ভয়ংকর প্রণয় পর্ব ১০

#ভয়ংকর_প্রণয়
Part_10
লেখনীতে_#Nusrat_Hossain

নতুন পরিবেশে নাফিয়ার ভালোই লাগছে ।এ বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ-ই খুব ভালো ।অমাইক তাদের ব্যবহার ।নাফিয়ার খুব ভালো লাগে এত ভালো একটা পরিবার পেয়ে ।বিশেষ করে নাফিজ আঙ্কেল রাইশা ভাবীর বাবা ।তিনি খুব ভালো মনের মানুষ প্রথম দিন রাতে কথা বলেই বুজতে পেরেছে নাফিয়া ।এই বাড়িতে এসেছে আজ এক সপ্তাহ হল ।

নাফিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হচ্ছে । আজকে তাকে রিয়া ঘুরতে নিয়ে যাবে সাথে আরদিনও যাবে।সে নীল রঙ এর থ্রী পীচ পরে নিল ।সাথে দুহাতে নীল রঙ এর চুরি ।সে বেশি সাজতে পছন্দ করে না ।তাই চোখে গাঢ় করে কাজল আর ঠোটে লিপবাম দিয়ে নিল ।

——– তোকে খুব সুন্দর লাগছে রে ।আজকে বের হলে ছেলেরা তোকে দেখে হার্ট ফেল করেই মারা যাবে ।

নাফিয়া আয়না থেকে ঘুরে দাঁড়াল ।এই সাত দিনে রিয়া আপু তুমি থেকে তুই এ চলে গেছে ।মুচকি হাঁসল নাফিয়া ।রিয়া আপু পিংক হোয়াইট কম্বিশনে থ্রি পিছ পড়েছে ।খুব সুন্দর লাগছে রিয়া আপুকে ।শ্যামলা গাঁ এর মেয়েদের যে এতোটা মায়াবী লাগে তা রিয়া আপুকে না দেখলে জানতে পারতনা ।
নাফিয়া একটু গলা খাঁকারি দিয়ে চুলটা ব্রাশ করতে করতে বলল আমি যদি ছেলে হতাম না এক্ষুনি হার্ট এট্যাক করতাম আপু।তার চেহারায় দুষ্টুমির রেখা ।

রিয়া নাফিয়ার কথা বুজতে না পেরে নাফিয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাল ।
নাফিয়া দুষ্টু হেঁসে বলল তোমায় খুব সুন্দর লাগছে ।
রিয়া নাফিয়ার কান টেনে বলল ওরে… দুষ্টু আমার কথা আমাকেই ফেরত দেওয়া হচ্ছে ।
নাফিয়া হো হো করে হেঁসে উঠল ।এই প্রথম সে প্রানখোলা হাঁসি হাঁসল ।

—— তোমার হাঁসিটা তো খুব সুন্দর ।এভাবেই হাঁসবে সব সময় আরদিন বলল কথাটা ।

আরদিনের কথা শুনে নাফিয়ার মুখ চুপসে গেল ।এই সাতদিনের মধ্যে আরদিন ফার্স্ট টাইম তার সাথে কথা বলল ।যদিও সে নিজেই এড়িয়ে গেছে আরদিনকে এই সাতটা দিন ।এমনিতেও সে ছেলেদের সাথে কথা বলেনা ।বলতে গেলে তার সেই অভ্যাস নেই । আরদিন নাফিয়ার দিকে একপলক তাকিয়ে
রিয়াকে বলল

তোদের হয়েছে ? নাকি আরো সময় লাগবে সাজুগুজু করতে ? কথাটা টিপ্পনী মেরে বলল আরদিন ।

রিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল আরদিনের দিকে ।বলল আমাদের হয়ে গেছে ।এখন আমরা যেতে পারি ।

তারা বের হল বাড়ি থেকে ।নাফিয়া আর রিয়া রিকশা দিয়ে যাচ্ছে আর আরদিন তাদের পেছন পেছন বাইক দিয়ে আসছে ।
রিকশা প্রায় দশ -এগারো মিনিট পর একটা জায়গায় থামল ।তারা দুজন রিকশা থেকে নেমে পরে ।
আরদিনও বাইক রাস্তার সাইডে রেখে তাদের সামনে আসে ।তারা সবাই গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল ।ভেতরে ঢুকতেই নাফিয়ার চোখজোড়া জুড়িয়ে গেল ।জায়গাটা একটা রিসোর্ট ।গেটের সামনে দুটো কাঠগোলাপ গাছ ।ফুলে ফুলে ভরা গাছদুটোতে ।তার ইচ্ছে করল ফুলগুলো ছুঁয়ে দিতে ।ছোটবেলায় তার খুব ইচ্ছে ছিল তাদের বাড়ির সামনে কাঠগোলাপ গাছ আর জবা ফুল গাছ লাগাতে ।কিন্তু আজম খাঁনের জন্য গাছ লাগাতে পারেনি ।মনের ইচ্ছা মনেই রয়ে গেল ।নাফিয়া একমনে কাঠগোলাপ গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে ।রিয়া আলতো করে নাফিয়াকে ধাক্কা দিয়ে বলল চল যাই।
নাফিয়া ভাবনা থেকে ফিরে এসে আরদিন আর রিয়ার সাথে সামনে আগাতে লাগল ।যতই সামনে আগাচ্ছে ততই নাফিয়ার মনে ভালো লাগা কাজ করছে ।এত সুন্দর জায়গায় সে কখনো আসেনি ।এই প্রথম আসল ।কিছুটা সামনে আগাতেই সে একটা বড়সড় ধাক্কা খেল ।সামনে একটা মানুষের বসার জন্য ঘরের মত বানানো হয়েছে ।সেখানে কয়েকটা ছেলে বসে আছে ।ছেলেগুলো খুব পরিচিত নাফিয়ার ।বিশেষ করে একজনকে দেখে সে অনেক বেশি-ই চমকে গেছে ।সে জানেনা তার কি হল ? খুব দ্রুত গিয়ে ছেলেটার সামনে দাঁড়াল ।ছেলেটার হাতদুটো ধরে বলল

আপনি ঠিক আছেন ?আপনার কিছু হয়নি তো ? ওরা আপনাকে কিছু করেনি তো ?নাফিয়ার গলা কাঁপছে ।

স্পর্শ ভরকে গেছে মেয়েটার এহেন কান্ডে ।রিয়া আর আরদিনও ভরকে গেছে নাফিয়া এমন করাতে ।স্পর্শের বন্ধুরা সবাই ঠোট টিপে হাঁসছে ।কিন্তু আশিক ঠোট টিপে হাঁসতে পারেনা ।সে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও হাঁসি আটকাতে না পেরে হো হো করে হেঁসে উঠল ।এখনও নাফিয়ার হাতজোড়ার মাঝে স্পর্শের হাতজোড়া আবদ্ধ ।আশিকের উচ্চশব্দের হাঁসিতে তার ধ্যানভঙ্গ হল ।সে দ্রুত স্পর্শের হাতজোড়া ছেড়ে দিল ।নাফিয়ার চোখেমুখে লজ্জা স্পষ্ট ।সে মিনমিনে গলায় বলল

সরি ।

স্পর্শ নাফিয়ার কথার কোনো প্রত্যুত্তর করল না ।আশিকের দিকে চোখ গরম করে তাকাল ।আরদিন ভ্রু নাঁচিয়ে স্পর্শকে ইশারা করে বোঝাল , কেসটা কি ?

স্পর্শ ঠোটদুটো উল্টে মাথাটা হাল্কা নাড়িয়ে ইশারা করে বোঝাল , সে নিজেও কিছু বুজতে পারছেনা ।

এই মুহূর্তে নাফিয়ার খুব অসস্তি হচ্ছে ।স্পর্শ নাফিয়ার দিকে তাকাল ।বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটা খুব লজ্জা পেয়েছে ।সে গলা খাঁকারি দিয়ে সবাইকে বলল

তো সবাই ঘুরা যাক ।

স্পর্শের সাথে সবাই সহমত পোষন করল ।সবাই যে যার মত ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল রিসোর্ট টা ।কেউ কেউ ছবি তুলছে আবার কেউ কেউ এদিক থেকে ওদিক ঘুরে ঘুরে দেখছে ।রিসোর্ট টা বেশ বড়।নাফিয়া রিয়ার পেছন পেছন হাঁটছে ।কখনো কখনো বিভিন্ন পোজে রিয়ার ছবি তুলে দিচ্ছে ।সেল্ফি নিতে নিতে রিয়া বলল

নাফিয়া চল আমরা দুজন একসাথে পিক তুলি ।রিয়া এদিক সেদিক তাকাল ।কিছুটা দূরে স্পর্শকে দেখতে পেয়ে রিয়া স্পর্শ ভাই বলে জোড়ে ডাক দিল ।স্পর্শ রিয়ার ডাক শুনতে পেয়ে ওদের সামনে এল ।

স্পর্শ আসতেই নাফিয়ার খুব লজ্জাবোধ হল ।রিয়া স্পর্শের দিকে নিজের ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল ভাইয়া আমাদের একসাথে কয়েকটা পিক তুলে দেন না ?

স্পর্শ রিয়ার ফোনটা হাতে নিল ।রিয়া নাফিয়াকে টেনে নিয়ে একসাথে দাঁড়াল ।নাফিয়া ফোনের দিকে না তাকিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে ।স্পর্শ বুজতে পারছে মেয়েটার খুব অসস্তি হচ্ছে ।সে নরম গলায় নাফিয়াকে বলল

এদিকে তাকান ।

নাফিয়ার চোখজোড়া স্পর্শের চোখে আটকে গেল । স্পর্শ ফটাফট কয়েকটা পিক তুলে দিল ।
রাইশা আরো পোজ নিয়ে কয়েকটা পিক তুলতে চাইল নাফিয়ার সাথে ।কিন্তু নাফিয়ার ভালো লাগছে না পিক তুলতে ।তাই সে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াল ।

স্পর্শ রিয়ার পিক তুলতে নিলেই সেখানে স্পর্শের ফ্রেন্ড আয়ান এসে দাঁড়াল ।আয়ান এসে স্পর্শের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বলল

তুই যা আমি পিক তুলে দিচ্ছি ।

স্পর্শ বাঁকা হাঁসি দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল ।

রিয়ার খুব লজ্জা লাগছে ।আয়ান তার পিক তুলে দিবে শুনে ।আয়ান এদিক সেদিক তাকিয়ে রিয়ার হাতটা ধরে অন্য একটা জায়গায় নিয়ে গেল ।বলল

এখানে দাঁড়াও পিক তুলে দিচ্ছি ।

রিয়া ওড়নাটা ঠিকঠাক করে লজ্জাবতী চেহারা নিয়ে তাকাল আয়ানের দিকে ।

এদিকে নাফিয়া রিয়া না থাকায় একা একা ঘুরছে ।হ্ঠাৎ করে নিজের কানে কারোর হাতের স্পর্শ পেয়ে সে কেঁপে উঠল ।হাতের মালিককে দেখার জন্য সে পেছনে ফিরে তাকায়।নাফিয়া চমকে গেল স্পর্শকে দেখতে পেয়ে ।স্পর্শের ঠোটে মুচকি হাঁসি ।স্পর্শের হাঁসিতে সে আটকে গেল ।মনে হচ্ছে তার ভেতরে কেউ ঢোল পিটাচ্ছে ।ড্যাপড্যাপ দৃষ্টিতে স্পর্শের দিকে তাকিয়ে আছে নাফিয়া।সে ঘোর লাগা অবস্থাতেই কানে হাত দিল ।তার কানে স্পর্শ কাঠগোলাপ গুঁজে দিয়েছে ।অজান্তেই নাফিয়ার ঠোটে এক চিলতে হাঁসি ফুটে উঠল ।

চলবে,
@Nusrat Hossain

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here