Home"ধারাবাহিক গল্প"তুমিময় অনুভূতিতুমিময় অনুভূতি পর্ব -০২

তুমিময় অনুভূতি পর্ব -০২

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম
পর্বঃ২

বাসায় এসে ভয়ে ভয়ে আছি।ভাবছি অভ্র ভাইয়া বাসায় বলে দিয়েছে কিনা আমার কথা।মাকে দেখে বুঝতে পারছি না মায়ের মনে কি চলছে।কারন তার মুখ গম্ভীর।তাড়াতাড়ি খাচ্ছিলাম তখন চাচির আগমন।আমাকে দেখেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো তার।চাচিরা আর আমরা আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে থাকি।তবে চাচি বেশিরভাগ সময় আমাদের বাসায় ই থাকে।আম্মুর সাথে গল্পসল্প করে।চাচির হাসির বিপরীতে আমিও সৌজন্যমুলক হাসি দিয়ে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলাম।

“মেঘা এভাবে কেনো খাচ্ছিস।মনে হচ্ছে কতদিন না খেয়ে আছিস।ভালো করে খা।”

“আরে চাচি হেব্বি চাপে আছি।জীবন মরন সমস্যা যাকে বলে।খেতাম ও না।কিন্তু খুব ক্ষুধা পেয়েছিলো তাই খাচ্ছি।বুঝেছেন?”

চাচি মনে হয় না কিছু বুঝেছে।কারন তার মুখ পেচার মতো হয়ে আছে চোখ গুলো গোল গোল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।আমি খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি করে ছুটলাম রুমের দিকে রুমে গিয়ে দরজা আটকে বসে আছি।এখন অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছি।ফোন হাতে নিয়ে গেমস খেলছিলাম তখন দরজায় মা ধুমধাম মারতে শুরু করেছে।

“মেঘা দরজা খোল।কি হয়েছে তোর?ইলমা বলছে তুই নাকি কিসব বলছিলি?আর তাড়াহুড়ো করে খাচ্ছিলি।কি হয়েছে তোর মেঘা”

মা দরজা ধাক্কা দিয়েই যাচ্ছে।একটা মানুষের যে রুমের এদিক হতে ওদিক যেতে সময় লাগবে সে খেয়াল বোধ হয় নেই।দরজা খুলতেই সবাই হুরহুর করে আমার রুমে প্রবেশ করলো।এভাবে এখানে সবাইকে দেখে আমি চোখ বড় বড় করে সবার দিকে চোখ বুলাচ্ছি।মা,চাচি,নিরা আপু,ভাইয়া,আপু সবাই এখানে।

“তোমারা সবাই এখানে কি করছো?আর কি সব বলছো মা তুমি?আমার কিছুই হয় নি।কে বললো যে আমার কিছু হয়েছে।”

আমার কথা মায়ের বিশ্বাস হলো না।মা আমার কপাল আর গলায় হাত দিয়ে শরীরের তাপ পরীক্ষা করলেন।

“জ্বর তো নেই।তোর চাচি বললো তুই নাকি কিসব আবল তাবল বকছিস।আর অভুক্তের মতো খাচ্ছিস।আমি ভাবলাম যে শরীর খারাপ করেছে।তাই ভয় পেয়ে গেছিলাম।”

মায়ের কথা শুনে আমি চাচির দিকে করুন চোখে তাকালাম।কথা বুঝতে পারে নি আমাকে বলতে পারতো কিন্তু না তার তো বাড়িয়ে চড়িয়ে বলা অভ্যাস।আমি ঠিক আছি।ঘুম পাচ্ছে বলে সবাইকে রুম থেকে বের করে দিলাম।আম্মু চাচি আর নিরা আপু চলে গেলো।আর আপু আর ভাইয়া আমার বিছানায় বসে পড়লেন।তাদের চোখে মুখে বিরক্তির রেশ।

“তোমাদের দুজনের কি হয়েছে বলতে পারো?এভাবে হুতুম পেঁচা হয়ে আছো কেনো?দুইটাকেই তো মনে হচ্ছে চিড়িয়াখানায় পাঠাই দেই।”

আমার কথা শুনে ভাইয়া হতাশার সুরে বললো,

“কি আর বললো তোকে বোন বল।চাচির কথা শুনে আমরা তো বেশ ভয় পেয়ে গেছিলাম।উনি বলছিলো যে মেঘার কি হয়েছে ভাবি?মেয়েটাকে খুব অস্বাভাবিক আচরন করতে দেখলাম।তাড়াহুড়ো করে খাবার নাকে মুখে দিচ্ছিলো আমি শুধু বললাম যে মেঘা ভালো করে খা।ওমা মেয়ে যে কিসব বকছে ভাবি মেয়েটাকে দেখুন গিয়ে হয়েছে।আমার তো মনে হয় ওর শরীর খারাপ করেছে।তাই আবলতাবল বকছে।চোখ মুখও দেখলাম কেমন যেনো হয়ে আছে।ভাবি তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখুন মেয়েটার কি হলো।”

ভাইয়ার কথা শুনে আমি পুরা অবাক।সামান্য তিলকে কিভাবে তাল বানাতে হয় তা চাচির থেকে খুব ভালো করেই শেখা যাবে।তিনি সামান্য একটা কথাকে রস মাখিয়ে এমন করে তুলবে যা শুনকে যে কেউ বিশ্বাস করে ফেলবে।ভাইয়ার কথা শুনে আপু বললো,

“আমি ফ্রেন্ডদের সাথে অনলাইনে প্রেজেন্টেশন নিয়ে ডিসকাস করছিলাম চাচির কথা শুনে তারা ও ভয় পেয়ে আমাকে বললো বৃষ্টি তুই যা।বাকিটা আমরা করে নেবো।তুই গিয়ে মেঘাকে দেখ কি হলো ওর।ওরা আমাকে যখন পরে তোর কথা জিজ্ঞেস করবে আমি ক৮ বলবো ভাবতে পারছিস।”

এরপর ৩ ভাই বোন একসাথে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।

রাতে ভাইয়ার রুমে গিয়ে ভাইয়াকে জ্বালাচ্ছিলাম আইসক্রিম খাওয়ানোর জন্যে। ঠিক তখন কোথা হতে যেনো অভ্র ভাইয়ার আগমন।তিনি রুমে এসেই ভাইয়াকে বললেন,

“আকাশ ভাই তোমরা একে বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে পারো না?বিয়ে দিলে ৩ বাচ্চার মা হয়ে যেতো এতোদিনে।সে আবার এখন বাচ্চাদের মতো আইসক্রিমের বায়না করছে।”

অভ্র ভাইয়ের কথায় কান না দিয়ে আবার ভাইয়াকে বললাম,

“ভাইয়া চলো না।একটাই খাবো শুধু।প্রমিস।প্লিজ ভাইয়া চলো না।”

“মেঘা আমি কাজ করছি।তোকে তো বললাম কাল এনে দিবো।এখন এখান থেকে একবার উঠলে আমার কাজের থেকে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।আজ পারছি না বোন সরি।”

বলে ভাইয়া আবার তার ল্যাপটপে দৃষ্টি দিতে দিতে অভ্র ভাইয়াকে বসতে বললেন।আমি ভাইয়াকে রেগে বললাম,থাকো তুমি তোমার কাজ নিয়ে।কেউ আমাকে একটুও ভালোবাসে না।দাড়াও আমি শুভ্র ভাইয়াকে ফোন করছি যেনো আমাকে আইসক্রিম এনে দেয়।শুভ্র ভাইয়াই একমাত্র আমার ভাই।আর তোমরা সবাই ঘরের শত্রু বিভীষন।”শুভ্র ভাইয়াকে ফোন করে আইসক্রিম আনতে বললে তিনি আমাকে নিয়ে আসছে বলে জানালেন।আমি জানতাম একমাত্র শুভ্র ভাইয়াকে যদি বলি উনি আমাকে আইসক্রিম এনে দিবেন।

“বাহ আমার ভাইকে তো দেখি ভালোই হাত করেছিস মেঘ।ওর মতো কিপটা তোর একবার বলায় আইসক্রিম নিয়ে দেয়ার জন্যে রাজি হয়ে গেলো।আর আমাদের শত্রু বানিয়ে দিলি বাহ বাহ খুব ভালো।”

অভ্র ভাই কথাটা ব্যাঙ্গ করে বললেন আমাকে।যা শুনে ওনার উপর রাগ লাগলো আমার।ওনাকে কিছু কঠিন কথা বলার জন্যে প্রস্তুতি নিলাম।আর এক নিশ্বাসে বলে দিলাম যে,

“দেখুন অভ্র ভাই একদম বাজে কথা বলবেন না।শুভ্র ভাই আপনাদের মতো না।উনি অনেক ভালো।আমাকে নিজের ছোট বোনের মতো আদর করে।আর আপনারা খুব খারাপ।ছোট বোনের কোনো আবদার রাখতে পারেন না।আর আপনি?আপনি তো ভালো খারাপের কথা বলবেনই না।আপনার মতো খারাপ মানুষ আমি আমার এই ২০ বছরের জীবনে আর দেখি নি।আর হ্যাঁ আপনার ভাইয়ের থেকে সামান্য একটা আইসক্রিম খেতে চেয়েছি বলে এমন করছেন তো।আচ্ছা আমি শুভ্র ভাইকে নিষেধ করে দিচ্ছি বলে ভাইয়াকে মেসেজ করে নিষেধ করলাম আইসক্রিম নিয়ে আসতে।বলে আমি আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম

গভীর রাতে হঠাৎ করে ঘুম ভাঙে আমার।খুব ক্ষুধা লেগেছে।রাতে অভ্র ভাইয়ার সাথে রাগারাগি করে না খেয়েই রুমে এসে শুয়ে পড়েছিলাম।আর কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানি না।রান্নাঘরে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াতেই ভাইয়ার ঘর থেকে হাসাহাসির আওয়াজ কানে এলো।তাই রান্নাঘরে না গিয়ে ভাইয়ার ঘরের সামনে গেলাম।দরজা খোলা।তবে ভেজিয়ে রাখা।ভাইয়া, অভ্র ভাইয়া, আপু,শুভ্র ভাইয়া ওরা চারজন আড্ডা দিচ্ছে।

“আপু ঘুমাও কি এখনো?এতো রাত হয়েছে আর তোমরা এখনো আড্ডা দিচ্ছো।”

আমার কথা শুনে আপুরা সবাই আমার দিকে সন্দেহজনক ভাবে তাকালো।তাদের এভাবে তাকানো দেখে আমি ভড়কে গেলাম।

“এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো তোমরা।আমি কি ভুল কিছু বলেছি?”

“মেঘা কেবল মাত্র সাড়ে ১০ টা বাজে আর তুই বলছিস এতো রাত।সিরিয়াসলি?”

“কি বলছো আপু মাত্র সাড়ে ১০ টা বাজে।আর আমার তো মমে হচ্ছে ২ /৩ টা বাজে।”

“হুম সন্ধ্যা ৭ টায় ঘুমালে সাড়ে ১০ টাকে ২ টা মনে হবে এটা তো স্বাভাবিক তাই না মেঘ।”

অভ্র ভাইয়ার কথা শুনে অনার দিকে তাকালাম।উনি শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।উনি এখন রাগ করে নেই।কি নির্মল সেই চাহনি।ঠিক ওনার এই চাহনি দেখলেই আমি নিজেকে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।কি হয় আমি জানি না।তবে ইচ্ছে করে সারাজীবন এভাবে তাকিয়ে থাকি ওনার দিকে।ভাইয়ার কথায় আমার হুশ আসলো কি করছিলাম আমি নির্লজ্জের মতী এতোসময় আমি সবার সামনে অভ্র ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ছি ছি কি লজ্জাজনক পরিস্থিতি।

“মেঘা খেয়ে নে যা।খেয়ে একদম ঘুমিয়ে পড়।”

ভাইয়ার কথা শুনে আমি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরে চলে এলাম।আমার খাবার সাজিয়ে টেবিলে ঢেকে রাখা হয়েছে।ফ্রেশ হয়ে এসে দ্রুত খেতে বসলাম।প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে খাওয়া শেষে রুমে আসতে যাবো তখন দেখি অভ্র ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে।সেদিকে দৃষ্টিপাত না করে রুমে আসতে নিলেই তিনি ডাক দিলেন।

“মেঘ।”

ওনার ডাকে পিছন ফিরতেই উনি বলে উঠলেন,

“ফ্রিজে আইসক্রিম আছে গিয়ে দেখ গিয়ে।ভেবেছিলাম আজ উঠবি না ঘুম থেকে তাই ফ্রিজে রেখেছিলাম।কেউ এখনো দেখেনি।তাড়াতাড়ি খেয়ে নে নাহলে নিরা সাবাড় করে দিবে।”

আইসক্রিমের কথা শুনে আমি এক মুহুর্ত দেরি না করে দৌড়ে ফ্রিজের কাছে গেলাম।আইসক্রিম নিয়ে আবার রুমের সামনে আসলাম উদ্দেশ্য অভ্র ভাইয়াকে ধন্যবাদ বলা।কিন্তু সেখানে আর ওনাকে পেলাম না।তাই হতাশ হয়ে রুমে ঢুকে আইসক্রিম খেতে লাগলাম।আর ভাইয়াকে পরে ধন্যবাদ জানাবো বলে ঠিক করলাম।

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!