তোমাতে আসক্ত পর্ব ২১+২২

#তোমাতে আসক্ত
#নাহিদা ইসলাম
#পর্ব ২১

হঠাৎ করে ই বৃষ্টিতে ভেজার কারনে গা কাঁপিয়ে জ্বর এসেছে মিহির।ফ্রেশ হয়ে খাবার না খেয়ে ই দাদিমার রুমে ঘুমিয়ে পড়েছিলো মিহি, ঘুম ভাঙ্গতে ই গায়ে প্রচন্ড তাপ অনুভব হলো। রেনু বেগম মিহির পাশে বসে আছে। শরিরের তাপমাত্রা এতো বেশি তাই তিনি বসে বসে জলপট্টি দিচ্ছেন।

রেনু বেগম চেয়ছিলেন মিহিকে নিজের রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু দাদিমার আদেশ মিহি উনার সাথে ই থাকবে। কোথাও যেতে দিবে না।

মিহি চুপ করে শুয়ে আছে। দাদিমা সাথে বসে বসে ইচ্ছে মতো কথা শোনাচ্ছ মিহিকে। মিহি সব শোনে ও না শোনার মতো ই পড়ে আছে।

–মা…

মিহি শুয়ে থাকা অবস্থায় হালকা একটু শব্দ করলো মা বলে, রেনু বেগম মিহির শব্দ শুনতে ই উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করে,

–কী মা, তোমার কী কিছু লাগবে।

–মা পানি খাবো।

কথাটা বলতে ই রেনু বেগম বসা থেকে উঠে পানি আনতে চলে গেলেন। মিহি এতো অসুস্থ অভ্র কী তা জানে না। বাসায় আসার পর থেকে একবার ও সামনে আসেনি অভ্র।

বেশ কিছুক্ষন পর রেনু বেগম রুমে ডুকলেন, হাতে খাবারের প্লেট। মিহিকে ধরে শুয়া থেকে উঠালেন। পানিট গ্লাসটা হাতে দিতে ই মিহি একটু পানি মুখে নেয়। একটু পানি খেয়ে গ্লাসটা রেনু বেগমের হাতে দিয়ে দেয়। মিহি আবার শুয়ে পড়তে চাইলে রেনু বাধা দেয়।

–খাবার খেয়ে নেও।

–খাবো না আম্মু।

–সারাদিন তো কিছু ই খাওনি, এখন ও যদি না খাও তাহলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বা।

মিহির ও খুব ক্ষুধা পেয়েছে তা আর না করেনি। কিন্তু মুখে খাবার দিতে ই তেঁতো ভাবের জন্য গলা দিয়ে খাবার নামছে না। মিহি দ্রুত পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লো।

–কী হয়েছে মিহি শুয়ে পড়লে কেনো।

–আম্মু খাবো না। ভালো লাগছে না।

রেনু বেগম জোর করে ও খাওয়াতে পারেনি তাই বাধ্য হয়ে চলে যায়।

মিহির বার বার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে অভ্র কোথায়। আজকে অভ্রের সাথে যা করলো তারপর কোন মুখে আবার অভ্রের কথা জিজ্ঞেস করবে। এসব ভেবে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ও থমকে গিয়েছে।

মিহি ঘুমানোর চেষ্টা করছে, মিনতি এসে কয়েকবার দেখে গিয়েছে। কিন্তু কোনো কথা বলেনি। অপুকে ওষুধ আনতে বলেছিলো কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাওয়া অপু বলেছে সকালে ওষুধ এনে দিবে। এই মুহুর্তে অভ্রকে খুব বেশি ই মিস করছে মিহি। অভ্র মনে হচ্ছে বাসায় নাই, বাসায় থাকলে ঠিক ই ওষুধ এনে দিতো সে যত রাত ই হক না কেনো।
এসব ভাবতে ভাবতে মিহি ঘুমিয়ে পড়লো।

_______________

মিহি ঘুমিয়ে পড়েছে তাই রেনু বেগম ও নিজের রুমে চলে গিয়েছে। দাদিমা ও মিহির পাশে শুয়ে পড়েছে।

মাঝ রাতে মনে হচ্ছে কেউ মিহিকে টেনে উপরে তুলছে, বার বার হা করতে বলছে
জ্বরের কারণে মিহি কে কী বলছে ওসব খেলায় নাই। শুধু যা বলছে তাই করছে। হঠাৎ মনে হলো কেউ কপালে ঠোঁট দুটো ছুয়ে দিয়েছে। হয়তো স্বপ্ন দেখছে তাই মিহি আর চোখ খুলে তাকায়নি।

বেশকিছু ক্ষন পর, মিহি প্রচন্ড ঘেমে যায়। শরীরের উপর থেকে কম্বল সরিয়ে দেয়। মিহি উঠে বসে, শরিরে জ্বর নেই। বেশ ভালো লাগছে এখন। ঘুম ভাঙ্গার পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে পাঁচটা বেজে গিয়েছে তারমানে কিছুক্ষণের মধ্যে ই আজান দিবে, তাই মিহি আর ঘুমায়নি।

একটু আগে কেউ মনে হচ্ছিলো ঔষুধ খাইয়ে দিচ্ছিলো পরম উষ্ণতায় জড়িয়ে নিচ্ছিলো এটা কী স্বপ্ন ছিলো নাকি সত্যি।

যদি সত্যি হয় তাহলে অভ্র কোথায় আশেপাশে তো দাদিমা ছাড়া কেউ ই নেই। যার জন্য এ কয়েকদিন বিরক্ত হয়েছি আজ তাকে মিস করতেছি।

দরজা খোললাম অভ্রের রুমের দিকে যাবো।অমনি দরজা খোলার শব্দে দাদিমা জেগে গেলো,
মহিলা ঘুম থেকে ওঠে ই ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,

–এই নাতবৌ কোথায় যাস, তোর জ্বর কমে গিয়েছে নাকি। এদিকে আস তো।

— হে দাদিমা কমে গিয়েছে।

–তাহলে যা ওজু করে আস, আমার সাথে নামাজ পড়বি।

–ঠিক আছে দাদিমা।

আমি দাদিমার কথা মতো ওজু করে নামাজ পড়ে নিলাম। এখন বসে আছি। অভ্রের রুমের দিকে যাওয়ার কোনো উপায় খোজে পাচ্ছি না। আমি কালকে অভ্রকে থাপ্পড় টা দিয়ে ভুল করেছি আমাকে অভ্রের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কেনো জানি অস্থির লাগছে আামর, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ভালো থাকতে পারবো না আমি।

_____________________

অভ্র ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রেডি হচ্ছে। অফিসে যাওয়ার জন্য। অবশ্য মিহিকে অনেক মিস করছে তাও মিহির সাথে দেখা করবে না। মেয়েটা আমাকে বুঝোক। ভালোবেসে তাকে আমার ভালোবাসা বুঝানো যাবে না। কষ্ট দিয়ে ই তোমাকে আমার ভালোবাসা বুঝাবো মিহি পাখি।

অভ্র রুমের দরজা খুলে বের হতে নিলে ই সামনে মিহিকে দেখতে পায়। মিহিকে দেখতে পেয়েও না দেখার ভাব করে চলে যায়।
এতে মিহি রেগে যায়, পরক্ষণেই কালকের থাপ্পড়ের কথা মনে হতে ই রাগ চলে যায়। অভ্রের পিছনে পিছনে যেতে নিলে নিচে দাদিমাকে দেখে থমকে যায়।

অভ্র সোজা গিয়ে খাবার টেবিলে বসে পড়ে।মিহি ও গুটিগুটি পায়ে গিয়ে অভ্রের পাশের চেয়ারে বসে।

–নতবৌ

দাদিমার কন্ঠ শোনে পিছনে তাকায়,

–উঠে আমার পাশে বস।

–কেনো দাদিমা?

–কোনো প্রকার কথা শোনতে চাই না আমি যা বলছি তা ই কর।

মিহি অভ্রের দিকে অসহায় এর মতো তাকিয়ে আছি। কিন্তু অভ্র মিহির দিকে একবার ও তাকায়নি। বাধ্য হয়ে মিহি দাদিমার পাশে গিয়ে বসে।

খাবারে হাত দিয়ে অভ্ররে দিকে তাকিয়ে আছে, অভ্রকে ইশারায় কথা বলতে বলবে কিন্তু এই অভ্র বজ্জাত টা তো মিহির দিকে তাকাচ্ছে ই না।

–ভাবি খাবার শেষ করে ভাইয়াকে মন ভরে দেখে নিয়েন, এখন খাবার টা খেয়ে নিন।

অপুর এমন কথা শোনে সবাই মুখ টিপে টিপে হাসতেছে। অভ্র খাবার শেষ করে কারো সাথে কোনো কথা না বলে ই অফিসের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়ে।

অভ্রকে এমন গম্ভীর দেখে মিহি ভয় পেয়ে যায়। তাহলে কী অভ্র আমার সাথে আর কথা বলবে না। আমার দিকে ফিরে ও তাকাবে না।

মিহি সুযোগ বুঝে অভ্রের পিছনে গিয়ে হাতটা ধরতে ই দাদিমা নাতবৌ বলে জোরে চিৎকার করে উঠে।

চলবে,#তোমাতে আসক্ত
#নাহিদা ইসলাম
#পর্ব ২২

মিহির পেছনে দাদিমাকে দেখে থমকে যায়। এখন কী বলে ব্যাপার টা সামলাবে তা ভাবছে। মিহি পুরোপুরি নিষেধ অভ্রের সাথে কথা বলা, অভ্রের সামনে যাওয়া।

–আমার অনুমতি ছাড়া বের হয়েছিস কেনো নাতবৌ।

–দাদিমা উনার সাথে একটু কথা ছিলো।

উনি আমার হাতটা ছাড়িয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেলেন। আমি দাদিমা কী বলছে তারদিকে কান না দিয়ে অভ্ররে গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। আমি অভ্রকে থাপ্পড় মেরেছি বলে কী আমার এতো কষ্ট হচ্ছে নাকি আমি অভ্রকে ভালোবেসে ফেলেছি তাই দূর থাকতে কষ্ট হচ্ছে।

–এই তোর কথা কানে যায় না।

দাদিমার দমকানো কন্ঠ শোনে ভাবনা বাদ দিলাম,

–হে দাদিমা বলেন।

–চল বাসার ভিতরে চল।

বাসার সবাই আমার এমন কান্ড দেখে হাসতেছে। দাদিমা উপরে যাওয়ার পর মিনতি আর অপু এসে আমার পাশে সোফায় বসে।

–কেমন লাগে এখন অভ্রের থেকে দূরে থাকতে ভাবি??

মিনতি প্রশ্ন রাগি লুক দিয়ে মিনতির দিকে তাকিয়ে বলি,

–আমার কোনো কষ্ট লাগছে না, শুধু সরি বলতে গিয়েছিলাম।

–তাই নাকি ভাবি, গতকাল এমন পাকামি না করলে ই হতো। অভ্র ভাইয়া তোকে কী এমন জ্বালিয়েছে যে তুই বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিস। আগে ও বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিস। এবার বুঝো মজা দাদিমা এবার বেশ রাগ করেছে। অভ্র ভাইয়া চাইলে ও দাদিমা তোকে আর অভ্র ভাইয়াকে এক সাথে থাকতে দিচ্ছে না।

–এই শোন, তুই আমাকে এতো ভাবি ভাবি করবি না। আমার এতো শখ নাই উনার সাথে থাকার জন্য। আমি একটা ভুল করেছি শুধু তার ক্ষমা চাইতে গিয়েছিলাম।

এবার অপু বললো,

–বাহ্ ভাবি, আপনি ভাঙ্গবেন কিন্তু মচকাবেন নাহ্।শোনেন আমার ভাই ও কিন্তু কম না দেখবেন আপনার কী অবস্থা করে।

—তাই নাকি দেবর সাহেব, দেখা যাবে।

ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে মিহি উপরে চলে গেলো। এতো ভাব নিয়ে যে চলে আসলো, আসলে তো মিহি সত্যি ই চায় অভ্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে সব জামেলা মিটে যাক।

_________________

ফোনে মিহির ঘুমন্ত মুখটা দেখছে আর হাসতেছে। খুব মায়া হয় এই মুখটা দেখলে।মিহির মধ্যে অনেক বাচ্চা সভাব আছে যা অভ্রকে আরো বেশি কাছে টানে। ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা বুঝাতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি। আজকে সকালে যখন মিহি অভ্র দিকে তাকিয়ে ছিলো ইচ্ছে করছিলো নিজের কাছে এনে খাবার টা মুখে তোলে খাইয়ে দিতে। কারণ মিহি শুধু অভ্রের দিকে ই তাকিয়ে ছিলো খাবার খাচ্ছিলো না।
সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে অভ্র আর চোখে মিহিকে ঠিক ই দেখছিলো।

তারপর যখন বাসা থেকে বের হয়ে আসে অভ্র মনে মনে চাচ্ছিলো মিহি যেনো অভ্রের সামনে আসে, তাহলে বুঝবে সত্যি ই মিহি অভ্রকে মিস করছে।
ঠিক তাই হলো যখন মিহি এসে পিছন থেকে হাতটা ধরলো ঠিক তখন ই ইচ্ছে করছিলো, মিহিকে কাছে টেনে এনে ভালোবাসার একটা পরশ কপালে দিয়ে চলি আসি। কিন্তু নিজেকে অনেক কষ্টে গম্ভীর করে রেখেছিলাম। আর ঠিক সময়ে দাদিমা ও চলে এসেছে। আর একটু কষ্ট পেয়ে আমার শূন্যতাটা মিহি ঠিকভাবে অনুভব করুক যেনো আর কোনো দিন নিজ থেকে অভ্রকে ছেড়ে যাওয়ার সাহস না করে।

কিন্তু আমার যে অতীত আছে তা শোনার পর কি মিহি আমার জীবনে থাকবে।

মীরা যাকে আমি ভালোবাসতাম। মন থেকে চাইতাম মিরা যেনো আমার বউ হয়। মিরি আমার ফ্রেন্ড এর বোন। আমার থেকে তিন বছরের ছোট খুব অহংকারি একটা মেয়ে। মীরা নিজ থেকে এসেই কথা বলছিলো, ভালোবাসি কথাটা মীরা ই আমাকে আগে বলেছিলো। আমার ও মীরাকে খারাপ লাগতো না তাই আমি ও মীরার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।

আমার অনার্স শেষ যখন ছিলো তখন ই আমাদের সম্পর্কটা শুরু হয়। আজ দুইবছর, সম্পর্কের প্রথম ভালো ই ছিল, আমার মধ্যে এতো আবেগ ছিলো না কিন্তু মীরা মধ্যে অনেক আবেগ ছিলো। সম্পর্কে প্রথমে আমি বেশি একটা পাত্তা দিতাম না। কিন্তু যখন ই সম্পর্কে বয়স এগারো মাস তখন থেকে ই মীরা কেমন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো, কথা বলতে চাইতো না। দেখা ও করতো না। ফোন দিলে প্রায় সময় ই ব্যস্ত পাই।

মীরার এমন পরিবর্তন দেখে আমার খুব খারাপ লাগতো প্রথমে আমি পাত্তা দিতাম না, এগারো মাস পর মীরা আমাকে অবহেলা করতে শুরু করে আর আমি পাগলের মতো মীরার পিছনে ঘুরতে থাকি।

তারপর সম্পর্ক চলতে থাকে এক তরফা মীরা শুধু মাঝে মাঝে কথা বলতো। এতে ই আমি খুশি থাকতাম। সম্পর্ক যখন চৌদ্দ মাসে পা দেয় তখন একদিন শোনলাম মীরা তার বাবা মায়ের সাথে কানাডা চলে যাবে।

ঐদিন আমি অনেক কেদে ছিলাম,ছেলেদের নাকি কাঁদতে হয় না। তাও বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছিল মীরা চলে যাওয়ার কথা শোনে।

মীরা লাস্ট আমার সাথে দেখা করতে আসে, যেদিন কানাডা চলে যাবে ঐ দিন সকালে।
খুব কেঁদে ছিলাম আমি, শুধু আমি না মীরা ও ঐদিন কেদে ছিলো।

মীরা কেনো কেঁদে ছিলো জানে, কারণ আমাদের সম্পর্ক পর পর ই মীরা রিফাত নামের একটা ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ছেলেটার সাথে যখন সম্পর্কটা গভীর হচ্ছিল তখন ই আমাকে অবহেলা করা শুরু করে। আমার কান্না দেখে হয়তো নিজের মধ্যে
অপরাধবোধ কাজ করছিলো, যে আমাকে ঠকাচ্ছে। তাই মীরা ঐদিন রিফাত সম্পর্কে সব বলে। আমার কাছে ক্ষমা ও চায়। একটু বেশি ই ভালোবাসতাম তাই তো ভুলগুলো না চাইতে ও ক্ষমা করে দিয়েছিলাম।

মীরা কানাডা চলে যায়।মীরা চলে যাওয়ার পর একদিন ভালোভাবে কথা হলে তো দশ দিন হতো না, তাও কিছু বলতাম না। চাইতাম আমাদের সম্পর্কটা থাকুক।

মিরা কানাডা যাওয়ার এক বছর পর বাসা থেকে বিয়ের জন্য বলে, আমাকে বিয়ের জন্য রাজি হওয়ার জন্য মা দাদিমা অনেক কৌশল অবলম্বন করে তাও রাজি হইনি তাই বাধ্য হয়ে অপুর বিয়ে ঠিক করে।

অপুর বিয়ের দিন,
হঠাৎ মীরা কল দেয়। এক বছরের ভিতর কখনো আমাকে কল দেয়নি, নিজে থেকে সব সময় আমি ই কল দিয়েছি। বেশ অবাক হয়ে রিসিভ করতে ই ঝাঁঝালো কণ্ঠে ভেসে আসে। খুব বাজে ব্যবহার করে আমার সাথে। এতো মানুষ এর সামনে আমি কিছু বলতে পারছিলামা। কিন্তু লাস্ট কথাটায় আমাকে খুব বাজে বাজে হিট করে। কথাটা ছিলো,

“অভ্র তুমি আমার জন্য পারফেক্ট না। আমার মতো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারো এটা তোমার ভাগ্য পাড়লে আমার থেকে সুন্দর মেয়ে বিয়ে করে দেখাও, যদি তোমার ঐ কলিজা থাকে। বামুন হয়ে চাঁদে হাত দেও। রিফাত এর মতো হয়ে দেখাও পারলে তারপর আমার সাথে কথা বলতে আসবা”

মিহিকে প্রথাম দেখাতে ই ভালো লেগেছিলো, মিহি মীরার থেকে অনেক সুন্দর। তাই আর দেরি করলাম না। পরের টুকু আপনারা জানেন।

অবশ্য মিহির সাথে আমি অন্যায় করেছি।ফার্স্ট এ মিহিকে আমি এতো একটা দেখতে পারতাম না, মিহি সামনে আসলে ই মীরার বলা কথা গুলো মনে পড়তো। আস্তে আস্তে মিহির আচরণ কথা বলার স্টাইল আমাকে মুগ্ধ করে। আমি এখন মিহিকে আঁকড়ে বাচতে চাই। মীরার দেওয়া প্রত্যেকটা কষ্ট ভুলে যেতে চাই।

মীরাকে চেয়ে ছিলাম মিহি আর আমার ছবি পাঠিয়ে দেখিয়ে দিতে ওর থেকে ভালো মেয়ে বিয়ে করেছি কিন্তু ঐ দিনের পর থেকে ফেসবুক আসেনি।

ডায়রির পাতায় লিখাগুলো লিখে সামনে তাকতে ই দেখে মিহি দাড়িয়ে আছে রাগি লুক দিয়ে। তাহলে আমার সব লিখা পড়ে ফেলেছে মিহি।

চলবে।

[গঠনমূলক কমেন্ট করুন]

[ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here