জানি দেখা হবে পর্ব শেষ

#জানি_দেখা_হবে
#Tanjima_Islam
★শেষ পর্ব★
.
.
.
.
.
ট্রেনে উঠে ঘন্টা না পেরোতেই ঘুমিয়ে পড়েছে আরাফ।
রিয়া কানে হেডফোন গুঁজে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।

ফ্রেশ হতে একটু ওয়েশরুমে যাওয়া দরকার, আরাফ এদিকে ঘুমে বিভোর।
আরাফকে জাগিয়ে তুলে ওয়াশরুমে গেল রিয়া।

ওয়াশরুমে কেউ গেছে, তাই পাশের বেসিনে হাতমুখ ধুতে লাগল রিয়া।
মুখ তুলে আয়নায় তাকাতেই চমকে উঠল সে। দ্রুত পেছনে ফিরে তাকালো, না সে ভুল দেখেনি।

তার সামনে সশরীরে দাঁড়িয়ে আছে লম্বাচওড়া হ্যান্ডসাম একটা ছেলে।
ফর্সা গালে খোচাখোচা দাড়ি, চোখে চশমা!

ছেলেটা অবাক হয়ে বলল, ” রিয়া!
রিয়া যেন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, অনেক চেষ্টা করেও মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের হলনা তার।

ছেলেটা এগিয়ে গিয়ে রিয়ার দুই কাধে হাত রেখে বলল, ” আর ইউ ওকে!?
রিয়া কাপা গলায় বলল, “এরিক!!! তুই!??

এরিক স্মিত হেসে বলল, ” অবাক হয়েছিস আমাকে দেখে!? অবশ্য আমিও ভাবিনি যে, আমাদের আবার কখনও দেখা হবে।

রিয়া কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা, অপলক তাকিয়ে আছে এরিকের দিকে।
এই মানুষটাই একসময় তার বেস্টফ্রেন্ড ছিলো, যাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছিলো রিয়া।
ধীরে ধীরে তাদের ফ্রেন্ডশিপ পরিণত হয়েছিলো প্রেমে।

এরিকও ব্যর্থ প্রেমিকের মতো তাকিয়ে আছে রিয়ার দিকে।
এই শ্যামবতী মেয়েটাকে একসময় অসম্ভব ভালোবাসতো এরিক।
কিন্ত তাদের এই ভালবাসা পরিণয়ে পরিণত হতে পারেনি।

এরিক খ্রিস্টান আর রিয়া মুসলিম, দুজনের পরিবারের কেউই এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। অতঃপর তাদের বিচ্ছেদ ঘটল, অবশ্যই বিচ্ছেদ কখনও সুখের হয়না।
কিন্ত বিচ্ছেদ ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিলোনা।

ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে দুজনেই সরে দাড়ালো।
রিয়ার বয়সী একটা সুন্দরী মেয়ে বেরিয়ে এরিক আর রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
এরিক মেয়েটাকে বলল,” মিট মাই ফ্রেন্ড রিয়া।

আর রিয়াকে বলল,” আর এটা আমার ওয়াইফ আমান্ডা।
রিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ” নাইস টু মিট ইউ আমান্ডা।

আমান্ডা মিষ্টি হেসে বলল, ” তুমিই সেই রিয়া! এরিকের বেস্টফ্রেন্ড ছিলে!?

রিয়া অবাক হয়ে তাকালো এরিকের দিকে, এরিক মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে সায় দিল।

আমান্ডা হেসে বলল, ” এরিকের মুখে তোমার কথা অনেক শুনেছি। মাঝেমাঝে তো আমার নিজেরই খুব জেলাস ফিল হতো, ওর মুখে তোমার কথা শুনে।

রিয়া স্মিত হাসল, আমান্ডা আবার বলল, “তোমাকে ছবিতে দেখেছি, তবে সামনাসামনি দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। রিয়া তুমি সত্যিই অনেক কিউট।

রিয়া মুচকি হেসে বলল, ” তুমিও কিন্ত খুব মিষ্টি দেখতে আমান্ডা।
এরমধ্যেই আরাফ এসে দাড়ালো, রিয়া আরাফকে বলল,” আরে তুমিও চলে এসেছো! আমার বেস্টফ্রেন্ডের সাথে পরিচিত হও।

এরিক আর আমান্ডাকে দেখিয়ে বলল, ” এ হল আমার বেস্টফ্রেন্ড এরিক। আর তার ওয়াইফ আমান্ডা।

আরাফ স্মিত হেসে দুজনের সাথেই পরিচিত হল।
রিয়া আরাফকে দেখিয়ে বলল, ” আর ইনি হলেন আমার হাসব্যান্ড আরাফ।

রিয়ার মুখে হাসব্যান্ড কথাটা শুনে মুখ থেকে হাসি সরে গেল এরিকের।
যদি তারা ভিন্ন ধর্মের না হত, তাহলে আজ রিয়ার পাশে এরিক থাকতো।
কিন্ত মানুষ সবসময় যা চায় তা তো পায়না, এরিকও রিয়াকে পায়নি।
এরিকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।
যা আর কেউ না দেখলেও রিয়ার চোখ এড়ালোনা।
.
.
.
.
.
ইহসান ঘুমিয়ে পড়েছে, তনুর চোখে ঘুম নেই। আর মাত্র কয়েকঘন্টা পর ঈশ্বরদী পৌছাবে তারা।
ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে তনু।

ফাহাদকে দেখার পর থেকে তার ভেতরটা এলোমেলো হয়ে গেছে।
পাঁচবছর আগে ফাহাদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো তনুর।
তখন সে ক্লাস টেনে পড়ত, ফাহাদ সায়েন্সের গ্রুপ সাবজেক্ট গুলো পড়াতো তনুকে।
টিচার স্টুডেন্টের মতই বেশ ভাল সম্পর্ক ছিলো ওদের।
কিন্ত তনুর ইমম্যাচিওর কথাবার্তা আর বাচ্চামো দেখে, তনুর প্রতি দিনদিন অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছিলো ফাহাদের মধ্যে।
এদিকে তনুর কিশোরী মনেও ফাহাদকে নিয়ে নানান আঁকিবুঁকি চলছিলো।
ফাহাদের চাহনি আর আঁকাবাকা দাতের মনকাড়া হাসি!!
যা দেখলেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো তনু!!!

মনেমনে প্রেম চলছিলো দুজনেরই, শুধু প্রকাশ করার বাকি!!! এসএসসি পরীক্ষার পরই তনুকে প্রপোজ করেছিলো ফাহাদ।

সেদিন তনুর মনে হয়েছিলো, সে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে! খুশির অন্ত ছিলোনা তনুর। তাই আর দেরি না করে সেও রাজি হয়েছিলো।

তারপর বেশ ভালোই চলছিলো তাদের সম্পর্ক। কিন্ত ধীরে ধীরে ফাহাদের ব্যস্ততা বাড়তে লাগল।
হসপিটাল, ক্লাস, ওয়ার্ড এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতো সারাক্ষণ।

অনলাইনে থাকলেও তনুর টেক্সট সিন করতো না ফাহাদ।
কখনও কখনও তো সিন করে রিপ্লাইও দিতোনা!
ধীরে ধীরে টেক্সট করা অফ করে দিল তনু, ভাবল হয়তো টেক্সট না দিলে ফাহাদের হুস হবে।

কিন্ত কিছুই হলনা, তনু নিজে কল দিলে তাই কথা বলতো ফাহাদ।
নিজে থেকে তনুকে কতদিন যে কল দেয়না, তা হয়তো সে নিজেও জানেনা।

ফোনে কথা বলা কমে গেলো তাদের।
ফাহাদের অবহেলা পেতে পেতে অতিষ্ঠ হয়ে গেল তনু, পড়াশোনাও শিকেয় উঠলো।
সামনে এইচএসসি, এদিকে ফাহাদের অবহেলা সহ্য না করতে পেরে, দুশ্চিন্তায় তনু প্রায়ই অসুস্থ হয়ে যেতো।

অবশেষে সব জায়গা থেকে ফাহাদকে ব্লক করে দিল তনু।
আর তখনই এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে তনুর বাসায় হাজির হল ফাহাদ।
নানানরকম এক্সকিউজ দিয়ে তনুকে বোঝালো যে, সে কতটা ভালোবাসে তনুকে।
কিন্ত পড়াশোনার প্রেশারে সময় দিতে পারেনা।

তনুও বুঝল, ফাহাদ সারাদিন অনেক প্রেশারে থাকে।
তাই আর মন খারাপ না করে পড়াশোনায় মন দিল তনু।
এরমধ্যে টুকটাক ফোনে কথা হতো তাদের, এইচএসসি এর পর সেটাও কমে গেল।
এডমিশন দিল, একটা ভার্সিটিতে ওয়েটিংয়েও ছিলো তনু।
কিন্ত শেষমেশ চান্স পেলোনা কোথাও।
এদিকে ফাহাদও আর ফোন ধরেনা। কল দিলেও ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেয়।

একেতো চান্স না পাওয়ায় ফ্যামিলি, রিলেটিভদের কটু কথা শোনা লাগতো।
আবার ফাহাদের এভাবে ইগ্নোর করা! সবমিলিয়ে জীবনটাকে নরক মনে হচ্ছিলো তনুর কাছে।

অনার্সে ভর্তি হয়ে নামাজ আর পড়াশোনায় নিজেকে ব্যস্ত করে তুলল তনু।
এরপর দিন গেছে, সপ্তাহ গেছে, মাস গেছে। একে একে কয়েকবছর কেটে গেছে।
সময়ের সাথেসাথে সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এলো।
তনুর বাবা-মাও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পাত্র খোজা শুরু করল।

কিন্ত ফাহাদের সাথে তনুর আর কখনও যোগাযোগ বা দেখা হয়নি।
তনু নিজের অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে চলল। ইহসানের সাথে বিয়ে করে ঢাকায় সেটেল হল তনু, কিন্ত আজ ঠিকই ফাহাদের সাথে দেখা হয়ে গেল তার।

কিন্ত সে তো চেয়েছিলো, যেন আর কখনও ফাহাদের সাথে তার দেখা না হয়।
ফাহাদের মুখ সে আর দেখতে চায়না, অথচ দেখা হল! কিন্ত কেন!? এই দেখা হওয়াটা কি খুব জরুরি ছিলো!? কি হত দেখা না হলে!? সে তো ভুলেই গেছিলো তার অতীত!!!

ঈশ্বরদী স্টেশনে ট্রেন থামতেই নেমে গেল ইহসান আর তনু। একটা সিএনজি ভাড়া করে চলে গেল।
.
.
.
.
.
.
এরিকের খুব পানি পিপাসা পেয়েছে, পাশে তাকিয়ে দেখল আমান্ডা ঘুমোচ্ছে।
স্টেশনে নেমে পানি কিনতে গেল এরিক। ফিরে আসার সময় খেয়াল করল জানালার পাশে বসে দূরে কোথাও তাকিয়ে আছে রিয়া।

কি ভেবে আরেক বোতল পানি কিনে নিয়ে ট্রেনে উঠল এরিক।
আরাফ আর রিয়া পাশাপাশি বসে আছে, আরাফ ঘুমে অচেতন।
এরিক পানির বোতলটা রিয়ার দিকে এগিয়ে ধরল।

পানির বোতল দেখে ফিরে তাকালো রিয়া, বোতলটা হাতে নিয়ে উঠে ওয়াশরুমের বেসিনের সামনে গিয়ে দাড়ালো।
এরিকও গেল পিছুপিছু, প্রায় আড়াই বছর পর রিয়াকে দেখছে সে।
আজকের পর আবার কবে দেখা হবে কে জানে! তাই এই কয়েক ঘন্টার জার্নিতে যতটা সম্ভব শুধু রিয়াকেই দেখছে এরিক।

রিয়া পানি খেয়ে বলল, ” থ্যাংকস।

এরিক একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, “ওয়েলকাম।

রিয়ার মধ্যে কোনও ভাবান্তর ঘটল না, সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এরিকের দিকে।
দেখতে দেখতে আড়াইটা বছর কেটে গেছে, অথচ আজও এরিককে দেখলে একসাথে কাটানো সেই সুন্দর দিন গুলোর কথা মনে পড়ে!!

এরিক অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ” কেমন আছিস রিয়া!?

রিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, ” যেমনটা তুই আছিস।

এরিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,” আবার কবে দেখা হবে জানিনা, তবে একটা কথা জানাতে চাই।

রিয়া জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকালো এরিকের দিকে, এরিক রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,” তোকে খুব ভালবাসি রিয়া, তোর প্রতি কোনও রাগ নেই আমার।

রিয়ার চোখের কোন বেয়ে দুফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ল।
হাত দিয়ে মোছার চেষ্টা করল না রিয়া, ধরা গলায় বলল, ” এখনও ঠিক আগের মতই ভালবাসি এরিক, তোকে ভোলার চেষ্টা করিনি কখনও।

এরিক মুহুর্তেই চশমা খুলে অন্যদিকে তাকালো, হয়তো চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এরিকের হাত থেকে চশমাটা নিয়ে রিয়া নিজের স্কার্ফ দিয়ে মুছতে মুছতে বলল,” আজও তোর বার্থডেতে নিজে কেক বানিয়ে সবাইকে খাওয়াই।

এরিক হেসে বলল, ” আর আমি তোর বার্থডেতে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করে সবাইকে খাওয়াই। আমি তো আর কেক বানাতে পারিনা।

রিয়া চশমাটা এরিককে পরিয়ে বলল,” তোকে বানাতেও হবেনা, একবার কেক বানিয়ে খাওয়াইছিলি! সেই বিশ্রী স্বাদ মনে পড়লেই গালটা তেতো হয়ে যায় আমার!! পুড়িয়ে ছাই বানায় বলছিলি ওটা নাকি চকলেট কেক!!!

এরিক হো হো করে হেসে দিল, সেইসাথে রিয়াও হাসতে লাগল।
.
.
.
.
.
.
যশোর রেলওয়ে স্টেশনে এসে থামল ট্রেন। একে একে নেমে দাড়ালো আরাফ, রিয়া, এরিক আর আমান্ডা।
আরাফ আর রিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে গেল এরিক আর আমান্ডা।
আরাফের সাথে বেশ ভালো জমেছে আমান্ডার। একেবারে ভাইবোনের সম্পর্ক! রিয়া আর এরিক ঠিক করেছে এবার থেকে নিজেদের মধ্যে তাদের বেস্টফ্রেন্ডশিপটা স্টার্ট করবে।
যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, জীবন তো একটাই। তাদের বিয়ে হয়নি তো কি হয়েছে, ভবিষ্যতে দরকারে তারা বেয়াই বেয়াইন হবে।

আরাফ আর রিয়া সিএনজি ঠিক করছে, হটাৎ একটা পরিচিত কন্ঠঃ পেয়ে চমকে উঠল আরাফ।
রিয়ার অবশ্য সেদিকে খেয়াল নেই, আরাফ সচকিত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে সেই কন্ঠের মানুষটাকে খুজছে।

বেশকিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা মেয়েকে দেখে থমকে গেল আরাফ।
চিন্তিত গলায় ফোনে কারও সাথে তর্ক বির্তক করছে মেয়েটা।
পরনে মিষ্টি কালারের থ্রিপিস, চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।
আরাফ দ্রুত পায়ে মেয়েটার সামনে গিয়ে দাড়ালো, মেয়েটা আরাফের দিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে গেছে।

আরাফের মুখ দিয়ে অস্ফুটস্বরে বেরিয়ে এল, ” সামিয়া!!!
সামিয়া জোর করে হেসে বলল, ” আরাফ! তুমি এখানে!!?

রিয়া সিএনজি ঠিক করে পাশে তাকিয়ে দেখল আরাফ নেই! কোথায় গেল আরাফ!! এখানেই তো ছিলো!!!

এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছুটা দূরে একটা মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে এগিয়ে গেল রিয়া।

আরাফ স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করল, ” হুম, তুমি এখানে কি করছো!? তোমার হাসব্যান্ড কোথায়!?

সামিয়া কিছু একটা ভেবে বলল, ” রাইয়ানের সাথে বিয়ের পর আমি সুখী হতে পারিনি আরাফ। ও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, ওর সাথে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব না। তাই ওর সাথে ডিভোর্সের কথা চলছে।

আরাফ কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা, একসময় এই মেয়েটাকে ভিষণ ভালবাসতো আরাফ। ভার্সিটিতে পড়াকালীন টিউশনি করে হলেও সামিয়াকে গিফট কিনে দিতো সে।
সামিয়ার টাকার প্রবলেম হলে কখনও কখনও এক্সট্রা টিউশনি করেও টাকা দিয়েছে আরাফ। আর বাবার কাছ থেকে তো প্রতিমাসে প্রয়োজনের বেশি টাকাও নিতো।

একদিন এই সামিয়াকে ভার্সিটির এক বড় ভাই রাইয়ানের সাথে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে গেছিলো আরাফ।
সামিয়া এভাবে তাকে ধোকা দেবে ভাবতেও পারেনি সে।

সেদিনের পর থেকে ভালবাসার ওপর থেকেই বিশ্বাস উঠে গেছিলো আরাফের।
মেয়ে মানেই ছলনাময়ী, ধোকাবাজ মনে হত তার।

যেই সামিয়ার জন্য দিনের পরদিন রাতের পর রাত খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে নিজেকে ঘরবন্দী করে রেখেছিলো, আজ সেই সামিয়াকে দেখে করুনা হচ্ছে আরাফের।

মাত্র কয়েকবছর, এরমধ্যেই সামিয়ার পরিণতি দেখতে পেল আরাফ।
কথায় আছে,” প্রকৃতি কখনও বেইমানি করে না, তুমি যা করবে প্রকৃতি ঠিক সেটাই তোমাকে ফেরত দেবে।

আরাফ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, ” আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।

বলেই চলে এলো আরাফ, এছাড়া আর কিই বা বলার আছে তার।
যার যার কর্মফল সে ভোগ করবে। হয়তো সামিয়াও তার কর্মফল ভোগ করছে।

পেছন থেকে বেশ কয়েকবার সামিয়ার ডাক কানে এলো।
সামিয়ার প্রতিটি ডাকে সেদিনের সেই অসহায় আরাফের ঘরবন্দী দৃশ্য ভেসে উঠছে আরাফের চোখে।
কিন্ত আরাফ সাড়া দেয়নি, পেছনে ফিরে তাকায়নি।

আর পিছনে ফিরবেনা আরাফ, এবার শুরু তার সামনে এগিয়ে চলা।

রিয়া কিছুটা সামনে গিয়ে আরাফ আর সামিয়ার কথাবার্তা শুনেই কিছুটা আচ করতে পেরেছে। তাই আর না এগিয়ে সিএনজিতে গিয়ে বসল রিয়া।

আরাফ এসে বসতেই সিএনজি ছেড়ে দিল, আরাফ রিয়াকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে। মনেমনে অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করছে আরাফ। আজ মনে হচ্ছে সামিয়া চলে গিয়ে ভালই হয়েছে, রিয়ার মতো স্ত্রী পেয়ে আরাফের নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।

স্মিত হেসে আরাফের আরেক হাতের আঙুল নিজের হাতের মুঠোয় নিল রিয়া।

বিচ্ছেদের বহুবছর পরেও অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রাক্তনের সাথে দেখা হলে, ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে! তাই স্বাভাবিকভাবেই সেই মুহুর্তের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা ভালো, কারণ পৃথিবীটা গোলাকার!! একদিন না একদিন, #জানি_দেখা_হবে!!!
.
.
.
.
.
||সমাপ্ত||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here