হৃদয়ের অন্তরালে তুমি পর্ব ৭+শেষ

# হৃদয়ের _ অন্তরালে _ তুমি ♥♥

# পর্ব : ০৭

# লেখক : আয়ান আহম্মেদ শুভ

** উজ্জল মহূয়াকে গলা ধাঁক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিলো । মহূয়া মাটিতে বসে কাঁন্না করচ্ছিলো আর ভাবছিলো । উজ্জলের বিরুদ্ধে কেস ফাইল করলে আমার কোনো লাভ হবে না । কারন ওর অনেক টাকা আছে সব মেনেজ করে ফেলবে । কিন্তু আমার কি হবে ? এখন তো মাহিরকেও আমি সারা জিবনের মতো হারিয়ে ফেলেছি । আল্লাহ কোথায় যাবো আমি ??

** কথায় আছে খারাপ মানুষের অন্যায়ের বিচার বিধাতা নিজে করে । আর প্রকৃতি তার নিয়ম মাফিক তার কর্মের সঠিক ফল প্রদান করে । আজ তাই হলো । যাই হোক মহূয়া এখন ভাবচ্ছে মাহিরের কাছে গিয়ে দেখবে । যদি মাহির তাকে সত্যি ভালোবাসে তো মেনে নিবেই । মহূয়া মাহিরের খোঁজ করতে থাকলো । ঐ দিকে মাহির নিজের জিবন নতুর করে শুরু করলো ইতির সঙ্গে ।

✒ মাহিরে বিয়ে তো হয়ে গেলো ইতির সঙ্গে কিন্তু মাহির এখনও ইতিকে নিজের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারচ্ছে না । আসলে বহু বছরের বন্ধুত্ব তো তাই একটু সমস্যা হচ্ছে । বিয়ের সকল নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে করতে রাত হয়ে গেলো । রাতের দিকে মাহিরের রুমে ইতিকে পাঠানো হলো । মাহির নিজের রুমে ঢুকতেই দেখতে পেলো ইতি মালিহাকে নিয়ে শুয়ে আছে । মালিহা জেগেই আছে । মাহির মালিহার কাছে গিয়ে মালিহাকে নিজের কোলে তুলতেই ইতি জেগে গেলো । ইতি আচমকা মাহিরকে এতো কাছে দেখে একটু ভয় পেয়ে গেলো । ইতি দুম করে শোয়া থেকে উঠে নিজের শাড়ি ঠিক করে বসলো । কাঁপা গলার মাহিরকে উদ্দেশ্য করে বললো

— কিহহহ…… কিহহহহ…..কিহহহ…. হচ্ছে ??

— কই কি হবে ? এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো ? আমি তো মালিহাকে নিতে এসেছি । ভয় পাস না আমি ওই রকম না

— আরে ধূর ভয় পাইনি তো । ওই টা যাস্ট ফরমালেটি আর কি ( মিথ্যে বলো )

— ওহহহ আচ্ছা । যাই হোক আমি মালিহাকে নিয়ে অন রুমে গিয়ে ঘুমাচ্ছি । তুই দরজাটা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পর

— ওয়াট ??????

— কি হলো অবাক হলি যে ?

— ওই তোর ইচ্ছে করলে তুই গিয়ে আলাদা শুয়ে থাক । আমার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছিস কেনো ?

— আরে ভাই ওর জন্য তুই ঘুমাতে পারবি না । কিচ্ছুক্ষন বাদে বাদে কাঁন্না করে উঠে ও । তোর ঘুমে ডিস্টাব হবে

— হোক তাতে তোর কি ???

— আচ্ছা ঠিক আছে মালিহাকে শুয়িয়ে দিলাম । তুই ঘুমা আমি আসছি

— তুই কোথায় যাচ্ছিস ??

— কোথায় আবার রাত হয়েছে ঘুমাবো না ??

— হুম তা তো ঘুমাবিই কিন্তু কোথায় ?

— পাশের রুমে

— না

— না মানে ?

— আমার একা ভয় করে

— মালিহা তো আছে তোর সাথে

— ও তো বাচ্চা মেয়ে

— ওহহহ আল্লাহ ভয় পাস না আমি পাশের রুমেই আছি । দরকার পরলে ডেকে নিস

— ওইইইই তুই কি রে হ্যা ? নতুন বউকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিস !! লোকে কি বলবে ?

— দেখ ইতি আমি কিন্তু

— আরে চুপ খালি কিন্তু কিন্তু এখানে আয়

— মানে ? তোর কাছে কেনো যাবো ?

— তোকে ভালোবাসা শিক্ষাবো তো তাই । এদিকে আসবি নাকি আমি আসবো

— দেখ ইতি বেশি হচ্ছে কিন্তু……..

— আবার কিন্তু…..😡😡

** ইতি বিছানা ছেড়ে উঠে এসে মাহিরকে নিয়ে গেলো । অতপর আর কি খানেকটা জোর করেই ইতি আদায় করে নিলো স্ত্রীর অধিকার । আসলে ইতি চায়না মাহির মহূয়ার কথা চিন্তা করুক বা মহূয়ার কথা ভেবে কষ্ট পাক । সেই জন্যই এইসব করা আর কি

✒ সকাল হতেই মাহিরের রুমের বাহির থেকে প্রচন্ড চিৎকার , চেচামেচির শব্দ আসছিলো । চিল্লা চিল্লির শব্দ শুনে মাহির ও ইতির দুইজনেরই ঘুম ভেঙে গেলো । মাহির ও ইতি দুইজনেই একটু অবাক । আসলে কেউই বুঝতে পারচ্ছে না ঘটনা কি ? মাহির বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলতেই দেখতে পেলো সেই প্রতারক মেয়েকে । যে মাহিরের হৃদয়ের পবিত্র অনুভূতির সাথে নোংরা খেলা খেলেছে । মাহির মহূয়াকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভিষন বদলে গেলো । মাহির মহূয়াকে বললো

— তুমি ?

— মাহির আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি ভূল করেছি তোমার সাথে প্রতারনা করে । প্লিজ মাহির একটা সুযোগ দাও আমাকে প্লিজ

— আহা ওভাবে বলছো কেনো ? মহূয়া আমি তোমারই আছি । তুমি তোমার মেয়েকে দেখবে না ?

— হুম মাহির ( অবাক চোখে )

— আসো রুমে

** মাহিরের কথা গুলো শুনে ইতি পাথর হয়ে গেলো । না চাইতেও ইতির চোখ বেয়ে পানি পরচ্ছিলো । মহূয়াকে দেখে যতটা খারাপ লাগেনি তার থেকেও হাজার গুনে বেশি খারাপ লাগছে তার এই ভেবে যে মাহির আবারও বদলে গেছে । যাই হোক কিছু সময় পরে মহূয়া কে মাহির ইতির সামনে দাড় করালো । মাহির মাথা নিচু করে ইতিকে বললো

— ইতি দেখ তোর সাথে কাল আমার বিয়ে হয়েছে ঠিকই কিন্তু মহূয়াই আমার হৃদয়ের সবটা জুরে আছে । আমি মহূয়াকে নিয়েই খুব খুশি ও সুখি । আমি আবারও মহূয়াকে নিয়ে নিজের জিবন শুরু করতে চাই । তুই কি বলিস ?

— বাহহহহ খুব ভালো কথা । হুম মাহির তুই যখন খুশি তখন আমার আর কিচ্ছু বলার নাই । ঠিক আছে মাহির তুই মহূয়াকে নিয়ে থাক আমি চলে যাচ্ছি

— আমাকে মাফ করে দিস ইতি কাল রাতের জন্য । আর আজকের জন্য

— ছি ছি তুই আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছিস কেনো ? আমার তোকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই । তবে মাহির একটা জিনিস জানিস আমার ভাগ্যটা বড়ই অৎভূত যাকে সব সময় চেয়েছি তাকে পেয়েও আবার হারালাম । কষ্ট পাওয়ার থেকেও বেশি খুশি আজ আমি । কারন মাহির খুশি তো । তোর খুশিটা আমার কাছে সব থেকে বেশি ইমপ্রটেন্ট আর কিচ্ছু না ।

— হুম ,, তো মহূয়া তুমি কি আমার সাথে থাকতে চাও ?

— হ্যা ( মহুয়া )

— ঠাসসসসসস , ঠাসসসসস ( মাহির )

** থাপ্পর এর কারন কি তা মহূয়া বুঝতে পারলো না

— তোমার মন মানশিকতা সত্যিই মহান । আমার সাথে প্রতারনা করে তুমি আবারও আমার জিবনে ফিরতে চাও । বাহহহহ । ওই দেখো ইতিকে । ওতো একটা মেয়ে । কাল ওকে বিয়ে করেছিলাম আমি । আর আজ ও আমার খুশির জন্য নিজের সংসার ছাড়তেও রাজি । নিজের মাতৃত্য নষ্ট করে ফেলেছে এই ইতি তাও আমার জন্য । তোমাকে বিয়ে করার পরেও এই ইতি আমার জন্য নিরবে অপেক্ষা করেছে । আরে আমি তো কয়লার মধ্যে থাকা সর্ন কে দেখতেই পাই নি । তুমি নিজের আনন্দের জন্য আমাকে ছেড়েছো । আর ইতি আমার আনন্দর , খুশির জন্য সব ছেড়েছে । তুমি নিজের সুখ খুঁজেছে আর ইতি আমার সুখের মধ্যে ওর সুখ খুঁজেছে । আজ তুমি কেনো ফিরেছো তা আল্লাহ জানে তবে আমি মাহির আর জিবনেও সেই ভূল করবো না । আর তোমাকে বিশ্বাস করবো না । কারন ভাঙা বিশ্বাস আর ফেলে আসা সময় কোনো দিন ফিরে আসে না । যাই হোক তুমি এখন আমার সামনে থেকে এই মুর্হূতে বের হও । আর জিবনেও তোমার ছায়া আমি দেখতে চাই না । যাস্ট গেইট লস্ট মহূয়া

— মাহির আমার ……………

— বললাম না বেরিয়ে যেতে । কোনো পতিতার স্থান আমার হৃদয়ে নাই । যাও বলছি 😠

** মহূয়া মাথা নিচু করে মাহিরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো । মাহির বাহির থেকে নিজের রুমের দিকে যেতেই দেখতে পেলো ইতি ব্যাগ পত্র গুচ্ছাচ্ছে । মাহির প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে ইতির দিকে তাকিয়ে রইলো কিচ্ছুক্ষন । অতপর বললো

— ওই কই যাস তুই ?

— চলে যাচ্ছি ( কাঁন্না করতে করতে )

— কোথায়

— আমার বাড়িতে ( হেঁচকি উঠে গেছে )

— এটাই তো তোর বাড়ি

— তুই না বললি বেরিয়ে যেতে । মহূয়া চলে এসেছে তো

— আরে পাগলি মহূয়া আসুক তাতে তোর কি হুম । যে ইচ্ছে আসুক তুই আমার থেকে কখনও দূরে যাবি না বুঝলি । আর আমি বললেই চলে যাবি কেনো হুম । জোর করে থাকবি তুই । যেমনটা কাল রাতে জোর করেছিস

— ধূর ফাজিল

* জরিয়ে ধরলো মাহির খুব শক্ত করে ইতিকে

— হুম তোর আচ্ছা শোনো ইতি আজ থেকে তুই বাদ তুমি

— আমার সমস্যা হবে তুমি বলতে

— আচ্ছা তা হলে আর কি আমি আপনি করে বলি

— ওই না । তুমি

— হুম গো একটা কিস দাও এখন

— কিহহহ যাও মালিহা জেগে গেছে

— ওরে আমার মালিহারে বাবা তুই একটু চোখ বন্ধ করতে পারিস না

— হুম করবে তো দেখছো কেমন করে ওর মা এর দিকে তাকিয়ে আছে ।

— শুধু মা বাবা কি বাদ ?

— হুম বাবা টা ভালো না পঁচা

— কিহহহহহ । আজ ইতি তুই শেষ….

✒ এই ভাবাই চলতে থাকে মাহির ও ইতির জিবন । অনেক বছর কেটে গেলেও মাহির আর কোনো দিন মহূয়ার কোনো খবর বা খোঁজ পায়নি । তবে একটা জিনিস মাহির ঠিকই পেয়েছে । তা হলে একজন আদর্শ জিবন সঙ্গি । মালিহা পেয়েছে একজন আদর্শ মা । আর মহূয়া পেয়েছে লোভের সাজা ।

** অতপর শুরু হয়ে গেলো মাহির ও ইতির দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প । জিবনে সব ভূল মেনে নেওয়া গেলেও । প্রতারকদের ২য় বার মেনে নেওয়া যায় না । এই গল্পটা টা কোনো কাল্পনিক ঘটনা নয় । সত্যি ঘটনা । আসলে আমাদের চার পাশে এরকম আরও অনেক ঘটনা ঘটে । যাই হোক মাহির শেষ থেকেই আবার নিজের জিবন শুরু করলো । একটা কথা কি জানেন ? একটা ঘরে যদি স্যতিকারের ভালোবাসা থাকে । সেখানে ডাল , ভাত খেয়েও খুব সুখে দিন কাটানো যায় । লোভ একজন মানুষকে বিবেকহিন , চরিত্রহিন , প্রতারক বানিয়েদেয় আর ভালোবাসা মানুষকে মহান বানায় । জয় হোক সেই সকল পবিত্র ভালোবাসার যা আসে হৃদয়ের পবিত্র অনুভূতি থেকে ।

——————- সমাপ্ত ———————–

( নতুন গল্প কবে দিবো বা কোন বিষয়ে লিখবো নিজেও জানি না । তবে পরে গল্প আমার গ্রুপে দেওয়া হবে । আশা করি যারা এখনও জয়েন করেন নাই তারা খুব তারাতারিই জয়েন করবেন । আর যারা রিডার আছেন তবে আপনাদের রিকোয়েস্ট এক্সেপট হয় নাই । তারা কমেন্ট করুন । ইনশাল্লাহ এক্সেপট হবে । আর যারা রিডার নয় তবে অযথা আমার আইডিতে আছেন তারা ধিরে ধিরে আনফ্রেন্ড হয়ে যাবেন । ধন্যবাদ সকলকে পাশে থাকার জন্য )

# To be Happy 😇😇
# To be Connected 💕
# Happy Reding ♥♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here