প্রেমের মরা জলে ডুবে পর্ব -০৬

#প্রেমের_মরা_জলে_ডুবে

#তানিয়া

পর্ব:৬

অসহ্য হয়ে গেছে শুভ্র। পুরো কলেজের সবাই এখন তার অসহায়ত্বকে ঘিরে বিভিন্ন ঝল্পনা কল্পনার গল্প বানাচ্ছে। এতদিন যা আড়ালে হতো এখন তা প্রকাশ্যে হচ্ছে। যেহেতু শুভ্রর কলেজ গ্রামে তাই লোকমুখে কথা ছড়াতে বেশিদিন লাগলো না।এ লোক সে লোক এসে তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে ফেলছে যেন এ ঘটনাটা তার সাথে হওয়াতে তাদের দুঃখের শেষ হচ্ছে না।অথচ শুভ্র কারো সহানুভূতি চাইছে না তবুও সবাই জোর করে সহানুভূতি দেখাচ্ছে। বরাবরের মতো অন্য মানুষের এত করুণ কথা সে হজম করতে পারতো না আর সেটাই তাকে শুনতে হচ্ছে। ভালো লাগছে না শুভ্রর। কলেজ ছুটি হওয়ার সাথে সাথেই সে বেরিয়ে গেলো।তার পক্ষে আরো কারো মুখ বরাবর দাড়িয়ে এসব কথা বলতে ভালো লাগছে না।ক্লাসে গেলেও স্টুডেন্ট গুলো এমনভাবে তাকায় মনে হয় শুভ্রর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটার সাথে সেই জড়িত।আজ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরে পোস্টিং করতে যা যা করা দরকার সব করবে।আর এক মুহুর্তে এখানে নয়।সে দ্রুত চলে গেলো শিক্ষা অফিসে।প্রয়োজনে টাকা খরচ করে হলেও সে এ সমস্যার সমাধান চায়।

কলেজের একজন স্যারের সাথে তিমিরের ভালো জানাশোনা আছে। ওনার কাছে তিমির প্রাইভেট পড়ে। তিমির তার ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা জানাতে তিনি তিমিরকে জানালেন অর্ধেক মাসে টিউশন পসিবল না তাই সামনের মাস অবধি অপেক্ষা করতে।তিমির স্যারের কথার ওপর ভরসা পেলো।এ মাসের প্রাইভেটের টাকাট া সে তার জমানো টাকা থেকে পরিশোধ করবে।ছোট থেকে টুকটাক যা টাকা পেতো সেসব তিমির খরচ করতো না।লুকিয়ে জমাতো।অনেক টাকা হয়েছে সেখানে।সেসব দিয়ে তাকে চলতে হবে।পড়াশোনার খরচটা না হয় সে কোনোভাবে চালাবে যদি ঐ বাড়ির অন্নও নিয়ে তাকে কথা শুনায় তখন কি করবে?না এতটা চাপ সে নিবে না, কতটুকই বা খাবে। সেটার খোঁটা দিলেও মাথা পেতে নিবে কিন্তু পড়াশোনার জন্য নো সেক্রিফাইজ।

শুভ্র সোজা বাসায় এসে সোফায় বসে পড়লো।নিপা নিচে ছিলো না সে ওপরে ছিলো।তিমির রান্নাঘরে এসেছিল চা বানাতে কিন্তু চায়ের প্রয়োজনীয় কিছুই সে খুঁজে পাচ্ছে না।কোথায় রেখেছে কে জানে,এ বাড়ির রান্নাঘরটা কেমন অগোছালো যদিও সব গুছানো তবুও নতুন হওয়ায় তিমিরের কাছে এলোমেলো লাগছে।তিমির আস্তে আস্তে খুজছে কারণ আওয়াজ হলেই হুংকার দিতে চলে আসবে নিপা।কিন্তু চা বানিয়ে বাইরে পা রাখতেই তিমির থমকে গেলো। সোফায় শুভ্র একহাতে মাথা ঢেকে বসে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না তবে বসার ধরনে বোঝায় যাচ্ছে কতটা ক্লান্ত সে!তিমির হাতের মগটা নিয়ে এগিয়ে গেলো শুভ্রর দিকে।

“শুভ্র ভাইয়া।”

তিমিরের ডাকে শুভ্র মাথা থেকে হাত সরালো।ভুরু জোড়া কুঁচকে গেলো।

“তুমি,কি চাই? ”

“কিছু না।আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে।”

“না তুমি সামনে থেকে চলে যাও।কথা বলতে ভালো লাগছে না। ”

যা বাবাহ কিছুই তো বললো না যে শুভ্র বিরক্ত হয়ে গেলো।তবুও তিমির কথা বললো,

“আপনাকে ক্লান্ত লাগছে।আমি চা বানিয়েছি খাবেন কি?”

শুভ্র এবার সোজা হয়ে বসলো।তিমিরের দিকে দৃষ্টি রাখলো আর তাতেই তিমিরের হাঁটু কাঁপা শুরু হলো।

“তিমির তোমাকে কি বলেছি আমার সামনে থেকে যাও।কথা বলতে ভালো লাগছে না।আমার সাথে তুমি কথা বলবে না।আমি তোমার কাছে কিছু চাই নি তাই আমাকে অফার দিতে হবে না।একবার নিষেধ করেছি যখন সেটা নিয়ে কথা বলবে না।নাউ গেট লস্ট.”

ধমকটা দিয়েই শুভ্র হন হন করে রুমে চলে গেলো।তিমির হেসে দিয়ে শুভ্রর জায়গায়টায় বসলো।

“আপনি বললে কি হবে,আমি তো আপনার সাথে কথা বলবোই।আমার জামাই আর আমি কথা বলবো না এ কেমন কথা?তাছাড়া আপনার এ স্বভাব আমি পরিবর্তন করে ছাড়বো।আমার মতো করে আপনাকে তৈরি করবো।আপনার এসব গম্ভীরতা,ভাব মুড সব যদি আমি ঐ ডাস্টবিনে ময়লার মতো না ফেলি আমার নামও তিমির নয়।সবে তো শুরু হলো,এতদিন আপনাকে শুধু ভয় পেয়ে আড়ালে থাকতাম এখন আপনার সাথে আঠার মতো লেপ্টে থাকবো শুভ্র ভাইয়া!”

শুভ্র ভাইয়াটা বলতেই জিভে কামড় খেলো কারণ ছোট থেকে যেই মানুষ ্টাকে সে এভাবে সম্বোধন করেছে হঠাৎ করে কীভাবে সেটা পরিবর্তন করবে।তাছাড়া এখন তো আর সে শুভ্র ভাই নয় এখন সে শুধুই শুভ্র, আমার শুভ্র। বলেই হেসে উঠলো তিমির।

তিমিরের পড়াশোনার বিষয় নিয়ে নিপা যেসব কথা শুনিয়েছে সেগুলো শুভা জিন্নাহকে বললো।সবটা শুনে তিনি নিপার কাছে গেলেন কৈফিয়ত নিতে।নিপা নিরবে স্বামীর কথা শুনলেও বুঝতে পারলেন এসব কথা শুভাই বলেছে। তাই শুভাকে ডেকে আরেকটা চড় লাগালো।পরপর এভাবে চড় খেতে খেতে শুভা প্রায় হাঁপিয়ে ওঠলো।তিমির বাড়িতে আসার পর থেকেই তিমিরের মার যেন সব শুভার ওপর ভর করেছে।জিন্নাহ সাহেব তিমিরকে অনেক বুঝালেন কিন্তু তিমির জানালো আপাতত সে কোনো টাকা নিবে না।যদি লাগে তবে সে খুঁজে নিবে যদিও শুভার কথামতো তিমির যা না বলে সেটা সহজে মেনে নেয় না।জিন্নাহ সাহেব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে গেলো।

শুভ্রর পোস্টিং হয়ে গেছে শহরে।কিছুদিন বেশ ঝক্কির মধ্যে ছিল তবে এখন একটু নিশ্চিত। আগের কলেজের জন্য মায়া লাগছে কিন্তু সেখানে থাকলে যেসব প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো এখন আর সেই ভয় নেই। নতুন কলেজে সবকিছু জমা দেওয়া শেষ। হয়তো আজ কালকের মধ্যে সে ক্লাস নেওয়া শুরু করবে।

তিমির আর শুভা ক্লাসে বসে চিপস খাচ্ছে আর গল্প করছে।এরমধ্যে স্যার চলে আসায় তারা খাওয়া বন্ধ করে ঠিকঠাক করে বসলো।

“স্টুডেন্টস আজ তোমাদের একজন নতুন স্যারের সাথে পরিচয় করাবো।তিনি আমাদের এখানে পোস্টিং হয়েছেন কিছুদিন হলো।উনি একজন ভালো ও দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক।তাছাড়া বিলেত থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন।আশা করি তোমাদের অনেক ভালো লাগবে ওনার পড়া। ”

তিমির আর শুভা মাঝামাঝি জায়গায় বসেছিল।তারা উৎসুক হয়ে তাকালো দরজার দিকে। প্রবেশ করা স্যারের দিকে চেয়ে তাদের মুখ হা হয়ে গেলো। তিমির চিৎকার করতে যেতেই শুভা চিমটি কাটলো। সাথে সাথে আউচ শব্দ বেরিয়ে এলো তিমিরের মুখ থেকে।স্যার তিমিরকে দাঁড় করালেন।

“তিমির তুমি চিৎকার করলে কেনো?”

“ইয়ে মানে স্যার আসলে….”

শুভা নিচে হাত দিয়ে আরেকটা চিমটি কাটলো।তিমির এবার নিরবে সেটা হজম করলো।

“আসলে স্যার মনে হয়েছিল পায়ের নিচ দিয়ে একটা বিড়াল চলে গেছে। সেরকম সুড়সুড়ি লাগায় চিৎকার দিলাম’

“বিড়াল,এ ক্লাসে বিড়াল কই থেকে আসলো?সবসময় ক্লাসে দুষ্টমি করা তোমার অভ্যাস হয়ে গেছে। চুপ করে বসে থাকো”

তিমির শুভ্রর দিকে তাকাতে দেখলো শুভ্র তার দিকে চেয়ে আছে। আড়চোখে শুভাকে চোখ রাঙিয়ে বসে পড়লো তিমির।খেয়াল করলো আশেপাশের সবার দিকে যারা এতক্ষণ শুভ্রকে চেয়ে আছে। মেয়ে গুলোর তাকানো দেখে মনে হলো এ বুঝি লালা গড়িয়ে পড়বে তাদের ঠোঁট থেকে।তিমির সবগুলো মেয়ের মন্ডুপাত করতে করতে স্যারের কথা শুনতে লাগলো।

“কীরে ননদি,তোর ভাই যে এ কলেজে পোস্টিং পেয়েছে তা আমাকে জানালি না কেনো?”

“আরে আমি কোত্থেকে জানবো ভাইয়া এখানে পোস্ট পেয়েছে। আমি তো ভাবলাম হয়তো অন্য কলেজে পড়বে।তাছাড়া ভাইয়ার সাথে এখন আমার কথা বলতে ভয় লাগে তাই জিজ্ঞেস করা হয় নি ভাইয়ার কোন কলেজে পোস্টিং।”

তিমিরও তে জানতো না।আর জানবেই বা কি করে, কে জানাবে তাকে,ও বাড়ির কেউ তো তাকে গন্যই করে না।তাও জিন্নাহ সাহেব করলেও ছেলের এসব বিষয়ে তিনি তেমন আগ্রহী নন।আর নিপা শুভ্র ওরা তো তিমিরকে কাউন্টি করে না।খুব খারাপ লাগে তিমিরের।কিন্তু সে মনে করে তার কর্ম অনুযায়ী শুভ্র যে এখনো কিছু করেনি তাও ঢের।

শুভ্র আগে থেকে জানতো যে কলেজে শুভা আর তিমির পড়ে।কিন্তু সে এটা জানতো না যে তাকে পোস্টিং হিসেবে এ কলেজে আনা হয়েছে।এখন তো আর উপায় নেই। গ্রাম থেকে শহরে আসতে একাধিক সমস্যা হয়েছে এখন আবার অন্য কলেজে যাওয়াও সম্ভব না তাই সে আপাতত এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলো।তবে তিমিরের সাথে শুভ্রর যে সম্পর্ক সেটা নিয়ে যাতে কেউ কিছু না জানে সেটা সতর্ক করে দিতে হবে। কারণ তিমিরকে সে একটুও বিশ্বাস করে না।

শুভ্র কলেজ শেষ করে তুরফার মেডিকেলের সামনে চলে এলো।কল করলো তুরফাকে।বিয়ের পর একবারও দেখা হয় নি তুরফার সাথে। তার মনের যা অবস্থা নিশ্চয়ই তুরফারও তাই হবে।তাই কষ্টটা ভাগ করতে সে চলো এলো মেডিকেলে।তুরফা তখনো ল্যাবে কাজ করছিলো।শুভ্রর কল পেয়ে বিরক্ত হলো।তবুও রিসিভ করতেই শুভ্র তাকে দেখা করতে বললো।তুরফা ব্যাস্ততা দেখালেও শুভ্রর অনুরোধে নিচে এলো।

“তুরফা কেমন আছো?”

“এই তো তুমি?”

তুরফার প্রশ্নে শুভ্র কিছু না বললেও বড় একটা নিশ্বাস ফেললো যেটা থেকে তার মনের ভেতর সকল বিষাদ ভেসে এলো।শুভ্র আর কথা খুঁজে পেলো না, তুরফা প্রায় মিনিট পাঁচেক থেকে চলে গেলো।শুভ্র বুঝলো তুরফা হয়তো তাকে দেখে কষ্ট পাচ্ছে তাই চলে গেছে। কিন্তু সে তো জানে না শুভ্র থেকে বাঁচতে পারলে তুরফা নিজেকে কতটা লাকি মনে করে।একজন ভাবছে প্রিয়জন হয়তো তার জন্য কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু সে তো জানে না সে যাকে প্রিয় ভাবে সে তাকে বিন্দুমাত্র পছন্দ করে না।

তিমির শুভ্রর রুমের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করছে।মনে মনে সাজিয়ে নিচ্ছে শুভ্রর সাথে কীভাবে কথা বলবে।কিন্তু তার মনের ভেতর কোনো কথা তৈরি হচ্ছে না বারবার আউলাঝাউলা হয়ে যাচ্ছে। শুভ্র তাকে ডেকেছে শুনে সে তো খুশিতে প্রায় আত্মহারা হয়ে পড়েছে।আড়ালে যদি এ অবস্থা হয় না জানি সামনে গেলে কি হবে? খাওয়া শেষ করে শুভাকে ডেকে শুভ্র জানায় যেন তিমির তার ঘরে আসে আর শুভা সেই খবর তিমিরকে জানাতেই হাতে যা ছিল সব ফেলে দৌড় দিলো শুভ্রর রুমের দিকে।কিন্তু দরজায় এসে পা থামালো, কীভাবে সে শুভ্রর সামনে যাবে বা গিয়ে কি বলবে তার প্রস্তুতি নিলো। তিমির টিপে টিপে রুমে ঢুকলো।শুভ্র ল্যাপটপ স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। তিমির ঢুকতেই সে একবার চোখ তুলে আবারও নামালো।ঐ একনজরে তিমিরের মনে বাক বাকুম সুরে পায়রা ডেকে উঠলো।

“শুভ্র ভাইয়া,আপনি আমায়…”

কথা শেষ করতে না দিয়ে শুভ্র কথা বলে উঠলো,

‘তিমির তোমাকে যার জন্য ডেকেছিলাম,তুমি হয়তো দেখেছে জব পোস্টিং হিসেবে আমি তোমাদের কলেজে জয়েন করেছি।সেই সুবাদে তোমাদের ক্লাসে আমার ক্লাস থাকতে পারে।যাই হোক তোমার সাথে আমার কি সম্পর্ক সেটা নিয়ে কারো সাথে আলাপ করতে যেও না।কলেজে কয়েকজন সিনিয়র স্যার ছাড়া আমি আর কাউকে বিবাহিত কথাটা বলিনি।তারা জানেন আমি বিবাহিত বাট এটা জানে না যাকে বিয়ে করেছি সেই মেয়েটা তুমি।তাই তোমার আমার সম্পর্কের কথা কখনো কলেজে বা অন্য কোথাও বলবে না।আমি চাই না কেউ জানুক তুমি আমার কি?”

“কেনো পরিচয় দিতে লজ্জা করছে বুঝি,আমি কালো,দেখতে কুৎসিত, আপনার মতো সুদর্শন পুরুষের বউ হিসেবে আমি যোগ্য নই তাই আমার সাথে তৈরি হওয়া সম্পর্ক প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করছেন?”

শুভ্র তিমিরের দিকে শান্ত দৃষ্টি তাক করলো।তিমিরও সরাসরি শুভ্রর দিকে চেয়ে আছে।

“তিমির তুমি যা করেছো এরপরেও যে তোমার সাথে আমি কথা বলছি বা আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো সেটা কি কম?রূপ নিয়ে বরাবরের মতো আমি কোনোদিন বৈষম্য করিনি কিন্তু তুমি কি ভুলে গেছো তোমার কর্ম?আমাকে ঠকিয়ে তুরফাকে আঘাত করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাকে বিয়ে করেছো?তুমি কেনো, কি উদ্দেশ্য আমার সাথে এমন করেছো আমি জানি না, জানতে আগ্রহী নয় তবে তোমার এ কাজে তুমি আমর মন থেকে পুরোপুরি সরে গেছো।তোমাকে আমি বাচ্চা সময় থেকে দেখছি,তোমাকে আর শুভাকে আমি কখনো পৃথক করে দেখিনি।সবসময় তোমাকে স্নেহ করেছি।সেই স্নেহের প্রতিদান স্বরূপ তুমি আমাকে যা দিলে তার পরও তোমাকে যে কোনো শাস্তি দিই নিই তাই বা কম কীসে?যাই হোক যা ইচ্ছে ভাবো তবে আমার সাথে এ নিয়ে আর কথা বলবে না আর হ্যাঁ যা বললাম মনে রেখো।ভুলেও আমাদের বিয়ের কথা যেন কলেজে কেউ না জানে।এখন যাও আমি কাজ করবো।”

শুভ্রর কথায় তিমির চোখ নামিয়ে নিলো।আর সবটা শুনে তিমিরের বুকটা চেৎ করে উঠলো।এসব কথা কি আধো তা প্রাপ্য ছিলো?আসলে তো শুভ্রের সাথে যা হয়েছে সেসবের জন্য তো তিমিরই দায়ী।কিন্তু শুভ্র মুখে এমন কড়া কথা শুনে তিমিরের ইচ্ছে হলো তুরফার সব কথা জানিয়ে দিক।কিন্তু সে সিদ্ধান্ত নিছে সে তুরফার বিষয়ে কিছু বলবে না কারণ শুভ্র তুরফাকে যেভাবে ভালোবাসা যদি তুরফার সত্যিটা জেনে যায় তবে শুভ্র অনেক বড় আঘাত পাবে।এমনিতেই সে আঘাতে জর্জরিত কিন্তু ভালোবাসা মানুষের সত্যিটা জানলে হয়তো তিনি ভেতর থেকেই মরে যাবে।আর এতটা কষ্ট তিমির সইতে পারবে না।তারচেয়ে বরং শুভ্র তাকে ভুল বুঝলে বুঝুক তাও তো মনে মনে ভাববে তুরফা শুভ্রকে ভালোবাসে।যদিও মিথ্যা তবুও সত্যের আড়ালে এতটুকু আশা নিয়ে বেঁচে থাকাটা মন্দ নয়।পরে জানলে সেটা পরের ব্যাপার আপাতত তিমির তুরফার বিষয়ে কিছু জানাবে না শুভ্রকে।
,
,
,
চলবে……..

৫.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here