এখানেই শেষ নয় পর্ব -০৪

#এখানেই_শেষ_নয় (০৪)

#অপরাজিতা_রহমান

একি! কোন ধরনের অসভ্যতামি শুরু করছেন? শার্টের বোতাম খুলছেন কেন?

“তোমাকে দেখাতে”

ছিঃ ছিঃ আমি কি আপনার বডি দেখতে চেয়েছি? ডার্টি মাইন্ডের লোক একটা। আই হেট ইউর ডার্টি মাইন্ড।

তোমাকে এটাই দেখাতে চাচ্ছি যে তুমি গরম পানি ছুঁড়ে আমার বুকের কি অবস্থা করেছো।দেখ কি রকম লাল বর্ণ ধারণ করেছে। তুমি কিভাবে পারলে ঐ রকমভাবে গরম পানি ছুঁড়তে?

আ হা হা নিজের বেলায় চাল ডা আর পরের বেলায় ধান ডা। আপনি যে অমানুষের মতো আমাকে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেন,সেই বেলায় কিছুই না।আপনাকে গরম পানি ছুড়েছি বেশ করেছি।নেক্সট টাইম এই আঘাত‌ই আপনাকে মনে করিয়ে দিবে আমার সাথে লাগতে আসার পরিনতি। এখন দরজা খুলুন আমি বের হবো।কি হলো কথা কানে যায় না। ঠিক আছে আমি নিজেই খুলে নিচ্ছি বলেই যেই না দরজা খুলতে যাবো তখনই শায়ান পেছন থেকে আমার হাত মুচড়ে দিয়ে বলল,এতো তাড়াতাড়ি আমি তোমাকে ছাড়ছি না সিনিয়র বেবি। আঘাত যখন তুমি দিয়েছ মলম ও তুমিই লাগাবে।

আমি কেন? আপনার লেখিকা গার্লফ্রেন্ড কে ফোন করুন।সে এসে আদর সোহাগ দিয়ে ক্ষত সারিয়ে তুলবে।

তোমার ঐ নোংরা মুখে তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড এর নাম উচ্চারণ করবে না। শুধু মাত্র তোমার জন্য তাকিয়া আজ হসপিটালে মৃ”ত্যু”র সাথে পাঞ্জা লড়ছে।এর জন্য তুমি দায়ী। তাকিয়ার যদি সত্যিই কিছু হয়ে যায় আমি কিন্তু তোমাকে ছেড়ে কথা বলব না।

ও মাগো ট্রুরু লাভ। আপনার ট্রুরু লাভ কখনোই আপনাকে ভালোবাসেনি। আপনার লেখিকা গার্লফ্রেন্ড আপনাকে বলেছে সে সু”ই”সা”ই”ড করতে বসেছে। কিন্তু আপনি কি স্বচোখে দেখেছেন?দেখেন নি তো?না দেখেই আপনার লেখিকা গার্লফ্রেন্ডের একাউন্টে হাজার হাজার টাকা ট্রান্সফার করেছেন।দিস ইজ দ্যা মেইন পয়েন্ট। আপনার লেখিকা গার্লফ্রেন্ড কখনো আপনাকে চায় নি,চেয়েছে আপনার টাকা। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আমি আপনার ব্যাপারে এতো কিছু কিভাবে জানলাম?আম্মু শুধু মাত্র আমার কলিগ নয় আমার একজন ভালো বন্ধু। আপনার প্রত্যেকটা কথা আম্মু আমার সাথে শেয়ার করত। আপনার নাড়ি নক্ষত্র জেনেই আপনাকে বিয়ে করেছি।

কুয়াশা ম্যাম আপনি খুব ভালো লেকচার দিতে পারেন।অনেক লেকচার শুনিয়েছেন, এবার দয়া করে ফ্রিজ থেকে বরফ নিয়ে এসে আমার ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিন।

আমার ঠ্যাকা পরে নি। আমি পারব না। নিজের কাজ নিজে করে নিন।

বিয়ে করেছি কি নিজের কাজ নিজে করার জন্য।তার উপর আবার সিনিয়র ব‌উ বিয়ে করেছি। ভাবছি ব্যবসা বানিজ্য সব বাদ দিয়ে ব‌উয়ের টাকায় বসে বসে খাব।

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই দরজায় টোকা পড়ল।আপু তুমি কি ভেতরে আছো? ভাইয়ার সাথে কিসের এতো গল্প করছো তাও আবার দরজা বন্ধ করে দিয়ে?আম্মু এক্ষুনি ডাকছে তোমাকে। তাড়াতাড়ি আম্মুর রুমে এসো।

ঠিক আছে সামিরা । তুমি যাও আসছি আমি।

তুমি কোথাও যাচ্ছ না সিনিয়র বেবি। আগে আমার ক্ষত স্থানে বরফ লাগিয়ে দাও।

আমি পারব না।আম্মু ডাকছে আসছি আমি বলে দরজা খুলে চলে আসলাম।

আম্মু ডেকেছ?

হ্যাঁ,বস। তোদের বিয়ে টা যেহেতু হুট করে হয়ে গিয়েছে ,কেউ তোদের বিয়ের ব্যাপারে জানে না।তাই আমি চাচ্ছিলাম ছোট খাটো একটা বৌভাতের আয়োজন করতে। তোর মামা মামি ও তো আমাদের বাসায় আসে নি।এই সুযোগে তাদের ও দেখা হয়ে যাবে।

না,না আম্মু। শুধু শুধু কি দরকার আছে মানুষ হাসানোর। আমাদের সমাজ জুনিয়র কে বিয়ে করা টা
ভালো চোখে দেখে না। যেইখানে আমাদের সম্পর্ক টাই ভিত্তিহীন সেইখানে কি প্রয়োজন আছে ঘটা করে লোকজন জানানোর?

ঠিক আছে তুই যা বলিস তাই হবে। তুই যদি যাস এই কাগজে কলমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে আমি তোর ডিভোর্সের ব্যবস্থা করে দিব। তবে আমি মনে করি ডিভোর্স কোন সমস্যার সমাধান নয়। আমি চাই তুই আর শায়ান অন্য পাঁচ টা স্বাভাবিক কাপলদের মতো সংসার কর। আমার ছেলেটা বড্ড অবুঝ। কিন্তু তুই তো ভালোমন্দ সব বুঝিস, তুই ওকে বোঝাবি ।দেখ মা শায়ান জুনিয়র হলেও এখন তোর স্বামী। তুই কেন তোর স্বামীর অধিকার ছেড়ে দিবি? তাকিয়া ভালো মেয়ে নয় মা।ওর কাজ‌ই হচ্ছে বড়লোক ছেলেদের হাত করে তাদের থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। তুই শায়ানের স্ত্রী তুই চাইলেই পারবি তাকিয়ার থেকে আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে আনতে।

ঠিক আছে আম্মু। তুমি শুধু দেখবে আমার জুনিয়র বরের কি হাল করি আমি।এই সিনিয়রের প্রেমে যদি ওকে হাবুডুবু খাওয়াতে না পারি তো আমার নাম ও কুয়াশা ন‌ই। প্রয়োজনে হুজুরের থেকে পড়া পানি এনে খাওয়াবো তোমার ছেলেকে।তারপর দেখবে তোমার ছেলে সারাক্ষণ ব‌উয়ের আঁচলের তলায় ঘুরঘুর করবে আর সারাদিন কুয়াশা কুয়াশা করবে।জাষ্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।

হা,হা,হা,পাগলি মেয়ে আমার।আমি ও চাই আমার অবুঝ ছেলেটার একটু সুবুদ্ধি হোক। তুই যদি আমার ছেলেকে তোর প্রেমের জ্বালে ফাঁসাতে পারিস আমি তোকে এমন একটা গিফট দিব যা তুই কখনো ভাবতে ও পারবি না।

ওকে ডান।

তাহলে এখন থেকেই মিশন শুরু করে দে।

কিভাবে শুরু করবো? একটু ক্লু তো দাও।আমি তো আর আগে সংসার করে আসি নি যে বুঝতে পারব কিভাবে জুনিয়র বরের মনে প্রেমের আগুন জ্বা”লা”নো‌ যায়?

সেইটা ও তোকে বলে দিতে হবে?

আচ্ছা বাদ দাও। তুমি বল তোমার ছেলে আর তোমার বর কি কি খেতে পছন্দ করে। তোমার বর তো আগেই আমাকে বলে দিয়েছে আমি যেন তার আশেপাশে না যায়। এখন আমি রান্না করলে তোমার বর কি আমার হাতের রান্না খাবে?

আমার বর আমার বর করছিস কেন?বাবা হয় তোর?

সে তো আমাকে বাবা ডাকার অধিকার দেয় নি। আমি বাবা ডাকলে দেখা গেল সে আমাকে ঠাটিয়ে এক চড় দিয়ে বলল, এই মেয়ে আমি তোমাকে বাবা ডাকার অধিকার দেয় নি। কোন সাহসে তুমি আমাকে বাবা ডাকলে?

না রে মা। মানুষ টা কে যেমন উপরে উপরে শক্ত মনের মনে হয় ভেতরে কিন্তু ততটাই নরম। আসলে আমি একপ্রকার জোর করে শায়ানের বিয়েটা দিয়েছি তো তাই তোকে মানতে পারে নি। কিন্তু দেখিস আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন ঐ মানুষ টা তোকে মাথায় করে রাখবে।

তাই যেন হয় আম্মু । আম্মু আমি কিচেনে যাচ্ছি। দেখি আমার হাতের রান্না খাইয়ে বর আর শ্বশুরের মন জয় করতে পারি কি না।

ঠিক আছে যা মা।রেনু তোকে রান্না করতে সাহায্য করবে ‌। আমার স্কুলের কিছু কাজ বাকি রয়েছে,না হলে আমিই তোকে সাহায্য করতাম।

ঠিক আছে আম্মু সমস্যা নেই। আমি সবটা সামলে নিতে পারব।

আমি আসলেই অলরাউন্ডার বৌমা পেয়েছি । এখনকার যুগের মেয়েরা তো পড়াশোনা করলে কোন কাজেই হাত দিতে চাই না।তারা কাজ করতে না পারাটা কে গর্বের মনে করে। অথচ আমার মেয়েটা একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হয়ে ও সব কাজে পারদর্শী।

সবাই তো আর আমার মতো বাবা মা ম”রা মেয়ে নয় আম্মু।

আমি কি তোর মা নয় ? এরপর যদি আর কখনো তোর মুখে বাবা মা ম”রা মেয়ে বলতে শুনি , তখন কিন্তু আমি তোর মুখ সেলাই করে দিব।

সরি আম্মু ভুল হয়ে গিয়েছে।এই যে দেখ কান ধরেছি।

এইবারের মতো ক্ষমা করে দিলাম।নেক্সট টাইম কিন্তু পি”টু”নি পড়বে।

ওকে আম্মু।

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here