আবেগময় সম্পর্ক পর্ব -৩৩+৩৪

#আবেগময়_সম্পর্ক
#৩৩তম_পর্ব
#লেখিনীতে_মৃদু_সুপ্রিয়া

প্রমি আজকে একটা নিউজ রিপোর্টিং করে ফিরছিল। পথিমধ্যে তাদের ভাড়া করা গাড়ি খারাপ হয়ে যায়, তখন সে কোন উপায় না পেয়ে রাজীবকে একটি ক্যাব ভাড়া করে পাঠিয়ে দেয়। প্রমি রাস্তার পাশে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। সে ভাবে, “অনেক দিন থেকে ভালো মন্দ কিছু খাই না। আজ একটু খেয়ে নেই। ভালোই হবে।”

যেই ভাবা সেই কাজ। প্রমি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে এবং বেছে বেছে একটি টেবিলে গিয়ে বসে। যেই টেবিলের মাথার উপরেই ফ্যান ছিল। প্রমি এরপর কিছু অর্ডার করতে যাবে তখনই দেখতে পায় রায়ানও সেই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করছে। রায়ানকে দেখে প্রমি একপ্রকার ছুটে যায় তার কাছে। রায়ানের কাছে গিয়ে বলে,“আপনার সাথে আবার দেখা হয়ে খুব খুশি হলাম মিস্টার রায়ান। আপনাকে ধন্যবাদ জানানো বাকি ছিল। কেননা, শুধুমাত্র আপনার জন্যই আমার ক্যারিয়ার বেচে গেল। নাহলে আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম যে, সব বোধহয় শেষই হয়ে গেল, আমার ক্যারিয়ার, আমার লাইফ, এভরিথিং।”

রায়ান একটু ভাব নিয়ে বলে, “এটা তেমন কিছু না। আমারও ভালো লেগেছে আপনার উপকার করে।”

প্রমি মৃদু হেসে বলে, “ আমি তো এখানে খেতেই এসেছিলাম, আর এখন ভাগ্য ক্রমে আপনিও যখন এসেই পড়েছেন
তাহলে চলুন আজকে আমি আপনাকে ট্রিট দেই। যদি আপনি রাজি থাকেন আরকি….”

রায়ান বলে, “রাজি কেন থাকবোনা? আপনি যদি ট্রিট দিতে যান তাহলে আমিও ট্রিট নিতে রাজি৷ শুধু একটাই রিকোয়েস্ট একটু হেলদি ফুড অর্ডার করবেন। আমি বেশি অয়েলি ফুড আবার খেতে পারি না।”

প্রমি বলে ওঠে, “এই নিয়ে টেনশন করার দরকার নেই। আপনার যা পছন্দ অর্ডার করুন, বিল আমি পে করবো।”

“তা কি করে হয়? আপনি যখন আমায় ট্রিট দেবেন তখন নিজে পছন্দ করে দিন সেটা বেটার হবে।”

প্রমি কিছুক্ষণ ভেবে বলে, “ওয়েল আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে চিকেন ফ্রাই আর ফ্রাইড রাইস খান। এগুলো অয়েলি ফুড বাট আই থিংক একদিন খেলে এমন কোন ক্ষতি হবে না। যদি আপনি রাজি থাকেন তো আমি অর্ডার করি!”

রায়ান কিছু সময় ভেবে বলে, “ঠিক আছে। চলুন বসি৷ আপনি যা চান তাই খাবো নাহয়।”

দুজনে একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া করে নেয়। খাওয়ার সময় রায়ান এবং প্রমি অনেকবার লুকিয়ে লুকিয়ে একে অপরকে দেখে। দুজনেরই তো লাভ এট ফাস্ট সাইট হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা কেউ কাউকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছিল না।

দুজনের মধ্যে এই জড়তা কা*টানোর উদ্যেগ রায়ানই নেয়। সে বলে ওঠে,“আপনার ফেসবুক,ইন্সট্রাগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপ কিছু নেই?”

“আমার সবই আছে।”

“আমি কি আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার পেতে পারি?”

“হ্যাঁ, এই নিন ০১৮*******। এটা আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার।”

রায়ান মুচকি হাসে। দুজনে খাওয়া দাওয়া শেষ করে। রায়ানের একটি জরুরি অপারেশন আছে জন্য সে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে প্রমিকে বলে যায়,“খুব শীঘ্রই হয়তো আমাদের দেখা হবে।”
_________________________
কয়েক মাস পর,
রায়ান এবং প্রমির মধ্যে নিয়মিত ফোনে কথা হয়৷ তাদের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে৷ দুজনেই দুজনের সাথে কথা বলতে বলতে একে অপরের প্রেমে পড়ে গেছে কিন্তু কেউই কাউকে কিছু বলতে পারছে না। যার কারণে তাদের মধ্যে নরমাল কথাবার্তার বেশি কিছু এগোয়নি এখনো অব্দি।

এদিকে রায়ান ডেসপারেট হয়ে যাচ্ছে প্রমির সাথে সম্পর্কে জড়ানোর জন্য। তাই আজ সে সাহস করে প্রমিকে ম্যাসেজ করে, “আজ রাতে কি আমরা দেখা করতে পারি?”

প্রমি বলে, “জ্বি, কোথায়?”

“আগের বার যেই রেস্টুরেন্টে দেখা করছিলাম ঠিক সেখানে।”

প্রমি সম্মতি জানায়। রায়ান অপেক্ষা করতে থাকে প্রমির সাথে দেখা করার জন্য।

অবশেষে সেই শুভ সময় এসেই যায়। মানে এখন প্রমির সাথে রায়ানের সাক্ষাৎ হয় সেই রেস্টুরেন্টে। প্রমি এসেই রায়ানকে জিজ্ঞাসা করে,“হঠাৎ আমাকে এখানে ডাকলেন যে? কোন কিছু কি বলতে চান?”

রায়ান কিভাবে কি বলবে কিছু বুঝতে পার ছিল না। এর আগে কোন মেয়েকে সে প্রপোজ করে নি। সে এসবে অভ্যস্তও নয়। তাই তার মধ্যে অনেক সংকোচ কাজ করছিল।

কিছু সময় নিয়ে রায়ান তার পকেট থেকে একটা ডায়মন্ড রিং বের করে এবং প্রমির হাতে সেটা পড়িয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলে, “আই লাভ ইউ প্রমি। আই লাভ ইউ। উইল ইউ বি মাই গার্লফ্রেন্ড?”

প্রমির হার্ট দ্রুত বিট হতে থাকে। সবটা যেন তার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছিল। কারণ সে তো নিজেও রায়ানকে পছন্দ করতো। কিন্তু কখনো নিজের পছন্দের কথা বলতে পারে নি। আজ যখন রায়ান নিজে থেকে তাকে প্রপোজ করছে তখন সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। হ্যাঁ বা না কিছুই বলতে পারছে না।

যদিও মৌনতাকে সম্মতির লক্ষণ হিসেবে ধরা হয় কিন্তু রায়ান বুঝলো উল্টোটা। সে প্রমিকে চুপ থাকতে দেখে মনে করে সে হয়তো রায়ানকে পছন্দ করে না। তাই রায়ান উঠে চলে যেতে নেয়। তখনই প্রমি তার হাত আটকে ধরে বলে,“প্লিজ যাবেন না। আমিও আপনাকে লাইক করি৷ আই লাভ ইউ টু।”

রায়ানের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সে তো এটাই শুনতে চেয়েছিল। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রায়ান বলতে ওঠে, “তার মানে আজ থেকে আমরা গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড তাই তো?”

প্রমি দ্বিমত করার সুযোগ পায় না। শুরু হয় তাদের রিলেশন।
___________________________
মায়ান কয়দিন থেকে লক্ষ্য করছে রায়ান অনেক বদলে গেছে। সে মুচকি মুচকি হাসে। কারো সাথে যেন কথা বলায় ব্যস্ত থাকে সারা দিন।

মায়ান একদিন রায়ানকে জিজ্ঞাসা করেই ফেলে,“আচ্ছা ব্রো তুই সত্যি করে বল তো তুই কি প্রেম করছিস?”

রায়ান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। যার অর্থ সে প্রেম করছে। মায়ান মন খারাপ করে বলে, “দ্যাসট নয় ফেয়ার ব্রো। তুই প্রেম করছিস আর আমাকে বলিস নি৷ তোর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখাও করাল না! আমি তাকে দেখলামও না!”

“মন খারাপ করতে হবে না,তুই চিনিস তাকে।”

“কে সে?”

“রিপোর্টার প্রমি।”

মায়ানের সব খুশি মিলিয়ে যায়। সে বলে ওঠে, “ঐ মেয়েটা যে আমার নামে ফেইক নিউজ করেছিল। ব্রো তুই কি করলি এটা? আমার তো এখন মনে হচ্ছে ঐ মেয়েটা একটা গোল্ড ডিগার। না এই রিলেশনে জড়িয়ে তুই ঠিক করিস নি। তুই আজই ব্রেক আপ কর।”

রায়ান রাগী স্বরে বলে,“তুই ভুল ভাবছিস। প্রমি মোটেও অমন মেয়ে নয়। ও অনেক ভালো মেয়ে। আমি কিছুতেই ওর সাথে ব্রেকাপ করব না। বরং খুব শীঘ্রই আমি ওর বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে যাব এবং ওকে বিয়ে করে নিবো।”

মায়ান হাতের মুঠো শক্ত করে বলে,“আমিও দেখব তুমি কি করে ঐ মেয়েটাকে বিয়ে করো। আমি কিছুতেই ঐ মেয়েটার সাথে তোমার মিল হতে দেবো না। কারণ আমি জানি ঐ মেয়েটা ভালো নয়। ওর নিশ্চয়ই কোন বাজে ইন্টেনশন আছে। তোমার অনেক টাকা দেখেছে তাই তোমায় টাকার জালে ফাঁসাতে চাইছে। আমি তোমাদের ব্রেকাপ করা বোই। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।”

#চলবে#আবেগময়_সম্পর্ক
#৩৪তম_পর্ব(মহাধামাকা পর্ব)
#লেখিনীতে_মৃদু_সুপ্রিয়া

প্রমি আজ রায়ানকে নিয়ে সিলেটে এসেছে তার পরিবারের সবার সাথে দেখা করানোর জন্য। প্রমি খুব উৎসাহিত কারণ তার মনে হয়েছে তার পুরো পরিবার যেন রায়ানকে সাদরে গ্রহণ করবে৷ তবে তার এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হতে বেশি সময় নিলো না।

বাড়ির সামনে এসে কলিং বেল বাজাতেই পিহু এসে দরজা খুলে দিল। পিহুকে দেখামাত্রই রায়ান বলে উঠল,“কাকি তুমি!”

রায়ানের মুখে কাকি ডাক শুনে অবাক হলো পিহু। বলল,“আমাকে কাকি বলছ কেন? আমি কিভাবে তোমার কাকি হই?”(রায়ান অনেক বড় হয়ে গেছে, এত দিন পিহুদের সাথে কোন যোগাযোগ না থাকায় চিনতে পারে নি।)

পিহুর কথা শুনে রায়ান বলে, “তুমি আমায় চিনতে পারছ না কাকি? আমি রায়ান।”

ব্যাস পিহুর মুড পুরো খারাপ হয়ে গেল। সে আক্রোশের দৃষ্টিতে তাকাল রায়ানের দিকে। কেননা, আজোও সে রায়ানকে মেহুলের খু*নি ভাবে। পিহু রাগী চোখে প্রমির দিকে তাকিয়ে বলল,“আজকে না তোর নিজের বয়ফ্রেন্ডের সাথে আমাদের পরিচয় করানোর কথা ছিল। তাহলে এই ছেলে কে? আবার এটা বলিস না, যে এই তোর বয়ফ্রেন্ড। যদি এমনটা হয় তাহলে!”

প্রমি বলে ওঠে, “আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না এসব। তোমরা কি একে অপরকে আগে থেকে চেনো নাকি? আম্মু উনি তোমায় কাকি বলছেন কেন?”

রায়ান তখন উত্তেজিত হয়ে বলে,“কারণ উনি আমার কাকি। আমার চাচ্চু আশিকের বউ উনি। আর তুমি ওনাদের মেয়ে, মানে আমরা সম্পর্কে কাজিন হই।”

পিহু জোরালো ভাবে বলল,“না এসব কিছু নয়৷ তোমাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমি ঘৃণা করি তোমাকে। দূর হয়ে যাও আমার চোখের সামনে থেকে। নাহলে আমি..”

পিহুর পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আশিক চলে আসে সেখানে। আশিক এসেই পিহুকে থামিয়ে দিয়ে বলে,“কি হচ্ছে এসব? এত চিৎকার করছ কেন? কে এসেছে বাড়িতে? আজ না প্রমির ওর বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে আসার কথা ছিল।”

আশিক এবার রায়ানের দিকে নজর দেয়। তারপর বলে,“এই কি প্রমির বয়ফ্রেন্ড? ছেলেটাকে দেখে তো আমার ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে। তাহলে তুমি এত রিয়্যাক্ট করছ কেন? তোমার কি ওকে পছন্দ হয়নি কোন কারণে?”

পিহু বলে উঠল,“না হয়নি৷ কেন হয়নি জানো? কারণ ও আর কেউ নয়, তোমার বড় ভাই আকাশের ছেলে রায়ান। সেই ছেলে যার জন্য আমার মেহুল আপি মা*রা গেছে। আর তোমার মনে হচ্ছে আমি এত সহজে ওকে মেনে নেবো। কক্ষনো না।”

আশিক এত দিন পর রায়ানের দেখা পেয়ে খুশি হবে নাকি পিহুর কথায় দুঃখিত হবে সেটাই বুঝতে পার ছিল না।

এরমধ্যে প্রমি রায়ানের হাত শক্ত করে ধরে বলে, “তোমাদের মধ্যে কিসের শত্রুতা আমি জানি না। আর সত্য বলতে আমার জানার তেমন কোন ইন্টারেস্টও নেই। আমি শুধু এটুকু জানি যে, আমি রায়ানকে ভালোবাসি। রায়ানও আমাকে ভালোবাসে। তাই আমাদের মধ্যে তুমি কোন দ্বন্দ্ব তৈরি করো না আম্মু। আমি চাই রায়ানকে নিয়ে সুখী থাকতে।”

পিহু এবার ক্ষেপে যায়। ক্ষেপে গিয়ে বলে,“আমি তোমাদের মেনে নিবো না। তুই যদি একটা রাস্তার ছেলেকেও ধরে আনতি তাহলেও আমি রাজি হয়ে যেতাম। কিন্তু এই ছেলে তো কখনোই না। এখন তুই চুজ কর কি করবি। হয় ঐ ছেলের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যা, আর নাহয় ঐ ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দাও।”

প্রমি কিছু বলার আগেই আশিক বলে,“এ তুমি ওকে কেমন ধর্ম সংকটে ফেললে বলো তো? ও এত চাপ কিভাবে নেবে?”

এরপর আশিক প্রমি ও রায়ানের কাছে এসে বলে, “তোরা আপাতত এখান থেকে যা। আমি প্রমির বাবা হিসেবে তোদের বিয়ের অনুমতি দিলাম। পিহু রেগে আছে। ধীরে ধীরে কোন ভাবে ওকে মানিয়ে নেব।”

আশিক রায়ানের হাত ধরে বলে,“ভাইয়া আর মায়ান কেমন আছে?”

“মায়ান ভালো আছে কিন্তু আব্বু ভালো নেই চাচ্চু। আব্বু হাটাচলা করার ক্ষমতা হারিয়েছে। আর এখন নতুন মাকে খুব মিস করে।”

আশিক নিজের চোখের জল মুছে বলে,“আমি তোদের সাথে সম্পর্ক ঠিক করতে চাইছিলাম৷ কিন্তু পিহুর জন্য পারিনি। এতদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে কত প্রার্থনা করেছি। অবশেষে তিনি নিজেই সুযোগ তৈরি করে দিলেন। হয়তো তোদের বিয়ের মাধ্যমে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে। তাই তোরা বিয়ে করে নে। এতে আমাদের ভাঙা সম্পর্ক হয়তো জোড়া লাগবে।”

প্রমি রায়ানের সাথে বাড়ি থেকে বের হতে যাবে এমন সময় পিহু বলে উঠল,“আজ আরো একবার প্রমাণিত হয়ে গেল পর সবসময় পরই হয়। তাকে যতই আদর যত্ন করো সে কখনো আপন হয়না।”

থেমে যায় প্রমির পা। সে পিছনে ফিরে পিহুর দিকে তাকায়। পিহু সামনে এগিয়ে এসে বলে, “এই রায়ান আমার আপির সতীনের ছেলে ছিল। কিন্তু আমার আপি ওকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসত। পরিণাম কি হলো? আমার আপিকে কত অপমান লাঞ্চনা সহ্য করে শেষে নিজের জীবনটাও দিতে হলো। আর তুই প্রমি, তুই আমার নিজের মা না। যদি নিজের মেয়ে হতি তাহলে হয়তো…”

পিহুর পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আশিক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, “কি বলছ তুমি এসব? ভেবে বলছ তো?”

“আমি সব কিছু ভেবেই বলছি। অনাথ আশ্রম থেকে এনে নিজের মেয়ের মতো বড় করেছি প্রমিকে। ওর কোন চাহিদার অভাব রাখিনি। আজ তার এই প্রতিদান দিল। আসলে সবাই ঠিকই বলে আবেগময় সম্পর্ক বলে কিছু হয়না। রক্তের সম্পর্কই আসল।”

প্রমির চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। সে আজ প্রথম নিজের জীবনের সব থেকে বড় সত্যের মুখোমুখি হল যে,এতদিন সে যাদেরকে নিজের আসল মা-বাবা জেনে এসেছে তারা আসলে তার কেউ নয়। প্রমির যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না কথাটা।

প্রমি উন্মাদের মতো আশিকের কাছে গিয়ে বলতে লাগল,“আব্বু তুমি বলো আম্মু যা বলছে সেটা রাগের মাথায় বলে ফেলেছে। তুমি তো আমার নিজের আব্বু তাইনা? কি হলো তুমি চুপ কেন বলো?”

আশিক নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বলল,“কে বলল তুই আমার মেয়ে নয়? তুমি আমারই মেয়ে। রক্তের সম্পর্কই সব নয়। তোকে আমরা জন্ম দেইনি তো কি হয়েছে, তোকে নিজের সন্তানের মতোই দেখেছি। তুই আমাকে আব্বু বলে ডেকেছিস। তুই তো আমার মেয়ে।”

প্রমি দুই ধাপ পিছিয়ে বলল,“তার মানে আম্মু যা বলল তাই ঠিক। আমি তোমাদের নিজের মেয়ে নই, পালিত মেয়ে।”

প্রমি এবার রায়ানের হাত ধরল। তাকে গেটের বাইরে বার করে দিয়ে বলল,“আম্মুর নিজের মেয়ে না হওয়ার পরেও তিনি আমাকে এত আদর যত্নে মানুষ করেছেন। আমি তার অবাধ্য হতে পারবো না। আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আবেগময় সম্পর্কের শক্তি কতোটা। তাই আমি তোমাকে অনুরোধ করে বলছি আমার জীবন থেকে দূরে সরে যাও। আজ থেকে আমাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। আমি তোমার সাথে ব্রেকাপ করে নিলাম।”

রায়ান তাকে কিছু বলতে চাইছিল। কিন্তু প্রমি কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মুখের উপরেই দরজা বন্ধ করে দিল।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here