেমে বিস্ময় ভরা কন্ঠ নিয়ে বলে উঠল,
‘ না না এটা হতে পারে না ওই রাগী হনুমান কিছুতেই আমার সাথে এমনটা করতে পারে না। ওহ গড কাল রাতে কেন আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল এখন আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারবো না। এখন আমার কি হবে?’
এ রকম আরো হাজারো আজেবাজে বক বক করতে করতে রুমের মধ্যে পায়চারি করতে লাগলো আহি।’
এভাবে কিছুক্ষন কাটানোর পর আহি হতাশ হয়ে ধপাস করে বিছানায় বসে পড়লো গায়ের শার্টটা দেখলেই রাগ হচ্ছে আহির। সাথে খুব জোরে কান্নাও পাচ্ছে তাঁর। আহি নিরাশ হয়ে চোখ মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে বললো,
‘ ধুর! এখন কি করবো আমি?’ উফ মাথাটা ভন ভন করছে আমার।’
এরই মধ্যে হঠাৎই আহির চোখ গেল তাঁর বিছানার পাশে থাকা একটা চিরকুটের দিকে। আহি বেশ আগ্রহ নিয়েই চিরকুটটা হাতে নিলো। যেটা সকালে আদ্রিয়ান রেখে গিয়েছিল তার জন্য।’
আহি বেশি কিছু না ভেবে চিরকুটের ভাজটা খুলে পড়তে শুরু করলো যেখানে আদ্রিয়ানের লেখা,
‘ মাঝে মাঝে আমরা যেগুলো ভাবি সেগুলো হয় না। আবার মাঝে মাঝে আমরা যা ভাবি তাঁর থেকেও অনেক সময় ভালো কিছু আমাদের জন্য থাকে। আমি জানি তোমার মন খারাপের কারন আসলে কাল সকালেই ভার্সিটিতে তোমার আর নীরবের বিষয়টা দেখেছি আমি। তোমায় শুধু এতটুকুই বলতে পারি মন খারাপ করো না। কিছুদিন নিজেকে সামলাও দেখবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে গেছে। অনেক সময় অনেক কিছু হারিয়েও মানুষ ভালো বা উওম কিছু পায়। তুমিও পাবে শুধু ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখো। আর শোনো নিচে তোমার জন্য ব্রেকফাস্ট রাখা আছে খেয়ে যেও। আর একটা কথা আমি জানি তুমি হয়তো তোমার পরনে আমার শার্ট আর জিন্স দেখে উল্টো পাল্টা কিছু ভাব্বে। উল্টো পাল্টা ভাবার মতো কিছু হয় নি তোমার ড্রেস আমি চেঞ্জ করি নি। কাল রাতে নিলয়ের গার্লফ্রেন্ডকে এনেছিলাম সেই সব করেছে।’
আদ্রিয়ানের এবারের লেখাটা পড়ে ঠোঁটে কামড় দিল আহি। ছি ছি এতক্ষণ সে কি সব উল্টো পাল্টা ভাবছিল। মুহূর্তের মধ্যে আহির ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। আহি খুশি মনে আবারো চোখ রাখলো চিরকুটে যেখানে লেখা,
ভেবেছিলাম আমি যাওয়ার আগে হয়তো তোমার ঘুম ভাঙবে কিন্তু ভাঙলো না তাই আর ডিস্টার্ব করলাম না। ঘুম ভাঙলে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট আর কিছু মেডিসিন আছে ওগুলো খেয়ে যেও। আর হ্যাঁ আবারো বলছি,
মন খারাপ করো না, তোমার চেহারায় মন খারাপ মানায় না। সব সময় হাসবে বুঝলে। হাসলেই তোমাকে সুন্দর লাগে।’ ❤️
ইতি আদ্রিয়ান।’
আদ্রিয়ানের শেষের লাইনটা পড়ে আনমনেই হাসলো আহি।’
‘ এই লোকটা আসলেই খুব ভালো কতবার আমায় হেল্প করলো।’
কথাগুলো ভেবেই আশেপাশে তাকালো আহি। ছোট্ট একটা কাগজে লিখলো সে,
‘ থ্যাংক ইউ’
তারপর সেটাকে সযত্নে বালিশের পাশ দিয়ে রেখে দিলো আহি। তারপর আস্তে আস্তে বিছানার ছেড়ে চলে যায় সে ওয়াশরুমের দিকে।’
____
অফিসে বসে আছে আদ্রিয়ান। তবে মনটা তাঁর পরে আছে আহির দিকে। কাল শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে ছিল সে। সকালে যখন ঘুম ভাঙে তখন ঘড়িতে সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছিল। আদ্রিয়ানের ঘুুম ভাঙতেই ডেলিভারি বয় এসে তাকে ব্রেকফাস্ট দিয়ে যায়। এটা নতুন কিছু নয় রোজ হোটেলের খাবার খাওয়াতেই অভ্যস্ত সে। সকালে ব্রেকফাস্ট বাড়িতে, দুপুরের লান্স অফিসে আর রাতে হোটেল থেকে খেয়ে তারপর বাড়ি যায় আদ্রিয়ান। আজকে সকালে না খেয়েই বেরিয়ে আসে আদ্রিয়ান কারন আহির জন্য খাবার রাখা। তবে অফিস এসেই ব্রেকফাস্টের অর্ডার করেছে আদ্রিয়ান। হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই নিলয় নিয়ে আসবে। আদ্রিয়ান চুপচাপ বসে আছে আর ভাবছে সকালের কথা। আজ একটু অন্যরকম লাগছে নিজেকে। এই ফাস্ট টাইম কোনো মেয়ের জন্য চিরকুট রেখে এসেছে আদ্রিয়ান। সকালে চিরকুট রাখতে গিয়ে আহির ঘুমন্ত মুখের ওপর চোখ আঁটকে গিয়েছিল আদ্রিয়ানের কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে চলে আসে সে।’
এরই মাঝে আদ্রিয়ানের রুমে ব্রেকফাস্ট নিয়ে ঢুকলো নিলয়। সে বেশ বুঝতে পেরেছে সকালের ব্রেকফাস্টটা আহির জন্য রেখে এসেছে আদ্রিয়ান। একটা জিনিস তো পাক্কা আদ্রিয়ান মানুষটা রাগী হলেই মনটা একদম খাঁটি সোনা দিয়ে বাঁধানো। নিলয় ব্রেকফাস্ট নিয়ে এসে রাখলো টেবিলের উপর তারপর বললো,
‘ তোর খাবার।’
কিন্তু উওরে কোনো জবাব দিলো না আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানকে চুপ থাকতে দেখে আবারো বলে উঠল নিলয়,
‘ কি হলো শুনতে পাচ্ছিস না তোর খাবার।’
সাথে সাথে এক প্রকার চমকে উঠলো আদ্রিয়ান কিছুটা হতভম্ব হয়ে বললো সে,
‘ কি?’
আদ্রিয়ানের ‘কি’ শুনে ব্যাগ থেকে খাবার বের বললো নিলয়,
‘ তোর খাবার।’
‘ ওহ।’
‘ হুম।’
বলেই খাবারগুলো বের করে আদ্রিয়ানের সামনে রাখলো সে। আদ্রিয়ানও এঁকে এঁকে সব খাবারগুলো দেখে বললো,
‘ তুই খেয়েছিস?’
‘ হুম তুই খা।’
উওরে আদ্রিয়ান আর কিছু না বলে খেতে শুরু করলো। হঠাৎই আদ্রিয়ানের মনে পড়লো কালকের পিন্সিপালের দেওয়া শুভর কিছু জিনিসের কথা। আদ্রিয়ান তাঁর ড্রয়ার থেকে ব্যাগটা বের করে বললো,
‘ এটার মধ্যে শুভর কিছু জিনিস আছে কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিস কিছু জিজ্ঞেস করলে বলবি পিন্সিপাল দিয়েছে।’
‘ ঠিক আছে।’
বলেই ব্যাগটা হাতে নিয়ে বললো নিলয়,
‘ তুই তবে ব্রেকফাস্ট কর আমি এগুলো পাঠানোর ব্যবস্তা করি।’
‘ ঠিক আছে।’
উওরে নিলয়ও আর কিছু না বলে বেরিয়ে যায় আদ্রিয়ানের রুম থেকে। আর আদ্রিয়ানও চুপচাপ খেতে থাকে।’
_____
সোফার উপর বসে ব্রেকফাস্ট করছে আহি। কিছুক্ষন আগেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে নিজের ওগালো আর এলেমেলো চুলগুলোকে ঠিক করে নিচে চলে আসে সে। আদ্রিয়ানের বিশাল বড় বাড়ি দেখে চোখ যেন চড়ুইগাছ আহির। পুরো বাড়িটাই হাল্কা হাল্কা ঘুরে দেখেছে সে। ভাড়ি ভাড়ি আসবাবপত্রে ঘেরা পুরো বাড়িটা। আহি চটজলদি ব্রেকফাস্ট শেষ করে খাবারের পাশে রাখা মেডিসিনগুলো খেয়ে নিলো। তারপর চটজলদি খাবারের নোংরা হওয়া প্লেটগুলো নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে চলে যায় রান্নাঘরের দিকে। তারপর বেসিন থেকে থালাবাসনগুলো ধুয়ে ঠিকভাবে গুছিয়ে রেখে আবার চলে আসে সে। পুরো বাড়িটা ঘুরতে ঘুরতে আহি চলে যায় ছাঁদের ওপর বিশাল বড় ছাঁদ আদ্রিয়ানের বাড়িটার। ছাঁদের এক কর্নার দিয়ে টেবিল চেয়ার আর একটা দোলনা রাখা। পরিষ্কার ধবধবে আকাশ আহি অল্প কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে জোরে নিশ্বাস ফেলে চলে আসে ভিতরে কারন এখন তাকে যেতে হবে। ভেবেই আদ্রিয়ানের পড়া শার্ট আর জিন্স পড়ে নিজের জামাকাপড় গুলো ব্যাগে ভরে চলে যায় সে।’
.
.
কলিং বেল বাজতেই আহির মা এসে দরজা খুলে দেয়। সামনেই আহিকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না ভেঁজা কন্ঠে বলে সে,
‘ সারারাত কোথায় ছিলি তুই তোর জন্য কত টেনশন হচ্ছিল আমাদের জানিস।’
এরই মধ্যে আহির বাবাও এসে হাজির উনিও চিন্তিত মাখা মুখ নিয়ে বললো,
‘ ছিলি কই তুই সারারাত?’
এখন আহি কি বলবে যে সারারাত সে আদ্রিয়ানের বাড়িতে ছিল। কাল মন খারাপের কারনে বিছানার ওপর মোবাইলটা রেখেই চলে যায় সে হসপিটালে যার কারনে সে ফোনও করতে পারে নি। আহি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,
‘ আরে আরে এত টেনশন করছো কেন আমার কিছু হয় নি। আসলে ওই ফেরার পথেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারনে আমি আঁটকে পড়েছিলাম। তারপর রাস্তায় এক বন্ধুর সাথে দেখা হয় আর তখনই ওদের বাসায় যাই আমি। কাল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার কারনে ফোনটা নিতে ভুলে গিয়েছিলাম তাই তোমাদের কিছু জানাতে পারি নি সরি মা, সরি বাবা।’
‘ ঠিক আছে এখন যা ঘরে তোর খরগোশ ছানা মন খারাপ করে বসে আছে রুমে। রাতে খাবার দিয়েছি তোর শোকে সেটাও খায় নি।’
মায়ের কথা শুনে আহি আর বেশিক্ষণ না দাঁড়িয়ে চটজলদি দৌড়ে চলে যায় তাঁর রুমে। রুমের দরজা খুলেই আহি ‘শিরো’ বলে ডাক দেয়। আহির গলা কানে আসার সাথে সাথেই খাটের তলা থেকে খরগোশ ছানাটা দৌড়ে বেরিয়ে আসে। আহিও খরগোশ ছানাকে দেখে নিচ থেকে খরগোশ ছানাটাকে কোলে নিয়ে বলে,
‘ কি ব্যাপার শুনলাম তুই নাকি আমার জন্য কাল রাতে খাবার খাস নি খিঁদে লাগে নি নাকি।’
বলেই রুম থেকে বেরিয়ে যায় আহি তারপর রান্না ঘর থেকে একটা গাজর এনে দেয় শিরোর কাছে। সেও মজা করে খেতে শুরু করলো। আহি তেমন কিছু না ভেবে খরগোশ ছানাটা নিয়ে চলে যায় নিজের রুমের বেলকনিতে। তারপর কিছুক্ষন ওটাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বলে আহি,
‘ জানিস তো কালকে থার্ড টাইমের মতো চিঠি লিখে নীরব ভাইয়াকে প্রপোজ করতে গিয়েছিলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কি জানিস? নীরব ভাইয়া আমায় নয় অথৈকে ভালোবাসে। এখন আমি কি করি বলতো মন খারাপ হয় কিন্তু কোনো ব্যাপার না আমি ঠিক আছি। ছোট বেলা থেকেই আমার প্রিয় জিনিসগুলো আমার কাছে থাকতে চায় না। প্রথমে সেই প্রিয় দুটি বাবুইপাখি, তারপর কুকুর ছানাটা আর এখন নীরব ভাইয়া। দীর্ঘ শ্বাস ফেললো আহি। তারপর খরগোশ ছানাকে একটা কিস করে বললো আহি,
‘ তুুইও কিন্তু আমার প্রিয় একজন তুই আবার এই বাহানায় ছেড়ে যাস না ঠিক আছে।’
এরই মধ্যে আহির ফোনটা বেজে উঠল ফোনের শব্দ কানে আসতেই আহি খরগোশ ছানাটাকে নিচে রেখে চলে যায় সে রুমে। প্রথম কলটা বিছানা পর্যন্ত আসতে আসতেই কেটে যায় আহির। আহিও বেশি কিছু না ভেবে ফোনটা তুললো উপরে রিনির ১৫টা মেসেজ আর ৬০ টা কল দেখে আহির যেন চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। আহি চটজলদি রিনির নাম্বারে কল করলো কল ঢুকতেই রিনি কল ধরে হতভম্ব কন্ঠ নিয়ে বললো,
‘ কাল থেকে কতগুলো কল করেছি তোকে ধরিস নি কেন? জানিস তোর টেনশনে সারারাত ঘুম হয় নি আমার।’
‘ এতো টেনশন নেওয়ার কি আছে আমি ঠিক আছি।’
‘ তুই সত্যি ঠিক আছিস,আহি?’
‘ আরে বাবা হুম আমি সত্যি ঠিক আছি।’
‘ তাহলে কাল রাতে ফোন ধরিস কেন?’
‘ আরে কাল রাতে বাসায় থাকলে তো ফোন ধরবো।’
আহির এবারের কথা শুনে রিনি অবাক হয়ে বললো,
‘ মানে?’
এরপর আহি সব খুলে বললো রিনিকে। রিনি তো সব শুনে অবাক হয়ে বললো,
‘ আবার আদ্রিয়ান।’
উওরে আহিও বিছানায় ধপাস করে শুয়ে বললো,
‘ হুম, লোকটা রাগী হলেও এমনিতে খুব ভালো বুঝলি। এই নিয়ে তিনবার হেল্প করলো আমায়।’
‘ ওহ খুব ভালো এখন শোন কালকের জন্য মন খারাপ করিস না নীরব ভাইয়া হয়তো তোর ভাগ্যে নেই।’
‘ সেটাই হয়তো আচ্ছা এখন রাখি বুঝলি পরে কথা বলবো।’
‘ ওঁকে।’
‘ হুম।’
বলেই আহি ফোনটা কেটে চোখ বন্ধ করে দেয় হাল্কা ক্লান্ত লাগছে নিজেকে।’
____
আজ দু’দিন পর ভার্সিটি যাচ্ছে আহি। অনেক ভেবে দেখলো সে যা হয়েছে তাতে অথৈর কোনো দোষ নেই। তাই রাগ করে আহি দু’দিন ওর সাথে কথা না বললেও আজ ভার্সিটি গিয়েই আগে অথৈকে খুঁজে ওর সাথে কথা বলবে। লাস্ট দু’দিন আগে কয়েকবার কল করেছিল অথৈ আহিকে। কিন্তু আহি ওয়াশরুমে থাকায় কল ধরতে পারে নি কিন্তু সে যখন পাল্টা কল করছিল তখনই সেটাকে বন্ধ বলে আহি ভেবেছে হয়তো ফোনে চার্জ নেই। তবে এর মাঝখানে কোনো কল আসে নি অথৈর। আর আহিও কল করে নি।’
ভার্সিটির গেট পর্যন্ত রিকশা করে আসতেই ওর সামনে এসে থামলো একটা গাড়ি। গাড়িটা দেখে আহির বুঝতে বাকি নেই এটা রিনিরই গাড়ি। রিনি চটজলদি গাড়ি থেকে নেমে চলে আসে আহির কাছে। তারপর ওকে জড়িয়ে ধরে বলে,
‘ তুই ঠিক আছিস তো দোস্ত?’
‘ হুম এখন চল সবার আগে অথৈর কাছে যাবো।’
অথৈর কথা শুনতেই কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠ নিয়ে বললো রিনি,
‘ ওর কাছে গিয়ে করবি ওর কাছে যাওয়ার দরকার নেই।’
রিনির কথা শুনে আহি রিনির গলা জড়িয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে বললো,
‘ এমনভাবে বলছিস কেন যা হয়েছে তাতে ওর কোনো দোষ নেই ও তো আর গিয়ে নীরব ভাইয়াকে প্রপোজ করে নি বরং নীরব ভাইয়া নিজে এসে ওকে প্রপোজ করেছে তাই এক্ষেত্রে ওর কোনো দোষ নেই। শুধু শুধু ওর সাথে কথা না বলে ভুল করেছি আমি তাই এখন ভুলটাকে শুধরাতে এসেছি।’
বলতে বলতে চলে যায় আহি আর রিনি সাইন্সের ক্লাসের সামনে। কিন্তু অথৈকে না দেখে দুজনেই যেন ভীষণ অবাক। অথৈই তো কখনো ক্লাস মিস দেয় না। আহি অনেক ভেবে চলে যায় লাইব্রেরিতে কিন্তু সেখানেও অথৈই নেই। অথৈকে না দেখে বললো রিনি,
‘ ও তো এখানেও নেই আহি তবে কি ও ভার্সিটি আসে নি আজ?’
রিনির কথা শুনে কেমন যেন লাগলো আহির।’
______
‘ দুপুর বারোটা’
ভার্সিটির হাফটাইম শেষ করে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসে আহি আর রিনি। কেন যেন অথৈর জন্য বড্ড খারাপ লাগছে আহির। তাই আহি ঠিক করেছে এখন অথৈদের বাড়িতে যাবে তাঁরা। যেই ভাবা সেই কাজ রিনির গাড়ি করেই ওঁরা বেরিয়ে পড়ে অথৈদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।’
বেশ কিছুক্ষন পর….
বাড়ির কলিং বেল বাজাতেই অথৈর আপু এসে দরজা খুললো সামনেই রিনি আর একটা মেয়েকে দেখে বললো সে,
‘ রিনি তুমি আর ও?’
অথৈর বোনের কথা শুনে আহি নিজেই বলে উঠল,
‘ আমি আহি, অথৈ বাড়িতে আছে আপু আজকে ভার্সিটি গেলো না তাই আর কি? ওর সাথে কি একবার কথা বলা যাবে।’
আহির কথা শুনে বেশ অবাক আর হতাশ হয়ে বললো অথৈর বোন,
‘ কেন তোমরা জানো না ও তো চলে গেছে?’
অথৈর বোনের কথা শুনে আহি, রিনি দুজনেই অবাক হয়ে বললো,
‘ চলে গেছে মানে কোথায় চলে গেছে?’
‘ ওহ রাজশাহী ফিরে গেছে আর আসবে না এখানে?’
অথৈর বোনের এবারের কথা শুনে বিস্ময় ভরা কন্ঠ নিয়ে বললো আহি,
‘ কি?’
!
!
!
!
!
#চলবে…..