প্রণয়ের_পরনতি পর্ব ১

গল্প:প্রণয়ের পরিণতি
সুচনা পর্ব
লেখিকা:সাদিয়া আফরিন নিশি

সময়টা মধ্যদুপুর,
কাঠফাটা রোদে সড়ক রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে তনয়া পুরো নাম তাহানিসা তনয়া।পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার ওপর।তনয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। ওরা তিন বোন বড় তনয়া, মেজ তনিমা আর ছোটো তৃপ্তি।

তনয়া দেখতে ভারি মিষ্টি। ফর্সা,চোখ দুটো বেশি বড়ও না আবার ছোটো না কিন্তু চোখের পিসিগুলো বড় বড়, চুল হাঁটু অব্ধি। মোট কথা যেকোনো ছেলেই প্রথম দেখাতে তার চোখ আর চুলের প্রেমে পড়ে যাবে।অনেক কষ্ট করে তনয়া পড়াশুনা শেষ করে এখন চাকরীর আশায় ঘুরছে। কিন্তু বড় লোকদের তনয়া একদম সহ্য করতে পারে না কারণটা আস্তে আস্তে জানবেন।

এবার আসি তনিমার কথায়,পুরো নাম তাসনিয়া তনিমা। গায়ের রং শ্যামলা তবে অসম্ভব মায়াবী। হাসলে গালে টোল পরে। তনিমা ভীষণ রাগী প্রকৃতির তবে ওর মনটা বেশ ভালো। সাধ্যমতো সবার সেবা করার চেষ্টা করে।তনিমা এবার অনার্স থার্ড ইয়ারের ছাত্রী।

সবার ছোটো তৃপ্তি পুরো নাম তাসফিয়া তৃপ্তি। খুবই দুষ্ট তেমনি মিষ্টি। একেবারে কিউটের দিব্বা। বাচ্চা স্বভাবের। পুরো বাড়িটা মাথায় করে রাখে।এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে সে।

এই হলো তিন বোনের পরিচয়। মা আর তিন বোন মিলে ওদের পরিবার। ওদের মা আগে একটা চাকরি করতো এখন রিটায়ার্ড করেছে। তাই সংসার চালাতে তনয়াকে চাকরি খুজতে হচ্ছে। আগেও অবশ্য তনয়া টিউশন করত।কারণ ওর মায়ের স্যালারিতে সংসার চালিয়ে ওদের পড়াশুনা চালানো মুশকিল হতো।ওদের বাবা বেঁচে আছে কিন্তু ওদের সাথে থাকে না কারণটা পরে জানবেন।
এবার গল্পে ফেরা যাক,
দুপুর পর্যন্ত ঘোরার পর তনয়ার শরীরটা খুবই খারাপ করে নিয়ে আসে। অসম্ভব মাথা ঘুরতে থাকে। তার মনে হতে থাকে এইবুঝি পরে গেল।এমন করতে করতে তনয়া একটি কারের সাথে ধাক্কা খায়। কপাল ভালো যে ড্রাইভার গাড়ি সময়মতো স্লো করতে পেরেছে নয়তো অনেক বড় কিছু ঘটে যেতে পারতো।গাড়ি থেকে নেমে এলো এক মধ্যবয়সী পুরুষ। তবে বেশ স্মার্ট এবং অনেক ধনীও মনে হলো।তনয়া চুপচাপ মাথা চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে। লোকটা গাড়ি থেকে নেমে তনয়ার কাছে আসলো।

অচেনা লোক:মা তোমার লাগেনি তো।তুমি ঠিক আছো তো। তুমি ওভাবে রাস্তার মাঝ দিয়ে হাটছিলে কেন?

তনয়া:জ্বী, আমি ঠিক আছি।আসলে মাথাটা একটু ঘুরছিলো তাই আরকি ব্যালেন্স করতে পারিনি।
অচেনা লোক:তা মা তোমার বাড়ি কোথায়। চলো আমি পৌঁছে দি।
তনয়া:না না ঠিক আছে আমি যেতে পারবো। সামনেই আমার বাড়ি।
অচেনা লোক:তা বললে তো হবে না। আমি তোমাকে এভাবে কিছুতেই ছাড়বো না। যদি আবার কোনো বিপদ হয়। চলো চলো গাড়িতে ওঠো।
এমনিতে তনয়ার যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও লোকটার জোড়াজুড়িতে যেতে হলো।
গাড়িতে,
অচেনা লোক:তোমার নাম কী মা?
তনয়া:তাহানিসা তনয়া।
অচেনা লোক:বাহ ভারি মিষ্টি নাম তো। তা পড়াশোনা করো??
তনয়া:জ্বী, পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরি খুজছি।
অচেনা লোক:আমি আতিক চৌধুরী ।চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক।তুমি চাইলে আমি তোমাকে চাকরি দিতে পারি।
তনয়া:জ্বী আপনি আমাকে চাকরি দিবেন(অবাক হয়)।
অচেনা লোক:হ্যাঁ দিবো। তোমাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তুমি ভারি মিষ্টি মেয়ে। আচ্ছা এই নেও আমার কার্ড। কার্ডে সব দেওয়া আছে কাল সময় মতো চলে এসো।আমি তোমার চাকরির ব্যবস্হা করে দিবো।
তনয়া:আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
তনয়া বড় লোকদের অপছন্দ করলেও চাকরিটা তার খুব প্রয়োজন তাই আর মানা করলো না বরং মনে মনে খুশিই হলো।
অচেনা লোক:তা মা তোমার বাড়িতে কে কে আছে??
তনয়া:আমি, আমার ছোটো দু’বোন আর আমার মা।
এভাবে পরিচিত হতে হতে তারা গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তনয়াকে বিদায় জানিয়ে লোকটি চলে যায়।

বাড়িতে,
কলিংবেলের শব্দে তৃপ্তি এসে দরজা খুলে দেয়।
তনয়াকে দেখে আপু বলে জড়িয়ে ধরে। তনয়াও বোনকে পরম আবেশে জড়িয়ে নেয়।
তৃপ্তি:আপু এতো দেড়ি হলো কেন। খুব মিস করেছি তোমায়।
তনয়া:একটা গুড নিউজ আছে মা,তনি সবাইকে ডাক। আমি ফ্রেশ হয়ে এসে সবাইকে নিউজটা দিবো।
তৃপ্তি:আচ্ছা আপু।
ড্রইং রুমে সবাই উপস্থিত। তনয়া এসে সবাইকে আজকের ঘটনা সবটা খুলে বললো।সবাই তো খুব খুশি।
তনয়ার মা:যাক এতোদিনে আল্লাহ মুখ তুলে চেয়েছি।এই ছমাস তো কম চাকরি খুজিস নি। অবশেষে এতো বড় কোম্পানিতে চাকরি করবি।দোয়া করি সব যেন ভালো হয়।
তনিমা, তৃপ্তি ও অনেক খুশি। তাদের সংসারে অভাব দুর হবে এই আশায়।
তারপর সবাই যে যার মতো সময় কাটিয়ে রাতে ডিনার করে শুয়ে পড়ল।
তনয়ার চোখে ঘুম নেই কী হবে সকালে সে সেই চিন্তায় বিভোর। আদৌ কী সবটা ভালো হবে।

সকালে,
তনয়া মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে। বোনদের থেকে বিদায় নিয়ে গন্তব্যে রহনা দিলো।সে একটা রিকশা নিয়ে পৌঁছে গেল চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিতে।
বর্তমানে তনয়া ভয়ে ভয়ে কোম্পানিতে প্রবেশ করছে।যদিও তনয়া অনেক সাহসী তবুও একটু নারভাস ফিল করছে আরকি।
তনয়া:এক্সকিউজ মি,এম ডি সাহেবের রুমটা কোন দিকে বলবেন প্লিজ। আসলে ওইনি আমাকে আসতে বলেছিলেন। এই যে ওনার কার্ড।
স্ট্যাফ:কার্ডটা দেখে, জ্বী আমার সাথে আসুন।
তনয়া ওনার সাথে এমডির রুম পর্যন্ত গেল।
তনয়া দরজায় নক করলো।
ভেতর থেকে, কাম ইন।
তনয়া ভিতরে প্রবেশ করলো। এবং কাঙ্খিত লোকটিকে দেখতে পেয়ে সালাম দিলো।
আতিক চৌধুরী :সালামের উত্তর দিয়ে, আরে মা তুমি এসো বসো।
তনয়া চেয়ারে বসলো।
আতিক চৌধুরী :তো তোমার কাগজ পত্রগুলো দেও।
তনয়া সবকিছু ফাইল থেকে বের করে দিলো।
তনয়ার রেজাল্টের বিত্তিতে সে ত্রিশ হাজার টাকা বেতনের স্ট্যাফের চাকরি পেল।তাদের টানাটানির সংসারে ত্রিশ হাজার টাকা মানে অনেক। তনয়া খুশি হয়ে আতিক চৌধুরীকে ধন্যবাদ দিল।তারপর বাকি কথা বার্তা শেষ করে এপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়ি চলে গেল।আগামী কাল থেকে তার জয়েন। তার নতুন করে পথ চলার শুরু। কী আছে তার এই নতুন জীবনে কে জানে।হয়তো ভালো হয়তো খারাপ। এমনি অনেক ভাবনা নিয়ে সে বাড়ি পৌঁছল।

চলবে,

পরবর্তী পার্টে নায়ক এবং অন্য নায়িকার বিস্তারিত জানবেন।নতুন তাই পর্ব ছোটো হইছে সবাই সারা দিলে বড় করে লিখবো।

(বি:দ্র:আমি গল্পের জগতে একদমই নতুন। তাই ভুল-ত্রুটি গুলো সবাই আমাকে ধরিয়ে দিবেন। এবং সবাই পাশে থাকবেন এই আশা করছি)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here