Home"ধারাবাহিক গল্প"এক মুঠো প্রেমএক মুঠো প্রেম পর্ব -৩২

এক মুঠো প্রেম পর্ব -৩২

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#এক_মুঠো_প্রেম
#Writer_Mahfuza_Akter
#পর্বঃ৩২

-কেউ চলে ডালে ডালে, কেউ চলে পাতায় পাতায়। কিন্তু প্রণব মেহরাজ চৌধুরী চলে শিরায় শিরায়।

প্রণব ঘাড় কাত করে পেপারওয়েটটার তাকিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসছে। ওর চাহনি-ই যেন অনেক কথা বলছে যার অনেক কিছু-ই আদ্রের বোধগম্য হচ্ছে এখন। বিষয়টা কিছুটা আচঁ করতে পেরে আদ্র বেশ অবাক হলো। শুকনো ঢোক গিলে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললো,

-মানে? কী বলতে চাইছিস তুই?

প্রণব মুখটা স্বাভাবিক করলো। দৃষ্টি সরিয়ে আদ্রের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,

-এটাই যেটা তুই বলতে চাইছিস। ক্লিয়ারলি বলতে গেলে, যে উদ্দেশ্য নিয়ে তুই এখানে এসেছিস সেটা।

আদ্র হকচকিয়ে গিয়ে বললো,

-উদ্দেশ্য!!!

-নেই? কোনো কারণ ছাড়া তো আজ আমায় তোর সাথে দেখা করতে ডাকিসনি, রাইট? কিছু কথা জানা এবং কিছু কথা শোনার জন্য ডেকেছিস, যদিও সবটাই তোর জানা আছে। কিন্তু আসল সত্যিটাই তোর অজানা! ডু ইউ নৌ দ্যাট?

আদ্র অক্ষিপট মেলে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

-আসল সত্যটা কী?

-এটাই যে, মিসেস নিস্তব্ধতা আমার। একান্তই আমার নিজের। আর আমার নিজের ব্যক্তিটার সাথে জড়িত প্রত্যেকটা বর্ণ আমার জানা। সুতরাং কে কে তার প্রাক্তন ছিল, সেটাও আমার অজানা নয়!

শেষোক্ত কথাটা প্রণবের কন্ঠে বেশ কাঠিন্যপূর্ণ শোনালো। আদ্র চকিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রণবের দিকে। কথা গুলোর মানে বুঝতে আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না তার। প্রণব সবটাই জানে। আগে থেকেই জানে। জেনেশুনে কেন বিয়ে করলো স্পৃহাকে? এক প্রশ্নের আড়াল থেকে এখন একাধিক প্রশ্ন মাথায় আসছে। ভাবতে ভাবতে অনেকটা মুখ ফসকে প্রশ্ন করেই ফেললো,

-সবটা জানলে বিয়ে কেন করলি?

প্রণব ভ্রু উঁচিয়ে আদ্রের দিকে তাকাতেই আদ্র থতমত খেয়ে আমতা আমতা করতে লাগলো। প্রণব আবার হাসলো,

-কারণ আমি মেরুদন্ডহীন নই!

কথার সুরে ব্যাঙ্গ ও বিদ্রুপ স্পষ্ট। আদ্রের কান গরম হয়ে উঠলো মুহূর্তে-ই। প্রণব শান্ত গলায় বললো,

-ভালোবাসা! যদিও এটার সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই। তবে একেকজনের জন্য ভালোবাসার সংজ্ঞা ও ধরন একেক রকম। কিন্তু সাধারণ বিষয়বস্তু একটাই- আমরা কারো দেহকে ভালোবাসি না। ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসি না। স্পেসিফিক অঙ্গকে ভালোবাসি না। ইভেন, কারো মনকেও ভালোবাসি না। যদি কোনো একটা দিককে ভালোবাসি বা কোনো একটা দিক বাদে বাকি সব দিককে ভালোবাসি বলে দাবি করি, তাহলে সেটাকে ভালোবাসা বলে না। সেটাকে বলে মোহ। ভালোবাসাটা সম্পূর্ণতার সাথে সমানুপাতিক ভাবে সম্পৃক্ত। ব্যক্তির সম্পূর্ণ সত্তাটা যদি মনের আঙিনায় স্থান পেতে পারে, তবেই সেটাকে ভালোবাসা বলে।

আদ্র মাথা নিচু করে বসে আছে। ওকে নিশ্চুপ দেখে প্রণবের আরো অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এতো বাক্য ব্যয়ের সময় তার নেই। তার সংক্ষেপে বক্তব্যের ইতি টানার জন্য বললো,

-শেষ থেকেই নতুন সূচনা শুরু হয়। স্পৃহার জীবনেও সেই সূচনার সাক্ষাৎ হবে অতি শীঘ্রই। হয়তো স্পৃহার মনে আমার জন্য জায়গা আদৌ হবে কিনা আমি জানি না। কিন্তু আমার যেটা চাই, সেটা আমার চাই-ই চাই। এজন্যই ওকে নিজের সাথে আবদ্ধ করেছি।

বলেই আদ্রের কাছাকাছি গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,

-সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিজের প্রাণভোমরাকে দূরে রাখলে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব। আর আমার এতো তাড়াতাড়ি মরার ইচ্ছে নেই!

প্রণব দুর্বোধ্য হাসি দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে চলে গেল। আদ্র ওর যাওয়ার পানে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো শুধু।
_________________________

সকাল থেকে চার দেয়ালে বন্দী আবদ্ধ ঘরে একাকী প্রহর গুনছে স্পৃহা। এক কোণে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে সে। ডুবন্ত সূর্যের হরিদ্রাভ আভার এক ফালি রশ্মি জানালার কার্ণিশ ভেদ করে স্পৃহার পাচে পড়তেই মুখ তুলে পিটপিটিয়ে সামনে তাকালো সে। দিবালোকের শেষ প্রহর আগত। আর কিছু মুহূর্ত পরেই ইতি ঘটবে আজকের দিনটির।

সারা দিনে এক ফোঁটা পানিও মুখে তোলেনি স্পৃহা। খাবার ওর টেবিলে রেখে গেলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি স্পৃহা। আবারও হাঁটুর ভাজে মুখ লুকিয়ে বসে রইলো সে। কিছুক্ষণের ব্যবধানেই দরজার নব মোচড়ের আওয়াজ কানে এলো। কিন্তু মুখ তুলে তাকানোর ইচ্ছে বা আগ্রহ কোনোটাই আপাতত নেই ওর।

-এভাবে না খেয়ে থাকলে আপনাকে আমি ছেড়ে দেবো ভেবেছেন?

স্পৃহা মুখ তুলে তাকালো। প্রণব ওর সামনে হাঁটু মুড়ে বসে আছে। রক্তিম চোখজোড়া ভয়ঙ্কর ঠেকছে। কিন্তু মুহূর্তেই সেই দৃষ্টি ম্লান হয়ে গেল। আক্রোশ ক্রমশ শূন্যে নেমে আসতেই কোমল স্বর ভেসে এলো,

-নিজের এ কী অবস্থা করেছেন আপনি? চোখ মুখ ফুলে লাল হয়ে গেছে তো! কাঁদছেন কেন?

স্পৃহা চোখ আবার ঝাপসা হয়ে গেল। অলক্ষ্যেই অশ্রু গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে। আক্রোশ মাখা কন্ঠে বললো,

-আহ্লাদ দেখাতে এসেছেন এখানে? লজ্জা থাকা উচিত আপনার! একটা মেয়েকে ধোকা দিয়ে বিয়ে করেছেন। এখন এখানে বন্দী করে রেখেছেন। সারাদিন পর রাতে এখানে এসেছেন। আপনার উদ্দেশ্য না বোঝার মতো অবুঝ আমি না!

প্রণব ভ্রু বাঁকিয়ে বললো,

-বেএএএশ বুদ্ধিমতী আপনি! আই শ্যুড এপ্রিশিয়েট ইয়র ইন্টেলিজেন্স। কিন্তু সেটার অপপ্রয়োগ-এর জন্য পরে আফসোস করতে হবে।

স্পৃহা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,

-আফসোস তো এখন হচ্ছে! কেন যে আপনাদের বাসায় ছিলাম এতোদিন? আপনার মতো জঘন্য একটা মানুষকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই আজ এই দিন দেখতে হলো! নিতান্তই ঘৃণ্য একজন মানুষ আপনি। আর আপনার জন্য আফসোস? হাহ! হাসালেন আমায়। আপনি মা-রা-ত্ম-ক বাজে একজন মানুষ।

প্রণব ভ্রু উঁচিয়ে বললো,

-আর কিছু?

স্পৃহা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। ছেলেটাকে এতো গুলো কথা শোনালো, তবুও কোনো বিশেষ ভাবাবেগ নেই কেন? সামান্য দুঃখবোধ বা লজ্জাবোধ কোনোটাই নেই তার। স্পৃহা বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে তাকালো। বিরবির করে বললো,

-নির্লজ্জ কোথাকার!!

কথাটা প্রণবের কানে ঠিকই পৌছেছে। প্রণব ঠোঁট প্রসারিত করে রহস্যময় হাসি দিলো। স্পৃহার শ্রবণপথের একদম নিকটে ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে বললো,

-ইয়েস! আমি জঘন্য, ঘৃণ্য, খারাপ, বাজে, নির্লজ্জ, বেহায়া। একদম অসহ্যকর একটা মানুষ। কিন্তু আমি যেমনই হই না কেন, যা-ই হই না কেন, আপনারই তো! শুধু-ই আপনার। একান্তই আপনার এবং একমাত্র আপনার।

স্পৃহা থমকালো। ধীর গতিতে চোখ ঘুরিয়ে প্রণবের ওপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো সে। অদ্ভুত শান্ত সেই অক্ষিদ্বয়। কিন্তু সেই শান্ত ভঙ্গির আড়ালে থাকা তোলপাড় গুলো চোখে দৃশ্যমান নয়। ভেতরে ভেতরে ফুলে-ফেঁপে উঠছে আর্তনাদ গুলো। তারা একটা কথাই জানান দিচ্ছে,

-এটাই তো ছিল একমাত্র চাওয়া তোর জীবনে! কেউ একজন থাকবে। একান্তই তোর নিজের মানুষ হিসেবে। আজ সেটা পেয়েও গ্রহণ করাটা দুঃসাধ্য কেন? কেন ভাগ্য এতো নির্মম তোর প্রতি? কেন নিয়তি তোর সবটা কেড়ে নিলো? আর এমন ভাবেই কেড়ে নিয়েছে যে, সেই শূন্যতা পূরণ করাটাই অসম্ভব!

ভাবতেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো স্পৃহা। গাল ছাপিয়ে অশ্রু গুলো ঝরে পড়তে লাগলো আপন গতিতে। মাথা নিচু করেই বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে সে। প্রণব দীর্ঘশ্বাস ফেললো। হাত বাড়িয়ে ওর মাথার ওপর রাখতে গিয়েও আবার মুষ্টিবদ্ধ করে সেটা ফিরিয়ে নিলো। নিজেকে কেমন যেন পাগল-পাগল মনে হচ্ছে ওর। অসহ্যকর একটা অনুভূতি! গাল থেকে জোরে একটা শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে বললো,

-আমার সামনে কাঁদবেন না, মিসেস নিস্তব্ধতা! এভাবে তো কোনোদিনই কাঁদবেন না। সহ্য করতে পারি না আমি।

স্পৃহা কান্না থামিয়ে অবাক চোখে তাকালো। প্রণব ততক্ষণে খাবারের প্লেট নিয়ে এসে হাত ধুয়ে খাবারে হাত লাগিয়ে ফেলেছে। খাবার মাখতে মাখতে বললো,

-আমি জানে, আপনি ভালো কথার মানুষ নন। তাই আপনাকে খাওয়ার জন্য একদমই জোর করবো না। কিন্তু আজকের রাতের জন্য আমি দুনিয়াদারি ভুলে যাবো। শুধু একটা জিনিস ভুলবো না। সেটা কী, জানেন? সেটা হলো আমি বিবাহিত, আর আমার বউ এখন আমার সাথে এক ঘরে বন্দী।

স্পৃহা বিস্ফোরিত চোখে তাকালো। দৃষ্টিতে ক্রমেই রাগ এসে ঘনীভূত হতে লাগলো। কড়া গলায় কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই প্রণব ওর মুখের সামনে খাবার এগিয়ে দিয়ে বললো,

-কথা বলে কোনো লাভ নেই। ইট’স নাথিং বাট এনার্জি ওয়েস্টেইজ। খেয়ে নিন। তাহলে ঝামেলা মিটে যায়।

স্পৃহা খাবারের দিকে একবার তাকিয়ে প্রণবের দিকে আবার তাকাতেই ও চোখ দিয়ে ইশারা করলো খাবার টুকু মুখে নেওয়ার জন্য। স্পৃহা কঠিন চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঝামটা মেরে মুখ ফিরিয়ে নিলো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

-আপনার হাতে খাবো আমি? ইম্পসিবল!!!

-তাহলে আপনি চাইছেন আমি কিছুক্ষণ আগে বলা কথাটা কাজে পরিণত করি। রাইট?

স্পৃহা সরু দৃষ্টিতে তাকালো প্রণবের দিকে। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললো,

-কেন আঁটকে রেখেছেন আমায় এখানে? আপনি কেন বুঝতে পারছেন না যে, আমার পক্ষে কোনো কমিটমেন্টে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি আহিরকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনাও করতে পারবো না কোনোদিন। যেখানে আদ্রকে নিজের মনে জায়গা দিতে পারিনি, সেখানে …… আর আপনি তো ভালো করেই জানেন সবটা! কেন আমার মতো একটা স্টেরাইল মেয়ের জন্য এসব করছেন? সব ছেলের-ই স্বপ্ন থাকে, সে কোনো মেয়ের জীবনে প্রথম ও একমাত্র ব্যক্তি হবে। কিন্তু ……

স্পৃহার কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রণব আনমনে বললো,

-প্রথম ব্যক্তি-ই তো ছিলাম! হারিয়ে না গেলেই পারতেন! তাহলে আজ আপনাকে এতো কষ্ট পেতে হতো না আর আপনার কষ্ট দেখে আমাকেও অন্তঃদহনে পুড়তে হতো না।

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!