উপন্যাসের শেষ পাতায় তুমি পর্ব -০২+৩

#উপন্যাসের_শেষ_পাতায়_তুমি
#Writer_Tanisha_Akter_Tisha
#Part_2+3

কপি নিষিদ্ধ ❌

এখান থেকে যাওয়ার পর ওরা ওদের জন্মদিন এখানে এসে সবার সাথে পালন করে।

In London.

ডেনিম হাত জোড় করে ডক্টর ওসমানকে বলেন,
প্লিজ ডক্টর আমার মা কে বাঁচান।

ওসমান চিন্তিত হয়ে বলে,
অপারেশন টা খুবই কমপ্লিকেটেড,আমরা আপনার মাকে বাঁ’চানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো,বাকিটা আল্লাহর হাতে।

ডেনিম উওরে ছোট করে “হুম” বলে।

ডক্টর ওমর ওসমানের কাছে এসে বলে,
ভাই ওটি রেডি চলো।

হুম চলো।

ওরা অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলো।

দীর্ঘ ২ ঘন্টা পর ডক্টররা বের হলো।

ডক্টর আমার মা?

ওসমান ডেনিমের কাধে হাত রেখে বলে,
অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে,আপনার মা এখন বি’প’দমুক্ত।

আমি কি এখন মায়ের সাথে দেখা করতে পারবো?

এখন না,ওনাকে এখন কেবিনে শিফ্ট করা হবে জ্ঞান ফিরলে দেখা করতে পারবেন।

আপনাদের কে যে কিভাবে ধন্যবাদ দিব।

ওমর উওরে মুচকি হেসে বলে,
এটা আমাদের ডিউটি ছিল,ধন্যবাদ দেওয়া লাগবেনা।

[ ওসমান খান। ডক্টর ওয়াহিদ খান ও অবান্তিকা ইসলামের বড় ছেলে।ওসমান খুবই সুর্দশন যুবক।দেখতে তুর্ক্সি হিরোদের মতো, ফর্সা গায়ের রং, লম্বা ৫ ফুট ১১,জীম করা বর্ডি,গালে খোঁচা খোঁচা চাপদাড়ি,সিল্কি চুলগুলো অলওয়েজ সেট করে রাখে।পেশায় ডক্টর, ওসমান যেই অপারেশন করে সেটাতেই সাকসেসফুল হয়,এখনো অব্দি কোনো অপারেশনে র্ব্যথ হয়নি।ওসমান খুবই রা’গি ও গম্ভীর প্রকৃতির।]

[ ওমর খান।ওসমানের ছোট ভাই,ওরা দেড় বছরের ছোট বড়।ওমর ওসমানকে অনেক ভালোবাসে ও সম্মান করে।ওমরও দেখতে কোনো অংশে কম নয়,
ফর্সা গায়ের রং,লম্বা ৫ ফুট সারে ১০, জীম করা বর্ডি,গালে খোঁচা খোঁচা চাপদাড়ি। পেশায় ডক্টর। স্বভাবের দিক থেকে ওসমানের ঠিক উল্টো,ওমর হাসিখুশি, শান্ত ও মিশুক।]

ওমর ওসমানকে উদ্দেশ্যে করে বলে,
ভাইয়া জার্নালিস্টরা এসেছে আমাদের ইন্টারভিউ নিতে।

উওরে ওসমান রা’গি কন্ঠে বলে,
জাস্ট এই একটা জিনিসই আমার পছন্দ না,কোনো অপারেশন সাকসেসফুল হলেই ওরা চলে আসে।

কি করবো বলো এগুলো তো সবারই ফেস করতে হয়।

হুম চল।

হুম।

ওরা খুব স্বাভাবিক ভাবে ইন্টারভিউ দিল।ইন্টারভিউ শেষে বাসায় চলে যায়।

________________________________________________

In BD.

কীরে আয়েশা আর কতোখন ঘুমাবি তুই?

উফফ কি হয়েছে তিশা ডাকছিস কেনো ঘুমাতে দে তো।

ডাকছি কেনো মানে কি আজকে যে মিটিং আছে তা কি ভুলে গেছিস?

ওহ নো একদম ভুলে গিয়েছিলাম।

তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হ নাহলে দেরি হয়ে যাবে।

বলে চলে যেতে নিলেই,
আয়েশা জড়িয়ে ধরে বলে,
তুই না থাকলে যে আমার কি হতো,তুই কতো সুন্দর করে সবকিছু মেনেজ করে নিস,আমাকেও আগলে রাখিস,লাভ ইউ ইয়ার।

হয়েছে হয়েছে আর ইমোশনাল হতে হবে না,যা রেডি হ।

ওকে ডার্লিং,তুই ১০ মিনিট ওয়েট কর আমি ২০ মিনিটে আসছি।

বলে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তিশা মুচকি হেসে বলে,
পাগলি।

ওরা রেডি হয়ে নাস্তা করে অফিসে চলে গেল।মিটিং খুব ভালো ভাবে সম্পূর্ণ করলো,ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে আসল।

________________________________________________

In London.

ওমর চল রাউন্ডে যেতে হবে ।

ভাইয়া বাবা কল করেছিল,কথা বলতে চাচ্ছে।

এখন তো কথা বলা যাবেনা,১ ঘন্টা পর ওটি তে যেতে হবে, বাবাকে বল বাসায় যেয়ে ভিডিও কল দিব।

আচ্ছা।

ওরা ডিউটি শেষ করে বাসায় চলে গেল।

ওসমান : কেমন আছো বাবা?

ওয়াহিদ : আলহামদুলিল্লাহ ভালো,তুমি কেমন আছো?

ওসমান : আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

ওয়াহিদ : ছোট আব্বাজান কোথায়?

ওমর : এইতো আমি,মামনি কোথায়?

ওয়াহিদ : তোমার মামনি রান্না করছে।

ওসমান : বাবা তোমাকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?

ওমর : কি হয়েছে বাবা?

ওয়াহিদ : আমার তোমাদের হেল্প লাগবে,তোমাদের দেশে আসতে হবে।

ওসমান ও ওমর : কেন বাবা।

ওয়াহিদ : আমার হসপিটালে একজন পেশেন্টের অবস্থা খুবই খারাপ,খুব দ্রুত অপারেশন করতে হবে,অপারেশনটা খুব কমপ্লিকেটেড,দুজন দক্ষ ডক্টর লাগবে।তাই তোমাদেরকে আমার প্রয়োজন।

ওসমান : কবে আসতে হবে?

ওয়াহিদ : পারলে আজকে রাতের ফ্লাইটে চলে আসো।

ওসমান : ঠিক আছে আসছি আমরা,তুমি চিন্তা করো না।

ওয়াহিদ : আচ্ছা,ভালো থেকো তোমরা।

ওসমান ও ওমর : হুম তুমিও।

ওয়াহিদ কল কেটে দিল।

ভাইয়া সত্যিই কি তুমি ওই দেশে আবার ফিরে যেতে চাচ্ছ।

হুম,[গম্ভীর ভাবে]।

কিন্তু যার জন্য বাবা মামনি কে ছেড়ে এতোদূরে চলে আসলে, তাকে যদি আবার কাছে পাও তখন কি করবে?

একটা মানুষের জীবনের ব্যাপার আমাদের তো দেশে যেতেই হবে, আর ওর কথা বলছিস, এখনো পুরনো অনেক হিসাব নিকাস বাকি আছে,যা এবার আমি পূরণ করবো।

শেষে কথাটা বলে বাকা হাসি দিল।

ওসমানের হাসি দেখে ওমরও বাকা হাসি দিল।

ওমর মনে মনে বলে,
খেলা এবার শুরু হবে।

________________________________________________

In BD.

তিশা……. [জোরে চিৎকার দিয়ে ]

হন্তদন্ত হয়ে তিশা দৌড়ে আসলো।

কি হয়েছে চিৎকার দিলি কেন?

দেখ টিভিতে আমার জানেমান ওমরকে দেখাচ্ছে, হায় কি সুন্দর করে ইন্টারভিউ দিচ্ছে,কোনো শাঁ’ক’চু’ন্নির নজর যেন না লাগে, আমিন।

কোমড়ে হাত দিয়ে রা’গি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিশা।

কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন আমার সাথে আমিন বল।

ধাম করে আয়েশার পিঠে কিল পরলো।

আহ,মারছিস কেন?

তোকে না উল্টো করে পেটানো উচিত,বে’দ্দ’প মাইয়া এতো জোরে চিৎকার দিয়েছিস,তুই জানিস আমি কতো ভয় পেয়েছিলাম আরেকটু হলেতো আমি হার্ট অ্যা’টাক করতাম।

হার্ট অ্যা’টাক তো আমি করেছি আমার জানেমান কে দেখে।

তুই এভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে বেচারাকে নজর লাগিয়ে দিচ্ছিস।

আমার জানেমান কে তো আমিই নজর লাগাবো।

হাত ভাজ করে তিশা বললো,
তা এবার কি করেছে আপনার জানেমান যার জন্য চিৎকার দিলেন।

দেখ টিভিতে দেখাচ্ছে ডক্টর ওসমান ও ওমর সহ বাকি ডক্টর রা অনেক কমপ্লিকেটেড অপারেশনে সাকসেসফুল হয়েছে।

তাই নাকি?

ওরা টিভিতে ওসমান ও ওমরের ইন্টারভিউ টা দেখছে।

তিশা খুশি হয়ে বলে,
যাক অবশেষে লোকটা তার মাকে ফিরে পেল।

হুম,হায় আমি তো আমার ওমরের থেকে চোখই সরাতে পারছিনা।

কতোক্ষন থেকে ওমরের প্রশংসা শুরু করেছিস এবারতো থাম বোইন।

আচ্ছা আমি ওমরকে দেখি তুই নাহয় ডক্টর ওসমান কে দেখ।

আমি কেন ওনাকে দেখতে যাব,আমিকি তোর মতো লুচি পরোটা নাকি,হুহ।

এই তুই কি কা’না নাকি নিরামিষ?এতো সুর্দশন একটা ছেলেকে দেখে এখনো অব্দি ক্রাশ খেলি না।

তুই তোর ওমরের উপর ক্রাশ খা,আমি গেলাম।

আরে তিশা শুন ওই শুন…
যাহ বাবা চলে গেল, এই মেয়ে কি আসলেই কানা নাকি যেখানে ডক্টর ওসমানকে দেখে দিনে হাজারো মেয়ে বাঁশ থুক্কু ক্রাশ খায় সেখানে এই মেয়ে কিনা দেখেও দেখেনা।সে যাকগে।
গালে হাত দিয়ে,
ওরে আমার ওমররে কবে তুমি আমার কাছে আসবে, কবেযে তোমার দেখা পাবো আল্লাহ ই জানে।

অপরদিকে,

ওসমান এবং ওমর এয়ারপোর্টে ওয়াহিদ খানের জন্য অপেক্ষা করছে,ওদের পেছনে ৪ বর্ডিগার্ড দারিয়ে আছে।

কিছুক্ষন পর,

#উপন্যাসের_শেষ_পাতায়_তুমি
#Writer_Tanisha_Akter_Tisha
#Part_3

কপি নিষিদ্ধ ❌

কিছুক্ষন পর,

ওয়াহিদ : ওয়েলকাম আব্বজানরা আমার।

ওরা ওয়াহিদকে জড়িয়ে ধরলো।

ওয়াহিদ: চলো তোমাদের মামনি অপেক্ষা করছে।

ওসমান ও ওমর : হুম চলো বাবা।

ওরা বাসায় পৌঁছে গেল।

বাসায় প্রবেশ করে,

ওমর : মামনি।

অবান্তিকা ইসলাম ওদের জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো।

ওমর : আহ মামনি কাদছো কেন, আমরাতো চলে এসেছি আর কান্না করো না প্লিজ।

ওসমান গম্ভীর ভাবে দাঁড়িয়ে আছে কোনো প্রকার কথা বলছেনা।

অবান্তিকার কান্না কিছুটা কমলো,নিজেকে সামলিয়ে বললো,
তোমাদের ছাড়া কীভাবে এত গুলো বছর কাটিয়েছি তা শুধু আমি জানি,আমার খুব কষ্ট হয় তোমাদের ছাড়া থাকতে, বলো আমাকে ছেড়ে আর যাবে না।

ওমর : আচ্ছা যাব না তুমি আর কান্না করোনা মামনি।

অবান্তিকা : ওসমান বাবা কেমন.

অবান্তিকার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই,
ওসমান : বাবা আমি রুমে গেলাম।
ওসমান দ্রুত পায়ে রুমে চলে গেল।

অবান্তিকা : দেখলে ও আমার সাথে কথা বললোনা।

ওয়াহিদ : তুমি ক্ষ’তটা দিয়েছো খুব গভীরভাবে তাই সারতে সময় লাগবে।

ওমর : মামনি চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে।

অবান্তিকা : তাই যেন হয় বাবা।

অবান্তিকার মন খারাপ হয়ে গেল।

ডাইনিং টেবিলে,

ওমর : ইয়াম মামনি তোর রান্নাটা জাস্ট ফাটাফাটি লন্ডনে তোমার হাতের রান্না অনেক মিস করেছি।

অবান্তিকা : শুধু রান্না মিস করেছো মামনিকে না?

ওমর : বলে বুঝাতে পারবোনা তোমাদের কতো মিস করেছি।

ওসমান এবারও কথা বলছেনা,চুপচাপ খাবার খাচ্ছে।

অবান্তিকা : বাবা খাবার ভালো হয়নি?

ওসমান : হুম, আমার খাওয়া শেষ আমি উঠলাম।

ওসমান উঠে চলে গেল।

অবান্তিকা : আমার একটা ভুলের জন্য ও আর কতোদিন আমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখবে।

ওয়াহিদ : কি করবে বলো ভুল যখন করেছো তখনতো মাশুল দিতেই হবে।

ওমর : মামনি সব ঠিক হয়ে যাবে।

ভাইয়া আবার আগের মতো হয়ে যাবে,একটু ধৈর্য্য ধরো।

অবান্তিকা : হুম।

অবান্তিকা : [মনে মনে] আল্লাহ তুমি আমার ওসমানকে আগের মতো করে দাও।

ওসমানের রুমে,

মায়ের ছবিতে হাত বুলাচ্ছে আর বলছে,
আমি জানি মামনি তোমার খুব কষ্ট পেয়েছো, আমারও যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,কিন্তু কিছু করার নেই, আমিযে আর আগের ওসমান হতে পারবো না, সরি মামনি।

পরদিন,

In Wahid hospital.

ওয়াহিদ : দ্রুত ওটি রেডি করো,পেশেন্টের অবস্থা খুবই খারাপ,অপারেশন করতে হবে।

নার্স : ওকে ডক্টর।

ওয়াহিদ : ওসমান,ওমর তোমরা রেডি তো?

ওসমান ও ওমর : হ্যাঁ বাবা।

নার্স : স্যার ওটি রেডি।

ওয়াহিদ : লেটস গো।

ডক্টররা ওটিতে চলে গেল।

দীর্ঘ ৩ ঘন্টা পর,

সিফাত : ডক্টর আমার স্ত্রী কেমন আছে?

ওয়াহিদ : এখন কিছু বলতে পারছি না, ২৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে পেশেন্ট কোমায় চলে যাবে।

২৩ ঘন্টা পর,

ওয়াহিদ : আপনার স্ত্রীর জ্ঞান ফিরেছে, কেবিনে সিফ্ট করার পর দেখা করতে পারবেন।

সিফাত : আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ডক্টর।

উওরে ওয়াহিদ মুচকি হাসলো।

In Khan House.

ওসমান : বাবা আমার তোমাদের কিছু বলার আছে।

অবান্তিকা ও ওয়াহিদ : হুম বলো।

ওসমান : আমি কালকে থেকে আমাদের ফার্ম হাউসে থাকব।

ওয়াহিদ : কিন্তু কেন?

ওসমান: এমনই আমার এখানে ভালো লাগছে না তাই।

ওমর : তাহলে আমিও তোমার সাথে থাকবো।

ওয়াহিদ : ঠিক আছে। তুমি কি আর হসপিটালে আসবে না?

ওসমান : হ্যাঁ ঐখান থেকেই হসপিটালে যাব।

ওয়াহিদ : আচ্ছা ঠিক আছে।

ওসমান এবং ওমর ওদের ফার্মহাউসে চলে গেল, এখন ওরা ঐখানে থাকে, ওরা এখান থেকেই হসপিটালে যায়।

আজ সাত দিন হল ওসমান এবং ওমর দেশে আছে।

________________________________________________

আয়েশা তোর কি কিছু হয়েছে?

কই নাতো।

তাহলে অফিস থেকে ছুটি নিলি কেন?

আমি একা আমার না তোরও ছুটি নিয়েছি।
[হাসি দিয়ে বললো]

কিন্তু কেন?

কারণ আজকে আমরা অনেক ঘুরবো আর চিল করবো। [হাসি দিয়ে বললো]

তাই, তাহলে চল আজকে শাড়ি পরে ঘুরতে বের হই।

ওকে তাহলে চল রেডি হই।

আমি রেডি হয়ে আসছি।

তিশা কালো শাড়ি পরেছে, দুহাতে কালো চুড়ি আর কানে ভারি দুল পরেছে,লম্বা চুল গুলো ছেড়ে, দিয়েছে,হালকা মেকাপে পরীর মতো লাগছে।

আয়েশা নীল শাড়ি পরেছে, দু’হাতে নীল চুড়ি আর কানে হালকা দুল পরেছে,আয়েশাও ওর লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দিয়েছে,হালকা মেকাপে অনেক সুন্দর লাগছে।

তিশা হলরুমে দাড়িয়ে আয়েশাকে ডাকতে ডাকতে বলে,
আমি রেডি চল।

আয়েশা দ্রুত নিচে নামতে নামতে বলে,
হুম চল।

ওরা রিক্সায় চড়ে লেকের সামনে গেল,ওরা অনেক ঘুরলো,মজা করলো আর অনেক ছবি তুললো।
তিশা ছবি তুলতে অনেক ভালোবাসে,কোথাও ঘুরতে গেলে ওর ছবি তুলতেই হবে।

এখন সন্ধ্যা তিশা আয়েশা দাঁড়িয়ে আছে মেইন রোডে।

তিশা হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে,
আমি হাটতে হাটতে অনেক টায়ার্ড হয়ে গেছি।তুই একটা সিএনজি ঠিক কর।

কোনো সিএনজি তো যেতে চাচ্ছে না,আমি একটু সামনে যাই তুই দাঁড়া।

আচ্ছা।

আয়েশা সামনে গিয়েছে সিএনজি ঠিক করতে।

তিশা দাড়িয়ে বির’ক্ত হয়ে বলে,
উফফ আল্লাহ এত গরম।

হঠাৎ তিশা দেখলো একটা ৭/৮ বছরের বাচ্চা তার ‘বল’ নেওয়ার জন্য রাস্তার ঐপাশ থেকে রাস্তার মাঝখানে চলে এসেছে,বাচ্চা টার ঠিক পেছনে একটা মালবাহী ট্রাক দ্রুত বেগে আসতেছে।

তিশা আ’ত’ঙ্কি’ত হয়ে বলে,
ওহ নো।

তিশা আর সাত পাঁচ না ভেবে দৌড়ে রাস্তা মাঝখানে চলে এসে বাচ্চাটাকে বুকে জড়িয়ে রাস্তার ওপর পাশে নিয়ে আসলো,কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না দৌড়ে আসার ফলে পায়ের ব্যালেন্স রাখতে না পারায় রাস্তা পাশে পরে যায় এবং তিশার মাথা একটা বড় পাথরের সাথে আ’ঘা’ত লাগে, তিশার মাথা থেকে গলগল করে র’ক্ত বেড় হচ্ছে, তিশার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে,ঝাপসা চোখে দেখলো আয়েশা সহ অনেকে ওর কাছে দৌড়ে আসছে, তিশার আর চোখ খোলা রাখতে পারলো না চোখ বন্ধ হয়ে গেল।

চলবে কি?

[ কেমন লেগেছে কমেন্টে জানাবেন, কোনো প্রকার ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, ধন্যবাদ। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here