উপন্যাসের শেষ পাতায় তুমি পর্ব -০৪+৫

#উপন্যাসের_শেষ_পাতায়_তুমি
#Writer_Tanisha_Akter_Tisha
#Part_4

কপি নিষিদ্ধ ❌

তিশা আর চোখ খুলে রাখতে পারলো না চোখ বন্ধ হয়ে গেল।
আয়েশা দৌড়ে এসে তিশার পাশে বসলো আর তিশার মাথা নিজের কোলে নিয়ে কাঁদতে লাগলো।
কাঁদতে কাঁদতে বললো,
বোন আমার চোখ খুল,কথা বল আমার সাথে, আমাকে ব’কা’ঝ’কা দে,আমার সাথে মা’রা’মা’রি, খু’নসুটি কর,তবুও চুপকরে থাকিস না তিশা,তুই ছাড়া যে আমার কেউ নেই,চোখ খুল প্লিজ।

আয়েশা কাঁদছে আর তিশাকে ডাকছে।

আশেপাশের লোকজন বলাবলি করছে,
“মনে হয় না মেয়ে টা বাঁ’চবে,হুম যেভাবে মাথায় আ’ঘা’ত পেয়েছে বাঁ’চার সম্ভবনা খুব কম,দেখাে কিভাবে মাথা থেকে গলগল করে র’ক্ত বের হচ্ছে, আহারে মেয়েটার কি অবস্থা হল”।
আরও নানারকম কথা বলছে তারা।

তখন বাচ্চাটার বাবা রে’গে সবার উদ্দেশ্যে বলে,
থামুন আপনারা কি সব কথা বলছেন।
আপু আপনি কান্না করবেন না,আমি এম্বুলেন্স পাঠাতে বলেছি তারা ইতোমধ্যে চলে আসবে প্রায় কাছাকাছি আছে।আপনার বোনের কিছু হবে না উনি সুস্থ হয়ে যাবেন।

আয়েশা অঝোরে কান্না করছে।

এম্বুলেন্স আসলো তিশাকে এম্বুলেন্সে উঠানো হল,
আয়েশার সাথে বাচ্চাটার বাবা মা ও যাচ্ছে।

In Wahid Hospital.

তিশাকে স্টের্চারে করে হসপিটালের ভেতরে নেওয়া হল।

আয়েশা ডক্টর ওয়াহিদকে বলে,
ডক্টর আমার বোন কে বাঁ’চান।

উনার মাথা থেকে তো অনেক র’ক্ত বের হচ্ছে,নার্স উনাকে ওটিতে নিয়ে যাও।

তিশাকে ওটি তে নেওয়া হল।

আয়েশা হাত জোড় করে বলে,
প্লিজ ডক্টর আমার বোন কে বাঁ’চান,ও ছাড়া যে আমার কেউ নেই,প্লিজ ডক্টর ওকে বাঁ’চান।

ওয়াহিদ ওকে সান্তনা দিয়ে বলে,
চিন্তা করো না মা,আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো তোমার বোন কে বাঁ’চাতে।

আয়েশা কাঁদছে আর তিশার জন্য দোয়া করছে।

তিশার যেখানে এক্সি’ডেন্ট হয়েছে তার কিছুটা সামনেই ডক্টর ওয়াহিদের হসপিটাল থাকায়, বাচ্চাটার বাবা কল করার সাথে সাথেই এম্বুলেন্স চলে আসে,আজকে সিনিয়র ডক্টরদের মধ্যে শুধু ওয়াহিদ,ওসমান এবং ওমরের ডিউটি ছিল,ওসমান ও ওমররের আসতে লেট হওয়ায় ওয়াহিদ তিশার ট্রিটমেন্ট করছে।

১ ঘন্টা পর,

ওয়াহিদ বেরিয়ে এলো,

আয়েশা ওয়াহিদকে বের হতে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,
ডক্টর তিশা?

পেশেন্টের ইমিডিয়েটলি O+ ব্লা’ড লাগবে।

কিন্তু আমাদের কারো তো ব্লা’ড গ্রুপ O+ না,এখন কি হবে?

আমি দেখছি কি করা যায়।

ওয়াহিদের কিছু মনে পরায় উনি একটু দূরে গিয়ে কাউকে কল করে।

আয়েশা ধপ করে চেয়ারে বসে পরলো,
আল্লাহ আমার বোনটাকে আমার কাছে ফিরে দাও।

ওকে সান্তনা দিতে দিতে বাচ্চাটার মা বলে,
আপু আপনি এভাবে ভে!ঙে পরবেন না,উনি সুস্থ হয়ে যাবে।আপনি শান্ত হন।

কিভাবে শান্ত হব,ও সবসময় আমাকে আগলে রাখে,আমি পারলাম না ওকে আগলে রাখতে।

আয়েশা অঝোরে কাঁদছে,

আপু আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।আল্লাহ আমাদের হতাশ করবে না।

হুম আল্লাহ ভরসা।

ওয়াহিদ ওমরকে কল করে,
হ্যালো ওমর।

হ্যাঁ বাবা বলো।

তুমি এখন কোথায় আছো?

এইতো হসপিটালের খুব কাছে আছি আমি,কেন কিছু হয়েছে নাকি?

হ্যাঁ একজন পেশেন্টর ইমিডিয়েটলি O+ ব্লা’ড লাগবে নাহলে তাকে বাঁ’চানো যাবে না।তোমারও তো ব্লা’ড গ্রুপ O+,তুমি দ্রুত চলে আসো।

ঠিক আছে আসছি আমি।

ওয়াহিদ কল কেটে দেয়।

কি হয়েছে ওমর?

একজন পেশেন্টের ব্লা’ড লাগবে তার আর আমার ব্লা’ড গ্রুপ শেইম হওয়ায় বাবা দ্রুত যেতে বলেছে।

ওসমান উত্তরে ছোট করে “ওহ” বলে।

ওরা হসপিটালে পৌঁছাল,ওসমান নিজের চেম্বারে গিয়ে বসলো আর ওমর গেল ব্লা’ড দিতে,ওমরের থেকে ব্লা’ড নিয়ে তিশাকে দেওয়া হল,তিশার ট্রিটমেন্ট আবার শুরু করা হলো।

আরোও ১ ঘন্টা পর,

ডক্টর তিশার এখন কি অবস্থা?

আলহামদুলিল্লাহ পেশেন্ট এখন বি’প’দমুক্ত,এখন তাকে কেবিনে সিফ্ট করা হবে,কিন্তু কয়েক ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরবে,তুমি চাইলে এখন দেখা করতে পারবে।

ডক্টর আংকেল থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।আংকেল ব্লা’ড কে দিয়েছে?

ওয়েলকাম মা,আমার ছোট ছেলে ডক্টর ওমর খান ব্লা’ড দিয়েছে,যাও পেশেন্টের কাছে যাও।

তিশাকে যেই কেবিনে রাখা হলো আয়েশা দৌড়ে সেই কেবিনে গেল।

_____

ওসমান : সেই পেশেন্টের এখন কি অবস্থা?

ওমর : এখন বি’প’দমুক্ত, মাথার আ’ঘা’তটা সারতে সময় লাগবে।

ওসমান : ও।

ওয়াহিদ : ওসমান।

ওসমান : হ্যাঁ বাবা কিছু বলবে?

ওয়াহিদ : আজকে রাউন্ডে বের হওয়ার সময় ৪০৫ নং কেবিনে যেও।

ওসমান : এটা তো মনে হয় ওই কেবিন যেখানে এক্সি’ডেন্ট করা পেশেন্টকে রাখা হয়েছে?

ওয়াহিদ : হ্যাঁ,তার জ্ঞান ফিরলে আবার চেকআপ করে মেডিসিন দিবে,ওকে?

ওসমান : আচ্ছা বাবা।

ওয়াহিদ : ওমর তুমি বাসায় চলে যাও,ইউ নিড রেস্ট।

ওমর : ওকে বাবা।

ওমর বাসায় চলে গেল।ওসমান তার পেশেন্টদের চেকআপ করে,রাউন্ডে বের হলো,রাউন্ড শেষে গেল ৪০৫ নং কেবিনে।
কেবিনে প্রবেশ করে বেডে তাকানো মাএই ওসমানের বুকটা ধক করে উঠলো,হার্ট খুব দ্রুত বিট করতে লাগল।
এ কাকে দেখছে,যাকে এত গুলো বছর খুঁজে যাচ্ছিল তাকে এই অবস্থায় পাবে কখনো ভাবতেও পারেনি ওসমান।ওসমান অবাক হয়ে বলে,
জানপাখি!

ওসমানের বিশ্বাস হচ্ছে না ও ওর জানপাখি কে এতগুলো বছর পর ফিরে পেয়েছে।

তখনই নার্স কেবিনে প্রবেশ করে।

ওসমান নার্সকে বলে,
নার্স পেশেন্টের রিপোর্টগুলো নিয়ে আসেন।

ওকে স্যার।

নার্স রিপোর্টগুলো নিয়ে এসে ওসমানকে দিল।

ওসমান রিপোর্ট গুলো দেখে বুঝতে পারল,তিশার মাথার ক্ষতটা খুব গভীর,হাতে পায়েও অনেক চোট পেয়েছে। তিশার শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে।

এক্সি’ডেন্ট কোথায় এবং কিভাবে হয়েছিল?

স্যার আমাদের হসপিটাল থেকে কিছুটা দুরে শপিংমলের সামনে এক্সি’ডেন্ট হয়েছিল,মূলত উনি একটা বাচ্চাকে বাঁ’চাতে গিয়ে ছুটে যান।পায়ের ব্যালেন্স রাখতে না পারায় বড় পাথরের সাথে তার মাথায় আ’ঘা’ত লাগে।

ঠিক আছে,আপনি এবার আসতে পারেন।

নার্স চলে গেল।

ওসমান তিশার বেডের পাশে রাখা টুল টায় বসলো।
তিশার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
আমি কখনো ভাবিনি তোমাকে এই অবস্থায় দেখবো,কিন্তু দেখো ভাগ্যের কি লিখন তোমাকে এতগুলো বছর পর পেলাম তাও আবার এই অবস্থায়,তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,তোমাকে আমি খুঁজতে পারিনি বিধায় এগুলো বছর তুমি আমার থেকে দূরে ছিলে,কিন্তু এবার যখন পেয়েছি আর তোমাকে দূরে যেতে দিবনা।নিজের বক্ষ পিঞ্জিরায় আ’টকে রাখবো। ভালোবাসি জানপাখি।
তিশার কপালে আলতো ভাবে ঠোঁট ছোঁয়াল।
ওসমান তিশার ডান হাত ধরে তিশার দিকে একমনে তাকিয়ে আছে,আর তিশা সে তো নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে না সে কিছু শুনতে পেয়েছে নাতো কিছু অনুভব করতে পেরেছে।
ওসমান যখন তিশার দিকে একমনে তাকিয়ে ছিল তখন শুনতে পেল,

“Pehli nazar mein
Kaise jaado kar diya
Tera ban baitha hai
Mera jiya”

ওসমান ওমরের দিকে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে আছে,
হঠাৎ এই গানটা গাওয়ার কারণ কি?আর তুই না বাসায় চলে গিয়েছিলি,তাহলে আবার চলে আসলি কেন?

তুমি যেভাবে একমনে তার দিকে তাকিয়ে ছিলে, আমি তো মনে করে ছিলাম চেকআপ করতে এসে পেশেন্টের প্রেমে পড়ে গেছো,তাইতো গানটা গাইলাম,দেখলে মোমেন্টের সাথে গানটা কিভাবে খাপে খাপ মিলে গেল,হিহি।বাসায় একা একা বোরিং লাগছিল তাই চলে আসলাম।

ওসমান তিশার দিকে তাকিয়ে বলে,
প্রেমে তো আরও আগেই পরেছিলাম।

মানে?

কারণ ও আমার জানপাখি।[মুচকি হেসে বললো]

ওমর অবাক হয়ে বলে,
তার মানে উনিই আমার ভাবি!

হুম,ওকে অবশেষে খুঁজে পেয়েছি। [মুচকি হেসে বললো]

ভাইয়া আমি যে কি খুশি হয়েছি তা তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না,চল ভাবিকে বাসায় নিয়ে যাই।

এখনো সময় হয়নি,স্পর্শকে (বর্ডিগার্ড) বল ওর সম্পূর্ণ বায় ডাটা আজকে রাতের মধ্যে আমাকে দিতে।

আচ্ছা বলছি,আমি গেলাম,তুমি ভাবির সাথে থাকো।

হুম।

ওমর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।

যাক অবশেষে ভাইয়া ভাবিকে ফিরে পেল।এতো গুলো বছর ভাইয়া অনেক কষ্ট পেয়েছে,ভাইয়াকে আর কষ্ট পেতে দেখতে হবেনা।

ওমর অন্যমনস্ক হয়ে হাটার ফলে সামনের ব্যাক্তির সাথে স্ব জোরে ধা’ক্কা খেয়ে তাকে সহ ফ্লোরে পরে গেল।
#উপন্যাসের_শেষ_পাতায়_তুমি
#Writer_Tanisha_Akter_Tisha
#Part_5

কপি নিষিদ্ধ ❌

ওমর অন্যমনস্ক হয়ে হাটার ফলে সামনের ব্যাক্তির সাথে স্ব জোরে ধাক্কা খেয়ে তাকে সহ ফ্লোরে পরে গেল।

আয়েশা আ’র্ত’নাদ করে বলে,
আহ আল্লাহ আমার কোমড় টার ১৩টা বেজে গেল,এই আপনি উঠুন আমার উপর থেকে।

ওমর দ্রুত আয়েশার উপর থেকে উঠে পরে।

সরি সরি,আমি অন্যমনস্ক থাকায় আপনার সাথে ধাক্কা লেগে গেল,আপনি আমার হাত ধরে উঠুন।

ওমর হাত বারিয়ে দিল।

আয়েশা হাত ধরবে কি,ও তো ওমরকে দেখে হা করে তাকিয়ে আছে।

হ্যালো,এইযে শুনতে পাচ্ছেন, এইযে…..

লাস্টের কথাটা জোরে বলায় আয়েশার ঘোর কাটে, এতেক্ষন ওমরের ভাবনায় মগ্ন ছিল।

আয়েশা তুতলিয়ে বলে,
জ্বি।

আমার হাতটা ধরে উঠুন,আর কতোক্ষন নিচে বসে থাকবেন।

আয়েশা ওমরের হাত ধরে ফ্লোর থেকে উঠে পরে।

ওমর আয়েশার দিকে একমনে তাকিয়ে আছে, এতক্ষণ আয়েশে মুখের উপর চুল থাকার কারণে আয়েশার চেহারা স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়নি,দারানোর ফলে মুখের উপর থেকে চুল গুলো সরে গিয়ে চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

ওমর মনে মনে,
ওয়াও মেয়েটা তো খুব সুন্দর।

থ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর ওমর আমার বোনকে ব্লা’ড দেওয়ার জন্য। [মুচকি হেসে]

ভাবি মানে উনি আপনার বোন![অবাক হয়ে ]

জ্বি।

ওমর মনে মনে,
তার মানে ইনি আমার বেয়াইন সাহেবা।

আয়েশা মনে মনে,
উনি তিশাকে ভাবি বললো কেন?ওকে যা ইচ্ছে বলুক,আমাকে বউ বললেই হবে।

আচ্ছা ডক্টর ভালো থাকবেন,আল্লাহ হাফেজ।

আয়েশা চলে যেতে নিলেই,

এক্সকিউজ মি মিস,আপনার নামটা জানতে পারি?

আয়েশা পেছনে ঘুরে বললো,
আমার নাম আয়েশা সিদ্দিকা।
বলে মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল।

ওমর বুকে হাত দিয়ে,
আয়েশা,হায় হাসি টা কি মারাত্মক সুন্দর,আমি যে তোমার প্রেমের জা’লে ফেঁ’সে গেলাম।এখন তো তোমাকেই আমার লাগবে।

“Pehli nazar mein
Kaise jaado kar diya
Tera ban baitha hai
Mera jiya”

ওমর গুণ গুণ করে গান গাইতে গাইতে চলে গেল।

রাত ২ টা,

তিশা আস্তে আস্তে চোখ খুলে বুঝতে পারলো ও হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে।হাতে টান পরায় বুঝতে পারল হাতে ক্যানল লাগানো।পাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো আয়েশা চেয়ারে হেলান দিয়ে ওর হাত ধরে ঘুমিয়ে আছে।তিশার উঠতে চেষ্টা করে তখন হাতে টান পরে আর আয়েশার ঘুম ভে!ঙে যায়। আয়েশা তিশার দিকে তাকিয়ে ওকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।

আহা আয়েশা কাঁদছিস কেন?আমি কি ম’রে গেছি নাকি।

কান্নারত অবস্থায়,
প্লিজ ম’রার কথা বলিস না।তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।

আয়েশা অঝোরে কাঁদছে,আয়েশার কান্না দেখে তিশাও কাঁদছে।

তিশার সামনে কেউ কান্না করলে তিশা নিজের কান্না আটকে রাখতে পারেনা।

ওরা কান্না করছিল,এমন সময় নার্স কেবিনে প্রবেশ করে।

নার্স তিশা কাঁদতে দেখে বলে,
আরে আপনি কাঁদছেন কেন?এভাবে কাঁদলে তো আপনার মাথা ব্যাথা করবে।

আয়েশা নিজের চোখের পানি মুছে ফেললো।

তিশা অনুভব করলো ওর মাথায় অসহনীয় য’ন্ত্র’ণা হচ্ছে,ব্যাথায় তিশার চোখ মুখ কুচকে গেল।

কি হয়েছে তিশা তোকে এমন লাগছে কেন?

হালকা হাসার চেষ্টা করে,
কই কিছু হয়নি,তুই কি কিছু খেয়েছিস?তোর চোখ মুখ শুকনো লাগছে।

হ্যাঁ খেয়েছি।

একদম মিথ্যা বলবি না,আমি জানি তুই কিছুই খাসনি।

তোর এই অবস্থা দেখে যে আমার গলা দিয়ে খাবার নামবেনা।

নার্স বলেন,
আপনাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি,আপনারা খেয়ে নিন।

তিশা নার্সকে প্রশ্ন করে,
খাবার কে পাঠিয়েছে?

আমিই নিয়ে এসেছি,আসলে এই আপুটা না খেয়ে ছিল তাই খাবার নিয়ে আসলাম।

তিশা কিছু একটা ভেবে আয়েশাকে খাবারটা নিতে বললো।

নার্স কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।

আয়েশা নিজে খাচ্ছে এবং তিশাকে খাইয়ে দিচ্ছে।

আর এই সব কিছু ওসমান তার রুমে বসে ল্যাপটপে দেখছে।খাবারও ওসমানই নার্সকে দিয়ে পাঠিয়েছে।

ওসমান যখন তিশাকে দেখছিল তখন দরজায় কেউ নক করে।

ওসমান ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলে,
কে?

স্যার আমি স্পর্শ।

ভেতরে আসো।

স্পর্শ ভেতর প্রবেশ করলো।

স্যার এই ফাইলে ম্যামের সম্পূর্ণ বায় ডাটা দেওয়া আছে।

ওসমান স্পর্শের থেকে ফাইলটা নিল।

এবার তুমি আসতে পারো।

স্পর্শ রুম ত্যাগ করল।

ওমরের রুমে,,

ওমর বুকে বালিশ জড়িয়ে ধরে অানমনে বলছে,
আয়েশা তোমার কথা ভেবে তো আমার ঘুমই আসছেনা। কি জা’দু করলে আমার ওপর আমি চোখ বন্ধ করলেও তোমাকে দেখি,ডানে তোমাকে দেখি,বামেও তোমাকে দেখি।ফার্স্ট টাইম আমি কারো উপর ক্রাশ খেলাম।তুমি আমার এতবছরের রেকর্ড ব্রেক করে দিলে।তোমার ওই হাসি প্রেমে পরে আমি ফেঁ’সে গেলাম।
ওমর চোখ বন্ধ করে তখনকার মুহূর্ত গুলো অনুভব করলো।
চোখ খুলে,
ভাইয়ার কাছে যাই,ভাইয়ার থেকে হেল্প নিতে হবে।

ওমর ওসমানের রুমের দিকে গেল।

ওসমান যখন তিশার বায় ডাটা দেখছিল তখন ওমর দরজায় নক করলো।

কাম ইন।

ওমর ভেতরে প্রবেশ করল।

ভাইয়া তোমাকে কিছু বলার ছিলো।

এই ফাইলে আয়েশার সম্পূর্ণ বায় ডাটা দেওয়া আছে।
বলে একটা নীল রঙের ফাইল টেবিলে রেখে আবারও তিশার বায় ডাটা দেখতে লাগল।

ওমর অবাক হয়ে বলে,
ভাইয়া তুমি কিভাবে বুঝ..

ওর কথা সম্পূণ হওয়ার পূর্বে ওসমান বলে,
তুই যে আমার শালি সাহেবার প্রেমে পরেছিস তা আমি জানি।এখন ওকে ইম্প্রেস কিভাবে করবি তা ভাব।

ওমর মাথা চুলকিয়ে বলে,
তুমিযে কিভাবে সব কিছু বুঝে যাও।

ওসমান মুচকি হাসলো।
আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে।

ওমর ওসমানকে প্রশ্ন করে,
কি প্ল্যান?

আমরা প্রথমে ওদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবো তার পর নাহল ওদের মনের কথা বলবো।

গ্রেট প্ল্যান।বাট ফ্রেন্ডশিপ করবো কিভাবে?

জানপাখির সুস্থ হতে সময় লাগবে,তো ওরাতো হসপিটালেই থাকবে,আর আমিই তো জানপাখির চেকআপ করবো তো তখন আস্তে আস্তে ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করবো,আর জানপাখি যখন হসপিটালে থাকবে তখন তো আয়েশাও হসপিটালে থাকবে তুই তখন ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করবি।

হুম গুড আইডিয়া।

যদিও ওদের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে হলে অনেক কাঠ খড় পুরোতে হবে।বাট খানদের কাছে এগুলো কোনো ব্যাপার না।কি বলিস?

ইয়েস,বাট ভাইয়া তুমি তোমার রা’গি রুপটা ভাবির সামনে দেখিও না,নাহলে ভাবি তোমার সাথে ভয়ে কথাই বলবেনা,ফ্রেন্ডশীপ করাতো দূরে থাক।

হুম রা’গ কন্ট্রোল করার ট্রায় করবো।

আচ্ছা আমি যাই তুমি ঘুমিয়ে পরো।

হুম।

ওমর তার রুমে চলে গেল।

ওসমান তিশার ছবি বুকে জড়িয়ে রকিং চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে তিশার কথা ভাবতে লাগলো।

In Wahid Hospital.

তিশা বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে,আর আয়েশা বেডে তিশার পায়ের কাছে বসে কথা বলছে,
আয়েশা খুশি হয়ে তিশাকে বলে,
জানু আজকে একটা ঘটনা ঘটেছে।

কি ঘটনা ঘটেছে ?

লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে,
আমি যখন তোর কেবিনের দিকে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই আমার জানেমানও বের হয় আমরা কেউ কাউকে দেখিনি তাই স্ব জোরে ধা’ক্কা খেয়ে নিচে পরে যাই।

তিশা চিন্তিত হয়ে বলে,
তোর কোথাও ব্যাথা লেগেছে?

হুম কোমড়ে একটু পেয়েছিলাম এখন ঠিক আছে।

ওহ।

আমার জানেমানের কাছে আমি ঋণী হয়ে গেলাম।

কেন?

কারণ সে যে আমার আরেক জানকে বাঁ’চিয়েছে।[মুচকি হেসে বলল ]

মানে?

উনি তোকে র’ক্ত দিয়েছে,তোর ইমিডিয়েটলি র’ক্তের প্রয়োজন ছিল,তখন র’ক্ত না পেলে তোকে বাঁ’চানো যেতনা।

তাহলে তো উনাকে থ্যাঙ্ক ইউ বলতে হবে।

তোর আর বলতে হবে না আমি বলে দিয়েছি।

বস আমার ব্যাপারে জানে?

হুম,উনি তোকে সুস্থ না হওয়া অব্দি অফিসে যেতে মানা করেছেন,উনি তো আমাদের সম্পর্কে জানে তাই আমাকেও সাত দিনের জন্য ছুটি দিয়েছে।

যাক এক্সি’ডেন্ট করে একটা জিনিস ভালো হয়েছে এই কয়েকদিন আরামসে কাটাতে পারবো।[ হাসি দিয়ে বললো]

আচ্ছা অনেক কথা হয়েছে এবার তুই ঘুমা আমি তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।

তুই কোথায় ঘুমাবি?

কেন এইযে এই সিঙ্গেল সোফায়।

তিশা মন খারাপ করে বলে,
আমার জন্য তোর কত কষ্ট হচ্ছে।

উফফ ঘুমাতো তুই।

আয়েশা তিশার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,তিশাও আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পরলো।আয়েশাও সোফায় যেয়ে শুয়ে পরলো।

পরদিন সকালে,

আয়েশা তিশাকে নাস্তা খাইয়ে দিচ্ছে।

আয়েশা বলে,
আজকে হৃদিকা দেখা করতে আসবে।

ওহ,কখন আসবে?

বললো তো দুপুরের পর আসবে।

আচ্ছা।

নাস্তা করে আয়েশা বাসায় যেয়ে গোসল করে আবার চলে এসেছে। নার্স এসে তিশার ক্ষ’তে ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।

আয়েশা কেবিনে এসে তিশাকে বলে,
পাঁচ মিনিট পর ডক্টর এসে চেকআপ করে মেডিসিন দিবে।

আচ্ছা।

পাঁচ মিনিট পর,
ডক্টর কেবিনে প্রবেশ করলো,

মিস তিশা।

নিজের নাম শুনে তিশা সামনে দিকে তাকিয়ে দেখে ওসমান পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তিশা মনে মনে,
তার মানে ডক্টর ওসমান খান আর ট্রিটমেন্ট করবে।

মিস তিশা।

জ্বি।

আপনার এখন কেমন লাগছে?

মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা করছে,হাত পা নাড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।

মাথায় আ’ঘা’তটা সারতে সময় লাগলেও হাতে পায়ের ক্ষ’ত দ্রুত সেরে যাবে।আমি কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি সেগুলো সময় মতো খাবেন,আর কিছু টেস্ট দিচ্ছি তা করাতে হবে।

ওকে ডক্টর।

টেস্ট করাতে আমি আপনাকে নিয়ে যাব।

ডক্টর আপনাকে শুধু শুধু কষ্ট করতে হবে না। আমরা করে নিতে পারবো।

এখানে কষ্টের কিছু নেই, এটা আমার ডিউটি।
ওসমান মনে মনে,
তোমার কাছে কাছে না থাকলে ফ্রেন্ডশীপ করবো কিভাবে।

ডক্টর টেস্ট করাতে কখন যেতে হবে?

আধা ঘণ্টা পর,আমি আপনাকে নিয়ে যাব।

ঠিক আছে।

ওসমান এবং নার্স কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।

আয়েশা : দেখেছিস ডক্টর ওসমান তোর দিকে কিভাবে তাকিয়ে ছিল।

তিশা : ভালোভাবেই তাকিয়ে ছিল উল্টাপাল্টা কিছু মিন করবি না।

আয়েশা : আরে আমি বুঝাতে চাইলাম উনি হয়তো তোকে দেখে ক্রাশ খেয়েছেন, নাহলে কোনো ডক্টর কি পেশেন্টদের নিজে টেস্ট করাতে নিয়ে যায় নাকি।

তিশা : ফালতু কথা যতসব, আমি লাগে বিশ্ব সুন্দরী, যে সবাই আমার উপর ক্রাশ খাবে।উনি হয়তো মনে করেছেন আমাকে নিয়ে তুই যেতে পারবি না তাই উনি বলছেন আমাকে নিয়ে যাবে।

আয়েশা : শুন ডক্টর ওসমান তোর প্রেমেও পরবে তুই আমার কথা মিলিয়ে নিস হুহ।

হৃদিকা : কি কথা মিলিয়ে নিবে?

তিশা ও আয়েশা সামনে তাকিয়ে দেখে হৃদিকা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

তিশা : কিছু না হৃদিকা আসো এখানে এসে বসো।

হৃদিকা তিশার বেডের পাশে রাখা টুল টায় বসলো।

হৃদিকা : এখন কেমন আছো তিশা?

তিশা : এখন একটু ভালো লাগছে।

হৃদিকা : তুমি তো অফিসে যেতে পারবে না, আর তোমাকে কথাটা না বলে থাকতেও পারছি না।

তিশা : কি বলবে, সিরিয়াস কিছু?

হৃদিকা : আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

আয়েশা : এটাতো খুশির খবর তোমার মন খারাপ কেনো?

তিশা : কি হয়েছে হৃদিকা?

হৃদিকা কান্না করতে লাগল , কান্নারত অবস্থায়

হৃদিকা : আমি যে শোভনকে ভুলতে পারছি না, আমি কিভাবে অন্যকাউকে বিয়ে করবাে।

তিশা : কান্না করোনা হৃদিকা,শোনো আমার কথা।

হৃদিকা কান্না করছে।

তিশা : কান্না বন্ধ কর আর শোনাে আমার কথা।

হৃদিকার কান্না কিছু টা কমলো,

তিশা : তুমি ব্রেকআপ করেছিলে নাকি শোভন?

হৃদিকা : শোভন।

তিশা : তাহলে তুমি কেনো কাঁদছো,সে তোমার জন্য ভালো ছিল না বিধায় সে তোমার হয়নি, আল্লাহ যা করেন বান্দার ভালোর জন্য করেন, হয়তো তোমার হবু বর ভাগ্যে ছিল তাই উনার সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে।

হৃদিকা : কিন্তু আমি তো শোভনকে ভালোবাসি আমি কিভাবে তাকে বিয়ে করবো।

তিশা : ভালোবাসা যে একবার হয় তা কিন্তু নয়,দেখবে উনার ভালোবাসা তোমাকে শোভনের ভালো বাসো ভুলিয়ে দিবে।মুভ অন করো দেখবে জীবন সুন্দর হয়ে যাবে।

হৃদিকা: হুম চেষ্টা করবো।

আয়েশা : আচ্ছা কান্নাকাটি বন্ধ, চলো আমরা আড্ডা মারি।

হৃদিকা,তিশা,আয়েশা ওরা একেক কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে,ওরা কিছুক্ষন আড্ডা দিল,হৃদিকা চলে গেল।

কিছুক্ষন পর,

ওসমান কেবিনে প্রবেশ করে দেখে তিশা চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে আছে।ওসমান তিশার বেডের সামনে যাওয়া মাএই তিশা চোখ খুলে ওসমানের দিকে তাকলো।

মিস তিশা চলুন টেস্ট করাতে যেতে হবে।

জ্বি।

তিশা আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াতে যেয়ে পায়ে ভর না পাওয়ায় পরে যেতে নিলেই ওসমান ধরে ফেলে, তিশা ছিটকে সরে যেতে নিলেই আবারও ওসমানের বুকের ওপর পরে।

ওসমান মনে মনে,
তুমি চাচ্ছো আমার থেকে দূরে যেতে কিন্তু দেখো তুমি আমার বুকেই আছো।আর সারাজীবন এখানেই থাকবে।

ওসমান আস্তে করে তিশাকে দাঁড় করায়,তারপর হুইলচেয়ারে বসিয়ে দেয়।

সরি আমি পায়ে ভর পাচ্ছিলামনা তাই পরে গিয়েছি।

ইট’স ওকে।

তিশা মনে মনে,
ইসস আর জায়গা পেলাম না সব রেখে ওনার উপরই পরতে হল,এরচেয়ে ফ্লোরে পরলে ভালো হতো অন্তত তার সামনে লজ্জায় পরতে হতনা,ধ্যাত তেরিকি।

ওসমান তিশার কয়েকটা টেস্ট করালো,রিপোর্ট কাল দিবে,ওসমান আবারও তিশাকে কেবিনে দিয়ে এসে বেডে বসতে সাহায্য করল।তিশাকে মেডিসিন দিয়ে চলে গেল।

আয়েশা হসপিটাল ভেতরে প্রবেশ করে তিশার কেবিনে যাওয়া জন্য লিফটের কাছে যেয়ে লিফটের দরজা খোলার জন্য বাটনে চাপ দেয়,লিফটের দরজা খুলে গেল,আয়েশা সামনে তাকাতেই দেখতে পেল,

চলবে কি?

[

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here