গোধূলি বেলায় তুমি এসেছিলে ২ পর্ব ১০+১১

#গোধূলি_বেলায়_তুমি_এসেছিলে
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ১০+১১ (২য় খণ্ড)

হাতে তুলসী চায়ের কাপ নিয়ে অভিরূপের ঘরের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে রাগিনী। আজ অভিরূপ কেন যেন নিজ থেকে ঘুম থেকে উঠে বাহিরে আসেনি এখনো অবধি। নোমানের কাছ থেকে জানতে পারল গত রাতে নাকি অভিরূপ তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলেছিল সে ঘরে একা থাকতে চায়। নোমান অভিরূপের জেদের সাথে কোনোকালেই পেরে ওঠে না। ফলে অন্যঘরে চলে গিয়েছিল সৈয়দকে বলে। এসব শুনে রাগিনী চিন্তিত হয়। এমনিতেই লোকটির মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তার উপর রাগিনীর বাড়িতেই এই বিখ্যাত এবং সুপরিচিত লোকটি এসে এত ক’ষ্ট ভোগ করছে ভাবতেই অন্যরকম অনুশোচনা বোধ হয় রাগিনীর। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সে। নোমান ফ্রেশ হতে চলে যাওয়ায় নিজেই চায়ের কাপ নিয়ে অভিরূপের ঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারও তো একটা দায়িত্ব আছে!

ঘরের দরজাটা ভিড়িয়ে দেওয়া ছিল। লক করা হয়নি। রাগিনী দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজায় থা’বা দিতে গেলে এক থা’বায় মেলে যায় দরজা। কিছুটা চমকে উঠলেও পরবর্তীতে নিজেকে সামলে নেয় রাগিনী। সামনেই ছিল বিছানা। প্রথমেই সেখানে নজর পড়ে। কপালে ভেজা রুমাল দিয়ে থাকা নিজের মতোই এক হুবহু অস্তিত্ব দেখতে পেয়ে শিউরে উঠল সে। শরীরের পুরোটা সাদা চাদরে আবৃত। কপাল বাদে মুখের অর্ধেক অংশ বের হয়ে রয়েছে। এ যেন তারই প্রতিবিম্ব। থরথর করে কেঁপে ওঠে রাগিনী। তখনি চোখে পড়ে বেডের নিচে মাথা হেলিয়ে বসে থাকা অভিরূপকে। সে অভিরূপকে ডাকবে তারও শক্তি যেন পাচ্ছে না। সামনে থাকা তারই ন্যায় অন্য নারীটি সত্য নাকি ভ্রম ভাবতে ভাবতেই হাতে পড়ল গরম চায়ের কিছু অংশ। আকস্মিকতায় হুড়মুড়িয়ে চায়ের কাপটা পড়ে গেল নিচে। বিকট শব্দ হলো। সেই শব্দে ঢুলতে থাকা অভিরূপের ঘুম ভাঙল। চমকে উঠে দরজার দিকে ঘুম জড়ানো দৃষ্টিতে রাগিনীর আতঙ্কিত চাহনি দেখে নিলো একবার। তারপর লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আরেকবার জ্ঞান হারা রূপাকে দেখল। তার বুঝতে দেরি হলো না রাগিনীর এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ! এখন যদি রাগিনী চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দেয় তাহলে তো সব শেষ। এই ভেবেই আঁতকে উঠল সে। রাগিনীকে পিছু সরতে দেখে দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গেলে রাগিনী ছুট লাগায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার হাত ধরে ফেলে অভিরূপ। রাগিনী নিজেকে ছাড়াতে চায় আর কিছু বলতে উদ্যত হওয়ার আগেই অভিরূপ নিচু গলায় বলে বসে,
“প্লিজ রাগিনী! কাউকে কিছু বলো না। ওর কথা কাউকে জানিয়ে দিও না এখনি।”

অভিরূপের অসহায় কণ্ঠস্বর থামিয়ে দিলো রাগিনীকে। নিজেকে শান্ত করে জবাবে বলল,
“সি ইজ অ্যা ক্রি’মি/নাল। শহরে ওর জন্য আ/তঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সে আপনাকেও মা/রার চেষ্টা করেছে। এতকিছুর পরেও?”

“হ্যাঁ এতকিছুর পরেও। এতকিছুর পরেও আমি তাকে ওই রাস্তায় ফেলে রেখে আসতে পারতাম না। একটা অসহায় নির্জীব বস্তুর মতো ও গতরাতে রাস্তায় পড়ে ছিল। আর সেটা দেখেও না দেখার ভান করে চলে আসলে আমি দম আঁটকে মা/রা যেতাম রাগিনী।”

রাগিনী হতবাক হলো। কী করে মানুষটা তারই ঘা/তককে আগলে রাখছে তা ঠিক জানা নেই তার। অবশ্য ভালোবাসা শব্দটি যেখানে উপস্থিত থাকে তখন এসব প্রসঙ্গ আনাটা বোধহয় বোকামি! কিন্তু রাগিনী ক্ষ্যান্ত হলো না। ওই বহুরূপী মেয়ের প্রতি তার রয়েছে সংশয়।
“সে যদি অভিনয় করে থাকে তবে? হতেও তো পারে সে সুযোগ খুঁজছে আপনাকে আবারও আ/ক্র/মণ করার?”

“করুক আক্র/মণ। এমনিতে বেঁচেই বা আছি কোথায়? একটু একটু করে আমায় সম্পূর্ণ শুষে নিয়েছে ওই বহুরূপী।”

“তবুও তো তাকে আগলে রাখতে ভুলছেন না!”

“অদ্ভুত মায়াজালে আটকা পড়েছি আমি রাগিনী। বের হওয়ার উপায় পাচ্ছি না।”

রাগিনী স্তব্ধ, বিমূর্ত হয়ে তাকিয়ে রইল কিছু মূহুর্ত অভিরূপের নির্ঘুমে অপ্রসন্ন হওয়া চেহারার দিকে। থমথমে গলায় বলল,
“আমি যতদূর জানতাম আপনি অ/ন্যায় সমর্থন করেন না। ওই মেয়েটাকে আমরা ধরিয়ে দিতে পারলে হয়ত পুরো টিম পুলিশের হাতের নাগালে আসবে। নয়ত কখনোই এই কেইস সলভ হবে না।”

“আমি তাকেও সমর্থন করি না। আমি শুধু ওর জবাব চাই। আমার কিছু প্রশ্নের জবাবদিহি ওকে করতে হবে। আমি নিজেই ওকে পুলিশের কাছে ধ’রিয়ে দেব। ততক্ষণ আমায় একটু বিশ্বাস করে সাহায্য করবে? প্লিজ!”

রাগিনী কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না। সবটা ঝাপসা, অস্পষ্ট লাগছে। নির্বাক হয়ে শূন্য চাহনিতে মাথা নিচু করে ভাবনায় পড়ল।

রাগিনীর বাড়ির সামনে এসে ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলল নয়নতাঁরা। গাড়ির ভেতর থেকেই বাড়িটা একবার দেখেই ঝটপট করে গাড়ি থেমে নামল সে। ধীর পায়ে আনন্দে গদগদ হয়ে ভেতরের দিকে গেল সে। বাহিরে বসে থাকা দারোয়ানকে নিজের সুন্দর কথা দ্বারা বুঝিয়ে দিলো সে রাগিনীর অতি ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। খুব সহজেই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারল সে। সদর দরজায় কলিংবেল চেপে অপেক্ষা করল দরজা খোলার। দরজা কিছুটা সময় নিয়ে খুলল সৈয়দ। নয়নকে দেখেই প্রশ্ন করল,
“আপনাকে তো চিনলাম না। কারে চান?”

“রাগিনী আছে?”

“তা তো আছে। কিন্তু আপনি কে?”

নয়নতাঁরা মৃদু হেঁসে বলল,
“সেই ছোট্টকালে রাগিনীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব। ও আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝত না। এখন শেষমেশ আমায় ভুলে গেল! কী নি/ষ্ঠুর! কিন্তু আমি তো ভালো বান্ধবী! সত্যিকারের বান্ধবী। একদম খাঁটি বান্ধবী। তাই চলে এলাম খোঁজ নিতে। তা কোথায় সে?”

নয়ন যেভাবে কথাগুলো আওড়ালো তাতে কারোরই বিষয়টা অবিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। সৈয়দেরও হলো না। দরজার কাছ থেকে সরে গিয়ে নয়নকে ভেতরে আসার সুযোগ করে দিলো। আর নম্রভাবে বলল,
“বাড়িতেই আছে। একটু আগে মেহমানের ঘরের ওইদিকে গেল দেখলাম।”

“মেহমান? মানে গেস্ট?”

“হু! ওইযে অভিরূপ চৌধুরী!”

নয়নতাঁরা যেন খুশিতে আটখানা! সুযোগ এসেছে এবার। সেদিন এয়ারপোর্টে প্রিয় গায়কের সঙ্গে দেখা হয়নি তো কী হয়েছে! আজ শান্তিতে দেখা করে তারপরেই বাড়ি ফিরবে। সে আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল,
“কোনদিকে সেটা আঙ্কেল? দেখিয়ে দেবেন?”

“আমি তো রান্না বসাইয়া আসছি। বামে যেয়ে লাস্টের ঘরটায় আছে বোধহয়। পেয়ে যাবা। আমি যাই।”

ব্যস্ত সুরে জবাব দিলো সৈয়দ। নয়নতাঁরা এবার আহ্লাদিত হয়ে বলেই ফেলল,
“ভাবিজান, আই নিড ইউর হেল্প!”

ব্যস্ততায় মেতে থাকা সৈয়দ ‘ভাবিজান’ শব্দটি শুনে ফিরে তাকিয়ে সন্দিহান করে বলল,
“কী কইলেন? ভাবিজান কেডা?”

নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই থেমে গিয়ে জিহ্বায় কা’মড় দিয়ে পিছু ফিরল নয়ন। সৈয়দের দিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল,
“ভাবিজান বলব কেন? বান্ধবী বলছি, বান্ধবী। আঙ্কেল, আপনাদের বয়স বেশি হয়েছে। আপনাদের এখন চোখ, কান, নাকে সমস্যা হবে স্বাভাবিক। তার ট্যাগ আমাদের উপর লাগাবেন না প্লিজ!”

কিছুক্ষণ ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকার পর সৈয়দ বুঝলেন সত্যিই হয়ত তারই সমস্যা হয়েছে শুনতে। নয়নতাঁরা হাঁটা লাগিয়েছে হলরুম থেকে বাম দিকটাই। করিডর ধরে চলে যাচ্ছে অভিরূপের ঘরের উদ্দেশ্যে। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর করিডরে বাঁক নেওয়ার আগেই নয়ন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কথোপকথন শুনল। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। বিষয়টা উদ্ভট ঠেকল তার কাছে। মনোযোগ দিয়ে শুনল কিছু কথা। রাগিনী আর অভিরূপের কথা। সে না চাইতেও আড়ালে থেকেই শুনল। মনে হলো সে সামনে গেলে তারা আর এই বিষয়ে আলোচনা করবে না। কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেই অপ্রতিরোধ্য হাঁচি এলো নয়নের। না পেরে শব্দ করে হাঁচি দিতেই ওপাশে থাকা রাগিনী আর অভিরূপের টনক নড়ল। আঁতকে উঠে দ্রুত নয়নতাঁরার সামনে এলো রাগিনী। হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে রইল নয়নের দিকে। সে নিজেও বুঝতে পারল না এই মেয়েটা এই সময় এখানে কী করছে? কোনোরকম কথা শুনে ফেলেনি তো? তবে তো সমস্যা হয়ে যাবে ভীষণ। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার প্রয়াস চালিয়ে রাগিনী বলল,
“তুমি আমার বাড়িতে কখন এলে?”

নয়নতাঁরাও একই রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে গেল। স্বভাবসুলভতা বজার রেখে বলল,
“তুমি চেনো আমাকে?”

“চিনব না কেন? কোহিনূরের থেকে তোমার কথা অনেক শুনেছি।”

“সে নিশ্চয় বলেছে আমি তার অবাধ্য আর অশান্ত বোন?”

রাগিনী হেঁসে ফেলে। তারপর হালকা মাথা দুলায়। নয়ন কোমড়ে একহাত রেখে চক্ষু ছোটো করে বলে,
“সবসময় আমার বদ/নাম ছাড়া কিছুই করতে জানে না। ওর কথা একদম বিশ্বাস করবে না।”

রাগিনী সম্মতি জানিয়ে বলে,
“আচ্ছা করব না।”

বলামাত্র রাগিনী স্বস্তির শ্বাস নেয়। সে ভেবে নেয় নয়ন কিছুই শোনে নি। অভিরূপের দেখা পায় তখন। বেশ সাবলীলভাবে সামনে এনে মুচকি হাসে সে। নয়ন তাকে দেখামাত্র খুশিতে দিশেহারা! বিড়বিড়িয়ে বলে,
“ও মাই গড! মাই ফেবারিট!”

“হ্যালো মিস….”

মিস বলার পর থামে অভিরূপ। নয়নতাঁরার সম্পূর্ণ নাম জানে না সে। নয়নতাঁরা পরক্ষণেই বলে,
“নয়নতাঁরা।”

“মিস নয়নতাঁরা!”

নয়নতাঁরা এবার ওষ্ঠদ্বয় প্রসারিত করে হাসে। সকলে মিলে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। নয়ন বেশ মুগ্ধ হয় অভিরূপের ব্যবহারে। মূহুর্তেই মিশে যাওয়ার মতো ক্ষমতা আছে এই গায়ক সাহেবের মাঝে। ক্ষণিকেই সুন্দর একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ফেলতে পারে। কথার মাঝে সৈয়দ তাদের জন্য কফি নিয়ে হাজির হলো। টেবিলে কফি রাখতে রাখতে বলল,
“রাগিনী মা! তোমার এই বান্ধবী তো তোমারে অনেক মনে করতেছিল। তুমি নাকি তারে ভুলে গেছো!”

হাতে কফি নিতে নিতে থতমত খেয়ে তাকায় রাগিনী। আঁড়চোখে নয়নের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই নয়ন ঠোঁট কামড়ে একহাতে নিজের কান ধরে ইশারায় ক্ষমা চেয়ে নেয় মিথ্যে বলার জন্য। রাগিনী ঠোঁট টিপে হাসে নয়নের কান্ডে। তারপর সৈয়দের উদ্দেশ্যে বলে,
“বড়োই অ/ন্যায় করে ফেলেছি কাকা। সেকারণে সরিও বলে নিয়েছি।”

সৈয়দ হেঁসে চলে গেলে রাগিনী নয়নের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। নয়ন নম্র গলায় বলে,
“তোমাদের বাড়ির সকলের যা গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাব আমি তোমার হবু ননদ হই বললে বিশ্বাস করত? কখনই না। তাই তো মিথ্যে বলেছি।”

রাগিনী আর অভিরূপ এবার শব্দ করেই হেঁসে ওঠে। নয়ন সেসব তোয়াক্কা না করে বলে,
“ভাবি, শোনো না! যেকারণে তোমার বাড়িতে এসেছিলাম, তা হলো তোমার একটা হেল্প লাগবে।”

“ভাবি, ভাবি করছ কেন? তোমার ভাবি আমি এখনো হইনি।”

নয়ন বেশ কনফিডেন্সের সাথে বলল,
“সো হোয়াট? হলে তো তুমিই হবে। এটা আবার ভেবো না যে বিগ ব্রাদার অন্য কাউকে জুটিয়ে ফেলবে। সে যে তোমাকে ইমপ্রেস করতে পেরেছে সেটাই অনেক। তার কপালে মেয়ে টেয়ে নেই। আমি তো ভেবেছিলাম সারাজীবন আমাকে ওই লন্ডনে ভাবি বিহীন কাটিয়ে দিতে হবে।”

রাগিনী হাসি চেপে বলল,
“এখনো তো বিয়ে হয়নি।”

“তাতে কী? আমি অলওয়েজ এডভান্সড। ডক্টর আমার মায়ের ডেলিভারির ডেট দিয়েছিল একমাস পর। অথচ আমি একমাস আগেই পৃথিবীতে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছি। সেই থেকে আমি এডভান্সড।”

নয়নতাঁরার কথায় অভিরূপ অনেকদিন বেশ হাসাহাসি করে। হাসিতে একপ্রকার ফেটে পড়ে। এসবের এক পর্যায়ে নয়ন জেদ ধরে বসল রাগিনীকে সে তার বাড়ি দেখাতে নিয়ে যাবে। রাগিনী যেতে চাইল না। কারণ প্রথমেই বাড়িতে ঝামেলা রয়েছে। বলা যায় না সেই বহুরূপী মেয়েটির কথা। তবে নয়নও ছাড়ার পাত্রী নয়। রাগিনীকে রেডি করে নিয়ে চলল তাদের বাড়ি।

পুরো বাড়িটা সাদা রঙ করা। হয়ত আধুনিকভাবে ডুপ্লেক্স করা নয় তবে দেখে বেশ চোখে ধরার মতো। মেইন গেইটের সামনে সোনালী বর্ণের নেমপ্লেটে লেখা ‘আহমেদ মেনশন’। রাগিনীর বুঝতে সময় লাগল না এটা কোহিনূরের বাবার আমলে করা বাড়ি। যা কোহিনূর ধরে রেখেছে। গেট পেরিয়ে বাগান চোখে না পড়লেও পরিষ্কার একটা সবুজে ভরা খোলা জায়গা চোখে পড়ল। কংক্রিট দিয়ে বানানো সোজা রাস্তা। বাড়ির একসেট চাবি নয়নতাঁরার কাছে থাকায় তার কষ্ট হলো না বাড়িতে ঢুকতে। প্রবেশ করা মাত্র চোখ ধাঁধানো লাল রঙের কার্পেট নিচে বিছিয়ে রাখা নজর কাঁড়ল। কিছুদূর হেঁটেই আঁকাবাঁকা সিঁড়ি বেশ লাগল রাগিনীর কাছে। নয়নতাঁরা রাজ্যের কথা বলে চলেছে। সব ঘর চিনিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই প্রথম ঘরটায় ঢুকে পড়ল তারা। ঘরটা জুড়েই যেন গাম্ভীর্যের আভাস। সম্পূর্ণ সাদা আর নেভি ব্লু রঙের পেইন্ট করা। জিনিসপত্রও প্রয়োজনের বেশি নেই। নয়নতাঁরা এবার দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
“এটা কার ঘর বলো তো?”

“তুমি না বললে কী করে বুঝব?”

“বুঝে নাও। আমার একটা কাজ আছে। তুমি থাকো আমি আসছি।”

বলেই সেখান থেকে একপ্রকার পালিয়েই এলো নয়নতাঁরা। দুষ্টুমি বুদ্ধি খেলেছে তার মাথায়। রাগিনী তাকে ডাকার সুযোগও পেল না। কিছু মূহুর্ত দাঁড়িয়ে থেকে সেও আসার জন্য দরজার দিকে ফিরল। কিন্তু অন্য এক দরজা খোলার শব্দে পেছন ফিরে তাকাল সে। ওয়াশরুম থেকে উদাম গায়ে বেরিয়ে আসা মানবটিকে দেখে তড়িৎ খেলে গেল রাগিনীর সর্বাঙ্গে। বিষম খেল ভীষণভাবে। কাশি চলে এলো। অপর মানুষটিরও চমকিয়ে দর্শনেন্দ্রিয় আকারে বড়ো হলো। রাগিনী অন্যদিকে ফিরে চোখ খিঁচে বন্ধ করে বলল,
“আপনি এখানে কেন?”

চলবে…

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। প্র্যাক্টিকাল চলছে আমার কলেজে। থিওরি লেখালেখির পর গল্প লেখার সময়টা পাচ্ছি না।]

#গোধূলি_বেলায়_তুমি_এসেছিলে
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ১১ (২য় খণ্ড)

“আমার ঘরে আমি থাকব না তো কে থাকবে?”

কোহিনূরের জবাবে নিজের কপালে চা/পড় মা/রে রাগিনী। বুঝতে পারে নয়নের দু;ষ্টু পরিকল্পনা। বাহিরে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে তাকাতেই পেছন থেকে কোহিনূরের কথায় অসংগত দাবি ভেসে এলো এবার।
“এই কোথায় যাও? কাবার্ড থেকে ব্রাউন কালার টিশার্ট তো দিয়ে যাও।”

“আপনার কি হাত নেই? নিজে নিতে পারেন না?”

“এতদিন নিয়েছি বউ ছিল না বলে। আজ নিচ্ছি না বউ এসেছে বলে।”

“বউ আর বানালেন কোথায়?”
রাগিনী এই কথার মধ্যে এক অভিমানের ইঙ্গিত পায় কোহিনূর। মেয়েটা কি তবে অভিমান করছে? কোহিনূর নির্বিঘ্নে বলল,
“বানিয়েছি তো। মনে মনে কতবার বানিয়েছি জানা আছে তোমার? জানলে এই কথা বলতে না। কতবার বউ বানালাম সেই সাথে কতবার চুমু খেলাম, ভালোবাসলাম…”

” হয়েছে, হয়েছে থাক। আর সামনে এগোতে হবে না। আমি যাই।”

“টিশার্ট বের করে দিয়ে যাও!”

কোহিনূরের এই মোলায়েম সুর কেন যে রাগিনী উপেক্ষা করতে পারে না রাগিনী নিজেই বুঝে উঠতে পারে না। এই কণ্ঠস্বরের মাঝেই আঁটকে যায়। ফেঁ/সে যায়। বের হতে পারে না। সে তবুও বিরক্ত হওয়া ভান ধরে জিজ্ঞেস করল,
“আমিই কেন? আপনি বের করে নিন।”

“হবু বউয়ের উচিত হবু বরের জিনিসপত্র কখন কোনটা লাগে সেটা আগে থেকেই খেয়াল করা। তাহলে বিয়ের পরে আর অসুবিধে হবে না। বুঝলে?”

রাগিনী আর কথা বাড়াল না। এই লোকটার সাথে কথা বাড়ানো উচিতই নয়। বিরক্তির শ্বাস টেনে বলল,
“কোথায় আছে টিশার্ট?”

পেছন থেকে কোহিনূর দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হওয়ার ন্যায় হাসে। আর বলে,
“তোমার বাম পাশে দেখো কালো রঙের কাবার্ড আছে। ওখানকার সেকেন্ড ড্রয়ারে টিশার্ট পেয়ে যাবে।”

রাগিনী কোহিনূরের কথা মতো ঘাড় ঘুরিয়ে বাম দিয়ে তাকিয়ে কাবার্ড দেখতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে ড্রয়ার খুলে খানিকটা ঘেঁটে নির্ধারিত টিশার্ট বের করে দেখিয়ে বলল,
“এটা?”

“ইয়েস মাই ব্রিলিয়ান্ট ইয়ং লেডি!”

রাগিনী মাথা নিচু করে উদাম গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোহিনূরের নিকটে এসে দাঁড়িয়ে টিশার্ট তার হাতে দেয়। তা নিয়ে কোহিনূর পরিধিতে করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাগিনী না চাইতেও আঁড়চোখে চোখ বুলিয়ে নিতে চায় কোহিনূরের দিকে। মানুষটির গায়ে এত কা/টাছেঁ/ড়ার দাগ দেখে দৃষ্টি আরো প্রখর হয় তার। নিজের গলায় টিশার্ট ঢুকাতে ঢুকাতে সেটা কোহিনূর খেয়াল করে বলে,
“কী দেখো? বডি? ইন্টারেস্টিং না?”

রাগিনী তৎক্ষনাৎ চোখ সরিয়ে বলে,
“খুবই বাজে। একটু যত্ন নিতে পারেন না?”

কোহিনূর দ্রুত নিজের টিশার্ট পড়ে নেয়। রাগিনীর মুখোমুখি দাঁড়ায়। তার নরম দুটো হাত নিজের হাতে আবদ্ধ করে। নিজের বুকের কাছে ঠেকিয়ে বলে,
“সেটা তো তোমার কাজ। এখন অযত্নেই থাক। যত্ন করার দায়িত্ব তোমার রইল।”

রাগিনী লাজুক চোখে তাকিয়ে নীরবে হাসে। মানুষটা একেবারেই পাগল! তার এই পাগলামির মূল কেন্দ্রবিন্দু রাগিনী নিজেই সেটা ভাবলে সে যেন অন্য দুনিয়ায় ভেসে যায়। উচ্ছ্বাসটা বেড়ে যায়। এবার উৎসুক হয়ে বলে,
“আপনি তো দেখছি মহা ধা/ন্ধাবা/জ লোক! বিয়ের আগেই প্ল্যানিং করে ফেলছেন বউকে কী করে কাজ করাবেন। আমাকে কাজ করিয়ে করিয়ে পা’গল করে দেওয়া চিন্তা করছেন বুঝি?”

কোহিনূর মুচকি হাসে। রাগিনী মুখে ফুঁ দিয়ে চুলগুলোর খেলা দেখে নিমগ্ন হয়ে বলে,
“বিয়ের পর তোমার একটাই কাজ হবে সেটা হচ্ছে আমাকে ভালোবাসা। অন্য কোনো কাজে নজর দিলেও সেটা আমি ভীষণ হিংসা করব। হিংসার আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেব সেই কাজটিকে। সারাদিন শুধু আমায় ভালোবাসবে তুমি। ব্যস…”

রাগিনী বিস্ময় নিয়ে চেয়ে থাকে। পলকহীন চোখে দৃষ্টিপাত করে বলে,
“প্রচন্ড হিংসুটে হয়ে যাচ্ছেন আজকাল।”

কোহিনূর এবার নিজের ঈষৎ হাসিখানা পরিবর্তন করে ওষ্ঠদ্বয় প্রসারিত করে প্রাণ খুলে হাসে। কিছুটা সময় পরে হাসি থামিয়ে জিজ্ঞাসু চোখে বলে,
“তা আমি সকালে কতবার কল করেছি খেয়াল আছে? কী করছিলে?”

“আপনার কল ধরা ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই বুঝি? সবসময় বুঝি আপনার ভাবনায় থাকতে হবে?”

কোহিনূরকে খোঁচাতে ইচ্ছে করেই কিছুটা ভাব নেওয়ার ভঙ্গি করে বলল রাগিনী। কোহিনূর ফের আদুরে ভঙ্গিতে বলল,
“থাকতেই হবে আমার ভাবনায়। আমি সবসময় চাই আমার রাগের রানি সর্বদা আমাতে মত্ত থাকুক। আমি ব্যতীত অন্য ভাবনাকেও আমি প্রচন্ড ঈর্ষা করি।”

রাগিনী তার হাত ছাড়িয়ে হতাশ হয়ে বলল,
“ধুর! এমনভাবে কথা বললে আমি কখনোই আপনার সঙ্গে কথায় পেরে উঠব না।”

কোহিনূর আবারও হাসে। এবার বেশ শব্দ করেই হাসে। রাগিনী নজর যায় কোহিনূরের ঘরের পেছনের জানালাটির দিকে। সে এগিয়ে যায় ধীর পায়ে। বাহিরে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে। চারিধার দিয়ে লাগানো আছে কিছু শোভাবর্ধক গাছ। তাছাড়া অনেকটা ফাঁকা জায়গাটি। রাগিনীর এমন প্রতিরূপ দেখে শব্দহীন পায়ে তার সংলগ্নে এগিয়ে আসে কোহিনূর। রাগিনীর ঘাড়ে আস্তে আস্তে নিজের গরম নিঃশ্বাস ফেলে ধীর গলায় বলে,
“কী দেখা হচ্ছে?”

রাগিনী পুলকিত হয়ে বলে ওঠে,
“এই জায়গা তো বেশ ফাঁকা। যখন বাড়ি থেকে আপনার সঙ্গে চলে আসব এখানে তখন তো আমি আর কাঠগোলাপের গাছ পাব না। তাই আপনি আর আমি মিলে একটা কাঠগোলাপের গাছ লাগাব এখানে।”

কোহিনূর সম্মতি জানিয়ে বলে,
“যথাআজ্ঞা বউরানি!”

“গাছটাকে আমরা একসঙ্গে বড়ো হতে দেখব। দৃঢ় হতে দেখব। সেই সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও দৃঢ় হবে, নিবিড় হবে।”

নীরব মূহুর্তে কাটল কিছুক্ষণ। কোহিনূরের স্মরণে এলো নয়নতাঁরার কথা। ঝটপট করে জিজ্ঞেস করল,
“নয়ন তোমাদের বাড়ি গিয়েছিল নাকি? ওর জন্যই কল করেছিলাম তোমায়।”

রাগিনী নির্লিপ্তে উত্তর দেয়,
“হ্যাঁ গিয়েছিল তো। তারপর যা কান্ড করল!”

“কী কান্ড করেছে? নিশ্চয় উল্টাপাল্টা কোনো কথা বলেছে?”

“না। একদমই না। সে আমার বাড়িতে তার পরিচয় দিয়েছিল যে সে নাকি আমার ছোটোবেলার বেস্টফ্রেন্ড! আর এতটাই সুনিপুণভাবে অভিনয় করেছে যে সৈয়দ কাকাও বিশ্বাস করে আমায় পরামর্শ করছিলেন যাতে আমি নিজের ছোটোবেলার বেস্টফ্রেন্ডকে আর ভুলে না যাই।”

বলেই খিলখিল করে হেঁসে উঠল রাগিনী। কোহিনূর হতাশ ভঙ্গিতে বলল,
“এই মেয়েটাকে নিয়ে আমি আর পারছি না। টিকিট কেটেছিলাম ওর জন্য। লন্ডনে যাতে ব্যাক করে। সে টিকিট ছিঁড়ে ফেলেছে। ওর একটা ব্যবস্থা করতে হবে। সামনে ওর এক্সাম! ওখান থেকে কল করেছিল আমায়। কিন্তু তাতে ওর কোনো মাথাব্যথাই নেই। খুব দ্রুত ওকে ব্যাক করাতে হবে।”

রাগিনী এবার ঘুরে দাঁড়ায়। কোহিনূরের সংশয় পরিপূর্ণ চাহনিতে চোখ রেখে বলে,
“কেন ওকে জো/রজ/বরদস্তি করেন? মেয়েটা মন থেকে এখনো ছোট্ট কিশোরীর মতো। ওকে জো/র করে লন্ডনে পাঠিয়েছেন আপনি। সেখানকার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছেন। ও আপনাকে নিজের কাছে পাচ্ছে না। ও দিনশেষে নিজের কথাগুলো বলার জন্য কাউকে পায় না।”

“আমি ওকে এদেশে রাখতে পারব না রাগিনী। আর এখন যে কেইস চলছে তাতে আমি আরো ভয় পাচ্ছি ওকে নিয়ে। একবার আমায় আ/ক্র’মণ করেছে ওরা। যদি আমাকে নিজেদের হাতের মুঠোয় আনতে না পেরে নয়নকে ধরে তখন?”

বলেই থমকে যায় কোহিনূর। না চাইতেও কল্পনাশক্তি নিজের মতো এক দৃশ্য বানিয়ে নেয় যেখানে নয়নকে শ/ত্রুপক্ষ আ/টক করেছে। সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। হাত মুঠো করে থমথমে সুরে বলে,
“বাবা ছোটোবেলায় বলেছিল যদি তার কিছু হয়ে যায় তাহলে আমিই হবো নয়নের বাবা। নয়নের বাবা হতে পেরেছি কিনা জানি না। কিন্তু ও আর তুমি আমার সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা। আমি ম/রে যাব যদি কিছু হয়ে যায়।”

শেষ কথাগুলো বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল কোহিনূর। যাকে শান্ত করতে রাগিনীর আলতো ছোঁয়া যথেষ্ট ছিল। তার গালে হাত রাখে রাগিনী। আস্থা দিয়ে বলে,
“কিছু হবে না। এসবের উপরে আমাদের হাত নেই।”

কোহিনূর আরো কিছু বলতে যায় তবে তার ঘরের বাহিরে নিচ থেকে বিকট শব্দ পেয়ে রাগিনী এবং সে আঁতকে ওঠে। একে অপরের দিকে তাকায়। অতঃপর বিলম্ব না করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

কিচেনে সেদ্ধ নুডলস ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। নয়ন তা দেখে ঠোঁট উল্টে নিরাশ হয়ে তাকিয়ে রয়েছে রান্না করতে গিয়ে অকালে পড়ে যায় সেই নুডলসের দিকে। কারোর আগমনের আন্দাজ পেয়ে দরজার দিকে দৃষ্টিপাত করতেই কোহিনূর আর রাগিনী এসে হতভম্ব হয়ে দাঁড়ায়। তখনি নিজের কপালে হাত রেখে নয়ন নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল,
“নুডলসের অকাল মৃ/ত্যুতে আমরা শোকাহত। সে নিজে আত্ম/হ/ত্যা করে নিজের জী/বন দিয়েছে এবং বলে গিয়েছে তার মৃ/ত্যুতে কেউ দায়ী নয়।”

রাগিনী এবার হাসিতে ফেটে পড়লেও কোহিনূর বিন্দুমাত্র হাসল না। সে নয়নের এমন কার্যকলাপে অভ্যস্ত এবং বুঝে নিয়েছে এই নুডলস ফে/লে দেওয়ার কাজটা তারই ফলে সে এই নাটক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।চোখ গরম কোহিনূর তার সামনে যেতেই নয়নতাঁরা দৌড়ে রাগিনীর কাছে চলে এসে তার পেছনে দাঁড়িয়ে লুকানোর বৃথা চেষ্টা করে বলে,
“বললাম তো! নুডুলস আত্ম/হ/ত্যা করেছে। আমার দিকে তে/ড়ে আসছ কেন? আজব!”

“ফাইজলামি পেয়েছ?”

“ধুর, না না। ভেবেছিলাম ভাবিজান প্রথম বাড়িতে এসেছে তাই তার জন্য কিছু বানিয়ে চমকে দিই। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।”

মুখটা ফ্যাকাশে হলো নয়নতাঁরার। রাগিনীর তার দিকে ফিরে সুন্দর হেঁসে তার থুঁতনি ধরে আদুরে সুরে বলে,
“আমার জন্য কিছু করতে হবে না।”

নয়নের মুখটা মূহুর্তেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রাগিনীর হঠাৎ মাথায় আসে অভিরূপের কথা। স্মরণ হয় সেই বহুরূপী মেয়েটির কথা। ঘাড় ঘুরিয়ে কোহিনূরের দিকে তাকায় সে। মানুষটা এত ক/ষ্ট করে যাচ্ছে কেইস সলভ করতে। এমনকি এই জটিলতা সমাধান হওয়ার পরেই তারা নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারবে। রাগিনীর মনে ইচ্ছে জাগল লোকটিকে সব খুলে বলতে। লুকিয়ে রাখতে মন চাইল না। পরক্ষণেই মনে হলো কোহিনূরকে সবটা বলে দিলে এখনি সে কোনো ব্যবস্থা নেবে। অভিরূপ বলেছিল কিছু সময় অপেক্ষা করতে। সব মিলিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ল রাগিনী তখন। তবে মুখ ফুটে বলা হলো না কোহিনূরকে কোনোকিছুই।

একটু একটু করে আঁখিজোড়া মেলতেই রাজ্যের আলো এলো চোখে। পরক্ষণেই চোখ দুটো খিঁচে বুঁজে নিলো রূপাঞ্জনা। মাথার ভেতরে যেন কেউ বড়োসড়ো পাথর এনে রেখে দিয়েছে। কিছুক্ষণ বাদেই হাতটা চাদরের ভেতর থেকে বের করে কপালে রাখল। ভেজা কিছু উপলব্ধি করল। হাতে তা নিয়ে পিটপিট করে চোখ মেলতেই সাদা রঙের কাপড় থেকে ভ্রু কুঁচকে এলো তার। এবার অবাক হয়ে আশেপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল সে কোথায় রয়েছে। উপরের ছাঁদ, আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করে বুঝে নিতে সময় লাগল না বাড়িটা বেশ বিলাসবহুল। ধীরে উঠে বসার চেষ্টা করতে গেলে যেন শরীরের সমস্ত হাড় ভে/ঙে যাওয়ার উপক্রম হলো। মাথা য/ন্ত্রণায় হালকা করে আর্তনাদ করে উঠল। ঘরের ওপর প্রান্তে জানালার বাহিরে তাকিয়ে থাকা অভিরূপ রূপার দিকে না তাকিয়েই বলল,
“জ্ঞান ফিরেছে তবে? নাকি এটাও ছলনা ছিল?”

কাশি ওঠে রূপার। কাশতে কাশতে অবাক পানে চায় অনেকটা দূরে থাকা মানবটির দিকে। এখনো যেন সে সব অস্পষ্ট দেখছে। চোখ ভালোভাবে ঘষে দেখার চেষ্টা করে সে। অভিরূপ নিজের অবসাদগ্রস্থ চেহারা নিয়ে সামনে ফিরে দাঁড়ায়। তবে রূপার কাছে যায় না। দূরে দূরে থাকে। তেজ হারানো চোখে তাকিয়ে থাকে রূপার দিকে। রূপা চমকায়। বিস্ময়ে লোচন দুটোর আকৃতি বড়ো আকার ধারণ করে। সে কখনো আবারও এই মানুষটির সামনা-সামনি হবে ভাবেও নি। অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সে। রাজ্যের ভয় তাকে আঁকড়ে ধরে। অস্ফুটস্বরে বলে,
“আপনি?”

“কেন আমায় আশা করো নি? আমি তো ভেবেছিলাম তুমি জেনেশুনে এই পরিকল্পনা করেছ।”

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here