অন্ধপ্রেম পর্ব -১০

অন্ধপ্রেম
Writer_Shabnaj_Hossain_Moon
#Part_10
.
শীতল সিএনজি নিয়ে আসার পথে তার মায়ের বলা কথা গুলো নিয়ে ভাবছে …
সে ভেবেছিলো সব রহস্য জেনে রাজের সব ভুল ভাঙিয়ে তার জিবন থেকে চলে যাবে বহু দূরে…
রাজ যে কারণেই হোক তার সাথে অন্যায় করেছে ..
এই জঘন্য অন্যায়ের কোনো ক্ষমা নেই ..
.
.
শীতল ভেবে কোনো কিনারা পাচ্ছেনা কিভাবে রাজের সাথে সারাজিবন থাকবে …
রাজ তাকে আগে হয়ত ভালোবাসতো বাট এখন তার ভালোবাসা অন্ধ হয়েগেছে ..
এখন শীতলের জন্য একরাশ ঘৃনা আছে …
শীতল ভাড়া মিটিয়ে মেইন ডোরে যেতেই রাজের গাড়ি দেখে বুঝতে পারে রাজ এসেছে …
রাজের এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা শীতলের জন্য ভালো নয় …
শীতল এখনো ঐ রাতের কথা ভুলেনি ..
কুকুরের মতো রাজ শীতলকে মেরেছিলো ..
আজ হয়ত রাজ তাকে জবাই করে ফেলবে নয়ত দা দিয়ে ঢ্যারসের মতো কুচি কুচি করে রাস্তার কুকুরকে ডিনার হিসেবে দিবে ..
.
.
.
শীতল ভয়ে ভয়ে রুমে ঢুকলো …
পুরো রুম অন্ধকার ..
আবছা আলোয় ইজি চেয়ারে বসে একজন তার দিকে তাকিয়ে আছে সেটা শীতল বেশ বুঝতে পেরেছে …
শীতলের ভয়ে পুৃরো বডি কাপছে …
সে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে ..
.
.
.
_কোথায় গিয়েছিলে আমাকে না বলে ???
রাজ শান্ত গলায় বললো,,,
শীতল চুপ হয়ে আছে …
_কোথায় গিয়েছিলে বললে না যে ,,,উওর দাও ???
এবার রাজ জোরে চিৎকার করে বললো,,,
শীতল চিৎকার শুনে চমকে গেলো …
_মায়ের সাথে দেখা করতে।
_আমি তোমাকে কি বলেছিলাম ??
_আমার পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ না রাখতে।
_তো তুমি যোগাযোগ রাখলে কেনো ??
_মা দেখা করতে অনুরোধ করেছিলো তাই….
_আমি তোমাকে বার বার মানা করেছি তারপরও তুমি আমার কথা অমান্য করেছো কেনো ??
এতো বড় সাহস তোমার হলো কি করে ???
শীতল এবার ভয়ে কান্না করে দিলো …
_জাস্ট স্টপ …
তোমার কান্না বন্ধ করো ।
শীতল কান্না বন্ধ করলো …
_তুমি আমার কথা অমান্য করেছো এর শাস্তি তোমায় পেতেই হবে ..
_আমি,,,,,,
_জাস্ট স্যাটআপ ইউ ব্লাডিফুল …
তুমি কি ভেবেছো আমি কিছু বঝিনা ..
মায়ের সাথে প্ল্যান করে আমাকে মারার জন্য দেখা করতে গিয়েছিলো তাইনা??
তা কিভাবে মারবে আমাকে তা ঠিক করেছো ???
শীতল চমকে গেলো …
_এসব কি বলছেন ??
আপনাকে কেনো মারতে যাবো ..
আপনি আমার স্বামি ।
কথাটা বলেই শীতল স্তব্ধ হয়ে গেলো …
কিভাবে এই কথা বললো সেটা নিজেও জানেনা ..
_এসব কথা বলে আমাকে ভোলাতে পারবেনা ..তোমরা ফুল ফ্যামিলি ড্রামাবাজ …
আমার কথা অমান্য করার শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে ..
রাজ ঐদিনের মতো আবার নিজের বেল্ট খুলে শীতলের কাছাকাছি আসতে শুরু করলো …
শীতল ভয়ে ভয়ে পিছুচ্ছে ..
রাজ এগুচ্ছে..
শীতল কিছু বলছেনা বিকোজ সে জানে রাজকে বোঝালেও বুঝবেনা ..
রাজ শীতলের হাত ধরতেই শীতল জ্ঞান হাড়ালো …
শীতল রাজের উপর জ্ঞান হাড়িয়ে পড়ে গেলো …..
.
.
.
রাতে শীতলের জ্ঞান ফিরলো ,,,
_জ্ঞান হাড়িয়ে ভালো হয়েছে অন্তত রাজের অত্যাচারের হাত থেকে বাচা গেলো …
শীতল চোখ বুলিয়ে রাজকে খুজঁলো বাট পেলোনা তাকে ..
এই সুযোগে শীতল লুকানো ডাইরি নিয়ে ওয়াসরুমে গিয়ে ডোর লক করলো,,,,
ডাইরিটা পড়া শুরু করলো আবার ,,,,,
আমার লাইফে একটা বন্ধু ছিলো রোদ …
যাকে আমি ভিষন বিশ্বাস করতাম …
বাট সে আমার বিশ্বাস ভেঙে ফেললো ..
আমার কলিজার টুরো বোনকে সে সুসাইড করতে বাধ্য করেছে …
কেনো করলো এরকম এ আমাদের সাথে …
আমি আমার বোনের প্রতিশোধ নিয়ে ছাড়বো …
রক্তের বদলে রক্ত ,,খুনের বদলে খুন ,,,আর অপমানের বদলে অপমান ,,
আমি ছাড়বোনা কাউকে ..
এজন্য আমাকে যা করতে হবে তাই করবো …
প্রয়োজনে নিজের ভালোবাসা কোরবানি দেবো তবুও নিজের কলিজার টুকরো বোনের প্রতিশোধ নিয়ে ছাড়বো …
আমি ছাড়বোনা কাউকে ..
সব ধ্বংস করে দেবো …
রোদ তুই আমার বোনের সাথে যে অন্যায় করেছিস তা তোর বোনের সাথে করবো হাজার গুন বেশি …
.
.
.
শীতল কিছুটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার পড়তে শুরু করলো …
কয়েকটা পাতা খালি ..
তারপরের দুটো পাতাতে লালা কালি দিয়ে কিছু লেখা …
আমি রাজ …
আমি একজনকে ভালোবাসি …
জিবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি তাকে ..
কিন্তু আজকে আমি আমার ভালোবাসাকে ত্যাগ করেছি ..
আজকে আমি আমার ভালোবাসাকে অপমান করবো …
যে কোনো ভালাবাসার মানুষ তার ভালোবাসার সাথে করেনা ..
শীতল কে কখো নিজের মনের কথা বলিনি .
না বলে ভালো করেছি ।
ও জানলে হয়ত ওর সাথে কোনো জঘন্য কিছু করতে পারতামনা ওর সাথে ..
ওকে কখনো জানতেও দেবোনা ওকে কখনো ভালোবাসতাম আমি ..
নিজের ভালোবাসাকে কোরবানি দিলাম আদরের বোনের জন্য ..
নিজের কলিজার টুকরো আদরের বোনের নিস্তব্ধ রক্তাক্ত দেহটা আমি কবরে রেখেছি ..
আমার বোনটা একা থাকতে পারতোনা কখনো .ওর একা থাকতে ভয় করতো .কিন্ত এখন ওকে একা থাকতে হচ্ছে ..
ভাইয়া ভাইয়া করে আমাকে ডাকছে ..
পরিষ্কার শুনতে পারছি রোজস বলছে ,,,
ভাইয়া আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও আমি থাকবোনা এখানে ..
আমার অন্ধকারে একা থাকতে ভয় করছে …
বোন তোর গা ছয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তোকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের দ্বিগুন কষ্ট আমি তাদের ফিরিয়ে দেবো ।
তুই তোর অকৃত্জ্ঞ ভাইয়ের উপর ভরষা রাখ শুধু …
.
.
.
ডাইরিটা পড়ে শীতলের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে …
সে আবার ডাইরি পড়া শুরু করলো …
আমি আজ আমার ভালোবাসাকে অপমান করেছি ..
আমি নিজের হাতে আমার ভালোবাসার মানুষকে ধর্ষন করেছি ..
আমার ভালোবাসা যন্ত্রনায় চিৎকার করছিলো তখন আমি প্রতিশোধ নেওয়ায় খুশিতে অমানুষ জসনোয়ারে মতো হাসছিলাম ..
ক্ষতবিক্ষত করেছি আমি আমার ভালোবাসাকে …
আমি আজ ধর্ষক হয়েছি …
সমাজের চোখে আমি সবচেয়ে নেই নিকৃষ্ট মানুষ হয়েছি ..
আমার এগুলোর কোনো অনুতাপ নেই ..
যা করেছি তা ওদের প্রাপ্য ছিলো …
আমি আমার বোনের কষ্টের ,দুঃখের ,যন্ত্রনার প্রতিশোধ নেবো এখন থেকে ,,,,
হাজার গুন কষ্ট দেবো শীতল কে ..কারন এ আমার বোনের হত্যাকারির বোন ..
এটাই ওর সবচেয়ে বড় অপরাধ ।
তিলে তিলে মারবো শীতলকে আমি ।
তারপর রোদকে বোঝাবো বোনের সাথে অন্যায় হলে কেমন লাগে ।
ওর কাছ থেকে চিরদিনের মতো শীতলকে কেড়ে নেবো …
রোদ শুধু তাকিয়ে দেখবে বাট কিছুই করতে পারবেনা ..
এভাবেই আমি আমার আদরের বোনের প্রতিশোধ নেবো ..
ইচ্ছে করলে রোদকে এক সেকেন্ডেই মেরে ফেলতাম .
ঘার থেকে ওর মাথাটা আলাদা করে দিতাম বাট তা করিনি ..
একেবারে মেরে ফেললে তো মনের মতো প্রতিশোধ নেওয়া হবেনা ..
তিলে তিলে যন্ত্রনা দিয়ে মারবো ওকে তারপর ওর পরিবারকে ..
সবাই আমার শত্রু ..কাউকে আমি ছাড়বোনা…..
.
.
.
শীতল পুরো ডাইরি পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো ..
রাজ তাকে আর তার ভাই রোদকে এতো ঘৃনা করে জাস্ট বলার বাহিরে ..
প্রতিশোধের নেশায় রাজ পাগল হয়েগেছে ..
যে শীতলকে সে ভালোবাসতো তাকে সে এখন ঘৃনা করে ..
প্রতিনিয়ত তার উপর নির্মম অত্যাচার করে …
রাজ তার প্রতিশোধ নিচ্ছে …
কিন্তু এভাবে আর কতদিন ..
শীতল মানছে তার ভাই দোষ করেছে ,,বিশাল অপরাধ করেছে তারপরও সবকিছুর একটা সীমা আছে ..
শীতল তো কোনো অপরাধ করেনি তাহলে ওকে কেনো শাস্তি পেতে হচ্ছে …
রোদের বোন হওয়া কি তার অপরাধ ..
এতে শীতলের তো কোনো হাত নেই ..
রাজকে যেভাবেই হোক থামাতে হবে ..
একজনের ভুলের জন্য এতোগুলো জিবন নষ্ট হবে কেনো ….
.
.
.
রাজের কোনো অধিকার নেই শীতলের জিবন নষ্ট করার ..
রাজকে সকল পরিস্থিতি বোঝাতে হবে ঠান্ডা মাথায় আর রোদের কাছ থেকেও সত্যিটা জানতে হবে …
এসবের জন্য সময় প্রয়োজন …আগে রাজকে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে থামাতে হবে ..
না হলে রাজ সবার জিবন নষ্ট করে দেবে …
.
.
.
দুপুরে রাজ খাচ্ছে …
শীতলও খাচ্ছে আর বার বার রাজের দিকে তাকাচ্ছে ..
বোঝার চেষ্টা করছে রাজ এখনো তাকে ভালোবাসে কিনা ..
_এভাবে কেউ আমার দিকে তাকালে আমি আনইজি ফিল করি ।
শীতল মাথা নিচু করে ফেললো ..
রাজ তাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে এটা শীতকে অপ্রস্তুতিতে ফেলে দিলো …
.
.
.
রাজ বিকালে রুমে রেডি হয়ে পারফিউম দিচ্ছে বডিতে ..
শীতল দরজার সামনে দাড়িয়ে রাজকে দেখছে আর ভাবছে তার মায়ের কথা ..
মায়ের মাথা ছুয়ে শীতল কথা দিয়েছে রাজের সাথে মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকতে ..
রাজকে স্বামির মর্যাদা দিতে …
কিন্তু শীতল কিভাবে রাজের সাথে থাকবে ..রাজ তো ওকে ঘৃনা করে ..রাজ তো প্রতিশোধের জন্য শীতলকে বিয়ে করেছে ..
রাজের প্রতি শীতলের মায়া জন্মেছে কিন্তু ভালোবাসা না …
.
.
.
_এভাবে কি দেখছো ???
জিবনে কখনো ছেলে দেখোনি ..
শীতল একনজরে রাজকে দেখে মাথা নিচু করে ফেললো …
রাজ পুরো ছয় ফিট ,গায়ের রং ফর্সা ,মাথার চুল গুলো মকমলে মোলায়েম আর চোখ গুলো তৃষ্নার্থের মতো ,সব মিলিয়ে রাজ পুরো হিরো …
_কোথায় যাচ্ছেন ??
রাজ রেগে তাকালো শীতলের দিকে ,,
বিয়ে করেছি বলে বউয়ের অধিকার দেয়নি যে তুমি অধিকার খাটাবে ..‌
.
.
.
চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here