কোনো_এক_বসন্তে পর্ব ৯

#কোনো_এক_বসন্তে
#Khadija_Akter
#পর্ব_০৯

ফজরের আজানের সুর কানে আসছে।
ইশশ মুহুর্তগুলো এতো দ্রুত চলে যায় কেন….!

—————————-
–এই তনয়া,তনয়া?আর কত ঘুমাবি?উঠ এবার!

সকালে ঘুম ভাঙলো সাইকার ডাকাডাকিতে।চোখ খুলে তাকাতেই সাইকা আবারও শুরু করলো,

–কিরে শরীর কেমন লাগছে এখন তোর?শরীরে তো জ্বর নাই দেখছি।
রাতে ভালো ঘুম হয়নি বুঝি?কখন থেকে ডাকছি যে।সবার সাথে নিচে গিয়ে নাস্তা করবি,আয়।

–তুই যা,আমি আসছি।

এক লাফে বিছানায় উঠে বসলাম।অনেক বেলা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই!ঘুমিয়েছিই যে একদম সকাল সকাল।

মনে পড়লো ভোর রাতের কথা,আহিল ভাইকে ছাড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল না একদমই।কোনোরকম বুঝিয়ে সুঝিয়ে তারপর উনি আমাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে যান। কেউ দেখে ফেলার আগেই।

আহিল ভাই!আহিল ভাইয়ের কথা মনে পড়তেই আনমনে হেসে উঠলাম।বেশ লজ্জাও লাগছে,রাতের আঁধারে তত একটা সঙ্কোচ না লাগলেও এখন ভাবছি দিনের আলোতে উনার সামনে কি করে মুখ দেখাবো!
দাত ব্রাশ করতে করতে ওয়াশরুমের আয়নায় নিজেকে দেখে নিলাম কয়েকবার।এমা!আমার গাল দুটো এরকম ব্লাশ করছে কেন!এক হাতে মুখটা ঢেকে নিলাম,ইশশ লজ্জা!

ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে যেতেই আহিল ভাইয়ের দেখা পেয়ে গেলাম।উনি আয়রাকে নাস্তা করাচ্ছেন,আমার উপস্থিতি টের পাননি এখনো।

উনার সামনা করতে চাইছিলাম না দেখেই এই ফাঁকে আমি দ্রুত সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালাম নিচে নামার জন্য।

যখনি উনি চোখ তুলে দেখলেন তনয়া নামক এক রমনীর আগমন ঘটেছিল কিছু পূর্বেই এখানে,আর উনারই গাফিলতির কারণে উনি তা টের পাননি।তখনি সোনার পাখি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে ভেবে ব্যাকুল অথচ নিচু সুরে ডাকলেন,

–তনু…!

আহিল ভাইয়ের ডাক আমি শুনতে পেয়েছি ঠিকই আর শুনতে পাবো নাই বা কেনো,আমার কানও যে খাড়া হয়ে ছিল আহিল ভাইয়ের দিকেই!তবে এই মুহুর্তে উনার ডাককে উপেক্ষা করে তরতর করে ডাইনিং এ চলে আসলাম।
বেশ লজ্জা লাগছে আমার আহিল ভাইকে সামনা করতে।কিন্তু এভাবেই বা কতক্ষণ…..

কিছুক্ষণ পরেই আহিল ভাইয়েরও আগমন ঘটে ডাইনিং রুমে।আমার সামনাসামনিই একটা চেয়ার টেনে উনিও নাস্তা করতে বসলেন।

উনার উপস্থিতি টের পেয়েই আমি এদিক সেদিক তাকানো বাদ দিয়ে দিলাম একদম,চুপচাপ নত দৃষ্টিতে শুধু গ্রোগাসে গিলে যাচ্ছি।

আহিল ভাই যে অন্যান্য চেয়ার ছেড়ে আজ একদম আমার সামনেই বসেছে শুধু আমাকে দেখার জন্য আর ইতিমধ্যে তিনি তার কাজটাও করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে তা আমি মাথা না তুলেও বেশ বলে দিতে পারি।
তাইতো আমার এই অস্বস্তি! কখন খাবো আর উনার সামনের থেকে পালিয়ে বাঁচবো।

এদিকে পাশে বসে সাইকা একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন টপিক নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে!আর বিপরীতে আমার নীরবতা দেখে বারবার খোঁচাচ্ছে কথা বলার জন্য।

কি যে মুশকিল!একসময় বিরক্ত হয়ে মাথাটা তুলে সাইকার দিকে তাকিয়ে বেশ কড়া করেই একটা ধমক দিলাম,

–উফফ সাইকা!খাওয়ার সময় এতো কথা কিসের রে?খেতে দে আমাকে শান্তি করে…।

আমার কথা শুনে সাইকার ছোটখাটো একটা বিষম খেলো,

–এ বাবাহ্,কার মুখে কি কথা রে?আ্যহ্ জ্বরের ঘোরে বুঝি ভুলে গেছিস,খাওয়ার টেবিলে সবচেয়ে বেশি কথা তুই-ই বলতিস!

আমি সাইকার দিকে আরেকবার কড়া চোখে তাকাতেই ও চুপসে গেল খানিকটা।দৃষ্টি নিজের প্লেটের দিকে আনার আগেই আড়চোখে একবার দেখলাম আহিল ভাইকে।

বাহ্! তিনি দেখি নিচের দিকে চেয়ে চেয়ে মুচকি হাসছেন।উনার চোখে চোখ পড়ার আগেই দ্রুত আমি চোখ সরিয়ে নিলাম।

–আচ্ছা তনয়া আরেকটা কথা শোন….

ব্যাবলা সাইকাটা আবারও কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল আমার উদ্দেশ্যে।বড় ফুপি এবার বাঁচিয়ে দিলেন আমায়,

–আহ্ সাইকা!চুপ করে খা তো মা।
তনয়া মাত্রই জ্বর থেকে সেরে উঠছে,ওর কানের কাছে বকবক কম কর।

বড় ফুপির কথা শুনে সাইকা মুখ বাঁকিয়ে উঠে গেল।যাক বাঁচা গেল!

——————————-
বাড়ি এখন পুরোদমে গমগম করছে।
দূরের যত আত্মীয়-স্বজন আছেন,তারা একে একে আসা শুরু করেছেন বিয়ে উপলক্ষে ।কাছের রিলেটিভসরাও কাল নাগাদ সবাই চলে আসবেন।

বেশি হৈ-হুল্লোড় ভালো লাগছিল না বিধায় নাস্তাটা শেষে করেই আমি আমার রুমে এসে বিশ্রাম নিচ্ছি।আমি অসুস্থ, তাই এদিকটায় কেউ আসছেও না আমাকে ডিস্টার্ব করতে।
আরামসে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছি আর কাল রাতের মুহুর্তগুলো স্মরণ করে করে, সঙ্কোচ আর লজ্জায় নিজেই নিজের মাঝে মিহিয়ে যাচ্ছি যেনো!

কিন্তু বড় চিন্তা যেটা মাথায় ঘুরছিল,আহিল ভাই কি পারবে কিছু করতে!হাতে সময় যে খুব কম!
আমি খুব বেশি দেরী করে ফেলিনি তো!যদি আহিল ভাইয়ের সাথে রাইসা আপুর বিয়েটা হয়েই যায়!

বুকের ভিতরটা ঢিপঢিপ করতে থাকে আমার।সময় যত গড়ায় তার সাথে পাল্লা দিয়ে যেনো বুকের ধুকপুকানিটাও বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে।

শরীরে আমার একটুও জ্বর না থাকলেও,বেশ দূর্বল রয়ে গেছে এখনো।বিছানায় বসে ঝিমুতে ঝিমুতে কিছুটা তন্দ্রামতো এসে গিয়েছিল প্রায়।তখনি হন্তদন্ত হয়ে তিন্নি আপু এসে তাড়া দেয়,

–এই তনয়া উঠ!এখনো রেডী হোসনি?কি রে একটা তুই?তোর নিজের বোনের বিয়ে,আর তোর মাঝে দেখি কোনো এক্সাইটমেন্টই নেই!
ধর তো এই কানের দুলটা লাগিয়ে দে ঠিকমতো।

তিন্নি আপুর কটকটে কন্ঠে আমার চোখের ঘুম দৌঁড়ে পালালো।সটান হয়ে বসে কানের দুলের হুকটা লাগাতে লাগাতে বললাম,

–বের হচ্ছো নাকি আপু?

–তবে আর বলছি কি রে!কেনো রাইসা এসে তোকে বলেনি রেডী হতে?
উফফ, নিজের বিয়ের ধান্ধায়ই তো বেচারী শেষ!কাকে আর কি বলবে!
আচ্ছা শোন,আমরা সবাই যাচ্ছি এখন হলুদের শপিং করতে।আহিল আর রাইসা তো আছেই,সাগরের সাথে আমরা দেখা করবো মার্কেটে গিয়েই।
তুই রেডী হয়ে নে জলদি,আমরা সবাই প্রায় রেডী।

কানের দুলটা ঠিকঠাক লাগানো হয়ে যেতেই, তিন্নি আপু যেমন করে এসেছিলেন তেমন করেই আবার তাড়াহুড়োতে চলে গেলেন।

হলুদের শপিং ও হয়ে যাচ্ছে!আমার মনের ভিতর কুহু ডেকে উঠলো যেনো।বারবার শুধু মনে হচ্ছে,আহিল ভাই কি কিছু করবে?আটকাতে পারবে কি বিয়েটা!

আহিল ভাইয়ের সাথে কথা বলাটা জরুরি,ফোনটা হাতে নিয়ে বেশ কয়েকবার কল দিলাম,কিন্তু রিসিভ করলো না।
কি জানি কোথায় ব্যস্ত আছে!
ঝটপট রেডী হয়ে বেরিয়ে আসলাম রুম থেকে।

বাহ্, আহিল সাহেব কল ধরবে আর কি, তিনি তো রাজপুত্তুরের মতো সেজেগুজে বসে আছেন সোফার উপর।বসে বসে তিনি আর ছোট ফুপি কি নিয়ে যেনো নিচে সুরে আলাপ-আলোচনা করছেন।
খেয়াল করে দেখলাম,আহিল ভাইয়ের ফোন আহিল ভাইয়ের হাতেই আছে। আর উনি ফুপির সাথে কথা বলতে বলতে ফোনের স্ক্রিনের দিকেই তাকিয়ে আছেন।
তবুও আমার ফোন ধরলো না!

আমি দূর থেকে বারবার হাত নেড়ে নেড়ে ইশারা করলাম আহিল ভাইকে,এদিকে তাকানোর জন্য।কিন্তু রোবটটা তো দেখলোই না উল্টো দেখে ফেললেন ছোট ফুপি।

–কি রে তনয়া?ভূতুম পইখের মতো ঐখানে দাঁড়িয়ে কি হাত নাড়ানাড়ি করছিস?কিছু বলবি নাকি?আয় এইদিকে আয়…

–না,না ফুপু কিছু বলবো না।

আমতা আমতা করে জবাবটা দিয়েই তিন্নি আপুর রুমের দিকে পা বাড়াতে চাইলেন।এবারে ডাক দিলেন আহিল ভাই,

–তনু আয় তো এদিকে।

আমার পা থমকে গেল,এবার তো না যেয়ে উপায় নেই।আহিল ভাই ডেকেছেন,তাও ছোট ফুপুর সামনে;এই ডাক উপেক্ষা করি কি করে!

এক পা দুপা করে আহিল ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ছোট ফুপির ডাক পড়লো নিচ থেকে।ফুপি ইশারায় আহিল ভাইকে কিছু একটা বলে চলে গেলেন।

ফুপি অদৃশ্য হয়ে যেতেই আহিল ভাই এবার পূর্ণ দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকালেন।মুখে সেই সকালের মতো মুচকি হাসি!
আমি উনার চোখে চোখ মেলাতে পারছি না;অন্যরকম একটা ভালো লাগা,সেই সাথে প্রচুর লজ্জাও কাজ করছে আমার মাঝে।

আমি এমন একটা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছি যে আমাকে বিগত ১৫টা বছর যাবৎ নীরবে ভালোবেসে আসছে।আর সে এমন একজনের সামনে বসে আছে যে কেবল কিছু ঘন্টা পূর্বেই তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছে।
তবে আসল কথা হচ্ছে,এই মুহুর্তে আমরা দুজনেই জানি আমাদের বিপরীত পাশের মানুষটা আমাকে ভালোবাসে।

শান্ত দৃষ্টিতে আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করার পর আহিল ভাইয়ের মুখ থেকে একটা অস্ফুট শব্দ বের হলো!

–“অপূর্ব!”

অবনত দৃষ্টি তুলে আমি আহিল ভাইয়ের দিকে তাকাতেই উনি এদিক সেদিক একবার দেখে নিয়ে আলতো করে আমার ডান হাতটা টেনে নিল নিজের বাম হাতের মধ্যে।

লজ্জায় নতমুখ যেনো আরও নত হয়ে গেল আমার।কিন্তু অত লজ্জা পেলে তো আর চলবে না।সময় তো নেই হাতে বেশি।লজ্জিত অথচ অস্থির কন্ঠে আমিই প্রথমে কথা বললাম,

–আহিল ভাই!বিয়েটা কি হয়ে যাবে আপনাদের?

–……………….

–সময় যে খুব বেশি নাই।পারবেন কিছু করতে আপনি?পারবেন তো আটকাতে?

–………………

–আহিল ভাই,প্লিজ বলুন না।আমার কিন্তু এতো আয়োজন একদম ভালো লাগছে না।ভয় হচ্ছে,খুব ভয় হচ্ছে!আমি কি আপনার অনুভূতি বুঝতে খুব বেশি দেরী করে ফেলেছি আহিল ভাই…..

—‘সশশ’ ভাই ডাকতে নিষেধ করেছে আহিল তোমাকে।

–আচ্ছা ডাকবো না ভাই।কিন্তু বলুন না,কি হবে এখন?আজ তো হলুদের শপিংও হয়ে যাচ্ছে!

আমার কথাগুলো আদৌ আহিলের কানে পৌঁছাচ্ছে কিনা বুঝা গেল না।উনি একমনে আমার দিকে তাকিয়েই আছেন।উনার ধ্যান ভঙ্গ না করে আমিই বরং চুপ হয়ে গেলাম।আহিল ভাইয়ের মতিগতি আমার কাছে একদম ঠিক লাগছে না।কি করতে চাইছেন উনি!আমার এতো অস্থিরতার বিপরীতে এতো নিস্পৃহ কেন উনি!

তাকিয়ে দেখতে দেখতে একসময় আনমনেই আমাকে ডেকে উঠলেন,

–তনু

–হুম

–বউ হবা?

আমার চোখের পাতা আর ঠোঁট জোড়া একসাথেই তিরতির করে কেঁপে উঠলো।শ্বাসটা যেনো থেমে যেতে চাইলো।কি মধুর একটা বাক্য,”বউ হবা?”
কতটা মধু এই বাক্যের মধ্যে আছে বলে এতো মিষ্টি লাগলো এই বাক্যের ঝংকারটা!

রাইসা আপুর আগমনও ঘটতে হলো ঠিক এই সময়েই।আহিলের পাশে এসে দাঁড়িয়েই উনার হাত ধরে টানতে শুরু করে দিল।

–এই এই আসেন তো,দেরী হয়ে যাচ্ছে!

আমি যে জলজ্যান্ত একটা মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে আছি সেটা একদম পাত্তাই দিল না রাইসা আপু।
এমনকি কোনো কথা বলারও প্রয়োজন মনে করলো না আমার সাথে!
আহিল ভাইয়ের হাতের মধ্যে নিজের হাতখানা আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।
রাইসার সাথে যেতে যেতে আহিল ভাই বুভুক্ষের মতো বেশ কয়েকবার পিছন ফিরে তাকালো।

রাইসা আপুর এই ব্যবহারটা আমার একদমই ভালো না লাগলেও আমি অভিভূত হয়ে সেখানে ততক্ষণ পর্যন্তই দাঁড়িয়েই রইলাম যতক্ষন পর্যন্ত না সাইকা নিচের থেকে এসে আমাকে তাড়া দিয়ে নিয়ে না গেল।

কানে শুধু একটা বাক্যই ঘুরে ঘুরে বাজতে লাগলো,”তনু,বউ হবা?তনু,বউ হবা?তনু,বউ হবা?”

——————————
খারাপ লাগা অনুভূতিটার শুরু হলো গাড়িতে গিয়ে বসার কিছুক্ষণ পর থেকে!

আহিল ভাইয়ার গাড়িতে আহিল ভাইয়ার সঙ্গে সামনে বসেছে রাইসা আপু।আমি,সাইকা আর শুভ পিছনে।

ড্রাইভিং করতে করতে আহিল ভাই বারবার ব্যাক মিররে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন।সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চোখের ইশারায় কথোপকথন ও বেশ ভালোই চলছিল আমাদের মাঝে।কিন্তু এই অদ্ভুত রোমান্টিক মুহুর্তটা তছনছ হয়ে গেলো এক নিমিষেই যখন দেখলাম রাইসা আপু উনার সীট ছেড়ে দিয়ে কিছুটা এগিয়ে এসে আহিল ভাইয়ের বাহুতে দুই হাত রেখে কাঁধে মাথা রেখে ফেললো।

আরও বেশি খারাপ লাগলো যখন দেখলাম, আহিল ভাই একটু বিরক্ত বা প্রতিবাদ করলো না এতে বরং আগের মতোই মুচকি হাসিটা ঠোঁটের কোণে লেগে রইলো!

দৃশ্যটা দেখে জানি না কেনো,হঠাৎ করেই আমার মনে হতে লাগলো,আহিল ভাই আমার সাথে কোনো খেল খেলছে না তো!
এমন নয়তো,আমি তাকে রিজেক্ট করেছি বা আমার আব্বু খালামনিকে অপমান করেছে বিধায় শেষ সময়ে এসে তিনি আমার আবেগ নিয়ে একটা খেল খেলছে!

আমার মাথাটা এবার সত্যিই ঘুরে গেল,তাইতো!এরকমটা তো হতেই পারে!খেয়াল করে দেখলাম আজ বাদে কাল বিয়ে অথচ আহিল ভাইয়ের মাঝে তো কোনো বিকারই নেই!যা অস্থিরতা সব আমার মাঝেই!

তবে কি সবটাই কোনো নাটক ছিল?আমি আমার আবেগ প্রকাশ করে দিয়ে ভুল করে ফেললাম না তো!আহিল ভাই কি পরে এটা নিয়ে সবার সামনে মজা উড়াবে!

আবারও তাকিয়ে দেখলাম একবার,রাইসা আপু এখনো ঠিক সেইভাবেই আছে আহিল ভাইয়ের কাঁধে!

বুকটা কেমন যেনো খালি খালি লাগতে লাগলো।এতো কষ্ট কেন লাগছে আমার!ভালোবাসার কি এতোটাজই যন্ত্রণা!

আমি তো ভালোবাসতে চাইনি,আপনিই তো বাধ্য করলেন আহিল ভাই!আর আমার চোখের সামনেই এখন অন্য মেয়ের মাথা আলগোছে নিজের কাঁধে নিয়ে রেখেছেন।
যদি আমায় সত্যিই ভালোবাসতেন তবে তো একবার হলেও ভাবতেন যে ‘তনু নামক মেয়েটার খারাপ লাগতে পারে আমার এহেন আচরণে’।

ছলছল চক্ষুযুগল সবার কাছ থেকে লুকাতেই বোধহয় জানালার কাঁচ নামিয়ে একরাশ হাহাকার নিয়ে দূর দিগন্তে তাকিয়ে রইলো চৌধুরী বাড়ির সবচেয়ে প্রাণবন্ত মেয়েটা!
সে এখনো জানে না,একটু পরেই তার জীবনে কি প্রলয় ঘটতে চলেছে!

#চলবে

(কিছু কথাঃগল্প লেখার ব্যাপারে আমি কখনোই অলসতা করি না।বিশেষ করে চলতি গল্প,একবার শুরু করলে বিরতিহীনভাবে দিয়েই শেষ করে দেই।কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ আমি বাস্তবিকভাবেই খুব ব্যস্ত আছি।এরকম না যে অবসর থেকেও অলসতা করে গল্প লিখি না।

অনেকেই বলবেন,”ব্যস্ত আছেন তাহলে গল্প শুরু করলেন কেন?পরে লিখতেন?”
গল্পটা আমি শুরু করেছি আরও ৯দিন আগে,তখন ব্যস্ত ছিলাম না।কিন্তু এখন আছি,ব্যস্ততা তো আর সবসময় বলে কয়ে আসে না।

গল্প তো কোনো মুখস্ত পড়া না যে হাটে-ঘাটে-বাসে যেখানেই বসে রইলাম শুধু পটাপটা টাইপিং করে পর্ব সম্পূর্ণ করে পোস্ট দিলাম।
গল্প লিখতে গেলে আগে তো ভাবতে হয়,হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বসতে হয়,ঠান্ডা মাথায় একদম গল্পের ভিতরে ঢুকে না গেলে কল্পনাগুলো,ডায়লগগুলো ঠিকঠাক মনে আসে না।

একটানা লিখতে না পারলে;এক পর্ব কয়েকবার ভেঙে ভেঙে লিখতে গেলে মনঃসংযোগ নষ্ট হয়ে যায়,পর্বটা কেমন খাপছাড়া হয়ে যায়।অত্যন্ত আমার সাথে এরকমটাই ঘটে।তাই টুকটাক অবসরে আমি গল্প নিয়ে বসি না।

অনেকের কাছেই এইগল্পটা ভালো লাগছে,তাই হয়তো ধৈর্য্য রাখতে পারছেন না বলে বারবার চাপ দিচ্ছেন নতুন পর্ব দেওয়ার জন্য।ব্যাপারটা আমার কাছে খারাপই লাগে,কারণ আমি চাইলেও দিতে পারছি না গল্পটা অথচ সবাই কত অপেক্ষায় আছে।

আবার অনেকেই অতি আবেগের বশিভূত হয়ে বেশ কড়াভাবে ইনবক্সে আমাকে যা’তা বলে যান।তাও এমনভাবে বলেন যেনো,আমাকে মাইনে দিয়ে গল্প লিখার কাজে নিয়োজিত রেখেছিলেন কিন্তু এখন ঠিকভাবে কাজ করছি না তাই শাসাচ্ছেন।এই ব্যাপারটাও আমার খারাপ লাগে,এটা ভেবে যে তারা আমাকে বুঝতেই চায় না!গল্প দিতে পারলেই খুশি কিন্তু আমি কোন হালে আছি সেটা নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই!

যাইহোক,আমি বলবো একটু ধৈর্য্য রাখেন।চাপ দিয়েন না,মাথায় প্রেশার নিয়ে লিখলে গল্প কেমন খাপছাড়া হয়ে যায়। আমি নিজেই তৃপ্তি পাই না পড়ে,আপনাদের কাছেও তো তখন তা আর ভালো লাগবে না।
চেষ্টা করবো যত দ্রুত সম্ভব দু’য়েক পর্বের মধ্যেই গল্পটা শেষ করে দিতে।
আমার কথাগুলো কারো ভালো না লেগে থাকলে দুঃখিত।আমি এরকমই!কি আর করার!)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here