অন্ধপ্রেম পর্ব -২৭+২৮

#অন্ধপ্রেম
Writer: Shabnaj Hossain Moon
Part_27
(রাজের শাস্তি হবে কঠোর যেটা কল্পনার বাহিরে,,আগে ধরে বেধে গল্প পড়তে আনিনি সো বাজে কমেন্ট হতে সাবধান )
#26
সকালে শীতল ঘুম থেকে উঠে দেখলো রাজ তার পাশে নেই ..
শীতল বেড থেকে উঠতে পারছেনা কারন সে অনেকটা সময় ফ্লোরে শুয়ে ছিলো .
যার কারণে পুরো শরীর ব্যথা করছে ।
.
.
.
শীতল ধীতে ধীরে উঠার চেষ্টা করতেই নিচে পড়ে গেলো ..
ঠিক নিচে পড়েনি তার আগেই কেউ তাকে ধরে ফেললো …
.
.

রাজ শীতলকে কোলো তুলে বেডে বসিয়ে দিলো …
_ধীরে ধীরে ডার্লিং বসো প্লিজজজজ .
_আমাকে ছাড়ুন প্লিজজ ।
আমি একাই পারবো ।
_কোথায় একাই পারবে ??
তুমি তো পরে গেলে ..
যদি নিচে পড়ে যেতে তাহলে আমার সর্বনাশ হতো ।
_আপনার সর্বনাশ মানে ???
_আচ্ছা তোমার কিছু হলে আমার সর্বনাশ নয় কি ??
তুমি এখান থেকে নিচে ভালো করে পরে গেলে তোমার হাড় গোড় সব ভেঙে যেতো ।
_আপনি ভেবেই নিয়েছেন আমার হাড় গোড় ভেঙে যেতো ..
_এনি চান্স তোমার যদি কিছু হয়ে যেতো …
.
.
.
রাজ কথা বলতে বলতে রুমের বাহিরে গিয়ে এক মিনিটের মধ্যে একটা গামলায় কিছু গরম পানি আর একটা গামছা নিয়ে এলো …
.
.
.
রাজ ফ্লোরে গামলাটা রেখে শীতলকে বললো শুয়ে পড়তে ..
শীতল ভ্র কুচকে তাকিয়ে বললো …
_What nonsense ..
দিনে দুপুরে এসব কি ??
_ডার্লিং ভুল বুঝছো ।
যা ভাবছো তা নয় কিন্ত …
তোমার শরীর ব্যথা করছে তাইতো তোমার শরীরে গরম পানি তোয়ালে দিয়ে ভিজিয়ে সেকেঁ দেবো …
.
.
.
শীতল চমকে গেলো ..
রাজ শীতলকে কোনো কথা বলতে দিলোনা …
সে শীতলকে জোর করে উপর করে শুয়ে দিলো …
রাজ শীতলের নাইট গ্রাউনের উপরের পার্ট খুলতে চাইলো ..
শীতল বাধা দিয়ে বললো …
_আমি পারবো ।
শীতল উপরের পার্ট খুলে ফেললো …
.
.
.
শীতল উপর করে শুয়ে আছে …
রাজ তোয়ালে দিয়ে শীতলের গায়ে সেকেঁ দিচ্ছে ।
শীতলের বেশ আরাম লাগছে …
রাজ আপন মনে শীতলের সেবা করছে ..
তাকে দেখে মনে হচ্ছে শীতলের সেবা করে সে দুনিয়ার সবথেকে সুখি স্বামী …
শীতল আরামে ঘুমিয়ে পড়লো …
রাজ শীতলের মুখ দেখে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছে ,
এই মেয়েটাকে সে কতটা কষ্ট দিয়েছে …
সে মেয়েটার সাথে সবচেয়ে জঘন্য কাজটা করেছে …
রাজের এই কথা ভাবতেই
নিজের প্রতি ঘৃনা এলো ..
রাজ ভাবছে সে শীতলকে যত কষ্ট দিয়েছে সে সব কষ্টে মলম লাগাবে ..
ভালোবাসার মলম যাকে বলে ….
.
.
.
শীতল আধ ঘন্টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠেই দেখলো রাজ হাতে ব্রেকফাস্ট নিয়ে ট্রে হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে …
.
.
.
যেমনটা রাজকে ইম্প্রেস করার জন্য শীতল করতো ।
প্রতিদিন রাজের জন্য শীতল ওয়েট করতো আর ব্রেকফাস্ট হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতো …
.
.

শীতল উঠেই গ্রাউনের উপরের পার্টটা পড়া শুরু করলো …
_ডার্লিং কি করছো ??
ধীরে সুস্থে পরো ..
এখানে তো আমি ছাড়া কেউ নেই ।
আমি তো আর বাহিরের মানুষ না যে তোমার কোনো ক্ষতি করবো ।
.

শীতল পরা শেষ করে রাজের দিকে তাকালো প্রশ্ন বাচক দৃষ্টি নিয়ে ..
রাজও বুঝতে পারলো শীতলের চোখের ভাষা ..
যা ক্ষতি করার তা তো করেছে রাজ ..
রাজ সিচিয়েশন আয়ত্তে আনার জন্য বললো …
_এই হলো তোমাার খাবার ।
ওয়াস রুম থেকে তুমি মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে এসো ।
গোসল করতে হবেনা ।
শীতল রেগে কোমরে হাত দিয়ে তাকালো ..
ফর্সা গাল লাল হয়ে গেলে ভয়ানক মারাত্মক সুন্দরি লাগে মেয়েদের …
_এভাবে তাকিয়ে থেকোনা ডার্লিং …আমার ভয় লাগছে …
রাতে কিছু করিনি বাট এখন কিছু করতে পারি তখন তো তোমায় গোসল করতেই হবে ।
শীতল একটা বালিশ নিয়ে রাজের মাথায় মেরে বললো…..
_Nonsense ..Go to he’ll
_But I love you very much Darling 💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓.
.
.
.
শীতল ফ্রেস হয়ে আসতেই রাজ তাকে বেডে বসিয়ে দিয়ে মুখে কিছুটা ব্রেড তুলে দিলো …
_ডার্লিং এই দেখো তোমার পছন্দের ব্রেড ..
ব্রেডের উপরে মাখন আর নিচে জেলি …
তোমার তো এই রকম ব্রেড খেতে ভালো লাগে ..??
_আমার অনেক কিছুই করতে ভালো লাগে ..
_যেমন ..

_যেমন একা থাকতে ভালো লাগে ..
আর জব করে নিজের বাংলো বাড়িতে নিজে হাতে রান্না করে নিজের সব কাজ করে থাকতে ভালো লাগে ..
কারও সাহায্য বা সঙ্গ আমার ভালো লাগেনা …
.
.
.
রাজ হেসে বললো তুমি তো বিবাহিতা তাই তোমার একা থাকা চলবেনা …
কোনো কিছু ছাড় দিতে হয় তাহলে লাইফটা সুন্দর হয় যেমন তোমার একা থাকা চলবেনা ‌….
তুমি চাও আর না চাও তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে …
শীতল রেগে ব্রেকফাস্টের ট্রে ছূরে ফেলে দিলো …
.
.
.
.
চলবে…….
.
.
.
#27
শীতল ব্রেকফাস্টের ট্রে টা ফেলে দিতেই রাজের চোখ গুলো কেমন যেনো লাল হয়ে গেলো …
শীতল এসব তোয়াক্কা করলো না সে উঠে চলে যেতে চাইলো বাট পারলো না তার আগেই রাজ হাত ধরে নরম গলায় বললো …
_ডার্লিং ব্রেকফাস্ট খেয়ে নাও ..
তোমার শরীর এমনিতেই দৃর্বল ..না খেলে আরো দূর্বল হয়ে যাবে ….
.
.
.
.
শীতল বেশ দেখতে পাচ্ছে রাজের মুখে রাগের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তারপরও সে কিভাবে শান্ত্ব গলায় তার সাথে কথা বলছে আবার খেতেও বলছে ….
.
.
.
শীতল বেডে বসে বসে চিরনি করছে চুল …
তখনই রাজ দুই মিনিটের ভেতর আবার ব্রেকফাস্ট নিয়ে এলো …
_ডার্লিং হা করো ??
_আমি খাবোনা ..
রাজ এবার কঠোর গলায় বললো হা করো …
হা না করলে যেনো শীতলের গলা চেপে ধরবেব এমন ভাবে রাজ বললো ….
শীতল ভয়ে হা করলো…
_Good girl
শীতল হা করছে আর রাজ একের পর এক খাবার খাওয়াচ্ছে শীতলকে …
শীতলকে পাইনাপেল জুস খাওয়াতে গেলে শীতল সেটা নিজ হাতে খায় …
.
.
.
খাওয়ার পর শীতলের দিকে রাজ কেমন কেমন করে তাকিয়ে থাকলো রাজ ।
_এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো ???
_তোমার ঠোটেঁ জুস লেগে আছে …
শীতল তোয়ালে দিয়ে মুছতে নিলে রাজ শীতলের হাত ধরে রাখে …
.
.
.
শীতলকে অবাক করে দিয়ে রাজ শীতলের ঠোটেঁ ঠোটঁ লাগিয়ে দেয় ..
শীতলের চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো ….
শীতল রাজকে ধাক্কা দিয়ে বেড থেকে উঠে পরে ..
_What nonsense .
দিনে দুপুরে এসব কি ??
_কোথায় কি দেখলে ???
তোমার মুখ মুছে দিলাম ..
কষ্ট করে আর মুখ মুছতে হবেনা …
শীতল রেগে ওয়াসরুমে চলে গেলো ..
রাজ একটা টেডি হাসি দিয়ে বললো …
_আমার হাত থেকে তোমার নিস্তার নেই ..
এতো দিন ঘৃনার অত্যাচার করেছি আর এখন থেকে ভালোবাসার অত্যাচার করবো …
.
.
.
রাজ রেডি হয়ে আছে অফিসে যাওয়ার জন্য …
শীতল ওয়াসরুমে গিয়ে ডোর লাগিয়ে বসে আছে ..
রাজের সামনে আসছেনা ..
.
.
.
_ডার্লিং প্লিজজজ ডোর খোলো ।
অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে ..
শীতল চেচিয়ে বললো ..
_তো যান অফিস ।
আমি আপনাকে ধরে রেখেছি নাকি …
_তোমার মুখ না দেখে যাবো ।
কয়েক ঘন্টা তোমার মুখ না দেখে থাকে হবে ..
তাই এখন দেখতে চাচ্ছি …
_আপনার ফোনে আমার ফটো নেই ??
_আছে ,কেনো ডার্লিং ??
_ফোন থেকে আমাকে দেখে যান .‌‌.
_ফোন থেকে তোমাকে দেখলে হয় বাট এনি চান্স তোমাকে যদি টাচ করতে মন চায় তখন কি করবো ??
তোমাকে দেখলে আমি টাচ না করে থাকতে পারবো না ।
.
.
.
_জানতাম এজন্যই তো এখানে বসে আছে …
আপনার টাচ নিয়ে আমি সারাদিন থাকতে পারবোনা ।
আমি ডোর ওপেন করবো না ।
এই মূহুর্তে শীতলকে থাপ্পর দিতে ইচ্ছে করছে রাজের…
.
.
.
রাজ অনেকবার বলার পরেও শীতল ডোর খুলছে না …
রাজ উপরে তাকিয়ে বললো …
_উপরওয়ালা প্লিজ কিছু একটা করুন যাতে করে শীতল ডোর ওপেন করে …
.
.
.
শীতল ভেতরে আয়না নিজেকে দেখছে …
হঠাৎ তাকিয়ে দেখলো গ্রাউনের ভেতরে আড়শোলা ঢুকছে …
শীতল জোরে চিৎকার করে ডোর খুলে সরাসরি বেডে এসে পড়লো …
রাজ কিছু বুঝতে পারলোনা
প্রথমে …
শীতল বেডে আড়শোলা আড়শোলা করে চিৎকার শুরু করলো আর লাফালাফি করতে লাগলো ।
রাজ বুঝতে পেরেছে শীতল আড়শোলা ভয় পায় তাই এই সুযোগ সে কাজে লাগালো ‌…
.
.
.
শীতল বেডে দুটো আড়শোলা ..
বেড থেকে নেমে এসো তা না হলে তোমার গ্রাউনে ঢুকে যাবে …
.
.
.
শীতল চিৎকার করে এক লাফে নিচে নেমে রাজকে জরিয়ে ধরলো ….
.
.
.
রাজ মুচকি হেসে বললো …
_Thank you so much god ..
.
.
.
শীতল রাজকে ছেড়ে দিয়ে দূরে দাড়ালো …
রাজ নিজের টাই টা একটু ঢিলে করলো ..
রাজ অফিসে ফরমাল ড্রেস পড়েছে ..
আকাশী শার্ট পরে সাদা কোট পড়েছে …
রাজকে জাস্ট অমায়িক লাগছে …
শীতল তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো …
রাজ শীতলকে আচমকা কাছে টেনে নিয়ে শীতলের ঠোটেঁ নিজের ঠোটঁ মিলিয়ে দিলো …
শীতল দুই হাত দিয়ে রাজকে ইচ্ছে মতো আঘাত করতে লাগলো ..
তাতেও রাজের টনক নড়ছেনা …
রাজ শীতলের দুই হাত চেপে ধরলো ধরলো পেছন থেকে …
.
.
.
.
পুরো 15 মিনিট পরে ছাড়লো শীতলকে রাজ ..
শীতলের নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে …
_যাও মাত্র পনের মিনিটেই ছেড়ে দিলাম শুধু অফিসে যাচ্ছি বলে …
এর পর থেকে আরো বেশি সময় নেবো ডার্লিং ..
রাজ ঘরি দেখে বললো কথাটা ..
শীতল কথা বলতে পারছেনা সে হাপাচ্ছে …
.
.
.
রাজ শীতলকে আবার নিজের কাছে নিয়ে এসে কপালে চুমো দিয়ে গালে হাত দিয়ে টেডি হাসি দিয়ে বাহিরে চলে গেলো …
.
.
.
শীতলের এখনো নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে …
শীতল বুয় পারলো রাজের প্রতিশোধের টর্চার যেমন তেমনি ভালোবাসার টর্চার ..
শীতল মাঝখান থেকে চাটনি হয়ে যাচ্ছে …
.
.
.
কাজল সকালে ভেবে চিন্তে চিঠি লিখলো …
হিমালয় নামের লোকটাকে ..
লোকটার জন্য কাজলের অন্য রকম অনূভুতি হচ্ছে ..
না দেখা লিকের জন্য কা্লে এমন অনুভূতি হচ্ছে কেনো সেটা বুঝতে পারছেনা সে ..
.
.
.
হূমায়ুন আহমেদ স্যার বলেছিলো ‌…
যাকে দূর থেকে না দেখে অনুভব করো সেটা ভালোবাসা আর যাকে দেখে অনুভব করো সেটা ভালোলাগা ….
.
.
.
কাজল শীতলের সাথে দেখা করে ভার্সিটি চলে গেলো …
শীতলের কোনো কিছুতে মন বসছেনা ..
সে বুঝতে পারছেনা কি করবে …
শীতলের একটা জব হয়েছে ..
40 হাজার টাকা স্যালিরি ..
সিলেটে হয়েছে জব ..
শীতলের বান্ধবি সাহায্য করেছে …
.
.
.
শীতল মন স্থির করে ফেলেছে সে রাজের সাথে থাকবেনা …
সে বাকু জিবন একাই থাকবে …
.
.
.
শীতল বুঝতে পেরেছে রাজও সহজে তাকে ছাড়বেনা ..
শীতলকে রাজের আড়ালে পালাতে হবে …
রাজকে জানতে দেওয়া যাবেনা সে কোথায় যাবে ..
রাজ জানতে পারলে শীতলকে খোজে বের করে নিজের কাছে নিয়ে আসবে।
.
.
.
দুপুরে শীতল চাচা আর খালার সাথে খেতে বসেছে ..
কাজল ভার্সিটি থেকে ফেরেনি ।
রাজ এখনো অফিসে আছে ।
রাজ শীতলকে অফিসে যাওয়ার পর অনেক বার ফোন করেছে …
শীতলের খোজ নিতে বার বার ফোন করেছে রাজ ..
শীতল এক পর্যায়ে ফোন অফ করে ফেলে ..
.
.
.
রাজ টেনশনে টেলিফোন করে খালাকে …
খালা শীতল কি করছে না করছে সব ইনফর্মেশন জানিয়েছে রাজকে …
.
.
.
রাজ শীতলকে গার্ড দেওয়ার জন্য অনেক গুলো গার্ড রেখে দিয়েছে বাসার বাহিরে …
শীতল এসব জানেনা …
.
.
.
রাজ বিকালে বাসায় ঢুকে দেখে মেইন ডোর খোলা ..
রাজ ভয় পেয়ে যায় ..
শীতল আবার পালালো নাতো ..
.
.
.
রাজ ড্রয়িং রুমে আওয়াজ শুনতে পায় ..
রাজ চুপি চুপি সেখানে গিয়র দেখে সবাই মুভি দেখছে …
.
.
.
খালা ফ্লোরে বসে আছে হা হয়ে …
কাজল ফ্লোরে কুশনে বসে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ..
শীতল সোফায় বসে চোখ মিট মিট করে কাদছেঁ …
.
.
রাজ বিষয়টা লক্ষ্য করে দেখে মুভিটাতে সম্ভবত হিরো হিরোইনকে একটা ভাঙা বাড়িতে নিয়ে গেছে ..
হিরো বলছে একবার বলো ভালোবাসি ..
হিরোইন বলছে আমি ঘৃনা করি তোকে ‌…
হিরো হিরোইনের জামা ছিড়তে শুরু করলো …
মানে রাজ যেটা বুঝলো সেটা হলো …
.
.
.
হিরো হিরোইনকে ভালোবাসে …
হিরোইন হিরোকে ভালোবাসে না ..
হিরো ভালোবাসি বলার জন্যই হিরোইনের সাথে এমন খারাপ আচরন করছে ….
.
.
.
সবাই এই দৃশ্য দেখে কেদে কেদেঁ চোখ লাল করে ফেলেছে …
শীতলের চোখ গুলো ফুলে গেছে …
.
.
.
রাজ মুভি দেখে পুরোনো কথা মনে করলো …
সেও শীতলের সাথে এমন ভিহেব করেছিলো ..
রাজের তখন মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো ….
রাজ বুঝতে পাচ্ছে হারে হারে সে একটা মেয়ের সাথে জানোয়ারেের মতো ভিহেব করেছে ….
.
.
.
রাজ রুমে চলে গেলো …
ভাবছে কি করলে তার অপরাধেে শাস্তি মাফ হবে ..
সে সব করতে রাজি ক্ষমার জন্য …
.
.
.
রোদ তার বাবাকে বুঝিয়ে শীতলকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছে ..
শীতলের বাবা রাজিও হয়েছে ..
রোদ শীতলকে ফোন করলো বাট ফোন অফ ..
.
.
.
মুভি দেখে শীতল ঘরে আসতেই রাজ সোফা থেকে ফোন দেখতে দেখতে বললো …
_ডার্লিং শাড়ি খোলো …
What nonsense ..
কি সব যাতা বলছেন ??
.
.#অন্ধপ্রেম
Writer : Shabnaj Hossain Moon
Part_28
এসব কি বলছেন উল্টো পাল্টো ???
_কি বললাম আবার ??
_শাড়ি…..
এসব কি উল্টো পাল্টা কথা নয় ??
_রাজ একটা শফিং ব্যাগ হাতে নিয়ে বললো…

_ডার্লিং এখানে একটা ড্রেস আছে এটা পড়ে এসো ।
আমি এজন্য বলেছিলাম শাড়ি খুলতে ।
_শীতল হাফ ছেড়ে বললো…ওআচ্ছা।
_কেনো তুমি কি ভেবেছিলে ???
বলো বলো ???
_Nonsense ..
_I love you 💓💓💓
_Hate you
_My pleasure
💓💓💓.
.
.
.
শীতল ড্রেসটা নিলো না ..
সোজা বেডে শুয়ে পড়লো ।
রাজের এবার প্রচন্ড রাগ হলো ….
সে শখ করে শীতলের জন্য একটা ড্রেস নিয়ে এসে পড়তে বললো আর শীতল কিনা ….
_একি তুমি শুয়ে পড়লে যে ??
_আমার ইচ্ছে…
_একটু পর একটা বিশেষ দিন ..
এখন তোমার ঘুমানো চলবেনা ।
_আমি ঘুমাবো ..
কেউ ঘুমানো ঠেকাতে পারবেনা ..
_Dress change করবেনা তাহলে ???
_না
_সত্যি তো ??
_সত্যি সত্যি সত্যি ..
_বুঝতে পেরেছি …
নিজে পড়তে চাচ্ছো না ..
আমার হাতে পরিয়ে নিতে চাচ্ছো …ঠিক আছে তোমার কথায় রইলো …
রাজ যেই শীতলের আচল ধরলো অমনি শীতল রাজের হাত থেকে শপিং ব্যাগটা নিয়ে দৌরে ওয়াস রুমে চলে গেলো।
.
.
.
.
রাজ বললো …
_নারী জাতি বড় রহস্য ময়ী ।
ডানে বললে বামে আর বামে বললে ডানে ।
মোট কথা তাদের দিয়ে সোজা পথে ঘি উঠানো যাবেনা ‌…
.
.
.
শীতল ড্রেস পড়ে রুমে আসতেই দেখলো রুমটা অন্ধকার …
হঠাৎ কতগুলো মোম জ্বলে উঠলো আগুনের জ্বলসে …
শীতলের মাথা কাজ করছেনা ..
_শীতলকে হঠাৎ কেউ পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো ।
শীতলের আর বুঝতে বাকি রইলোনা কে জড়িয়ে ধরেছে ।
এতো দিনে রাজের স্পর্ষ ,গায়ের গন্ধ বুঝতে পেরেছে শীতল ।
.
.
.
শীতল রাজকে ছাড়িয়ে দিয়ে বললো …
_এসব কি ???
_কোন সব কি ??
_সোজা কথার সোজা উওর দিবেন ।
_ঠিক আছে বলছি …
আজকে আমাদের জিবনের সবচেয়ে বিশেষ দিন …
তাই আজকের দিনটাকে সেলিভ্রেট করবো …
হঠাৎ ঘরিতে ঢং করে শব্দ হলো …
12 টা বাজার এলার্ম দেয়া ছিলো …
.
.
.
শীতল বললো …
_আজকে কি বিশেষ দিন ..
পুরো কথা বলার আগেই রাজ শীতলের মুখে আঙুল দিয়ে বললো …
_হুসসসস …
কোনো কথা নয় …
রাজ শীতলকে নিয়ে মোম গুলোর কাছে গেলো ..

সেখান থেকে একটা বক্স তুলে নিয়ে শীতলের সামনে ধরে বললো …
_আজকের দিনে আমার ছোট উপহার …
_কি এটা ??
_আমি দেখাচ্ছি তোমায় ..
রাজ বক্সটা খোলা মাত্রই ঝিলিক দিয়ে উঠলো চারপাশ …
বিশাল সাইজের একটা ডাইমন্ডের ন্যাকলেস বক্সের ভেতরে ছিলো …
রাজ নিজের হাতে শীতলকে পরিয়ে দিলো ন্যাকলেসটা …
_আজকের দিনে এটা তোমার বিশেষ উপহার …
রাজ শীতলের গলায় ,কপালে চুমো দিয়ে শীতলকে কোলে তোলে বেডে নিয়ে গেলো …
.
.
.
শীতল বুঝতে পারছেনা আজকে কি বিশেষ দিন ..
রাজ বললো …
_এখন তুমি ঘুমাও ..
তুমি ঘুমাও আমি তোমার ঘুমন্ত মুখ খানা বাকিটা রাত দেখবো ।.
.
.
.
শীতল অপাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লো ..
সে রাজের বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজের মাথা নষ্ট করবেনা …
সুযোগ পেয়েই রাজের কাছ থেকে পালাবে …
.
.
.
.
রাজ ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত এক পলকও ফেললো না …
মোমের আলোতে শীতলকে সারা রাত দেখলো …
তবুও যেনো রাজের আশ মিটছে না দেখে দেখে …
.
.
.
শীতল ঘুম থেকে উঠেই রাজকে আগের সিচিয়েশনে দেখলো …
যেভাবে ঘুমানোর আগে রাজকে শীতল দেখেছিলো ।
.
.
.
শীতল কিছুটা অভাব হয়ে ভাবলো …
এই লোক কি সারা রাত এভাবেই ছিলো নাকি ।
রাজ কি সত্যি সত্যি তাকে ভালোবাসে নাকি ??
না না কি ভাবছে সে ..
এসব ভাবলে আগের মতো রাজের মায়ায় পড়ে যাবে সে ।
.
.
.
সকাল থেকে বাড়ি সাজানো হচ্ছে …
প্রচুর লোকজন কাজ করছে …
রান্নার সুগন্ধি ভাসছে চারদিকে …
শীতল ফ্রেস হয়ে এসব কান্ড দেখলো …
কাজলকে দেখা যাচ্ছেনা ..
কাজলকে জিজ্ঞাসা করলে হয়তো কিছু জানা যেতো ..
চাচা কেও দেখা যাচ্ছেনা সেই সাথে খালা কেও ..
.
.
.
এমন কি রাজকেও দেখা যাচ্ছেনা ..
এমনিতে রাজ সারাক্ষন শীতলের পেছনে ঘুর ঘুর করে আর আজ ….
শীতল কাকে জিজ্ঞেস করবে কি হচ্ছে …
এটারও উপাই নেই কারণ আশে পাশে যারা আছে তারা সবাই অচেনা লোকজন ….

.
.
.
দিনের 12 টা বাজতে চললো …
কারো কোনো খোজ পাচ্ছেনা শীতল …
কে যেনো শীতলের রুমে খাবার দিয়ে গিয়েছিলো ..
শীতল খেয়েও নিলো ।
দুপুরে সে বারান্দা থাক কালীন কে যেনো দুপুরের খাবার দিয়ে গিয়েছিলো …
.
.
.
সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ রাজ রুমে আসলো …
শীতল জিজ্ঞাসা স্বরুপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলো রাজের দিকে …
রাজ অন্যদিনের থেকে বেশ স্মার্ট লাগছে …
রাজ কালো শার্ট ,প্ন্যান্ট ,কোট ,হ্যান্ড ওয়াচ ইত্যাদি সবকিছু কালো পরেছে …
.
.
.
_রাজ শীতলকে কিছু না বলেই ডোর ওপেন করে অনেক গুলো মেয়েদের রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে গেলো ।
.
.
.

.
শীতল কিছু বুঝতে পারছেনা কি চলছে রাজের মাথায় ….
.
.
.
মেয়ে গুলো শীতলকে জোরাজোরি করে ডেসিংয়ের সামনে বসালো ।
শীতল সেই কখন থেকে বলছে তার সাথে কি করা হচ্ছে ..
তবুও কেই কথা বলছেনা ..
.
.
.
একজন শীতলের পা ধরে আছে ..
একজন শীতলের হাত ধরে আছে ..আরেকজন শীতলের মাথায় কি যেনো করছে …
শীতলের মাথা কাজ করছেনা …
সে ভাবছে সে কি কোনো পাগল খানায় আছে নাকি ।
.
.
.
শীতলের গায়ে হঠাৎ কেউ লাল একটা শাড়ি জরিয়ে দিলো … দু ঘন্টা পর শীতলকে ছাড়া হলো …
শীতল হাফ ছেড়ে বেচে আয়নায় নিজেকে দেখলো ।
একেবারে নতুন বউয়ের মতো সাজানো হয়ো শীতলকে ‌…
লাল শাড়ি ,গয়না ইত্যাদি দিয়ে শীতলকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে …
এর মাঝে রাজকেও আয়নায় দেখতে পেলো শীতল …
রাজ দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাসছে ….
.
.
.
কাজল রুমে ঢুকেই
বললো….
_বাহ …বউরানি জাস্ট মারাত্মক লাগছে তোমায় …
দাদা ভাই তোমায় দেখে আবারোও বাসরের কথা ভাবছে মনে হয় …
.
.
.
_ধ্যাত কি সব যাতা বলছো ??
আচ্ছা এখন বলো আজকে কিসের বিশেষ দিন আর এগুলোর মানে কি ???
.
.
.
_এসব তো নিচে গিয়ে দেখবে …
আমি কিছু বলতে পারবো না ….
.
.
.
চলো নিচে চলো আমার সাথে ….
কাজল শীতলকে হাত ধরে নিচে নিয়ে গেলো …
শীতলকে কাজ বাগানে নিয়ে গেলো ..
বাগানটাও খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ….
.
.
.
শীতল দেখতে পেলো বাগানে প্রচুর লোক তার দিকে তাকিয়ে আছে …
প্রচুর মিডিয়ার লোকজনও আছে এখানে উপস্থিত …
.
.
.
শীতলের মাথা কাক করছেনা কি হচ্ছে …
.
.
.
হঠাৎ শীতলের হাত রাজ স্পর্ষ করলো …
_তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে ‌..
মনে হচ্ছে আজকে এখনি তোমাকে নিয়ে বাসরে ঢুকি ।
_What nonsense ..
শীতল রাজের হাত ছাড়িয়ে একটু দূরে গিয়ে দাড়ালো …
রাজ বেশ মন খারাপ করলো …
রাজ আবার গিয়ে শীতলের হাত ধরলো আবারও শীতল রাজের কাছ থেকে দূরে চলে গেলো…..
রাজ এবার বেশ অপমান ফিল করলো …
শীতল বার বার তাকে ইগনোর করছে এটা সে ভালোই বুঝতে পারছে …
.
.
.
শীতল রাজকে ইগনোর করে আশে পাশের লোক গুলোর সাথে হেসে হেসে কথা বলতে লাগলো …
অন্যদিকে রাজ তো রেগে আগুন হয়ে যাচ্ছে …
.
.
.
রাজ এবার শীতলের কাছে গিয়ে শীতলকে নিয়ে সোজা বাগানের মাঝখানে চলে এলো ….
রাজ শীতলের কানে কানে বললো …
হাত ছাড়ানোর চেষ্টাও করোনা …
তাহলে রাজের আসল রুপ দেখতে পারে …
_আমার হাত ছাড়ুন বলছি ..
_ছাড়ার জন্য হাত ধরিনি ডার্লিং …
আজকে সবাই জানবে তুমি শুধু আমার ।
.
.
.
রাজ বললো …
_Ladies and gentlemen আজকে সবাইকে একসাথে উপস্থিত হবার একটা কারণ আছে …
আজকে সবার সাথে আমার জিবন ,আমার ভালোবাসাকে পরিচয় করিয়ে দেবো …
আপনারা সবাই অনেকে জানেন হয়তো বা জানেন না যে আমি বিয়ে করেছি ।
আমাকে নিয়ে অভ্যন্তরীন আলোচোনা হতো …
আজকে সবার সব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি …
রাজ শীতলের হাত ধরে সবাইকে বললো …
Everybody meet my beautiful wife shitol
.
.
.
সবাই সঙ্গে সঙ্গে হাত তালি দিচ্ছে …
শীতল রাগে জ্বলছে …
শীতল হাত ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে বাট পারছেনা…
রাজ আবার বললো …
_আজকে থেকে এক বছর আগে আমি শীতলের সাথ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম …
আজকে আমাদের বিবাহ বার্ষিকি …
So let’s enjoy this amazing and moonlight night …

💓💓💓💓💓💓💓.
.
.
.
শীতল রাগে রাজের হাতে খামছি দিতে লাগলো …
তবুও রাজ ছাড়ছেনা …
সে হাসছে আর শীতলকে নিয়ে ফটোসুট করছে …
.
.
রাজ শীতলকে নিয়ে বুফে খেতে বসলো …
সব বিজনেস ম্যানরা বুফে বসে খাচ্ছে …
রাজও খাচ্ছে …
শীতল রাজের কানে কানে বললো …
_হাত ছাড়ুন জানোয়ার লোক কোথাকার ..
আপনার সাহস কি করে হয় সবাইকে বিয়ের কথা জানানোর …
আমি তো থাকবোইনা আপনার সাথে …সো এসব নাটক করে লাভ হবেনা ..
রাজ হেসে বললো …
_তুমি যেনো আমার থেকে দূরে যেতে পারো এজন্য এই ব্যাবস্থা করেছি ..
সবাই এখন তোমাকে চিনে ফেলেছে তুমি আমার কে …
.

.
শীতলের এখন ভিষন রাগ হলো …
সে রাজকে এখন একটা শাস্তি দিতে চায় …
হঠাৎ শীতলের নজর পড়লো সামনে থাকা আস্তো একটা চিকেনের দিকে …
শীতল চিকেন টা ধরতে যাবে তখনই দেখলো একটা বুড়ো লোক চিকেনটার দিকে তাকিয়ে আছে …
বুড়োটা শীতল কে দেখে হাসি দিলো …
শীতল ও হাসি দিলো …
.
.
.
বুড়োটা গাপাগপ চিকেনটা কেটে কেটে খাচ্ছে …
শীতল রাজকে বললো সে চিকেন খাবে …
রাজ নিজের প্লেট থেকে কাটা চামিচ দিয়ে এক টুকরো চিকেন শীতলের মুখের সামনে ধরলো …
শীতল বললো সে আস্তো চিকেন খাবে ‌…
.
.
.
রাজ হাসি দিয়ে একটা লোককে বললো শীতলের জন্য স্পেশাল চিকেন আনতে …
.
.
.
শীতল আস্তো চিকেন টা নিয়ে ছুরি আর কাটা চামিচ দিয়ে বাচ্চাদের মতো কাটতে শুরু করলো ….
রাজের চোখ কপালে উঠলো …
_এটা কি করছো ??
আমার মান সম্মান খুয়াবে নাকি .???
_চুপচাপ দেখুন কি হচ্ছে …
শীতল এমন ভাবে চিকেন টা কাটলো যেটা কয়েক টুকরো হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো …
অনেক লোকের উপর টুকরো গুলো পড়লো ‌..
রাজের কোট ,শার্টেও চিকেন একাকার …
শীতলের শাড়িটা ঝোল দিয়ে লেপ্টে আছে ….
.
.
.
সবাই রাজের দিকে তাকিয়ে আছে …
_আমি দুঃখিত ,,,আমার ওয়াইফ একটু দুষ্টু …
সবাইকে ফ্রেস হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি …
.
.
.
রাজ শীতলের হাত শক্ত করে ধরে ওয়াস রুমে এলো ….
_এসব কি করলে তুমি ???
_যা করেছি বেশ করেছি …
রাজ হেসে বললো ,,,যত কিছু করো আমার কাছ থেকে মুক্তি নেই তোমার …
শীতল হাল ছাড়ার পাত্রি নয় …
সে রাজের কাছ থেকে চলে এসে একটা মাইক্রোফোন নিয়ে সবার মাঝখানে এসে বললো ….
_Ladies and gentlemen আজকে সবাই জেনেছেন আমার আর রাজ সাহেবের বিয়ের কথা …
এটাও জেনে নিন আমি কিছু দিনের মধ্যে ডিবোর্স দিচ্ছি রাজ সাহেবকে ।
এবং খুব শিগ্রই আপনারা সেটা জানতে পারবেন ।
ধন্যবাদ সবাইকে …
পরিস্থিতি থমকে গেলো ..
রাজ পাশে দাড়িয়ে আছে ..
রাগে সে পুরো জ্বলছে …
শীতল এটা কি করলো …
.
.
.
.
রাজের মান সম্মান সব নষ্ট করে দিলো …
.
.
.
চলবে,,,,,,
.
.
.
.
.
চলবে,,,,,,,,,,,,,,💓💓💓

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here