ভয়ংকর প্রণয় পর্ব ৭

#ভয়ংকর_প্রণয়
Part_7
লেখনীতে_#Nusrat_Hossain

এই প্রথম ফাতেমা আরা স্বামীর বিরুদ্ধে গেলেন ।আর এটাই উনার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল ।তিনি গলা কঠিন করে তনয়কে বললেন ,

অসম্ভব ।তুমি এই কথাটা আর কোনোদিন-ও মুখে আনবেনা তনয় ।নাফিয়া তোমাকে নিজের ভাইয়ের চোখে দেখে ।দ্বিতীয় বার নাফিয়াকে বিয়ে করার কথা ভুলেও নিজের ভাবনাতে এনো না ।
ফাতেমা আরা খুব ভালোভাবেই জানেন তনয় ছেলেটা সুবিধার না ।প্রতিটা রাতে মেয়েদের নিয়ে মেতে থাকে ।তনয় ভালো হলে তিনি মেয়েকে তনয়ের হাতে তুলে দিতে দুবার-ও ভাবতেন না ।কিন্তু তনয় ভালোনা ওর কাছে মেয়েকে দিলে দুইদিন-ও মেয়েটা শান্তিতে বাঁচতে পারবেনা ।তাই তিনি ভাই বোনের দোহাই দিয়ে তনয়ের বিয়ের কথাটাকে ঘুরানোর চেষ্টা করছেন ।

তনয় মুখ ফুঁটে কিছু বলার আগেই আজম খাঁন ক্রুব্ধ হয়ে ফাতেমা আরাকে চিৎকার করে বললেন অসম্ভব হইবো কেন ? ওর মত একটা নষ্টা মেয়েকে কে বিয়া করব ?ওর বিয়া তনয়ের সাথেই হইব আর কালকের মধ্যেই হইব ।

তনয় মনে মনে পৈশাচিক হাঁসি দিল চাচা বিয়েতে মত দেওয়াতে ।তাকে আর আগবাড়িয়ে কোনো চাল চালতে হল না ।

নষ্টা কথাটা শুনে নাফিয়া দুহাতে কানজোড়া চেঁপে ধরল ।কষ্টে বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে তার ।চোখ দিয়ে অজস্র জল গড়িয়ে পড়ছে ।সে কান্নারত গলায় বিরবির করে বলল আল্লাহ এমন বাপ তুমি কোনো মেয়েকে দিওনা ।

মেয়েকে নষ্টা বলায় ফাতেমা আরা-ও সহ্য করতে পারলেন না ।তিনি ফোঁসফোঁস করতে করতে আজম খাঁনের পাঞ্জাবির কলার চেঁপে ধরে বললেন

আপনি বাপ নামের কলঙ্ক ।মুখে একটুও বাধলনা নিজের সন্তানকে এভাবে নষ্টা বলতে ? বাধবে কিভাবে ? ফাতেমা আরা তাচ্ছল্য হেঁসে বললেন যে নিজের সন্তানকে মেরে ফেলতে পারে তার কাছে তো কিছুই বাধেনা ।জানো…ফাতেমা আরা আর কিছু বলতে পারলেন না তার আগেই আজম খাঁনের শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে ছিটকে পরলেন সোফার সামনে থাকা টি-টেবিলের কোণায় ।মুহূর্তেই ড্রইংরুমটা রক্তে মাখামাখি হয়ে গেল ।
নাফিয়া মা……. বলে চিৎকার দিল ।

নিলয় ফাতেমা আরার বা হাতটা ধরে মাথা নাড়ালো ।নিলয়ের মাথা নাড়ানোতে সবাই যা বোঝার বুঝে গেল ।আজম খাঁন চোখ বুজলেন । অদূরে জড়োসড়ো হয়ে থাকা আছিয়া , রাইশা আর আতিফা দৌঁড়ে এল ফাতেমা আরার পড়ে থাকা নিথর দেহটার কাছে।

নাফিয়া দৌঁড়ে গিয়ে মায়ের নিথর দেহটাকে ঝাপটে ধরল । আর মায়ের গালে আলতো করে হাত বুলাতে বুলায় ভারী গলায় বলল ,

ম্ মা ও মা চোখ খোলো প্লিজ ।আমার খুব ভয় করছে মা । একটু চোখটা খোল মা…. ।

আছিয়া নাফিয়াকে ঝাপটে ধরল ।

আজম খাঁন গম্ভীর গলায় বললেন লাশটাকে কবর দিয়ে দাও ।
_____________________

আজ এক সপ্তাহ হল ফাতেমা আরা মারা গেছেন ।নাফিয়া গুটিসুটি মেরে বিছানায় শুয়ে আছে আর অশ্রুবিসর্জন দিচ্ছে ।মায়ের সাথে কাটানো হাজারো স্মৃতি মনে পরছে ।আজম খাঁন একটু মারলে বা বকলেই মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদত সে আর তার মা তাকে এটা সেটা বলে শান্ত করাত ।আজম খাঁন তার মাকে বাড়ির বাইরে পা রাখতে নিষেধ করেছিল ।তার মা-ও কোনোদিন আজম খাঁনের সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে বাড়ির বাইরে পা রাখেনি ।আজম খাঁন তার মাকে কম জ্বালায়নি । কিন্তু মাকে কোনোদিন-ও আজম খাঁনের নামে কটুক্তি করতে দেখেনি ।দেখা যেত আজম খাঁন কোনোদিন-ও তাকে মারলে ধরলে সে যখন মায়ের কাছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদত তখন তার মনটা আজম খাঁনের জন্য বিস্বাদে ভরে যেত কিন্তু তার মা উল্টো আজম খাঁনের নামে ভালো ভালো কথা শোনাত তাকে । তখন নিমিষেই তার মনটা ভালো হয়ে যেত ।

রাইশা ভাতের প্লেট নিয়ে নাফিয়ার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে ।সে নাফিয়ার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বলল

নাফিয়া উঠো ।ভাতটা খেয়ে নাও ।

নাফিয়া বিছানা থেকে উঠে রাইশার কমোর জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে বলল

ভাত আমার গলা দিয়ে নামবেনা ভাবী ।আমার কিছু ভালো লাগেনা ।তুমি চলে যাও আমি কিছু খাবোনা ।

রাইশা কান্নারত গলায় বলল এভাবে সারাদিন না খেয়ে থাকলে বাঁচবে কিভাবে ? কিছুটা মুখে দাও বোন ।

নাফিয়া মাথা নাড়িয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল ।বসে থাকার-ও শক্তি পাচ্ছেনা ।সবকিছু বিস্বাদ বিস্বাদ লাগছে ।

রাইশা বলে তোমার শরীর খুব দুর্বল নাফিয়া ।প্রেশার লো হয়ে গেছে ।একটু খেয়ে নাও বোন ।

রাইশা নাফিয়াকে জোড় করে কয়েক লোকমা ভাত খায়িয়ে দিয়ে চলে গেল ।ফাতেমা আরার মৃত্যুর পর এই সাতটা দিন জোড় করেই নাফিয়াকে ভাত খায়িয়ে দেয় সে।রাইশা যাওয়ার পর নাফিয়া জানালার সামনে দাঁড়াল ।অদূরে থাকা বকুল গাছের নিচে মা আর বোনের কবর দেখে হু হু করে কেঁদে উঠল ।

এত পাপ আল্লাহ সহ্য করবনা তনয় আছিয়া রাগী গলায় বললেন ।

ভালোবাসা কোনো পাপ না তনয় ভাবলেশহীন ভাবে বলল ।

তোরা কি চাস ? মেয়েটাকেও এখন শান্তিতে বাঁচতে দিবিনা তোরা ।দয়া কর একটু ওরে একটু শান্তিতে বাঁচতে দে ।

তনয় মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে নিজের রুম থেকে বের হয়ে আজম খাঁনের রুমে গেল ।আজম খাঁন তখন কপালে হাত দিয়ে শুয়ে ছিলেন ।

তনয় মেনি গলায় বলল চাচা পাড়ার লোকজন নাফিয়ার নামে অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলছে ।তনয় আরো কিছু বলতে নিলেই আজম খাঁন গম্ভীর গলায় বললেন

কি বলতাসে ওরা ?

তনয় গলার স্বরটা আরো নরম করে বলল নাফিয়ার নাকি কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে ।পাড়ার সব জায়গায় কথাটা ছড়িয়ে পরেছে ।

আজম খাঁন বিছানা থেকে উঠে বসলেন আর বললেন কালকেই বিয়ে হইব তোমার সাথে নাফিয়ার।সব বন্ধবস্ত কর ।

তনয় মাথা ঝুলিয়ে আজম খাঁনের রুম থেকে বেরিয়ে এল ।তার মন আনন্দে নেঁচে উঠছে ।অনেক দিনের পুরোনো কামনা মনে জেগে উঠেছে ।আর মাত্র একটা রাত ।কালকেই নাফিয়াকে একেবারের জন্য পেয়ে যাবে সে ভাবতেই ঠোটে বাঁকা হাঁসি ফুঁটে উঠল তনয়ের ।

চলবে,
@Nusrat Hossain

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here