ভালোবাসি তাই ২ পর্ব -শেষ পর্ব

#ভালোবাসি তাই ২
#শেষ পর্ব
#তানিশা সুলতানা

আমি তোমাকে প্রথম থেকেই খুব ভালোবাসতাম। কখনো তোমাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছে আমার ছিলো না৷ কিন্তু ওই যে ভাগ্য। তোমাকে আমি যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনি আমি আমার পরিবারকেও খুব ভালোবাসি। স্বীকার করতে কোনো আফসোস নেই। এমনও অনেক দিন গেছে যেদিন তোমার ভাইয়ের থেকে আমার আপু টাকা নিয়েছে সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলেছে। খুব অসহায় লাগতো আমার। হঠাৎ বাবার মৃত্যু জীবনটাকেই বদলে দিয়েছিলো।
আপু সারাক্ষণ বলতো আমি তোমার সাথে থাকলে অভির সাথে আপুর রিলেশনটা থাকবে না। নিজের জন্য অপুর জীবনটা নষ্ট করতে চায় নি। তাই চলে গেছিলাম তোমার থেকে।
কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম আমার বোন ঠকাচ্ছে তোমার ভাইকে। তোমার ভাইয়ের থেকে গিফট নিতো আর অন্য জনের সাথেও সম্পর্কে থাকতো।
খুব কায়দা করে তানহার সাথে বিয়ে ঠিক করেছিলো আমার। আমিও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু যখন জানতে পারলাম আপু ঠকাচ্ছে সবাইকে। তখন নিজের মনের কথা শুনলাম।
এবার ডিসিশন তোমার। যা খুশি শাস্তি দাও বাট ছেড়ে যেয়ো না।

স্মৃতির সামনে হাঁটু মুরে বসে বলে আবির। স্মৃতি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় না। উঠে চলে যায়। গলা ওবদি চাদর টেনে চোখ বন্ধ করে রাখে।
আবির লাইট অফ করে দিয়ে এসে স্মৃতির পাশে শুয়ে পরে।
“আই লাভ ইউ
মাথার ওপরের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলে আবির।
” নেকামি বাদ দিয়ে ঘুমান।
মুখ বাঁকিয়ে বলে স্মৃতি।
আবির এক গাল হেসে স্মৃতিকে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে।
“আরে কি করছেন?
” নো ছাড়াছাড়ি অনলি ভালোবাসা বাসি

🥀🥀🥀
বউ ভাতের অনুষ্ঠানটা অভিদের বাড়িতেই করা হচ্ছে। এটা আহাম্মদ চৌধুরীর সিদ্ধান্ত। কেউ বুঝতে পারছে না হঠাৎ এখানে কেনো বউ ভাত হবে।
অভি থমথমে মুখে বাবাকে প্রশ্ন করেই বসলো।
“বাবা বউ ভাত তো আবিরের বাড়িতে হওয়ার কথা।
আহাম্মদ চৌধুরী এক পলক তাকায় অভির দিকে। তারপর চোয়াল শক্ত করে বলে।
” লজ্জা করে না তোমার?
বিয়ে করেছো অথচ বাবার কাছে বলতে ভয় পাচ্ছো। তোমার মতো অকর্মন কে যে কি করে তানহা বিয়ে করলো ভেবে পায় না আমি।
অভি লজ্জা মাথা নিচু করে ফেলে। তানহা মুখ টিপে হাসছে। বাড়ির সবার সামনে অপমানিত হয়ে তারপর তানহার মুখে হাসি দেখে মুহুর্তেই রেগে যায় অভি।
“আমি ঠিক করে নিয়েছি স্মৃতি আর তানহার এক সাবউ ভাত হবে।
সবাই খুব খুশি হয় ওনার সিদ্ধান্তে।
অভি রুমে চলে যায়। তানহার ইচ্ছে করছে নাচতে। কিন্তু শশুড় মশাইয়ের সামনে তো আর নাচা যাবে না। তাই নিজের ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রেখে রুমে চলে যায়।

তানহা রুমে ঢুকতেই অভি দরজা বন্ধ করে দেয়। তানহাকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নেয়। তানহা হেসেই যাচ্ছে।
” খুব মজা না?
“হুমমম
কেনো যে আপনার মতো অকর্মন কে বিয়ে করলাম।
হাসতে হাসতে বলে তানহা।
” এখন আফসোস হচ্ছে?
দাঁতে দাঁত চেপে বলে অভি। তানহা বুঝে যায় মহাশয় প্রচন্ড রাগ করেছে। এখন আরও রাগিয়ে দিলে বেপারটা খারাপ হয়ে যায়।
তানহা অভির গলা জড়িয়ে ধরে।
“নাহহহ গর্ব হচ্ছে। এই রকম একটা ছেলেকে ভালোবাসার জন্য। প্রাউড ফিল করি আমি। আমার জন্য রেস্টুরেন্টে বাসন মেজেছেন?
এতোটা ভালো কবে বাসলেন আমায়?
অভি তানহার কপালে কপাল ঠেকায়।
” জানি না
তানহা অভির বুকে মাথা রাখে।

❤️❤️❤️❤️❤️

পাঁচ বছর পরে

ওয়েলকাম রুমে মাই শো ভালোবাসি তাই। আমি আরজে অভি চলে এসেছি আপনাদেরকে নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প শোনাতে। বর্তমান যুগে আমরা ভালোবাসা দেখতে পায় টিকটক আর ফেসবুকে কিছু পোষ্ট বা নতুন হওয়া কিছু সিঙ্গারের গানে। ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে নেশার নৌকায় চান্দের দেশে যাওয়া ভালোবাসার নমুনা। কিন্তু ভালোবাসা কিন্তু এটা না। ভালোবাসা স্বচ্ছ পানির মতো। ভালোবাসা নেশা করতে শেখায় তবে সেটা মদ গাঁজার নেশা না ভালোবাসার নেশায়।
তুমি রাখার মতো রাখতে জানলে তোমার ভালোবাসার মানুষটি কখনোই তোমাকে ছেড়ে যাবে না।

তানহা আর তার চার বছরের মেয়ে আয়াত শো টা দেখছিলো। তানহা রাগে গজগজ করছে। মেয়ের মুখে একের পর এক চকলেট ঢুকিয়েই যাচ্ছে। সে চিবতে পারছে কি না সে দিকে খেয়াল নেই।
কাল রাতে অনেকেই অভির ফেসবুক পেইজে কমেন্ট করেছে তার মেয়ে আর বউকে নিয়ে কিছু বলার জন্য। কিন্তু অভি বলছেই না। নিশ্চয় ইগনোর করছে।

“অনেকেই আমার ভালোবাসার কথা জানতে চেয়েছে। হ্যাঁ আমি দুজনকে ভীষণ ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি। তারা দুজনই আমার দুটো কিডনি। তাদের ছাড়া আমি এক মুহুর্তের জন্যও আমার কথা ভাবতে পারি না।

অভির কথা শুনে তানহা এবার ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলে।
তানহার দেখা দেখি মেয়েটাও কাঁদছে।
দুজন বলছে তারমানে অন্য কেউ আছে ওর জীবনে। ও আর আমাদের ভালোবাসে না।

” তারা দুজন হলো আমার স্ত্রী এবং সন্তান। আমার মেয়ের চার বছর বয়স। নাম তানজিলা তাবাসসুম আয়াত।
ওরাই আমার সব।

মোহনার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি এই কয়বছরে। কোথাও আছে আদও বেঁচে আছে কি না কেউ জানে না। জানতে চায়ও না কেউ।
স্মৃতি আর আবিরের এক ছেলে হয়েছে আয়াতের দুই দিনের বড়। ছেলেটার নাম রেখেছে সাওম।
আয়াত আর সাওমের খুব ভাব। দুজন দুজনকে চোখে হারায়।

অভি বাসায় ফিরে দেখে তানহা লাল শাড়ি চুরি পরে বসে আছে। মেয়েটাকেও লাল ফ্রক পরিয়েছে। চোখ মুখ ফুলে গেছে পিচ্চিটার।
অভি এসে মেয়েকে কোলে তুলে নেয়।
“কি হয়েছে আমার সোনা টার।
” মামনি এতো এতো চকলেট মুখে পুরে দিয়েছিলো।
বলেই আবার ঠোঁট উল্টায়।
অভি চোখ পাকিয়ে তানহার দিকে তাকায়। তানহা ভয়ে চুপসে যায়।
“কাল থেকে পাপা তোমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে। ওকে
আয়াত খুশি হয়ে বাবার দুই গালে চুমু দেয়।
তানহা অভির জন্য লাল একটা শার্ট নিয়ে আসে।
” এটা পরে নাও ঘুরতে যাবো।
“আগেই বুঝেছিলাম।
তানহা মিষ্টি করে হাসে।
” আমার সব আবদার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কেনো পূরণ করেন?
#ভালোবাসি তাই
অভি তানহার কোমর জড়িয়ে বলে।
তানহা তৃপ্তির হাসি হেসে অভির বুকে মাথা রাখে। মেয়েটা আবার কেঁদে ওঠে। অভি তানহাকে ছেড়ে মেয়েকে কোলে নেয়।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here