ভালোবাসার নতুন প্রনয়ণ পর্ব ১১

গল্পের নামঃ- #ভালোবাসার_নতুন_প্রনয়ণ

লেখিকাঃ- #konika_islam (sanju)

part:11

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাড়াতেই ধাক্কা লাগে হূরের। গলার চেনটা নেই। আর দুইদিন যাবৎ সেই ব্যক্তির খোঁজ খবরও নেই!! হূরের মনে আছে কালকে রাতে ছাঁদে যখন আলাইনার সাথে ছিল তখনও চেনটা ছিল। হয়তো ছাঁদে কেথাও একটা পরেছে!! হূর তাড়াতাড়ি করে পা বাড়ায় ছাঁদের দিকে। আজ ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়ে গিয়েছে। হূর খেয়াল করে দেখে দোলনার পাশে চেনটা পরে আছে। হূর সেটা তুলে গলায় পরে নেয়। নিচে বাগানের দিকে তাকাতেই হূর দেখে,

এরিশ পুশআপ দিচ্ছে আর আলাইনা বসে আছে এরিশের পিঠে আর বলছে

” দিন দিন খেতে খেতে গোপালভার হয়ে যাচ্ছো!! পেট টা দেখছ কেমন ফুটবলের মতো হয়ে গিয়েছে। কম কম খেতে পারো না। এরিশ বলে

” তুই এখন আমার খাবারের হিসাবও করবি?? আলাইনা বলে

” চুপ করো!! ডায়েট করবা তুমি। হূর ছাঁদ থেকে বলে

” আলাইনা ডায়েট তোমার এরিশ ভাইয়া দ্বারা হবে না। আর কালকে দেখলাম ফ্রিজ থেকে চকলেট নিয়ে খেতে। এরিশ হূরের দিকে তাকাতেই হূর রুমে দৌড়। আলইনা বলে

” ঐ দিকে না তাকিয়ে আমার দিকে তাকাও!! কার পারমিশনে চকলেট খেয়ছ?? এরিশ বলে

” বোইন আমার ভুল হয়েগিয়েছে নাম এবার। আলাইনা বলে

” তোমাকে তো আমি দাড়াও। আলাইনা নামতেই এরিশ উঠে দৌড়। আলইনা বলে

” এরিশ ভাইয়া এখানো আসো। এরিশ বলে

” পাগল নাকি, আমার এখন স্পেস লাগবে তুই জ্বালিয়ে দিস৷ আলাইনা বলে

” দারওয়ান চাচ্চুকে বলবো রকেট কিনে আনতে ঐটায় চড়ে চাঁদ ভ্রমণ করাবো। এরিশ নিজের রুমে ঢুকবে তখনই হূর নিচের দিকে যাচ্ছে। এরিশকে দেখা

মাত্রই হূর নিজের রুমের দিকে যেতে লাগে আবার। তখনই এরিশ হূরের বেনি ধরে টান দিয়ে বলে

” দুইবোন মিলে কি পেয়েছিস আমাকে?? একজন রকেটে বসিয়ে চাঁদে পাঠাবে, আরেকজন ফসিয়ে দিচ্ছে দিনদুপুরে চুরির নাম করে!! তখনই কেউ এরিশকে পিছন থেকে মার লাগিয়ে দেয়। এরিশ পিছনে তাকিয়ে দেখে আলাইনা। তার দিদুনের লাঠি হাতে দাড়িয়ে আছে। আলইনাকে দেখা মাত্র এরিশ হূরকে ছেড়ে দেয় দৌড়। আলাইনাও পিছু পিছু ছুটছে৷ এরিশ বলে

” সরি সরি জীবনে আর তোর চকলেট খাবো না। আজকে আসার সময় অনেক গুলো চকলেট কিনে আনবো। আলাইনা থেমে যায় আর বলে

” যাও মাফ করে দিলাম। অন্য দিকে ওদের কাহিনী দেখে হাসছে। এরিশ রুমে যেতে যেতে বলে

” দেখনিব তোকে। হূর হাসি দিয়ে বলে

” তো দেখেন না বারণ কে করছে ?? দেখুন ভালো করে দেখুন।

এরিশ হূরের দিকে ঝুকে কানে কানে বলে

” আফিয়া আফারার হূর, বি-রেডি বেইবি। বলেই নিজের রুমে চলে যায় আর হূর এখনো তাকিয়ে আছে। আলাইনা বলে

” কি বললো তোমাকে?? হূর বলে

” না কিছু না। নিচে চলো।

_______________

ক্লাস নেই সবাই যার যার মতো গল্প করছে। তখনই হূরের নজর যায় বাইরের দিকে তার দিকেই কেউ তাকিয়ে আছে। হুমম এটা আর কেউ না সেই অজানা ব্যক্তি হূরকে তাকাতে দেখেই সে সেখান থেকে চলে যায়। হূরও আজ দেখে ছাড়বে কে এই ব্যক্তি। হূরও অহি, তিথি আর অনিককে কিছু না বলেই চলে আসে ক্লাস রুমের বাইরে। ক্লাস রুম থেকে বেড়িয়ে ডান দিকে তাকাতেই দেখা মিলে সেই ব্যক্তির। হূরও নিজের পায়ের গতি বাড়ায়। ব্যক্তিটা পিছনে তাকিয়ে হূরকে আসতে দেখতেই নিচে নামতে লাগে। হূর পিছন থেকে ডাক দিয়ে বলে

” এই যে শুনছেন?? কিন্তু তার কোনো সারা শব্দ নেই। হূরও নামতে লাগে নিচে নামতেই একটা মেয়ে এসে হূরের হাতে একটা চিরকুট দিয়ে বলে

” তোমার জন্য। বলেই চলে যায়। হূর চিঠিটা ওপেন করে দেখে

” ইচ্ছে ছিল আরো কিছু দিন লুকোচুরি খেলব। কিন্তু মানুষটা তুমি এখন একান্তই আমার তাই না হয় এই খেলা বাদ দিয়ে সামনে আসা যাক। কি বলো?? বিকেল পাঁচটায় তোমার বাসার পার্কে অপেক্ষা করব।
আর হ্যা নীল শাড়িটা পড়তে ভুলবে না কেমন?? তো বিকেলে দেখা হচ্ছে। ভালোবাসি।

হূর চিরকুট টা পড়ে ভাবে। সে যাবে আজকে সে জানবেই কে এই ব্যক্তি!! তখনই কেউ হূর কে ডাকে।

” হূর পরি তুমি এখানে?? হূর পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখে নীলআদ্র। নীলআদ্র বলে

” হূর বিকেলে ফ্রি আছো?? হূর বলে

” কেন? নীলআদ্র হাসি দিয়ে বলে

” তোমাদের ঐদিকের পার্কে যাবো। বিকেলে পার্কে আসিয় কেমন?? হূর বলে

” না, আমি যেত পারবো না, আমার ক্লাস আছে বায়। নীলআদ্র বলে

“তবুও আমি অপেক্ষা করব। হূর চুপচাপ উপরে৷ উঠতে লাগে। হূর কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে হাটছিল তখনই হঠাৎ করে হূর সামনে তাকাতেই দেখে আবিদ। আজ অনেক দিন পর আবিদের সাথে দেখা । আবিদকে দেখা মাত্রই হূর দুইপা পিছিয়ে যায়, সাথে আবিদের কিছু চেলাপেলাও আছে। আশেপাশে তেমন কেউ নেই। অহি আর তিথি কেও বলে আসেনি। আবিদ হূরকে দেখে বলে

” ভয় হচ্ছে? হূর বলে

” আমার ভয় হবে কেন?? আমি কিছু করেছি। পথ ছাড়ুন। আদিব হাসি দিয়ে বলে

” পথ আটকে কেউ রাখেনি যেতে পারো। হূর আদিবদের পাশ কাটিয়ে চলে আসে।

______________

ক্লাস শেষে হূর পানি খেতে খেতে নিচে নামছে৷ অনিক লাইব্রেরীতে গিয়েছে। অহি বলে

” দোস্ত আমি বিয়ে করব। আমি আর এই প্যারা নিতে পারবো না। হূর অহির দিকে তাকিয়ে বলে

” তো করনা বারণ কে করেছে। তিথি বলে

” আরে আমাদের ছাড়া বিয়ে করে এতিম এতিম লাগবে না ওর?? হূর কিছু বলতে যাবে তখনই কারো সাথে ধাক্কা লাগে আর ফলস্বরূপ পানির বোতল থেকে পানি গুলো গিয়ে সব পরে সেই ব্যক্তির গায়ে। হূর সামনে তাকাতেই দেখে এরিশ। সাথে আকাশ আর আবিরও দাড়িয়ে। হূর বলে

” সরি সরি ভাইয়া আমি ইচ্ছে করে করেনি। এরিশ ধমক দিয়ে বলে

” কানের নিচে এমন একটা দিব না ২৪ ঘন্টার আগে দুনিয়ায় ঘুরা শেষ করে পাতাললোক অব্দি ঘুরে আসবি। তুই আমার কোন জন্মের বোন?? আকাশ বলে

” আরে এরিশ যেতেদে। এরিশ কিছু না বলে চোখ পাকিয়ে চলে যায়। এরিশ যেতেই হূর বলে

” ফালতু লোক একটা। জঘন্য অতি নগন্য। অহি হাসি দিয়ে বলে

” হয়েছে এবার চল।

_______________

নীল শাড়ি খোলা চুল হাতে চুড়ি, বাইরে হাত বারিয়ে বৃষ্টি ধরছে হূর। মনে হাজারো প্রশ্ন। মানুষটা কে? কেমন?? আচ্ছা হূরকি তাকে চিনে? নাকি সে সত্যি
হূর রেডি হয়ে বসে আছে কিন্তু বাইরে বৃষ্টি। এই বৃষ্টি মাথায় করে পার্কে যাবে? কিন্তু কিছু করার নেই যেতেই হবে। কারণ সে আজ দেখে ছাড়বে কে সেই অজানা ব্যক্তি!?

চুপচাপ নিজের মতো বেরিয়ে পরলো হূর। বাসায় কারো প্রশ্নের জবাব দিতে হয়নি। কারণ ড্রয়িং রুমে কেউ ছিল না। হূর এক হাতে ছাতা আরেক হাতে শাড়ির কুঁচি ধরে হাটছে। বেশি দূর না আরেকটু৷ পার্ক সম্পূর্ণ ফাঁকা। বৃষ্টির কারণে কোনো পাখির আনাগোনাও নেই। হূর একটু সামনে আগেতেই দূরে থেকে দেখতে পায় কেউ দাঁড়িয়ে আছে গাছের নিচে যদিও ভিজে একাকার। হূরকে দেখে হূরের দিকেই আসছে সে। হ্যা এটা আর কেউ না সেই ব্যক্তি । সাদা পান্ঞ্জাবি কালো মাস্ক

চলবে

ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে। রিচেক হয়নি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here