#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৫
#Tanisha Sultana
ছাঁদের রেলিং ঘেসে বসে আছে আছে নিধি। দৃষ্টি আকাশের দিকে। থালার মতো চাঁদ উঠেছে আকাশে। একটি পরিপূর্ণ জোৎসা রাত। চাঁদের আলোটা ছাঁদের আনাচেকানাচে আলোকিত করে রেখেছে। চাঁদের আলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নিধির চোখে মুখে। খোলা চুল কপালে টিপ চাঁদের আলোতে খুব মোহনীয় লাগছে নিধিকে। নাকে থাকা ছোট সাদা পাথরের নাক ফুলটা ঝলমল করছে। শাড়ির আচল মাটিতে পড়েছে।
ছাঁদের রেলিং এর ওপর বসে আছে আদি। নিধিকে একমনে দেখছে। কতো সুন্দর স্বচ্ছ আর নিষ্পাপ লাগছে নিধিকে। আদির খুব করে ইচ্ছে করছে নিধিকে ছুঁয়ে দিতে। নিধি টিপ দেওয়া কপালে গভীর করে ঠোঁট ছোঁয়াতে। কিন্তু পারছে না। কোথাও একটা বাঁধা দিচ্ছে। খুব করে মনের কোনে জমে থাকা নিধির জন্য সুপ্ত অনুভূতি গুলো নিধির কোলে মাথা রেখে বলতে। কিন্তু পারছে না। আচ্ছা আদি যদি নিধিকে নিজের চিন্তা ভাবনার কথা বলে বা অনুভুতির কথা বলে নিধি কি বুঝবে? না কি ভুল বুঝবে আদি? ছেড়ে যাবে না কি হাতটা শক্ত করে করবে?
এতোগুলা প্রশ্ন এক সাথে জমা হচ্ছে আদির মনে।
একটা জোরে শ্বাস নেয় আদি।
“আমি কিছু বলতে চাই।
আদি সংকোচ দ্বিধা এক পাশে রেখে বলে ফেলে।
নিধি আকাশের দিকেই তাকিয়ে থাকে। চোখ ফেরায় না আদি কি বলবে বা বলতে পারে তা নিধি জানে। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিধি৷ খুব করে চাইছে দিনটা নষ্ট না করতে। আদির বোরিং কথাগুলো আর নিধি শুনতে চায় না। এই লোকটা এমন কেনো? সব সময় আবোলতাবোল চিন্তা ভাবনা না করলে এর চলে না? চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে নিধি। নিজের মধ্যে কথা গুলো গুছিয়ে নেয়। আজ সবটা ক্লিয়ার করতে হবে। একটা ভুল ধারনা নিয়ে আর থাকা যাবে না।
” আপনার কথা তো সব সময়ই শুনি আজ আমি আপনাকে কিছু বলবো। আজ আপনি চুপ থেকে আমার কথা শুনবেন৷ যদিও কথা গুলো আপনার ভালো লাগবে না তবুও বলবো। এভাবে আর কতোদিন? একটা ফয়সালা হওয়া তো দরকার। জীবনটা তো অসয্য হয়ে যাচ্ছে। সুখটা ভেসে আসা মেঘের মতো হয়ে গেছে। এই আসছে তো এই চলে যাচ্ছে।
নিধি গম্ভীর কন্ঠের কথা গুলো শুনে আদির বুক কেঁপে ওঠে। কি বলবে নিধি? কিসের ফয়সালা করবে? ছেড়ে চলে যাবে না তো?
ভেবেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
নিধি আদির হাতের ওপর হাত রাখে। আদি চমকে তাকায় নিধির দিকে। নিধির শীতল চাহনিতে আদি কিছুটা শান্ত হয়। এই নিষ্পাপ চোখ দুটো দিতে তাকালে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে আদির।
“আমি ছোট আমি বাচ্চা। আমার বয়সী মেয়েরা পড়ালেখা করে খেলাধুলা করে আড্ডা দেয়। আমারও এসব করার কথা। কিন্তু আমি এসবে বদলে ভালোবাসা শিখে নিয়েছি বিয়ে করেছি আপনার কথা ভাবছি। এসব আমার ফিচারের জন্য ঠিক না। কিন্তু এসব যেমন সত্যি তেমন এটাই সত্যি যে এই বয়সেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে। মিথ্যে করে হলেও বরের করা রান্না খেলেও আমি ছয় মাস সংসার করেছি। বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। আপনি মানেন আর না মানেন। আমি আপনার বিয়ে করা বউ। এখন চাইলেন আমার লাইফটা আর পাঁচটা আমার বয়সী মেয়েদের মতো হবে না। এটা কিছুতেই সম্ভব না। এখন আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে সবাই বলবে আমি ডিভোর্সী। এই দাগটা আমার জীবন থেকে যাবে না। তো প্লিজ ছেড়ে দেবেন না আমায়। আর আমার জীবনে আপনি থেকে গেলে আমাদের সুন্দর একটা সংসার হবে। হ্যাপি ফ্যামেলি হবে। আমি তো এভাবেও ফিউচার ব্রাইট করতে পারবো। আপনি সাথে থেকে আমাকে হেল্প করবেন৷ নিজের হাতে গুছিয়ে দিবেন।
এটুকু বলে থামে নিধি।
আদি ড্যাপ ড্যাপ করে নিধির দিকে তাকিয়ে আছে। নিধি এতো গুছিয়ে এতো সুন্দর করে বুঝিয়ে কথা গুলো কি করে বলছে? নিধি তো এভাবে কথা বলতে পারেই না হঠাৎ করে মেয়েটা এতো বড় হয়ে গেলো।
নিধি জোরে শ্বাস নেয়।
” আদি সাহেব আপনার চিন্তা ভাবনা এমন কেনো বলেন তো? নিজের জীবনসঙ্গিনীকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে কতোজন পারে বলেন তো? হাজারে একজন। আর সেই একজন আপনি। আপনি কি পারেন না এই পিচ্চি নিধিকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে। আমার পাশে থেকে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। সুন্দর একটা ভবিষ্যত দিতে। আপনি ভাবেন বয়সের সাথে আমার ম্যাচুয়েটি আসবে। তখন আমি ফিল করতে পারবো আপনার সাথে আমার যায় না।
এমনটা কেনো ভাবেন বলেন তো?
এমনটাও তো ভাবতে পারতেন এই পিচ্চি নিধি বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাকে আরও বেশি ভালোবাসবে। আমাকে ছাড়া এক সেকেন্ড থাকতে পারবে না।
প্রথম প্রেমের গল্প শুনেছেন কখনো? হয়ত শুনেছেন। হয়ত কেনো প্রথম প্রেমের উদাহরণ তো আপনিই। আপনি তো জুঁই আপুকে ভালোবাসেন। উনিতো আপনার প্রথম ভালোবাসা। আপনি কি আপুকে ভুলতে পেরেছেন?
পরেন নি।
কেনো পারেন নি?
কারণ উনি আপনার প্রথম প্রেম। আপনিও আমার প্রথম প্রেম। আপনাকে আমি কখনোই ভুলতে পারবো না।
কি করে ভুলবো?
প্রথম প্রেম কখনোই ভোলা যায় না। এটা স্মৃতির পাতায় অমর হয়ে যায়। যতদিন প্রাণটা থাকে ততোদিন মনের মধ্যে ঝড় তোলে।
বাই এনি চান্স যদি কখনো আমার মেমোরি লস হয়ে যায় যদি গোটা দুনিয়া ভুলে যাই ইভেন আমাকেও যদি আমি ভুলে যাই তাহলেও আমি আপনাকে ভুলবো না। পাক্কা প্রমিজ
আপনার চেহারা হয়ত মনে থাকবে না কিন্তু নামটা এই খানে (বুকের বা পাশটায় হাত দিয়ে) থেকে ভেসে আসবে৷ আপনি যদি আমার হার্ট এ কান পাতেন তাহলে প্রতিনিয়ত আদি নামটা শুনতে পাবেন।
আদির দুই গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে নিধি।
আদি নিধির চোখের দিকে তাকায়। পিচ্চি মেয়েটা চোখে আদি অফুরন্ত ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছে।
“তুমি
নিধি আদিকে থামিয়ে আদির ঠোঁট আঙুল দিয়ে ” হিসসসসসসসসসসস” শব্দ বের করে। আদি চুপ হয়ে যায়। নিধি আদির দুই হাত টেনে নিধির কোমরে নেয়। নিধির এক হাত আদির ঠোঁটে আরেক হাত আদির চুলে। আদির কপালে কপাল ঠেকায় নিধি।
“কিচ্ছু বলবেন না আপনি। ভালোবাসেন না বাসেন আমি তো ভালোবাসি। থাকতে চাই আপনার সাথে। ইতিহাস গড়তে চাই। ইন ফিউচার আদি নিধির ভালোবাসাকে আমি উদাহরণ হিসেবে দেখতে চাই। চিন্তা ভাবনা বদলান না আদি সাহেব প্লিজ। নিজের মতো করে গড়ে পিঠে নেন না আমায়। ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিন না। যাতে আমি উজার করে বলতে পারি আমার বুরো বরটাই বেস্ট। লাগবে না আমার সমবয়সী কাউকে। ম্যাচুয়েট কাউকে। আমার সব সময় আমার লাটসাহেবকেই চাই। মরার আগে পর্যন্ত। আপনার বুকে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।
ভালোবাসি আপনাকে খুব। আই নিড ইউ। অলওয়েজ নিড ইউ।
আদির বুকে মাথা রাখে নিধি। ধরফর করা বুকটা শীতল হয়ে যায়। আবেগে চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিধির উন্মুক্ত পেটে আদি নিজের হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরে। কিছুটা ধুপ করে ওঠে নিধির বুকটা। কেঁপে ওঠে নিধি। আদি সেটা বুঝতে পেরে মুচকি হাসে।
কিছুটা সময় দুজন নিরবতা পালন করে। আদি নিধির বলা কথা গুলো ভাবছে। এই মেয়েটা এতো সুন্দর করে গুছিয়ে কথা গুলো বললো কি করে? আর এতো কথা ওর ছোট মাথায় আসলো কি করে?
কপাল ঠেকে এখনো কপাল সরায় নি। আর ঠোঁট থেকে হাতটাও সরায় নি। ওইভাবেই আছে দুজন।
” নিধি
ছোট করে ডাকে আদি।
“হুমম বলেন?
বুকে মাথা রেখেই বলে নিধি।
” জীবনটা ততোটাও সহজ না যতটা আমরা ভাবি।
“জীবনটা ততোটাই জটিল না যতটা আমার ভাবি। আমাকে নিয়ে খুব অসুবিধা হয় আপনার? অসুবিধা হলে চলে যাবো।
আদি নিধিকে সামনে এনে দাঁড় করায়।
” আমি সেটা বলি নি।
“আমি কিচ্ছু শুনতে চায় না। মুহূর্তটা উপভোগ করুন।
নিধি আবার আদির কপালে কপাল ঠেকায়। আবার হাত দুটো নিয়ে নিজের কোমরে রাখে।
আদি নিধির নাকে চুমু খায়। নিধি চমকে ওঠে। চোখের পাতায় দুই গালে কপালে চুমু খায় আদি। নিধি হঠাৎ করে চুমু কেনো খেলো বুঝতে পারছে না। তবুও কিছু বলে না। উপভোগ করে।
” ফাটিয়ে দিয়েছিস নিধি। একদম ফাটিয়ে দিয়েছিস তুই
আদি আর নিধি চমকে ওঠে। দুজন দুজনকে ছেড়ে সরে দাঁড়ায়।
“আমি যা সন্দেহ করেছিলাম তাই
আদি মাথায় হাত দিয়ে বিরবির করে বলে।
#শুধু তুই ৩
#পর্বঃ৩৬
#Tanisha Sultana
নিধি অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় জিসানের দিকে। এতো সুন্দর মুডটাই নষ্ট করে দিলো। চোখে মুখে সব জায়গায় শেষ এবার নিশ্চয় ঠোঁটে চুমু দিতো। কতো রোমান্টিক একটা মোমেন্ট। নিরামিষের ভাই তো নিরামিষই হবে।
গাল ফুলিয়ে বুকে হাত গুঁজে অন্য দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে নিধি। আদি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে জিসানের দিকে। জিসান মিটমিটিয়ে হাসছে।
“কথা গুলো তুই শিখিয়ে দিয়েছিলি ওকে? না কি ওর ওই তিথি? আমি জানতাম ও কখনোই এতো সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারবে না। প্রথম থেকেই ডাউট হচ্ছিলো আমার তবুও মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনেছি। শুনে শুনে এসব বলার কি দরকার? ইমপ্রেস করার চেষ্টা চলছিলো? ইডিয়েট একটা।
কিছুটা রেগে বলে আদি।
জিসান হা করে তাকিয়ে আছে। নিধি চোখ বড়বড় করে তাকায়।
” যাচ্ছি আমি। কাজ আছে আমার। এসব ফালতু কথা শোনার টাইম নেই
আদি যেতে নেয়।
“তাহলে তুই চাইছিলি এই কথা গুলো নিধি মন থেকে বলুক?
জিসানের প্রশ্নে থমকে যায়। মুখটা থমথমে হয়ে যায়। কি করে বলবে সত্যিই আদি চায়,নিধি নিজের মন থেকে কথা গুলো বলুক?
আদির এরকম চেহারাটা দেখে জিসান এক দরফা হেসে নেয়। নিধি সরু চোখে তাকিয়ে আছে আদির দিকে।
” ককি বলছিস? আমি চাই ও যা করুক যা বলুন নিজ থেকে। আই থিংক তুই বুঝতে পেরেছিস।
জিসান ওর মন মতো উওর না পেয়ে মুখটা কালো করে ফেলে। কতো ভেবেছিলো আদি বলবে “হ্যাঁ আমি চাই ও মন থেকে বলুক” তা না ঘুড়িয়ে পেঁচিয়ে বলে দিলো।
আদি নিধির দিকে আরেক দরফা তাকায়। তরতর করে রাগ বাড়ছে।
“আমি এতো কষ্ট করে দীর্ঘ পাঁচঘন্টা যাবৎ কথা সাজিয়ে আমাকে বললাম আর আপনি বলছেন আমাকে জিসান বা তিথি শিখিয়েছে? ইটস নট ফেয়ার আদি সাহেব। আমি কি এতোই বোকা?
আদির পথ আটকে দাঁড়িয়ে বলে নিধি।
আদি বুকের ভেতর ঠান্ডা অনুভব করে। পা আপনাআপনি থেমে যায়। রাগে ভাজ পড়া কপালটা প্রসারিত হয়ে যায়। গম্ভীর করে থাকা মুখটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। আপনাআপনি হাতটা বুকে চলে যায়। বা পাশটায় হাত রাখে আদি। কোনো রকমে ভনিতা না করে সরাসরি নিধির চোখের দিকে তাকায়
নিধি নিজে থেকে বলেছে কথা গুলো। এর থেকে আনন্দের আর কি কিছু আছে?
জিসান ওদের সামনে এসে দাঁড়ায়।
” জিসান তুই যা
জিসান কিছু বলার জন্য হা করে ছিলো। তার আগেই আদি বলে ওঠে কথাটা।
জিসান চলে যায়।
নিধি জিসানের যাওয়ার দিকে তাকায়
“ওকে যেতে বললেন কেনো? একটু আড্ডা দিতাম তিনজন মিলে।
আদি বিরক্তি নিয়ে আবার রেলিং এর ওপরে গিয়ে বসে। নিধিও আবার সেই আগের জায়গায় বসে।
আদির খুব ভালো লাগছে। অনেকদিন পরে নিজেকে সুখী মনে হচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি এটাকে সুখ বলে?
নিধি হাই তুলছে। অনেক রাত হয়ে গেছে। এতো রাত ওবদি কখনোই নিধি জেগে থাকে নি।
” নিধি
আদি নরম সুরে বলে।
“হুমমম
নিধি আদির পায়ের ওপর মাথা দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে।
” হুমম বলুন
ঘুম ঘুম চোখে বলে নিধি।
আদি নিধির মাথায় হাত বুলায়।
“জানেন তিথি প্রেগন্যান্ট। আমার থেকে এক মাসের ছোট ও।
আদি চোখ বড় বড় করে তাকায়। এখনই বেবির কথা ভাবছে?
” তোমার না ঘুম পাচ্ছে ঘুমাও।
একটা ঢোক গিলে বলে আদি।
নিধি মাথা উঁচু করে এক পলক তাকায় আদির মুখের দিকে।
“আই নীড ইউ
” আমি তো আছিই। তোমার সাথে তোমার কাছে।
ঠোঁট মেলে বলে
“ধ্যাত
আদির পায়ে একটা থাপ্পড় দিয়ে দিবে বিরক্তি নিয়ে বলে বলে নিধি।
আদি একটু শব্দ করে হাসে।
নিধির এক্সামের আর বেশি দেরি নেই। পনেরো দিন আছে। আর চিটাগং যাওয়া হবে না। আজ ইভার গায়ে হলুদ। ইভার বিয়েটা মিটে গেলে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে নিধিকে।
ফজরের আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে ওজু করে আদিকে ডাকে নিধি।
” উঠুন না
নামাজ পড়বেন না?
নিধির মৃদু সুরে উঠুন না শব্দটিতে আদির ঘুম পালিয়ে যায়। চোখ মেলে এক সিগ্ধ নিধিকে আবিষ্কার করে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া। মুখে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে। খুব পবিত্র লাগছে নিধিকে।
“উঠুন নামাজ পড়ে নিন
আদিকে চোখ খুলতে দেখে বলে নিধি।
আদি উঠে বসে।
অনেকদিন ফজরের নামাজ পড়া হয় না। অনেকদিন বলতে হাতে গোনা কয়েকদিন ফজরের নামাজ পড়েছে আদি। কাজের পেশারে অনেক রাতে ঘুমায় ফলে আর উঠতে মন চায় না। আর জাগনাও পায় না।
” কি হলো?
হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে নিধি।
“হুমম যাচ্ছি
মিষ্টি করে একটু হেসে বলে আদি।
নিধিও জায়নামাজ বিছিয়ে নেয়।
আদি ওজু করে বের হয়।
মাথার টুপি ঠিক করতে করতে নিধির দিকে এক পলক তাকায়।
” আসছি
বলে চলে যায় আদি। মসজিদ থেকে নামাজ পড়বে।
নামাজ শেষ করে নিধি বেলকনিতে বসে পড়তে থাকে। গায়ে ভালো করে চাদর জড়িয়ে নিয়েছে। ডিসেম্বর মাস। ভালোই শীত পড়েছে। কুয়াশায় চার পাশ ঢেকে গেছে।
হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে নিধির। তবুও নিধি এখানে আসেই পড়বে। এখান পড়তে ভালো লাগছে।
আদি রুমে এসে নিধিকে বেলকনিতে বসে পড়তে দেখে কিছুটা রেগে যায়।
“এখানে কেনো তুমি? কম্বলের মধ্যে বসে পড়লে কি হয় তোমার?
কপাট রাগ দেখিয়ে বলে আদি।
নিধি লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। এখন যদি আদি রেগে যায় তাহলে ওর আর ইভার গায়ে হলুদে যাওয়া হবে না।
” সরি সরি এখনই কম্বলের মধ্যে যাচ্ছি
এক দৌড়ে চলে যায় বিছানায়। গায়ে ভালো করে কম্বল জড়িয়ে বসে।
আদি ভ্রু কুচকে তাকায়। এতো শান্ত শিষ্ট ভদ্র মেয়ে তো নিধি না। তাহলে এখন এতো বাধ্য হলো কিকরে?
প্রশ্নটা মনের মধ্যে থাকলেও নিধিকে জিজ্ঞেস করে না। রুম থেকে বেরিয়ে যায়। নিধির মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়। এমা রেগে গেলো কেনো? এখন যদি আমাকে ইভা আপুদের বাড়িতে না নিয়ে যায়?
চলবে