Home ধারাবাহিক গল্প আমার সংসার আমার সংসার পর্ব ১৫

আমার সংসার পর্ব ১৫

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

# আমার_সংসার
Part :15
.
Writer :Mollika Moly
.
.

.
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সিফাত সোজা মসজিদে গেলো নামাজ পড়তে।আর সিনহা সকালের ব্রেকফাস্ট তৈরী করতে গেলো কিচেনে।সিফাত মসজিদ থেকে ফিরেই দেখে সিনহা ব্রেকফাস্ট তৈরী করছে,,ওকে কাজ করতে দেখেই সিফাত রেগে গেলো।সোজা রুমে গিয়ে সিনহা কে ডাকতে লাগলো। সিনহা ব্রেকফাস্ট গুলো টেবিলে সাজিয়ে সিফাতের কাছে গেলো।
.
– “কি ব্যপার এতো দেরী হলো কেনো তোমার,কখন ডেকেছি তোমায় আমি?
– ” আসলে ব্রেকফাস্ট তৈরী করছিলাম সেজন্য দেরী হয়েছে।কি হয়েছে বলুন?
– “আমার কথা কানে যায় না তোমার তাই না?
– ” কেনো আমি আবার কি করলাম?
– “এতোক্ষন যে ডাকলাম কানে কেন তুললে না?
– ” আরে কি আশ্চর্য, বললাম তো একটু কাজ করছিলাম, কিভাবে আসতাম বলেন তো?
– “আমাদের বাড়িতে কি কাজ করার লোক নেই,সুবর্ন কি নেই কাজের জন্য?
– ” হ্যাঁ আছে কিন্তু কেনো কি হয়েছে?
– “সুবর্ণ থাকতে তুৃমি কেন কাজ করতে গেলে?
– ” আমি রোজ সকালে সবার জন্য ব্রেকফাস্ট তেরী করি তাই।
– “তৈরী করতে,এরপর থেকে আর করবে না, সব সুবর্ণ করবে,তুমি শুধু ঘরে বসে রেস্ট নিবে,তুমি জানো না তোমার মাঝে আমার অংশ একটু একটু করে বড় হচ্ছে। তুমি এভাবে কষ্ট পেয়ে তাকেও কি কষ্ট দিবে,আর সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করবে মনে থাকবে?
– ” হুম।
– “ব্রেকফাস্ট রেডী?
– হ্যাঁ,আসুন?
.
অতঃপর দুজনে ব্রেকফাস্ট করতে গেলো।ব্রেকফাস্ট শেষে সিফাত অফিশের উদ্দেশ্য বের হয়ে গেলো।আর সিনহা রুমে বসে থাকলো খানিক টা সময়,সুবর্ণের সাথে খানিকটা সময় গল্প,তার শাশুড়িমায়ের সাথে কিছুটা সময় কাটিয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এলো।বিকেলে সে ছাদে গেলো গাছগুলোতে পানি দিতে।গাছগুলোতে পানি দিয়ে ছাদের এক কোনায় দাড়িয়ে গভীর চিন্তায় মনেনিবেশ করলো সে। মনে করতে লাগলো তার শৈশব স্মৃতি, বাল্যকাল, কৈশোরে কাল,সব,ছোট থেকে শ্বশুরবাড়ি , স্বামী কে নিয়ে দেখা স্বপ্ন। কোনো এক রাজপুত্র এসে তাকে নিয়ে যাবে শ্বশুরবাড়ি,প্রাসাদের মতো সেই বাড়ি,শ্বশুর,শাশুড়ি বর সবাই তাকে খুব ভালবাসবে,আপন করে নিবে সে সবাই কে, সে পেড়েছে তার স্বপ্ন পুরন হয়েছে,কিন্তু একটা জায়গায় কমতি থেকে গেছে সেটা হলো বরের ভালবাসা।সে প্রাসাদের মতো শ্বশুরবাড়ি পেয়েছে,অনেক ভালো শ্বশুর,শাশুড়ি পেয়েছে,রাজপুত্রের মতো বর পেয়েছে শুধু পায়নি বরের ভালবাসা।কখনোই সিফাত তাকে ভালবাসবে না,তার মনে প্রানে অন্যকেউ গেথে আছে,সিনহা চাইলেও সেই জায়গা টা নিতে পারবে না।কথাগুলো ভাবতেই সিনহা চোখ দিয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ে।কাধে কারো স্পর্শ অনুভব করলো,পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে সিফাত দাড়িয়ে।খুব তারাতারি চোখের পানি মুছে নিজেকে সংযত করলো সে।
.
– “কি হয়েছে সিনহা,কাঁদছেো কেনো তুমি?
– ” কই কিছু না?
– “সিনহা তোমায় চিন্তিত দেখাচ্ছে, কিছু একটা বিষয় নিয়ে তুমি খুব চিন্তিত।আমার সন্তানের বিষয়ে কি?
– ” আমার কিছু হয়নি বললাম তো।
– “আমি জানি সিনহা তুমি আমার সন্তানের জন্য ভয় করছো,তুমি যাকে ভালবাসো তার কথা ভেবে,তুমি চিন্তা করো না সিনহা আমি তোমায় তোমার ভালবাসার মানুষটির কাছে ঠিক পৌঁছে দিবো,তুমি কয়েকটা মাস আমার সন্তান টা ক্যারি করো শুধু, তারপর আমার দুজন আলাদা হয়ে যাবো।সন্তান টা আমার কাছে থাকবে,তুমি চলে যেয়ো তোমার ভালবাসার মানুষটির কাছে।
.
কথাটি শুনে সিনহা চমকে উঠে সিফাতের দিকে তাকায়, সে যেনো মানতেই পাড়ছে না সিফাত আর সে আলাদা হয়ে যাবে।সন্তান টাও আলাদা হয়ে যাবে।কিছু বলছে না সে,জানে না তার আর কতো সহ্য করতে হবে।
.
– “সিনহা তুমি জানো,আমাদের একটা সন্তান খুব জরুরী,জারার কখনো সন্তান হবে না আর আমি সন্তান অনেক ভালবাসি,তোমার গর্ভের সন্তান টা আমার,তোমার কোনো ভয় নেই আমার সন্তান শুধু গর্ভে রাখো তুমি তারপর তোমায় মুক্ত করে দিবো আমি কিন্তু শুধু একটা রিকুয়েস্ট সন্তান টা পৃথিবীতে নিয়ে এসো সিনহা প্লিজ,।
.
সিফাত হাত জোড় করে সিনহা কে বলছে কথাগুলো,প্রায় কেঁদে দিয়েছে,সিনহা নিজেকে আর সামলাতে পারলো না সিফাত জোড় করা হাতদুটো দুহাতে শক্ত করে ধরলো।সিফাতের চোখের পানি মুছে দিলো।সিফাত আচমকাই জড়িয়ে ধরলো সিনহা কে,
.
– “প্লিজ সিনহা কথা দাও আমার সন্তান আমায় দিবে।আমার সন্তান চাই সিনহা,ওকে নিয়ে এসো তুমি। জড়িয়ে ধরেই কথাগুলো বললো সিফাত।
– ” হুম কথা দিলাম, আপনার সন্তান আমি আপনাকে দিয়ে দিবো।
– “সত্যি বলে ওকে জড়ানো থেকে ছেড়ে দিলো,চোখ মুখে তার হাসি।
– ” হুম সত্যি,আমার গর্ভের এই সন্তান আমি আপনাকে আর জারা কে দিয়ে দিবো।
– “থাংকু সিনহা।চলো রুমে যাবে না সন্ধ্যা তো হয়ে গেলো।
– ” নাহ আজ যেতে ইচ্ছে করছে না,আজ আমি অনেকটা রাত পর্যন্ত ছাদে থাকবো।আজ জোছনাবিলাশ করবো আমি,ঐ দেখুন চাঁদ উঠছে একটু একটু করে।
– “হুম তো তোমার জোছনা বিলাশে কি আমায় সঙ্গী করা যায়?
– ” কেনো নয় বলুনতো,একা একা জোছনা বিলাশ করতে কি ভালো লাগে?
– “উহু এটা অবশ্যই বোরিং একটা কাজ,দুজনে বসে গল্প করে , চাঁদ দেখতে বেশ ভালো লাগে।
– ” হুম আপনিও থাকুন না,আর ঠান্ডা পড়েছে আমি দু মগ কফি আর চাদরে নিয়ে আসছি।ভালো লাগবে, ঠান্ডা আবহাওয়াই চাদরে মুড়িয়ে কফি,আর জোছনাবিলাশ মন্দ নয়।
– “হুম তা বেশ হবে,কিন্তু তুমি এখানে থাকো,চাদর আর কফিটা আমি নিয়ে আসছি?
– ” আরে আপনি পারবেন নাকি,কফি বানাতে,আমি যাই?
– “ও হ্যালো তোমার কোনো আইডিয়া আছে আমার বানানো কফির টেষ্ট সম্পর্কে,?
– ” উহু নেই তো,আপনি কফি বানাতে জানেন?
– “সে আর বলতে,কফি এক চুমুকের টেষ্টে হারিয়ে যাবে।
– ” তাই না?
– “হুম একদম।থাকো নিয়ে আসি,।
বলে সিফাত নিচে চলে এলো কফি বানাতে।
আর সিনহা আবারো ভাবনায় তলিয়ে গেলো।তার আজ ঘুম আসবে না,সেজন্য সে ছাদে কাটাতে চেয়েছিল, আজ তার কিভাবে চোখে ঘুম আসবে সেতো আজ সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছে,তার যে আর কোনো পিছুটান রইলো না।সে মুক্ত করে দিবে সিফাত কে,আঁকড়ে ধরবে না আর তাকে।
.
to be continue…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নোনাজলের শহর পর্ব শেষ

নোনাজলের শহর #লেখিকা_হৃদিতা_আহমেদ পর্ব-২৭ আদিব হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়।মিমন আদিবকে রেগে বের হতে দেখে দৌড়ে পিছু গেলেও আদিবকে ধরার আগেই...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৫+২৬

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৫ আদিবের পাগলামি সামলাতে না পেরে বাধ্য হয়ে গতকাল ডক্টরের কাছে গিয়েছিল মুমু।ডক্টর সব জেনে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট সহ আরো...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৩+২৪

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৩ -" মুমু পাগলামি করিস না, ফর গড সেক হাত থেকে চাকুটা সরা।" আদিব অস্থির হয়ে মুমুকে বার বার কথাটা বলছে।আদিব...

নোনাজলের শহর পর্ব ২১+২২

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২১ মুমুকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে আদিব প্রথমে অবাক হলেও হঠাৎই মনে হলো মুমু অসুস্থ হয়ে যায়নি তো? ভেবেই তড়িঘড়ি...

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৯
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৪
error: Alert: Content is protected !!