পতিতা স্ত্রী পর্ব ২

#পণ্যস্ত্রী #Part_2
#লিখা- #Yasira_Abisha
-রুহি!
চুমকির চোখ বড় হয়ে গেলো,,
এই নাম একটা কাস্টমার এর মুখে শুনে চুমকির ভেতরের রুহি যেন জেগে উঠল,,
যেই নামের এই নষ্ট পাড়ায় ও অস্তিত্ব রাখেনি আজ প্রথম কেউ ওর অপরিচিত ওকে এই নামে ডাক দিলো…
চুমকি প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকালো ইরাদের দিকে,,
ইরাদ নেশায় ধুত কিন্তু সে আবারও বলে উঠে
-রুহি! এই রুহি! কথা বলোনা কেনো?
চুমকির খুব কান্না পাচ্ছে,, ও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে আর ও মুখে কি বলবে? কিই বা বলার আছে?? তাই চুপ করে বসেই আছে মুরতির মতো,,
কারণ ও তো চুমকি না ও তো রুহি,,
নিজের নাম, নিজের অস্তিত্ব, আজ কিছুই তো ওর অবশিষ্ট নেই,,
কিন্তু নিজের নাম প্রতিটি মানুষের খুব প্রিয় হয়,, ভালোবাসার একটা জিনিস হয় যা সবাই মরার আগ পর্যন্ত পাল্টাতে চায়না,,
কিন্তু ভাগ্যের কি লেখনী 🙂
রুহি নামটা থেকে পর্যন্ত আজ এই মেয়ে টা বঞ্চিত 🙂
যেই নামটা অনেক ভালোবাসা দিয়ে ওর বাবা মা রেখেছিলেন।
রুহিকে এদিকে ইরাদ কথা বলার জন্য বলছে,, কিন্তু চুমকি কিছুই বলছেনা বলার কোনো কথা নেই আর সব থেকে বড় কথা এই ছেলেটিকে আজ প্রথম দেখছে চুমকি
ওর রুহি জীবনের সাথেও কখনও এর পরিচয় ছিলোনা আর এই অন্ধকার জগৎ এ আসার পরে তো একজন লোক ছাড়া কারো সাথেই চুমকির কথা ও হয়নি,, আর এই পল্লিতে কখনো এই লোকটাকে দেখা ও হয়নি,, তবে উনি চিনে কিভাবে আমাকে?? এইসব ভাবছে রুহি,,
ইরাদ হুট করে মাটিতে বসে পরে আর বলতে থাকে,,
-জান,, শুনো আমি আর কখনও ওই কাজ করবোনা তুমি প্লিস ফিরে আসো আমার জন্য না হলেও,, আমাদের সেই স্মৃতি গুলোর জন্য ফিরে আসো,, তুমি তো আমার রুহ! আমার বাচার এক মাত্র অবলম্বন তুমি! তুমি কি জানোনা? তোমাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্ত ও থাকতে পারিনা,, তাহলে তুমি কেনো চলে গেলে আমাকে রেখে??? প্লিজ চলে আসো আমার রুহ?? আমিতো তোমার সব কথা শুনি,, রুহি প্লিজ রুহি,,,,,
এরকম বলেই কান্না করছে খুব কান্না করছে ইরাদ।
চুমকি তখন বুঝতে পারলো তার জীবনে নিশ্চয়ই কোনো প্রেমিকা ছিল যার নাম রুহি ছিলো এবং লোকটা তাকে অসম্ভব রকমের ভালোবাসতেন আর এই জন্যই লোকটা এভাবে কান্না করছে।
চুমকি ইরাদের কথা গুলো শুনে আচ করতে পারলো ও কত কষ্টের মধ্যে আছে,,
ইরাদের অবস্থা দেখে ভালোই বুঝা যাচ্ছে ও যে পরিমানে নেশা করেছে ওর এখন ঘুম প্রয়োজন।
তাই চুমকি ইরাদকে উঠিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে পাশেই বসলো কিন্তু
ইরাদ ঘুমাতে চাচ্ছেনা ও চুমকির পায়ে মাথা রেখে কোমর জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ অবস্থায়ই বলছে
“আমাকে প্লিজ এভাবে ফেলে যেও না,, আমি মরে যাবো,, প্লিজ রুহি! প্লিজ!”
এখন ইরাদের হিতাহিত ঞ্জান কাজ করছেনা,, মনের কষ্ট গুলো বেড় হয়ে আসছে,,
চুমকির মন বলছে এই কষ্ট গুলো চাপা কষ্ট কাওকে বলতে না পারা কষ্ট,,
আজকের চুমকি যদি আগের রুহি যদি হতো তবে ও এই মুহূর্তে স্বাভাবিক থাকতে পারতোনা কান্নায় ভেঙে পড়তো,,
কিন্ত এখন কান্না আসেনা আগের মত কারণ এই দুনিয়ায় পা দেবার পরের থেকেই জীবন্ত লাশ হয়ে গেছে নতুন নামের সাথে নতুন মন ও যেমন জন্মেছে ওর। কঠোর একটা মন যা সম্পুর্ণ রূপেই খুব কঠিন যেখানে কারো জন্য মায়া মমতা ভালোবাসা নেই।
আর থাকবেই বা কিভাবে? এটা এমন একটা জগৎ যেখানে এসবের বিন্দু মাত্র জায়গা নেই।
ইরাদ ঘুমিয়ে পরেছে চারদিকে আলো ফুটে গেছে,, চুমকির এই সময় ঘুমানোর কথা কিন্তু কেন যেন ঘুম পাচ্ছেনা,,
চুমকি খেয়াল করলো ইরাদের ঘুমন্ত মুখটার দিকে,, দেখতে বেশ মায়াবি,, চুমকির জানতে ইচ্ছে করছে আসল ঘটনা কি ঘটেছে এই ছেলেটির জীবনে। তার কান্না দু:খ এসব কেন যেন মিথ্যে মনে হচ্ছেনা,, মনে হচ্ছে এর কষ্ট গুলো খুব পীড়া দেয়,, শান্তি দেয় না,,
ক্ষাণিকপর চুমকি উঠে পায়চারি করছে আবার বসে থাকছে এভাবে করতে করতে সকাল ৯টা বেজে গেলো,,
ইরাদের ঘুম ভাংলো সে সময় চুমকি দাঁড়িয়ে আছে খাটের কোণে ইরাদের পায়ের সামনে,,
ইরাদ উঠে বসে চুমকির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে সামনে এসে ওর হাতটা ধরে বলল-
“বাসায় চল প্লিজ,, আমি সব পেমেন্ট করে দিচ্ছি তোমার আর এই জাহান্নামে থাকা লাগবেনা,, আমি জানতাম না তুমি এরকম একটা নরকে বাস করছো,, আমাকে মাফ করে দিও পারলে কিন্তু আগে বাড়ি চল,,”
কথা গুলো বলতে বলতে যেন ইরাদের চোখ গুলো লাল হয়ে গেলো,,
চুমকি আরও আশ্চর্য হয়ে গেল
“যে লোকটার হুশ আসার পরেও আমাকে বাড়ি ফিরতে বলছে এবং অন্য কেউ ভাবছে আবার নামও আমারই বলছে, ”
ব্যাপারটা চুমকিকে বেশ এলোমেলো করে দিচ্ছে,,
চুমকি- আপনি কাকে বলছেন কথা গুলো? আমাকেই বলছেন?
ইরাদ- তুমি ছাড়া এখানে আর কে আছে??
চুমকি-আমি আপনাকে চিনি না কখনো দেখিও নি আমাকে একটু ক্লিয়ার করে বলবেন প্লিজ??আপনি আসলে কি বুঝাতে চাচ্ছেন? আর আমি আপনার রুহি না,,
ইরাদ- তুমি আমার ওয়াইফ & দ্যাটস এনাফ অনেক বেশি বলছো তুমি,,
আমার ওপরে তোমার অভিমান থাকতে পারে কিন্ত তার মানে তো এটা না যে তুমি আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে ফেলবে,,
আমি ম্যানেজার কে কল দিচ্ছি কিছুক্ষনের ভিতরে সব ফরম্যালিটি কমপ্লিট হয়ে যাবে আমরা বাসায় ব্যাক করতে পারবো,, তুমি চেঞ্জ করে আসো আমিও ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছি জান”
এই বলেই লোকটা তার ম্যানেজার কে কল দিয়ে বলল- সব ব্যাবস্থা করো একবারের জন্য জাস্ট ইন 10 মিনিটস আমার ওয়াইফকে আমি এই নরকে সহ্য করতে পারছিনা।
চুমকি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এসব কথা শুনে আর লোকটার দিকে দেখছে তখনই
লোকটা জিজ্ঞেস করলো “বাথরুম কোথায়?”
চুমকি হাত দিয়ে ইশারা করে ডান দিকে দেখালো
ইরাদ ফ্রেশ হতে চলে গেলো,,
এরই মাঝে কে যেন চুমকির দরজার কড়া নাড়লো,,
চুমকি দরজা খুলে দেখে নিপা দাড়িয়ে আছে,,
চুমকি- কোনো কাম আসে আপা?? আমারে ডাক দিতেন,,
নিপা- যা তৈরি হয়া আয় তোর তো আজকা এখানে শ্যাষ দিন,,
চুমকি- মানে?
নিপা- মানে তুই এই সাহেবের লগে যাবি এখনি..
চুমকির জীবনের নতুন একটা মোড় আসতে চলেছে যেটা ও নিজেও জানে না,,,
(দয়া করে কেউ আমার গল্প নিজের নাম দিয়ে চালাবেন না,, আর যদি কেউ দেখেন কেউ এমন করছে তাহলে প্লিজ আমাকে জানাবেন এবং রিপোর্ট করবেন থানক্স ইন এডভান্স)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here