অতিরিক্ত চাওয়া পর্ব ১৯

অতিরিক্ত চাওয়া {২}
১৯

টাম্মির ঘেউঘেউ আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে বেলির। চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসলো। জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আনন্দ দাঁত ব্রাশ করছে। পাশেই বাবলু তাঁর গাড়ি ঠিক করার চেষ্টায়। আড়চোখে সেদিকে দেখে, লুকিয়ে ফোনটা বালিশের নিচ থেকে বের করল। তৃষ্ণার নাম্বারে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। একটি ছোট নিশ্বাস ছেড়ে বিছানা থেকে নেমে গেল।

পড়তে বসে বেলির মন উদাস হয়ে আছে। অদ্ভুত খারাপ লাগায় তাঁর গলা চেপে আছে। তাও চোখ বুঝে পড়া শুরু করে দিল। বাবলু ধীর গতিতে বেলির পাশে বসলো। পা কিছুক্ষণ নাড়িয়ে হালকা আওয়াজে জিজ্ঞেস করল,
‘ কিসসে পাউরুটি? ‘
বেলি বাবলুর দিক একবার তাকিয়ে মাথা নাড়ালো,
‘ কিছু না। ‘
নিচে ঝুলানো ওড়নাটা তুলে ভালোভাবে বেলির শরীরে মেলে দিয়ে ,
‘ কেউ কিছু বলেছে? কেউ কি তোকে ডিস্টার্ব করে? ‘
বেলি বাবলুর দিক তাকিয়ে রইলো,
‘ উঁহু। কেউ কিছু বলেনি, ডিস্টার্ব ও করেনি। ‘
বাবলু তাঁর ডান হাত দিয়ে বেলির সামনে ঝুলে থাকা চুলগুলো বেঁধে দিতে দিতে বলল,
‘ কিছুদিন ধরে কেমন জেনো দেখাচ্ছে তোকে। আমার পাউরুটিকে খুঁজে পাচ্ছি না। তুই দেখেছিস কোথায় সে?
‘ ধুর। আমি ঠিকাছি ভাই। ‘
‘ যদি কেউ কষ্ট দিয়ে থাকে আমায় বল, ছেলে হলে মেইন পার্টস উড়িয়ে দেব আর মেয়ে হলে চুলগুলো সব কেঁটে টাকলু করে দেব। ‘
বেলির উদাস চেহারায় হাসি ফুটে উঠেছে। বাবলুর দিক তাকিয়ে কিটকিটিয়ে হেসে উঠলো।
বাবলু উঁচু করে একটা সিং বানিয়ে দিয়েছে বেলির চুলে। সেটা দেখে বেলি হি হি করে হেসে যাচ্ছে । দু’হাত দিয়ে ভাইকে জড়িয়ে নিলো।
‘ কিছু হয়নি। আমি ঠিকাছি। চল রেডি হয়ে নে পরিক্ষা দিতে যেতে হবে। ‘
বাবলু একটু যেয়ে আবার বেলি’র দিক এগিয়ে আসলো,
‘ কেউ কিছু বললে বা ডিস্টার্ব করলে আমায় জানাবি কিন্তু। ‘
বেলি বাবলুর গাল টেনে ধরলো,
‘ হ্যাঁ বড় ভাই। আপনায় আগে জানাব। ‘
বাবলু বুক ফুলিয়ে বড়দের মতো হেঁটে যেতে যেতে বলল,
‘ মনে রাখবি আমি তোর ছোট হয়েও বড়। ‘
বেলি বাবলুর হাঁটা দেখে আবারও হেসে ফেলল। কিছু মুহুর্তের জন্য উড়ে গেল তাঁর উদাসীনতা।

পরিক্ষা দিতে গিয়ে বারবার হাত থেমে যাচ্ছে বেলির। ক্লাসরুমের দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির দিক তাকিয়ে বড় শ্বাস ফেলল। চোখ বুঝে হালকা হাসার চেষ্টা করে দ্রুত কুয়েশ্চন সলভ করার প্রতিযোগিতায় লেগে পড়লো ।
পরিক্ষা শেষে স্কুলের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে সে। শীলা ফুচকা খাচ্ছে দিব্বি। বেলিকে খেতে সাধলে বেলি না করে দিচ্ছে। তাঁর একদম কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। সে এক কিনারে দাঁড়িয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে তাকিয়ে ওপাশের রাস্তার দিক। যেখানে তৃষ্ণার গাড়ি প্রায়ই থাকতো। সেদিকে তাকিয়ে থেকেই মনে পড়ে যাচ্ছে তাঁদের কাটানো মুহুর্ত গুলো।
বাগান বাড়িতে তৃষ্ণার কাছে আসা। একনজরে তাঁর দিক তাকিয়ে থাকা, কোলে ঘুমানো, তাঁর কাঁন্না থামানোর জন্য জড়িয়ে ধরা, তাঁকে প্রথম তুমি করে বেবি বলা, কাঁটা হাতে ওড়না পেঁচিয়ে দেওয়া, নৌকায় আড়চোখে দুজনের তাকানো। সকল স্মৃতি একসাথে চোখের সামনে ভাসছে। বেলির মনটা আবারও মুচড়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে নিজের চুল ছিঁড়ে ফেলতে। এমন অদ্ভুত ভাবে তাঁকে পাগল করে দিচ্ছে এ-ই অনুভূতি । বেলির যে কিছুই ভালো লাগছে না। সব বিষাক্ত লাগছে।

বেলি, শীলা পিছনে বাবলু এবং তাঁর বন্ধুরা। সবাই মিলেমিশে হেঁটে চলেছে বাড়ির উদ্দেশ্যে।
শীলা পরশু যাবত বেলিকে বলতে গিয়েও বলতে পারছে না। এভাবেই যেই অবস্থা বেলির। তৃষ্ণার সাথে কি হয়েছে সেটা শুনলে নিশ্চিত এ-ই মেয়ে পাগল হয়ে যাবে। বেলির এমন অবস্থা দেখে শীলার মনও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আবিদ ফোন দিয়ে বারবার বলেছে তৃষ্ণার খবর বেলিকে জানাতে না। বিমান আপুও শীলাকে রিকুয়েষ্ট করেছে জানাতে না। সকলের কথায় শীলা বলতে গিয়েও পারছে না। আর এদিকে বেলি চিন্তায় মনমরা হয়ে যাচ্ছে যে তৃষ্ণার সাথে কি হয়েছে। শীলা ছোট শ্বাস ফেলে বেলির বেনী টেনে ধরল,
‘ কামারখালি যাবি? চল ওঁর সাথে দেখা করে আসি। ‘
বেলি কিছুক্ষণ শীলার দিক ভ্রু-উঁচু করে তাকিয়ে থাকলো,
‘ আমার নিষেধ আছে কোথাও যাওয়ার। ‘
শীলা চোখ পিটপিট করল,
‘ নিষেধ? কেন? কে নিষেধ করেছে শুনি? ‘
‘ সেইবার দেখেছিলি না কি হয়েছিলো? আমায় কতো বকাবকি খেতে হয়েছে জানিস। ‘
‘ তৃষ্ণা ভাইয়া বকেছিল? ‘
চোখের পাপড়ি ভাড় হয়ে আসছে। চোখ কচলিয়ে নাক টেনে শ্বাস নিলো বেলি,
‘ হ..হ্যাঁ। ‘

বাবলুর ডাকে শীলা পিছনে ফিরলো হাঁটা থামিয়ে। বেলি নিজের মতো নদীর ঢেউয়ের দিক তাকিয়ে থেকে সামনে হেঁটে চলেছে। বাবলু শীলার সাথে সাথে হাঁটছে। বেলির দিক আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
‘ তুমি ত বেলির বেষ্টফ্রেন্ড। আর বেষ্টফ্রেন্ড ত সব জানে তাই না? তুমি ত বলতে পারবে, বেলির কি হয়েছে? আজ ১২-১৩ দিন ধরে ওঁকে কেমন জেনো দেখাচ্ছে। প্রায়ই লক্ষ্য করেছি কাঁদতে। মুখ ফুলে থাকে, চোখ লাল হয়ে থাকে । ওঁ এমন কখনও করেনি। আম্মু-আব্বু বকলে ২০ মিনিট কান্না করে আবারও টাম্মিকে নিয়ে হাসাহাসি করত। কিন্তু কিছুদিন যাবত ওঁ মন খারাপ করে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করেছি। বলেছে ঠিকাছি। কিন্তু আমি ত জানি ওঁ ঠিক নেই। কিছু হয়েছে
নিশ্চয়ই। ‘
শীলা একনজরে তাকিয়ে বাবলুর দিক। তাঁর আজ আফসোস লাগছে, যদি একটা ভাই থাকতো। তাহলে নিশ্চয়ই বাবলুর মত চিন্তা করত তাঁর জন্য। শীলা মিষ্টি হেসে বাবলুর মাথা বুলিয়ে দিলো,
‘ পিচ্চিটা দেখি বড় হয়ে যাচ্ছে। চিন্তা করিস না। কাল-পরশুর মাঝেই তোর বোনের হাসি-হাসি মুখটা পেয়ে যাবি। ‘
‘ সত্যি? ‘
‘ একদম সত্যি। ‘
‘ আচ্ছা। ‘
বাবলু দ্রুত সামনে দৌড়ে চলে গেলো। শীলা বাবলুর যাওয়ার দিক তাকিয়ে রইলো।

ঘুমের ইনজেকশনের ডোজ ধীরে ধীরে কমে আসছে। তৃষ্ণার চোখ হালকা হালকা খুলছে। পাশে বসে থাকা অঞ্জলি দ্রুত তৃষ্ণার কপাল ছুঁয়ে দিতে লাগলো। সকলের কেঁদে অবস্থা বেগতিক ১২-১৩ দিন যাবত। জয়া ছেলের ব্যান্ডেজ করা শরীর দেখলেই কেঁদে দিচ্ছে। তাই তাঁকে জোড় করে আবির বাড়িতে নিয়ে গেছে। শক্ত হয়ে থাকা আমিদের চোখের কোণায় ও জল দেখা গিয়েছে অনেকবার। আবিদ-আয়ুশ-অভি-সোলাইমান-আবির-আমিদ তৃষ্ণার এক্সিডেন্টের দিন থেকে হাসপাতালেই ঘুরঘুর করছে। বাড়ি যাচ্ছে না তাঁরা। শুধু গোসল টা দ্রুত সেরে এসে আবারও হাসপাতালে।

তৃষ্ণা চোখ সম্পুর্ন মেলতেই, আয়েশা ফলমূল কেঁটে অন্যপাশে টুল নিয়ে বসল। দাঁড়িয়ে থাকা সোলাইমান এসে তৃষ্ণাকে বেডে হেলান দিয়ে বসালো। ব্যান্ডেজ করা হাতটি ধীরে একটি বালিশে রাখল। দু’পায়ের নিচে একটি বালিশ ভালোভাবে দিল যাতে হেলান দিয়ে বসলে কোথাও ব্যাথা না পায়।
‘ ফোনটা কোথায় আমার? ‘
তৃষ্ণার আওয়াজে কাঁদতে কাঁদতে ধমকায় অঞ্জলি,
‘ আমাদের জান বের করে দিয়ে এখন মোবাইল খোঁজা হচ্ছে। আগে খাবি তারপর। ‘
তৃষ্ণা হেসে হালকা ব্যাথা পাওয়া হাত দিয়ে, অঞ্জলির চোখের পানি মুছে দিল,
‘ এত দ্রুত তোমাদের পিঁছু ছাড়ছি না সুন্দরীরা। ‘
অঞ্জলি নাক টানতে টানতে হাসল। আয়েশা চোখের কোণার পানি মুছে তৃষ্ণাকে জোড় পূর্বক খাওয়াতে ব্যাস্ত। কারণ ম্যাডিসন খাওয়াতে হবে। তাই খেতে না চাওয়া তৃষ্ণাকে একপ্রকার জোড় করেই খাওয়াচ্ছে। সোলাইমান তাঁর হাতের নতুন ফোনটা তৃষ্ণার দিক এগিয়ে দিলো,
‘ তোরটা ত ড্যামেজ হয়ে গেছে। তাই সিম এটায় সেট করে দিয়েছি। ‘
‘ থ্যাংকস ভাই। ‘
‘ ওয়েলকাম ছটু। ‘

আয়েশা আবারও খাওয়াতে নিলে তৃষ্ণা বাঁধা দেয়,
‘ আর না মামী প্লিজ। আম ফুল অলরেডি। ‘
‘ দুধটুকু খেয়ে নে। ‘
তৃষ্ণা কথা না বাড়িয়ে খেয়ে ফেলল,
‘ তোমরা খেয়েছ বলে ত মনে হচ্ছে না। আম্মু-আব্বু কোথায়? ‘
সোলাইমান উত্তর দিলো,
‘ আব্বু আবিদ বাহিরে। আম্মুকে মামা বাড়িতে নিয়ে গেছে জোড় পূর্বক। ‘
‘ তোমরাও যাও। খেয়ে নাও। ‘
এরমধ্যে আবিদ-অভি চলে আসল,
‘ হ্যাঁ তোমরা যাও। আমি অভি-আয়ুশ আছি । ‘
অগ্যত অঞ্জলি, আয়েশা, সোলাইমানকে চলে যেতে হচ্ছে।

বেলির নাম্বারে ডায়াল করতে গিয়ে থেমে গেলো তৃষ্ণা। আবিদের দিক তাকালো,
‘ কয়টা বাজে? ‘
‘ সন্ধ্যা ৭ টা। ‘
‘ বেলির পরিক্ষা চলছে ত। এখন নিশ্চয়ই পড়ছে। ‘
‘ পড়ছে না কাঁদছে। কে জানে। ‘
তৃষ্ণা ভ্রু কুচকে ফেলল। বেলি কাঁদছে ভাবতেই তৃষ্ণার বুকে চিনচিন ব্যাথা ভেসে উঠছে৷ আর না ভেবে দ্রুত কল লাগাল।

টেবিলে বসে চোখ বুঝে পড়ে যাচ্ছে বেলি। মাথায় তৃষ্ণার চেহারা ভেসে আসছে দেখে আরো জোরে আওয়াজ করে পড়ছে। একপ্রকার চেঁচিয়ে পড়া যাকে বলে। বেলির দেখাদেখি বাবলুও চেঁচিয়ে পড়ছে। খুশি দুজনকে দুবার বলে গেছে বুঝে বুঝে পড়তে। কিন্ত কে শুনে কার কথা।
দুজনকে পড়াতে বসে ফোন বেজে উঠে আনন্দের। ছেলে-মেয়েকে পড়তে দিয়ে অন্যদিকে চলে যায় কথা বলতে। বইয়ের নিচ থেকে ভাইব্রেশনের আওয়াজ আসতেই বেলির বুক ধুকপুক করতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু মোবাইল ধরার আগেই খুশি হাজির গ্লাসে দুধ নিয়ে। দুধ খাচ্ছে আর কাঁপছে বেলি। ফোনের ভাইব্রেশনের সাথে বেলির বুকও ভাইব্রেশন হচ্ছে। ফোন রিসিভ করার জন্য বেলির রুহ লাফাচ্ছে। খুশি এসে টেবিলের ওপর পাশে বসলো। এবং বাবলুকে পড়া বোঝাতে লাগলো। বেলি গ্লাস খালি করে ভাবছে কিভাবে কি?
দ্রুত ফোনটা ওড়নায় লুকাল,
‘ মা মাথা ধরেছে। একটু মুভ ডলে আসি। ‘
‘ পড়তে বসলে ভাই-বোনদের যত ব্যাথা। আচ্ছা যা। ‘
বেলি ধীরে মোবাইল লুকিয়ে পেছনের রুমে দৌড়। আড়চোখে আব্বু কোথায় দেখে দ্রুত গেইট লাগিয়ে দিল। শ্বাস ফেলে তৃষ্ণার আসা মিসডকল ব্যাক করল। একবার রিং হতেই রিসিভ করে তৃষ্ণা। বেলি ফোন কানে দিয়ে বড় বড় শ্বাস ফেলল। তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরছে,
‘ ম্যারাথন থেকে এসেছিস কি? ‘
বেলি তৃষ্ণার কথার উত্তর দিলো না। অভিমানে বেলির মন ভারী হয়ে আছে।
‘ কথা বলবি না বেনীওয়ালি ? ‘
বেলি চোখের কোণে পানি নিয়ে চুপ হয়ে রইল,
‘ কল কেঁটে দেব। ‘
এইবার বেলি হালকা স্বরে কেঁদে উঠলো,
‘ হ্যাঁ দিন। কেঁটে দিন। কথা বলতে হবে না। আমি চব্বিশঘণ্টা ফোন নিয়ে বসে থাকি, কথা বলার জন্য। তাতে আপনার কি? [ ধীরে ] ঘুমুতে পারি না, পড়তে পারি না। আর আপনি ফোন দিয়ে বলছেন কল কেঁটে দেব। কথা বলব না। একদম বলব না। ‘

অভিমানে বেলি ঠিকঠিক কল কেঁটে, কাঁদতে লাগলো। আগে ত তাঁর সমস্যা ছিলো না। সমস্যা ত ইদানীং হচ্ছে, কেমন একটা অনুভুতিতে তাঁকে ফেলে উধাও। আর সেই অনুভুতি কিভাবে ধরে রাখবে, এই ব্যাপারে কোনো ভাবনা নেই বেলির।

তৃষ্ণা ফোনের দিক তাকিয়ে। খুশি হবে না দুখঃ পাবে বুঝতে পারছে না। তৃষ্ণা হাজার ভেবে হালকা হেসে ফেলল,
‘ আবিদ মামাকে কল করে আসতে বল। আমরা কাল গ্রাম ফিরব। ‘
আবিদ-আয়ুশ-অভি তিনজন তিনজনের দিক তাকিয়ে তৃষ্ণার দিক তাকালো। ততক্ষণে তৃষ্ণা আবারও বেলির নাম্বার ডায়াল করল।

বেলি ফোন কেঁটে আবারও ফোন ধরে বসে। নিজেকে নিজের থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করছে। অভিমানে নিজের বারোটা বাজাচ্ছে। এ-ই যে তৃষ্ণার সাথে কথা বলার জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে সেটা? ফোন ভাইব্রেশন হতেই তৎক্ষণাৎ রিসিভ করল সে।
তৃষ্ণার হালকা ভারী আওয়াজ,
‘ স্যরি স্যরি। আমি আর ভুলেও বলব না কল কাঁটার কথা। ‘
‘ স..স্যরি এক্সেপ্টেড। ‘
তৃষ্ণা হেসে ফেলল। তখনই খুশির আওয়াজে বেলি লাফিয়ে উঠলো,
‘ বেলিইই? এখনও মাথা ব্যাথা নাকি? পড়তে বস দ্রুত। তোর আব্বু আসছে। ‘

বেলি মুখটা ছোট করে ফেলল। তৃষ্ণা বলল,
‘ যা পড়তে বস। রাত্রি কল করব। ঠিকাছে? ‘
বেলি চুপ করে ফোন কানে দিয়ে রাখল,
‘ সত্যি রাত্রে কল দেব। ‘
‘ প্রমিজ করেন দিবেন। ‘
‘ প্রমিজ দেব। ‘

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here