#ক্যাসিনো
#পর্ব_৪৭
©লেখিকা_মায়া
নিশান আর মেহমেত মুম্বাই এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুই দিন সময় লাগে ফেইক পাসপোর্ট ও ভিসা করার জন্য।
মরিয়ম তার নিজের খোঁজ জারি রাখে। সে আজ সামিরার সাথে দেখা করতে যাবে। সামিরা এখন ঢাকার ভিতরে থাকে। ৪বছর আগে তার বিয়ে হয়। সে এখন তার শশুর বাড়িতেই রয়েছে। মরিয়ম প্রথমে সরাসরি তার বাসাতে যেতে চায় কিন্তু তার পর সে ভাবে যদি সরাসরি বাসাতে যেয়ে এমন কেইস সমন্ধে সে কোন আলোচনা করলে তার শশুর বাড়িতে সমস্যা হতে পারে । তাই সামিরার নাম্বারে মরিয়ম ফোন দেয়। তার নাম্বার পাওয়ার জন্য ও অনেক কাঠখরি পুড়তে হয়েছে। মরিয়ম সামিরা কে মেহমেতের পরিচয় দিয়ে তার সাথে জরুরী ভিত্তিতে দেখা করতে চায়।
এবং সামিরার বাসার কিছু দূরে একটা ক্যাফে তে দেখা করার কথা ছিল। মরিয়ম ক্যাফেতে বসে আছে। সে সামিরার জন্য অপেক্ষা করছে। কিছু ক্ষন পর সামিরার আসে। এবং মরিয়ম তাকে বলে সে কোন পাশে বসে আছে । একটা সুন্দর মেয়ে, সিল্কের শাড়ি পড়েছে। মরিয়ম কে এমন হিজাবী আর নিকাবী ভাবে দেখে সে ভ্রু কুঁচকালো। মেহমেতের মত স্মার্ট ছেলের বউ এমন হবে সে কল্পনাও ভাবতে পারেনি।
কিছু টা কুশল বিনিময় করে কফির মগে চুমুক দিতে দিতে সামিরা জিজ্ঞেস করলো কি সেই জরুরী ভিত্তিতে তাকে ডাকা হয়েছে। মরিয়ম কোন ভূমিকা ছাড়া মেইন পয়েন্টে কথা বললো । আসলে তার আসার উদ্দেশ্য কি?? সামিরা নিশানের নাম শুনেই তার উজ্জ্বল বর্ন রূপ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। আমতা আমতা করছে,হয়তো সে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। সামিরা এতো ক্ষন যেমন বন্ধুত্ব পূর্ণ আচারন করছিল তা ক্ষনিকের বদৌলতে গায়েব হয়ে যায়। তেমন কোন কথা তার মুখ থেকে শুনতে পাওয়া গেল না। বাসায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করতে আরম্ভ করছে। এর দ্বারা পরখ্য ভাবে বুঝা যায় সামিরা নিজের নজর লুকিয়ে ফেলছে। মরিয়ম ও হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকাতে সে জানে।
মরিয়ম দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে চেয়ারে হেলান দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে,, যদি আপনি সত্যি টা না বলেন.যে কেন আপনি নিশানের নামে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন তাহলে আমাকে আপনার নামে প্রথমে একটা মামলা দায়ের করতে হবে কেন আপনি নিশান কে ফাঁসিয়েছেন?? মেইন ক্রিমিনাল দের আপনি সাহায্য করেছেন। এই কারণে আপনার জেল ও হতে পারে। আপনি বুঝতে পারছেন আমার কথা?? অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে প্রশ্রয় দেয় তা সমান অপরাধী।
সামিরা ভয়ে এবার ঘামছে। নিজের কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম সে টিসু পেপার দিয়ে মুছে নেয় তার পর মিনতির স্বরে বলে,,আপনি এটা করতে পারেন না। আপনি এটা করলে আমার সংসার ভেঙে যাবে,আর আমার পরিবারের ক্ষতি হবে। আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি। বিশ্বাস করুন!! প্লিজ আমাকে যেতে দেন।
আপনি এখন নিজের কথা ভাবছেন। অথচ আপনাদের সবার মিথ্যা সাক্ষী তে এক জন নিরপরাধ মানুষ দিনের পর দিন শাস্তি পেয়েছে। তার পরিবারের সবাই আত্মহত্যা করেছে। জেলের মধ্যে প্রতি নিয়ত মৃত্যুর যন্ত্রনা সহ্য করেছে।
সামিরা অপরাধিদের মত মাথা নিচু করে বসে আছে। নরম স্বরে বলে,আমরা ইচ্ছে করে কেউ কিছু করিনি। নিশানকে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়ার পর, ভার্সিটি তিন দিন অফ ছিল।বাসায় আসা যাওয়া বন্ধ ছিল। মেসেতেই নজরে নজরে রাখা হতো সবাই কে। হয়তো আমি নিশান কে পছন্দ করতাম না।কিন্তু বিশ্বাস করেন কখনো আমি ওর খারাপ হবে এমন কিছু চাইনি। যখন নিশানের নামে কুৎসিত কুৎসিত মামলা রটনা করা হলো। আমরা নিজেরাও শুধু অবাক হয়নি রিতিমত ক্ষেপেও গিয়েছিলাম। আমরা পরের দিন এটা নিয়ে ধর্মঘট করার চিন্তা ভাবনা করেছিলাম।আর সেদিন রাতেই ডাক আসে ভিসির অফিস রুমে। আমি সেখানে গিয়ে দেখি এখানে আমি একলা না আরো অনেক স্টুডেন্টরা আছে। ভিসির রুমে শুধু ভিসি ছিল না। ভিসির চেয়ারে এক জন পুরুষ পায়ের উপর পা তুলে বসে ছিল। সে আমাদের সবাই কে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেখায় । যদি আমরা নিশানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয় তো কাল আমাদের লাশ ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর যদি আমরা সাক্ষী দেয় তো বেঁচে যাবো সাথে অনেক টাকার অফার করছিল। আমি অবাক হচ্ছিলাম,ভিসি কে দেখে। উনি এটা কি করে করতে পারেন?? এতো দিন যে সম্মান উনার প্রতি ছিল তা সব ঘৃনায় পরিনত হয়ে যায়। আমাদের কিছু করার ছিল না।আর সব থেকে বড় কথা আমি বুঝতে উঠে এখনো পারিনি যে নিশান আর শাহানার সাথে কাদের শত্রুতা থাকতে পারে যার কারণে শাহানা কে প্রান হারাতে হয়েছিল
আর নিশানের এমন করুন দুর্গতি। আর ঐ লোক টাই বা কে ছিলেন??
মরিয়ম সামিরার সব কথা শুনে এতো টুকু ক্লিয়ার হয় যে সেই পুরুষ টি আর কেউ নয় অনিত নিজেই হবে। মরিয়ম সামিরা কে অনুরোধ করে যেন এই কেসের বিষয়ে যে মিথ্যা সাক্ষী টা সে দিয়েছে সেই অন্যায় টা যেন এবার সত্যি সাক্ষী দিয়ে পরিশোধ করে,আর সাথে এটাও বলে যে তার কোন ক্ষতি হতে দিবে না সে। সামিরা আস্থা দেয় যে, নিজের ভুল যখন সুধরানোর একটা সুযোগ সে পেয়েছে তা সে হাত ছাড়া করবে না। অবশ্যই সে সাক্ষী দিবে। মরিয়ম এবার আর বাকি সবার সাথে দেখা করার প্লান করে। হাতে বেশি সময় নেয় তার।
মুম্বাই শহরে পা রেখে নিশান আর মেহমেত একটা রিসোর্টে উঠে। তার পর সে গুপ্তচরের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী চলে যায়। মুম্বাই এর সিটি হসপিটালে উদ্দেশ্য রওনা দেয়। নিশান শুধু মাত্র ফ্রেশ হয়েছে খাওয়া দাওয়া অব্দি সে করেনি। মেহমেত খাইয়ার কথা বললে নাকোচ করে দেয় সে। তাই মেহমেত নিজেও খাইনি কিছু। নিশান কে বেশ উতলা দেখাচ্ছে। এমন কেন করছে সে তা জিঙ্গাসা করাতে সে বলে,যদি আমরা হসপিটালে গিয়ে দেখি আফজাল শরীফ নয় ওটা তাহলে কি হবে?? এতো দূর আসাটাই বৃথা হয়ে যাবে। আর সব থেকে বড় কথা উনি হসপিটালে কেন??
এই বিষয় টাই আমি বুঝে উঠতে পারছি না ।
বিগত এক ঘন্টার রাস্তা পার করে সিটি হসপিটালে পৌঁছে যায় তারা। রিসেপশনে গিয়ে আফজাল শরীফের খোঁজ করলো তারা তখন তাদের কে ২য় তলায় আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। আইসিইউ তে কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু আফজাল শরীফের সাথে কথা বলা টা প্রয়োজন সে এখানে কিভাবে আসলো তারা তো দুবাইয়ে ছিল?? আর শিরীন কোথায় এখন? আর অনিত কে কোথায় পাওয়া যাবে এখন,,? অনিতের খোঁজ নেওয়া টা সব থেকে বড় জরুরি।
মেহমেত ডাক্তারের কাছে যায় যে আফজাল শরীফের ট্রিটমেন্ট করছে। যেন কিছু টা সময় তাদের দেওয়া হয় আফজাল শরীফের সাথে কথা বলার জন্য!!
নিশান বাইরের বড় কাঁচের জানালা দিয়ে, আফজাল শরীফের দিকে তাকিয়ে আছে। বড্ড ঘৃনা ধরে যায় এই লোক টাকে দেখলে। হুমায়ূন আহমেদ স্যার বলেছিলেন যে পৃথিবী খারাপ পুরুষ পাওয়া গেলেও একটাও নাকি খারাপ বাবা নেই,কথা টা ডাহা মিথ্যা,যার জলজ্যান্ত প্রমাণ আফজাল শরীফ নিজে।
আপন মেয়েকে নিজের চোখের সামনে হত্যা করতে দেখেও আসল খুনির বিষয়ে সে কোন কথা বলেনি।
বরং কত সুন্দর না নাটক করে গেছে নিশান কে ফাঁসানোর জন্য। এক জন নিখুঁত অভিনেতার পুরস্কার টা আফজাল শরীফের পাওয়া উচিত। বয়েসের ভারে এখন সে শুধু মাত্র বৃদ্ধ নয়,এক দম সজ্জা সাহি অবস্থা তার। যত টুকু নিশান স্পষ্ট দেখা পাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে,তার শরীরে অনেক বড় বড় গাছ বের হয়েছে। হয়তো তার পাপের শাস্তি শরীর ফুটে বের হয়েছে।
মেহমেত ডাক্তারের সাথে কথা বলে, এবং তিনি ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে নারাজ। আফজাল শরীফ এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার শরীরের ঘা ফুটে বের হয়েছে। যেকোন সময় তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে পারেন।
(এই গল্পের মূল লেখিকার নাম মায়া,তার রিয়াল আইডির নাম Maya anha)
শেষ নিঃশ্বাস গুনছেন তিনি এখন। আর তার ফ্যামিলির লোক জন কেউ তাকে এক বারের জন্য দেখতে আসেনি গত ২মাস থেকে তিনি এই হসপিটালে আছেন। উনাকে এক ভদ্রলোক এসে ভর্তি করে দিয়ে গেছেন। যাবতীয় খরচের অবশ্য কোন ত্রুটি হয়নি।তবে এমন সিরিয়াস পেসেন্ট কে কেউ কিভাবে একলা ছাড়তে সেটা ভেবেই পায় না ডক্টর।পরিশেষে আফসোসের স্বরে বলছেন যে ধনী পরিবারের সদস্যদের শেষ বয়সে এমন দুর্গিতেই একলা মৃত্যুবরণ করতে হয়। তা সে নিজ চোখে রহরহ দেখেছেন। মেহমেতের বারংবারে রিকুয়েস্টে ১০ মিনিটের জন্য তাদের ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয় ডাক্তার।
নিশান আর মেহমেত আইসিইউ এর ভিতরে প্রবেশ করে,, আফজাল শরীফের অবস্থা খুবই খারাপ। আফজাল শরীফের বেডের কাছে যেতেই শরীরের ঘা থেকে এক বিশ্রি ভ্যাবসা গন্ধ নাকে এসে পড়ে। মেহমেত আর নিশানের গা গুলিয়ে আসে।
মেহমেত আফজাল শরীফ কে নরম স্বরে ডাকে,, আংকেল!! আংকেল শুনতে পাচ্ছেন আপনি?? আমি মেহমেত! আফজাল শরীফ খুব কষ্টে পিটপিট করে চোখ খোলে।
চলবে _____?????#ক্যাসিনো
#পর্ব_৪৮
©লেখিকা_মায়া
আফজাল শরীফ পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। সামনে থাকা ব্যাক্তিকে সে স্পষ্ট দেখতে পারছে না। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আছে তার। মেহমেত একটু ঝুঁকে , আবার ও বলে,, আংকেল শুনতে পাচ্ছেন আপনি??
আফজাল শরীফ নিজের দুর্বল হাত উঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তুলতে পারছেন না। হাত কাপছে তার। অক্সিজেন মাস্ক টা খুলার চেষ্টা করলেন তিনি..
আংকেল কেমন আছেন আপনি?? আমি মেহমেত চিনতে পারছেন আমায়??
আফজাল শরীফ অঃস্ফুট আওয়াজে ক্ষীণ স্বরে বলে মেহমেত,,,হ্যাঁ আংকেল চিনতে পারছেন?? আফজাল শরীফ কিছু না বলেই কেঁদে উঠলেন। তার পর কাঁদতে কাঁদতে বললেন হ্যাঁ চিনেছি আমি। বাবা তুমি এখানে আমার কাছে এসেছো? কেউ আমায় দেখতে আসে না। সেই রেখে গেছে কেউ আসেনা!
মেহমেত আফজাল শরীফ কে নরম স্বরে বললেন,, আংকেল আমি একা আসিনি আমার সাথে নিশান ও এসেছে। আপনার সাথে কিছু কথা বলতে। নিশান নামটা শুনেই, আফজাল শরীফ ভয়ে চোখ বড় বড় করে নিলেন। তার পর কেমন গোঙানির আওয়াজ করতে লাগলেন। নিশান ভয় পেয়ে গেলেন,, দ্রুত নার্স আর ডাক্তার কে ডাকলেন।
ডাক্তার এসে এমন অবস্থা দেখে দ্রুত চেকাপ করে ঘুমের ইনজেকশন দেয় আফজাল শরীফ কে। অনেক টা ঘাবড়ে যাওয়ার দরুন এমন হাল হয়েছে তার। আগামী ৩ঘন্টা তিনি ঘুমাবেন। পেসেন্টের এমন সিরিয়াস কন্ডিশন দেখে,ডাক্তার তাদের চলে যেতে বললেন। কিন্তু নিশান নাছরবান্দা দের মতো বলে,তারা কথা শেষ না করে যাবে না। ডাক্তার কে বুঝানো যাচ্ছে না। পরবর্তীতে মিনতির স্বরে বললেন। উনার সাথে দেখা করাটা কত টা জরুরি। তারা শুধু মাত্র উনার সাথে কিছু কথা বলার জন্য বাংলাদেশ থেকে এসেছে।
ডাক্তার ভিষন চিন্তায় পড়ে গেলেন। আবার যদি পেসেন্ট ওদের দেখে ওমন রিয়াক্ট করে আর বাই চান্স যদি কিছু হয়ে যায় উনার তো এর দায়ভার কে নিবে। মেহমেত তখন বললেন, আপনি নিজেই তো বললেন,উনার অবস্থা নাকি অনেক খারাপ! নাহলে আপনি নিজেও আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন কিন্তু দয়া করে না বলবেন না!! এতে অনেক কিছু জরিয়ে আছে প্লিজ।
ডাক্তার আর কিছুই বললেন না। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে এখন। মেহমেত নিশান কে নিয়ে রিসোর্টে যেতে চায়। সে কিছুই খায়নি এখন অব্দি। কিন্তু নিশান কোথাও যেতে নারাজ। সে অনিত আর শিরীনের খোঁজ না পাওয়া অব্দি এখান থেকে যাবে না।
তিন ঘণ্টার অবসান ঘটিয়ে আফজাল শরীফের জ্ঞান ফিরে। আরো প্রায় ২০মিনিট পর আবার আইসিইউ তে প্রবেশ করে তারা। ডাক্তার নিজেও বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। মেহমেত কে নিশান, নিজের ফোন দিয়ে আফজাল শরীফের সাথে কথোপকথন ভিডিও রেকর্ডিং করতে বললেন। মরিয়মের কাজে লাগতে পারে।
আফজাল শরীফ নিশানের দিকে তাকিয়ে অঝরে কাঁদতে লাগলেন। নিশানের বড্ড মায়া হলেন আফজাল শরীফ কে এই ভাবে কাঁদতে দেখে। উনার মুখে যে দাম্ভিকতা ১০বছর কি আগে দেখেছিল! তা এখন উনার চেহারা তে ছিটে ফোটার জায়গায় ও নেই। হয়তো এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ পৃথিবীতে কারোর অহংকার,দাম্ভিকতা, হিংসে,এসব কখনোই চিরস্থায়ী ভাবে থাকে না। আল্লাহ কখন কাকে কোন ধনী ব্যক্তি কে ফকির করে দিবে আর কখন কোন ফকির কে ধনী করে দিবেন তা আল্লাহ ভালো জানেন। তাই কখনোই এমন ভাবে চলতে নেয় যে পরবর্তী তে তার অবস্থানের অবনতি হলে মানুষ হাসাহাসি করে। জীবন সে তো কচু পাতার উপর শিশির বিন্দুর মত ক্ষনস্থায়ী।
আফজাল শরীফ হাত দিয়ে নিশানের হাত ধরতে চাইলো। নিশান নিজের হাত টা দিয়ে আফজাল শরীফের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিলেন। তার পর আফজাল শরীফ নিশানের হাত টা কপালে ঠেকিয়ে আবার করুন স্বরে কাঁদতে আরম্ভ করলেন । কাঁদতে কাঁদতে নিশানের কাছে মাফ চাচ্ছেন তিনি। খুব আফসোস করছেন নিজের এমন পাপের সাম্রাজ্যের জন্য। একটা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যদি তার হতো,শাহানা আর শিরীন কে নিয়ে তার একটা ভালো জীবন হতে পারতো। আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছে নিজের বাবাকে। কেমন সন্তান ছিলেন তিনি? নিজের বাবাকে পর্যন্ত ছার দেয়নি। হাজার হাজার পরিবার কে কান্নার পানিতে ভাসিয়েছেন তিনি। তার এই কঠিন শাস্তি ভোগ করছেন তিনি। আল্লাহ হয়তো এর চেয়ে লক্ষ কুটি গুন কষ্ট তার জন্য জাহান্নামে ব্যাবস্থা করে রেখেছেন।
আফজাল শরীফ নিশানের কাছে বার বার মাফ চাচ্ছেন।
নিশান আফজাল শরীফ কে শান্ত হতে বললেন! তার পর কন্ঠ ঝাঁঝালো করে বলে,মাফ আমি কখনোই করবো না কাউকে যাদের জন্য আমি নিঃস্ব হয়েছি । আমার সব শেষ হয়ে গেছে তাদের আমি কখনোই ক্ষমা করবো না। আমি শুধু এতো টুকু জানতে চাই,অনিত এখন কোথায় আছে আর শিরীন কোথায় আছে?? তিনি আদৌও কি বেঁচে আছেন???
আফজাল শরীফ ক্ষীণ নিঃশ্বাস নেন। নিঃশ্বাস নিতেও তার খুব কষ্ট হচ্ছে,কথা বলার মাঝখানে মাঝখানে, অক্সিজেন মাস্ক টা মুখে দিচ্ছিলেন আবার একটু পর খুলে কথা বলছিলেন।
আমি সব বলবো! তার আগে নিজের করা পাপের সাম্রাজ্যের এক অংশের প্রায়শ্চিত্য আমি করে যেতে চায়। এই পাপের সাম্রাজ্যের বিনাশ ঘটিয়ে। নিশান কে অতি সন্তর্পনে বলে,
বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার একটা লোকার রয়েছে,, আর সেই লোকারে অনেক ফাইল আছে,আর অনেক এভিডেন্স রয়েছে যা দ্বারা তুমি জানতে পারবে,কে কে আমাদের দেশের এবং বাইরের দেশে এই পাচার কারী দলের সঙ্গে আছে। ঐসব প্রমান দিয়ে অতি সহজেই সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে ।
আফজাল শরীফের কথা বলতে ভিষন কষ্ট হচ্ছে তা নিশান এবং মেহমেত দুইজনেই বুঝতে পারছে। নিশান অক্সিজেন মাস্ক টা নিতে বললেন আবার। কিন্তু আফজাল শরীফ কথা না শুনে টেনে টেনে নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন। আমার হাতে বেশি সময় নেই । হয়তো আমার রব আমাকে দিয়ে শেষ একটা ভালো কাজ করাতে চেয়েছিলেন দেখেই এতো দিন হায়াত রেখেছেন। আমি যেটা বলছি তা মন দিয়ে শুনো। লোকারের পাসওয়ার্ড টা শুনো আগে। ৬৫৭৮৯****
এই পাসওয়ার্ডে লোকার খুলে যাবে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা!! শিরীন কে অনিত অন্ধকার গলিতে রেখেছে!! নিশান উত্তেজিত হয়ে বলে অন্ধকার গলি মানে?? আর অনিত কে কোথায় পাওয়া যাবে?? প্লিজ বলুন??
অনিত এখন ব্যাংকক আছে। ব্যাংককের কোথায় আছে সে? আফজাল শরীফ একটু ভাবলেন তার পর আবার বললেন,, অন্ধকার গলিতে তুমি আরো এক জন কে পাবে!! সে হলো , আফজাল শরীফ এবার জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছেন! নিশানের হাত সে খামচে ধরে রেখেছে। চোখ উল্টিয়ে ফেলছে। নিশান ডাক্তার কে ভিতরে আসতে বলে তারাতারি। কাকে পাবো আমি অন্ধকার গলিতে?? অনিত কোন জায়গায় আছে বলুন প্লিজ।
শেষ কথা তিনি বললেন,আমাকে মাফ করে দিও,আমি বাবা হয়ে আমার মেয়ে কে বাঁচাতে পারিনি।
আফজাল শরীফের ছটফট করা শরীর ক্রমশ কমে আসছে, চোখ দুটো যেন কটর থেকে বেরিয়ে আসবে এমন ভাবে ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আস্তে আস্তে তার শরীর থেকে প্রান পাখি টা উরাল দিলেন।ডাক্তার নার্স কিছুই করতে পারলেন না।
নিশানের হাত টাও আলগা হয়ে আছে। কিন্তু এখনো আফজাল শরীফের হাত টা নিশানের মুষ্টিবদ্ধে রয়েছে। শেষ কথা টা তার কানে ভাসছে,বাবা হয়ে মেয়ে কে বাঁচাতে পারিনি।
নিশানের চোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। এই দুই ফোঁটা পানি আফজাল শরীফের মৃত্যুতে মানবতার খাতিরে?? নাকি অতিরিক্ত ঘৃনার দরুন আফজাল শরীফের এমন কষ্টের মৃত্যু তে তার আত্মার প্রশান্তির এই দুই ফোঁটা চোখের পানি। তা নিশান বুঝে উঠতে পারলো না।
নিশান আর মেহমেত আরো দুই দিন অপেক্ষা করলেন!! যদি বাবার মৃত্যু তে অনিত কিংবা তার পরিবারের কেউ তো আসতে পারে। কিন্তু হতাশ হলেন যখন ডাক্তার ফোন দিয়ে বললেন যে কেউ তাদের ফোন ধরেনি। যেই নাম্বার হসপিটাল থেকে পেয়েছে তারা।
শেষ পর্যন্ত নিশান আর মেহমেত,তারাই আফজাল শরীফের দাফন কাফনের ব্যাবস্থা করলেন।
নিশান আর মেহমেত রাতের ফ্লাইটে আবার চলে আসে,,আর প্রথমে তারা যায় সেই লোকারে। এবং লোকার থেকে অনেক অনেক ফাইল আর কিছু ছবি রয়েছে। দেশের অনেক বড় বড় নেতারা যে তাদের সাথে ছিলেন তা এই ছবি গুলোই প্রমান করে।
মরিয়ম কে ফাইল গুলো দেখালে সে ভিষন খুশি হয়। এই গুলো তো সব থেকে বড় প্রমান তাদের। আর নিশান কে মরিয়ম বলে,,সে সকল সাক্ষীদের সাথে কথা বলেছে আর তারা সবাই জানের ভয়ে আর টাকার লোভে পড়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন তা তারা স্বীকার করেছে। আর একটা প্রমান সে পেয়েছে তা নিশানের হাতে তুলে দিলো মরিয়ম। শাহানা আর তার বিয়ের কাবিন নামা।
নিশান অবাক চোখে তাকিয়ে বলে
এটা কি ভাবে পেলে তুমি??
সে অনেক কাহিনী কাজী অফিস টাও অনিতের ভয়ে বন্ধ করে দেয় তারা। যেন আপনি প্রমান না করতে পারেন যে শাহানা আপনার স্ত্রী ছিলেন।
আমি সেই কাজী অফিসের খোঁজেই সেখানেই যায়। তখন এক জন বৃদ্ধ পান ওয়ালার কাছ থেকে জানতে পারি কাজী সাহেব গ্রামে চলে গেছেন। আমি তার ঠিকানা টা কোন ভাবে ম্যানেজ করে চলে যাই। আর উনি তো মারা গেছেন ৫বছর আগেই। তার ছেলের কাছে অনেক অনুরোধ করার পর পুরোনো কাগজ পত্র গুলো ঘেঁটে পাওয়া যায়। কাজী সাহেব যদি ১০বছরের আগের কাগজ গুলো যত্ন করে না রাখতেন তো আমি কখনোই এটা পেতাম না।
নিশান কষ্ট ভরা একটা হাসি দিল। যদি কেউ ১০বছর আগে তার কেইস টা দেখতো তাহলে হয়তো সে এতো দিন জেল হাজতে থাকতো না। নিশান চিন্তিত স্বরে বললেন,,সবাই তার পাপের ফল ভোগ করলেও এখনো অনিত কে
হাতের নাগালে পাওয়া গেল না। ব্যাংকক রয়েছে সে। কিন্তু ব্যাংকক কোথায় খুজবো তাকে। আপনি এতো চিন্তা করছেন কেন?? সাপ কে গর্ত থেকে বের করার জন্য তো আমাদের কাছে বীণ রয়েছে।
নিশান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে বীণ মানে??
মরিয়ম ফাইল গুলো দেখিয়ে বলে এই গুলো!! কান টানলে মাথা এমনিতেই আসবে চিন্তা করো না। নিশান মুচকি হাসলো।
তার পর আবার চিন্তা মগ্ন কন্ঠে বললেন। আফজাল শরীফের একটা কথার মানে এখনো বুঝতে পারলাম না আমি। শাহানার মাকে নাকি অন্ধকার গলিতে রাখা হয়েছে। আর এই অন্ধকার গলি টা আবার কোন জায়গা?? এবং সাথে নাকি আরো এক জন কে পাবো আমি কে সে???
মরিয়ম নিজে নাম টা উচ্চারণ করলো বেশ কয়েক বার। অন্ধকার গলি!! এই ধরনের নাম তো পতিতালয়দের হতে পারে!! হ্যাঁ পতিতালয় হবে। তাদের মতো মানুষরা এমন জায়গায় তেই শাহানার মাকে রাখতে পারে। কিন্তু এটা কোন জায়গা?? এটা নিয়ে যদি খোঁজ করতে যায় তো,, লালকুঠিরে গেলে হয়তো কোন পথ পাওয়া যেতে পারে।
১k+ লাইক কমেন্ট চাই এই পোস্টে।
চলবে _____?????#ক্যাসিনো
#পর্ব_৪৯
©লেখিকা_মায়া
আজ লালকুঠিরে উৎসব উৎসব লাগছে,, ঘরের সব জায়গায় ঝিকঝাক বাতি জ্বলছে। সবাই সাজ গোজে ব্যাস্ত। কারন আজ লালকুঠিরে ধনী পরিবারের ছেলেরা এখানে আসতে চেয়েছে। ধনী পরিবারের পুরুষ মানেই আজ ৩গুন টাকা পাওয়া যাবে।
অনেক গুলো ছেলে দের মাঝে শাপলা বসে আছে। তাদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে,আর ড্রিংক করছে। এই ছেলে গুলোর জন্যই আজ লালকুঠির এতো সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন ঘর থেকে মেয়েরা উঁকি ঝুঁকি মারছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
সবাই আনন্দে মেতে থাকলেও। মহুয়া ঘর অন্ধকার করে জানালা ধরে বাইরে তাকিয়ে আছে। তার মন ভালো নেই। এখানে এখন তার দমবন্ধ হয়ে আসে। সতেজ নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে করে তার। এখান থেকে বের হওয়ার জন্য মন টা ছটফট করে, মাঝেমধ্যে আত্মহত্যা করার ইচ্ছে হয়। কিন্তু মরতে ভয় লাগে খুব। জীবনে কোন ভালো কাজ করতে পারে নাই। আল্লহর সামনে কি মুখ নিয়ে যাবে সে?? তার উপর আবার আত্মহত্যা।
মহুয়া হাঁপিয়ে উঠেছে এই সব ভাবনায়।
চোখের নোনা জল প্রবাহিত হচ্ছে তার।
এরি মধ্যে ঘরে কারো প্রবেশ বুঝতে পেরে মহুয়া চোখ মুছে নেয়।
শাপলা ভারী কন্ঠে মহুয়া কে বলে,কি রে মহুয়া ঘর এমন অন্ধকার করে রেখেছিস কেন?? শাপলা লাইট জ্বালিয়ে দেখে মহুয়া এলোমেলো শাড়িতে বিদ্ধস্ত চেহারায় দাঁড়িয়ে আছে আনমনে। শাপলা মহুয়ার কাছে গিয়ে ছোট করে শ্বাস নিয়ে বললো,,কি রে তৈরি হসনি এখনো!! আরে আজ তো বড় ঘরের ছেলে পেলে এসেছে আর তাদের মধ্যে এক জন পুরোনো ছেলে ও আছে যে সব থেকে ধনী। যার সাথে এর আগেও তুই থেকেছিস। অনান্য মেয়ে গুলো তো চাতক পাখির মতো চাচ্ছে যে ওদের কাউকে পছন্দ করুক। কিন্তু এতো মেয়ের মাঝে ঐ ছেলে তোকে চাচ্ছে। তুই ৩০ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে নে আমি তার পর ছেলে টাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কোন ছেলের কথা বলছো তুমি?? আদি নামের ছেলে টা?? হ্যাঁ হ্যাঁ আদি সাহেব।
মহুয়া ক্ষীণ নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,,শাপলা খালা ভালো লাগছে না আজ আমার। তুমি আমাকে ছেড়ে দাও আজকে। অন্য কোন মেয়ের ঘরে পাঠিয়ে দাও। কেন হঠাৎ আবার কি হলো তোর!! আরে ৩গুন টাকা দিতে চাচ্ছে।
শাপলা খালা ৫গুন টাকা দিতে চাইলে ও আমার ইচ্ছে করছে না। আমার শরীর টা খারাপ লাগছে। প্লিজ আজকের জন্য অনন্ত রেহায় দাও।
শাপলা আর মহুয়ার মাঝে কিছু ক্ষন দর কষাকষি চললো । তার পর কি মনে হলো শাপলা কিঞ্চিৎ রাগ দেখিয়ে উঠে চলে যেতে লাগলো। মহুয়া তখন করুন স্বরে খালা বলে ডাক দিল। শাপলা চোখ ছোট ছোট করে পিছনে তাকালো। অনুয়ের সাথে বলে,,খালা এক বোতল বিষ হবে গো?? আমার এই জায়গায় আর ভালো লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। একটা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন কেন আমাদের হলো না খালা??
শাপলা সন্দিহান চোখে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষন মহুয়ার দিকে তার পর বললো কি হয়েছে বলতো তোর যেদিন থেকে মরিয়ম তোদের মুক্তির দাবিতে আমার সাথে কথা বলেছিল সেদিন থেকে দেখছি তুই অনেক বদলে গেছিস !! কি হয়েছে তোর??
মহুয়া হঠাৎ শাপলার হাত ধরে মিনতির স্বরে বলে,,খালা আমাকে এখান থেকে বের করে দাও না গো তুমি?? কিশোরীতে পা দেওয়ার সাথে সাথে নিজের বাবা আমাকে এখানে রেখে চলে গেছে। অবশ্য নিজের বাবা হলে সেটা আর করতো না। সৎ বাবা,,মা মারা যাওয়ার পর ঘারের বুঝা কমাতে এই নরক পুরীতে বিক্রি করে দিয়েছে। সেই কিশোরী বয়স থেকে পুরুষের ছোঁয়ায় আমি অতিষ্ঠ। আমার আর ভালো লাগে না কারো ছোঁয়া।
আমাকে দয়া করে এখান থেকে বের করে দাও খালা!!!
শাপলা মুচকি হাসি দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার পর মুখে হাসি বজায় রেখেই জবাব দিলেন। এতো টা সহজ যদি এখান থেকে বের হওয়া যেতো? তাহলে বিশ্বাস কর মহুয়া আমিই এখান থেকে বের হয়ে যেতাম,,আর সবাই কে মুক্তি করে দিতাম। কিন্তু পরক্ষনেই ভাবি এখান থেকে বের হয়ে আমরা কি করবো?? সমাজ আমাদের মেনে নিবে?? আমাদের প্রাপ্য সম্মান দিবে তারা?? নাহ কেউ আমাদের মেনে নিবে না। এখানে হয়তো এই টা নিয়ে দুঃখ হচ্ছে তুই আধমরা বলে, কিন্তু এখান থেকে বের হওয়ার পর সমাজের ছি ছি তে একে বারে মরে যাবি। এই যে ধনী পরিবারের দুলাল আসে না?? এরাই আমাদের প্রথমে মারবে!! কারন তাদের আসল রূপ যে আমাদের জানা।
বড় বড় নেতা তারাও পতিতা বলে,জেলে ভরে দিবে। যারাও এসেছিল এক দিন মনের খায়েশ মিটাতে। আমার কথা বুঝেছিস তুই??
মরিয়ম হয়তো তোদের টাকা দিয়ে মুক্ত করে দিবে,,রুটি রোজগারের জন্য কোন কাজ দিল। কিন্তু সম্মান তো কিনে দিতে পারবে না তোদের!! টাকা দিয়ে তো আর সম্মান পাওয়া যায় না।
মহুয়ার কান্নার বেগে তার ঠোঁট তিরতির করে কাপছে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে তার। মাটিতে ধপ করে বসে পড়লো সে। নিঃশব্দে কাঁদছে সে। মুখে আওয়াজ নেই। কিন্তু তার ভিতর টা আত্মচিৎকারে ফেটে পড়ছে। জলন্ত আগুনের কয়লার মতো তার কষ্টের দহনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে তার ভিতর টা। মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে তার আজ। পরকালে যদি এক বার মায়ের সাথে দেখা হয় তো আমি তাকে বলবো,, কেন এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে একা রেখে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। কেন?? তাকে সঙ্গে নিল না। তাহলে তো আর এমন নর্দমার জীবন তাকে ভোগ করতে হতো না।
পতিতালয়ের হয়তো অধিকাংশ নারীর জীবনে এমন অভিযোগ রয়েছে। কেন এমন জীবন পেয়েছে তারা?? নিঃশব্দে হয়তো তারাও চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদে। কোন অলৌকিক ঘটনায় তারাও হয়তো মুক্তি পাওয়ার ক্ষীণ আশা বুকে চেপে রাখে।
ভোর বেলা শাপলার কাঁচা ঘুম টা ভেঙে যায়। কারো ফোনের রিংটোনে। চেহারা হাবভাব বিরক্তিকর করে, ফোনের স্ক্রিনে মরিয়ম নাম টা দেখে সব বিরক্তি নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। শাপলা কিছু টা ঘাবড়ে যায় এতো সকালে মরিয়মের ফোন?? কোন বিপদ হলো না তো? চট জলদি ফোন টা ধরতে যেয়ে কেটে গেল। আবার রিং বেজে উঠার সাথে সাথে শাপলা ফোন রিভিউ করলো।
সেই মধুময় কন্ঠে মরিয়ম সালাম দিয়ে আম্মা বলে ডাক দেয়। শাপলা সালামের উত্তর দেয় মুচকি হেসে। তার পর জানতে চায় এতো সকালে ফোন দেওয়ার উদ্দেশ্যে কি?? মরিয়ম জানাই আজ ১১টায় তারা লালকুঠিরে আসছে। একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য।
শাপলা বেশ খুশি মনে আসতে বলে
শাপলা নিশান মেহমেত আর মরিয়ম সামনাসামনি বসে আছে। নিশান কে দেখে বেশ চমকালেন শাপলা । মরিয়ম ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ভালো করে সব খুলে বললো শাপলা কে। সব শুনে বেশ আফসোস করলেন শাপলা। তার পর আসল কথায় আসলেন। যে অন্ধকার গলি সম্পর্কে সে কিছু জানে কি না??
অন্ধকার গলি নাম টা শুনতেই শাপলা একটু ঘাবড়ালেন। তার পর বললো,, অন্ধকার গলি এটা তো একটা পতিতাপল্লী, এটা দেশের ভেতরে থাকলেও এটার চালনা দেশের কোন লোকের হাতে নেই। এটা বাইরের দেশের প্রভাবশালী এক ব্যাক্তি চালনা করে।
নিশান উত্তেজিত হয়ে বলে, কোথায় এটা ঠিকানা দেন আমায়।
শাপলা চিন্তিত স্বরে বললেন,,হয়তো তোমরা সেখানে যেতে পারবে কিন্তু সেখান থেকে কাউকে উদ্ধার করা টা অসম্ভব। আর অন্ধকার গলি তে ইচ্ছে মতো প্রবেশ করা যায় না। এর জন্য আগে থেকে বুকিং নিতে হয়। মাত্র এক ঘণ্টার জন্য তারা ১লক্ষ টাকা নেয় ।
মরিয়ম ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো। এতো ডিমান্ড কেন অন্ধকার গলির?? কারন অন্ধকার গলিতে অনেক সেলিব্রিটি দের পাওয়া যায়।
।।
মেহমেত তখন বলে,, কিন্তু আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। মরিয়মের হাতে মাত্র আর দুই দিন সময় আছে। এর মধ্যে আমাদের শিরীন কে উদ্ধার করতে হবে। নিশান চিন্তিত স্বরে বলে
আর শিরীনের সাথে আর কাকে আমরা পাবো তাকেও আমাদের বের করতে হবে।
হয়তো মরিয়মের কাছে অনেক তথ্য প্রমাণাদি আছে। এই দিয়ে সব কিছু ঠিক করা যাবে কিন্তু যদি ক্রিমিনাল জানতে পারে সব যে তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাহলে শিরীন আর ঐ আগন্তকের ক্ষতি করতে পারে।
শাপলা কিছু ক্ষন ভাবলো তার পর বললো। আমার তাদের সাথে কিছু টা সুখ্যাতি আছে। কারন এখান থেকে অনেক মেয়েকে তারা ভাড়া করতো মাঝে মধ্যে। কিন্তু আমি তোমাদের সাথে তো যেতে পারবো না।
কিন্তু মহুয়া কে তারা চিনে। মহুয়া কে দিয়ে,, নিশান আর মেহমেত কে পাঠানো যেতে পারে।
।
।
মেহমেত আবার ভেবে বললো। আচ্ছা আমরা পুলিশ দ্বারা রেট ফেলালে কেমন হয়। মরিয়ম তখন বলে,,পাগল হয়েছেন?? তাদের অনেক বড় বড় লোকের সাথে হাত রয়েছে। এটা করলে বিপদে আমরা পড়বো বেশি।
তার থেকে ভালো আগে আমরা অন্ধকার গলিতে যায় পরিবেশ টা ভালো করে বুঝে আসি। দরকার পড়লে পালিয়ে নিয়ে আসা হবে ওদের। ।
আম্মা আমাদের হাতে সময় নেয় মহুয়া কে ডেকে আনো। আর আমরা এখনি বের হবো।
শাপলা আগে অন্ধকার গলিতে ফোন করলো যে তাদের কিছু কাস্টমার আজ সেখানে যেতে চাচ্ছে সাথে মহুয়া ও থাকবে। বেশ কিছু ক্ষন কথা বলার পর। শাপলা গম্ভির গলায় বললো। রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারন রাতে ছাড়া তারা তোমাদের এলাও করবে না।
ঠিক আছে,, তাহলে আমরা মহুয়া কে নিয়ে যাই রাতে বের হবো আমরা???
শাপলা মহুয়া কে ডাকলো। ধীরস্থির পায়ে মহুয়া হেঁটে আসছে। সামনে বসে থাকা মরিয়ম কে দেখে মুচকি হাসলো সে। তার পর নিশানের দিকে চোখ যেতেই। বুকের ধুকপুকানি টা বাড়তে লাগলো তার।
চলবে ____????..