শুধু তোমারই জন্য পর্ব ৪

##শুধু_তোমারই_জন্য পর্ব ৪
#সাবানা খাতুন

অর্নব এবার রেগে গিয়ে বলল তুমি কি বলতে চাইছো সেটা আগে বলবে? নকল পেপার আসল হল কি ভাবে।,এইবার কাঁকন বলল রাগ টা নিজের পকেটে রাখো বুঝলে আমাকে রাগ দেখিয়ে লাভ নেই আমি এখানে তোমার রাগের ধার ধারতে আসিনি। রুমা দেবী বলল বাবু তুই চুপ কর আমি কথা বলছি না । ঠিক আছে বলবেতো হল টা কিভাবে?কাঁকন বলল তাহলে শুনুন আপনার ছেলে যে উকিলের কাছে এই টা(পেপার দেখিয়ে বলল) করতে গিয়েছিল সে আসলে আমার বাবার বন্ধু ।উনি যখন আমার নাম দেখেন কাগজে তখন ভাবলেন আমি হয়তো বিয়ে করব।তাই আসল কাগজ বানিয়ে দিয়েছিলেন আর সেখানেই আপনার ছেলে আমার সাইন নিয়েছিল।আর নিজেও সই করে দেয় আর তুমি একবারও দেখলে না কাগজটা আসলেই কি জাল?কাঁকন বলল অর্নবকে। এইবার অর্নব যেন আরো অকুল পাথারে পড়ে।কাঁকন বলল একটা তুচ্ছ মেয়েকে এত প্ল্যান করেও শায়েস্তা করতে পারলে না,তোমার ঘাড়ে এসে পড়লাম। হেসে কুটোপাটি খায় কাঁকন ,বলতে থাকে আমিও ভেবেছিলাম যে আমাকে ঠকিয়েছে , পরে জানতে পারলাম আসল ঘটনা যে কে কাকে ঠকিয়েছে আর কে ঠকলো।সবাই এবার অর্নবের দিকে তাকিয়ে ঘৃণার দৃষ্টি দিচ্ছিল,অর্নব ঠোঁট কামড়ে চুপচাপ শুনছিল,কাঁকন বলে উঠল, তো মিঃ অর্নব চৌধুরি বিধাতা এবার কার উপর সহায় হয়েছে হুম.. বুঝতে পেরেছো।

অর্নব রাগে ফুঁসছিল আর কাঁকন এমন ভাব দেখাচ্ছিল যেন এভারেস্টে জয় করে এসেছে।এইবার রুমা দেবী বলল তা তুমি যখন জানতে যে বিয়েটা আসল তাহলে তখন কেনো আসোনি? ,কাঁকন বলল একমাস আগেই জানতে পারলাম যে পেপার টা আসল।তারপর খবর পেলাম অর্নবের এনগেজমেন্ট সময়টা বেশ ভাল আর মিঃ অর্নব চৌধুরিকে একটা মোক্ষম শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম তাই হিসাব মিলিয়ে দিলাম।কিন্ত একটা কথা যতক্ষন না আমাদের ডিভোর্স হচ্ছে ততক্ষন আমি এখানেই থাকব, অর্নব বলল না তা হতে পারে না,এইবার অভিরাজ চৌধুরি বললেন ও ঠিক বলছে আজ থেকে ও এখানে থাকবে যাতে করে তোর করা পাপ তুই নিজের চোখে দেখতে পারিস।রুমাদেবী বলল ঠিক আছে ও থাকুক এখানে আমি গেস্ট রুমে ওর থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।আর বাবু কাল কোর্টে গিয়ে ডিভোর্স পেপার ফাইল করবে, কাঁকন জোর গলায় বলল না…… আমি আমার স্বামীর রুমে থাকব কারন আমি ওর আইনত স্ত্রী ।রুমা দেবী কড়া দৃষ্টিতে বলল তুমি কি বলছো তুমি জানো এই বাড়ির বৌ হওয়ার তোমার কোনো যোগ্যতা নেই।তাই নাকি তো আপনার ছেলে আমার স্বামী হওয়ার যোগ্য নয়।যে নিজের অহংকার আর জেদের জন্য সামান্য কারনে কারোর মন কে আঘাত দিতে পারে সে আসলেই নিম্নমানের চিন্তাধারার মানুষ আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো । আমাকে ধোকা দিয়ে বিয়ে করার জন্য ওকে আমি জেলেও দিতে পারি বুঝলেন।তোমার তো সাহস কম নয় আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে যাতা বলে যাচ্ছো তুমি চেন আ….এতটাই বললেন রুমাদেবী।স্টপ ইট আরগু চেঁচিয়ে অভিরাজ চৌধুরি বললেন কাঁকন এখানে আর বাড়ির ভেতরেই থাকবে আর কেউ আপওি করলে সে তার ব্যবস্থা করে নিক যওসব আহাম্মকি কাজ।, আর কারোর কথা শুনতে চাই না বলেই হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলেন ।রুমা দেবীর মুখে থমথমে রাগ বাইরের লোকের জন্য তাকে অভিরাজ অপমান করল।

অর্নব দাড়িয়ে আছে নিজের রুমে কাঁকন একটা বড় দেখে হাই তুলে বলল এত ভাল খাওয়ার খেয়ে হেব্বি ঘুম পাচ্ছে।আর বিছানাটাও কত নরম আজ তো দারুন ঘুম হবে ওফ…কত দিন আরামসে ঘুমাইনি। বলে বিছানায় ঘুমাতে যাবে অর্নব একঝটকায় হাত ধরে তুলে বলল আমার মনে যেমন তোমার জায়গা নেই তেমন আমার বিছানাতেও তোমার স্থান নেই। কাঁকন চোখ বড় বড় করে বলল নিচে যা বলেছি সেটা আমাকে সত্যি করতে বাধ্য করোনা য়কাঁকন অর্নবের চিবুকে হাত দিয়ে বলল ওলে বাবা আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে আমার একটুও ভাল লাগবে না,অার তোমার আর ফ্যামিলির সো কলড মান সম্মান নিশ্চয় ধূলোয় মিশাতে চাইবে না।,অর্নব ঝটকা দিয়ে কাঁকনের হাত সরিয়ে দেয় বলে বন্ধ কর তোমার অভিনয়,এইবার কাঁকন অর্নবের মুখের সামনে আঙুল তুলে বলল এই যে শোনো অভিনয় আমার সাথে তুমি করেছো।অনেক সহ্য করেছি এবার আমার আসল চেহারা তোমাকে দেখাবো ,অর্নবের কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে কাঁকন বলল ওয়েলকাম টু হেল। তোমার সাথেও আমিও লুতুপুতু করতে আসিনি।ডিভোর্স নিয়ে তবেই যাবো, আমার বিশ্বাস ও ভালবাসাকে যে ভাবে তুমি আঘাত করেছো সেইরকম তোমার জীবন কে আমি নরক বানাবো ,দুই বছর আগের কাঁকন আবার ফিরে এসেছে।আর সে কি জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে তুমি জানো।

অর্নব দেখল কাঁকনের চোখে তার প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নেই, কাঁকন বলল আমার পাশে ঘুমাতে পারো ডোন্ট ওরি কিছুই হবে না কারন আমার মনে তোমার প্রতি কোনো ফিলিংস নেই, বলে কাঁকন ঘুমিয়ে পড়ল অর্নব আর কি করে বালিশ নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ে।আর ভাবতে থাকে কি থেকে কি হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে অর্নব কাঁকনকে ঘুম থেকে তুলতে লাগল, এই ওঠো আরে এতো কেউ ঘুমায় নাকি? ঘুম জড়ানো কন্ঠে কাঁকন বলল কেন তুমি কি আমাকে টিভি সিরিয়ালের চিঁছকাদুনে বৌ পেয়েছো যে বিয়ের পরের দিন শ্বশুরবাড়ির সবার মন রাখার জন্য সকাল সকাল চা আর টিফিন বানাতে রান্নাঘরে ছুটবে।ঐ আশা ভুলেও মনে পুষে রেখো না বুঝলে।অর্নব বিরক্ত হয়ে বলল আরে আজ কোর্টে আমাদের যেতে হবে মনে নেই,কাঁকন ধড়মড় করে উঠে বলে তাইতো আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম।দুদিন পর ফ্যামিলি কোর্টের রায় আসে যে ছমাস কাঁকন আর অর্নব কে একসাথে থাকতে হবে এরপরেও যদি মনোমালিন্য না কমে তাহলে কোর্ট ডিভোর্স দিয়ে দেবে,অর্নব সহ বাড়ির সকলে হতাশ আর😩 কাঁকন অর্নবকে প্রিয়া প্রকাশের😜 মতো ভ্রু নাচিয়ে বুঝিয়ে দিল এবার তোমাকে কে রক্ষা করবে

রুমে বসে আছে কাঁকন,তার মাথায় চিন্তা ঘুরঘুর করছে, আর অর্নব বাথরুমে স্নানে ব্যাস্ত ।কাঁকন ভাবছে অর্নবকে সে বলে তো দিয়েছে শাস্তি দেবে কিন্ত আদৌ কি সে এটা পারবে।তার নিজেকে অনেক ছোট লাগছে এত সব কিছু করার জন্য ।কিন্ত কিছুই করার নেই অর্নব তার জীবনে যে কষ্ট দিয়েছে এটাতো তার কাছে অনেক নগন্য । এত কিছু কোনোদিন হতো না যদি সে অর্নবকে তার মনে স্থান দিত। কাঁকন বরাবর প্রতিবাদী মেয়ে অন্যায় কে একদম সহ্য করতে পারে না,এই নিয়ে তাকে অনেকবার অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।যেদিন প্রথম কলেজ যায় আর অর্নবের সেই কথা শুনে তখন তার মনে হয়েছিল অর্নব অনেক খারাপ একটা ছেলে তাই তাকে শিক্ষা দিতে গিয়ে বাজে কান্ড ঘটে গেল।তার বাবার সাহায্য করার ফলে কাঁকন অর্নবের প্রতি একটু দুর্বল হয়ে পড়েছিল যার ফায়দা অর্নব পুরোপুরি লুটে নিয়েছিল ভাগ্যিস পেপার টা আসল ছিল না হলে যে কি হতো কাঁকন ভাবতেই পারছে না।ইস……মনে মনে কাঁকন আফসোস করতে থাকে কেন যে সে অর্নবের পাতা ফাঁদে পা দিল।

কাঁকনের মনে আছে যখন অর্নব ভোটে দাঁড়িয়ে ছিল সবার অনুরোধে সে নিজে দাঁড়ালেও পরে ভোট থেকে সরে আসে,যার মূল কারন অর্নবকে ভালবাসা।অর্নব অপমানিত বোধ করেছিল তাই সে নিজেও সরে দাঁড়াল।এত সব কিছু ভাবছে সেই সময় অর্নব বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল একটা টাওয়েল পরে আর টাওয়েল গায়ে জড়িয়ে ।দেখল কাঁকন গভীর চিন্তায় মগ্ন,এই বার অর্নব কাঁকন কে উদ্দেশ্য করে বলল এই যে মিস শয়তান রায় , শয়তানি মাথায় আবার কি কুট বুদ্ধি খাটাচ্ছো?

কাঁকন দেখল অর্নবের গায়ে টাওয়েল জড়ানো তার সুঠাম দেহ দেখে কাঁকন একটু লজ্জা পায় ।অর্নব এমনিতে হ্যান্ডসাম এই একবছরে শরীর চর্চা করে বলিউড নায়কদের মতো হয়ে গেছে চোখ সরিয়ে কাঁকন জবাব দিল হাড় বজ্জাত শয়তানকে কিভাবে সোজা করা যায় সেটাই ভাবছি।আর আমি হলাম মিসেস কাঁকন রায় চৌধুরি, অর্নব তেড়ে এসে বলল খবরদার তোমার সাথে আমার পদবী জুড়বে না বলে দিলাম, আর নিজে কে তুমি সাধু ভাবো,তোমার মতো ধোকাবাজ তো নয়,বলল কাঁকন য়অর্নব বলল মনে হচ্ছে নিজেকে ক্যাটরিনা মনে করো, অবশ্য আমি ক্যাটরিনা থেকে কম কি? আমার রূপ দেখে তো মজে গিয়েছিলে ,অর্নব বলল ওটা একটা ট্রিক ছিল তোমার বিশ্বাস পাওয়ার জন্য,মেয়েদের রূপের প্রশংসা করলে আগে পটে যায়। দুজনের জোর ঝগড়া লেগে যায়, অর্নব বলল এই রুমে তোমাকে আমার একটুকুও সহ্য হচ্ছে না, কাঁকন বলল কে তোমাকে থাকতে বলেছে বেরিয়ে যাও।অর্নব বলতে থাকে ছটা মাস তোমাকে সহ্য করব তারপর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করব।কাঁকন বলল আর এই ছটা মাস তোমার হাড় মাংস আর মগজ পুড়িয়ে খাবো, ঐছাড়া আর কি পারো শয়তানি মেয়ে কোথাকার । তুমি কোনোদিন আমার বা আমার পরিবারের মন জিততে পারবে না, কাঁকন বলল আমার প্রয়োজন নেই,কারোর মন জেতার আর কি বললে আমি শয়তান বলেই কাঁকন বসা অবস্থায় একটা ল্যাং মারল অর্নবের পায়ে আর হুড়মুড়িয়ে অর্নব পড়ল কাঁকনের উপর তারপর দুজনে বিছানার উপর পড়ে যায়, সেই সময় নয়না ওদের রুমের দরজা খুলে দেখে চমকে যায়।

কাঁকন নয়না কে দেখতে পেল কিন্ত অর্নব পেল না,নয়নাকে জ্বালানোর জন্য এইবার কাঁকন অর্নবকে আদুরে গলায় বলে এই ছাড়ো না ডারলিং😘😘😘 ,দরজা খোলা কেউ দেখে ফেলবে যে, আরে কি করছ কি ছিঃ দিনে কেউ করে,রাতে করো প্লিজ ,অর্নব পুরো ভড়কে যায় কাঁকনের কথা শুনে পেছন ঘুরে দেখে নয়না দাঁড়িয়ে চোখে রাগ মিশ্রিত জল।এইবার অর্নব বুঝতে পারে কাঁকনের মিষ্টি করে বলার কারন। অর্নব উঠতে গেলে পরনে টাওয়েল টা খুলে যেতে থাকে আর নয়না দাঁড়ায় না কাঁদতে কাঁদতে ছুটে চলে যায়, কাঁকন জোরে জোরে হাসা শুরু করে অর্নব টাওয়েল সামলিয়ে নয়নার পেছনে চলে যায়।একটু পরে মুখ গোমড়া করে ফিরে এসে কাঁকনকে রেগে বলল ব্লাডি বিচ কোথাকার।কাঁকন হাসি থামিয়ে কঠিন মুখ করে বলল বলেছিলাম না জীবন হেল করব তো শুরু হল আর হ্যাঁ গালি দিলে ফল কিন্ত খারাপ হবে।

সকলে টেবিলে বসে আছে ব্রেকফাস্ট করার জন্য ,কাঁকন চাকর কে বলল তার খাওয়ার টা রুমে দিতে ,রুমা দেবী বলল তুমি কোন স্পেশাল নও যে তোমাকে রুমে খাওয়ার সার্ভ করবে খেতে হলে এই টেবিলে এসে খাও। কাঁকন অর্নবের পাশে বসতেই অর্নব উঠে যায়, রুমা দেবী বলল কি হল ব্রেকফাস্ট করবি না, অর্নব বলল এর কাছে বসে করতে পারব না আমি অফিসে গিয়ে খেয়ে নেব বলে অর্নব চলে যায় আর কাঁকন শুকনো মুখ করে খাওয়ার নাড়াচাড়া করতে থাকে।আড় চোখ নিয়ে একজন কাঁকন কে লক্ষ্য করতে থাকে।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here