অবশেষে পূর্ণতা পর্ব -১৫+১৬

#অবশেষে_পূর্ণতা
#লেখক_আহম্মেদ_নীল
#পর্ব_১৫

-সামিয়া অনেকটা ভয় পেয়ে যায়,সামিয়া তো তার কথামতো কোন কাজেই সফলতা পায়নি,তাহলে সে এখন কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সামিয়া। তার মনের মধ্যে একরাশ ভয় গ্রাস করতে থাকে। সামিয়া বললো,আমি চেষ্টা করছি তবে ইদানীং আতিক আমার সাথে খুব বেশি খারাপ আচারন করছে।

(লেখক_আহম্মেদ_নীল)
‘হঠাৎ নারগিস বেগম বলে উঠে,কেমন স্ত্রী তুমি নিজের স্বামীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারোনা।তোমাকে কি সবকিছু বলে দিতে হবে.?তোমার দ্বারাই একটাও কাজি হয়না ঠিকঠাক ,বরং সবকিছু দিনদিন বিপরীতে চলে যাচ্ছে। এমন হলে তো আর কিছুদিন পর আতিক আমাদের সবার প্রতি বিরক্তিকর হয়ে যাবে। তখন হাজার চেষ্টা করলেও আমরা তাকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবো না। নারগিস বেগম কোন সংকোচ না করে সামিয়ার হাত ধরে। তারপর বলতে থাকে বউমা প্লিজ তুমিই পারবে আতিককে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। আমার বলা কাজগুলো তারাতাড়ি করো। তারপর সামিয়া চলে গেলো রুমের দিকে। নারগিস বেগম নিজের ছেলের করুন অবস্থার কথা ভেবে শেষ মেষ সামিয়ার হাত ধরতে বাধ্য হলো। এছাড়া যে তার আর কোন উপায় নেই।

-‘সামিয়া রুমে গিয়ে আপ্রান চেষ্টা করছে আতিকের কাছে যাওয়ার জন্য। কিন্তুু আতিক অনবরত ভুল বকতে থাকে। তার পুরো মস্তিষ্কে মনে হচ্ছে ফারিয়া গ্রাস করে ফেলেছে। আতিক এর মুখ থেকে একটা নামি উচ্চারিত হচ্ছে, ফারিয়া।আর সামিয়া একটু একটু করে আতিক এর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এছাড়া যে তার আর কোন উপায় নেই। আজ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,যা হয় হবে তাকে তার কাজগুলো করতেই হবে,না হলে যে আতিককে দিনেদিনে সে চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।যা কখনো সামিয়া নামক রমনী চায়না। সে তো চাই আতিক এর ভালোবাসার মাঝে বাকিটা জীবন ডুবে থাকতে।

‘আদেও কি জোরপূর্বক ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব, যা সামিয়া করতে চলেছে। আতিক এর শার্টের বোতামগুলো খুলতে থাকে সামিয়া একে একে। তারপর আতিক উপর একটা সময় ঝাপিয়ে পড়ে। এছাড়া যে তার আর কোন উপায় নেই।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) নিজের কাজটা হাসিল করে সামিয়া হাসতে হাসতে বলে,সোজা আঙুলে কোনকিছু না উঠলে,আঙুলটা বাকা করতে হয়,তা সামিয়ার খুব ভালো করে জানা আছে। আতিক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। নিজের শরীর বিলিয়ে সামিয়া যেইটা করলো আদেও কি এটাকে ভালোবাসা বলে.?যেখানে মনের আন্তরিকতা নেই,সেখানে ভালোবাসার কথাটা ভাবাও পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না।

-“সামিয়া মনে মনে আজ খুব খুশি হলো। কারন আজ সে তার প্রথম একটা কাজে সফল হয়েছে। যাইহোক শেষমেশ নারগিস বেগমের কথামতো একটা কাজে সফলতা পেলো।এদিকে সকাল হলে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে মাথার চুলগুলো আচরাতে থাকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে। আর সেই চুলের পানি কয়েক ফোটা আতিকের মুখের উপর পড়তেই আতিক চোখটা মেলে দেখে সামিয়া চুল আচরাচ্ছে। আতিক অনেকটা বিরক্তিকর হয়ে উঠে পড়ে,তারপর সামিয়ার চুলের মুঠো ধরে, আর সামিয়া ব্যাথায় কুকড়াতে থাকে। আতিক এর এমন পশুর ব্যবহারে সামিয়ার রুহটা কেঁপে উঠে। এর আগের আতিক কখনো এমন নরপশুর ব্যবহার সামিয়ার সাথে করিনি।সামিয়া অনেকটা ভয় পেয়ে বলে,আতিক আমাকে ছাড়ো। কিন্তুু আতিক কিছুতেই ছাড়েনা।অনেকক্ষণ চুলের মুঠি ধরে থাকে,আর এদিকে সামিয়া অনেক ব্যাথা পায়। আতিক কি সামিয়া ব্যাথাগুলো একটুও অনুভব করতে পারছে না। পারবেই বা কেমন করে,আতিক তো মগ্ন রয়েছে ফারিয়ার চিন্তায়।যা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে, ঠিকমতো কোন কাজ কিংবা ঘুমাতে দিচ্ছে না।

‘সামিয়া সজোড়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়,আর তার মাথা গিয়ে লাগে দেওয়ালের সাথে। সামিয়া ব্যাথা অনুভব করতে পেরে মাথায় হাত দিয়ে,কয়েক সেকেন্ড পর হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার হাতে রক্ত। সামিয়া বুঝতে পারলো সজোড়ে ধাক্কা খাওয়ার ফলে কেটে গেছে। অঝোরে তার মাথা থেকে রক্ত বের হয়। আতিকের সে দিকে বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। সে চলে যায় ওয়াশরুমের দিকে। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বসে থাকে সামিয়া,তার কপাল বেয়ে ফ্লোরে টপটপ করে চোখের জল আর রক্ত একসাথে পড়তে থাকে। নারগিস বেগমের রুমে এখনো সকালের নাস্তা যায়নি,এটা দেখে নারগিস বেগম নিজেই সামিয়ার রুমের দিকে অগ্রসর হয়। রুমের ভেতরে প্রবেশ করে যা দেখতে পেলো তা দেখার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলো না। সামিয়া কাছে গিয়ে বলে,এমন হাল হলো কেমন করে.? সামিয়া বোবার মতো হতভম্ব হয়ে বসে থাকে কোন কথা বলে না। অনেকক্ষণ পর বলে আতিক। নারগিস বেগম একটু পর ডাক্তারকে কল করে। নারগিস বেগম নিজের রুমে নিয়ে যায় সামিয়াকে। তারপর ডাক্তার দিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে নেয়। সামিয়া নারগিস বেগমকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে,তারপর একে একে সবকিছু বলতে থাকে।

“নারগিস বেগম তো চরম খুশি। আবার অন্যদিকে চরম হতাশা ছেলের নিষ্ঠুর আতারনের কারনে। কতটা নিষ্টুর হলে একটা মানুষ নিজের স্ত্রীকে দেওয়ালে ধাক্কা মারতে পারে। মারনাল ধাক্কা মারলো। তবে একটুও কি তাকাতে ইচ্ছে হলোনা,সামিয়ার কি হলো.?মেয়েটা কতটা অসহায়। নারগিস বেগম সামিয়াকে তার রুমে বসতে বলে,তারপর সে যায় আতিকের সাথে কথা বলার জন্য। রুমে গিয়ে দেখলো আতিক রেডি হচ্ছে, নারগিস বেগম কোন কথা না বলে পয়পয় করে আতিকের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। আতিক বলতে লাগলো,আমাকে এভাবে মারছো কোনো মম.? তোকে কেনো মারছি বুঝতে পারছিস না.? তুই দিনেদিনে কতটা অমানুষ হয়ে যাচ্ছিস,ভাবতেই আমার ঘৃণা করছে। তোকে পেটে ধরেই আমি ভুল করেছি।

-‘আতিক নারগিস বেগমকে চমকে দিয়ে বলতে লাগলো, ভুল তুমি করোনি মম। ভুলতো আমি করেছি তোমার মতো একটা ডাইনির মায়ের গর্ভে জন্মে। যে মা একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা নিরপরাধ মেয়ের সংসার ভাঙতে একটু দ্বিধা করিনি। নিজের ছেলেকে লেলিয়ে দিয়েছো দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য। দিনের পর দিন একটা নিষ্পাপ মেয়েকে অত্যাচার করেছো। তোমার লজ্জা করেনা একটা মা হয়েছে আরেকটা মেয়ের উপর এত অবিচার আর অত্যাচার করতে। মম আমি খুব বড় ভুল করেছি তোমার কথামতো চলে আর সবকিছু করে। আজ যদি নিজের সিদ্ধান্তে সবকিছু করতাম আমাকে পাপের ফল ভোগ করতে হতোনা,কথাটা বলেই আতিক হনহন করে রুম থেকে চলে যায়।

-“নারগিস বেগম ছেলের মুখ থেকে এমন মধুর বানী কখনো আশা করিনি। নাগরিস বেগমের মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে। আর বারবার মাথার ভেতরে ঘুরপাক খায় আতিকের বলা কথাগুলো। টপটপ করে চোখ বেয়ে নেনাজল গড়িয়ে পড়তে থাকে। হয়তো নারগিস বেগমের করা পাপের ফল খুব তারাতাড়ি ফেরতে আসতে চলেছে৷ প্রকৃতি তার হিসাব একে একে বুঝে নিতে চলেছে তাদের কাছ থেকে। আর ফারিয়াকে উপহার স্বরুপ ফেরত দিচ্ছে সত্যিকারের একজন জীবনসঙ্গী আর সাথে দিতে চলেছে একরাশ ভালোবাসা আর একটি সুখের সংসার।

‘নারগিস বেগম আতিকের বেডে বসে থাকে। প্রায় ৩০ মিনিট পর সামিয়া নিজের রুমে এসে দেখে নারগিস বেগম বেডে বসে আছে। সামিয়া নারগিস বেগমের চোখে প্রথমবারের মতো জল দেখে অনেকটা অবাক হয়ে যায়। কি হয়েছে মা.? নারগিস বেগম কিছু বলছে না,শুধু তার চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) সামিয়া মা আমরা হয়তো আতিককে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবো না বলেই সামিয়াকে বুকে টেনে নেয় নারগিস বেগম। তবে সামিয়াকে কিছু বলে না কি ঘটেছে তার সাথে। তবে সামিয়া অনেকটা আন্দাজ করতে পারে আতিক এর কাছ থেকে ওনি হয়তো বড়সর ধাক্কা খেয়েছে। না হলে ওনি তো এত সহজে ভেঙে পড়ার মানুষ না৷ ওনি অনেক পাশান একজন মহিলা।
না হলে কি আর একটা সুখের সংসার ভাঙতে পারতো.?

-মাথায় ব্যান্ডেজ অবস্থায় সামিয়া ওয়াশরুম গেলো। অনেকটা ব্যাথা অনুভব হলেও সামিয়া নারগিস বেগমকে ডাকলো না,ডাকলে হয়তো ওনি সামিয়াকে ওয়াশরুমে নিয়ে যেতো। সামিয়া নারগিস বেগমকে ডাকলো না,কারন সামিয়া নারগিস বেগমের মনের অবস্থা একটু হলেও বুঝতে পারে। ওনার মনের মাঝে কতটা ঝড় চলছে।

“সামিয়া ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে,নাকে হাত দিতেই অঝোরে রক্ত বের হতে থাকে তার নাক থেকে। সামিয়া কালকে বিষয়টা গুরুত্ব না দিলেও আজকে সে বুঝতে পারে তার বড় ধরনের কোন সমস্যা হতে চলেছে। অনেকটা রক্তক্ষরন হওয়ার পর সামিয়া চলে গেলো তার নিজের রুমে।
সামিয়া সিদ্ধান্ত নেই বিষয়টা নারগিস বেগমকে বলে বড় কোন ডাক্তারের কাছে যাবে। কিন্তুু সে আজকে বলবে না নারগিস বেগমকে। আগামীকাল বলবে। কি এমন হতে পারে.? যায় জন্য নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে প্রতিদিন। সামিয়ার মনে একরাশ ভয় গ্রাস করতে থাকে।

(লেখক_আহম্মেদ_নীল)
_____________________

-‘এদিকে ফারিয়া পড়ে গেলো মহা চিন্তায়। নীল শাড়ি সে এখন কোথায় পাবে.? তখুনি ফারিয়ার মনে পড়ে গেলো নীলের দেওয়া সেই শপিং প্যাকেটটার কথা। দেরি না করে ফারিয়া দেখতে লাগলো প্যাকেটের ভেতরে কি এমন কিছু দিয়েছে,যা তখন আমাকে দেখতে নিষেধ করলো। বাসায় এসে দেখতে বললো। প্যাকেটের ভেতরে হাত দিয়ে বের করতেই যা দেখলো,তা হয়তো ফারিয়ার কাছে স্বপ্নের মতো। কারন প্যাকেটের ভেতরে আছে,একটা লাল বেনারসি আর একটা নীল শাড়ি। বিয়ের পর আতিককে ফারিয়া অনেকবার শক করে বলতে চেয়েছিলো,কিন্তুু আতিক এসব শাড়ি পছন্দ করতো না,সে পছন্দ করতো মর্ডান ড্রেস। শাড়ি পড়লে নাকি ফারিয়াকে গ্রামের ক্ষেত মেয়েদের মতো লাগবে। (লেখক_আহম্মেদ_নীল) কিন্তুু আতিক বোকা,সে জানতো না শাড়িতে মেয়েদের অন্যরকম সুন্দর লাগে। ফারিয়ার নীলের দেওয়া জিনিস দুইটা বুকে জড়িয়ে ধরে, তার মনের অজান্তেই দু নয়ন বেয়ে টপটপ করে অশ্রু কনাগুলো গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আজ সে কারোর বাধা মানবে না,তার নিজের গতিতে বেয়ে চলবে। হয়তো এটা ফারিয়ার সুখের কান্না,স্বপ্ন পূরনের হওয়ার কান্না। ফারিয়া নিজের পেটে হাত দিয়ে বলতে থাকে,সোনা তুমি চিন্তা করোনা,আমি থাকতে তোমার কোন চিন্তা নেই। তোমাকে আমার সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবো।

-নীলের মতো এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া যে ভাগ্যের বিষয়। কথাটা উপলব্ধি করতে পারে ফারিয়া। ফারিয়ার নিজের মনের ভেতর অদ্ভুত এক প্রশান্তি কাজ করতে থাকে।
আতিক চলে না গেলে ফারিয়া হয়তো একজন সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষকে পেতো না। ফারিয়া নিজেকে স্বাভাবিক করে রুমে বসে থাকে। এমন সময় তার মা অহনা বেগমের ডাকে রিতিমতো চমকে ওঠে।

‘কিরে মা রেডি হয়ে নে,আমাদের তো যেতে হবে তাই না, কথাগুলো ফারিয়ার মা ফারিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে। ফারিয়া বুঝতে পারিনি কখন সকাল ঘুনিয়ে বিকাল হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি করে ফারিয়া ওয়াশরুমের দিকে যাই ফ্রেশ হতে। তারপর রুমে এসে নীলের বলা সেই নীল শাড়িটা পড়তে থাকে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে নিজেকে সামান্য একটু পরিপাটি করে সাজিয়ে নিচ্ছে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার দিকে চোখ যেতে ফারিয়া দেখতে পেলো তার ঠোঁটের কোনে একরাশ হাসির রেখা ঝড়ে পড়ছে। হয়তো এটা ভালোলাগা আর পরম সুখের আসা। যা ফারিয়াকে এলোমেলো আর কষ্টের জীবনটা আবার নতুন করে সাজিয়ে তুলবে। ঠিক যেমন শীত মৌসুমে গাছের সমস্ত পাতা ঝড়ে গাছকে করে তুলে মহাশূন্যে, আবার বসন্ত গাছগুলো মহাশূন্যে কাটিয়ে উপহার দেয় নতুন পাতা,গাছ ফিরে প্রায় তার নতুন জীবন। হয়তো নীল ও ফারিয়ার জীবনে বসন্ত মৌসুম হয়ে এসেছে।

“কিরে মা তোর গোছাতে আর কতক্ষণ লাগবে.? এইতো মা প্রায় হয়ে গেছে। বাবার কি গোছানো হয়ে গেছে.? হ্যা আমাদের সবার গোছানো শেষ, এখন শুধু তোর গোছানোর অপেক্ষায় বসে আছি কথাগুলো অহনা বেগম ফারিয়াকে বলছে। ফারিয়ার গোছানো প্রায় রেডি হয়ে গেছে এমন সময় নীলের কল আসে ফারিয়ার ফোনে,হ্যালো। তোমরা কোথায় এখন.?এইতো রেডি হচ্ছি।

-‘বাসার সামনে গাড়ি যাচ্ছে, উঠে চলে এসো বলেই কলটা কেটে দিলো নীল।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) ফারিয়া সহ তার বাবা-মা রওনা দিবে,ফারিয়ার বাবা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে,এমন সময় ফারিয়া বললো,বাবা গাড়ির অপেক্ষা করতে হবেনা,নীল গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে একটু পর চলে আসবে। ফারিয়ার মা বলতে লাগলো,দেখোছো ছেলেটা আমাদের কতটা কেয়ার করে,আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।

-“হঠাৎ তাদের সামনে একটা প্রাইভেট কাড় এসে থামলো। ড্রাইভার সরি বলে বলতে লাগলো,প্লিজ নীল ভাইয়ার সাথে যেনো বলবেন না আমার আসতে একটু দেরি হয়েছে,তাহলে আমার চাকুরিটা থাকবে না,আকুতি মিনতি কন্ঠে কথগুলো বলতে লাগলো ড্রাইভার। রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিলো তাই আর কি দেরি হয়ে গেছে। (লেখক_আহম্মেদ_নীল) আমিন সাহেব ড্রাইভার কে উদ্দেশ্য করে বললো,আচ্ছা সমস্যা নেই আমরা নীল বাবাকে কিছু বলবো না। ড্রাইভারকে মুখের মাঝে হাসি ফুটলো। মনে হচ্ছে এতক্ষণে সে প্রান ফিরে পেলো।

-অনেকক্ষন পথ পাড়ি দেওয়ার পর পৌঁছে গেলো নীলের বাসার সামনে। ড্রাইভার সবাইকে নামতে বললো,সবাই নামতেই একটা সার্ভেন্ট এসে বললো,প্লিজ আপনারা ভেতরে চলুন।

‘ফারিয়া সহ তার বাবা-মা তো হতভর হয়ে যায়। চার তলা বিশিষ্ট সুন্দর একটা বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির মাঝখানে সুইমিংপুল পুকুর রয়েছে,যা বাড়ির সৌন্দর্য আরো দ্বিগুন হারে বাড়িয়ে তুলেছে। ফারিয়া সার্ভেন্টকে উদ্দেশ্য করে বললো,এটা কি নীলদের বাসা.?

-সার্ভেন্ট বলতে হাসতে হাসতে বলতে,,,,

চলবো কী.?
#অবশেষে_পূর্ণতা
#লেখক_আহম্মেদ_নীল
#পর্ব_১৬

‘ফারিয়া সহ তার বাবা-মা তো হতভর হয়ে যায়। চার তলা বিশিষ্ট সুন্দর একটা বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির মাঝখানে সুইমিংপুল পুকুর রয়েছে,যা বাড়ির সৌন্দর্য আরো দ্বিগুন হারে বাড়িয়ে তুলেছে। ফারিয়া সার্ভেন্টকে উদ্দেশ্য করে বললো,এটা কি নীলদের বাসা.?

-‘সার্ভেন্ট বলতে হাসতে হাসতে বলতে লাগলে,নীল স্যারের বাসা ছাড়া আবার কাগোর বাসা হবে.?তারপর গুটিগুটি পায়ে গেটে বাসার ভেতর যেতে লাগলো। একটু পর নীল বাসার ভেতর থেকে বেড়িয়ে এসে ওদের সাথে করে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগে। ভেতরে যেতেই নীলের বাবাকে দেখলো বসে আছে ফারিয়া সবাইকে সালাম দিলো,তারপর ইমতিয়াজ চৌধুরীর পায়ে সালাম করলো,সাদিয়া বেগম রুমের ভেতরে নাস্তা রেডি করছে। ইমতিয়াজ চৌধুরী ফারিয়াকে দেখে খুব পছন্দ হলো। সবাই সোফায় বসে আছে। কিছুক্ষণ পর সাদিয়া বেগম এসে নাস্তা দিলো ডাইনিং টেবিলে। ফারিয়া সাদিয়া বেগমকে সালাম করলো।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) ইমতিয়াজ চৌধুরী অনেকটা অবাক হয়ে যায়,ফারিয়ার ব্যবহারে। এই যুগেও তাহলে এমন মেয়ে পাওয়া যায়,যে কিনা পায়ে সালাম করে কথাগুলো ভাবছে ইমতিয়াজ চৌধুরী। হাজারো রকমের নাস্তা সাজানো হয়েছে।

-“ফারিয়া কয়েক টুকরা আপেলের চির নিলো। আর আমিন সাহেব ও অহনা বেগমও সামান্য একটু খেয়ে বসে থাকে। এদিকে নীল ফারিয়ার সামনে বসে আছে। ফারিয়াকে নীল শাড়ি পড়ে একদম পরীর মতো লাগছে। নীলের চোখের ফারিয়াকে আজ অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশি সুন্দর আর মায়াবী লাগছে। নীলের পরিবারে সবাই রয়েছে। ইমতিয়াজ চৌধুরী একটু গলা খাকড়িয়ে বলতে লাগলো,আসল কথায় আসা যায়। ইমতিয়াজ চৌধুরীর কথায় সবাই তার দিকে লক্ষ করলো। ইমতিয়াজ চৌধুরী সকলকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো,নীল আমার একমাত্র আদরের ছেলে। আজ পর্যন্ত নীল যা চেয়েছে তা আমি চোখের নিমিষেই এনে দিয়েছি। আশা করছি নীল আমাদের কত আদরের একমাত্র সন্তান তা এতক্ষণে আপনারা বুঝতে পারছেন.?

‘নীলের বাবা বলতে লাগলো,আপনাদের কোন চাওয়ার কিংবা আবদার থাকলে তা সরাসরি এখন বলতে পারেন কোন দ্বিধা করবেন না। ফারিয়ার বাবা বলতে লাগলো,ছি, ছি আপনারা এসব কি বলছেন.? আমাদের একটায় চাওয়া আমাদের এই অসহায় মেয়েটাকে আপনারা নিজেদের মেয়ে ভেবে তাকে আগলে রাখবেন। আপনারা নিশ্চয়ই ফারিয়ার বিষয়ে সবকিছু শুনেছেন নীল বাবার কাছ থেকে। আমরা কোনমতেই রাজি হতে চায়নি,কারন আমরা চাইনি আমাদের এমন মেয়েকে কারো ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে। তবে নীল বাবা আমাদের প্রতিনিয়ত বুঝিয়েছে। তারজন্য আমরা রাজি হয়েছি।

(লেখক_আহম্মেদ_নীল)
“কোন বাবাই চায়না, তার মেয়েটার ডিভোর্স হোক। তবে পরিস্থিতি আর বাস্তবটা আমাদের এমন সম্মুখিনি এনে দেয়।
কিন্তুু আমাদের সমাজের মানুষ একজন ডিভোর্সী মেয়ে বলতে বুঝে হয় তার চরিত্র খারাপ কিংবা কোন পরকিয়ায় লিপ্ত ছিলো,তা না হলে কেনো ডিভোর্স দিবে.? কিন্তুু সমাজের মানুষ প্রকৃত কারনটা খুজতে চায়না, আসলেই কি মেয়েটা আদেও এমন.? নাকি তার স্বামী খারাপ কিংবা ছেলে পক্ষের কোন দোষ আছে কিনা। তারা শুধু ডিভোর্স মেয়ের দোষারোপ করতে ব্যস্থ থাকে। কথাগুলো আমিন সাহেব বলছে আর তার দু নয়ন ভিজে যায়,তা বুঝতে পেরে ইমতিয়াজ সাহেব বলতে লাগলো,আপনাদের আর কিছু বলতে হবে না। ইমতিয়াজ সাহেব কথায় সাদিয়া একমত পোষন করলো।

-‘ইমতিয়াজ সাহেব বলতে লাগলো,দেখুন আমরা ফারিয়ার অতীত নিয়ে কোন কথা বলতে চায়না কিংবা জানতেও চায়না। আমরা তাকে আমাদের ছেলের বউ করে নিতে চাই,চিন্তা করবেন না আমরা আমাদের মেয়ের মতো করে আগলে রাখবো। কারন আমাদের কোন মেয়ে নেই। সাদিয়া বেগম বলতে লাগলো,আপনারা একদম চিন্তা করবেন না,আপনাদের মেয়েকে কোন সময় কোনকিছুর ঘটতি হতে দিবো না,হোক ভালোবাসার কিংবা অন্যকিছুর।

-“আমিন সাহেব ইমতিয়াজ চৌধুরীকে বললো,ফারিয়ার পেটে যে বাচ্চা আছে ওর কি হবে.?প্রতিত্তোরে ইমতিয়াজ চৌধুরী বললো,নিষ্পাপ শিশুকে নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না। আমরা চাই সে আমাদের চৌধুরী পরিবারের পরিচয়ে বড় হবে। আমাদের দাদুভাই। আর কোনদিন বলবেন না যে ওটা অন্য কারো সন্তান। আমি চাইনা এই কথাটা আমরা ব্যাতিত অন্য কেউ জানুক। নীল আমাকে সবকিছু বলেছে তাই আপনাদের আর কোন কিছু বলার প্রয়োজন নেই।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) আমরা আপাতত বিয়ের কোন আয়োজন করবো না,কারন ইসলামিক নিয়ম অনুসারে ফারিয়া মার প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দিয়েছে,তাই ডিভোর্সটা ইসলামিক শরিয়তের বিধানে ডিভোর্স হবেনা,আবার বিয়েটাও অবৈধ হবে।তাই বাচ্চাটা হওয়ার পর আমরা নতুন করে বিয়ে দিবো কোট থেকে আর,আগের পক্ষের ডিভোর্সটা আইনগতভাবে কার্যকর করে নিবো। আপনাদের কোন চিন্তা নেই।

‘ফারিয়া মাথা নিচু করে বসে তাদের সকল কথা শুনছে। আর ভাবছে কতটা ভালো মানুষ নীলের পরিবারে সবাই। কতটা আপ্পায়ন করে আমাকে গ্রহন করে নিচ্ছে। একে আমি ডিভোর্সী মেয়ে তার উপরে আমার পেটে অন্যের বাচ্চা রয়েছে তাও তারা মেনে নিবে। কথাগুলো ভাবতেই ফারিয়ার চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু কনাগুলো গড়িয়ে পড়তে লাগে।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) সাদিয়া বেগম বুঝতে পেরে ফারিয়ার পাশে গিয়ে আস্তে আস্তে বলে এই মেয়ে কান্না থামাও,এখন থেকে তুমি আমাদের মেয়ে,সো আর কোনদিন মায়ের সামনে একদম চোখের পানি ঝড়াবে না। ফারিয়া নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাদিয়া বেগমকে জড়িয়ে ধরে,এদিকে সবাই যার যার মতো আলাপ করছে। সাদিয়া বেগম ফারিয়ার মতো অসহায় মেয়েকে পুত্রবধু হিসাবে পেয়ে সত্যি তার মনের ভেতরে আজকে অন্যরকম একটা শান্তি লাগছে। ফারিয়ার ভেতরের কষ্টগুলো অনেকটা উপলব্ধি করতে পারে সাদিয়া বেগম।

“মোটামুটি সব কথা প্রায় শেষ।ইমতিয়াজ চৌধুরী একটু গলা খাকড়িয়ে বলে,আমরা আগামী পরশু আপনাদের বাসা থেকে আমাদের বাসায় ফারিয়াকে নিয়ে আসতে চাই,আপনাদের কোন সমস্যা থাকলে বলতে পারে.? ফারিয়ার বাবা বললো,সমস্যা নেই তবে,এখন তো ফারিয়াকে দেখার জন্য সবসময় একটা মানুষ সাথে লাগবে,কখন কি হয় বলা যায়না। সাদিয়া বেগম বললো,ফারিয়াকে দেখাশোনার জন্য সবসময় আমরা আছি,আর পাশাপাশি ৩ জনকে রাখা হবে আপনারা একদম চিন্তা করবেন না। আমিন সাহেব আর না করতে পারলো না। নীলতো আজ মহা খুশি,অনেক প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করার পর ফারিয়া নামক রমনীকে পেতে চলেছে,তাও আবার সারাজীবনের জন্য।

-‘বিকাল ঘুনিয়ে সন্ধায় হয়ে এলো। ইমতিয়াজ চৌধুরী আমিন সাহেব আর অহনা বেগমকে তাদের রুমে নিয়ে গেলো। আমিন সাহেব যত তাদের দেখতে ততই অবাক হচ্ছে। এত বড় পরিবারে আর ধনি মানুষরা ফারিয়াকে এভাবে গ্রহণ করবে তা স্বপ্নেও কখনো ভাবতে পারিনি। অহনা বেগমও আজ অনেক খুশি,শেষমেশ মেয়েটার একটা গতি হলো। ফারিয়া একা মনমরা হয়ে বসে আছে,আর ওদিকে নীলও নিজের রুমে বসে আছে নিশ্চুপ হয়ে। তার মনের মাঝে একরাশ ইচ্ছে করছে ফারিয়ার সাথে গল্প করতে,তার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখটা দেখতে (লেখক_আহম্মেদ_নীল)তবে মা-বাবার সামনে বলাটা কেমন একটা হয়ে যাবে,তাই বলতে পারিনি। সাদিয়া বেগম বললো,মা তুমি বরং নীলের রুমে যাও। এই নীল বাবা একটু শুনে যাও তো,মায়ের ডাকে নীল তড়িঘড়ি করে রুমের সামনে আসতেই সাদিয়া বেগম বললো,নীল ফারিয়াকে একটু তোমার রুমে নিয়ে যাও কিংবা ফুলবাগানগুলো দেখিয়ে আনো। ফারিয়ার নীলের মায়ের মুখের উপর না করতে পারে না।

-“তারপর ফারিয়া উঠে রুমে সামনে এসেই ফারিয়াকে বলে ধরবো নাকি একা একা হাটতে পারবে.? ফারিয়া বলে পারবে। তবে একটু যেতেই নীল ফারিয়ার থেকে অনুমতি চাই তাকে ধরার জন্য। আদেও কি ফারিয়ার না করার সাধ্য আছে। যে মানুষটা তাকে নতুন একটা জীবন দিয়েছে।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) ফারিয়া বললো,আপনার আবার অনুমতি লাগবে.? ধরতে পারেন কোন সমস্যা নেই। নীল ফারিয়াকে প্রথমে নিয়ে যায় তার রুমে। নীলের রুমটা দেখে ফারিয়া হতভম্ব হয়ে যায়,রুমটায় বাচ্চাদের অনেক খেলনা সাজিয়ে রাখা আর ওয়ালে অনেক কয়টা বাচ্চাদের সুন্দর সুন্দর পিকচার টাঙানো আছে। আর বেডে তিনটা বালিশ সাজানো আছে,তার একপাশে একটা সুন্দর পুতুল রয়েছে। ফারিয়া এতক্ষণে বুঝতে পারলো,নীল হয়তো তাকে আর তার বাচ্চাকে নিয়ে এত প্লান। ফারিয়ার ইচ্ছে হচ্ছে নীলকে জড়িয়ে ধরে তার শার্টটা ভিজিয়ে দিতে,আর ওই বুকের মাঝে সারাজীবন এর জন্য নিজিকে বিলিয়ে দিতে। তবে এখন এটা সম্ভব না।

‘নীলের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিতে থাকে ফারিয়া,যা দেখে নীল অনেকটা খুশি হলো। ফারিয়া মুখে হাসি বিরাজ করলো অনেকদিন পর। তারপর নীল ফারিয়াকে নিয়ে গেলো বাগানে। একে একে সবকিছু দেখাতে লাগে,রাত হয়ে অন্ধকার হলেও পুরো বাগানে লাইটিং দেওয়া আছে,দেখতে একটু সমস্যা হচ্ছে না।(লেখক_আহম্মেদ_নীল) বাহারী রকমের ভুল ফুটে রয়েছে গাছে,ফারিয়াকে ফুলের মাঝে দাঁড়াতে বললো,ফারিয়া বুঝতে পারলো না তাকে কেনো এই সময় ফুলের বাঝে দাড়াতে বলছে। হঠাৎ নীল নিজের পকেট থেকে আইফোনটা বের করে ফারিয়ার পিক তুলে। তারপর কিছু পিক নিজেও ওঠে ফারিয়াকে সাথে নিয়ে। হয়তো একগুলো নীল ফ্রেমে বন্ধি করে রাখবে জনম জনমের জন্য।

(লেখক_আহম্মেদ_নীল)
____________________

-‘এদিকে সামিয়া পরের দিন সকাল হলে নারগিস বেগমকে বলে তার নাক থেকে রক্তক্ষরনের বিষয়টা। নারগিস বেগম প্রথমে ভাবলো,হয়তো সামান্য কোন সমস্যার কারনে এমনটা হচ্ছে। নারগিস বেগম ড্রাইভারকে বললো,গাড়ি বের করতে তারা বড় একটা ডাক্তারের কাছে যাবে। নারগিস বেগমের কথা অনুযারী ড্রাইভার ঢাকা মেডিকেল এ নিয়ে গেলো সামিয়াকে। তারপর নারগিস বেগম নিয়ে গেলো তার একটা পরিচিত মানুষের কাছে। সামিয়াকে ভেতরে নিয়ে গেলো চেকাপ করাতে,আর নারগিস বেগম বসে রইলো। ছেলের জন্য যে সে সবসময় চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর ডাক্তার কিছু রিপোর্ট নিয়ে নারগিস বেগমের হাতে ধরিয়ে দিলো। বিশেষ কোন গুরুতর সমস্যা হয়েছে.? ডাক্তার কোন কথা বলেনা,যা দেখে নারগিস বেগম অনেকটা হতভম্ব হয়ে যায়। তখুনি নারগিস বেগম রিপোর্টটাহাতে নিয়ে দেখে যা দেখতে পারে,তা দেখে কয়েক মিনিট পাথরের ন্যায় দাড়িয়ে থাকে। তার শরীরের কোন শক্তি নেই,কথা বলার শক্তিটুকু হারিয়েছে।

“নারগিস বেগম দেখলো,সামিয়ার ব্রেইন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। নারগিস বেগম বারবার রিপোর্টটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে থাকে। বারবার একই বিষয় পরিলক্ষিত করতে পারে। তারপর নারগিস বেগম ডক্টরকে বলতে লাগে,আপনার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে। প্রতিত্তোরে জবাব দিলো,আজ পর্যন্ত আমাদের কোন রিপোর্ট ভুল বলে প্রমান হয়নি আশা করবো এটাও ভুল বলে প্রমান হবেনা। তারপর ডাক্তার চলে গেলো। আর নারগিস বেগমের চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগে। হয়তো তাদের জন্য অপেক্ষা করা ভয়ংকর সব পরিনত বাস্তব রুপ নিচ্ছে একে একে।

-তখুনি হঠাৎ নারগিস বেগমকে চমকিয়ে,,,

চলবে কী.?

(লিখেছি। দয়াকরে আর কেউ আমার উপর অভিমান করে থাকবেন না। কালকে লিখতে সময় পায়নি, তাই আজকে অনেক বড় করে দিলাম। এবার পাঠকমহল খুশি তো.?আশা করবো এবার সবাই খুশি। নারগিস বেগম আর সামিয়া বুঝতে পারছে তাদের জন্য কত বড় ভহংকার পরিনতি অপেক্ষা করছে। প্রকৃতি হয়তো তার হিসাবটা বুঝে নিতে শুরু করেছে। সৃষ্টিকর্তা যা কেড়ে নেই তার থেকে উত্তম কিছু উপহার স্বরুপ রেখে দেয়। ঠিক যেমনটা ফারিয়াকে দিতে চলেছে। আর যারা মনে করে কাউকে কষ্ট দিয়ে তারা সুখের রাজ্যে থাকতে চাই,তাদের ভাবনাগুলো বোকামি ছাড়া আর কিছু না। ঠিক যেমনটা আশা করেছিলো নারগিস বেগম সহ আতিক আর সামিয়া। গল্পটা পড়ে সকলে গঠনমূলক কমেন্ট করে আপনাদের সকলের মতামত। গল্পের ভেতরে কোনপ্রকার ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here