ক্যাসিনো পর্ব -২৫

#ক্যাসিনো ©লেখিকা_(মায়া)
#পর্ব_২৫

মেহমেত নাম টা শুনতেই নিশানের বুকের ভিতর টা ছ্যাত করে উঠে। অবাক চাহুনি তে চেয়ে রইল শাহানার দিকে কিছু ক্ষন। তার পর ধীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে ,”মেহমেত”???

মুচকি হেসে শাহানা বলে হুমম মেহমেত। ও অনেক ভালো , আমার এতো এতো কেয়ার করে, আমার অসময়ে সব সময় তাকে পাশে পেয়েছি, কোন কারণ ছাড়াই আমাকে আগলে রেখেছে। ওর মত লাইফ পার্টনার পাওয়া আমার কাছে ভাগের বিষয় হবে।
শাহানার কথা গুলো তে নিশানের ভিতর টা দুমরে মুচরে যাচ্ছে। কেন হচ্ছে তার এমন?? সে তো চাইতো নিজের অনুভূতি দমন করতে শাহানার ছোট ছোট যত্নে গড়ে উঠা সেই নাম না অনুভূতি কে মেরে ফেলতে। নিশান বুঝে উঠতে পারছে না তার কি কষ্ট পাওয়া উচিত ?? কেন?? সে তো চাইতো না শাহানার ভিতরেও কখনো তার জন্য কোন অনুভূতি কাজ করুক। আচ্ছা শাহানা যদি তাকে পছন্দ না করে তাহলে এমন যত্ন প্রাধান্য কেন তাকে নিয়েছিল?? সবই কি বন্ধুত্বের খাতিরে?? হয়তো তাই মেয়েটার মন টা অনেক ভালো দেখেই তার মত হাঁদারাম কে বন্ধু করেছিল যেখানে অন্য কেউ তার ঘেঁষ দিয়েও যেতো না আগে। মেহমেত নিজেও অনেক ভালো মনের অধিকারী তার সাথে শাহানা কেই মানাবে তাকে নয়!!

এমন হাজার চিন্তায় বিভোর হয়ে গেছিলো নিশান। শাহানা কপাল কুঁচকে বলে এই নিশান কোন জগতে চলে গেলে?? তুমি আমায় হেল্প করবে তো?? নিশানের ভাবনার সুতোর টান পড়লে সে শাহানার দিকে অপ্রস্তত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে বলে হ্যাঁ কেন নয়?? শাহানা নিশানের দিকে ভালোভাবে তাকালো তার পর শান বাঁধানো জায়গাটাতে পা উঠিয়ে নিশানের দিকে হলো, তার পর খপ করে নিশানের এক হাত তার নিজের দুই হাতে বন্দী করে নিল, কিছু টা ঝুঁকে বলল, সত্যি করবে তো?? আমায় প্রমিস করো!! হুমম কথা দিচ্ছি। আর মেহমেত যদি না রাঝি হয় সেই দিক টাও কিন্তু তোমায় দেখতেই হবে।এটা আমি কি করে দেখবো??? আমি কিছু জানি না তোমাকে করতেই হবে। আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে,বলেই নিশান শাহানার থেকে হাত টা সরিয়ে নিল। শাহানা বাজপাখির মত সরু চোখে নিঃপলক দৃষ্টিতে নিশানের মনের ভাব বুঝার চেষ্টা করছে, মনে মনে বেশ আনন্দ পাচ্ছে সে। সামনে তাকিয়ে দেখে মেহমেত তাদের দিকেই আসছে,,শাহানা নিশান কে বলে দেখো নিশান এই সুযোগ‌ ওকে বলার,দেখো মেহমেত আসছে। নিশান নিজেও সামনে তাকিয়ে দেখে মেহমেত,সে শুকনো একটা ঢোক গিললো। কেমন অস্থির লাগছে এবার তার। নিশান তুমি কিন্তু আজই বলবে তাকে, ফাইনাল পরীক্ষা সামনে, তুমি এক বার পড়া শুনাই ডুবে গেলে,আর অন্য কোথাও মন থাকে না,আর পরীক্ষা শেষ হলে স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে, কখনো আর দেখা হবে না,তাই আজই বলবে তুমি বুঝেছো?? ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে নিশান বলল ঠিক আছে।

মেহমেত তাদের কাছে আসতেই বলে,এই কাজ নিয়ে আমরা মরি হায় হায় করছি আর তোরা এখানে বসে আড্ডা দিচ্ছিস?? তোদের খোঁজতে খোঁজতে হয়রান হয়ে গেছি!! কি করছিস তোরা?? শাহানা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, নিশান কে একটা ইম্পর্টেন্ট কথা বলছিলাম। মেহমেত বাম চোখের ভ্রু উঁচিয়ে বলে কি কথা?? তোকে আমি বলতে পারবো না। নিশান নিজেই বলবে,শাহানা নিশান কে চোখ টিপি দিয়ে চলে গেল। তার ভাষা নিশান বুঝে শুকনো একটা হাসি দিল । শাহানা লজ্জাবতী লতার মতো একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। মেহমেত শাহানার এমন আচারনে হা হয়ে তাকিয়ে রইল। কারন শাহানার মতো এমন জটিল মেয়ে কে কখন লজ্জা মাখা মুখে সহচরাচর লজ্জা পেতে দেখা যায় না।‌ কিন্তু আজ আবার কি হলো তার???

মেহমেত নিশানের দিকে প্রশ্ন সূচক দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে,এই শাহানার আবার কি হলো?? এমন করছে কেন?? আসলে মেহমেত!! চুপ করে গেলে কেন কি আসলে??
আমি কি করে বলবো ভেবে পাচ্ছি না,কথায় থেকে শুরু করব!! মেহমেত ভাবছে,শাহানা কি নিশান কে পছন্দের কথা টা বলে দিয়েছে? তাদের মাঝে কি এখন ইন্টু পিন্টু চলছে?? মেহমেত উৎসুক হয়ে নিশানের পাশে বসে বলল,এতো সূচনা না করে মেইন কথায় আয় তো কি হয়েছে বল আমায়?? শাহানা কী বলছে তোকে??

নিশান নিজের চাপা কষ্ট এক সাইটে রেখে মিনতি গলায় এক নাগাড়ে বলতে লাগলো,আসলে মেহমেত শাহানা তোকে পছন্দ করে,,সে তোকে হয়তো ভালোবাসে, জিবন সঙ্গী হিসেবে তোকে চায়! তুই দয়া করে শাহানার ভালোবাসা টা গ্রহন করে নে,ও অনেক ভালো মনের অধিকারী, কখনো সে তোকে খারাপ রাখবে না। আর শাহানা কে আমার থেকে ও শত গুণ ভালো করে চিনিস তুই।
মেহমেত অবাকের শেষ সীমানায় চলে গেল যেন, মনে হচ্ছে তাকে কিছু আগে আকাশ থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এই তোর কি মাথা গেল নাকি?? কে বলেছে তোকে এগুলা?? শাহানা বলছে আমায় আর তোকে বলতে বলছে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে না যাওয়ার ভয়ে আমাকে রিকোয়েস্ট করছে, যদি কখনো তাকে রিজেক্ট করিস তাই।
মেহমেতের মুখ খানা দেখে মনে হচ্ছে,সে এই কথা গুলোর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।‌ মেহমেত রাগী গলায় বলল শাহানার মাথা খারাপ হয়েছে নাহলে তোর মাথা টাই খারাপ হয়েছে। কথায় ঐ শাকচুন্নি?? ওর সাথেই আমায় কথা বলতে হবে!!
নিশান মেহমেতের হাত ধরে নেয় একটা প্লিজ দোস্ত তুই ওকে রিজেক্ট করিসনা। শাহানা তোকে সত্যিই ভালোবাসে।
মেহমেত নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় শাহানার উদ্দেশ্য।
নিশান এবার ভিষন ভয় পাচ্ছে মেয়েটা কে কষ্ট পেতে হবে নাকি?? সে নিজেও মেহমেতের পিছন পিছন চলে যায়। শাহানা কে ফাঁকা একটা জায়গায় মেহমেত হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসে,নিশান বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে,

মেহমেত চোয়াল শক্ত করে জিজ্ঞেস করে নিশান কে কি বলেছিস এসব?? তুই নাকি জীবন সঙ্গি বাছাই করতে গিয়ে আমাকে পছন্দ করেছিস??? শাহানা বেবি ফেস বানিয়ে বললেন,তোর মত ছেলে কে আমি বিয়ে করবো?? ছিহ!! তার থেকে ভালো আমি সারা জীবন কুমারী থেকে যাবো!!
এসব তো আমি মজা করেছি!! ঐ যে হাঁদারাম দাঁড়িয়ে আছে তার জন্য!! কিহ কেন???

নিশান দূর থেকে দেখছে,মেহমেত আর শাহানা হেসে হেসে কথা বলছে, তাদের হাসতে দেখে নিশান ভাবছে ভালোবাসার সম্পর্ক হয়তো তৈরি হবে তাদের মধ্যে, কিন্তু নিশানের মন টা বেশ খারাপ হয়ে গেল,সে দ্রুত সেই জায়গাটা ত্যাগ করে, মেসের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। কারো মায়ায় এভাবে জরিয়ে পড়া টা অন্যায় ঘোর অন্যায়।

মেহমেত শাহানা কথা শেষ করে সামনে তাকিয়ে দেখে নিশান নেই। তারা দুজনেই খিলখিল করে হেসে দিলো।

পরের দিন অনুষ্ঠানে সকল মেয়েরা শাড়ি পড়েছে,আর ছেলেরা পাঞ্জাবি। বিষয় টা বেশ রোমাঞ্চকর। শাহানা এক টা হালকা আকাশী রঙের শাড়ি পড়েছে, চোখে হালকা কাজল দিয়েছে,আর চুলের খোঁপায় দিয়েছে বেলি ফুলের গাজরা। সামান্য সাঁজ,তাতেই নিশানের হৃদপিন্ড যেন থমকে গেছে শাহানা কে দেখে, শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে ভার্সিটির গেইট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে। নিশানের কাছে মনে হচ্ছে, শাহানার মত এতো সুন্দরী মেয়ে দ্বিতীয় টি নয়,আশে পাশে শাহানার থেকে ও শত গুণ সুন্দরী মেয়ে থাকতেও চোখ আটকে গেছে শুধু শাহানা তে, কথায় আছে মানুষ যাকে এক বার পছন্দ করে, তখন শত সুন্দর বস্তুও সেই প্রিয় মানুষটার কাছে ফিকে রঙ ধারন করে। এর আগে কখনো শাহানা কে শাড়িতে দেখেনি নিশান। তার জন্যই হয়তো চোখ ফিরানো দায় হয়ে পড়েছে।

নিশানের কাছে এসে শাহানা এক চুটকি বাজালো , তার পর বলল কি দেখছো এই ভাবে। নিশান আমতা আমতা করে বলে তেমন কিছুই না। ওহহ আচ্ছা বলেই
লম্বা একটা ধন্যবাদ দিলো,আর সাথে হাত ভর্তি চকলেট দিলো, ধন্যবাদের কারণ টা নিশান বুঝতে পারলো না। তাই জিজ্ঞেস করলো কেন তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হলো। শাহানা বলল তুমি না থাকলে মেহমেত আমার হতো নাকি?? মেহমেত তার হয়েছে কথা টা শুনতেই হাস্যোজ্জল মুখ খানি নিমিষেই পানসে হয়ে গেল। ধীর কন্ঠে বলল,ওহহ আচ্ছা,শাহানা নিশানের পাঞ্জাবির করাল ঠিক করে বলল, দারুন লাগছে তোমাকে আজ, ইশ্ কোন মেয়ের নজর যেন না লাগে,বলেই চোখের কার্নিশে থাকা কাজল নিশানের চোখের কার্নিশে ছুয়ে দিয়ে শাহানা মেহমেতের কাছে চলে গেল।

পুরো অনুষ্ঠান শাহানা মেহমেতের সাথেই ছিল,দেখে মনে হচ্ছে খুব খুশি তারা। নিশান বিদায় ভাষন দিচ্ছে, অদ্ভুত এক যন্ত্রনায় চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তার,সেটা ভার্সিটি থেকে বিদায়ের জন্য ছিল,?? নাকি শাহানার জন্য ছিল তা তার জানা ছিল না।

সামনে পরিক্ষা হওয়ায় দিন রাত এক করে পড়া শুনা করছে নিশান। স্কলারশিপ টা কিছুতেই হাত ছাড়া করতে চায় না সে।
মেহমেত কে খুব একটা পড়তে দেখা যায় না আর,সারা ক্ষন ফোন কানে থাকে। হয়তো শাহানার সাথে কথা বলছে!! নতুন নতুন প্রেম সব রঙিন সব ভালো লাগবে। নিশানের এখন এসব খুব বিরক্ত লাগে। শাহানা কে ঠাটিয়ে চর মারতে ইচ্ছে করে। কেন ইচ্ছে করে জানা নেই তার____!!!

চলবে ____????

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here