ভালোবাসার লুকোচুরি পর্ব -০৮

#ভালোবাসার_লুকোচুরি
#লেখনী_আলো_ইসলাম

“৮”

-” সকালে সূর্যের মৃদু আলোর ছটা মুখে পড়তেই চোখ মুখ কুচকে আসে রোহানের। ঘুম ভেঙে জাগ্রত হতেই চারিপাশের কোলাহল কানে আসে। রোহান আড়মোড়া দিতে গেলে অনুভব করে তার বুকের উপর ভারী কিছু একটা অবস্থান করছে। রোহান ঘুম ঘুম চোখে হাল্কা তাকিয়ে রুহিকে তার বুকের উপর শুয়ে থাকতে দেখে চমকে উঠে। চোখ এবার পুরোপুরি খুলে যায় রোহানের সাথে জড়িয়ে থাকা ঘুম ভাব’টাও। বারবার চোখে ডলা দিয়ে দেখতে থাকে স্বপ্ন নাকি সত্যি দেখছে। রুহি রোহানের বুকে মাথা রেখে একহাত দিয়ে জড়িয়ে আছে। রোহান কিছুখন এইভাবে রুহিকে দেখে বুঝে যায় রুহি সত্যি তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে। রোহান এবার ভাবনার জগতে পাড়ি দিয়ে ভাবতে থাকে রুহি তার ঘরে কেনো। কি করছে ও এখানে?

– রোহান এবার ঘরের দিকে তাকালে চমকে উঠে। কারণ এটা তো তার ঘর নয়। এটা রুহির ঘর। সে রুহির ঘরে কি করে এলো, কখন এলো? রোহান কাল রাতে কি হয়েছিলো মনে করার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। মাথা চেপে ধরে দুইহাতে। রোহানের নড়াচড়াতে রুহির ঘুম হাল্কা হয়ে আসে। ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে আহ ভাইয়া নড়ো না তো। আরামে ঘুমাতে দাও। রুহির কথায় আরেক দফা অবাক হয় রোহান।

– রোহানের মাথায় আসে রুহির ঘরে যদি কেউ এইভাবে দেখে নেয় তাহলে ব্যাপারটা খারাপ হবে। বিশেষ করে তার মা যদি দেখে তাহলে অনেক কষ্ট পাবে৷ কারণ তিনি তো চাননা রোহান রুহির ধারে পাশে আসুক। রোহান রুহিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়৷ আর এতে রুহির ঘুম হাওয়া হয়ে যায়। হাত দিয়ে চোখ ডলে বলে তোমার ঘুম ভেঙে গেছে ভাইয়া? এবার নিজের ঘরে যাও আমাকে শান্তি করে ঘুমাতে দাও। কেউ দেখলে সমস্যা হবে।

– আমি এখানে কি করে আসলাম কাঠগলায় বলে রোহান। রোহানের কথায় রুহি ভ্রু কুচকে বলে যেভাবে মানুষ আসে সেভাবে। তুমি হেঁটে হেঁটে আমার ঘরে এসেছো কাল মধ্যরাতে তাও ড্রিংক করে। তুমি ড্রিংকও করো জানতাম না তো?

– রুহির কথায় রোহান চোখ মুখ কুচকে বলে হ্যাঁ আমি ড্রিংক করি তাতে তোর কি। কাল যখন আমি এসেছিলাম আমাকে ঘরে দিয়ে আসিস নাই কেনো?

– রোহানের কথায় রুহি অবাক হয়ে বলে যা বাবা এখন উল্টো আমার দোষ হয়ে গেলো। তোমার মতো এমন হিমালয় পর্বত সমান মানুষকে আমার কি সাধ্যি আছে টেনে নিয়ে যাওয়ার মুখটা বাকিয়ে বলে রুহি। রুহির কথায় রোহানের হাসি আসতে চাই কিন্তু রোহান তাও মুখটা গম্ভীর রাখার চেষ্টা করতে থাকে।

– রোহান এবার বিসানা থেকে উঠে শার্টা ঠিক করে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে সরি কাল রাতের জন্য। আমি বুঝতে পারিনি কখন তোর রুমে চলে এসেছি বলে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে রুহি বলে কাল তুমি অনেক কথায় বলেছো ভাইয়া। শুধু একটা কথা বলতে গিয়ে থেমে গেছো সে অসমাপ্ত কথাটা বলে যাও। রুহির কথায় চমকে উঠে রোহান সাথে ভয়ের ছাপ নেমে আসে তার ফেসে। কি বলেছি আমি রুহিকে। নেশারঘোরে ভালোবাসার কথা বলে দিইনি তো? একা একা ভাবতে থাকে রোহান।

— রুহির দিকে তাকিয়া সন্ধিহান চোখে বলে কি বলেছি আমি তোকে। তাছাড়া যদি কিছু বলেও থাকি সেটা নেশারঘোরে বলেছি সজ্ঞানে না এটা খুব ভালো করে জানিস কথা ঘুরানোর চেষ্টা করে বলে রোহান।
.– শুনেছি মানুষ নেশার ঘোরে যা বলে সব সত্যি বলে। তাহলে তোমার টা কি ধরে নেবো ভাইয়া?
– রুহির এমন কথায় রোহান বিষ্ময়বহুল চোখে তাকিয়ে থেমে থেমে বলে কি বলেছে আমি?

– সে বলেছো অনেক কিছুই৷ শুধু একটা কথা বাদে যেটা এখন বলে যাবে তুমি। রোহান ভ্রু কুচকে বিরক্ত নিয়ে বলে কি কথা বলব তোকে?

– আমাকে অন্য ছেলের সাথে দেখলে তোমার কষ্ট হয় কেনো? কেনো আমাকে কারো সাথে সহ্য করতে পারো না। কেনো আমার উপর তোমার এত অধিকার। কাজিন বলে নাকি…. স্টপ রুহি চিৎকার করে বলে রোহান রুহিকে থামিয়ে দিয়ে।

–“নিজের মতো করে ভাবাটা বন্ধ কর। আমি কাল নেশার ঘোরে ভুল করে তোর ঘরে চলে এসেছি এইটুকু জাস্ট। এর বেশি কিছু বুঝতে যাসনা বলে রোহান দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায়। আর রুহি রোহানের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে যে দীর্ঘশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসে অপেক্ষা, আকাঙ্খার অপ্রাপ্ত পিপাসা।

— রোহান গম্ভীর মুখে বড় বড় ধাপ ফেলে আসিফের অফিসে ঢুকে। রোহানকে এই অফিসে দেখে স্টাফরা প্রায় অবাক। সয়ং শেখ রোহান তাদের সামনে তাদের অফিসে ব্যাপারটা ঠিক হজম হচ্ছে না কারোরই। রোহান সোজা আসিফের কেবিনের দিকে যায়। আসিফ চেয়ারে উল্টো দিক হয়ে বসে ছিলো। রোহানকে প্রবেশ করতে দেখে বলে উঠে ওয়েলকাম মিস্টার শেখ। আসিফের কথায় রাগ হয় রোহানের৷ রাগটা সংযত রেখে সামনে চেয়ার টেনে বসে যায়। আসিফ এবার সোজা হয়ে বসে হাসি মুখে বলে শেখ রোহান আমার অফিসে আমার কেবিনে হঠাৎ করে আইম সারপ্রাইজড। তো স্যার বলুন আপনার জন্য কি নিয়ে আসবো চা না কফি? হট নাকি কোল্ড শেষের কথায়া আস্তে করে বলে।

– শাট আপ ড্যামিট তোমার এখানে আতিথেয়তা করতে আসেনি আমি। রোহানের কথায় আসিফ মুখের হাসিটা প্রসার করে বলে সে আজ না করলেও কাল করবে।
– আসিফের কথায় রোহান রেগে বলে তুমি রুহির পিছে পড়েছো কেনো? এই সব নাটক করার মানে কি?

– আস্তে মিষ্টার শেখ। এটা আমার অফিস তাই এখানে আমার চিৎকারই সবাই শুনতে পাই অন্য কারো বড় গলা ঠিক হজম হয়না।
.. সিংহ যেখানে যায় সেখানেই তার গর্জন থাকে আর সেখানকার সব কিছু তখন তারই হয়ে যায়। রোহানের কথায় আসিফ মুচকি হাসে।

– শুনো আসিফ তোমাকে আমি একটা ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি রুহির থেকে দূরে দূরে থাকবে। ওর ধারেকাছে যেনো তোমার ছায়াটাও না দেখি আমি। নাহলে এর ফল একদম ভালো হবে না। এই শেখ রোহান কি জিনিস এটা নিশ্চয় বলে দিতে হবে না।
– রিলাক্স মিষ্টার রোহান রিলাক্স। এতো উত্তেজিত হবেন না। আপনার শরীর খারাপ করবে পরে। আর রুহির ধারে কাছে যাবো নাকি তার সংস্পর্শে থাকবো সেটা একান্ত আমার ব্যাপার। ওইটা নিয়ে আপনার মাথা না ঘামালেও চলবে তবে এটা বলতে পারি আপনার কাছ থেকে আপনার মুল্যবান জিনিস্টা ছিনিয়ে নিতে আমার বেশি সময় লাগবে না বলে ডেভিল হাসি দেয় একটা আসিফ।

– তুমি রুহিকে কেনো নিয়ে আসছো এর মধ্যে। তোমার শত্রুতা আমার সাথে তাহলে আমার ফ্যামিলিকে কেনো নিয়ে আসছো৷ সাহস থাকলে আমার সাথে লড়ে দেখাও।
– আমি তো তোমার সাথেই লড়াইটা করছি মিষ্টার শেখ শুধু একটু অন্য ভাবে তাই। কথায় আছে শত্রুর দুর্বল পয়েন্ট খুজে বের করলে লড়াই জিততে অনেক সহজ হয়। আমিও ঠিক সেটাই করেছি তোমার দুর্বল জায়গাটা খুঁজে বের করেছি এই জাস্ট। তবে একটা সত্যি কথা বলতে কি জানো রুহিকে মনে হয় আমি সত্যি ভালোবেসে ফেলেছি আর ভালোবাসবোই না কেনো এমন কিউট সুন্দর ইনোসেন্ট একটা বেবি গার্লকে কে না পছন্দ করবে ।

– আসিফের কথায় রোহান রেগে সামনে থাকা পানির গ্লাসটা ছুড়ে ফেলে। তাই দেখে আসিফ শুধু একটা হাসি উপহার দেয়।
রাগ হচ্ছে বুঝি কষ্ট হচ্ছে নিজের আপনজনের এমন প্রশংসা অন্য কারো মুখে শুনে। আমারও হয়েছিলো রাগ ভীষণ রাগ এসেছিলো যেদিন আমার পাওয়া টেন্ডারটা বেশি টাকা দিয়ে তোমার দখলে নিয়ে ছিলে।
– আসিফের কথায় রোহান মুচকি হেসে বলে সেটা তোমার ব্যর্থতা নট ফর মি।

— নো মিস্টার শেখ ওইটা ছিলো তোমার চালাকি। যেটা করে তুমি আমার খাবার আমার মুখের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছো। তাই আমিও তোমার সব থেকে প্রিয়জন কে আমার করে তার হাল্কা শোধ নেবো। যদিও তোমার বোকা কাজিনকে পটাতে আমার বেশি সময় লাগবে না আর। তোমার বোনটা না বড্ড বোকা উপস সরি রুহিকে তো তুমি বোন হিসেবে দেখো না। সেতো তোমার প্রাণ ভোমরা তোমার প্রেয়সী কি ঠিক বলছি তো?

— আসিফের কথায় রোহান ভ্রু কুচকে থাকে কপালে তিনটা ভাঁজ বিদ্যমান আছে। উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে আসিফের দিকে। তাই দেখে আসিফ বলে আমি এই সব কি করে জানলাম সেটা ভাবছো তো। তুমি যদি বনের হিংস্র সিংহ হয়ে থাকো তাহলে সে বনের ক্ষুধার্ত বাঘটা কিন্তু আমি। তোমার প্রাণ প্রিয় রুহি বোকা হতে পারে কিন্তু আমি না। আমি অনেক আগেই জেনেছিলাম মিষ্টার শেখ রোহান কোনো মেয়েকে পাত্তা দেয় না কিন্তু সে নিজে একটা মেয়ের প্রতি উইক আর সেটা কিনা নিজেরই কাজিন আমি তো জেনে প্রায় অবাকই হয়েছিলাম। তারপর থেকে আমার জানার খুব ইচ্ছে হলো কি আছে ওই মেয়ের মধ্য যার জন্য সয়ং রোহান শেখ পাগল। তারপর থেকে সব খোজ খবর রাখতে শুরু করলাম রুহির। কিন্তু তোমার লোকজন সব সময় প্রটেক্ট করে রাখতো রুহিকে যেটা রুহি আজো জানে না।

– রুহি ফ্রেন্ডদের নিয়ে কফিশপে যায় একদিন সেদিন আমিও গিয়েছিলাম একটা মিটিং এটেন্ট করার জন্য। সেখানে গিয়ে একটা মেয়েকে দেখে আমার চোখ আটকে যায়। মনে হচ্ছিল আসমানের পরী আমার সামনে বসে আছে। মায়াবী চোখ গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট কাজল আখি সব কিছু যেনো আমাকে আকর্ষণ করেছিলো। এরপর মেয়েটার খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এনই শেখ বাড়ির আদরের দুলারি শেখ রোহানের প্রাণ ভোমরা। সেদিন আমার অনেক আনন্দ হয়েছিলো। একদিকে রুহিকে নিজের করে পাওয়ার প্রত্যাশা আরেকদিকে তোমাকে হারিয়ে জেতার নেশা। তারপর আমি রুহির সকল ডিটেলস বের করি। এফবি একাউন্ট মেনেজ করি ফোন নাম্বারও পেয়ে যায়।

– রুহিকে নক করি তারপর। কিন্তু তুমি তার মধ্যেও চলে এসেছিলে যেটা রুহি না বুঝলেও আমি ঠিকই বুঝেছিলাম । এরপর কলেজ যায় ওই কলেজের স্টুডেন্ট হয়ে। একটা গল্প বানিয়ে শুনিয়ে দিই রুহিকে। মেয়েটা এতো ইনোসেন্ট যে নির্দ্বিধায় আমাকে বিশ্বাস করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো। তারপর থেকে তো সবই তুমি যানো যার জন্য তোমার এখানে আসা।

– তবে রুহির মনে আমার জন্য অনেকটা জায়গা হয়ে গেছে এটা আমি জানি। এবার শুধু ওকে নিজের করে পাওয়ার অপেক্ষা আর তোমার হারার। আচ্ছা যদি রুহি তোমার জীবন থেকে হারিয়ে যায় তাহলে কি করবে দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়াবে নাকি স্যাড সং শুনে কান ঝালাপালা করে দিবে বলে বিদঘুটে হাসি দেয় আসিফ। আসিফের কথায় প্রচন্ড রেগে যায় রোহান কিন্তু তারপরও নিজেকে সামলে রেখে বলে স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে কুড়ে ঘরে শুয়ে বিলাসবহুল বিল্ডিয়ের স্বপ্ন দেখলে কি হয় জানো তো। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়তে হয় এসে। তোমার অবস্থাটাও ঠিক তেমন হবে। রুহি আমার ছিলো আছে আর আমারই থাকবে। চেষ্টা করে দেখতে পারো।

– আর যদি রুহি নিজ থেকে আমার কাছে আসতে চাই তাহলে তুমি কি করবে। তখনো কি জোর করে রেখে দিবে ওকে।
– আসিফের কথায় রোহান একটু থেমে বলে আচ্ছা তোমার সাথে একটা ডিল হয়ে যাক। রুহি যদি তোমাকে নিজ মুখে ভালোবাসি বলে যদি তোমার সাথে থাকতে চাই তাহলে আমি তোমাদের মধ্যে থেকে সরে আসবো আর যদি রুহি বলে সে তোমাকে ভালোবাসে না তাহলে তোমার জন্য দারুণ একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করবে তারপর । কি রাজি?

–” রোহানের কথায় আসিফ শব্দ করে হেসে বলে তুমি অলরেডি হেরে বসে আছো রোহান এবার রেডি হও শেষ হারের জন্য।
– সেতো সময় বলে দেবে কার হার কার জিত বলে রোহান আবার গটগটিয়ে পায়ে বেরিয়ে আসে। রোহানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আসিফ একটা ডেভিল হাসি দেয়।

— রোহানর অফিসে বসে আছে রোহান আর তার বন্ধু নীল। রোহান আর নীল দুজন ক্লোজ ফ্রেন্ড। রোহান সব কথা নীলের সাথে শেয়ার করে। রুহির কথাটা রোহান আগে নীলকে বলেছিলো। রুহির প্রতি রোহানের ফিলিং জানার পর নীল অনেক খেপিয়ে ছিলো রোহানকে।

– আচ্ছা রুহিকে তো তুই ভালোবাসি তাহলে সেটা প্রকাশ করছিস না কেনো। বলে দিলে তো সব সমস্যা সলভ হয়ে যায়৷ রুহি তাহলে আর ডাউট নিয়ে থাকবে না।

— আমি কেনো সব কিছু নিজের মধ্যে রেখেছি এটা তুই খুব ভালো করে জানিস নীল। আমি চাই রুহি ম্যাচুরিট হোক। জীবনে বড় একটা লক্ষ্যে যাক। পড়াশোনাটা শেষ করুক তারপর আমি সব বলব ওকে। আমার মনের সকল ভালোবাসা সকল অনুভূতি তাকে উজাড় করে দেবো।

– তার আগে যদি রুহি তোর থেকে দূরে সরে যায়। তুই রুহির সামনে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করছিস তাতে রুহির তোর উপর একটা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। ভয়টা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা বুঝতে পারছিস তুই?

— নীলের কথায় রোহান হেসে বলে তোকে একটা সিক্রেট বলি শুন, রুহিও আমাকে ভালোবাসে। রোহানের মুখে এই কথা শুনে নীল অবাক হয়ে বলে কিহহ। তোর মাথা খারাপ । আমি রুহির চোখে ভয় ছাড়া তোর জন্য কখনো কিছু দেখেনি আর তুই কি-না ভালোবাসা নিয়ে আসছিস।

— রুহি আমাকে সত্যি ভালোবাসে নীল। ওর চোখে আমি ভালোবাসা দেখেছি৷ আমাকে পাওয়ার আকুল আবেদন আছে ওর মধ্যে। কিন্তু ও আমাকে ভয়ে সেটা বলতে পারে না কারণ আমি তেমন পরিস্থিতি হতে দিইনি কখনো।
– তাহলে তো রাস্তা ক্লিয়ার দোস্ত। তুই বরং রুহিকে সব বলে দে এবার। ওই আসিফকে উচিত শিক্ষা দিয়ে দে।

– হুম বলব। সব কিছু সবাইকে জানানোর সময় এসে গেছে এবার। আসিফ তো মাঠে নামার আগে আউট হয়ে বসে আছে। বেচারা শুধু শুধু সারা মাঠ দৌড়ে নিজের এনার্জি লস করছে। রোহানের কথায় নীল জোরে হেসে বলে বেচারা আসিফ। চোখে পানিতে নাকের পানিতে হাবুডুবু খাবে এবার বলে দুজনেই শব্দ করে হেসে উঠে।

— চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here