Home"ধারাবাহিক গল্প"ভালোবাসার লুকোচুরিভালোবাসার লুকোচুরি পর্ব -০৭

ভালোবাসার লুকোচুরি পর্ব -০৭

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#ভালোবাসার_লুকোচুরি
#লেখনী_আলো_ইসলাম

” ৭”

–” রোহান খাটের সাথে হেলান দিয়ে দুইহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে আছে মেঝেতে। এতখন রাগের বশে করে ফেলেছে সব৷ কিন্তু এখন তার আফসোস হচ্ছে সব কিছুর জন্য। এমনটা করা উচিত হয়নি সেটা উপলব্ধি করে রোহান।
–” আমিনা বেগম রেগে রোহানের ঘরের দরজাটা শব্দ করে খুলে ভেতরে আসে৷ হঠাৎ মায়ের আগমনে চমকে উঠে রোহান। একবার মায়ের দিকে তাকিয়ে আবার আগের ন্যায় মাথা নিচু করে করে বসে থাকে।

-আমিনা বেগম রোহানের কাছে এগিয়ে এসে বলে এই সব কি হচ্ছে রোহান। কি শুরু করেছো তুমি। আমার ভাবতেও লজ্জা লাগছে তুমি এমন একটা কাজ করেছো। আমার ছেলে এমন আমি ভাবতে পারছি না ছিহ ধিক্কার দিয়ে বলে আমিনা বেগম। অসহায় দৃষ্টিতে মায়ের সকল অভিযোগ শ্রবণ করছে রোহান।
– চুপ করে থাকবে না রোহান আমার কথার জবাব দাও। রুহির সাথে এমন ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেই তোমার। তোমার সকল আবদার জেদ নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলি বলে এটা ভেবো না তোমার সব অন্যায় আমরা মেনে নেবো। একবার রুহির কথাটা ভাবলে না তুমি। ওই বাচ্চা মেয়েটার মনে কেমন প্রভাব পড়েছে একবার ভেবে দেখেছো তুমি। রাগী স্বরে বলেন প্রতিটি কথা আমিনা বেগম।

– তুমি হয়ত ভুলে গেছো রুহি তোমার চাচাতো বোন হয়। রোহান এবার আর চুপ থাকতে পারে না। চিৎকার করে বলে স্টপ মা। তুমি খুব ভালো করে জানো আমি রুহিকে কখনো বোন হিসেবে দেখিনি আর না কখনো দেখবো। আর অধিকারের কথা বললে না, রুহির উপর আমার সব রকম অধিকার আছে সেটা আজ না বুঝলেও একদিন ঠিক বুঝতে পারবে তোমরা। ওর সাহস কি করে হয় অন্য ছেলেদের সাথে মেলামেশা করার। হাতে হাত রেখে ঘুরে বেরানোর। আমি যা করেছি বেশ করেছি দরকার পড়লে এর থেকে কঠিন শাস্তি দিতেও পিছুপা হবো না আমি। রোহানের কথাটা শেষ করার সাথে আমিনা বেগম রেগে চড় বসিয়ে দেয় রোহানের গালে। রোহান অবাক হয়ে ছলছল চোখে মায়ের দিকে তাকায়।

– তুমি দিন দিন বড্ড ডেস্পারেট হয়ে যাচ্ছো রোহান। রুহির নিজস্ব একটা জীবন আছে৷ ওর আলাদা জগত ভাবনা সব কিছু আছে। ওর নিজের মতো করে চলার অধিকারও আছে। তুমি বলার কে?
– তুমি এমন কথা বলতে পারলে মা। রোহানের কথায় আমিনা বেগমের চোখে পানি টলমল করে কিন্তু তারপরও নিজেকে শক্ত রেখেছে।

– হ্যাঁ পারলাম। তুমি বাধ্য করেছো আমাকে এই গুলা বলতে রোহান। তুমি আজ থেকে রুহির থেকে দূরে দূরে থাকবে। তোমার ছায়াটাও আমি দেখতে চাইনা আর রুহির আশেপাশে। তোমার রাগ জেদ তোমার সব শেষ করে দেবে রোহান। সময় আছে এখনো নিজেকে কোন্ট্রল করতে শেখো বলে আমিনা বেগম গটগটে পায়ে বেরিয়ে যায়। রোহান অসহায় দৃষ্টিতে পায়ের চলে যাওয়া পাণে তাকিয়ে এক ফোটা পানি বিসর্জন দেয়।

-“রাত ২ টা বাজে। রুহি নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছে। শরীরটা তার বেশ খারাপ। আমিনা বেগম এতখন রুহির কাছে বসে ছিলেন। রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে যায়। রোহান এখনো ফিরেনি তাই চিন্তিত হয়ে আছে আমিনা বেগম। রোহান ১০ টা মধ্যে বাড়ি ফিরে আসে সব সময়। কিন্তু আজ এত রাত হয়ে গেছে এখনো আসেনি রোহান। ফোন করলে সুইচ অফ দেখায়। ড্রয়িং রুমে চিন্তিত মুখে বসে আছে আমিনা বেগম। তার ব্যবহারে রোহান আজ অনেক কষ্ট পেয়েছে জানে৷ কিন্তু কি করবে সে রোহানের জন্য এইটুকু দরকার ছিলো। রোহান যে রুহিকে ভালোবাসে এটা আমিনা বেগম অনেক আগেই আন্দাজ করেছিলেন। এর জন্য মনে মনে সে বেশ খুশিও ছিলো। কারণ রুহিকে সব সময় নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখে এসেছে আমিন বেগম। সে চাই রুহি সব সময় তার কাছেই থাক।।
– রোহান এখনো ফিরেনি। রায়হান শেখের কথায় চমকে পিছু তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা ঝাকিয়ে না বলে আমিনা বেগম। রোহান তো এত রাত করে না কখনো। তাহলে আজ কেনো দেরি করছে বুঝতে পারছি না। ফোনটাও বন্ধ দেখাচ্ছে।

– চিন্তা করো না ঠিক চলে আসবে। হয়ত আছে কোথাও কোনো দরকারে। তুমি ঘরে যাও রেস্ট করো। তোমার তো শরীর খারাপ করবে।।আমি থাকছি এখানে।

– রায়হান শেখের কথায় আমিনা বেগম ছলছল চোখে বলে আমার ছেলেটা অভিমান করেছে আমার উপর। অনেক অভিযোগও হয়ত হয়েছে তাই এমন শাস্তি দিচ্ছে ও আমাকে। আমিনা বেগমের কথায় রায়হান শেখ এগিয়ে এসে আমিনা বেগমের কাধে হাত রেখে বলে তুমি জানো তো রোহান কেমন। ছোট থেকে বড্ড জেদি আর একরোখা। যেটা বলে সেটাই করে। যেটা পছন্দ না সেটা কখনো মানতে পারে না। এই সব নিয়ে ভেবো না। রোহান কখনো ভুল কাজ করবে না এই বিশ্বাসটুকু আমার আছে আমার ছেলের উপর। চলো ঘরে যাবে। আমিনা বেগম কে নিয়ে ঘরে চলে যায় রায়হান শেখ কিন্তু মনে তারও চিন্তা রোহানের জন্য। কোথায় আছে এখনো ছেলেটা।

– এলোমেলো পায়ে দুলতে দুলতে বাড়ি মধ্যে প্রবেশ করে রোহান। সিড়ি বেয়ে সোজা রুহির ঘরের দিকে যায়। রুহির ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে রোহান। একটু দাঁড়িয়ে দরজা খুলে প্রবেশ করে ভেতরে। মুখের উপর চুল ছড়িয়ে শুয়ে আছে রুহি। দেখতে একদম বাচ্চা লাগছে। রোহান টলটলে পায়ে রুহির পাশে গিয়ে বসে রুহির মুখের উপর ঝুকে বসে।

– রুহির উপর রোহানের ছায়া পড়তে একটু ভ্রু কুচকোয় রুহি। রোহান নেশা ভরা চাহনিতে রুহিকে দেখছে মন ভরে। রুহির গলায় কামড়ের দাগ জ্বলজ্বল করছে। ঠোঁটটাও ফুলে আছে হাল্কা। এই সব দেখে রোহানের বুকের মধ্যে ঢক করে উঠে৷ কত কষ্ট দিয়ে ফেলেছে আজ সে তার প্রেয়সীকে।

— আমি খুব খারাপ তাই না। অনেক কষ্ট দিই তোকে। সব সময় বকাবকি করি তাই তোর একটুও ভালো লাগে না আমাকে তাই না বল? একা একা বলে রোহান। তুই কেনো বুঝিস না অন্য ছেলের সাথে তোকে আমার সহ্য হয়না রাগ হয় কষ্ট হয়। কেনো তুই আমার ভালোনাসাটা বুঝিস না রুহি। আমার রাগের আড়ালের ভালোবাসাটা কেনো খুঁজিস না তুই বল?.

— রুহির কানে হাল্কা আওয়াজ যেতে ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলে সামনে রোহানকে ঝুকে থাকতে দেখে ভয়ে হুড়মুড়িয়ে উঠে আর তাতে রোহান পেছনে হেলে যায় একটু।

– একি ভাইয়া তুমি এখানে। এত রাতে আমার ঘরে কি করছো ভয়ার্ত কন্ঠে বলে রুহি।
– ভয় পাচ্ছিস আমাকে রুহি। তোর আমাকে দেখলে ভয় লাগে এখন তাই না? খারাপ মনে হয় আমাকে দেখে তোর। কেমন মাদকতার কন্ঠে বলে কথা গুলো রোহান। হঠাৎ রুহি বাজে একটা স্মেল পাই। যেটা রোহানের থেকে আসছে। রুহি রোহানের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখে রোহান ড্রাংক। রুহি অবাক হয়ে বলে ভাইয়া তুমি ড্রিংক করেছো ছি। ড্রিংক করে তুমি আমার ঘরে এসেছো কেনো। যাও এখনি আমার ঘর থেকে কড়া গলায় বলে রুহি।

– রোহান অসহায় চোখে রুহির দিকে তাকিয়ে।
–” কি হলো যাও। আমরা কাল দিনে কথা বলব এখন তুমি যাও। রুহির কথা কানে না নিয়ে হঠাৎ রুহির হাত চেপে ধরে রোহান আর এতে রুহি চমকে উঠে অবাক হয়ে। এই সব কি করছো ভাইয়া ভিতো কন্ঠে বলে রুহি।

– রোহানের গাল বেয়ে এবার পানি গড়িয়ে পড়ে তাই দেখে রুহি শকড। বিষ্ময়বহুল চোখে রোহানের দিকে তাকিয়ে আছে। এ কোন রোহানকে দেখছে রুহি। রুহি আজ পর্যন্ত রোহানকে কখনো দুর্বল হতে দেখেনি সে মানুষটা আজ কান্না করছে কিন্তু কেনো? তার সাথে এখন বিহেভ করেছে বলে অনুশোচনায় নাকি অন্য কিছু?

– কি হয়েছে ভাইয়া। তোমার কি শরীর খারাপ করছে। চলো তোমাকে তোমার ঘরে দিয়ে আসি বলে রোহানের হাতটা রুহি শক্ত করে ধরে উঠতে চাইলে রোহান রুহিকে থামিয়ে দিয়ে বলে অনেক রেগে আছিস আমার উপর তাই না.? অনেক অভিযোগও আছে আমার উপর তোর।
* রোহানের কথায় রুহি মাথা নিচু করে ফেলে।।সত্যি তার অনেক রাগ হয়েছিলো রোহানের উপর। অনেক অভিযোগও আছে কিন্তু এখন যে রোহানকে দেখছে তাতে সব কিছু যেনো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে রুহির।

— রুহিকে চুপ থাকতে দেখে রোহান দুইহাত ভালো করে ধরে বলে আমি সত্যি তোর সাথে এমনটা করতে চাইনি। কিন্তু আমি করে ফেলেছি তাও। তুই তো জানিস আমি আমার রাগকে কোন্ট্রল করতে পারি না। তোর সাথে অন্য ছেলেকে এমন মেলামেশা করতে দেখে আমার অনেক রাগ হয়েছিলো। মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিলো তখন। তাই রাগের বশে কি করে ফেলেছি বুঝিনি। আমাকে মাফ করে দে রুহি। আমার উপর রাগ করে দূরে যাস না। তোর দুরত্ব আমি সহ্য করতে পারবো না বলে কেঁদে উঠে রোহান। রুহি অবাকিত চোখে রোহানের আবদার গুলো শুনছে। মনে হচ্ছে একটা বাচ্চা তার সকল আবদার সাদরে আমন্ত্রিত জানাচ্ছে তার প্রিয় মানুষের কাছে। তোকে অন্য ছেলের সাথে আমার একদম সহ্য হয়না কারণ কি জানিস?

– রুহি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলে কি কারণ। রুহির কথায় রোহান মুচকি হাসি দিয়ে রুহির এক গালে হাত রেখে বলে কারণ আমি তোকে… কথা শেষ করার আগে ঢলে পড়ে রোহান রুহির উপর। রুহি দুইহাতে আগলে নেয় রোহানকে সাথে সাথে বেরিয়ে আসে একটা দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু মনে সংশয় থেকে গেলো তার। কি বলতে চেয়েছিলো রোহান তাকে৷ কি কারণ থাকতে পারে। রুহি তার ভাবনা ঝেড়ে ফেলে রোহানকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে যায়। কি করবে এখন রোহানকে নিয়ে। এমন বডিবিল্ডারকে একা নিয়ে যাওয়া রুহির পক্ষে সম্ভব না। রুহি এবার তার বিসানায় শুয়ে দেয় রোহান কে। ঘুমন্ত রোহানকে অনেক কিউট আর নিষ্পাপ লাগছে। রুহি মায়া ভরা চোখে রোহানের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুখন। রোহানকে শুয়ে রুহি সোজা হতে গেলে পরে যায় আরেক বিপাকে। রোহান শক্ত করে তার হাত ধরে রেখেছে। রুহি ইচ্ছে করলেও উঠতে পারবে না। রুহি একটু চেষ্টা করে রোহানের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু লাভ হয়। হঠাৎ রুহির কানে রোহানের বিড়বিড় করে বলা কথা বেজে উঠে। রুহি ভালো ভাবে শোনার জন্য রোহানের মুখের কাছে কান নিয়ে যায়।

– আমাকে ছেড়ে যাস না প্লিজ। আমি সহ্য করতে পারবো না। আমাকে ক্ষমা করে দে রুহি সোনা। আমি এমনটা চাইনি। তোকে কষ্ট দিতে চাইনি। দূরে যাস না প্লিজ। রোহানের কথা গুলো শুনে রুহির বুকে মোচড় দিয়ে উঠে। রোহান যে তার কাজে অনেক অনুতপ্ত রুহি বুঝতে পারে। কিন্তু এখন সে রোহানের থেকে ছাড়া পাবে কি করে এটাই ভাবছে। ভাবনার মাঝে রোহান রুহিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরাম করে ঘুরে শোই এতে রুহি চরম অবাক।

– এই যা এবার তো আমি আর বের হতেই পারবো না। কি করি চিন্তিত হয়ে বলে রুহি। রুহির ও ভীষণ ঘুম পাচ্ছে এই ভাবে জেগে আর কতখন থাকবে সে। একে তো ভীষণ ক্লান্ত সে আজ। রুহি আর কোনো ভাবনা চিন্তা না করে রোহানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। তলিয়ে যায় অতল ঘুমের রাজ্যে। এক জোড়া অপ্রকাশিত ভালোবাসা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে আজ। অনেক কাতরতা অনুভূতিপ্রবণতা বিদ্যমান এর মাঝে।

.. চলবে….

(❌ কপি করা নিষেধ ❌ ভুলক্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষে বিবেচনা করবেন।)

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!