তবুও তোমায় ভালোবাসি পর্ব ৯+১০

#তবুও ভালোবাসি তোমায়
#লেখিকা-শারমিন আঁচল নিপা
#পর্ব-৯

পায়ের প্লাস্টার খুলার জন্য হাসপাতালে গিয়েই চোখ গেল এক ডাক্তারের দিকে। খেয়াল করলাম উনি আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন অপলক দৃষ্টিতে। আমি তাকাতেই ভদ্র ছেলের মতো চোখটা নামিয়ে ফেলল। লক্ষ্য করলাম চোখটা নামিয়েও আড়চোখে বারবার আমাকে দেখছে। আমি চুপ হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে উনার কান্ড দেখতে ব্যস্ত।তবে বেশিক্ষণ দেখার সাহস হলো না৷ এখন কেন জানি ডাক্তার দেখলে বেশ ঘৃনা লাগে। আয়ানের পর কোনো ডাক্তারকে সহজে সহ্য করতে পারি না। তাই নিজের ভালোলাগাটাও দমিয়ে চুপ হয়ে নীচের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এর মধ্যে আমার পায়ের প্লাস্টার খুলার জন্য উনিই আসলো। উনি আমার কাছে এসে অপলক মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। উনার তাকানো দেখে বিরক্ত চোখ করে নীচের দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি আমার পায়ের প্লাস্টারটা খুলতে লাগল আর বলতে লাগল

– আপনার নাম কী?

বিরক্ত গলায় বললাম

– কেন?

– আপনি মনে হয় কোনো বিষয় নিয়ে বিরক্ত। রোগীর ট্রিটমেন্টের জন্য রোগীর নাম জানা জরুরি। তাই নাম জিজ্ঞেস করা। আশাকরি এবার নামটা বলবেন।

– আয়রা।

– বাহ বেশ সুন্দর নাম। আমি জাহিন। এমবিবিএস কমপ্লিট করে সবেমাত্র বিসিএস হলো।

আমি উনার কথার কোনো জবাব দিলাম না। চুপ করে বসে রইলাম। উনি আমার নীরবতা দেখে পুনরায় বলে উঠল

– আপনি কী সবসময় চুপচাপ থাকেন নাকি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত?

– আপনার ট্রিটমেন্টের জন্য এগুলো বলাও কী জরুরি? মা যে এ সময় কোথায় গেল….

– আন্টি আউডডোরে বসে আছেন। আপনি আমার কথায় বেশ বিরক্ত হচ্ছেন বুঝা যাচ্ছে। আচ্ছা আপনি কী আশেপাশে থাকেন নাকি দূরে?

– সেটা জানার কি খুব দরকার?

– নাহ! ঠিক তা না এমনি জানতে ইচ্ছা হলো। আপনাকে একটা কথা বলতে চাই যদিও সাহসে কুলাচ্ছে না।

বিরক্ত গলায় বললাম

– এতকিছু বলতে পারছেন সাহসের দরকার পড়ে নি। এখন কী এমন বলতে চান যে সাহসের দরকার।

– আপনার মেজাজটা কী সবসময় খিটখিটা থাকে নাকি পা ভাঙ্গার পর খিটখিটা হয়েছে?

– আপনি তো বড্ড বকবক করেন।

– একটু বেশি করি বলতে পারেন।

– সবার সে বকবকটা পছন্দ নাও হতে পারে।

– আচ্ছা দুঃখিত এত বিরক্ত করার জন্য। যাইহোক প্লাস্টারটা খুলা শেষ এখন একটু হাঁটার চেষ্টা করুন।

আমি পা টা দেখে বেড থেকে নীচে নামলাম হাঁটার জন্য। একটু হাঁটতে নিয়েই মনে হলো পা টা বেঁকে গেছে। যার ফলে পড়ে যেতে নিলাম। এমন সময় জাহিন সাহেব ধরে বলল

– আপনি দয়াকরে তাড়াহুড়ো করবেন না আমাকে ধরে হাঁটুন। নাহয় প্রথমেই হাঁটতে পারবেন না। দেখুন আমি একজন ডাক্তার আপনি আমার রোগী। আপনার সাথে আমার সস্পর্কটাও তেমন। এখন যদি আপনি এমন করেন তাহলে আমার তো চিকিৎসার উপর প্রভাব পড়বে। প্রথম থেকেই আপনি রেগে আছেন আমার উপর। আমি কী আপনাকে রাগানোর মতো কিছু বলেছি নাকি অন্য কারও রাগ আমার উপর দিয়ে নিচ্ছেন।

জাহিন সাহেবের কথাটা শোনে একটু আশ্চর্য হলাম। উনি বুঝল কী করে আয়ানের প্রতি থাকা প্রবল রাগটা আমি উনার উপর ছাড়তেছি। আমি উনার কথায় একদম নীরব৷ উনি আমার হাতটা ধরে পাশে থাকা নার্সকে ডেকে বললেন

– এই যে সাহেরা আপু এদিকে আসুন তো একটু।

বুঝতে পারলাম নার্সটার নাম সেহারা। সাহেরা আপু একটু মুচকি হেসে জাহিন সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল

– জি স্যার বলুন।

-উনাকে ধরে একটু হাঁটতে সাহায্য করুন।

সাহেরা আপু আমাকে ধরল আমি হাঁটার চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি হাঁটতে পারলাম। আজকে নিজেকে অনেক খুশি লাগছে যে আমি হাঁটতে পারতেছি। কিন্তু এর মধ্যেই আমার মাথা ব্যাথাটা শুরু হয়ে গেল। নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না কোনোভাবেই। ব্যথায় চিল্লাতে লাগলাম। জাহিন সাহেব আমার অবস্থা দেখে আমার কাছে এসে আমাকে ধরে সাহেরা আপুকে বলল আমার মাকে বাইরে থেকে ডেকে আনার জন্য। এর মধ্যেই আমি জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফেরার পর খেয়াল করলাম মা আমার পাশে বসে আছে আর জাহিন সাহেব আমার প্রেসার মাপছে। সবকিছু চেক করে জাহিন সাহেব আমার মাকে বলল

– এখন নিয়ে যেতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। আর একটু রেগুলার ফলো আপে রাখতে হবে উনাকে। আর আপাতত এ ইনজেকশনটা নিয়ে আসেন আমি দিয়ে দিচ্ছি।

মা জাহিন সাহেবের হাত থেকে প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে ইনজেকশন আনতে গেল। মা যাওয়ার পর জাহিন সাহেব বলে উঠল

– একটা কথা বলব।

– কী কথা বলুন?

– আপনার চোখগুলো অনেক সুন্দর।

– মানে?

– মানে আপনার চোখগুলো অনেক সুন্দর।

– মশকরা করছেন?।

– আপনি একটু বেশিই রাগ করছেন।

– তো আমার কী করা উচিত?

– মাঝে মাঝে একটু হেসে কথা বলা উচিত।

– আপনি সত্যিই বিরক্তিকর।

– বিরক্ত বুঝি বেশি করলাম।

– তা তো তখন থেকেই করে যাচ্ছেন। আর শোনেন ডাক্তার ছেলেদের আমার একদম পছন্দ না। তাদের সাথে কথা বলতেও আমার রাগ লাগে।

– কেন বলুন তো। ডাক্তারদের প্রতি আপনার এত রাগ কেন?

– সেটা কী আপনাকে বলতে হবে?

– তা আপনার ইচ্ছা না হলে বলার দরকার নেই। আপনি একটু রিলাক্সে থাকুন।

– আমাকে এত জ্ঞান দেওয়ার দরকার নেই।

– জ্ঞান কেন দেবো? ডাক্তার হিসেবে রোগীকে পরামর্শ দিচ্ছি। অতিরিক্ত রাগ স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ।

– আপনি বড়ই বকবক করছেন। থামবেন?

– আপনি বলেছেন তো তাই থেমে গেলাম।

বলেই জাহিন সাহেব একদম চুপ হয়ে গেল৷ এর মধ্যে মা আসলো ইনজেকশন নিয়ে। উনি ইনজেকশনটা নিয়ে আমাকে দিল। তারপর মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে আসলাম। হাসপাতাল থেকে আসার পর জাহিন সাহেবের কথা ভাবতে লাগলাম। উনার কথাটা যেন বারবার মনে হতে লাগল। হালকা ভালো লাগা জাগলেও সে ভালেলাগায় পাত্তা না দিয়ে শুয়ে চোখটা বন্ধ করে রাখলাম। এমন সময় খেয়াল করলাম

(#তবুও ভালোবাসি তোমায়
#লেখিকা-শারমিন আঁচল নিপা
#পর্ব-১০

এমন সময় খেয়াল করলাম ফোনটা বেজে উঠেছে। বন্ধ চোখটা খুলে ফোনটা হাতে নিয়ে লক্ষ্য করলাম একটা অচেনা নম্বর থেকে কল এসেছে। ভাবতে লাগলাম আয়ান কী অন্য কোনো নম্বর দিয়ে কল দিয়েছে? হতেও পারে এমন কিছু। তাই কলটা না ধরে রেখে দিলাম। এভাবে পর পর কল আসতে লাগল আর ফোনটা অনবরত বাজতে লাগল। বেশ সাহস করেই কলটা ধরে চুপ হয়ে রইলাম। ওপাশ থেকে একটা অচেনা কন্ঠ ভেসে আসলো। বুঝতে পারলাম এটা আয়ান না। ওপাশ থেকে কেউ একজন বলছে

– হ্যালো। কথা বলছেন না কেন? হ্যালো,হ্যালো,হ্যালো।

আমি এবার এপাশ থেকে ভারী গলায় বললাম

– হ্যালো কে বলছেন?

এবার ওপাশ থেকে উত্তর আসলো

– আমি জাহিন। আপনি কী আয়রা বলছেন? আপনার সাথে একটু কথা ছিল।

আমি বুঝতে পারছিলাম না এ জাহিন সাহেব আমার নম্বরটা কোথায় পেল। ভাবতে ভাবতে কন্ঠটা আরও ভারী করে বললাম

– আপনি আমার নম্বর কোথায় পেয়েছেন?

– আপনার মায়ের কাছ থেকে একটু বুদ্ধি খরচ করে নিয়েছি।

– আজেবাজে জায়গায় আপনি বুদ্ধি খরচ করেছেন মনে হচ্ছে।

– আপনি কী সবসময় রেগে কথা বলেন? নাকি মাঝে মাঝে একটু সুকন্ঠী সুরে কথা বলেন।

– আপনি কল দিয়েছেন কেন সেটা বলেন।

– একটা কারণ তো অবশ্যই আছে।

– কারণটাই জানতে চাচ্ছি।

– আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই।

– আমার বন্ধুর অভাব নেই। লিস্টফুল।

– একটু তো করা যায়।

– দেখুন আপনাদের মতো ডাক্তারদের দেখলেই আমার গা জ্বলে। তাদের চরিত্রের ঠিক থাকে না। হাজারটা মেয়ের সাথে প্রেম করে। সুতরাং আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব সম্ভব না। আপনার সাথে কথা বললে আমার এসব ভেবে রাগ বেড়ে যাবে আর স্বাভাবিক আচরণ করতে পারব না। সুতরাং কল না দেওয়ায় শ্রেয়।

– আপনার রাগের কারণটা বুঝতে পারছি না। হয়তো কোনো ডাক্তারের প্রতি আপনার ক্ষোভ রয়েছে তাই এমন করে বলছেন। হাতের আঙ্গুল যেমন সমান না, ঠিক তেমনি সব ডাক্তারও আর তার আচরণ এবং চরিত্র ও সমান না। আপনাকে প্রথম যখন দেখেছি আপনার চোখগুলো ভালো লেগেছে। সে ভালোলাগা থেকে এতকিছু। আপনি চাইলে আমরা বিষয়টা নিয়ে এগুতে পারি।

– প্রথমত আপনি আমার সম্পর্কে না জেনেই এমন একটা কথা বললেন।দ্বিতীয়ত আপনার সাময়িক মোহ কিছুদিন পর কেটে যাবে। আপনি আমার সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না হয়ে এমন আবেগময় কথা না বলাই উচিত। একটা মানুষকে ভালো লাগতে হলেও তার সম্পর্কে পুরোপুরি জানা প্রয়োজন।

– আপনার এ কথার সাথে একমত হতে পারলাম না। আমার মনে হয় একটা মানুষকে দেখে তার প্রতি যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আসে সেটা হচ্ছে ভালো লাগা। ভালোলগাটা কারও প্রতি না জেনেই আসে। তবে ভালোবাসতে হলে তাকে পুরোপুরি জানা প্রয়োজন। আমি ভনিতা করে কথা বলতে পছন্দ করি না। সরাসরিই বলছি আপনার প্রতি ভালোলাগাটা ভালোবাসায় রূপান্তর করতে চাই তাই আপনার সম্পর্কে জানতে চাই।

– জাহিন সাহেব বড্ড মোহে পড়ে আছেন দেখি। আপনি তো নিশ্চয় জানেন আমার অবস্থাটা। আমার অন্য বিষয়গুলো আপনার অজানা থাকলেও রোগের বিষয়টা তো ঠিকেই জানেন।আপনার তো অজানা না যে আমার ব্রেন টিউমার। আমার হাতেও সময় কম। তিনমাস পর অপারেশন করা লাগতে পারে। সবকিছু জেনে এগুলো বলে কী দয়া দেখাচ্ছেন? আপনি বড্ড বেশিই মজা করেন।

– আয়রা ম্যাম আমি আপনার ব্যপারে অনেক কিছুই জানি। আপনি যখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন তখন আপনার মা আমাকে আপনার সব বিষয়গুলো অবগত করেছেন। আমি জেনে শোনেই এমন কথা বলছি।

– আমার মা কি আপনাকে বলেছে কল দিয়ে এসব বলতে?

– নাহ! তা কেন হবে? ট্রিটমেন্টের সুবিধার্থে আপনার মা এ কথাগুলো বলেছে।

– আচ্ছা সে যাইহোক অহেতুক আমাকে কল দিবেন না। আমি আপনার ব্যপারে ইন্টারেস্টেড না।

– দেখুন বলছি না বন্ধুত্ব করতেই হবে।তবে বিয়ে তো করা যায়। আপনি চাইলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাব। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে আপনার অনিশ্চিত জীবনের সাথে কেন জড়াতে চাচ্ছি। সেটার উত্তরে আমি বলব মানুষের জীবন কখনো নিশ্চিত হয় না। আপনি একটু ভেবে দেখবেন বিষয়টা।

– সম্ভব না সরি।

– আচ্ছা আপনি যা বলবেন তাই হবে।

বলেই জাহিন সাহেব কলটা কেটে দিল। আমি হালকা দম নিয়ে চোখটা বন্ধ করলাম। আর ভাবতে লাগলাম উনি সব জানার পরও আমার সাথে কেন কথা বলতে চাচ্ছে? এসব ভাবতেই মনে হলো উনি মিথ্যা মায়ায় জড়াতে চাচ্ছে। এ মায়া মানুষকে গ্রাস করে। কেন জানি না ভাবতে না চাইলেও উনার কথাটা ভাবনায় চলে এসেছিল। মনে হলো একটু কথা কী বলা যায় না? এটা মনে হয়েও পুনরায় ভাবতে লাগলাম এ সময় এত মায়ায় পড়লে চলবে না। নিজেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা সামনে। আমাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের একটা অবস্থান তৈরী করতে হবে। সেই সাথে নিজের সুস্থতার দিকটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। সারাদিন এভাবে শুয়ে বসে থাকলে নিজের কষ্টটা আরও বাড়বে। আয়ানের কথা যদিও পুরোপুরি ভুলতে পারিনি তবে পুরোপুরি ভুলতে আমাকে আরও ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। এতদিনে এটা বুঝতে পেরেছি যে ডিপ্রেশন কাটানোর কতগুলো স্টেপ আছে এগুলো হলো

১) যে বিষয় নিয়ে ডিপ্রেশনে সে বিষয় মনে পড়ে এমন কোনোকিছুই সামনে রাখা যাবে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি স্থানটা পরিবর্তন করা যায়।

২)যখনেই সে বিষয় মনে পড়বে তখনেই কান্না না করে চুপ করে বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে মনকে বুঝাতে হবে আমার খারাপ অধ্যায় চলতেছে তবে ভালো অধ্যায় আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

৩)বেশি বেশি নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে। নিজের চেহারার যত্ন নিতে হবে। এসময় সাধারণত খেতে একদম ইচ্ছা করে না। কোনো কাজ করতে মন চাই না। তবে এ দিকটাই প্রধান দিক এবং এ দিকটাই ঠিক করতে হবে। কাজে মনোযোগ দিতে হবে। সময়ের খাবার সময় মতো খেতে হবে। খেতে মন না চাইলেও জোর করে খেতে হবে। নিজেকে এবং নিজের আশেপাশের সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৪) আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে হবে। পরিবার সাপোর্ট না দিলে বন্ধুমহলের সাথে সময় কাটাতে হবে। যদি বন্ধুমহলের কেউ সাপোর্ট না দেয় তাহলে আল্লাহর সাথে একতরফা ভাবে অনবরত কথা বলে যেতে হবে। মনে করতে আল্লাহ আমার সব কথা শোনছে। যা মনে আসে সব তাকে খুলে বলতে হবে।

৫) ডিপ্রেশনের বিষয়টা যতসম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। এ নিয়ে কথা কেউ কোথাও বললেও সেটা এড়িয়ে গিয়ে একটা মিথ্যা হাসি হলেও দিতে হবে। এটা যদিও কঠিন তবে চাইলেই সম্ভব।

৬) এ সময়টায় একটা বড় সমস্যা হচ্ছে সবার মরে যেতে মন চায়। দোআ করলেও আমরা হতাশ হয়ে পড়ি আমাদের দোআ কেন কবুল হচ্ছে না। তবে একবারও চিন্তা করি না আল্লাহ সব নগদ দিয়ে দেয় না। যেমন আমরা কত পাপ করি সেগুলোর শাস্তি সাথে সাথে দিয়ে দিলে কেমন হবে? তাই দোআও যে নগদ কবুল হবে এমন আশা না করে ধৈর্য্য ধরা।

৭) সবশেষে সব সামলে নিজেকে সামনের দিকে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। সেখানে যদি সমস্যা হয় হতাশ হওয়া যাবে না। সমস্যার সমাধান কীভাবে হয় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। সিনেমায় হুট করে সাফল্য সম্ভব। মনে রাখতে হবে জীবন সিনেমা না। এখানে সাফল্য আসবে ধীরে ধীরে।

যাইহোক আমি নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম তারপর পড়তে বসলাম। একটু পড়তেই মনে হলো মাথায় প্রেসার পড়ছে। ব্যথাটাও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। তাই বেশিক্ষণ পড়লাম না। পড়া থেকে উঠে আরেকটু হাঁটাহাঁটি করলাম। তখন বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার উপক্রম। আমি বেলকনিতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম আকাশটায় রক্তিম সূর্য লাল হয়ে ডুবতে যাবে। এ সময়টায় ছাদে উঠে আকাশটা দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। কতদিন ছাদে উঠে আকাশ দেখি না। তাই আস্তে করে ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে আকাশটা দেখে আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। আকাশের দিক থেকে চোখ নামাতেই চমকে গেলাম…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here