Home ধারাবাহিক গল্প আমার সংসার আমার সংসার পর্ব ৪

আমার সংসার পর্ব ৪

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আমার_সংসার
.
part:03
.
written by Mollika Moly(দুষ্টু পেত্নী)

–বৌমা সিফাত ঘুম থেকে উঠেছে,?মা বললো।
.
–না মা এখনো উনি ঘুম থেকে উঠেনি।
.
–কাল অনেক রাত করে বাড়ি ফিরেছে সিফাত তাই না মা?
.
–শাশুড়ি মায়ের এমন কথা শুনে আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না,সত্যিইতো উনি অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছে,
.
–কি হলো মুখ এমন চুপসে গেলো কেন তোমার বউ মা?বলো যেটা জিঞ্জেস করলাম?
.
–আসলে মা একটু দেরী করেছে বেশি নয়।
.
–থাক মা মিথ্যে বলতে হবে না আমি জানি আমার ছেলে কেমন,ও যে অনেক রাতে বাড়ি ফিরে এটা আমি জানি কিন্তু কাল যে সেই একই কাজ করবে এটা ভাবতে পারি নি।তুই কিছু মনে করিস না মা।ও কি তোর ওপর কোনো অত্যচার করেছিলো রাতে?
.
–না মা কি বলো এইসব উনি আমায় অত্যাচার করতে যাবে কেনো,উনি আমায় কোনো অপমান করেনি।
.
–যাক বাবা বাঁচলাম নতুন বউয়ের ওপর তাহলে কোনো অন্যায় অত্যাচার করেনি নিশ্চিন্ত হতে পারলাম।আচ্ছা মা তুই এখন যা ওর জন্য কফি নিয়ে,তা না হলে ও খুব রেগে যাবে আর শোন ওর কফি তে চিনি কম দিবি,ও বেশি চিনি খায় না বুঝলি?আর ও উঠেছে কি না সেটা আগে দেখ,পারলে তুলে ব্রেকফাস্টের টেবিলে নিয়ে আসতে পারিস কি না দেখ একটু, ছেলেটা কতোদিন হলো আমাদের সাথে বসে খায় না।
.
–হুম মা,আসছি বলে
.
রান্নাঘরে চলে এলাম উনার জন্য কফি বানাতে,কফি বানিয়ে রুমে গিয়ে দেখি উনি এখনো বেঘড়ে ঘুমোচ্ছে। এখন কি করি।ডাকবো কি ডাকবো না এটা ভাবছি।ডাকলে যদি সে রেগে যায়।কিন্তু মা তো ডাকতে বললো কি যে করি।অনেক ভেবে শেষ পর্যন্ত গায়ে আলতো ছুয়ে আস্তে আস্তে ডাকতে লাগলাম।
উনি হালকা চোখ খুলে তাকালো,চোখ মুখে রাগ আর বিরক্তির ছাপ,দেখে বোঝায় যাচ্ছে তাকে ডাকার কারনে রাগ হয়েছে।
.
–কি হয়েছে কি, এতো ডাকছিস কেন,আর তোর এতো সাহস তুই আমাকে ছুইস,রেগে বললো কথাগুলো।
.
–আপনার কফি,বলে কফির মগ টা এগিয়ে দিলাম।
.
উনি কফির মগ টা হাতে নিয়ে আমার গায়ে ছুড়ে দিলো গরম কফিগুলো,আচমকা এইরকম করায় আমি আস্তে একটা চিৎকার দিলাম।উনি উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলেন।আমি হাত টা ধরে ওখানে বসে পড়লাম।কেনো এমন করছেন আমার সাথে উনি,আমি কি করেছি কি অপরাধ আমার।আমার চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে মা দৌড়ে এলো।
.
–কি হয়েছে সিনহা মা তোর এতো জোড়ে চিৎকার করলি কেন?
.
–কই মা কিছু হয়নি তো?
.
–হাতে কি হয়েছে দেখি,কাপড় দিয়ে অমন চেপে ধরে আছিস কেন?দেখি দেখি বলে হাত থেকে কাপড় টা সরালো মা,
.
–ইস পুড়লো কি করে হাতটা, কতোটা পুড়ে গেছে ফোসকা পড়েছে, সুবর্ন এই সুবর্ন ফ্রীজ থেকে বরফ আনতো তোর ভাবীর হাতে লাগাতে হবে।
.
সুবর্ন কে বললো মা,সুবর্ন বরফ এনে দিলে মা বরফ লাগাতে লাগল,এরমধ্যেই উনি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো।
.
–সিফাত বউ মার হাত পুড়লো কি করে,কি করেছিস তুই?মা উনাকে বললো।
.
–উনি কিছু করেনি মা, আমার হাত ফসকে কফির মগটা পরে যেতে গিয়ে হাতে পরছে।
.
–তুমি চুপ করো বউমা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি,কি সে কি হয়েছে,শোন সিফাত বউ কিন্তু তোর তুই ওকে অসম্মান করতে পারিস না।
.
–কে বউ আর কার বউ,ঐ গাইয়া আনকালচার ছোট লোকের মেয়েকে আমার বাড়িতে আমি চাকর করেও রাখবো না আর দুর তো আমার বউ হওয়া।
.
–সিফাত ঠিক করে কথা বলো,বাবা উনাকে ধমক দিয়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে কথাগুলো বললো।
.
–বাবা, মা প্লিজ আমাকে এই মেয়ে টাকে বউ বলে মেনে নিতে বলো না,আমি পারবো না,আমি তোমাদের জড়াজুড়িতে বিয়ে করেছি,আমি জারা কে ভালবাসি আর সে আমার প্রথম স্ত্রী, আমি ওকেই ভালবাসি বাসবো আর কাউকে নয়,জারা আমার বউ ছিলো আছে থাকবে, এটাই শেষ কথা।
.
–সিফাত ভুলে যেওয়ো না জারার সাথে তোমার ডিভোর্স হয়েছে?
.
–সো হোয়াট বাবা,ডিভোর্স হয়েছে তো কি হয়েছে, আমি ওকে আবার বিয়ে করবো, খুব শিঘ্রই।
.
–যে মেয়েটা তোমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলো অন্য ছেলের হাত ধরে,আর সেই ছেলেটা যখন ওকে ঠকিয়ে চলে গেছে আজ সে তোমার কাছে ফিরে আসতে চায়ছে কেনো তা তুমি বোঝো না?
.
–বুঝি বাবা সব বুঝি,জারা আমায় ভালবাসে,তাই সে ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এসেছে।
.
–এখন আর ফিরে কোনো লাভ নেই,এখন তুমি সিনহার স্বামী, ওর সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে,ওকে নিয়ে ভাবো জারা কে নয়।
.
–সরি বাবা,আমি পারবো না,আমি তোমাদের কথা রাখতে বিয়ে করেছি ব্যাস এটুকুই,এখন তোমরা যা ইচ্ছে করো।
বলেই উনি বের হয়ে চলে গেলেন।
.
বাবা শুধু আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে চলে গেলো।মা আমায় বোঝাতে লাগলো,,
.
–মন খারাপ করিস না মা সব ঠিক হয়ে যাবে দেখে নিস।
.
–মা জারা উনার প্রথম স্ত্রী তাইতো?
.
–হুম।
.
–সে চলে গিয়েছিলো কেন,আর ফিরেই বা এসেছে কেনো?
.
–সে অনেক কথা রে মা,একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো মা।
.
–অনেক কি কথা একটু বলো না মা?
.
–সিফাত, আকাশ আর জারা অষ্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশুনা করতো।সিফাত জারা কে পছন্দ করতো অনেক,পরবর্তীতে ভালবেসে বিয়ে করলো,ওখানেই আমাদের না জানিয়ে,আমরা একটু মন খারাপ হলেও একমাত্র সন্তান যা ইচ্ছে করেছে ভেবে মেনে নিয়েছিলাম,আমরা চেয়েছিলাম ও যাকে বিয়ে করে করুক কিন্তু মেয়েটি যেনো আমার ছেলে কে ভালবাসে, কিন্তু জারা আমার ছেলে কে না আকাশ কে ভালবাসতো,আর টাকার জন্য আমার ছেলের সাথে ভালবাসার অভিনয় করেছিলো
.
ফোনে যখন বলে মা, আমি বিয়ে করেছি খানিকটা স্তম্ভিত হয়েছিলাম তখন,তারপর বলেছিলাম বৌমা কে নিয়ে আয় বাড়ি,সিফাত বউমা বাড়ি আসছে ভেবে প্রহর গুনতে লাগলাম,এলো বাড়ি তবে শুধু আমার ছেলে, বউমা আসেনি,সে এয়ারপোর্টে সিফাতের দেওয়া টাকা নিয়ে আকাশের সাথে চলে গেছে।
.
সিফাত বাড় ফিরেই কান্নায় ভেংগে পড়লো।আমায় জরিয়ে ধরে।
.
–কি হয়েছে বাবা কাঁদিস কেন?বৌমা কোথায়?
.
–মা জারা,,😭😭।
.
–হ্যা বল কি হয়েছে বৌমার,কোনো বিপদ হয়নি তো বল?
.
–মা ও আমায় ছেরে আকাশের সাথে চলে গেছে।
.
ওর কথা শুনে কি সান্ত্বনা দিবো আমি খুজে পাইনি,শুধু বলেছিলাম কাঁদিস না বাবা,আমরা ভালো মেয়ে দেখে তোকে বিয়ে দিবো।
.
সেদিনের পর থেকে আমার ছেলে টা উদাস হয়ে বসে থাকতো।কারো সাথে তেমন কোনো কথা বলতো না
.
এভাবে বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর,জারা ফিরলো দেশে।সিফাতের কাছে, বউয়ের অধিকারে,কিন্তু ওর হয়তো মনে ছিলো না ও আকাশের সাথে যাওয়ার সময় সিফাত কে নিজে ডিভোর্স দিয়ে গিয়েছিলো,জারা সিফাত কে ভুলিয়ে ভালিয়ে ওর বশে নিয়ে নিলো,সিফাতও ওর মিথ্যে অভিনয়ে আবার ভুলেছে।কিন্তু সে তো জানে না জারা আবারো ওকে ঠকাতে এসেছে এটা সিফাত মানতেই চায় না,আবারো পাগলামি শুরু করলো জারা কে বিয়ে করার জন্য,আমি আর তোর বাবা রাজি হয়নি,সেজন্য সিফাত আমাদের সাথে ঠিক ভাবে কথা বলে না,একসাথে খায় না,বাড়ি থাকে না। এভাবে চলে আসছে,,আজ পর্যন্ত,,।
.
শোন সিনহা মা,এই সংসার টা তোর,তোর সংসার বাঁচানোর দায়িত্ব তোর,কাউকে তোর সংসার ছিনিয়ে নিতে দিবি না,আমার ছেলে টা কে ঐ ছলনাময়ীর থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারবি না মা বল,,??
.
— পারবো মা,আমি পারবোই,কারন এটা “আমার_সংসার”, আমার সংসার আমি রক্ষা করবো,কাউকে ছিনিয়ে নিতে দিবো না।
.
–হুম মা তুই পারবি,আমার ছেলে টাকে আগের মতো করে ফিরিয়ে দিতে,দোয়া করি তুই তোর বর আর সংসার কে যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখ।
.
to be continue..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নোনাজলের শহর পর্ব শেষ

নোনাজলের শহর #লেখিকা_হৃদিতা_আহমেদ পর্ব-২৭ আদিব হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়।মিমন আদিবকে রেগে বের হতে দেখে দৌড়ে পিছু গেলেও আদিবকে ধরার আগেই...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৫+২৬

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৫ আদিবের পাগলামি সামলাতে না পেরে বাধ্য হয়ে গতকাল ডক্টরের কাছে গিয়েছিল মুমু।ডক্টর সব জেনে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট সহ আরো...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৩+২৪

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৩ -" মুমু পাগলামি করিস না, ফর গড সেক হাত থেকে চাকুটা সরা।" আদিব অস্থির হয়ে মুমুকে বার বার কথাটা বলছে।আদিব...

নোনাজলের শহর পর্ব ২১+২২

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২১ মুমুকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে আদিব প্রথমে অবাক হলেও হঠাৎই মনে হলো মুমু অসুস্থ হয়ে যায়নি তো? ভেবেই তড়িঘড়ি...

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৯
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৪
error: Alert: Content is protected !!