মেঘের উল্টোপিঠ পর্ব -১৭

#মেঘের_উল্টোপিঠ
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
পর্ব-১৭

শুভ্র আকাশে আজ সূর্য নেই। ধূসর রঙের মেঘ দিয়ে পরিপূর্ণ পুরো আকাশ। মেঘের গর্জনে মাঝেমধ্যে ধরণীতে আছড়ে পড়ছে বিকট শব্দধ্বনি! প্রকৃতির বর্তমান হালের মাধ্যমে তারা জানান দিচ্ছে খানিকক্ষণ বাদেই পৃথিবী পৃষ্ঠে হানা দিবে তুমুল বর্ষণ! অবিন্যস্ত দমকা শীতল হাওয়া চারপাশে ইতিমধ্যেই তাদের দাপট দেখাতে শুরু করেছে। বর্ষণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্পর্শ হাতে পেতেই হকচকিয়ে উঠলাম! দৃষ্টিপাত ফেললাম পাশে। পূর্ব এখনো একই ভঙ্গিতে আমার একহাত শক্ত করে ধরে আছেন।

আমার প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি দোষীর ন্যায় মুখোশ্রী কুঁচকে নিয়ে বললেন,

‘ আগে যদি জানতাম নামটা জানার পর তোমার এই অবস্থা হবে তবে কখনোই তোমায় বলতাম না। এতো দূর্বল মনের কেনো তুমি ? ‘

আমি নিরুত্তর! পূর্ব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলার মৃদু শব্দ কর্ণপাত হলো। তিনি আমার তার হাতের মুঠোয় থাকায় হাতটা ছেড়ে দিলেন কোমলতার সাথে। অতঃপর বিনম্র কন্ঠে বললেন,

‘ দিবা নিজের স্বামীকে অব্দি কিডন্যাপ করিয়েছে। বুঝতে পারছো? তার পক্ষে তোমার ক্ষতি করা কোনো অসম্ভব কোনো কাজ নয়! আর আমি ঠিক অতোটা ইনফরমেশন কালেক্ট করতে পারিনি। শুধু এতটুকু জানি দিবা তোমায় কারো হাতে তুলে দেয়ার জন্য তিশানকে কিডন্যাপ করার নাটকটা সাজিয়েছে। এবং নিজের লোক দ্বারা কিডন্যাপ করিয়েছেও। পরিশেষে, কেনো ও এসব করছে আই ডোন্ট নো! এখনি হাইপার হয়ো না। স্বাভাবিক হও! তোমার এই নিস্তব্ধ, হেল্পলেস চাহনি আমার অন্তরাল ক্রমশ ক্ষতবিক্ষত করছে। ‘

পূর্বের কথায় আমি ফের অনুভূতিহীন দৃষ্টিপাত ফেলি। দিবা আপুর প্রতি পৃথিবীর সবথেকে বেশি ঘৃণা কাজ করছে এ মূর্হতে আমার। নিজ কার্য হাসিল করতে কতোটা নিচে নেমেছে সে! ছিহঃ! যদিও আন্দাজ ছিলো আপু বড় কোনো কিছু করতে চলেছে। সেদিনকার রেস্টুরেন্টে বলা তার কথোপকথন তারই প্রমাণ আগেই দিয়েছে আমায়।

সবশেষে মস্তিষ্ক শীতল করার প্রয়াসে নেত্রযুগল বন্ধ করে লম্বা, স্নিগ্ধ বাতাস টেনে নেই। পরিশেষে নেত্রজোড়া উন্মুক্ত করে বলে উঠি,

‘ আমি ঠিক আছি পুরোপুরি।আপনার আর কিছু বলার আছে? আমি ক্যাম্পাস ব্যাক করবো। ক্লাস আছে আমার। ‘

পূর্ব শব্দহীন ভাবে টেবিল থেকে ফুড ম্যানু হাতে তুলে ভরাট কন্ঠে বললেন,

‘ ক্লাস আরো ১ ঘন্টা পর শুরু হবে। এতো তাড়া কিসের? বসো! দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে। লাঞ্চ করে তারপর একসাথে ক্যাম্পাসে যাবো। ‘

আমি অনিচ্ছা প্রকাশ করে বললাম, ‘ খেতে ইচ্ছে করছেনা এখন। ‘

সঙ্গে সঙ্গে তিনি মৃদু ঝাড়ি দিয়ে বললেন, ‘ সকালে খেয়ে আসোনি। কাল রাতে জাস্ট একটা স্যান্ডউইচ খেয়ে ঘুমিয়েছো। এখন বিকাল হতে চলছে তার ওপর বলছো ক্ষিদে নেই? ‘

নেত্রযুগল কিয়ৎ পরিমাণ বৃহৎ হলো। অশান্ত মন কে শান্ত থাকার জন্য ধমকে বলেও কাজ হলোনা। সে উদগ্রীব! আমি কৌতূহলী গলায় বলি,

‘ আপনি জানলেন কি করে এসব?’

পূর্ব নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললেন, ‘ মা বলেছেন। ‘

অতঃপর সোফায় পিঠ এলিয়ে দিয়ে আশপাশে দৃষ্টিপাত ফেলি। রেস্টুরেন্টটা সুন্দর বেশ। খোলা – মেলা! ছাঁদে বসেছি আমরা দু’জন। মাথার ওপরের ছাঁদটা কাঁচের সম্পূর্ণ। তাই স্পষ্টত শুভ্রাকাশের দেখা মিলে। গুঁড়ি গুঁড়ি বর্ষণ হচ্ছে! খানিকক্ষণ আগের বাতাসের তান্ডবলীলা দেখে মনে হয়েছিলো বেশ জোরেসোরেই বৃষ্টি নামবে কিন্তু আমার ধারণা পাল্টে হলো উল্টোটা!

বৃষ্টিবিলাস শেষে আমার সামনাসামনি দৃষ্টি দিতেই দৃশ্যমান হয় পূর্বের নেত্রযুগল আমার দিকেই ঘোর লাগা চাহনিতে এলিয়ে আছে। আমি তাকাতেই সে তার চাহনি অন্যদিকে দিলো ঝটপট! ওয়েটার খাবার নিয়ে এসে পড়ায় আর কিছু বলার সুযোগ হলোনা আমার। ওয়েটার খাবার দিয়ে যাওয়ার পর পূর্ব আমার দিকে অর্ধেকাংশ খাবারের বেশি টুকু এক প্লেটে তুলে আমার সম্মুখে এগিয়ে দিলেন। কাঠ কাঠ গলায় বললেন,

‘ সবকিছু শেষ করবে। এক বিন্দু খাবারও যেনো না থাকে প্লেটে। গট ইট?’

আমি অসহায় কন্ঠে বলি, ‘ এতো খাবার খাওয়ান কেনো আমায় সর্বদা?’

‘ নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছে কখনো?পাটকাঠি ও তো মনে হয় তোমার থেকে একটু মোটা! এইযে কিছুক্ষণ আগে বাতাস বয়ে গেলো। সেখানে তোমায় দাঁড় করালে নিশ্চিত উড়ে যেতে! ‘

‘ অযথা ফাউল কথা।হুহ্! ‘ মুখ বাকিয়ে কথা পেশ করতেই পূর্ব মৃদু হাসলেন। কিছু বললেন না। চামচ হাতে নিয়ে একবার ইশারায় আমায় বললেন জলদি খেতে।

.

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কোলাহল মুক্ত সড়ক ধরে আমি এবং পূর্ব নিঃশব্দে হাঁটা শুরু করি। মেডিকেল এখান থেকে বেশি দূর নয়। পূর্ব তবুও সঙ্গে গাড়ি এনেছিলেন। ‘ গাড়িতে যাবোনা ‘ বলে জেদ ধরায়, পূর্ব শেষমেশ আমার জেদের কাছে হেরে হাঁটা শুরু করলেন। তিনি কয়েক কদম পিছে আর আমি সামনে। ফোনে ব্যাস্ত ভঙ্গিতে কথা বলতে বলতে ধীরস্থির ভাবে হাঁটছেন তিনি।

কিয়ৎক্ষণ পর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বামদিকে দৃশ্যমান হলো বেলি ফুলের গাছ! খোলা মাঠ। শুভ্র রঙের ফুলগুলি মাটিতে সাদা চাদর বিছানোর ন্যায় পড়ে আছে। বেলিফুল দেখে মাথা নষ্ট হলো আমার। আচমকা দাঁড়িয়ে পড়লাম। পূর্ব’ও ততক্ষণে কথা বলতে বলতে এসে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। হটাৎ আমার মাথায় বাচ্চাসুলভ ইচ্ছে চেপে ধরায় পূর্বের শার্টের কোণা টেনে ধরে বলি,

‘ শুনুন! শুনুন! ‘

ফোন কানে বহমান রেখেই আমার দিকে তিনি বিরক্তিমাখা নেত্রে তাকালেন। ইশারায় জিজ্ঞেস করলেন ‘ কি হয়েছে? ‘

আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ইশারা করে মাঠে থাকা ফুলগুলোর দিকে আঙুল তাক করি। পূর্ব বোধহয় বুঝলেন না কিছু। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কান হতে ফোন নামিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে বললেন,

‘ ফুল নিবে?’

আমি দ্রুত গতীতে মাথা নেড়ে সায় জানাই। তিনি নিজের ওষ্ঠ দ্বারা অধর চেপে একবার বেলিফুলের গাছটার দিকে দৃষ্টি ফেললেন। অতঃপর বললেন,

‘ আমি কিনে দিবোনে? এখান থেকে নেয়ার দরকার নেই। কার না কার গাছ। অনুমতি ছাড়া নেয়া ঠিক হবেনা। ‘

পূর্বের কথায় জেদ ধরে বলে উঠি, ‘ না! আমি এখান থেকেই নিবো। আর আমি গাছের ফুল তো নিচ্ছি না। নিচে দেখুন! কতো ফুল পড়ে আছে। ওগুলো নিবো। প্লিজ? ‘

পূর্ব বিরক্তিতে ওষ্ঠাধর আকৃতি ‘ চ ‘ এর ন্যায় করলেন। পরিশেষে পরাজিত হয়ে বললেন,

‘ এতো জেদী কেনো তুমি? ‘

নিরুত্তর থেকে সামনে হাঁটা শুরু করলাম। বেলি ফুলের কাছে পৌঁছানোর আগে পায়ের জুতোজোড়া খুলে নিয়ে পাশে রেখে দেই। সবুজ ঘাস! খানিকক্ষণ আগে হওয়া বর্ষণের পানির কণা গুলো ঘাসে লেগে আছে। হালকা শীত, শীত লেগে কাঁপুনি দিচ্ছিলো সর্বাঙ্গ! তবুও অদ্ভুত এক প্রশান্তি ছিলো এতে।

‘ এই মেয়ে! জুতো খুলেছো কেনো? পায়ে কিছু বিঁধে গেলে? এখানে কাচসহ অনেক কিছুই থাকতে পারে। জলদি জুতা পড়ো! ‘

পূর্বের কথায় অনিচ্ছা প্রকাশ করলাম। মৃদু কন্ঠে বলি, ‘ উঁহু! আপনিও খুলুন। অদ্ভুত এক প্রশান্তি লাগে। ‘

পূর্ব মানব ঘাড়ত্যাড়া! আগেই জানতাম আমি। এই লোক আমার কথা তো রাখলোই না বরঞ্চ সে আমার জুতোজোড়া হাতে করে নিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসলেন। একহাত পেতে দিয়ে ধমকে বললেন,

‘ যত্তসব উদ্ভট ইচ্ছে তোমার। পা দাও জলদি। ‘

ইতস্তততা ছড়িয়ে পড়লো অন্তরালে! পূর্ব আমার পা স্পর্শ করবে? ভাবতেই গা গুলিয়ে আসছে। সে আমার বড়। সম্মানজনক ব্যাক্তী সে আমার নিকট, জরতা নিয়ে বললাম,

‘ আমি পরে নিচ্ছি দিন! ‘

তিনি শুনলেন না। পা ধরে টান দিলেন। হকচকিয়ে তার কাঁধে হাত পড়লো আমার। জুতো পড়ানো শেষে উঠে দাঁড়িয়ে রাশভারী কন্ঠে আদেশস্বরূপ বললেন,

‘ এবার যাও। জলদি! ক্লাস শুরু হতে ১৫ মিনিট বাকি। ‘

আমি আমার ওড়না যতটুকু সম্ভব ফুল তুলে নিলাম। অতঃপর পূর্বকে তাড়া দিয়ে বললাম যেতে। ক্যাম্পাসে এসে নিজের ক্লাসের দিকে যাওয়ার সময় পূর্ব এক অদ্ভুত কর্ম করলেন! হাত দিয়ে আমার ওড়নায় পড়ে থাকা দুইটা বেলিফুল হাতে তুলে নিয়ে কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললেন,

‘ শুভ্রফুলে শুভ্রলতা! অপ্সরির ন্যায় তার সৌন্দর্যতা। ‘

____

তিনদিন পর!
তিশান ভাইয়ার আগমন ঘটে আমাদের বাসায় হুট করেই। সুস্থ নয় আহত অবস্থায়। আপু তাকে দেখে কিছুক্ষণ বেশ চিল্লিয়ে কাঁদে। সবই যে তার নাটক ছিলো তা বুঝতে বাকি নেই। তবুও চুপ ছিলাম। পূর্ব দিবা আপুর ব্যাপারে সবাইকে জানাতে নিষেধ করেছিলো। তাই জানায়নি! নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ কারণে তিনি এই বিষয়টি অবগত করতে নিষেধ করেছেন।

তিশান ভাইয়ার কপালে ব্যান্ডেজ করা শেষে রুমের দিকে যেতে নিলেই দিবা আপু আমার হাত ধরে বললেন,

‘ থ্যাঙ্কিউ বোন! মাফ করে দিস আমায় সেদিনকার বলা কথাটার জন্য। আমি হুঁশে থেকে বলিনি। ‘

আমি কৃত্রিম হেঁসে বলি, ‘ ইট’স ওকে আপু। আমি বুঝতে পেরেছি। ‘

আমাদের কথার মধ্যে তিশান ভাইয়া ফোড়ন কেটে বললেন,

‘কিসের কথা বলছো তোমরা? ‘

আপু ইতস্তত বোধ করে বললেন, ‘ পরে বলবো তোমায়।’

এক বিন্দুও দাঁড়ালাম না! ত্রস্ত পায়ে বের হয়ে আসি রুম থেকে। মানুষ এতোটা নিখুঁত অভিনয় করতে পারে? তাও নিজের আপনজনের সাথে। এমন অমায়িক ব্যাবহারের পিছে আপুর যেই হিংস্র রূপটা লুকিয়ে আছে তা যদি সম্মুখে থাকতো। সবাই দেখতো! তবে বুঝি প্রশান্তি মিলতো। তিশান ভাইয়ার জন্য খারাপ লাগছে। বেচারা ফেঁসে গেছে বাজে ভাবে আপুর কবলে! নিজের কার্য হাসিলে দিবা আপু তার স্বামীকে পর্যন্ত আঘাত প্রদান করলো। এমন কি কারণে আপু এতোটা নিচে নামলো?

___

গহীন রাতের গহ্বরে ডুবন্ত পুরো নগরী! অন্ধকার এর রাজত্ব চলছে চারপাশে। ঘুটঘুটে কালো আঁধারের মাঝেও চাঁদ তার স্বচ্ছ মিষ্টি আলো চার দিকে ছড়াতে ভীষণ ব্যাস্ত। পূর্ণিমা রাতে আবির্ভাব ঘটেছে তা জানান দিচ্ছে আশপাশ। এক ধ্যানে আকাশের পানে তাকিয়ে থাকাকালীন বারংবার মনে হচ্ছে কেও আমায় গভীর দৃষ্টিপাত নিক্ষেপ করে দেখছে। নিচে তাকাতে শূন্যতার দেখা মিললো।

খানিকক্ষণ পর! হুট করে কাধে তপ্তশ্বাস পড়তেই আচমকা ভীতি নিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াই। চটজলদি পিছনের দিকে ঘুরতেই দেখা মিললো অনাকাঙ্ক্ষিত মুখোশ্রী! ত্রস্ত পায়ে দু’কদম পিছিয়ে অস্ফুটস্বরে বলি,

‘ পূর্ব আপনি? এতো রাতে? কিভাবে এলেন?’

পূর্ব পিছন থেকে সরে রেলিং এ ঠেস দিয়ে দাঁড়ালেন। আমার পানে দৃষ্টি ফেলে রাশভারী কন্ঠে বললেন,

‘ দরজা ছাড়া এ বাসায় অন্যদিক দিয়ে আসার পথ আছে নাকি?’

আমি থতমত খেয়ে বলে উঠি, ‘ তা থাকতে যাবে কেনো? আচ্ছা যাইহোক! কেনো এসেছেন?’

পূর্ব নিরুত্তর থেকে এগোলেন। নিঃশব্দে! কাছে এসে আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে একহাত টেনে ধরলেন। কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে তিনি তার পিঠ পিছনে থাকা কাঁধব্যাগ থেকে চুড়ি বের করে আমার দুই হাতে পরাতে শুরু করলেন। আমি হতভম্ব! হতবাক! চুড়ি পরানো শেষে সে হাত ধরে ঝাঁকি দেন যার ফলস্বরূপ চুড়ির ঝনঝন শব্দ আশপাশে প্রতিফলিত হয়ে আমার কর্ণপাত হয়! আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম,

‘ বাই এনি চান্স! আপনি কি আমায় চুড়ি পরাতে এখানে এসেছেন? ‘

পূর্ব মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানান। যার মানে আমার কথাটি সঠিক! আমি ভীষণ আশ্চর্য! মনে মনে তাকে চমকে ‘ পাগলাটে প্রেমিক পুরুষ ‘ উপাধিটা প্রদান করে ফেলি আচমকাই। অতঃপর ভড়কে নিভৃতে বলি, ‘ সেকি আমায় ভালোবাসে নাকি? ‘

পূর্ব আমার হাত ছেড়ে দিয়ে শীতল কন্ঠে বললেন,

‘ ড্রাইভ করে বাসার পথে যাওয়ার সময় চুড়ির দোকান খেয়াল হলো। তখন মনে হলো তুমি আমার কাছে একবার চুড়ির আবদার করেছিলে। তাই কিনে এনেছি! আমি কারো আবদার অপূর্ণ রাখিনা তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই কাজ করা। ‘

পূর্ব আমার সামনে বিশাল এক বক্স রাখলেন। বক্সটার মুখ ছিলো উন্মুক্ত! সেখানে সাড়ি সাড়ি চুড়ি। মনে করার চেষ্টা করলাম কবে তার কাছে চুড়ির জন্য আবদার করেছিলাম? পূর্ব মানব ততক্ষণে পগারপার! চলে গেছেন। নিশ্চয়ই তাকে মা মেইন দরজার ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে রেখেছেন। তাই সহজেই আসতে পেরেছে! আমার দৃষ্টি ফের আবদ্ধ হয় আমার হাতে। হুটহাট কি ঘটে গেলো তার হিসাব মিলাতে ব্যাস্ত মস্তিষ্ক! এতটুকু নিশ্চিত হলাম আমি তার নিকট কখনো চুড়ির আবদার করিনি। কথাটা সে মিথ্যা বলেছে। লোকটা আসলেই অদ্ভুত! পাগলাটে বেশ! হুটহাট কি করে বোঝা বেশ দুষ্কর!

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here