প্রেমের বৃষ্টি পর্ব ৯

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#প্রেমের_বৃষ্টি💦
#পার্ট_(৯)

মুগ্ধ এখানে এসে সারা কে থেকে চরম বিষ্ময় হয়েছে। কিছু টা কল্পনা ও ভেবেছে কারণ ইদানিং ওর সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে তা হলো মাঝে মাঝে এখানে সেখানে ও সারার প্রতিবিম্ব দেখতে পায়।
মেয়েটাকে ও চোখে হারাচ্ছে। জীবনে অনেক মেয়ের সাথে ওর উঠা বসা হয়েছে কিন্তু এমন হয়নি। নিজের অজান্তেই ও এই মেয়েটাকে খুঁজে বেরিয়েছে কিন্তু কপাল খারাপ মুগ্ধর ও সিনথিয়ার দেখা পায় নি‌।প্রতিবার এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ব্যথিত মন নিয়ে বাসায় এসেছে।

ওর মনটা কেমন হাঁসফাঁস করেছে প্রতিক্ষন প্রতি মুহূর্ত ওর সিনথিয়া কে মনে পরেছে। কিন্তু একটা জিনিস ওর মাথায় ঢুকেনি হঠাৎ একটা অজানা অচেনা এই মেয়েকে কেন এতো মিস করেছে।কেন তাকে একনজর দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়েছে।
কিছু জানা নেই মুগ্ধর দুইদিন মাএ কিছু ক্ষনের পরিচয় সিনথিয়া তাকে কেন ও ভুলতে পারছেনা।
ক্লান্ত মন নিয়ে বিছানায় শুয়েছে মুগ্ধ ঘুম ভেঙ্গেছে মিষ্টি কন্ঠস্বর এ।
চোখ মেলে তাকিয়ে ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে কারণ ওর সামনে সিনথিয়া শাড়ি পরে চুল ছেড়ে ওর পাশে বসে ওর দিকে তাকিয়ে আছে আর ওকে খুব আলতোভাবে ডাকছে।
সিনথিয়ার চুল ভেজা কি মিষ্টি লাগছে ওকে যেন সদ্য ফোটা পদ্ম ফুল। মুখে মিষ্টি হাসি যা মুগ্ধকে পাগল করার জন্য যথেষ্ট।
সিনথিয়া তুমি এখানে? আমি তোমাকে কতো জায়গায় খুঁজেছি জানো।
অবাক হয়ে বলেছিলাম। কিন্তু থাকলো না আমি হাত বারিয়ে ওর গালে হাত ছুয়াতেই দেখি কেউ নাই। নিজের মাথায় নিজে গাট্টি মেরে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম।

এটা আমার কল্পনা। ড্রাইভ করার সময় ও মনে হয়েছে আমার পাশে সারা বসে আছে সব সময় এসব এর উওর আমার জানা ছিলো না‌। কিন্তু পরে এর কারণ বুঝতে পেরেছে এটা আমার মনের নতুন অনুভূতি যা ভালোবাসা আমি কিভাবে এমন দুইবার একটা মেয়েকে দেখে তাকে ভালোবেসে ফেললাম.।
স্যারদের সাথে বসে ছিলো মুগ্ধ ওকে বিআইপি সিটি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অতিথি বলে কথা ওর যত্ন একটু কম না বরং বেশি‌।

এদিকে মুগ্ধর নজর নেই ওর চোখ দুটো শুধু সারাকে খুঁজছে। গেটে ওকে দেখেছিলাম আর তো দেখলাম না।
কি অপূর্ব লাগছিল লাল শাড়ি পরেছে সেদিন ওকে নীল শাড়ি দেখেও থমকে গেয়েছিলো আজকে আর ও বেশি বিস্মিত হয়েছি।
কিন্তু তার দেখা নেই।
অবশেষে সারার দেখা মিললো।অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ের সাথে কি যেন বলছে আর হাসছে।
মুগ্ধ হা করে তাকিয়ে আছে।
লাল শাড়িতে সারাকে অপ্সড়া লাগছে।

এদিকে স্পর্শ সারার সাথে কথা বলার জন্য ছটফট করছে আর ওর আশেপাশে ঘুরছে।
আমি দেখতে পারছি স্পর্শ আমাকে জ্বালাচ্ছে তাই ওর হাত থেকে বাঁচতে স্টেজের সামনে চলে এলাম এখানে এসেই চোখ পরলো মুগ্ধর উপর লোকটা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আমি তার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলাম জনি ইশারায় আমাকে তার কাছে যেতে বলল,
আমি বুঝতে পারলাম কেন ডাকছে আমার মতো উনিও যে আমাকে দেখে অবাক হয়েছে জানি আমি উনার দিকে যাব কিন্তু পেছনে থেকে ভীড়ের মাঝে স্পর্শ আমার হাত ধরে আটকালো।
আমি তীক্ষ্ণ চোখে তাকালাম স্পর্শ দিকে তো হাত ধরা দিকে।
হাত ছারুন কি অসভ্যতামি হচ্ছে?
হাত ছারাতে চেয়ে বললাম।
স্পর্শ ছারলো তো নাই উল্টো শক্ত করে ধরে ভীড় ঠেলে বের করে নিয়ে এলো।
আমি রেগে হাত ছারাতে চাইছি। স্পর্শ একদম মাঠে এনে আমাকে ছারলো।
আমি রেগে সিটকে দূরে সরে আসলাম আর বললাম,
আপনি আবার আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন? কি চান বলুন তো আর কতো নাটক করবেন আপনি।
স্পর্শ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে আমি এমন রেগে চিৎকার করবো ভাবেনি।
কি হলো এমন অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছেন কেন? দেখুন আমার ভালোবাসা আমার মন নিয়ে খেলেছেন তাও আমি আপনাকে কিছু বলি নাই এখন আবার আমাকে জ্বালাচ্ছে এটাও আপনার কোন চাল আমি জানি প্লীজ আর আমাকে এমন জ্বালাবেন না আমাকে গুটি করবেন না আমি আর ঠকতে চাইনা। আপনি হয়তো এসব করে আনন্দ পান কিন্তু আমি কষ্ট পায় খুব কষ্ট হয় বুকটা ছিঁড়ে যায় কষ্ট।
জানেন আপনার নাটককে ভালোবেসে পরে বাজি জানার পর কতোটা কষ্ট পেয়েছিলাম রাতে ঘুমাতে পারিনি চোখের পানি ফেলে কাটিয়েছি নিরবে কাউকে বলতে পারিনি।আমার এমন বোকা কথা। এখন আমি নিজেকে সরাতে পেরেছি আপনার থেকে ভুলে ভালো আছি আবার আমার জীবন নিয়ে খেলছেন কেন?

এখানে আশে পাশে কেউ নেই কারণ স্পর্শ ওকে মাঠের এক সাইটে নিয়ে এসেছে আর সবাই এখন অনুষ্ঠানের ওইখানে এখন গান হচ্ছে।
তাই কারোর নজর ওদের দিকে নাই।
আমি রাগ নিয়ে কথা বললে ও এখন ইমোশনাল হয়ে পরেছি সত্যি আমি আর পারছিনা। আমি কেঁদে উঠলাম কে স্পর্শ আমাকে নিয়ে এমন করছে কি ক্ষতি করেছিওর আমি। চোখ বন্ধ করে ফেললাম আমি হঠাৎ কেউ আমাকে জাপটে ধরলো তাকিয়ে দেখি স্পর্শ চেয়ে ওকে ছারাতৈ পারলাম না নিজের থেকে।
স্পর্শ একটা কথাই বলছে।
আই রিয়েলি লাভ ইউ সারা আমি তোমাকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছি। প্লীজ বি লিভ মি আমি তোমাকে ঠকাচ্ছি না। আগের বারের জন্য সরি বলেছে তোমার সাথে অন্যায় করেছি বুঝতে পেরেছি তো। আচ্ছা কি করলে আমাকে বিশ্বাস করবে বলো আচ্ছা আমি তোমার পা ধরে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করবে তো।

বলে স্পর্শ আমাকে ছেড়ে আমার পা ধরতে যায় থমকে যাই। তারাতাড়ি পিছিয়ে যায়।
কি করছেন কি ?
বড় বড় চোখ করে।
প্লীজ সরো না আমি অপরাধ করেছি আমিকে তোমার পা ধরতে দাও তবুও ক্ষমা করো।
আকুতি করে।
আচ্ছা আচ্ছা ক্ষমা করছি এমন করবেন না।
সত্যি। তাহলে তুমি আমাকে ভালোবাসো।
না। আপনাকে আমি ভালোবাসবো না কতো বার বলবো।
বলে বিরক্ত নিয়ে চলে এলাম।
স্পর্শ আমার দিকে তাকিয়ে ঠোট বাঁকিয়ে হাসলো আর মনে মনে বললো তুমি আমার হবেই আমি তোমাকে ভালোবাসি সারা এই নিঃসঙ্গ জীবন তোমাকে আমার প্রয়োজন খুব প্রয়োজন।

সারা চলে আসলো স্টেজে অনুষ্ঠান শেষের দিকে। এখন অতিথি রা চলে যাবে সবাই উঠে দাঁড়িয়েছে।
সারার মনে পরে গেল মুগ্ধ ওকে কিছু বলতে চেয়েছিল
ভাগ্য কমে ওর সাথে মুখোমুখি হয়ে গেল সারা।
আপনি আমাকে তখন ডাকছিলেন? মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
মুগ্ধ আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তারপর বলল,, হ্যা আপনাকে এখানে দেখে তো আমি অবাক হয়েছিলাম।
আমি ও সেম এক‌ই অবস্থা হয়েছে। আপনি যে সেই বিশেষ অতিথি ভাবতেই পারিনি।
ও আচ্ছা তাই।তা আমাকে দেখে আপনি খুশি হয়েছেন।
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম, খুশি হবো কেন?
আমার কথা শুনে মুখ কালো করে ফেলল মুগ্ধ।
আমি আবার বললাম,, না নামে অবাক হয়েছিলাম।
উনি আবার বলল,, জানেন আমি আপনাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি এখানে এসে যে আপনার দৈখা মিলবে সত্যি আমি শক।
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,, আপনি আমাকে খুজেছিলেন কেন?
এবার উনি আমার প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল,, না মানে ওই যে আপনার প্রেমকাহিনিটা লুনার জন্য।
আমি বললাম,, ওইটা কোন প্রেম কাহিনী না আপনাকে বলেছিলাম।
উনী বললেন,, হ্যা জানি তো কিন্তু যাই তাই জানতে আগ্ৰহী খুব আমি।

আমি রেগে বললাম।
আমি বলতে আগ্ৰহী না আগেও বলেছি।
ওকে না বললেন। আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি।
আমি হাঁ করে তাকিয়ে বললাম,, মানে আপনার।
চরম অবাক হয়ে।
হুম যদি আপনার ইচ্ছা থাকে তবে।
কিন্তু আমাকে বন্ধু বানিয়ে করবেনটা কি?
অনেক কিছু প্লীজ হয়ে জাননা।
কিন্তু আমি তো ছেলেদের বন্ধু বানাই না।
প্লীজ এমন নির্দয় হবেনা না। বয়ফ্রেন্ড তো হতে বলছি না ফ্রেন্ড হতে বলছি এতেও না করবেন।
আচ্ছা আমার কাজ আছে বাই‌।
আমি ও তো চলে যাব। তা তোমার নাম্বারটা দিয়ে যাও।
ফ্রেন্ডের সাথে কথা তো বলবো নাকি‌।

বিরক্ত হয়ে নাম্বার দিয়ে চলে এলাম।
#চলবে

লেখা:- #Sinthiya_Sara

(ভুল হলে ক্ষমা করবেন। গল্পটা‌ কেমন লাগছে জানাবেন ধন্যবাদ।)

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

8 COMMENTS

  1. দেন কি বাল,,পুরো গল্পটা দিতে পারেন না,,কতটা আনন্দ নিয়ে পরতে বসছি,,গল্প দিলে পুরোটা দিবেন,😡😡

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!