স্মৃতিতে তোমার বন্দনা পর্ব ২৮

#স্মৃতিতে_তোমার_বন্দনা
#পর্ব_২৮
#Saji_Afroz
.
.
-কেনোরে? সবটা আমি করে দিবো কেনো?
.
মায়ের কথা শুনে পরশ বললো-
কারণ তুমিও ছোঁয়াকে পছন্দ করো । আর তুমিও চাও ও এই বাড়ির বউ হয়ে আসুক । বলো চাওনা?
-হয়েছে হয়েছে । এতো বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই ।
-লাভ ইউ মা । যাই দেখে আসি, তোমার হবু বউ কি করে ।
.
.
খানিকক্ষণ বাদে ট্রে হাতে সাফিনা আহম্মেদের রুমে এলো ছোঁয়া ।
-দেখি ফলগুলো খেয়ে নিন ।
-বসো আমার পাশে ।
.
ছোঁয়া বসতে বসতে বললো-
পায়ে কি ব্যথা আছে এখন?
-নাহ, সেরে গিয়েছে ।
-তাহলে আর মাসাজ করতে হচ্ছেনা আমাকে?
-উহু ।
-ব্যথা নেইতো কি হয়েছে! এমনিতেও করতে পারি । আরাম লাগেনা?
-তা লাগে ।
-দিবো?
-এখন লাগবেনা । এখন একটা কথা বলো ।
-কি?
-তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন?
-জানতে ইচ্ছে হলো ।
– যার কোনো অহংকার থাকবেনা, যে আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসবে আর…
-আর?
-আমাকে বুঝবে ।
-ব্যস এতোটুকু?
-শুনতে এতোটুকু মনে হলেও সবার মাঝে এসব গুণ বিদ্যমান থাকেনা ।
-রাফসানের মাঝে বিদ্যমান নেই?
.
কিছু বললোনা ছোঁয়া । মাথা নিচু করে বসে রইলো । সাফিনা আহম্মেদ তার হাত ধরে বললেন-
সব ঠিক হয়ে যাবে।
.
এদিকে আড়াল থেকে সবটা শুনলো পরশ । পাশে তার বাবাও ছিলেন । পরশকে একটু দূরে সরিয়ে এনে তিনি বললেন-
তুই অহংকারী নয়, ছোঁয়াকে ভালোবাসিস অনেক, বাকি কি রইলো?
ছোঁয়াকে বুঝিস কিনা….
-হ্যাঁ বুঝি ।
-সেটা তোর মনেহয় । এখন তোর কাজ কি?
-ছোঁয়ার বিশ্বাস জয় করে ওর কাছে যাওয়া ।
-আমার মনেহয়না এতো সহজ হবে ওর মন জেতা । মেয়েটা নিজের পরিবারের প্রতি দূর্বল ।
-আমার হাতে সময় আছে বাবা । রাদিব না আসা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবো আমি । এখন আমার প্রথম কাজ হলো ছোঁয়াকে জানানো, তোহার সাথে বিয়েটা হচ্ছেনা আমার ।
.
.
হাতের কিছু কাজ সেরে বেরিয়ে যাচ্ছিলো ছোঁয়া ।

ড্রয়িংরুমে বসে আপেল খাচ্ছে পরশ । ছোঁয়াকে দেখে বললো-
কই যাও?
-বাসায় । পরে আসবো আবার ।
-বসো একটু গল্প করি ।
.
ছোঁয়া এসে সোফায় বসলো । পরশ বললো-
কি খবর তোমার হবু হাসবেন্ড এত?
-ভালো আছে । আপনার হবু বউ?
-তোহার কথা বলছো?
-কেনো! হবু বউ কি অন্যকেউ?
-অন্যকেউ হলেও হতে পারে ।
-মানে?
-মানে তোহার সাথে আমার বিয়েটা হচ্ছেনা ।
-কেনো?
-সে অন্য একজনকে ভালোবাসে ।
-বিয়ে আপনার সাথে ঠিক থাকার পরেও?
-বিয়ে বাসার লোকেরা ঠিক করেছিলো ।
-আপনি তাকে ভালোবাসেন না?
-বন্ধুর মতো বাসি ।
-তা সে আপনাকে জানালো অন্যজনকে ভালোবাসার কথা?
-হু ।
-মেনে নিয়েছেন আপনি?
-কেনো নিবোনা! সে যাকে ভালোবাসে তার কাছে যাওয়া উচিত । এটা তো সিম্পল বিষয় ।
-অনেকের জন্য হয়তো জটিল । এই সহজ কথাটি বোঝেনা অনেকে ।
-কি?
-আপনি যা বললেন ।
.
ছোঁয়া দাঁড়িয়ে বললো-
আসি এখন ।
.
ছোঁয়া নিজের রুমে এসে বসলো । নয়নতারা বললো-
কিরে? আজ এই সময়ে বাড়ির কথা মনে পড়লো?
-আন্টি আঙ্কেলের সাথে গল্প করছেন, তাই চলে এসেছি । কাবাবের মাঝে হাড্ডি হয়ে লাভ কি ।
-তুই মায়ার জালে আঁটকে যাচ্ছিস ছোঁয়া ।
-ঠিক বলেছো আপু । তারা প্রত্যেকেই আমার প্রিয় মানুষের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে ।
-তারা?
-আন্টি, আঙ্কেল আর ওই সাইকিয়াট্রিস্ট ।
-পরশ?
-হু । মানুষটাকে অন্য ছেলেদের সাথে তুলনা করা যায়না । অন্যরকম তিনি । দিন যতো যাচ্ছে তার প্রতি রেসপেক্ট বেড়ে যাচ্ছে আমার ।
-আসলেই তারা প্রত্যেকেই ভীষণ ভালো ।
.
.
সাফিনা আহম্মেদ শফিউল আহম্মেদকে বললেন-
পরশের এতো কষ্ট করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনেকরিনা । ছোঁয়া যখন রাফসানকে পছন্দই করেনা, ওকে সরাসরি পরশের জন্য প্রস্তাব দিলেই হয় । পরশের মতো ছেলেকে রিজেক্ট করবে ভাবো তুমি?
-এতো কনফিডেন্স ভাবে বলা ঠিক না । ধরতে গেলে রাফসানও পারফেক্ট । তবে কেনো তার রাফসানকে অপছন্দ!
-আমি এতো ধৈর্য্য রাখতে পারছিনা ।
-রাখতে হবে । রাফসানকে যেখানে অপছন্দ ছোঁয়ার, এতোদিনেও যে ছোঁয়ার মনে জায়গা করতে পারেনি, তোমার কি মনেহয়? তোমার এককথায় পরশকে বিয়ে করতে রাজি হবে সে? হবেনা । তার চেয়ে পর‍শ যা করতে চায়ছে করতে দাও । সময় দাও তাকে ।
.
.
বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যে হয়ে গেলো । বাগানে বসে আছে নয়নতারা । এমন সময় রাফসানের আগমন ঘটলো ।
-তুমি এখানে?
.
নয়নতারা কিছুটা হকচকিয়ে বলে উঠলো-
তুমি এখানে?
.
রাফসান তার পাশে বসে বললো-
আমি রাফরানই, কোনো ভুত নয় ।
.
হাসলো নয়নতারা ।
রাফসান বললো-
কাল সকালে চলে যাচ্ছি ।
-কালই যাবে?
-হ্যাঁ তাই দেখা করতে এসেছি । ছোঁয়া বাসায় আছে?
-হ্যাঁ আছে ।
-আমি দেখা করে আসি ।
.
রাফসান উঠে চলে গেলো । চেয়ারের উপরে তার রুমালটা রয়ে গেলো । নয়নতারা তাকে ডাকতে চেয়েও ডাকলোনা । রুমালটা হাতে নিয়ে চুমু খেলো সে । চোখের কোণে পানি । ছোট থেকেই রাফসানকে পছন্দ করে নয়নতারা । যেদিন তার বাবা জানায়, রাদিবের সাথে তার বিয়ে দিতে চায় । সেদিন সে ছুটে যায় নিজের মনের কথা রাফসানকে জানানোর জন্য । কিন্তু তাকে অবাক করে রাফসান জানালো, সে ছোঁয়াকে ভালোবাসে । আর তাকে যেনো নয়নতারা সাহায্য করে এই বিষয়ে । এসব শুনে নিজের মনের কথা মনেই চেপে রাখলো সে । সেই থেকেই চেপে আছে । এই কথা যে কেউ জানেনা!
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো পরশ । সে দেখেছে, রাফসানের রুমালে নয়নতারার চুমু খাওয়ার দৃশ্য । তার আর বুঝতে বাকি রইলোনা, নয়নতারা ভালোবাসে রাফসানকে ।
ছোঁয়া জানলে কখনোই রাফসানকে বিয়ে করতে রাজি হবেনা ।
নিচে নেমে এলো পরশ । এগিয়ে আসলো নয়নতারার কাছে । পরশকে দেখে সে চোখ মুছে নিলো । পর‍শ বললো-
আপনি ভালোবাসেন রাফসানকে?
.
দাঁড়িয়ে পড়লো নয়নতারা । আশেপাশে তাকিয়ে বললো-
এসব কি বলছেন আপনি?
-মিস নয়নতারা, আমি কিন্তু একজন সাইকিয়াট্রিস্ট । আপনি যে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এটা আমি বুঝে ফেলেছি । আর যার একমাত্র কারণ রাফসান ।
.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here