বেদনার রং নীল পর্ব -৪১+৪২

#বেদনার_রঙ_নীল
একচল্লিশ পর্ব
লিখা- Sidratul Muntaz

মিষ্টি আর অজান্তাকে একসাথে জড়ো করে জরুরী কথা বলার উদ্দেশ্যে তাদের সামনে বসল প্রণয়। ইতস্তত বোধ করছে সে। কথাটা কিভাবে বলা উচিৎ? কোথা থেকে শুরু করা উচিৎ? হুট করে কি বলা যায় যে সে বিয়ে করে ফেলেছে!

অজান্তা বললেন,” কি এমন জরুরী কথা? যা বলবি দ্রুত বল। অযথা সময় নষ্ট করছিস কেন?”

মিষ্টি দুষ্ট হেসে বলল,” প্রণয়, তোর চোখ-মুখ এমন লাল দেখাচ্ছে কেন? সত্যি করে বল কি অঘটন ঘটিয়েছিস? আবার বিয়ে-টিয়ে করে ফেলিসনি তো?”

মিষ্টি নিতান্তই মজা করে কথাটি বলেছিল। কিন্তু তার মজাটাই যে সত্যি হয়ে যাবে তা কে জানতো? প্রণয় খুব ভড়কে গেল। ভড়কে গিয়েই সত্যিটা বলে ফেলল,” কিছুটা সেরকমই। বরং তার চেয়েও বেশি।”

এমন কথা শুনে অজান্তা আর মিষ্টি দু’জনেই হকচকিয়ে গেল। মিষ্টি বিষমচিত্তে বলল,” এর মানে?”

প্রণয় দ্রুতগতিতে অজান্তার কাছে এসে হাঁটু মুড়ে বসল। পা জড়িয়ে ধরে বলল,” স্যরি ছোটমা। কখনও ভাবিওনি যে তোমাকে না জানিয়ে এভাবে বিয়ে করে ফেলবো। কিন্তু করতে হলো।”

অজান্তা প্রসারিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন কিছুসময়। তারপর অনেকটা হতবাক সুরে বললেন,” করতে হলো মানে? কি এমন হয়েছে যে তোর বিয়ে করতেই হলো?”

প্রণয় দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্যদিকে চাইল। চাপা স্বরে উচ্চারণ করল,” ও এখন প্রেগন্যান্ট।”

মিষ্টি আৎকে উঠল,” ওহ মাই গড।”

অজান্তা লম্বা শ্বাস টেনে নিলেন। কথাটা হজম করতেই কষ্ট হচ্ছে তাঁর। বিস্মিত গলায় বললেন,” এসব কি শোনাচ্ছিস তুই? তোর যে একটা বিবাহযোগ্যা বড়বোন আছে সেটা কি ভুলে গেছিস? কখনও কি শুনেছিস যে বড়বোনের আগে ছোটভাইয়ের বিয়ে হয়ে যায়?”

প্রণয় অভিযোগ তোলার উদ্দেশ্যে বলল,” কিছুদিন আগেই তো রিসবের বিয়ের কথা ভাবছিলে। রিসবও তো মিষ্টি আপুর ছোট।”

অজান্তা চোখ রাঙিয়ে বললেন,” তুই আর রিসব কি এক? সে সবসময় বাড়ি থেকে দূরে থাকে। বিয়ে দিলে যদি ঘরে মন আসে সেজন্য তার বিয়ের কথা চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু তুই এটা কি করলি?”

মিষ্টি পরিস্থিতি সামাল দিতে বলল,” তুমি আগেই এতো উত্তেজিত হয়ে যেও না ছোটমা। আমি নিশ্চিত ও মজা করছে। প্রণয়, যদি এটা ফাজলামি হয়ে থাকে তাহলে খুবই বীভৎস ফাজলামি হচ্ছে কিন্তু।”

প্রণয় মাথা নত করে বলল,” আনফরচুনেটলি এটা কোনো ফাজলামি না। আমি সত্যি বলছি। সত্যিই আমি বিয়ে করেছি আর ও এখন প্রেগন্যান্ট।”

অজান্তা ঝটিতে প্রণয়ের গালে চড় মারলেন। থমথমে কণ্ঠে বললেন,” তোর লজ্জা করছে না? এতোবড় অন্যায় করে আবার মাথা তুলে কথাও বলছিস?”

প্রণয় নিমজ্জিত কণ্ঠে বলল,” আমি অন্যায় করিনি বিশ্বাস করো। সবকিছু খুব দ্রুত হয়ে গেছে। তোমাদের বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু…”

“আমি আর শুনতে চাই না৷ মিষ্টি, ওকে আমার চোখের সামনে থেকে চলে যেতে বল।”

মিষ্টি ইশারায় অনুরোধ করল,” প্লিজ যা ভাই।”

প্রণয় বের হয়ে যাওয়ার আগে বলল,” তুমি অনুমতি দিলে কাল ওকে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাই।”

মিষ্টি ধমক দিতে উদ্যত হলো। অজান্তা তাকে থামালেন।কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ থেকে বললেন,” ঠিকাছে নিয়ে আসিস।”

তাঁর আচমকা সম্মতিতে মিষ্টি কিঞ্চিৎ বিস্মিত হলো। প্রণয়ের চেহারায় ফুটল স্বস্তির হাসি।

মিষ্টি ব্যস্ত কণ্ঠে বলল,” তুমি কি ভেবে বলছো ছোটমা?”

” ভেবেই বলছি। আর তো কিছু করার নেই। ”

প্রণয় ছুটে এসে অজান্তাকে জড়িয়ে ধরল। কৃতজ্ঞ স্বরে বলল,” থ্যাঙ্কিউ ছোটমা। আমি জানতাম তুমি বুঝবে।”

” যা এবার। ওকে আনার অনুমতি দিয়েছি মানে এই নয় যে তোকে মাফ করে দিয়েছি। তোর ভুলের শাস্তি তুই ঠিকই পাবি।”

প্রণয় সানন্দে মাথা নেড়ে বলল,” তুমি যেই শাস্তি দিবে, আমি সব মানতে রাজি।”

সে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেই অজান্তা চাপা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,” রিসব তাহলে সত্যিটাই বলেছিল।”

মিষ্টি চোখ বড় করে তাকাল। কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,” মানে? রিসবও জানে এসব?”

” হ্যাঁ। আজ সকালেই ও আমাকে বলছিল প্রণয় নাকি বিয়ে করেছে। ওর কথা আমি বিশ্বাস করিনি৷ কিন্তু এখন দেখছি সবই সত্যি!”

” মেয়েটা কে ছোটমা? আমরা কি চিনি?”

” কি জানি? কাল এলেই বোঝা যাবে।”

মিষ্টির এখনও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তার ছোটভাই যে গভীর জলের মাছ! সে এতো কান্ড ঘটিয়ে ফেলবে তা মিষ্টি ধারণাই করেনি।

গভীর রাত। পা টিপিয়ে হাঁটছে তুলি। টিনাদের বাড়ি থেকে ফিরতেই দেরিটা হলো। মেডিকেল কলেজের জন্য এপ্লাই করতে গিয়েছিল। টেলিটক সিম ছাড়া পেমেন্ট করা যায় না৷ তুলি টিনার সাহায্যে পেমেন্ট করেছে। গল্প করতে কর‍তে আর সময়ের দিকে খেয়াল ছিল না৷ রাইফা তার সঙ্গে আসেনি কারণ সে মেডিকেলে পরীক্ষা দিবে না৷ তুলির মোবাইল বাজছে। হয়তো রাইফাই ফোন করছে বার-বার। ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করতে করতেই ফোন কেটে গেল। তুলি ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে নিল। একটা রিকশা পেলে ভালো হতো। আজকে অবশ্য তুলির অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই ভয় লাগছে। প্রথমত সে একা। আর দ্বিতীয়ত নিরিবিলি রাস্তায় কোনো রিকশা নেই। হঠাৎ সামনে একটি রিকশা এসে থামল। কিন্তু রিকশায় যাত্রী আছে। তুলি পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই পরিচিত একটি কণ্ঠ বলল,” তুলি না?”

কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল তুলি। অবাক হয়ে বলল, “কে?”

মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটের আলো মানুষটির মুখের কাছে ধরতেই আত্মা কেঁপে উঠল তুলির। আজমীর!

হাসিমুখে আজমীর রিকশা থেকে নামল। তুলির দিকে এগিয়ে আসছে সে। তুলি ভয়ে পিছিয়ে গেল কয়েক পা। আজমীর একটু থেমে বলল,” কি সৌভাগ্য! তুমি এতোরাতে এই জায়গায় কি করছো তুলি?”

তুলি রাগী দৃষ্টিতে বলল,”আপনি এখানে কি করছেন?”

” আমার বন্ধুর বাসা এইদিকে। এইতো সামনেই। তুমি কি বাড়ি যাচ্ছো? তাহলে ওঠো আমার সাথে রিকশায়! বাই দ্যা ওয়ে, তুমি এখন কোথায় থাকছো? প্রণয়ের বাড়িতে নাকি রাইফার বাড়িতেই?”

তুলি উত্তর না দিয়ে দ্রুত পা চালাতে শুরু করল।আজমীর তাকে পেছনে পেছনে প্রায় দশমিনিটের মতো অনুসরণ করছিল। একসময় তুলি অধৈর্য্য গলায় বলল,” আপনি যদি আমার পেছনে আরেকবার আসেন আমি কিন্তু চিৎকার করবো।”

আজমীর সকৌতুকে বলল,” এখানে তোমার চিৎকার শোনার মতো কেউ আছে বলে মনে হয় না।”

” কি বললেন আপনি?”
তুলি বিস্ফারিত চোখে তাকাল। আজমীর হেসে বলল,” চা খাবে?”

” আমি চা খাই না।”

” তাহলে আইসক্রিম? এটা নিশ্চয়ই নিষেধ করতে পারবে না। কারণ আমি জানি আইসক্রিম তোমার খুবই পছন্দ।”

আজমীর এই কথা বলেই তুলির গা ঘেঁষে হাঁটতে লাগল। তুলি আতঙ্কে চিৎকার দিয়ে উঠল,” কে আছেন? আমাকে বাঁচান। এই বদলোক আমার পিছু নিয়েছে। কেউ বাঁচান আমাকে।”

ত্রাসে তুলির কণ্ঠ দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। সে যতটা চিৎকার করেছে ততটাও অনেক অল্প। তবে আজমীর একটু ভয় পেল। সামান্য বিচলিত কণ্ঠে বলল,” এভাবে চেঁচানোর কি আছে তুলি? আমাকে বললেই তো আমি চলে যাই।”

তুলি বড় বড় নিঃশ্বাস ছাড়তে লাগল। নীরব রাস্তায় দু-একজন মানুষ এসে ভীড় জমালো। আজমীর ততক্ষণে চলে গেছে।

বাড়ি ফিরে তুলি দেখল রাইফা ঘুমিয়ে পড়েছে। সূচি তুলিকে খাবার বেড়ে দিলেন। কিন্তু তুলির খেতে ইচ্ছে করছিল না। সে নিজের ঘরে এসে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। প্রণয় ফোন করছিল অনেকক্ষণ ধরে। তুলি একবার ভাবল প্রণয়কে আজমীরের ঘটনাটি বলবে। কিন্তু প্রণয় এসব শুনলে রেগে যাবে। অযথাই ওভার রিয়েক্ট করবে। এই ভয়ে তুলি আর বলতে পারল না। কিছুক্ষণ প্রণয়ের সাথে কথা বলে সে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।

মাঝরাতে হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল তুলির। মনে হলো সে যেন উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছে। ঘুমটা ছুটে গেল। চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন। এতো অন্ধকার তুলি যেন আগে কখনোই দেখেনি। ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে সে। কোনোমতে বিছানা ছেড়ে উঠে বাতি জ্বালল। আজরাতে একা শোয়াটা বোধ হয় একদম ঠিক হয়নি। কিন্তু প্রেগন্যান্সির পর থেকে প্রত্যেক রাতেই তুলির এমন ঘুম ভেঙে যায়। রাইফার সাথে ঘুমালে সে বিরক্ত হতে পারে এই ভেবে তুলি একাই শুয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে একা শোয়াটা ভুল হয়েছে। ডাইনিংরুমে গিয়ে পানি খেয়ে নিল সে। রাত আড়াইটা বাজে। কিন্তু তুলির খুব ক্ষিদে পাচ্ছে। আবার কিছু রাঁধতেও ইচ্ছে করছে না। ফ্রীজ খুলে দেখল পাউরুটি আর চকলেট আছে। এই মুহূর্তে তুলির ঝাল কিছু খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু রান্না করার মুড নেই দেখে সে চকলেট দিয়ে পাউরুটি খেল। অল্পকিছু খাবার পেটে যেতেই তার বমি এলো। দৌড়ে বাথরুমে গেল বমি করতে। ঠিক সেই মুহূর্তে তুলি তার পেটে প্রচন্ড চাপ অনুভব করল। মনে হচ্ছে বড় কোনো শক্ত খন্ড তার পেট হালকা করে বেরিয়ে আসছে। পর মুহূর্তেই বাথরুমের সাদা টাইলসে রক্তে রঙিন হয়ে উঠল। তুলি বাথরুমেই মূর্ছা গেল। সকালে তুলির যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে হাসপাতালে। পেটে অসম্ভব ব্যথা। হাউমাউ করে কাঁদার মতো যন্ত্রণাময় এই ব্যথা। শোয়া থেকে উঠে বসতেই খুব বেগ পেতে হলো। একটু পর দেখা গেল রাইফা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকছে। তার চেহারা থমথমে। তুলি উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চাইল,” কালরাতে আমার কি হয়েছিল রাইফা? আমি এখানে কেন?”

রাইফা তুলির সামনে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কণ্ঠে একরাশ আক্ষেপ ঢেলে বলল,” আগে বল, তুই ঠিকাছিস? কেমন লাগছে এখন?”

” ভালো না। খুব পেটে ব্যথা করছে।”

” ঠিক হয়ে যাবে।”

” আমার কি হয়েছে? বাবু ঠিকাছে তো?”

রাইফা চোখমুখ অন্ধকার করে বলল,” তোর মিসক্যারেজ হয়ে গেছে তুলি।”

তুলি স্তব্ধ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই গর্জন করে কেঁদে উঠল সে। রাইফা তাকে সামলানোর জন্য দুই হাতে জড়িয়ে ধরল।

সকাল সকাল রাইফাদের বাড়িতে এসে হাজির হলো প্রণয়। কিন্তু দরজা লক। বাড়িতে কেউ নেই। অনেকবার কলিংবেল চেপেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। সকালে অবশ্য রাইফা তাকে ফোন করেছিল। প্রণয় ইচ্ছে করেই ফোন ধরেনি। একেবারে সরাসরি এসে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কেউ বাড়িতেই নেই। আর আজ তো তুলিদের কোচিং-ও ছিল না। তাহলে তারা যাবে কই? দুশ্চিন্তায় প্রণয় তুলির নাম্বারে ডায়াল করল। তুলি তখন রাইফার সাথে গাড়িতে বসে আছে। বাড়িতেই ফিরছিল তারা। কাঁদতে কাঁদতে তুলির চোখমুখ ফুলে উঠেছে। প্রণয়ের ফোন পেয়ে তার কান্নার বেগ আরও বেড়ে গেল। রাইফা সেটা লক্ষ্য করে বলল,” তুই কথা বলতে পারবি? নাহলে আমাকে দে। আমি বলছি।”

তুলি ফোন রিসিভ না করে সাইলেন্ট করে দিল। আপাতত তার প্রণয়ের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। প্রণয়ের মুখোমুখিও হতে ইচ্ছে করছে না। এতোবড় একটা দুঃসংবাদ সে প্রণয়কে কিভাবে দিবে সেটাও বুঝতে পারছে না।

বাড়ি ফিরে দেখা গেল প্রণয় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে রাইফা এবং তুলি দু’জনেই চমকে উঠল। প্রণয়ের দুইহাত ভর্তি শপিং ব্যাগ। একহাতে গোলাপের তোড়া। অন্যহাতে বড় একটা টেডি বিয়ার। এসব দেখে তুলি সিঁড়ির গোঁড়াতেই দাঁড়িয়ে পড়ল। উঠে আসার শক্তি পেল না। প্রণয় তাকে থেমে যেতে দেখে ভাবল তার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে৷ সঙ্গে সঙ্গে হাতের জিনিসগুলো মেঝেতে রেখে সে তুলির কাছে এলো। রাইফাকে বলল,” লিফটে উঠলে না কেন তোমরা?”

রাইফা জবাবে বলল, ” ভীড় ছিল। তাই উঠিনি।”

” তাই বলে সিঁড়ি দিয়ে উঠিয়ে আনবে আমার বউকে? একটু অপেক্ষা করলেই হতো!”

রাইফা কি বলবে বুঝতে না পেরে হাসল। প্রণয় আলতো করে তুলির কপালে চুমু দিল। তারপর কোমল হেসে বলল,” বাড়িতে সবকিছু জানিয়ে দিয়েছি আমি। ছোটমা বলেছে তোমাকে নিয়ে যেতে।”

তুলি একবার রাইফার দিকে তাকাল। রাইফার চোখ টলমল করছে। প্রণয় তুলিকে কোলে নিয়ে বলল,” আজকেই তোমাকে নিয়ে যাবো কিন্তু।”

তার চোখ থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে খুশি।সে তুলিকে নিয়ে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে এলো। দরজার কাছে আসতেই মুখে হাত দিয়ে আচমকা ফুঁপিয়ে উঠল তুলি। প্রণয় বিস্মিত হয়ে বলল,” কি ব্যাপার?”

চলবে#বেদনার_রঙ_নীল
বিয়াল্লিশতম পর্ব
লিখা- Sidratul Muntaz

হঠাৎ তুলিকে এভাবে কেঁদে ফেলতে দেখে প্রণয় থতমত খেল। দুইহাতে তাকে জড়িয়ে ধরেই প্রশ্ন করল,” কি হয়েছে তোমার?”

তুলি কোনো জবাব না দিলে প্রণয় রাইফার দিকে চাইল।

রাইফা বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল,” ভেতরে চলো, বলছি।”

চাবি দিয়ে ঘরের তালা খুলে ভেতরে ঢুকল রাইফা। প্রণয় তুলিকে ধরে বিছানায় এনে বসালো। তারপর বলল,” এতো সকালে তোমরা কোথায় গেছিলে?”

রাইফা কথা বলতে নিলেই চোখের ইশারায় নিষেধ করল তুলি। রাইফা থেমে গেল৷ তুলি পাশ কাটানো গলায় বলল,” কোচিং-এ। ”

” রাতে যখন তোমাকে ফোন করেছিলাম তখন তো বললে কোচিং নেই।”

” রুটিন চেক করতে ভুল হয়েছিল।”

” ওহ। আচ্ছা।”

তুলি একের পর এক মিথ্যা বলছে দেখে রাইফা একটু অবাক হলো। চা আনার বাহানায় সে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। প্রণয় এবার কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ” এতোক্ষণ কাঁদছিলে কেন? কি হয়েছে তোমার?”

তুলি মলিন মুখে বলল,” কিছু না।”

প্রণয় অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। একটু পর বলল,” আচ্ছা, বলতে ইচ্ছে না হলে থাক। পরে বোলো।”

তারপর সে শপিং ব্যাগ খুলতে খুলতে বলল,” দেখোতো পছন্দ হয় কি-না?”

ব্যাগ থেকে বাচ্চাদের জামা-কাপড়, টুপি, খেলনা ইত্যাদি জিনিস বের করতে লাগল প্রণয়। এসব দেখে তুলির কষ্টটা আরও বেড়ে গেল। রাগও হলো। কান্নাও পেল। সে আহত কণ্ঠে বলল,” এইসব এখনি কেন কিনছেন? বাচ্চা হতে তো অনেক দেরি!”

” তবুও কিনে রাখছি। অনলাইনে একটা বেবি বাথ সেট দেখেছিলাম। সেটাও অর্ডার করবো ভাবছি। এর আগে তুমি দেখোতো পছন্দ হয় কি-না? তোমার ভালো লাগলেই অর্ডার করবো।”

প্রণয় মোবাইল বের করে ছবিটি তুলিকে দেখালো। তুলির বুকভাঙা কষ্টে চিৎকার করতে মন চাইছে। প্রণয় যদি এইরকম করতে থাকে তাহলে সে সত্যি কথাটা কিভাবে বলবে?
তুলি বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। প্রণয় বলল,” কি ব্যাপার?”

তুলি ওই পাশে ফিরে বলল,” আমার শরীরটা ভালো নেই প্রণয়। রাতে ঘুম হয়নি। এখন খুব ঘুম আসছে। আমি একটু ঘুমাই প্লিজ?”

প্রণয় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
” ওকে।” তুলির পায়ের কাছে ভাঁজ করা কাঁথাটা দেখে সেটা খুলে তুলির গায়ে খুব যত্ন করে তুলে দিতে দিতে আবার বলল,” রেস্ট করো তুমি। আর বিকালে তৈরী থেকো কিন্তু। তোমাকে নিতে আসবো আমি। ছোটমা অপেক্ষায় আছেন।”

তুলি কান্নার কারণে কথা বলতে পারল না। মাথা নাড়ল কেবল। প্রণয় তুলির কপালে চুমু দিয়ে চলে গেল। সাথে সাথেই দুইহাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়ল তুলি। সে তার ভুল বুঝতে পেরেছিল। তবুও আল্লাহ তাকে এইভাবে শাস্তি কেন দিলেন?

প্রণয়কে হাসিমুখে ঘর থেকে বের হতে দেখে রাইফা বুঝতে পারল তুলি তাকে এখনও কিছুই বলেনি। প্রণয় খোশ মেজাজে বলল,” আমি চলে যাচ্ছি রাইফা। বিকালে আসবো তুলিকে নিয়ে যেতে।”

” চা খেয়ে যাও।”

” উহুম। এখন কিছু খাবো না।”

” তুলিকে বিকালে কোথায় নিয়ে যাবে?”

” আমার বাড়িতে।”

রাইফা অন্যমনস্ক গলায় বলল,” ও আচ্ছা।”

প্রণয় একটু বিস্মিত হয়ে বলল,” তোমাদের কি হয়েছে? দু’জনেই কেমন অদ্ভুত ব্যবহার করছো। সবকিছু ঠিকাছে তো?”

” তুলি তোমাকে কিছু বলেনি?”

” না তো। রাইফা কি হয়েছে? তুমি বলো প্লিজ!”

প্রণয় খুব ব্যগ্র হয়ে উঠল। রাইফা চিন্তা করল, তুলি যেহেতু নিজে থেকে কিছু বলেনি তাই তারও বলা উচিৎ হবে না। সে শান্ত কণ্ঠে বলল,” তেমন কিছুই না। তুমি চিন্তা কোরো না এসব নিয়ে এতো।”

” শিউর তো?”

” হুম। শিউর।”

” ওকে। ওর খেয়াল রেখো প্লিজ।”

” রাখবো।”

প্রণয় বের হয়ে যাওয়ার পর রাইফা তুলির ঘরে ঢুকল। রাগে, দুঃখে প্রণয়ের কিনে আনা সব জিনিস বিছানা থেকে সব ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে তুলি। রাইফা ত্বরিতে গিয়ে থাকে থামাল,” তুলি এসব কি করছিস? থাম প্লিজ।”

তুলি কান্নারত অবস্থাতেই দুই পাশে মাথা নেড়ে বলল,” আমি ওকে বলতে পারবো না। অসম্ভব। এই দ্যাখ, কত কিছু এনেছে ও বেবির জন্য। রীতিমতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বাড়িতে পর্যন্ত সব জানিয়ে দিয়েছে। বিকেলে নাকি সে আমাকে নিতেও আসবে। এমন অবস্থায় আমি কিভাবে তাকে বলবো যে তার বাচ্চা মরে গেছে? ”

রাইফা একহাতে মুখ চেপে ধরল। তারও কান্না পাচ্ছে খুব। তুলি বিছানার চাদর উল্টে ফেলল। তারপর মেঝেতে বসে হাঁটু মুড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। রাইফা তার আচরণ দেখে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

বিকালে বাড়িতে এসে তুলিকে দেখে খুবই হতাশ হলো প্রণয়। মেয়েটা একদম সাজ-গোজ করেনি। প্রতিদিন যেভাবে শানকে পড়াতে যায় আজকেও সেভাবেই সেজেছে। একপাশে সিঁথি করে চুল বেঁধেছে। সাধারণ একটি সেলোয়ার-কামিজ পরেছে৷ কিন্তু আজকের দিনটি তো সাধারণ নয়। প্রণয় চেয়েছিল তুলি অন্তত শাড়ি পরুক। স্নিগ্ধভাবে একটু সাজুক। বিয়ের দিন শাড়িতে তাকে কি অসম্ভব সুন্দর লাগছিল! প্রণয় অভিযোগের সুরে বলল,” আজকে অন্তত শাড়ি পরতে পারতে।”

তুলি শুকনো মুখে বলল,” ইচ্ছে করেনি।”

প্রণয়ের সন্দেহ হলো। কৌতুহল মেটাতে জিজ্ঞেস করে ফেলল, ” তোমার কি হয়েছে তুলি? এতো মনমরা দেখাচ্ছে কেন? এমন ভাব করছো যেন কেউ মারা গেছে!”

তুলির বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। চোখে অশ্রু টলমল করছে। সত্যিই তো মারা গেছে কেউ। তার সন্তান মারা গেছে! দুইদিন আগেও যাকে তুলি নিজের হাতে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।

সদর দরজা দিয়ে প্রণয় আর তুলিকে ঢুকতে দেখে অবাক হলো মিষ্টি। প্রণয় তুলির হাত ধরে ভেতরে ঢুকছে। মিষ্টি বিস্ময় নিয়ে চিৎকার করে বলল,” এটা কে প্রণয়?”

প্রণয় মাথা নিচু করে হাসল। বলল,” যার কথা বলেছিলাম..”

মিষ্টি চিৎকার করে অজান্তাকে ডেকে আনল। তুলিকে দেখে অজান্তাও ভ্যাবাচেকা খেলেন। কেউ কল্পনাই করেনি যে প্রণয়ের পছন্দের সেই মেয়েটি তুলিই হবে। হৈ-হল্লা শুরু হলো বাড়ি জুড়ে। শান আগ্রহ নিয়ে বলল,” তুমি কি এখন থেকে আমাদের বাড়িতে থাকবে মিস?”

মিষ্টি হাসিমুখে বলল,” হ্যাঁ গ্রীনলাইট। এখন থেকে তোর মিস কিউটিপাই এখানেই থাকবে।”

শান তুলির হাত ধরেই আবদার করল,” আমার রুমে থেকো প্লিজ। আমরা রাত জেগে চেস খেলবো।”

তুলি মলিন মুখে বলল,” আমি তো চেস খেলতে পারি না সাইক্লোন।”

” নো প্রবলেম। আমরা তাহলে লুডু খেলবো।”

তুলি হেসে উঠল। অজান্তা শানের মাথায় গাট্টা মেরে বলল,” পাগল, রাত জেগে খেলতে হবে কেন? দিনের বেলা খেলবি।”

শান ভ্রু কুচকে বলল,” আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি? ইফ ইউ ডন্ট মাইন্ড।”

তুলি হালকা হেসে বলল,” আচ্ছা করো।”

” তুমি রেডলাইটকে কেন বিয়ে করলে? মানে ভাইয়াকেও তো বিয়ে কর‍তে পারতে৷ বাট রেডলাইটকে কেন?”

তুলি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,” কেন? রেডলাইট কি ভালো না?”

” তোমার জন্য ভালো না৷ তুমি তো খুব সুইট। রেডলাইটের সাথে তোমাকে মানায় না৷ ভাইয়ার সাথে খুব মানাতো।”

মিষ্টি বলল,” ওর কথায় কিছু মনে কোরো না তুলি। ও এসব বলছে নিজের স্বার্থে। ছোটমা যে সবসময় বলে রিসব বিয়ে করলে বাড়িতে থাকবে, এজন্য এই কথা বলছে। ও আসলে প্রণয়ের থেকে রিসবকে একটু বেশি পছন্দ করে।”

তুলি স্মিত হেসে বলল, ” সেটা আমি জানি। কিন্তু সাইক্লোন, তোমার ভাইয়ার জন্য তো পাত্রী ঠিক করা আছে। সময়মতো বিয়েও হবে।”

শান একটু বিরক্তি নিয়ে বলল,” প্লিজ, তুমিও এখন রাইফার কথা বোলো না! আই হেইট হার!”

” ওমা কেন? সে কি করেছে?”

” কিছু করেনি৷ বাট ও একটু এনোয়িং।”

তুলি হাই তুলল। শান সাথে সাথে বলল,” ঘুম পাচ্ছে তোমার? চলো আমার ঘরে।”

মিষ্টি হেসে ফেলে বলল,” ও তোর রুমে কেন ঘুমাবে?”

শান বিব্রত হয়ে বলল,” তাহলে কোথায় ঘুমাবে?”

মিষ্টি উত্তর দিল,” রেডলাইটের রুমে।”

” কেন?”

তার এই কেন’র উত্তর এবার মিষ্টি দিতে পারল না। অজান্তা এসে বললেন,” প্রণয়ের ঘর তোর ঘরের চেয়ে বেশি সুন্দর। এজন্য তুলি সেখানে ঘুমাবে।”

শান এবার বলল,” ঠিকাছে। তাহলে আমি আর মিস রেডলাইটের রুমে থাকবো। আর রেডলাইট আমার রুমে শিফট হয়ে যাবে। প্রবলেম সলভড।”

মিষ্টি হাসতে হাসতে বলল,” ওরে সেয়ানা, এতো কৌশল করে লাভ নেই। তুই বরং আর একটা বছর অপেক্ষা কর। তারপর তো পুচকুটার সাথেই থাকতে পারবি।”

” পুচকু কে আবার?”

” তুলির বাবু!”

বাচ্চার প্রসঙ্গ আসতেই তুলির মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। অজান্তা বললেন,” তোমরা গোপনে বিয়ে করে মোটেও ঠিক করোনি। আমি তোমাদের মাফ করতাম না। শুধু বাচ্চাটার জন্য মাফ করছি। আচ্ছা, ছেলে হবে নাকি মেয়ে? আল্ট্রাস্নো করিয়েছো?”

সবাই আগ্রহ নিয়ে তুলির মুখের দিকে চাইল। শান তো বলেই বসল,” ছেলে হলে আমি তাকে ক্রিকেট খেলা শেখাবো।”

তুলি নিষ্প্রাণ কণ্ঠে বলল,” আমি জানি না।”

এই কথা বলেই সে উঠে দাঁড়ালো। অস্থিরচিত্তে বলল,” আমি একটু ঘরে যাবো। আমার শরীর খারাপ লাগছে।”

মিষ্টি তুলিকে ধরে বলল,” চলো তোমাকে প্রণয়ের ঘরে দিয়ে আসি।”

প্রণয় তার ঘরে কিছু কাজ করছিল। দরজা বন্ধ ছিল। মিষ্টি দরজায় কড়া নাড়তেই প্রণয় বলল,” পাঁচমিনিট!”

মিষ্টি তাগাদা দিতে বলল,” দ্রুত দরজা খোল। তুলির শরীর খারাপ লাগছে।”

প্রণয় এই কথা শুনে সাথে সাথেই দরজা খুলে দিল। কপালে কুঞ্চন সৃষ্টি করে বলল,” কি হয়েছে তুলির?”

মিষ্টি এই সুযোগে ঘরে ঢুকে গেল। আর অবাক হয়ে বলল,” ওয়াও, দোলানাটা খুব সুন্দর লাগছে তো!”

তুলি ভেতরে ঢুকে দেখল বড় একটা কাঠের দোলনা প্রণয় ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে। দোলনার একপাশে ফুল লাগানো এখনও বাকি। প্রণয় হয়তো দরজা আটকে এই কাজটাই করছিল। সে ফিসফিস করে তুলির কাছে এসে বলল,” সারপ্রাইজ!”

তুলি স্থির দৃষ্টিতে দোলনার দিকে তাকিয়ে রইল৷ এই দোলনায় যার থাকার কথা ছিল সে এখন আর বেঁচে নেই। তাহলে কার জন্য এতো আয়োজন? তুলির বুকটা খা খা করে ওঠে। ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সে কিভাবে সত্যি কথাটা বলবে সবাইকে?

মিষ্টি আনন্দ ঝরা কণ্ঠে বলল,” জানো তুলি, এই দোলনা কেনা নিয়ে কত কাহিনী? কালরাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মার্কেট ঘুরে ঘুরে দোলনাটা পছন্দ হয়েছে। প্রণয় তো বিরাট সংশয়ে ছিল তোমার পছন্দ হবে কি-না। আমি এতোবার বললাম যে এতো সুন্দর জিনিস পছন্দ না হয়ে উপায় নেই। কিন্তু সে বিশ্বাসই করেনি আমার কথা। এখন তুমি দেখে বলোতো দোলনাটা কেমন হয়েছে? ভালো লাগলে একটু প্রশংসা করে দাও। যাতে আমার ভাইয়ের মন শান্ত হয়।”

তুলি জোরপূর্বক হেসে বলল,” খুব সুন্দর। ”

মিষ্টি হাঁফ ছেড়ে বলল,” যাক, তুলির পছন্দ হয়ে গেছে। এবার তুই খুশি তো প্রণয়?”

প্রণয় নিশ্চিত হতে আবার প্রশ্ন করল,” সত্যিই কি পছন্দ হয়েছে? নাকি আমাকে খুশি করতে বলছো?”

” সত্যিই পছন্দ হয়েছে।”

মিষ্টি চলে যাওয়ার পর প্রণয় বলল,” শুধু বাবু না, বাবুর আম্মুও দোলনায় চড়তে পারবে। চলোতো, তোমাকে উঠিয়েই ফার্স্ট ট্রায়াল দেই।”

তুলি সঙ্গে সঙ্গে বলল,” না, প্রণয়। আমি উঠবো না।”

কে শোনে কার কথা? তুলিকে জোর করে কোলে নিয়ে দোলনায় ওঠালো প্রণয়। দোলনা সেট করা হয়েছে বারান্দায়। তুলির মাথার নিচে একটা বালিশ দেওয়া হলো। তুলি সোজা তাকালো নীল আকাশের দিকে। ওই ঝকঝকে উজ্জ্বল নীল আকাশ তুলির মনের বিষণ্ণতা এতোটুকু কমাতে পারল না।

পুরো একটি দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। তুলি কোনোভাবেই প্রণয়কে মিসক্যারেজের দুঃসংবাদটা দিতে পারল না। তাছাড়া বাচ্চা নিয়ে এই বাড়িতে যা হৈচৈ হচ্ছে তা সহ্য করাও কঠিন। অজান্তা সকালেও বললেন তুলিকে নিয়ে সময় করে ডাক্তারের কাছে যাবেন। আল্ট্রাস্নোগ্রাফি করিয়ে জানতে হবে বাচ্চা কতটুকু বড় হয়েছে। কেমন আছে, ছেলে নাকি মেয়ে তা জানা সম্ভব কি-না! তুলি ঠিক করল সে শরীর খারাপের বাহানা দেখিয়ে যাবে না। কিন্তু আজ না হয় কাল, সত্যিটা সবাই জেনেই ফেলবে। তখন কি হবে?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here