কালো রাত্রির খামে পর্ব -২৫+২৬

#কালো_রাত্রির_খামে (২৫)
#লেখা: ইফরাত মিলি
___________________

পারভীন এনামুল শিকদারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে একটি আলাপ করলেন। সে ঘরে প্রিয়ারা ও এনামুল শিকদার ছাড়া বাকি কেউ ছিল না। কী কী বললেন বাইরে থেকে শোনা গেল না অত। মিথিলা ও শ্রাবণী মনে মনে কান পেতে শোনার পরিকল্পনা করেও শেষমেশ কাজটা করা থেকে বিরত রেখেছে নিজেদের।
রাত্রি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নিজের রুমেই বসে রয় অনেকক্ষণ। এর ভিতর মিথিলা ও শ্রাবণী এসে জিজ্ঞেস করেছিল পারভীন কী কী বলেছেন। কিন্তু রাত্রি কিছু বলেনি তাদের। রাত্রি রুম থেকে বের হওয়ার একটু পরই পারভীনও বের হলেন। রাত্রির কাছে দোষী মনোভাব নিয়ে বললেন,
“ভুলটা আসলে আমারই ছিল। আদিল যখন আমাকে তোমার কথা বলেছিল, আমার উচিত ছিল ওর কথার মূল্যায়ন করা। তোমাকে নিয়ে ভেবে দেখা উচিত ছিল আমার। কিন্তু আমি তোমাকে নিয়ে উলটো ভাবে ভাবলাম। আদিলের কাছ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাইলাম তোমাকে। টিউশনিতে যেতে নিষেধ করলাম। সুজানা ওকে বিয়ে করতে চায় না জেনেও ভেবেছিলাম ওর সঙ্গেই বিয়েটা দেওয়া যাবে। কিন্তু…আমার জন্যই হলো এত সব। আমার জন্যই সবকিছু আজ এত জটিল রূপ ধারণ করেছে!”

রাত্রি কিছু বলার পেল না এসব কথার বিপরীতে। পারভীন বললেন,
“সময় করে একবার আদিলকে দেখতে এসো রাত্রি। দেখবে কতটা দুরবস্থায় আছে ও। প্লিজ এসো।”

পারভীন চলে গেলেন।
রাত্রি ভাবছে, পারভীন কি এখন বাধ্য হয়ে নিজের ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এখানে এসেছেন? তিনি যখন জানতে পেরেছিলেন তার ছেলে একজন গরিব ঘরের মেয়েকে পছন্দ করে, তখন তিনি টিউশন থেকে বের করে দিতে একবার ভাবেননি! তিনি হয়তো এটা ভাবতেন, যদি তার ছেলের পছন্দের মানুষটি কোনো সামর্থ্যবান পরিবারের মেয়ে হতো। গরিব বলে কত নির্দ্বিধায় কত কী করা যায়! যাই হোক, অতীত নিয়ে এখন চিন্তা করতে চাচ্ছে না সে।

রাত্রি বাবার ঘরে এসে জানতে চাইলো,
“উনি কী কী বললো বাবা?”

এনামুল শিকদার এখনই ভাবতে শুরু করেছেন পারভীনের বলে যাওয়া কথাগুলো নিয়ে। ভাবনাচ্ছন্ন থেকেই বললেন,
“আমাকে একটু ভাবার সময় দে। পরে বলবো তোকে।”

রাত্রি এ কথা শুনে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বেরিয়ে এলো, আর কোনো প্রশ্ন করলো না।

__________________

টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা হাতে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রোশনি। সে খুব কষ্টে অয়নের টিউশনিটার টাইম জানতে পেরেছে। এই সময়ই ফিরবে অয়ন। আজ সে তেমন কিছুই বলবে না অয়নকে। শুধু জানতে চাইবে এই কাজটা সে কেন করলো? তীব্র অভিমান হচ্ছে রোশনির। যে মানুষটাকে সে এত মূল্যায়ন করলো অথচ ওই মানুষটা তাকে কানাকড়িও মূল্যায়ন করলো না। তার জন্য এখন কেবল বুকের ভিতর ক্ষোভ পুষে রাখা যায়, ভালোবাসা না।

অয়ন ভিজে বাড়ি ফিরছে। তার গায়ের শার্ট এই টিপটিপ বৃষ্টির ফোঁটায়ই ভিজে গেছে। রোশনি আচমকা অয়নের সামনে এসে দাঁড়ালো। থমকে দাঁড়িয়ে গেল অয়ন। রোশনি অভিযোগী কণ্ঠে বললো,
“কীভাবে পারলেন এটা করতে? কী কী বলেছেন আমার মাকে?”

অয়ন এমন প্রশ্নে বিস্মিত, তবে সরল কণ্ঠেই উত্তর দিলো,
“কিছুই বলিনি তো।”

“বলেননি? মা আমার জন্য পাত্র খুঁজছে কেন?”

“পাত্র খুঁজছে? এ তো আনন্দের বিষয়। বিয়ে-শাদির প্রসঙ্গ মানেই তো আনন্দ।”

“মজা করছেন? কী কী বলেছেন মাকে?”

অয়ন সত্যিই কিছু বলেনি কাউকে। বললো,
“কিছু বলিনি, বললাম তো।”

“আমি জানি আপনিই বলেছেন। মা আমাকে বলেছে, আপনি আমার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন তাকে। আর আপনি বলেছিলেন আপনি আমার কথা বলে দেবেন মাকে। আমার মনে আছে সেটা। এগুলো বলে দেওয়া কি খুব জরুরি ছিল? আমার বিয়ে খাওয়ার এত শখ আপনার? আসল কথা হলো আপনি কোনো কিছুর মূল্যই দিতে জানেন না। এই যে আপনাকে ভালোবাসি, এর বিন্দুমাত্র মূল্য আপনি দিতে পারেননি!”

অয়ন মাথা দুলিয়ে বললো,
“ঠিক বলেছেন। আমি মূল্য দিতে জানি না। আমি এমন একটা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি যেখানে সবকিছুর মূল্য দিতে গেলে নিজেই মূল্যহীন হয়ে যাব।”

বলে অয়ন পাশ কাটিয়ে গেল। রোশনি রাগের মাথায় বলে উঠলো,
“বেয়াদব! আপনার মতো বেয়াদবকে আর কোনো মেয়ে ভালো না বাসুক।”

অয়ন কানেও তুললো না রোশনির কথা। রোশনি এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল। যে মানুষটা তার মূল্যই দিতে জানলো না তাকে কি এখনও ভালোবাসা উচিত? না, চরম ঘৃণা করা উচিত। এই মুহূর্ত থেকে শুধুই ঘৃণা করবে অয়নকে। কিন্তু তার মন যে ঘৃণা করার জন্য অত শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি এও টের পেল সে।

__________________

এনামুল শিকদার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। খাওয়াদাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন, এমনকি কথাও বলতে পারছিলেন না। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে আবার স্বাভাবিক হলেন তিনি। সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি মানুষটা মারা যেতে চলেছে। ভয়টা এখনও কাটেনি। হৃদ্‌যন্ত্র এখনও দুর্বল। রাতে এনামুল শিকদার রাত্রিকে ডেকে পাঠালেন। রাত্রি বুঝতে পারলো কোন বিষয়ে কথা বলবেন তিনি। এনামুল শিকদার প্রথমেই কথা শুরু করলেন এভাবে,
“পারভীন আপা তার ছেলের সঙ্গে তোর বিয়ের কথা বলে গেছেন।”

রাত্রি কোনো রকম ভণিতা না করে বললো,
“তুমি কী ভাবছো?”

“আমি ভেবে দেখলাম এটা মন্দ হয় না। ভালো হবে। তিনি বলেছেন, তার ছেলে তোকে খুব পছন্দ করে।”

“কিন্তু বাবা আমার তো তানবীনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে।”

“ঠিক হয়েছিল, কিন্তু এখন কি পরিস্থিতি তেমন আছে? তানবীন জেলে। চৌদ্দ বছরের জেল! বিয়েটা হওয়া তো আর সম্ভব না।”

রাত্রি মাথা নুইয়ে ফেলে বললো,
“আমি তাকে বলেছিলাম, তার জন্য অপেক্ষা করবো।”

“অপেক্ষা করবি? কত অপেক্ষা করবি তুই? এক বছর, দুই বছর? এটা চৌদ্দ বছরের প্রশ্ন। এত বছর কারো জন্য অপেক্ষা করা যায় না। তানবীন কী বললো তোর অপেক্ষার কথা শুনে?”

রাত্রি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
“সে বলেছে অপেক্ষা না করতে, অপেক্ষা মূল্যহীন।”

“তানবীনও এটা বোঝে, তুই বুঝিস না? চৌদ্দ বছর কম সময়? চৌদ্দ বছর কম সময় না মা। খুব ভালোভাবে জীবন নষ্টের জন্য চৌদ্দ বছর অনেক বেশি সময়। তোর জীবনটা তো এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারব না।”

রাত্রি মস্তক নত করেই বসে আছে। বললো,
“কী করবো তাহলে?”

এনামুল শিকদার কান্না ভেজা কণ্ঠে বললেন,
“তুই অনেক খেটেছিস নিজের পরিবারের জন্য, অনেক কষ্ট করেছিস। আমি চেয়েছিলাম তোর এসব খাটুনির অবসান ঘটুক। তোকে একটা ভালো পরিবারে বিয়ে দেওয়ার কথাই সব সময় চিন্তা করেছি। অনেক চেষ্টাও করেছি। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, সেসব কিছুই হয়ে ওঠেনি আজও। মরার আগে তোকে একটু সুখী দেখে যেতে চাই মা। তোর বিয়েটা দেখে যেতে চাই। চৌদ্দ বছর যদি তোর বিয়েটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তবে সেটা না দেখেই আমার মরতে হবে। এত বড়ো আফসোস-কষ্ট নিয়ে মরতে দিবি আমায়?”

রাত্রির চোখ বেয়ে জল গড়ালো। বাবার থেকে লুকিয়ে রাখলো তা। অগোচরে মুছে নিলো।
এনামুল শিকদার বললেন,
“চৌদ্দ বছর কারো জন্য অপেক্ষা করার কথা মুখে বলা যায়, কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। অপেক্ষা করতে গেলে যে তীব্র যন্ত্রণাটা হবে সেটা সহ্য করতে পারবে? অপেক্ষা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। তানবীন নিজেই ওর এই জীবন বেছে নিয়েছে, তুইও মেনে নে সেটা। তুই কেন শুধু শুধু ওর জন্য অপেক্ষা করে জীবন নষ্ট করবি? আমাদের কষ্ট দিবি? চারিদিকের এত চিন্তায় চিন্তায় কখন মরে যাই কে জানে! এই বিয়েতে অমত করিস না মা, তোর কাছে এটা আমার অনুরোধ!”

রাত্রি চোখের পাতা বন্ধ করে ফেললো। মনকে কঠিন করতে চাইছে। সে একা খুব যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবে, কিন্তু সে যে একা নয়। তার জন্য তার আপন মানুষগুলোও কষ্ট পাবে। ওই মানুষগুলোকে কষ্ট দেবে কীভাবে? রাত্রি বাবার দিকে মস্তক তুলে তাকালো। বললো,
“তুমি যেমন চাইবে, তেমন হবে।”

তার দু চোখ পাথরের মতো। অনুভূতিহীন, নিশ্চল! রাত্রি চলে এলো বাবার ঘর থেকে। মন খারাপ লাগছে তার। কষ্ট হচ্ছে। ওই চৌদ্দ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত মানুষটার সঙ্গেই বাকিটা জীবন কাটবে তার, বিয়েটা ঠিক হওয়ার পর এমনই ভেবেছিল সে। কিন্তু সেসব নিছকই স্বপ্ন ছিল! এরকমই যদি হবে মানুষটার মধ্যখান থেকে কেন তার জীবনে আসতে হলো? কেন কষ্ট দিলো এসে? আর যার কখনও তার হওয়ার কথা ছিল না, অন্য কারো হওয়ার কথা ছিল, সেই মানুষটারই এখন তার হওয়ার এত সুযোগ!
মাথা ভীষণ যন্ত্রণা করছে। রাত্রি বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। শুয়ে পড়লো। দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো চুল। চোখ বুজে পড়ে রইল। আর এভাবেই ঘুম নামলো তার চোখে।
__________________

আজ রাত্রির ঘুম ভাঙলো অনেক দেরিতে। সকাল আটটা বাজে তখন। এত সময় সে কখনও ঘুমায়নি। বিরক্ত লাগছে এত দেরিতে উঠে। শ্রাবণীও ঘুমাচ্ছে বেঘোরে। আজ শুক্রবার, সুতরাং আজ তার ঘুমানোরই দিন। ঘুমাক, রাত্রি ডাকলো না। কেন যেন ইদানীং কারো কোনো কাজে বাধা দিতে ইচ্ছা করে না তার। যে যেরকম ভাবে শান্তি পায় সেরকমই থাকুক।
রাত্রি ভাবছে একবার তুরিনকে দেখতে যাবে, এরপর সেখান থেকেই চলে যাবে আদিলদের বাসায়। আদিলের মা ছেলেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এখন তার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিতে আসতে পারে, কিন্তু আদিল তো প্রকৃতই তার জন্যই অসুস্থ এখন।
অসুস্থ কাউকে দেখতে গেলে কিছু ফলফলাদি নিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু তার হাতে টাকা নেই এখন। সুতরাং খালি হাতেই যেতে হবে সব সময়ের মতো। পরিস্থিতি অনুযায়ী এটুকু আন্দাজ যোগ্য যে, হয়তো আদিলই তার ভবিষ্যৎ। এমন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু নিমেষেই কত কী ঘটে যেতে পারে মানুষের জীবনে।

তানবীনদের বাড়িতে গেলেও তুরিনের সঙ্গে দেখা হলো না রাত্রির। কারণ তুরিন নেই, মামার বাসায় চলে গেছে। আর তাদের বাড়ি এখন চাচাদের দখলে। চাচারা কোনো একটা বিষয় নিয়ে শোকাহত। সম্ভবত তার বড়ো মেয়ে আবারও পালিয়ে গেছে তার প্রেমিকের সঙ্গে। রফিকুল খন্দকারকে রাত্রি বলতে শুনেছে,
‘ওকে আমি রাজপ্রাসাদে নিয়ে এলাম, অথচ ওই মূর্খ মেয়েটা আবারও ওই ভিখারির কাছে চলে গেল? ওরে, আমি মরে যাই না কেন!’

রফিকুল খন্দকারের মেয়ে যার সঙ্গে পালিয়ে গেছে রাত্রি তাকে চেনে। যেদিন তানবীনকে প্রথম দেখেছিল সে, সেদিন তানবীন তার সামনেই একজনকে মে’রেছিল। এরপর রাত্রি ওই ছেলেটাকে হাসপাতালে যেতেও সাহায্য করেছিল। ওই ছেলেটাই সেই ছেলেটা। মূলত তার মেয়ে আগেও একবার পালিয়ে গিয়েছিল। তানবীনের সহযোগিতায় সেবার ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন মেয়েকে। এসব কথা তানবীনের কাছ থেকেই জেনেছিল রাত্রি।

রাত্রি আদিলদের বাড়িতে এলো এরপর। সেই একবার আদিল জ্বর আক্রান্ত হওয়ায় দেখতে আসার পর পারভীন যেমন বলেছিলেন, ‘আদিলের ঘরে যাও।’, এবারও তেমন করেই বললেন। ছেলের চিন্তায় বেচারি মা একদম ভেঙে পড়েছেন। মালিহাও তাই। আদিলের রুমের দরজা বন্ধ। পারভীন বললেন, লক করা নয়। সামান্য ঠ্যালা দিতেই দরজা খুলে গেল। আদিল বিছানায় শুয়ে আছে, মনে হচ্ছে ঘুমাচ্ছে। রাত্রি পারভীনের দিকে তাকিয়ে বললো,
“মনে হচ্ছে উনি ঘুমাচ্ছেন।”

“ডেকে তোলো।”

রাত্রির অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। একটা অসুস্থ মানুষকে সে ডেকে তুলবে? আবার অসুস্থ মানুষটা হচ্ছে আদিল। তাও ভিতরে ঢুকলো রাত্রি। বেডের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ডাকলো,
“আদিল ভাইয়া!”

প্রথম ডাকে ঘুম ভাঙলো না। দ্বিতীয়বার ডাকতেই আদিল চোখ মেললো। তার শরীরও কেঁপে উঠলো মৃদু। ডাক অনুসরণ করে মাথা ঘুরিয়ে একবার তাকালো রাত্রির দিকে। এক পলক তাকিয়ে আবারও মাথা ঠিক করে চোখ বুজলো।
রাত্রি ব্যাপারটা বুঝলো না। ঘুমিয়ে পড়েছে না কি আবার? একটুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার ডাকলো সে।
এবার যেন টনক নড়লো আদিলের। আবারও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। সামনে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে সে কি আসলেই রাত্রি? না কি মা অথবা মালিহার ভিতর কেউ? চোখের ভুল? সে দুর্বল গলায় রাত্রির নামটা উচ্চারণ করলো,
“রাত্রি?”

আদিল চোখ মেলে রাখতে পারছে না। রাত্রি অবাক হয়ে দেখছে আদিলকে। এটা আসলেই আদিল? অসুস্থতার কারণে চেহারাই পালটে গেছে যেন। ভীষণ রুগ্‌ণ দেখাচ্ছে। রাত্রি বললো,
“আপনি কেমন আছেন?”

আদিল চোখ জোড়া সরু করে ফেলে বললো,
“আপনি সত্যিই এসেছেন?”

রাত্রি মাথা দুলিয়ে সম্মত স্বরে বললো,
“হুম, সত্যিই এসেছি।”

আদিল হাসার চেষ্টা করে বললো,
“কিন্তু আমি তো এখনও মারা যাইনি।”

“আপনি মারা যাবেন না।”

“উহুঁ, আপনি জানেন না। আমি টের পাই, মৃত্যু আমাকে ডাকে।”

আদিল এখনও ভাবছে তার সাথে কথা বলা রাত্রি কেবল তার বিভ্রম। যদিও এর আগে সে কখনও এমনভাবে রাত্রিকে দেখতে পায়নি। এমন বিভ্রম এই প্রথম হচ্ছে তার।

রাত্রি বললো,
“আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন।”

আদিল ছলছল নয়নে বললো,
“উহুঁ, আমি আসলেই মরে যাব। আপনি একটু ভালোবাসলেই হয়তো আমি বেঁচে যেতাম রাত্রি!”

আদিলের কণ্ঠে কষ্ট নিখাত। শুনে মন খারাপ হওয়ার মতো। মন খারাপ হয় রাত্রির। সে বললো,
“যদি আপনাকে বাঁচিয়ে দিই?”

“কীভাবে?”

“বিয়ে করে।”

আদিলের হঠাৎ মনে হলো এই রাত্রি সত্যিই রাত্রি। কিন্তু রাত্রি এলো কোত্থেকে? আর আসল রাত্রি তো তাকে কখনও এই কথা বলবে না। আসল হোক কিংবা ভ্রম, তবে কথাটায় সে চমকেছে। এবং এটা শোনার পর তার কষ্টও হচ্ছে। সে বেদনাক্রান্ত চোখে বললো,
“আপনি আমার স্বপ্ন?”

রাত্রির কণ্ঠস্বর অচল হয়ে আসছে। সে ভীষণ কষ্টে বললো,
“না চাইতেও আমি আপনার বাস্তবতা!”

(চলবে)#কালো_রাত্রির_খামে (২৬)
#লেখা: ইফরাত মিলি
___________________

আদিল বিস্ময়ান্বিত চোখে তাকিয়ে রইল। এটা আসলেই রাত্রি? সে উঠে বসার চেষ্টা করলো। কিন্তু উঠতে গিয়ে বিছানায় পড়ে গেল। দ্বিতীয়বার চেষ্টায় উঠে বসতে পারলো। বুঝতে পারলো এটা রাত্রিই। শুধু শুধু ভ্রম কেন হতে যাবে? এমন হয়নি কখনও। আদিলের এবার তীব্র অভিমান হলো। অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো,
“কেন এসেছেন আপনি?”
আদিলের বক্ষৎপঞ্জর কাঁপছে। কষ্ট হচ্ছে। দম বন্ধ লাগছে তার।

রাত্রি বললো,
“আপনি অসুস্থ তাই…”

“এমনই তো থাকার কথা আমার, নতুন করে দেখতে আসার কী আছে? মারা গেলে তখন না নতুনত্বের সৃষ্টি হতো। আপনি আসতেন, মৃত আদিলকে দেখতেন, দু ফোঁটা চোখের জল ফেলতেন, এতটুকুই তো যথেষ্ট ছিল।”

“আপনি বার বার এই অদ্ভুত কথা কেন বলছেন? কেন মরবেন আপনি?”

আদিল কিছু বললো না। মুখ ঘুরিয়ে রাখলো। গলার কাছটা ব্যথা করছে, কান্না চেপে রাখলে এমন হয়।

রাত্রির মনে হলো আদিল জানে না তার মা তাদের বাড়িতে গিয়েছিল। সবকিছুই হয়তো আদিলের অজানা। রাত্রি জানে তানবীনের জন্য সে কিছুই করতে পারবে না। কারণ তানবীনের বিষয়টা সম্পূর্ণ তার চেষ্টার বাইরে। কিন্তু আদিলের জন্য তো সে করতে পারে। ভালো একটা জীবন হয়তো দিতে পারে সে। আদিল সুস্থ-সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারে আবার। রাত্রি চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলে মন হালকা করার চেষ্টা করে বললো,
“আমি রাজি।”

আদিল অবাক হলো। বিস্মিত কণ্ঠে জানতে চাইলো,
“কোন ব্যাপারে?”

“সেই অনেক আগে, আপনি একটা প্রশ্ন করেছিলেন, আমি আপনাকে বিয়ে করবো কি না। তখন আমি উত্তর দিয়েছিলাম, না। আজ আমি আমার উত্তর পরিবর্তন করছি, ‘হ্যাঁ’।”

আদিল চকিতে রাত্রির দিকে তাকালো। দু চোখে অবিশ্বাস। হ্যাঁ, যা শুনেছে তা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়। আদিল হাসার চেষ্টা করে বললো,
“আপনি সান্ত্বনা দিচ্ছেন?”

“না, সত্যি।”

আদিলের চোখ থেকে পানি গড়ালো। অনুরোধের গলায় বললো,
“এত সুন্দর মিথ্যা আমি নিতে পারছি না, দয়া করে থামুন।”

“ঠিক আছে, আপনার মায়ের কাছ থেকে জেনে নিবেন। আমি আসছি।”

রাত্রি চলে যাওয়া দিলেই আদিল বিছানা থেকে নামলো। কিন্তু তার দাঁড়াতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সে ডাকলো,
“শুনুন।”

রাত্রি পিছন ফিরে বললো,
“কী?”

আদিল রাত্রির চোখে তাকিয়ে আছে। বললো,
“আপনার চোখ জোড়ায় আসলেই মিথ্যা নেই।”

রাত্রি ম্লান ওষ্ঠ জোড়ায় জোর করে সামান্য হাসি আনলো। কিছু না বলেই বেরিয়ে এলো আদিলের রুম থেকে।
পারভীন আশায় জ্বলজ্বল চক্ষু নিয়ে বসে আছেন। রাত্রি বললো,
“উনি সুস্থ হয়ে যাবেন নিশ্চয়ই। ভেঙে পড়বেন না।”

রাত্রির এ কথাতেই পারভীন যা ধরার ধরে নিলেন। তার চক্ষুদ্বয় আরও আনন্দে ভরলো। বললেন,
“তাহলে তুমি আমার ছেলেটাকে বিয়ে করবে?”

রাত্রি মুখে জবাব দিলো না, তবে মৌনতাই যে সম্মতি। পারভীন সহজে যেতে দিলেন না আজ রাত্রিকে। খাওয়াদাওয়া করিয়ে তারপরই ছাড়লেন। অথচ এমন আন্তরিকতা তার থেকে আর কখনও পায়নি আগে।
রাত্রি একটা কথা তাদের আগেই জানিয়ে রাখলো, যদি বিয়েটা হয় তাহলে সে বিয়ের পরও নিজের পরিবারের দেখভাল করবে এবং তাতে কোনো রকম আপত্তি যেন কারো না থাকে। পারভীন মেনে নিলেন।

রাত্রি উঠান পেরিয়ে যাওয়ার সময় থামলো। তাকালো আদিলের বারান্দায়। একজন রুগ্‌ণ মানুষ ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছে রাত্রি। কী ভাবছে মানুষটা? এই যে এই মানবী চলে যাচ্ছে, সে কি আবার ফিরে আসবে? রাত্রি চোখ সরিয়ে নিলো। বেরিয়ে গেল গেট দিয়ে। আদিল তখনও তাকে দেখছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে চোখের আড়াল হলো আদিল ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল।

বাড়ি ফিরে গেটের কাছে অয়নের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল রাত্রির। রাত্রি হাস্য বদনে বললো,
“কেমন আছো সিয়াম?”

____________________

ঝড়ো হাওয়া বইছে। যে কোনো সময়ই হয়তো বৃষ্টি নামবে। অয়ন দ্রুত পা চালিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকলো। দরজায় করাঘাত করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে গেল। অয়ন ভিতরে ঢুকতে চাইলেই রাত্রি বাধা দিয়ে বললো,
“তোমার সঙ্গে কথা আছে অয়ন।”

“হুম, বলো।”

“ছাদে চলো।”

ছাদে? কী এমন কথা যা এখানে না বলে ছাদে গিয়ে বলতে হবে? অয়নের অদ্ভুত লাগছে ব্যাপারটা। ভয়ও করলো। রাত্রি কি তবে ওই ব্যাপারটা জেনে গেল? না কি অন্য কিছু? রোশনির ব্যাপারে কিছু?
মোবাইলের টর্চ জ্বেলে তারা ছাদে উঠলো। এখন রাত। মিশাতের টি-শার্ট ও ট্রাউজার দড়িতে ছিল বোধহয়। বাতাসে উড়িয়ে নিচে ফেলেছে। রাত্রি আবারও দড়িতে উঠিয়ে রাখলো সেগুলো। বাতাস হচ্ছে এখনও। রাত্রি বললো,
“আজ সিয়াম এসেছিল তোমার খোঁজ করতে।”

অয়নের বুঝতে বাকি রইল না সিয়ামের কাছ থেকেই জেনেছে ব্যাপারটা। কিন্তু সে চায়নি পরিবারের কেউ এখনই এটা জেনে যাক। অয়ন বুঝতে পারছে না কী বলবে।

রাত্রি ব্যথানীল চোখে চেয়ে বললো,
“সিয়াম বললো তুমি ভার্সিটিতে যাও না, এমনকি কারো সাথে যোগাযোগও করছো না এখন আর। কী একটা পরীক্ষা চলছে সেটাও না কি দিচ্ছ না। কী করছো তুমি? সারাদিন কোথায় থাকো ইদানীং?”

অয়নের মনে হলো ব্যাপারটা আর লুকিয়ে লাভ নেই। কিন্তু এটা মেনে নেওয়া রাত্রির জন্য কঠিন হবে। অয়ন নিজেকে কঠিন করে বললো,
“আসলে…আমি একটা…আমি একটা কাজ নিয়েছি আপু।”

“কী?” অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বললো রাত্রি, “তোমাকে ক্লাস, পরীক্ষা বাদ দিয়ে কাজ করতে বলেছে কে? অয়ন, বাবা তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। তুমি লেখাপড়া করে ভালো একটা চাকরি করবে। তুমি এভাবে বাবার স্বপ্নটাকে হেলা করছো? কেন করছো?”

অয়ন আনমনে ঠোঁট টেনে হাসলো,
“স্বপ্ন?” তার ঠোঁট আরও চওড়া হলো। রাত্রির দিকে তাকিয়ে বললো,
“স্বপ্ন পূরণ বিত্তবানদের জন্য, দরিদ্রদের জন্য নয়। সুতরাং স্বপ্ন দেখো, কিন্তু এটা পূরণের আশ করো না। এটা অন্যায়! চরম অন্যায়!”

রাত্রি কিছু বলতে পারছে না। কষ্টে তার বুকটা ভার হয়ে আসছে। সে কখনও চায়নি অয়নের সঙ্গে এমন হোক। সে চেয়েছিল অয়ন নিজের লেখাপড়া সম্পূর্ণ করুক। তারপর একটা ভালো চাকরি করুক, খুব ভালো একটা জীবন কাটাক। কিন্তু ছেলেটা কী করছে এসব?

অয়ন বোনের বিমর্ষ মুখ দেখে বোঝানোর চেষ্টার্থে বললো,
“লেখাপড়া করে কী হবে বলো তো? যেখানে আমার পরিবারের এখন করুণ অবস্থা! যেখানে তারা দু বেলা দু মুঠো ভাত তুলতে পারবে না মুখে, সেখানে আমি চুপচাপ বসে থাকবো? সাহায্য করবো না? আমি কীসের ছেলে তাহলে? কীসের ভাই? যদি পরিবারের উপকারেই না আসি?”

রাত্রি কেঁদে ফেললো,
“ঠিক করছো না অয়ন। এভাবে বাবার, আমাদের স্বপ্নগুলো ভাঙতে পারো না। প্লিজ, এসব কাজ-বাজ ছাড়ো। লেখাপড়া করো ঠিক মতো। আমি আছি, ভরসা রাখো আমার উপর।”

অয়ন ম্লান হাসে,
“সিদ্ধান্ত যখন নিয়েই ফেলেছি, ইনশাআল্লাহ সিদ্ধান্ত বদলাবো না। এই পরিবারের সবার দায়িত্ব আমার। বাবাকে জানাবে না প্লিজ।”

রাত্রির দুঃখপীড়িত দৃষ্টিদ্বয় দেখতে অয়নের খারাপ লাগছে। সে আশ্বাস দিয়ে বললো,
“চিন্তা করো না, ভালো হবে সব।”

“তার মানে তুমি সত্যি সত্যি লেখাপড়া ছেড়ে দিচ্ছ?”

“লেখাপড়ার চেয়ে পরিবারের হাল ধরা এই মুহূর্তে অনেক জরুরি। আমি যাই, গোসল করতে হবে আমার।”

অয়ন যেন এই যাত্রার মতো পালিয়ে গেল। রাত্রির কষ্ট হচ্ছে। এসবই থাকে তাদের ভাগ্যে? রাত্রির আজ চিৎকার করে সমগ্র জগৎকে একটা কথা জানাতে ইচ্ছা হলো,
‘অভাব অত্যন্ত খারাপ জিনিস! এটার মতো খারাপ কিছু আর পৃথিবীতে নেই!’

____________________

গত রাতে পারভীন ফোন করে বললেন, মালিহাকে আজ পড়াতে যেতে। কিন্তু রাত্রি রাজি হয়নি। পারভীন এরপর অনেক অনুনয় বিনয় করলেন। কিন্তু যে টিউশনি একবার ছাড়তে হয়েছে সেটা রাত্রি আবার ধরতে চায়নি। কিন্তু এত অনুনয়ের পর সে এক প্রকার বাধ্যই হলো। এটাও বেশ বুঝতে পারলো মালিহাকে পড়ানোর জন্য তাকে ও বাড়িতে নেওয়া মূল উদ্দেশ্য না পারভীনের। তিনি হয়তো ভাবছেন, তার সঙ্গে রোজ আদিলের দেখা হলে আদিল দ্রুত ভালো হয়ে যাবে।
টিউশনির সময় ধার্য হলো সকাল বেলা। রাত্রিকে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তে হলো আগেভাগেই।

মালিহার রুমে মালিহা একা নয়, সঙ্গে বসে আছে আদিলও। তবে সব সময়ের দেখে আসা আদিলকে দেখতে পাচ্ছে না রাত্রি। এ আদিল খুবই পরিপাটি। খুব ভদ্র ধরনের দেখতে লাগছে তাকে। যদিও চেহারায় রুগ্নতার ছাপ। তবে ভালো লাগছে দেখতে। রাত্রি আগের মতো আজ আর আদিলের এখানে আসা নিয়ে প্রশ্ন করলো না। বরং জানতে চাইলো,
“এত সেজে বসে আছেন কেন?”

“যার সাথে বিয়ে হবে, সেই মানুষটার সামনে অগোছালো ভাবে থাকা যায়? যদি সে আমাকে অসুন্দর ভেবে পরে আর বিয়ে না করে?”

রাত্রি প্রত্যুত্তরে কিছু বললো না। বলার পেল না আসলে। মালিহার দিকে তাকাতে মালিহা বাংলা প্রথম পত্র বই এগিয়ে দিলো রাত্রির দিকে। রাত্রি বললো,
“বাংলা বই দিচ্ছ কেন?”

“ভাইয়া বলেছে আজ বাংলা পড়বে।”

“আমি কি এখানে তোমার ভাইয়াকে পড়ানোর জন্য এসেছি?”

উত্তরটা আদিল দিলো,
“আমার জন্যই তো আপনাকে ফিরে আসতে হলো। আমাকে ছাড়া পারলেন থাকতে?”

আদিল হাসলো। যেন কিছু জয় করে নিয়েছে সে।
রাত্রি মনে মনে বললো,
‘ভাগ্য আপনার কাছে ফিরিয়ে এনেছে আবার।’
কিন্তু মুখে বললো না কিছু। মালিহাকে বললো,
“গ্রামার বের করো।”

মালিহা গ্রামার বের করলো। কিন্তু আদিল গ্রামার টেনে নিয়ে নিলো। রাত্রি বলে উঠলো,
“আরে…”

আদিল শুধু হাসলো।
রাত্রি একটা বিষয় ভেবে অবাক হচ্ছে, আদিল তানবীনের সম্পর্কে কিছুই বলছে না, জানতে চাইছে না কিছু। খুব স্বাভাবিক সে। সে কি সব জানে? না কি জানার কোনো আগ্রহ নেই? রাত্রি বললো,
“আপনার ঘরে যান।”

“কেন? এই যে আমি আপনার সামনে বসে আছি, আপনার ভালো লাগছে না?”

“না।”

“আমার ভালো লাগছে আপনি আমার সামনে বসে আছেন বলে।”

রাত্রি আদিলের হাত থেকে গ্রামারটা নিয়ে নিলো। আদিল মৃদু হেসে বললো,
“এমন গ্রামার বই টেনে নেওয়ার মতো আপনার হৃদয় কবে টেনে নিতে পারবো রাত্রি?”

আদিল আচমকা এমন কথা বলে ফেলবে ভাবেনি রাত্রি। সে মালিহার দিকে তাকালো। দেখলো মালিহা লজ্জা পেয়ে মিটিমিটি হাসছে। রাত্রি আদিলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আপনি তো এখনও সুস্থ হননি।”

(চলবে)

_____________

দুঃখিত দেরি করে দেওয়ার পরেও এত ছোটো পর্ব দিয়েছি আজকে! অসুস্থতা নিয়ে এর চেয়ে বেশি লেখা দেওয়া সম্ভব হলো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here