আড়ালে_ভালোবাসি পর্ব ২৩+২৪

#আড়ালে_ভালোবাসি
#নুসরাত_জাহান_অংকুর
||পার্ট_২৩||

নিশাত অবাক হয়ে প্রশ্ন করে

_” তুমি এখানে কি করো? আর তোমার এই অবস্থা

নিশাত অবাক হয়ে ফিহা কে দেখছে। আগের ফিহা আর এখনকার ফিহার মধ্যে অনেক তফাৎ।সিম্পল একটা সেলোয়ার কামিজ পড়ে আছে মুখে নো মেকআপ। কোলে একটা ছোট বাচ্চা। প্রায় ৩,৪মাস বয়স

ফিহা রহস্যজনিত হাসি দিয়ে বলে

_” হা আমি । আমাকে দেখে অবাক হচ্ছো কেনো?

_” না মানে তুমি হটাৎ

_” আরে আমি তো জানতাম নিশাত আনজুম সোজা কথা সোজা বলতে পছন্দ করে । যাই হোক কেমন আছো ?

_” আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি কেমন আছো ?

_” এই তো চলে যাচ্ছে

_” এতো দিন তো ছিল না হটাৎ কি মতলবে এখানে আসছে ? আমাকে তো সহ্য করতে পারতো না এখন আবার আরহানের বউ জানলে ত এখানে খুন করবে। এমনি তো পেত্নী ছিল আজ নো মেকআপ এ একদম ডাইনি লাগছে । আমার জামাই যে কি দেখে এর সাথে প্রেম করছিলো (মনে মনে )

নিশাত আপন মনে ভাবতে ভাবতে হেসে উঠে । ফিহা ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করো

_” হাসছো কেনো ?

_” না এমনি তুমি এত দিন কোথায় ছিলে ?

বিনা বাধায় প্রশ্ন করে উঠে নিশাত। নিশাতের কথা ফিহা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে

_” সে অনেক কথা অন্য একদিন বলবো । আরহান কেমন আছে ?

_” হুম ভালোই আছে

_” যাক আরহান তাহলে নিজের জেদ পূরণ করেই ছাড়লো

নিশাত ভ্রু কুচকে তাকায়। চোখ মুখ কুচকে প্রশ্ন করে

_” কিসের জেদ ?

ফিহা বাকা হেসে বলে

_” আরহানকে কত দিন চিনো? আমি ওর সাথে ৪বছর ধরে আছি। নিজের জেদ পূরণ করার জন্য ও সব কিছু করতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আমি নিজেই। দেখ আমাকে ভালো করে

নিশাত ফিহার কথা মন দিয়ে শুনছে। ফিহা আবার বলতে শুরু করে

_” আরহান তোমাকে নিজের বেডে আনার জন্য কত কিছু করলো। নিজেকে বদলে ফেলেছে বাহ

ফিহার কথায় নিশাত বুকে দুই হাত গুঁজে বলে

_” ওহ তোমাকে কে বললো আরহান আমাকে বেডে আনার জন্য এইসব করছে ?

_” কে আবার আরহান নিজেই বলেছে।ভার্সিটির এমন কোনো মেয়ে নেই যে আরহানের হাতের পুতুল না শুধু তুমি বাদ ছিলে এখন তুমিও সেটা হয়ে গেছো । সত্যি আরহান একটা জিনিয়াস। কিভাবে তোমাকে নিজের করে নিলো। যখন আমি এই সব জানতে পেরেছি তখন তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগে আরহান আমাকে সরিয়ে দেয় আর তোমাকে বিয়ে করে।

_” এই বাচ্চা

ফিহার কোলে বাচ্চাকে দেখিয়ে । ফিহা বলে

_” এটা আমার বাচ্চা । আমার আর আরহানের বেবি ।

নিশাত এখন জোড়ে হাত তালি দেয়। ফিহা অবাক হয়ে নিশাতের দিকে তাকিয়ে আছে

_” বাহ কি ড্রামা। তোমার তো অ্যাক্টর হওয়া উচিৎ। বিশ্বাস করো তুমি যদি অ্যাক্টিং করো তোমার সাথে কেউ টিকতে পারবে না ।কিন্ত কি বলো তো তুমি আরহানকে যতটা না চিনো আমি তার থেকে বেশি চিনি । স্বামী হয় আমার । আর নিজের স্বামীর প্রতি এই টুকু বিশ্বাস আমার আছেই। ওর সব অতীত জেনে আমি ওকে গ্রহণ করেছি। তোমার মত হাজার জন এসে উল্টা পাল্টা বললে বদলে যাবে না।যে ছেলে আমার জন্য নিজেকে বদলে দিয়েছে সে কি করে আমাকে ঠকানোর কথা ভাবতে পারে । তোমাকে আমি লাস্ট warning দিচ্ছি আমার স্বামীর পিছন ছেড়ে দাও। সে তোমার অতীত ছিল আমি তার বর্তমান,ভবিষৎ সব কিছু।

নিশাত চলে যেতে গেলে ফিহা এক হাত দিয়ে নিশাত কে আটকে বলে

_” আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না তাই তো ।ঠিক আছে তুমি নিজে ভেবে দেখো আরহান কি একবারের জন্য তোমাকে টাচ করেনি তোমার পারমিশন ছাড়া? নেশা করে যার দিন যেতো সে কি করে এইসব ছেড়ে দিতে পারে তুমি

ফিহা আর কিছু বলার আগেই নিজের গালে সজোরে একটা থাপ্পড় অনুভব করে ।

নিশাত অগ্নি চোখে ফিহার দিকে তাকিয়ে আছে। ফিহা রেগে কিছু বলার আগেই আরেকটা চর অনুভব করে

নিশাত কাপতে কাপতে বলে

_” তোর সাহস তো কম না। আমার সামনে দাড়িয়ে আমার স্বামীর নামে বদনাম করছিস।তোর চরিত্র কি আমি বলবো ।তুই যেমন তোর সাথে ঠিক তেমন হওয়া দরকার।এই বাচ্চা কে কার সেটা তুই নিজেও জানিস না কারণ তোর চরিত্র এমন। নিজের চরিত্র আইছে আমার জামাই কে নিয়ে বলতে। ভাবছিলাম ভালো হয়ে গেছিস কিন্ত কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না

নিশাত আঙ্গুল তুলে আরো কিছু বলতে গেলে বাচ্চা কেঁদে উঠে । নিশাত আর কিছু না বলে চলে যায় । ফিহা ওখানেই থ হয়ে দাড়িয়ে আছে । নিশাত এর এই রূপ ফিহা হজম করতে পারেনি ।

কয়েক মাস আগে শাওন নিজের ভালোবাসার টানে ফিহা কে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার জন্য জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে।শাওন ফিহা কে বিয়েও করে। আজ শাওন ওর বোনের মেয়েকে নিয়ে ডক্টরের কাছে আসে। শাওন রিকশা ডাকতে গেলে ফিহা নিশাত কে দেখে। ফিহা এতদিনের জেনে গেছে নিশাত আরহানের বউ তাই সুযোগ বুঝে প্রতিশোধ নিতে চাইছিল কিন্ত উল্টো ফিহা ফেঁসে গেলো।

ফিহা নিশাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে হটাৎ পিছন থেকে কারোর আওয়াজ শুনে চমকে যায় । ফিহা পিছনে তাকিয়ে দেখে শাওন দাড়িয়ে আছে । ফিহা কে কিছু বলতে না দিয়ে শাওন বলে

_” ছি তুমি এখনো নিজেকে বদলাতে পারনি। তোমাকে ভালোবাসা আমার ভুল হইছে । ছোট বাচ্চাকে কলে নিয়ে এইসব বলছো ছি

ফিহা হতবম্ব হয়ে যায় এখন কি বলবে? ফিহার কাছে কোনো উত্তর নেই।

_” বাসায় চলো আজ তোমার হবে

ফিহা কান্না করে দেয় এই ভেবে যে শাওন যদি ওকে ছেড়ে দেয়।

নিশাত রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আর ফিহার কথা ভাবছে । রাগে নিশাতের মাথা ফেটে যাচ্ছে।

_” সাহস কত বড় আমার জামাই কে নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলে ।ইচ্ছা করছে কুচি কুচি করে কেটে চিপস বানিয়ে খাই। হায় আল্লাহ আমিও ত ওকে ভুল ভেবেছি । ওকে তো আমি খুব ভালো করে জানি। ও কোনো খারাপ কিছু করতে পারে না আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে ইসস কত বড় ভুল করলাম । নিজের বোনকে আর ওকে নিয়ে সন্দেহ ছি ছি ছি

নিশাত নিজের মাথায় টুকা দিতেই আরহানের ফোন আসে। নিশাত এর ঠোঁটে এক চিলতে হাসির ঝলক দেখা যায়। মুচকি হেসে ফোন ধরতেই আরহানের গলার আওয়াজ পায়।

_” নিশা পাখি আজ না খেয়ে বের হলে কেনো ?

নিশাত কি বলবে বুঝতে পারছে না ওর ভুলের জন্য তো হইছে । এখন বললে নিশ্চয় আরহান রাগ করবে ।

_” এমনি ভালো লাগছিল না ।

_” আসলে এই কয়দিন আমি অনেক চাপের মধ্যে ছিলাম তাই তোমাকে সময় দিতে পারিনি । সরি নিশা

নিশাত মুচকি হেসে বলে

_” ইটস ওকে জামাই জান

দুইজনেই চুপ । নিশাত লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না। হটাৎ আরহান বলে

_” নিশা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। আমি আসলে।

_” বাসায় আসো তারপর কথা বলবো।লাভ ইউ

নিশাত তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দেয়। আরহান কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ।

এদিকে
আরহান ভাবতে থাকে

_” যে করেই হোক নিশা কে সব বলতে হবে। আমিও বোকা এত চাপের মধ্যে নিশা কে বলতে ভুলে গেছি । না এখন যখন সব ঠিক হইছে আমাকে বলতেই হবে । আজ বলবো সব বলবো তারপর যদি নিশা পাখি রাগ করে তাহলে রাগ ভাঙাবে

আরহান চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে । এই কয়দিন রাতে ঠিক মত ঘুমাতে পারে নি। নিশাত কে সব বললে যেনো ওর শান্তি ।

ভার্সিটি শেষ করে নিশাত বাড়ি আসতেই দেখে বাড়ি ফাঁকা।

নিশাত কিছু না ভেবে ফ্রেশ হতে যায় লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হতেই সার্ভেন্ট দের দেখতে পায়

_” কি হইছে তোমরা এখানে ? এমন দেখাচ্ছে কেনো ?

সার্ভেন্ট হাফিয়ে হাফিয়ে বলে

_” ম্যাডাম ওই ঈশা ম্যাডাম

_” কি হইছে ঈশার

_” ঈশা ম্যাডাম সুইসাইড করেছে। সবাই ঈশা ম্যাডাম কে হাসপাতালে নিয়ে গেছে

নিশাত এর যেনো পার তলা থেকে মাটি সরে গেছে। নিজের একমাত্র বোনের এমন কথা শুনে। নিশাত সব কিছু ঝাপসা দেখছে । পা দুটো যেনো ওখানেই স্থির হয়ে গেছে আর চলতে চাইছে না ।

সার্ভেন্ট নিশাতকে ধাক্কা দিতেই নিশাত কোনো দিকে না তাকিয়ে ছুটে চলে যায়। বাড়ির কোনো গাড়ি নেই হয়তো সবাই নিয়ে গেছে ।

সার্ভেন্ট একটা সিএনজি ডেকে দিলে নিশাত চলে যায়। এই রাস্তাও যেনো নিশাতের সাথে বেইমানি করেছে শেষ হতেই চাইছে না।

হসপিটালে পৌঁছে নিশাত এক ছুটে ভিতর যায় । গিয়ে দেখে সালেহা বেগম। আমজাদ হাবিব বসে আছে

নিশাত চিৎকার করে বলে

_” আমার ইসু আমার ইস্যুর কি হইছে ? কেউ আমাকে বললো না কেনো ?

আমজাদ হাবিব বলে

_” আমরা তোমাকে অনেকবার ফোন দিয়েছি কিন্ত তোমার ফোন বন্ধ ছিল

আরহানের সাথে কথা বলে নিশাত ফোন বন্ধ করে রাখে । এই প্রথম ফোন বন্ধ করে আর আজই এমন হলো। নিশাত ভিতরে যাওয়ার জন্য লাফালাফি করছে । সালেহা বেগম ধরে রেখেছে

_” আম্মু আমার ইস্যুর এমন হলো কি করে ?

_” মা একটু শান্ত হও। দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য আমি ডাকতে গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর যখন সাড়া দেয় না তখন আরহানের আব্বুকে ডেকে আনি। দরজা ভাঙতেই দেখি ঈশা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে । হাতের শিরা কেটে ফেলেছে অনেক রক্ত পড়েছে

নিশাত আরো ভেঙ্গে পরে। অনেক আদরের বোন এই বোনের জন্য এতো কষ্ট করেছে শেষে কি না এই অবস্থা ।

সালেহা বেগম আবার বলে

_” কিছু দিন থেকে ঈশা কে কেমন অন্যমনস্ক দেখছিলাম। মাঝে রাতে পানি আনতে গেলে ঈশার কান্নার আওয়াজ শুনেছি। খাবার ও ঠিক মত খেত না তোকে বলতে চেয়েও মনে ছিল না ।

সালেহা বেগম এর কথায় নিশাতের সেদিনের রাতের কথা মনে পড়ে। নিশাত হাত মুঠো করে নেয়

_” কাউকে ছাড়বো না কাউকে না

নিশাত এর এমন কথায় সালেহা বেগম আর আমজাদ হাবিব ভরকে যায়। সালেহা বেগম বলে

_” মা শান্ত হো দেখবি ঈশার কিছু হবে না কিছু না

নিশাত ওখান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। নিশাত যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে আরহান আর জয়।

_” আব্বু ঈশার কি অবস্থা ?

আমজাদ হাবিব মুখ ছোট করে বলে

_” অপারেশন চলছে । অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে জানিনা কি হবে

আরহান শান্ত গলায় বলে

_” নিশাত কোথায়?

_” এখানেই ছিল হটাৎ বেরিয়ে গেলো

কথাটা শুনে মাত্র আরহান জয়কে বলে

_” তুই এখানে থাক আমি নিশাতের কাছে যাচ্ছি। জানিনা কোথায় গেছে

আরহান বেরিয়ে যায় ।হসপিটালের বাইরে এসে একজনকে জিজ্ঞেস করে

_” ভাই আপনি এখানে একটা মেয়েকে দৌড়ে যেতে দেখেছেন ?

_” না

আরহান এদিক ওদিক পাগলের মত ছুটে যায়। দৌড়াচ্ছে আর যাকে সামনে পাচ্ছে তাকে জিজ্ঞেস করছে ।

এক পর্যায়ে আরহান ব্রিজের উপর চলে যায় । সেখানে এক সাইডে নিশাত কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে ।

আরহান ধির পায়ে নিশাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে

_” তুমি এখানে আর আমি তোমাকে কোথায় না কোথায় খুঁজেছি । এভাবে আমার মেরে ফেলবে নাকি কতোটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম

নিশাত নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আরহান কে ধাক্কা দেয় ।

আরহান দূরে সরে যায় । অবাক নয়নে নিশাতের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগে নিশাত আঙ্গুল তুলে বলে
#আড়ালে_ভালোবাসি
#নুসরাত_জাহান_অংকুর
||পার্ট_২৪||

_” তোমার ঐ নোংরা হাত দিয়ে আমাকে স্পর্শ করবে না। দূরে যাও আমার থেকে দূরে যাও

নিশাত পিছিয়ে যায়। নিশাত কে পিছিয়ে যেতে দেখে আরহান এগিয়ে আসতে আসতে বলে

_” নিশা পাখি প্লীজ পিছিয়ে যেয়ো না পড়ে যাবে। কি হইছে আমাকে বলো।আমি কিছু ভুল করছি ? আমাকে বলো।আমি সব ঠিক করে দেবো

_” আমার কাছে আসলে কিন্ত আমি এখান থেকে ঝাঁপ দেবো।তুমি কিন্ত আমাকে খুঁজে পাবে না।এগিয়ে আসবে না বলে দিলাম

আরহান ওখানেই দাড়িয়ে যায় ছলছল চোখে নিশাতের দিকে তাকিয়ে আছে । নিশাতের চোখে ও পানি। কান্না করতে করতে চোখ মুখ ফুলে গেছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তবু ও বলছে

_” কি ক্ষতি করেছে আমার বোন তোমার সাথে? কি ক্ষতি করেছে বলো? কেনো এমন করলে? আমার বেচে থাকার শেষ সম্বল টুকু তুমি কেরে নিতে চাও কেনো?

নিশাত দুইকানে হাত দিয়ে চিৎকার করে কথাগুলো বলে।আরহান অবাক হয়ে প্রশ্ন করে

_” আমি ঈশার ক্ষতি করেছি ?

_” হা হা তুমি। তোমার জন্য আজ আমার বোনের এই অবস্থা কেনো করলে ? কেনো?

_” নিশা তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।আমি ঈশার ক্ষতি কেনো করবো ? ঈশা তো আমারও বোন ওকে কত

_” মিথ্যে সব মিথ্যে।তোমাদের দুইজনকে সেদিন আমি হোটেল থেকে বের হতে দেখেছিলাম।তুমি ঈশার রুমে গিয়েও ওকে কি সব বলছিলে

আরহান এখন মাথায় হাত দিয়ে দাড়ায়। আশে পাশে মানুষের সব নিজেদের কাজ করছে। এখানে কি হচ্ছে সেই সব নিয়ে ওদের মাথা ব্যাথা না।

_” নিশা তুমি আমাকে ভুল বুঝছ আমি তোমাকে বলছি সব বলছি

আরহান নিশাতের দুই বাহু ধরে বলে। নিশাত এক ঝটকায় হাত সরিয়ে চিৎকার করে বলে

_” ছুবে না তুমি আমায়।ঘৃনা করি আমি তোমাকে শুনতে পাচ্ছো ঘৃনা করি।আমি ভাবতেও পারিনি তুমি আমার ভালোবাসার এইভাবে সুযোগ নিবে।আমার জন্য আজ আমার ছোট বোনরে এই অবস্থা

আরহান নিশাতকে জড়িয়ে ধরে।নিশাত ছাড়াবার জন্য চেষ্টা করছে

_” নিশা পাখি প্লীজ এমন বলো না।প্রিয় মানুষের মুখে ঘৃনার কথা শুনার চেয়ে মরণ ভালো। আমি মরে যাবো নিশা এমন কথা বলো না

নিশাত নিজেকে ছাড়িয়ে আরহানের কলার ধরে বলে

_” কেনো এমন করলে? কি লাভ পেয়েছো? এতটা নিখুত অভিনয় কি করে পারলে? উফফ আমার সব অসহ্য লাগছে

_” নিশা পাখি আমি তোমাকে সব বলছি। আমার কথা একটু শুনো একটু শুনো

_” না তুমি এখন আমাকে কি বলবে? আমার বোনের কিছু হলে আমি তোমাকে কখনো মাপ করবো না কখনো না

আরহান নিশাতকে বুঝানোর চেষ্টা করছে নিশাত নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।দুইজন ব্রিজের কিনারায় চলে গেছে। এক পর্যায়ে আরহান ব্রিজ থেকে পড়ে যেয়ে রেলিং ধরতে গেলে নিশাত আরহানের হাত ধরে ।

আরহান মুচকি হেসে হাত আলগা করতে গেলে নিশাত বলে

_” কি করছো? পাগল হলে নাকি? পড়ে যাবে তো।আমার হাত ছেড় না।কেউ আছেন প্লীজ হেল্প

নিশাত চিৎকার করে সবাইকে ডাকছে। নিশাতের চিৎকারে আশে পাশে লোক নিজের কাজ রেখে ছুটে আসে।লোকগুলো আরহানকে ধরার আগে

আরহান মুচকি হেসে বলে

_” তুমি চাইলেও আমাকে ঘৃনা করতে পারবে না।ভেবে ও না ছেড়ে যাচ্ছি।আমার থেকে তোমার মুক্তি নেই কিছুতেই না।তুমি আমার উপন্যাসের অলিখিত পাতা যাকে আড়ালে রেখে জীবনের আসল মানে উপভোগ করতে চাই।

কথাটা বলে আরহান নিশাতের হাতে কিস করে।হাত ছেড়ে দেয়। আস্তে আস্তে নিচে অতল পানিতে তলিয়ে যায়

_” আরহানননননন

নিশাত চিৎকার করে সেইখানে ঢুলে পড়ে। আশে পাশে সবাই নিশাতের দিকে তাকিয়ে আছে।কেউ কেউ ভিডিও করছে ।

তিনদিন
নিশাত এর সেন্স ফিরতেই পাগলামি শুরু করে। হাতে ক্যানাল লাগানোর।চিৎকার করে আরহানকে ডাকছে ।

নেহা জয় নিশাত কে সামলানোর চেষ্টা করছে কিন্ত কেউ নিশাতকে সামলাতে পারছে না ।

সালেহা বেগম ঘরে ঢুকে নিশাতের এমন পাগলামি দেখে নিশাতের গালে চর বসিয়ে দেয়।নিশাত গালে হাত দিয়ে কান্না করছে। সালেহা বেগম চিৎকার করে বলে

_” নেই! আরহান আর বেচে নেই। মারা গেছে।নিজের ছেলেকে হারিয়েছি এখন কি ছেলের শেষ অংশ কে হারাবো। আমার ছেলেকে তো বাঁচাতে পারলি না বলেছিলাম ছেলের খেয়াল রাখতে পারলি না তো।এখন আরহানের শেষ চিন্হ কে তো বাচিয়ে রাখ ।

নিশাত বিড়বিড় করে আরহানের নাম নিচ্ছিল।সালেহা বেগম এর শেষের কথায় নিশাত সালেহা বেগম দিকে তাকায়।

সালেহা বেগম নিশাতের চোখে ভাষা বুঝতে পেরে বলে

_” হা তুই মা হতে যাচ্ছিস।

আপনমনে নিশাতের হাত নিজের পেটে চলে যায়।চোখের পানির যেনো বাঁধ মানছে না ।চিৎকার করে বলে

_” ওহ আম্মু আমাকে আমার আরহান কে এনে দাও।ওকে ছাড়া আমি শূন্য। ও জানতে পারলে অনেক খুশি হবে।ওকে এনে দাও না প্লিজ এনে দাও।আমার সন্তান কি নিজের বাবার ভালোবাসা টুকু পাবে না কেনো হলো এমন? না না আমার আরহানের কিছু হতে পারে না। ও আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারে না

নিশাত কান্না করতে করতে মাটিতে বসে পড়ে।সালেহা বেগম শাড়িতে মুখ গুজে চলে যায়। দরজার আড়াল থেকে আমজাদ হাবিব নিজের চোখের পানি ফেলছে ।

নিজের সন্তানদের জন্য দিন না খেটে তাদের সব সুখ দিয়েছে কিন্ত আজ এই টাকা তার সন্তান কে ফিরিয়ে দিতে পারলো। নিজের উপর ঘৃনা হচ্ছে।এত সব যার জন্য করলো সে আজ নেই

নিশাত কে কেউ সামলাতে পারছে না।নিশাত জোড়ে জোড়ে কান্না করছে হটাৎ কি মনে করে বলে

_” ইসু কোথায় ? ও তো একবার ও আমার কাছে আসলো না।ঠিক আছে তো? শরীর কি অনেক দুর্বল?

জয়ের আর নেহার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে ।দুইজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে ।নেহা কিছু বলতে গেলে জয় বারণ করে

_” কিহলো বল ইসু কোথায়? চোখ দিয়ে কি কথা বলছিস ? আমাকে বলবি না ওকে ফাইন আমি নিজে যাচ্ছি । ঘরে আছে তো

নিশাত নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা ঈশার রুমে যায় ।গিয়ে দেখে ফাঁকা কেউ নেই ।

নিশাত ঈশার নাম ধরে ধরে ডাকছে ।নেহা বুঝাচ্ছে

_” নিশু প্লীজ শান্ত হও।এভাবে এত অস্থির হস না।তোর শরীরের আর এক জন বড়ো হচ্ছে ।তার কথা একটু ভাব

_” আগে বল আমার ইসু কোথায় ?

_” ঈশা আছে এখানেই আছে

_” না নেই কোথাও পাচ্ছি না কেনো?

নিশাত জয়ের কাছে যায়

_” তুমি তো আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড।বলো না ইসু কোথাও? ওকে পাচ্ছি না কেনো?

জয়ের পায়ের কাছে বসে কান্না করে নিশাত।জয় চোখ বন্ধ করে বলে

_” ঈশা আর নেই ।সেদিন আরহানের খবর শুনে আমরা সবাই ছুটে গিয়েছিলাম গিয়ে দেখি তুমি সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছো। আরহান কে অনেক খুজাখুজির পরও পাইনি।ফিরে এসে শুনি ঈশা যেই কেবিনে ছিল সেই কেবিন সহ দুইটা কেবিনে আগুন লেগে সবাই মারা গেছে। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে

নিশাত যেনো বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।চোখের পানি বন্ধ হয়ে গেছে।চুপ করে সামনে তাকিয়ে আছে ।নেহা নিশাতকে ঝাঁকাচ্ছে কিন্ত নিশাতের কোনো হেলদোল নেই।

হটাৎ নিশাত উঠে নিজের ঘরে যায়।জয় আর নেহা অবাক হয়ে দেখছে । নিশাত নিজের ঘরে গিয়ে টেবিলে আরহানের একটা ছবি হাতে নিয়ে বিড়বিড় করে ।

নেহা পাশে দাড়াতেই নিশাত নেহার শরীরে ঢুলে পড়ে।

নিশাত এর সেন্স ফিরলে নিঃশব্দে কান্না করতে করতে আবার সেন্স হারাতো।নিশাতের শরীর অনেক ভেঙ্গে পড়ে।

সালেহা বেগম ডক্টরের সাথে কথা বললে।ডক্টর বলে এভাবে চলতে থাকলে কাউকে বাঁচানো যাবে না।বাচ্চাটাকে নষ্ট করলে হয়তো নিশাত কে বাঁচানো যাবে।

সালেহা বেগম ঠিক করে বাচ্চা টাকে নষ্ট করে নিশাত কে নতুন করে বিয়ে দিবে কিন্ত নিশাত রাজি না।অনেক বুঝানোর পর রাজি হয়।নিশাত নিজেও নিজের বোনের খুনীর বাচ্চা রাখতে চায়।নিশাত মনে মনে আরহানকে সব কিছুর জন্য দায়ী করছে।

নিশাত কে হসপিটালে নিয়ে যায় অপারেশন এর আগে নিশাত কি মনে করে অপারেশন করতে চায় না।জয় নিশাতকে নিয়ে আসে আর সবাই কে বলে যেনো নিশাতের বাচ্চা মারার কথা কেউ না ভাবে।

সেদিনের পর থেকে জয় নিশাতের দেখাশুনা করে।এভাবে দিন চলতে থাকে নিশাত ঠিক করে নেয় বাচ্চারা কে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবে কিন্ত নিশাতের কাকা কাকী এসে নিশাতকে অনেক বুঝায় তাদের সাথে যেতে নতুন করে সব শুরু করতে ।

অনেক বুঝানোর পরও নিশাত রাজি হয় না কেনো যেনো নিশাত আরহান কে অনুভব করে। আরহান যেনো ওর আশে পাশে আছে ।রাতে ঘুমাতে পারে না নিশাত ।

সবার জোরাজুরিতে নিশাত রাজি হয় বিয়েতে।

বিয়ের দিন সকালে নিশাত ঠিক করে নেয় সেখানে গিয়ে পালিয়ে যাবে।অন্য কাউকে নিজের জীবন সঙ্গী হিসেবে কিছুতেই মানবে না।

বিয়ে সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

বর্তমান

অতীতের কথা ভেবে চোখের পানি মুছতেই কারোর চিৎকারে কেপে উঠে।

আরহান চিৎকার করে বলে

_” ওখানেই কি দাড়িয়ে থাকবি? ইচ্ছা করছে এক্ষুনি মেরে ফেলেতে শুধু আমার বেবির জন্য কিছু বলতে পারছি না।৫মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে না আসলে আজ ভয়ানক কিছু হয়ে যাবে

আরহানের কথা যেনো নিশাতের কাছে বিষের মত লাগছে।নিশাত রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই
আরহান বলে

_” আমাকে কি রেডি করিয়ে দিতে হবে ?(চোখ লাল করে)

নিশাত রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ফ্রেশ হতে যায়।

ফ্রেশ হয়ে নিশাত বসে আছে।আরহান একবার ডেকে গেছে কিন্ত নিশাতের কোনো হেলদোল নেই।

আরহান অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাকতে এসে নিশাত কে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়।

নিশাত অন্তঃসত্বা না হলে এতক্ষণে নিশাতকে চর দিতে একবারও ভাবতো না। আরহান নিজের রাগ কন্ট্রোল করে নিশাতের কাছে গিয়ে বলে

_” চলো খেতে চলো

নিশাত কোনো কথা বলে না।আরহান রেগে ফুলদানি আছার মারে ।নিশাত কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।

কিছু না বলে ঘাট থেকে নেমে বাইরে যায়। আরহান নিজেকে ঠিক করে নিচে এসে দেখে নিশাত নেই ।

আরহান ভাবছে হয়তো ভয়ে খাবার খেতে আসবে কিন্ত আরহান তো ভুলে গেছে নিশাত is নিশাত।

আরহান ভালো করে খুঁজে দেখে নিশাত অন্য একটা রুমে দরজা লাগিয়ে বসে আছে ।

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here