Home ধারাবাহিক গল্প আমার সংসার আমার সংসার পর্ব ৫

আমার সংসার পর্ব ৫

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আমার_সংসার
.
part :05
.
Written by Mollika Moly(দুষ্টু পেত্নী)
.
অনেকটা সময় মায়ের হাত পায়ে,।
মাথায় তেল মালিশ করে,একটা
প্রসারের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে চলে
আসলাম নিজের রুমে।
.
সুবর্ন কে সাথে নিয়ে রাতের রান্না
সেড়ে ফেললাম,বাবা,মা কে তাদের
রুমেই খেতে দিয়ে এলাম।
.
ওনার জন্য খাবার রেডী করে নিয়ে
মাথায় হাত বসে ঝিমুচ্ছি।
কাধে কারো স্পর্শ অনুভব করলাম।
.
–কে বলে পিছনে তাকালাম,,
ওহ সুবর্ন তুই,কি রে ঘুমাস নি
এখনো?
.
–ঘুমাতেই গেছিলাম,রুমে গিয়া দেখলাম
জগে পানি নাই,তাই জগে পানি নিতে এসে
দেখলাম আপনি এহোনে বইসা রইছেন,
তাই আসলাম।
.
–ওহ যা ঘুমা, আমি বসে আছি তোর
ভাইয়া ফিরবে তাই।
.
–ভাবী রাত তো অনেক হলো,
খাইবেন না,ঘুমাইবেন না?
.
–হুম খাবোতো বলে ঘড়ির দিকে তাকালাম।
.
–আরো কহন খাইবেন,ঘরির দিকে তাকায়
দেখেন ১২ টা বাজে।খাবেন কহন,ঘুমাইবেন
কখন?
.
–এইতো খাবো এখন ঘুমাবোও আরেকটু পর
তোর ভাইয়া আসুক।
.
–ভাবী ভাইয়ার আশায় বইসা না থেকে খাইয়া
ঘুমাইলোন,ভাইয়ার আশায় থাকলে পেটে ভাত
যাইবো না আর চোখে ঘুমই আইবো না।
.
–তুই যা গিয়া ঘুমা।
.
–হ যাইতাছি,কিন্তু আপনেও খাইয়া ঘুমাই পড়েন।
ভাইয়ার আশা বাদ দিয়া,বলেই হায় তুলতে তুলতে
চলে গেলো সুবর্ন।
.
আমি ওখানেই ঠায় বসে থাকলাম,ঘুম পাচ্ছে খুব,
ঘরির দিকে তাকাচ্ছি আর দরজার দিকে।কিন্তু
ওনার আসার নামই নাই,১ঃ৩০ বেজে গেছে
আর কতোক্ষন অপেক্ষা করবো, ক্ষুধায়
আমার পেট যাচ্ছে, আর ঘুমে চোখ খুলে রাখতে পারছি না।ওভাবে বসে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে
পড়েছি জানি না।
.
আচমকা একটা শব্দে জাগা পেলাম,ঝটপট মাথা তুললাম,ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখি ২ঃ৩০ বাজে।
একি আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম উনি কি এসেছে।
দরজার দিকে তাকালাম,হ্যাঁ উনি এসেছে,উনার
কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলে ড্রাইভার
উনাকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।ঠিকমতো দাড়াতে পারছে না,ড্রাইভার ধরে রেখেছে ওকে।না ধরলে
ও দাড়িয়ে থাকতে পারবে না পড়ে যাবে এমন
অবস্থা। দেখো বোঝায় যাচ্ছে প্রচুর ড্রিঙ্ক করেছে।
.
আমি এগিয়ে গিয়ে ধরলাম ওনাকে,ড্রাইভারের কাছে থেকে সরিয়ে নিজের সাথে মেশালাম,ড্রাইভার চলে
গেলো।দরজা বন্ধ করে রুমে নিয়ে যেতে লাগলাম
উনাকে ধরে,উনাকে দেখে মনে হয় না উনি খাবার খাওয়ার মুডে আছে।নেশার ঘোড়ে কি কি যেনো,
বকছে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কিন্তু উনি যে নিজের মধ্যে নেই,এটা বেশ বুঝতে পারছি। মুখ থেকে
মদের দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।ওয়াক করে উঠলাম মনের অজান্তেই একবার,তখনি দেখি রাগী চোখে আমার দিকে তাকালো।আমি ভয়ে চুপসে গেলাম।
.
–দুই টাকার মেয়ে আজ আবার আমায় দেখে ঘৃনা করিস।তোর দেমাক আজ আমি ঘোচাবো।
.
এই বলেই আমার ঠোট দুটো নিজের দখলে নিয়ে
নিলো।আমার গা ঘিন ঘিন করতে লাগলো কিছুটা
সময়, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো এক নেশায় আমিও
উনার সাথে তাল মেলাতে লাগলাম।আমায় জরিয়ে ধরে রাখলো তার বুকের মাঝে।এই প্রথম আমি তার
বুকে নিজেকে আবিস্কার করলাম।অনেক ভালো লাগছে আমার।প্রিয় মানুষটির বুকে থাকার প্রশান্তি আলাদা। উনি আমার পুরো মুখে চুমু দিতে লাগলো।
ঘাড়ে গলায় পাগলের মতো আদর দিতে লাগলো।
আমি জানি আজ কেবলি দৈহিক তাড়নায় সে আমায় কেছে টেনে নিচ্ছে,এর মাঝে কোনো ভালবাসা নেই।
এটা কেবলি দেহের খায়েশ মেটানো।তারপরো আমি তাকে বাধা দিতে পারলাম না।উনার সাথে তালে তাল মিলিয়ে ডুব দিলাম ভালবাসাহীন এক দাম্পত্য জীবনের প্রথম ধাপে।মন কে বুঝালাম নাই বা থাকলো ভালবাসা তাতে কি বর তো।তার যে এই অধিকারটুকু আছে আমার ওপর।বাধা দেওয়া উচিত না আমার।নিজেকে সপে দিলাম ওনার কাছে।
.
প্রতিদিনের মতো আজো মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাংলো।চোখ খুলে নিজেকে উনার বুকের মাঝে আবিষ্কার করলাম।ঘুমন্ত মানুষটিকে
কত সুন্দর দেখাচ্ছে, কতো নিষ্পাপ। কে বলবে এই
মানুষ টি বাহিরে এতো কঠোরতা,ঠিক বাচ্চা দের মতো ঘুমাচ্ছে। উনার কপালে একটা চুমু দিয়ে উঠে
ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে,ছাদে গেলাম।ফুলের গাছগুলোতে পানি দিতে।
আমি আসার পর প্রথমদিন দেখলাম ফুলের গাছগুলো কেমন রুক্ষ, শুষ্ক হয়েছিলো পরিচর্যার অভাবে,আমি আাসার পর গাছগুলোতে রোজ সকাল বিকাল পানি দেই,গাছগুলো এখন সতেজ,ফুল ফুট তেও শুরু করে দিয়েছে।গাছগুলোতে পানি দেওয়া শেষ করে নিচে নেমে সোজা রান্না ঘরে গেলাম।
.
প্রতিদিনের মতো চা করে দুকাপে চা আর খবরের কাগজ নিয়ে বাবা, মায়ের ঘরেরে দিকে গেলাম।
আজ অনেক সকাল সকাল বাবা, মায়ের ঘরে যাচ্ছি।
.
–মা,বাবা, আসবো,উঠেছো তোমরা?
.
–হ্যা,,মা আয়,আমরা অনেক সকালে উঠেছি,ফজরের নামাজ আদায় করে আজ আর ঘুমায়নি,তোর কথা মতো জগিং করতে গেছিলাম।
বাবা বললো কথাগুলো।
.
— ওলে আমার ছেলে টা এতো ভালো,এই নাও চা,আর খবরের কাগজ।
.
–হুম দে বলে হাত বাড়িয়ে নিলো বাবা।
.
–তোর ছেলেই শুধু ভালো আমি ভালেও না আর আমি তোর কেউ না, মা অভিমানের স্বরে বললোা।
.
–ওহো রেগে গেলে কেনো,তুমিতো আমার মেয়ে
আর কে বলেছে তুমি ভালো না,তুমি অনেক ভালো।
এইবার চা খাও দেখি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, এতো অভিমান করে থাকতে হবে না।
.
–হুম বলে চায়ের কাপে চুমুক দিলো মা।
.
— মা বাবা,থাকো আমি আসি সুবর্নের সাথে ব্রেকফাস্ট তৈরী করি।
.
–হুম যা,মা বললো,
আমি চলে এলাম রান্না ঘরে,উনার
জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে গেলাম।
.
to be continue,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নোনাজলের শহর পর্ব শেষ

নোনাজলের শহর #লেখিকা_হৃদিতা_আহমেদ পর্ব-২৭ আদিব হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়।মিমন আদিবকে রেগে বের হতে দেখে দৌড়ে পিছু গেলেও আদিবকে ধরার আগেই...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৫+২৬

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৫ আদিবের পাগলামি সামলাতে না পেরে বাধ্য হয়ে গতকাল ডক্টরের কাছে গিয়েছিল মুমু।ডক্টর সব জেনে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট সহ আরো...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৩+২৪

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৩ -" মুমু পাগলামি করিস না, ফর গড সেক হাত থেকে চাকুটা সরা।" আদিব অস্থির হয়ে মুমুকে বার বার কথাটা বলছে।আদিব...

নোনাজলের শহর পর্ব ২১+২২

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২১ মুমুকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে আদিব প্রথমে অবাক হলেও হঠাৎই মনে হলো মুমু অসুস্থ হয়ে যায়নি তো? ভেবেই তড়িঘড়ি...

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৯
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৪
error: Alert: Content is protected !!