#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৩
#Tanisha Sultana
আদি আর নিধি রিকশা করে ইভাদের বাসায় পৌঁছে যায়। ভালোই লেগেছে নিধির। প্রিয় মানুষটার সাথে রিকশা করে কোথাও যাওয়ার মজাই আলাদা। বেশ উপভোগ করেছে নিধি।
ইভা, সৌরভ ইভার দুই জন কাজিন আর ইফাদ বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়েছিলো নিধি আর আদির জন্য। ওরা আসতেই বেড়িয়ে পড়ে।
সৌরভ সুযোগ পেলেই নিধির সাথে গল্প জুড়ে দেয়। আদি একটু দুরে দুরে থাকছে নিধির থেকে। শুধু নিধি না সবার থেকেই। আসলে ওরা এটা ওটা কিনছে দেখছে দামাদামি করছে এগুলো ভালো লাগছে না আদির। মেয়েদের কোনা কাটা করার বিষয়টা বিরক্ত লাগে আদি।
নিধি ইভার জন্য শাড়ি চুজি করে দিচ্ছে। নিজের জন্য কিছু কেনার ইচ্ছে নেই। অনেক আছে ওর।
আদি অনেকখন যাবত একটা শাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। কেনার সাহস পাচ্ছে না। কিনলে কিভাবে নিধিকে দেবে? কি বলবে? বা কি করে দামাদামি করতে হয়? কি করে দোকানদার কে বলছে ভাই এই শাড়িটা আমি নেবো।
ইভা নোটিশ করেছে। আদিকে খেয়াল করে বুঝতে পারে আদি শাড়িটা দেখছে।
নিধি নিজের জন্য কিচ্ছু কিনছে না শুধু ইভাকেই চয়েস করে দিচ্ছে।
“কি রে?
ইভা পেছন থেকে আদির কাঁধে হাত দিয়ে বলে।
আদি কিছুটা চমকে ওঠে।
” হুমম বল
এদিক সেদিক তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে আদি।
“শাড়িটা পছন্দ হয়েছে? কিনে নে না?
শাড়ি টার দিকে ইশারা করে বলে।
” আরে না শাড়ি পছন্দ কেনো হবে? আমি কি শাড়ি পড়ি না কি?
একটু ফাঁকা হেসে বলে আদি।
“আদি আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। মন পড়তে পারি তোর। অনেকগুলো বছর এক সাথে কাটিয়েছি। আমার থেকে কেনো লুকোনোর চেষ্টা করিস? কেনো? আমি তো তোর থেকে কিছুই লুকোই না?
ইভা মন খারাপ করে বলে।
” সেরকমটা না। তেমন কিছু হলে অবশ্যই বলতাম।
আদি মুখ লুকিয়ে বলে।
“আদি
ইভা কপালে ভাজ ফেলে বলে।
” আসলে কি বলতো।
আমি না কনফিউজড। কি করবো বুঝতে পারছি না৷ এভাবে আর কতোদিন? কিছু একটা সিদ্ধান্তে পৌছানো দরকার। আমি আর ওই মেয়েটার সম্পর্ক এগোচ্ছে না আবার নেমেও নেই। কি করবো বুঝতে পারছি না রে?
“তোর মন কি বলছে?
” মন তো বলছো
থাক বাদ দে
“কেনো বাদ দেবো?
তুই আমার কথা শোন৷ শাড়িটা কিনে নে। মেয়েটা না খুব ভালো। তোকে খুব ভালোবাসে। তুই নিশ্চয় কখনো ওকে কিছুই দিস নি? এবার শাড়িটা দিবি। আর মনে যা চলছে বলে দিবি।
ইভা খুশি মনে বলে।
” কিন্তু ইভা তুই বুঝতে পারছিস না? ও আমার থেকে ছোট?
“তো? বর তো বউয়ের থেকে ছোটই হয়৷ আমার থেকে ইফাদ বড়। মায়ের থেকে বাবা বড়। এটাই তো হয়ে আসছে।
আদি ইভার দিকে কটমট চোখে তাকায়।
” শোন আদি তোকে দুইদিন সময় দিলাম। এই দুই দিনের মধ্যে তুই নিধিকে প্রপোজ করবি। নাহলে আমি তোদের ডিভোর্স করিয়ে দেবো বলে দিলাম।
দাঁতে দাঁত চেপে বলে ইভা।
আদি কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইভা চলে যায়।
আদি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
শাড়িটা কিনে নেয় আদি। সাথে শাড়ির সাথে মেচিং করে কানের দুল ও কিনে নেয়। এবার দেবে কি করে নিধিকে?
নিধি ক্লান্ত হয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আদিকে খুঁজছে কিন্তু লাটসাহেবের দেখা নেই। কোথায় আবার কোন মেয়ের সাথে ফ্লাট করতো গেছে কে জানে?
নিধি কিছুটা রেগে যায়।
আদি দোকান থেকে বের হতেই চোখ পড়ে নিধির দিকে। আঙুলে ওড়না পেঁচিয়ে দাঁতে দাঁত ফেলে কটমট করছে।
আদি এগিয়ে যায়।
“কি হলো? তোমার কেনা কাটা শেষ?
আদি নিধির সামনে দাঁড়িয়ে বলে।
নিধি চোখ বড়বড় করে তাকায় আদির দিকে।
” কোথায় ছিলেন?
“ওই দোকানটায় গেছিলাম একটু। বাসায় যাবো। তোমার হয়েছে?
” হুমমমম
“চলো
আদি আগে আগে হাঁটছে আর নিধি পেছনে পেছনে। আদির হাতে থাকা শপিং ব্যাগের দিকে তাকিয়ে হাঁটছে নিধি৷ এটার মধ্যে কি আছে তাই জানার আগ্রহ। নিধির জন্য তো কিছু কিনবে না তাহলে কার জন্য কিনেছে?
প্রশ্নে প্রশ্নে ভেতরটা গিজগিজ করছে নিধির। কিন্তু কোনো প্রশ্ন করতে পারছে না।
শপিংএর মলের বাইরে এসে দাঁড়িয়ে যায় নিধি। আদি খানিকটা হেঁটে পেছনে ফিরে দেখে নিধি অনেক দুরেই দাঁড়িয়ে পড়েছে। আদি আবার পেছনে যায়।
” কি হলো দাঁড়িয়ে গেলে যে?
“আপনার আজ এতো তাড়া কেনো? কি খিচুড়ি পাকাচ্ছেন?
নিধি ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে।
” খিচুড়ি পড়ে খেয়ো। আপাতত বাসায় গিয়ে তোমাকে পড়তে বসতে হবে।
নিধি কোমরে হাত দেয়।
“মানুষ হবেন না
বিরবির করে বলে।
” মনে মনে না বকে জোরে বলো। কি সাহস নেই?
“বলেছি হনুমান
বলেই জোরে হেসে ওঠে নিধি।
আদি কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। হাসিটা মাথা মুখটা দেখে বকা দিতে ভুলে যায় আদি।
সৌরভ নিধির জন্য জুতো কিনেছে কিন্তু দেবে কি করে? নিধিকে তো খুঁজেই পাচ্ছে না। ইভাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো নিধি আদির সাথে চলে গেছে। সৌরভের মনটা খারাপ হয়ে যায়।
বিকেলে বাড়ি ফিরে আদি নিধিকে পড়তে বসতে বলে কোথাও বেড়িয়ে গেছে। এখন সন্ধা হয়ে গেছে কিন্তু ফেরার নামই নেই। কোথাও গেলো কে জানে? কতোদিন হলো বাবা মাকে দেখা হয় না। ভেবেছে কাল যাবে দেখতে। জিসানও কথা বলছে না নিধির সাথে। এরা করছে কি বুঝতেই পারছে না নিধি।
নিধির বাবাকে আদি খুব ভালো একটা চাকরি দিয়েছে।
এবার নিধির মাথায় আসে সেই শপিং ব্যাগের কথা।
পুরো রুম তন্নতন্ন করে খুঁজে কিন্তু পায় না। মন খারাপ করে বসে পড়ে।
” কি ছিলো ওই ব্যাগে? আর কার জন্যই বা কিনে ছিলো?
প্রশ্ন জাগে নিধির মনে। বুকের বা পাশটায় চিনচিন ব্যাথা করে। আদি কি অন্য কারো প্রেমে পড়ে গেছে? অন্য কারো জন্য গিফট কিনেছে?
ভাবতেই কান্না চলে আসে নিধির। চোখ ভরে জানি চলে আসে। দু হাতে মুখ ঢেকে হু হু করে কেঁদে ফেলে।
ছাঁদে বসে সিগারেটে খাচ্ছে আর ভাবছে
নিধিকে দেখলেই কেমন কেমন লাগে। না দেখলে বুকের বা পাশে চিনচিন করে। সারাক্ষণ মেয়েটার সাথে থাকতে ইচ্ছে হয়। ওর দুষ্টুমী গুলো খুব এনজয় করে আদি। এই মেয়েটার থেকে দুরে সরে থাকতে পারবেই না আদি। আবার কাছে টেনেও নিতে পারছে না। কোথাও একটা বাঁধা পাচ্ছে। খুব করে ইচ্ছে করছে আগে পিছে না ভেবে মেয়েটার পাগলামিতে তাল মেলাতে।
মাথায় দুই হাত চেপে ধরে বসে আদি। সিগারেট ফেলে দেয়৷ বিষাক্ত লাগছে সিগারেটের ধোঁয়া। নিধি নামক পাগলের নেশার কাছে সিগারেট কিছুই না।
উঠে দাঁড়ায় আদি।
জিসান বলেছে আজ নিধির জন্মদিন। খুব ভালো একটা সারপ্রাইজে দেবে জিসান ওকে। আদি কেও সাথে থাকতে বলেছে। আদি ভেবে নেয় আজকে জন্মদিনে আদি নিধিকে জীবনের শ্রেষ্ঠ গিফটটা দেবে। চমকে যাবে নিধি। আর ভাববে না আদি। এতো ভেবে চিন্তে কিছু হয় না।
মেয়েটাকে হাসলে খুব সুন্দর লাগে। এই হাসিটা নিধি সারাজীবন দেখতে চায় আদি।
#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৪
#Tanisha Sultana
নিধির মা নিধিকে ফোন করে ইউশ করেছে। ফ্রেন্ড টিচার ফেসবুক ফ্রেন্ড সবাই নিধিকে উইশ করছে। নিধি তো ভুলেই গেছিলো আজ নিধির বার্থডে। ওদের কল মেসেজ এ মনে পড়ে গেছে। জিসান নিধিকে ইউশ করলো না৷ আদি যে নিধিকে উইশ করবে সে আশা নিধি করে না৷ কারণ নিধি জানে আদি কখনোই এটা করবে না। হয়ত জানেই না আজ ওর জন্মদিন। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিধি।
এই বয়সের মেয়েরা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে বার্থডে সেলিব্রেশন করবে। ঘুরবে ফিরবে পড়ালেখা করবে। কিন্তু নিধি এইটুকু বয়সে এসে ভালোবাসা বিয়ে এসব নিয়ে পড়ে আছে৷ কিছুটা পরিস্থিতি আর কিছুটা নিজের ইচ্ছেয়।
নিধির ভালো লাগছে না কিছুই। প্রিয় মানুষটির থেকে কোনো গিফট পাওয়া বা উইশ পাওয়াটা যে কতোটা খুশির বেপার সেটা নিধি জানে। কিন্তু উপভোগ করার ভাগ্য নেই।
রাত আটটার দিকে পড়তে পড়তে নিধির চোখদুটো লেগে গেছিলো। আদি রুমে এসে দেখে নিধি ঘুমিয়ে আছে মুখের ওপর বই দিয়ে। আদি নিধির পাশে বসে। ঘুমন্ত মুখ টার দিকে একটু তাকিয়ে থাকে। বইটা অতি সাবধানে সরিয়ে রাখে। তারপর নিধির হাত ধরে ঝাঁকিয়ে ডাকে।
“এই মেয়ে ওঠো
কিছুটা জোরে নিধিকে ডাকে আদি। নিধির ঘুমটা হালকা ছিলো ধরফরিয়ে ওঠে।
” কেকেকে
এদিক সেদিক তাকিয়ে বলে নিধি।
” রিলাক্স আমি
আদি আস্বস্ত নিধির কাঁধে হাত রেখে বলে।
নিধি শান্ত হয়ে বসে।
“ডাকছেন কেন? হাই তুলে বিরক্ত হয়ে বলে নিধি।
আদি হাতে থাকা শপিং ব্যাগ নামিয়ে রাখে খাটের ওপর। নিজে উঠে দাঁড়ায়।
” এটা পড়তে পারবে এখন? যদি তোমার কোনো পবলেম না থাকে।
আদি আমতাআমতা করে বলে।
নিধি ভ্রু কুচকে তাকায় আদির দিকে।
“কেনো পাড়বো না? কিন্তু এখন পড়বো কেনো?
সন্দেহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে নিধি।
” আমি বলছি তাই। পড়বে?
এতোটা অনুনয়ের সুরে আদিকে কখনোই কথা বলতে দেখে নি নিধি। তাই আর কথা না বাড়িয়ে মাথা দোলায়।
আদি ঠোঁট মেলে একটু হাসে।
“থ্যাংক্স
আসলে হয়েছে
আদি থেমে থেমে বলতে যায়। কিন্তু পারছে না। আসলে আদি বুঝতে পারছে না কি বলবে? নিধিকে ও গিফট দিয়েছে সেটাই নিধিকে বুঝতে দিতে চাইছে না বা লজ্জা পাচ্ছে।
” আসলে নকলের বাদ। আমি বুঝে গেছি৷ আপনি আমাকে কিছু গিফট দিলেন। আর আপনাকে সেটা পড়ে দেখাতে বলছে। এটা সরাসরি কেনো বলতে পারেন না? এতো দ্বিধা কেনো আপনার?
নিধি ফুরফুরে মনে বলে।
আদি ভরকে যায়।
“ততুমি যেটা ভাবছো সেটা নয়।
আবারও আমতাআমতা শুরু করে দেয়৷ নিজের ওপর নিজেই বিরক্ত হয়ে উঠেছে আদি। ফোঁস করে একটা শ্বাস নেয়। বাচ্চা মেয়েকে একটা গিফট দিতে এসে ঘাম ছুটে গেছে আদির। সাদা শার্টটা ভিজে গেছে।
হাত দিয়ে কপালের নামটা মুছে নেয়। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়।
” রে..ডি হয়ে নাও
বলে কোনোরকমে হতদম্ভ করে কেটে পড়ে আদি।
বাইরে বের হয়ে বুকে হাত দিয়ে জোরে শ্বাস নেয়। জাস্ট গিফট দিতে গিয়ে এই অবস্থা। প্রপোজ করতে গেলে নির্ঘাত হার্ট এ্যাটাক করবে।
নিধি ফিক করে হেসে ফেলে। লোকটার চোখ মুখ বলছে সে নিধিকে গিফট দিতে এসেছে। অথচ মুখে অস্বীকার করার ফন্দি। গোমড়ামুখো একটা
চট করে শাড়িটা পড়ে ফেলে নিধি। ভীষণ সুন্দর শাড়ি। এই ডিজাইনের শাড়ি নিধি হিন্দি সিনেমায় হিরোইন দের পড়তে দেখেছিলো। খুব ভালো লাগে নিধি। খুব ইচ্ছে ছিলো একদিন কিনবে। আর আজ আদিম কিনে দিলো। নিধির খুশি আর দেখে কে?
শাড়ির সাথে মেচিং কানের দুল আর লকেটটা পড়ে নেয়। ঠোঁটে হালকা করে একটু লিপস্টিক দেয় আর চোখে কাজল। ব্যাচ নিধি রেডি। উঁচু একজোড়া জুতো পড়ে খাটে গিয়ে বসে। কখন আদি আসবে? আদৌ আসবে তো? যেভাবে ভাবে গেছিলো নাও আসতে পারে?
ফোন খুঁজে আদিবকে কল করে নিধি।
আদি ফোন রিসিভ করে না। টেক্সট করে নিধিকে ছাঁদে যেতে বলে।
নিধি আয়নায় নিজেকে আরেকবার দেখে নিয়ে রুম থেকে বের হয়।
সামনে পড়ে তোহার। নিধির পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার স্ক্যান করে তোহা।
“কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
বুকে হাত গুঁজে প্রশ্ন করে তোহা।
” বরের কাছে। আজ আমার বার্থডে তো আমাকে সারপ্রাইজ দেবে। তাই ছাঁদে ডাকছে।
এক গাল হেসে বলে নিধি।
তোহা চোয়াল শক্ত করে ফেলে।
“যাই আপু
তোহা কিছু বলে না। নিধি তোহার দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে চলে যায়।
” এই মেয়েটার মধ্যে কি এমন আছে যা আমার মধ্যে নেই?
তোহা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে।
ছাঁদের দরজার কাছে এসে নিধি দেখে পুরো ছাঁদটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। নিধি কপালে দুটো ভাজ ফেলে। এতো অন্ধকারের মধ্যে নিধি যাবে কি করে? আর আদিই বা কোথায়? অন্ধকারের মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে?
নিধি খুকখুক করে কেশে নেয়।
“আপনি কোথায়?
নিধি হতদম্ভ করে ডাকে আদিকে।
আদিকে ডাকতেই ছাঁদের লাইট জ্বলে ওঠে। নিধি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভেতরে পা রাখে।
” হ্যাপি বার্থডে নি….ধি
এই প্রথমবার আদি নিধির নামটা বললো। নামটা উচ্চারণ করতে গিয়েও তুতলিয়েছে আদি। নিধি আদির দিকে তাকায়। ছাঁদের রেলিং এর সাথে ঠেসে দাঁড়িয়ে আছে আদি। কেমন নার্ভাস নার্ভাস লাগছে আদির। নিধির দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
নিধির আদির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আদির মাথা থেকে পা পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে নেয়।
“থ্যাংক ইউ
আপনার মুখে আমার নামটা খুব সুন্দর শোনাই। আজকে থেকে না না এখন থেকেই আপনি আমাকে নিধি বলে ডাকবেন? প্লিজ
নিধি কোথায় তুমি? নিধি আমার শার্ট খুঁজে পাচ্ছি না।
নিধি আমার খাবারটা কখন পাবো?
এই সব শোনার খুব ইচ্ছে আমার।
নিধি বলে।
আদি নিধির দিকে তাকায়। নিষ্পাপ মেয়েটা।
আদি উওর দেয় না।
নিধি আদির হাত ধরে। আঙুলের ভাজে আঙুল রাখে।
” আমার সতেরো বছর এখন। বড় হয়ে গেছি।
আদি নিধির দিকে তাকিয়ে একটু হাসে।
“তোমার জন্য একটা কেক এনেছি। যদি কাটতে?
নিধির হাসি মুখটা কালো হয়ে যায়। এই মানুষটা এমন কেনো? সব কিছুতেই নিধির পারমিশন লাগবে? অধিকার থেকে বলতে পারে না? ইন ফিউচার তো বলে বসবে নিধি তোমাকে কি একটা চুমু খাবো? যতসব
মুখে কিছুই বলে না নিধি। চুপচাপ এগিয়ে যায়।
ছোট টেবিলে একটা চকলেট কেক রাখা। তাতে আমার সুন্দর করে লেখা “Happy Birthday Picchi ❤️
কেক এর চারপারে বেলুন আর কালো গোলাপ রাখা। দুটো চেয়ারও আছে।
নিধি চেয়ারে বসে।
“বসার জন্য কি ইনভাইট করতে হবে না কি?
কিছুটা রেগে বলে নিধি।
আদি চট করে বসে পড়ে।
চলবে