এখানেই শেষ নয় পর্ব -১১

#এখানেই_শেষ_নয়( ১১)

#অপরাজিতা_রহমান (লেখনীতে)

আহ্ শায়ান কি হচ্ছে ?কি শুরু করেছো? আমাকে রান্না করতে দিবে নাকি গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিব।

তোমার যা ইচ্ছা করো । তবু ও আজ তোমাকে ছাড়ছি না আমি।আর কতো পালাই পালাই করবে আমার থেকে?মম কি বলেছে শোনে নি ,তার চাকরির জীবন থেকে অবসরে গেছেন এখন তার একজন খেলার সাথী প্রয়োজন।এই মুহূর্তে তার নাতি নাতনি লাগবে। আমি কিন্তু আজ তোমার কোন অযুহাত‌ শুনবো না। এতো দিন তোমার কাছাকাছি গেলেই ঐ সাইকোটার অযুহাত দিয়েছ। কিন্তু এখন তো ঐ সাইকো টা চৌদ্দ শিকের ভাত খাচ্ছে। সত্যি তোমার বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয় সিনিয়র বেবি। তুমি শিক্ষিকা না হয়ে গোয়েন্দা হলে ভালো হতো।এক তুড়িতে সব কেস সলভ করে দিতে পারতে। সেদিন তোমার বুদ্ধির জন্যেই ঐ সাইকোসহ তাকিয়া আজ জেলের ভাত খাচ্ছে।

হুম ‌। সেদিন ক্যান্টিনে তাকিয়ার সাথে ঐ হুডি পড়া লোক দেখে আমার প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল যে এই সেই সাইকো লোকটা।পরে দুইজনের মধ্যে কথা কা”টা”কা”টি দেখে আমার সন্দেহ গাড়ো হয়। আমি আর একটু এগিয়ে গিয়ে শুনতে পেলাম তাকিয়া ঐ হুডি পড়া লোককে বলছে, আসলে তুমি কখনোই আমাকে ভালোবাসো নি। দিনের পর দিন আমাকে ব্যবহার করে এসেছো। শুধুমাত্র তোমার কথায় আমি সেদিন শায়ানের ঘোলের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে ওকে জোর করে খাইয়ে ছিলাম।ওর গাড়িতে এ”ক্সি”ডে”ন্ট না হ‌ওয়ার পরেও দিনের পর দিন ওকে ব্লাকমেইল করে ওর থেকে হাজার হাজার টাকা নিয়ে তোমাকে দিয়েছি।দেখ , আমার বিয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে? তুমি বললে আমি এক্ষুনি রিয়ান কে ডিভোর্স দিয়ে দিব‌। তারপর আমরা দুইজনে নতুন করে সংসার শুরু করবো।

হাহা,হা হা। পা”গ”ল হয়ে গেছো তুমি? তুমি ভেবেছো আমি এতো কিছু করেছি তোমাকে বিয়ে করার জন্য?নো ডেয়ার। আমার কাছে তুমি শুধু মাত্র একটা দাবার গুটি ছিলে আমার ভালোবাসার কাছে পৌঁছানোর জন্য।
এখন শুধু ঐ জুনিয়র কে শেষ করতে পারলেই আমার রাস্তা ক্লিয়ার।

আমি থাকতে কখনোই তোমার চাওয়া পূরণ হবে না। তুমি কি ভেবেছো এই তাকিয়ার সাথে ছলনা করে পাড় পেয়ে যাবে। তুমি আমার না মানে আর কারোরই না‌। তুমি এতো দিন যে যে অপকর্ম করেছো , কুয়াশার বাবা মাকে মে”রে”ছো এর সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমি এক্ষুনি সেসব প্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দিব।

আপনাদের আর কষ্ট করে পুলিশের কাছে যেতে হবে না ম্যাডাম।আমরা নিজেরাই আপনাদের কে নিতে চলে এসেছি।
পুলিশ দেখে তাকিয়া আর ঐ হুডি পড়া লোক টা চমকে উঠে বললো, আপনারা এইখানে?

জ্বি আমরা। এতোক্ষণ আপনাদের সমস্ত কথা আমরা শুনেছি।তাই আলাদা করে কোন প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এবার চলুন আপনাদের শ্বশুর বাড়ি।

পুলিশ তাকিয়া আর ঐ সাইকো কে নিয়ে যাবে সেই মূহূর্তে কুয়াশা বলে উঠলো, দাঁড়ান অফিসার আমি ও দেখতে চাই কে আমার সাইকো প্রেমিক?যে কিনা আমার জন্য আমার বাবা মা খু”ন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করে নি।

আপনি কে?

আমি কুয়াশা। আমি আপনাদের ইনফর্ম করেছিলাম এইখানে আসার জন্য।

ঠিক আছে ম্যাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। বিশেষ করে ভিডিও ক্লিপ টা আমাদের দেওয়ার জন্য।

ইটস্ ওকে। আপনারা বরং আমার একতরফা সাইকো প্রেমিকের হুডি টা একটু তুলে দিন। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা তাকে দেখার।

অতঃপর একজন পুলিশ অফিসার ঐ সাইকো টার হুডি সরাতেই পরিচিত একটা মুখ দেখে থমকে গেলাম।
মুখ থেকে আপনা আপনি বেড়িয়ে গেল মিনহাজ স্যার আপনি?

হ্যাঁ কুয়াশা আমি। বিশ্বাস করো কুয়াশা আমি যা করেছি তোমাকে পাওয়ার জন্য করেছি।অন্য কোন স্বার্থ ছিলো না আমার।

এখন আমি বুঝতে পারছি আপনি কেন আমার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না। কেন সেদিন বলেছিলেন চোখের সামনে নিজের ভালোবাসার মানুষ কে অন্যের হতে দেওয়ার সাহস আমার ছিল না। ছিঃ আমার তো ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে একটা মানুষ কিভাবে এতোটা নিচে নামতে পারে?আপনাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম,আর আপনি এইভাবে আমার বিশ্বাসের প্রতিদান দিলেন? অফিসার এক্ষুনি আমার সামনে থেকে এই দুইজন কে নিয়ে যান।না হলে আমিই এদের কে খু”ন করে বসবো বলার সাথে সাথে তাকিয়া এসে কুয়াশার পা জরিয়ে ধরলো।

তাকিয়া কি করছো?পা ছাড়ো বলছি।না হলে কিন্তু আমি তোমাকে লাথি দিয়ে ফেলে দিব‌।

তোমার যা ইচ্ছা করো তবুও আমাকে পুলিশে দিও না প্লিজ। আমি যা করেছি মিনহাজের কথা অনুযায়ী করেছি।২০২৩ সালের ব‌ইমেলায় আমার ব‌ই প্রকাশিত হবে। প্লিজ কুয়াশা আমার ক্যারিয়ার গড়ার আগেই তুমি ভেঙ্গে দিও না।

তুমি তো নিজেই একটা নোংরা মানসিকতার মেয়ে। তোমার লেখা ব‌ই পড়ে মানুষ আর কি শিখবে? তোমার ঐ ন্যাকা কান্নায় আমাকে তুমি ভুলাতে পারবে না।যাও তোমার যোগ্য স্থানে চলে যাও।






সময় বহমান। সময় তার আপন গতিতে ব‌ইতে থাকে ।দেখতে দেখতে ২০২২ সাল বিদায় নিয়ে ২০২৩ সাল চলে আসলো।আজ কে বাসার সবাই অনেক এক্সাইটেড ।তারা আজ তাদের প্রিয় লেখিকা সাইফাতুল মুনতাহার দেখা পাবে।সবার মধ্যে টানটান উত্তেজনা কখন তারা ব‌ইমেলায় পৌঁছাবে।

সিনিয়র বেবি ,হলো তোমার একটু তাড়াতাড়ি করো ।

খুব তাড়া দেখছি তোমার। মনে হচ্ছে ব‌ইমেলায় ব‌ই আনতে না ব‌উ আনতে যাচ্ছো।

মিথ্যা বলবো না।এক সময় সাইফাতুল মুনতাহা আমার ভালো লাগা ছিল।

আর এখন?

এখন আমার সবটা জুড়ে আমার সিনিয়র বেবি বিরাজ করে।

আচ্ছা শায়ান ,যদি দেখ সাইফাতুল মুনতাহা তোমার খুব কাছের কেউ। তখন তোমার ফিলিংস কেমন হবে?

জানি না। তুমি চলো তো সিনিয়র বেবি।মম ড্যাড সামিরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হুম যাওয়া যাক।

ব‌ইমেলায় এসে সবাই অধির আগ্রহে বসে আছে তাদের প্রিয় লেখিকা সাইফাতুল মুনতাহা কে দেখার জন্য।এর‌ই মধ্যে কুয়াশা নিখোঁজ।সবাই মিলে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও কুয়াশার দেখা মিলছে না। শায়ানের হঠাৎ করে সাইফাতুল মুনতাহার স্টলের দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেল কালো জামদানি শাড়ি পড়া একটা মেয়েকে সবাই ঘিরে ধরে রেখেছে।মেয়েটাও হাসিমুখে সবাই কে অটোগ্ৰাফ দিচ্ছে। হঠাৎ করে মেয়েটা পেছনে ফিরতেই শায়ান সহ পরিবারের সবাই চমকে উঠলো।





ইদানিং কুয়াশার শরীর টা ভালো যাচ্ছে না। কেমন যেন শুকিয়ে গিয়েছে। খাবারে অরুচি, মাথা ব্যথা,বমি বমি ভাব,সব মিলিয়ে শায়ানের চিন্তার কোন শেষ নেই তার সিনিয়র বেবি কে নিয়ে। প্রতিদিন কুয়াশা কে বলছে ডক্টরের কাছে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কুয়াশা হয়তো কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পেরে লজ্জায় ডক্টরের কাছে যেতে চাইছে না। কুয়াশার এক কথা সে ডাক্তারের কাছে যাবে না।এই নিয়ে তাদের মধ্যে একচোট ঝ”গ”ড়া ও হয়ে গিয়েছে। অবশেষে কুয়াশা কে হসপিটালে না নিতে পেরে শায়ান বাসায় ডক্টর নিয়ে এসেছে। ডক্টর এসে কুয়াশার চেক‌আপ করার পর শায়ান কে বললো, কংগ্রেস মিস্টার শায়ান আপনি বাবা হতে চলেছেন।শায়ানের যেন কথাটা বিশ্বাস ই হলো না।সে অতি খুশি তে সবার সামনেই কুয়াশা কে জরিয়ে ধরে চুমু দিতে লাগলো। এদিকে ডক্টরসহ সবাই লজ্জা পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই কুয়াশা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে উঠলো, পা”গ”ল হয়ে গিয়েছো তুমি? সেদিন ব‌ইমেলায় ও সবার সামনে এইভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলে। লজ্জায় আমার মাথা কা”টা যাচ্ছিল।

আশ্চর্য! তুমি আমার বিয়ে করা বউ।জরিয়ে ধরেছি চুমু দিয়েছি এতে লজ্জা পাওয়ার কি আছে?ব‌উ তো আদর সোহাগ করার জন্যই তাই না??

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,
ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here