#মিস্টার__সিনিয়র
#পর্বসংখ্যা_২৩
®ফিহা আহমেদ
“পরশি”। (জোভান)
পরশি বলে জোভান হাঁটু গেড়ে নিচে বসে পড়লো।
রিফাত আর স্বর্ণা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পরশির দিকে।
“ও তো মরে গেছে । তাহলে ,,,,, (রিফাতের মুখ থেকে নিজে নিজে কথাটি বের হয়ে গেল)
(ফ্ল্যাশব্যাক ,,,,,
জোভান আর পরশি আগেই জিহার বিপদ বুঝতে পেরেছিল।তারা দু’জন বুদ্ধি করে আগেই এখানে উপস্থিত হলো। মিসেস স্বর্ণা তখন পরশিকে মারেনি। কোলবালিশের ওপর চাকু মেরেছিল।
লাল রংয়ের গুঁড়াকে পানির সাথে মিশিয়ে পলিথিনে রেখে পলিথিন বেঁধে কোলবালিশের ওপর রেখে তার ওপর কাঁথা দিয়ে বালিশের দিকটায় নকল চুল রেখেছিল জোভান।যেন সবাই বুঝতে পারে এটা পরশি।
মিসেস স্বর্ণা যখন চাকু দিয়ে আঘাত করেছিল তখন ভাগ্যবশত পলিথিনের ভিতর চাকুটি লেগেছিল। চাকুর আঘাতে পলিথিন ছিঁড়ে রং বেরিয়ে এসেছিল।তখন মিসেস স্বর্ণা ভেবেছিল পরশিকে তিনি মেরে ফেলেছেন।)
(বর্তমান) ,,,,,
তখনি একজন মহিলা পরশির নাম বলতে বলতে গুদামঘরে প্রবেশ করলো। আহাদ সিকদার পিছনে ফিরে আকাশ যেন থেকে পড়লেন।
“লিমা তোকে তো আমি বন্দী করে এসেছিলাম তুই এখানে কি করে আসলি ? (আহাদ সিকদার)
“জানোয়ার লজ্জা করে না আবার এই কথা বলতে।নিজের স্বার্থের জন্য তুই নিজের স্রীকে বন্দী করে রেখেছিল এতো বছর।একটা নিষ্পাপ মেয়েকে মারতে তোর হাত কাঁপলো না।পুরো পরিবার তুই শেষ করে দিলি”। (লিমা রেগে বললো)
লিমার কথা শেষ হতেই আহাদ সিকদার লিমাকে গুলি করতে যাবে তার আগেই জোভান আহাদ সিকদারকে পিছন থেকে লাথি মারে। লাথি খেয়ে নিচে পড়ে যায় আহাদ সিকদার সাথে রিভলবার হাত থেকে পড়ে যায়। জোভান ইচ্ছে মতো মারধর করতে লাগলো আহাদ সিকদারকে।
“আমার কলিজায় তুই হাত দিয়েছিস।তোকে তো আমি আজ শেষ করেই শান্ত হবো।যদি আমার পরশির কিছু হয় না তোকে আমি ,,,,,, (জোভান রেগে মারতে মারতে বললো)
জোভান আর কিছু বলার আগেই পুলিশ এসে উপস্থিত হলো।রিফাত বাড়ি থেকে আসার সময় পুলিশকে সব জানিয়ে এখানে এসেছিল।আর একটু আগে আসলে এত কিছু হতো না।কয়েক সেকেন্ডের মধ্য গুলি চালিয়ে দিল আহাদ সিকদার। পুলিশকে দেখে জোভান রেগে বলতে শুরু করলো ,,,,,
“এখন কেন এসেছেন? অভিনয় উপভোগ করতে।আমার পরশির যদি কিছু হয় তোদের পুলিশদের ও আমি ছাড়ব না।সবকটার গর্দান কেটে ফেলবো”৷ (জোভান)
পিছন থেকে রিফাত চৌধুরী জোভানের কাঁধে হাত রেখে বললো ,,,,,
“জোভান পরশিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।এখানে পড়ে থাকলে ওকে বাঁচানো যাবে না”।
জোভান পরশিকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে উঠালো। পুলিশ আহাদ সিকদারকে নিয়ে গেল সাথে তার চেলাপুলাদের ও নিয়ে গেল। রিফাত, স্বর্ণা আর লিমা জিহা-তিয়াসকে গুদামঘর থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে চললো।
_____
|হাসপাতালে| ,,,,,
জোভান চুপ করে দেওয়ালের সাথে মাথা ঠেকে দাঁড়িয়ে আছে।জোভানের নিরবতা দেখে সবাই ভয়ে আছে।পরশির কিছু হলে জোভান সব ধ্বংস করে দিবে এটা সবার আর বুঝতে বাকি নেই। কিছুক্ষণ আগে ডাক্তার বলে গেছে জিহা আর তিয়াস ঠিক আছে। এমনিতে তিয়াস মাথায় মোটামুটি ভালো ই আঘাত পেয়েছে। ঔষুধ খেলে মাথার আঘাত সেরে যাবে।এইদিক থেকে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এখন সবার ভয় হচ্ছে পরশিকে নিয়ে। অনেকক্ষণ হয়ে গেল পরশির কোনো খবর নিয়ে আসলো না ডাক্তার আয়ান।
.
আধা ঘণ্টা পর ডাক্তার আয়ান বের হলো কেবিন থেকে। ডাক্তার আয়ান ধীর পায়ে হেঁটে জোভানের কাছে এসে দাঁড়ালো।জোভান পাশে কারোর উপস্থিত টের পেয়ে মাথা তুলে পাশে তাকালো। ডাক্তার আয়ানকে পাশে দেখে জোভান অস্পস্টস্বরে বললো ,,,,,
“ডাক্তার আয়ান আমার পরশি ,,,,, (জোভান)
“ভয় পেয়ো না জোভান সব ঠিক আছে। তবে ,,,,, (ডাক্তার আয়ান)
“তবে কি ডাক্তার আয়ান ,,,, (জোভান বিচলিত হয়ে বললো)
“একটা গুলি তোমার স্রীর হার্টে লেগেছে। হার্ট কিছুটা ছিদ্র হয়ে গেছে”। (ডাক্তার আয়ান)
কথাটি শুনে উপস্থিত সবাই থমকে গেল। জোভান দাঁড়ানো থেকে নিচে পড়ে গেল।ডাক্তার আয়ান জোভানের সামনে বসে বললো ,,,,,
“ঠিক হয়ে যাবে জোভান।ভয় পেয়ো না। কেউ কোনোকিছু নিয়ে চাপ সৃষ্টি করবে না।ও যা করতে চায় তাই ওকে করতে দিও।ছয় মাস রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে।ভালো মতো খেয়াল রেখো সব ঠিক হয়ে যাবে”।
বলে ডাক্তার আয়ান চলে গেল।
_____
জিহা আর তিয়াসকে দেখতে সবাই কেবিনে দাঁড়িয়ে আছে। জিহা-তিয়াস দু’জনকে ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে ডাক্তার আয়ান। মিসেস স্বর্ণা জিহার হাত ধরে কান্না করে যাচ্ছে। রিফাত আর সিফাত সাহেব দাঁড়িয়ে আছে নাতনীর পাশে।তিয়াসের মা-বাবা তিয়াসের পাশে বসে কান্না করছে।ডাক্তার আয়ান দু’জনকে এক কেবিনে ই রেখেছেন।
_____
জোভান পরশির হাত ধরে বসে আছে। পরশির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জোভান।পাশে মিসেস লিমা আর ইয়ানা দাঁড়িয়ে আছে। ইয়ানা আর মিসেস লিমা পরশির পাশে বসে কান্না করে যাচ্ছে।
.
পরশি ধীরে ধীরে চোখ খুললো। চোখ খুলতেই জোভানকে নিজের হাত ধরে বসে থাকতে দেখলো।জোভানকে হাত ধরে থাকতে দেখে পরশি আনমনে হেসে উঠলো।হাসির শব্দে জোভান চমকে সামনে তাকালো।
“পরশি” (জোভান)
“মিস্টার সিনিয়র মুখের এই কি হাল করলেন আপনি বলুন তো”। (পরশি একগাল হেসে বললো)
জোভান টলমল দৃষ্টিতে পরশির হাসিমুখ খানির দিকে তাকিয়ে আছে।
মিসেস লিমা আর ইয়ানাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিল জোভান।
“কি হলো কথা বলছেন না কেন? চোখের নিচে তো কালি ফেলে দিয়েছেন আর চুলগুলো এত উসকোখুসকো হয়ে আছে কেন? (পরশি জোভানের চুলে হাত দিয়ে বললো)
জোভান কিছু না বলে পরশিকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কান্না করে দিল।জোভানকে এইভাবে কান্না করতে দেখে পরশি অবাক হলো। কারন জোভানকে কখনো এইভাবে কাঁদতে দেখেনি পরশি।পরশি ও জোভানকে জড়িয়ে ধরলো ।
“আরে মিস্টার সিনিয়র এটা কি করছেন আপনি বলুনতো বাচ্চাদের মতো কান্না করে যাচ্ছেন।দেখুন আমি একদম ফিট্ আছি। কিছু হয়নি আমার। আপনার মিষ্টি পরী সম্পূর্ণ ভালো আছে।” (পরশি)
“তোমার কিছু হলে আমি শেষ হয়ে যেতাম পরশি। তুমি আমার নিঃশ্বাস।যদি নিঃশ্বাস ই না থাকে আমি কিভাবে বাঁচতাম বলো। তুমি কেন সামনে আসতে গেলে বলো। আমায় বাঁচিয়ে দিয়ে মহান হতে চেয়েছিলে তুমি। (জোভান কান্না করতে করতে বললো)
“আর কান্না করবেন না তো। বাদ দেন তো ওইসব কথা।না হলে সত্যি সত্যি চলে যাব”৷ (পরশি)
পরশির কথা শুনে জোভান আরো শক্ত করে পরশিকে জড়িয়ে ধরলো। জোভান পরশির ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে কামড় বসিয়ে দিল।
“আহ্। কি করছেন কি রাক্ষস জোভান।আমার লেগেছে।” (পরশি)
“আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলবে”। (জোভান)
“একদম না”। (পরশি)
“প্রমিজ”। (জোভান)
“পাক্কা প্রমিজ”। (পরশি হেসে বললো)
,
চলবে…..
_____
(বানানে ভুল-ক্রটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।)
(গল্প পড়ে সবাই লাইক – কমেন্ট করবেন। নাইচ,নেক্সট না লিখে গল্প সম্পর্কে গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ।)
[❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]