তুমি শুধু আমার পর্ব -১২+১৩

#তুমি_শুধু_আমার
#written_by_ayrin
#part12

মেহের রান্না ঘরে গিয়ে দেখলো রিহান মেহেরের পছন্দের সব রকম খাবার বানিয়েছে৷মেহের এসব দেখে হতভম্ব হয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে থাকলো সে কিছুতেই বুঝতে পারছেনা রিহান এসব কি করছে। মেহেরকে দেখে রিহান বললো দেখতো এখানে তোমার পছন্দের কিছু খাবার বাদ পরেছে কিনা?
মেহের এখনো বিষ্ময় নিয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে আছে।ওর পছন্দের সব খাবারই রয়েছে।
রিহান মেহেরকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহেরকে বললো ফ্রেশ হয়ে এসে এগুলো খেয়ে বলো কেমন হয়েছে। কত কষ্ট করে রান্না করেছি,

মেহের রিহানকে কিছু না বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
ফ্রেশ হয়ে বাহিরে এসে দেখলো রিহান সব খাবার ডাইনিং টেবিলে সব সাজিয়ে রাখছে। মেহেরকে দেখে বললো তোমার কি কোন শাড়ি নেই?

মেহের- শাড়ি দিয়ে কি করবেন আপনি?

রিহান- আমি কিছু করবো না,তুমি পরবে তারাতাড়ি একটা শাড়ি পরে আসো।
মেহের- আমি কেন শাড়ি পরতে যাবো আজব?
রিহান- রিহান মেহেরের হাত ধরে বেডরুমে নিয়ে এসে বললো তুমি পরবে নাকি আমি নিজেই পরিয়ে দিবো?

মেহের বুঝতে পারলো আজ তার শাড়ি পরতেই হবে। সে অগত্যা একটা শাড়ি বের করলো পরার জন্য। রিহান তখনো রুমেই দাড়িয়ে আছে। মেহের রিহানকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললো এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?

রিহান- বাহিরে না গেলে কি খুব অসুবিধে হয়ে যাবে, এখানেই থাকি না?
মেহের রিহানের দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে তাকাতেই রিহান বললো যাচ্ছি যাচ্ছি এভাবে তাকানোর কিছু হয়নি।
রিহান বাহিরে চলে গেলে মেহের ইউটিউব থেকে বিডিও দেখে শাড়ি পরে ফেললো৷
শাড়ি পরে বাহিরে আসতেই দেখলো নিহান আকাশ সহ তাদের ভার্সিটির আরো চারজন বন্ধু। তাদের নাম তাহিয়া,মিমি, রাইসা আর মাহিম।

মেহেরকে দেখতে পেয়েই তাহিয়া বললো আরে ঐযে মেহের চলে এসেছে।
তাহিয়ার কথা শুনে রিহান সেদিকে তাকাতেই তার চোখ মেহেরের উপর আটকে গেলো৷ একনজরে তাকিয়ে আছে মেহেরের দিকে।
মেহের রিহানের এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পরলো।

রিহানকে এভাবে মেহেরের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিমি বললো উহু উহু রিহান ভাইয়া আমাদের বান্ধবীর দিকে এভাবে তাকালেতো নজর লেগে যাবে।
রিহান মেহেরের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো লাগুক আমার নজরই শুধু আমার বউয়ের উপর লাগুক।
একথা শুনে সবাই একসাথে ওওওও ওহ-হো বললো।

মেহেরের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো একেতো সকাল থেকে রিহান কিরকম বিহেভ করছে তারমধ্যে আবার আজকে আকাশদের কে দেখে মেহেরের মনে হচ্ছে ওরা সবাই ওর আর রিহানের বিয়ের জথা জেনে গিয়েছে৷ তা-না হলে রিহানের মুখে বউ ডাক শুনে এমন রিয়েক্ট করতো না।

রিহানের এতক্ষণে হুস আসে। ওর কিছুটা লজ্জাও লাগছে এভেবে যে এখানে যারা আছে সবাই তার থেকে বয়সে ছোট। আবার নিজেই নিজেকে নিজেকে এই বলে শান্তনা দিচ্ছে যে নিজের বউকেই তো বলেছি এত লজ্জার কি আছে?
তারপর সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্য বাহিরে বের হলো৷ শুধু মিমি আর নিহান বাদে। ওদের নাকি কি কাজ আছে।

রিহান মেহেরের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেহেরকে অন্যদিন গুলোর তুলনায় আজকে একটু বেশিই খুশি লাগছে।সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।
মেহেরের হাসতে দেখে রিহানের মুখেও হাসি ফুটলো। কিছু একটা ভেবে একজনকে ফোন করে বললো সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে হয়েছে তো?
তারপর বললো আচ্ছা আমরা আসছি।

মেহেরের আজকে অনেক ভালো লাগছে। মেহের মনে মনে ভাবছে নিহান থাকলে আরো ভালো হতো। কিন্তু ওর কি এমন কাজ পরলো আজ যে আমাদের সাথে ঘুরতে আসতে পারলো না।

দুপুরের খাবার রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে যখন বাড়ি ফিরবে তখন মেহেরের মন খারাপ হয়ে গেলো কারণ তাকে আবার একা একা থাকতে হবে এই ভেবে।
কিন্তু যখন সবাই বললো আজকে সবাই মেহেরের সাথেই থাকবে। তখন মেহেরের মন আবার ভালো হয়ে গেলো। বাড়ি ফিরতে যখন গাড়িতে উঠলো তখন তাহিয়া মেহেরের চোখ বেধে দিলো।
মেহের চোখ বাধতে দেখে তড়িঘড়ি করে বললো কি ব্যাপার চোখ বেধেছিস কেনো?
তখন উত্তরে রাইসা বললো তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে তাই এখন চুপচাপ বসে থাক।

গাড়ী এসে থামলো রিহানদের বাড়িতে।তাহিয়া মেহেরকে বললো তুই রিহান ভাইয়ার সাথে আয় আমরা এখানেই আছি বলে রাইসা, তাহিয়া, মাহিম ভেতরে চলে গেলো।

রিহানদের বাড়িতে তাদের নিকটাত্মীয় সবাই এসেছে৷
রিহানের মা আর সিমি কিছুই বুঝতে পারছেনা।সবাই কোন কথা বার্তা ছাড়াই এসেছে। এদিকে রিহানের বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি আগে থেকেই সব জানতেন। রিহানের মা বারবার রিহানের বাবাকে ডেকে জিঙ্গেস করছেন কিন্তু তিনি কোন উত্তর দেননি।

সিমি তার মাকে জিজ্ঞেস করলো তারা এখানে কেন এসেছে? সিমির মা বললো নিহান নাকি সবাইকে ফোন করে আসতে বলেছে কি বলে জরুরি দরকার।

সিমি রিহানের মাকে বলছে নিহান কি জন্য সবাইকে ডেকেছে বলতো। আমার একটুও ভালোলাগছেনা মনে হচ্ছে কিছু একটা হবে।

রিহানের মা- তুই এতো চিন্তা করছিস কেনো বলতো তেমন কিছুই হবেনা৷ নিহান হয়তো এমনি সবাই ডেকেছে৷ আর সবাই এসেছে ভালোই হয়েছে,আজ সবাইকে বলে দেবো যে আমার রিহানের বউ করে সিমিকেই আনতে চাই।

একথা শুনে সিমি কিছুটা লজ্জা পেলো কারণ সে রিহানকে ভালোবাসে। আর সে ভাবে রিহান ও তাকে ভালোবাসে৷ নাহলে ছোটথেকে ওর এত কেয়ার কেন করতো?

তখনই শুনতে পেলো নিহান সবাইকে ডেকে ডেকে বলছে আজকে রিহান ভাইয়া ভাবিকে নিয়ে আসবে এই বাড়িতে তারজন্য এতসব আয়োজন।

সিমি এসব শুনে রিহানের মায়ের দিকে তাকায় আর বলে খালামুনি এসব কি হচ্ছে রিহান তার বউকে নিয়ে আসবে মানে মেহেরকে নিয়ে আসবে। আর তার জন্যই আজকে এতো আয়োজন৷ কিন্তু তুমি যে বললে রিহানের বউ হিসেবে আমাকে আনবে?
আমি সত্যিই রিহানকে ভালোবাসি খালামুনি,তুমি কিছু করো প্লিজ৷
রিহানের মা সিমিকে শান্ত করে বললো রিহানের বউ করে তোকেই আনবো৷ তুই কিছু চিন্তা করিস না, যা হচ্ছে হতে দে৷

রিহান মেহেরের চোখের বাঁধন বাড়িতে ঢোকার ঠিক আগে মূহুর্তেই খুলে দিলো৷ মেহের চোখ খুলে রিহানের বাড়িতে নিজেকে দেখে ও তাড়াতারি বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য উল্টো হাটা দিলো, তখন রিহান মেহেরকে বললো কোথায় যাচ্ছো তুমি? আজ থেকে তুমি এ বাড়িতেই থাকবে।

মেহের রিহানকে কিছু না বলেই আবার বাহিরে উদ্দেশ্য রওনা হলো তখন রিহান বললো তোমার ঐ ফ্লাট এখন আর তোমার নেই। তোমার যাবতীয় সবকিছু এবাড়িতেই নিয়ে আসা হয়েছে।

মেহের রিহানের দিকে জিঙ্গাসু দৃষ্টিতে তাকালে রিহান বললো আমরা ঘুরতে বের হবার পর মিমি আর নিহান সব নিয়ে এসেছে, আর তার জন্যই ওরা আমাদের সাথে ঘুরতে যায়নি।

মেহের- তাহলে এসব আপনার আগে থেকেই প্লেনে ছিলো। এসব কিছু কেন করছেন আপনি?

রিহান- হুম আগে থেকেই প্লেন করে রেখেছিলাম। এখন ভিতরে চলো নাহয় কোলে করে নিয়ে যাবো।

অগত্যা মেহের ভিতরে আসলো। মেহের আর রিহানকে আসতে দেখেই নিহান চিল্লিয়ে বললো ঐতো ভাইয়ারা চলে এসেছে৷

রিহান যখন মেহেরকে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো তখন রিহানের মা এসে মেহেরকে থাপ্পড় মারতে নেয়। তখন রিহান তার মায়ের হাতটা ধরে বললো মা তুমি আগে কি করেছো না করেছো সেসব তুমি ভুলে যাও। মেহের আমার স্ত্রী,আর তুমি আমার স্ত্রীকে এভাবে সকলের সামনে বিনা অপরাধে তার গায়ে হাত তুলতে পারো না।

সিমি- তুমি এসব কি বলছিস রিহান। এই বাহিরের মেয়ের জন্য তুই খালামুনির সাথে এভাবে কথা বলতে পারিস না।

রিহান- বাহিরের মেয়ে আমার স্ত্রী নয় তুই। আর তুই বাহিরের মেয়ে হয়ে আমাদের ফেমিলির পার্সোনাল ব্যাপারে নাক না গলালেই খুশি হবো৷ ফারদার যদি আমার স্ত্রীকে বাহিরের মেয়ে বলিস তাহলে তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এইবাড়ি থেকে বের করে দিতে দ্বিতীয় বার ভাববো না।
রিহানের মা বললো রিহান তুই সিমির সাথে এভাবে কথা বলছিস তাও এই অপয়া মেয়ের জন্য?

রিহান বললো মা তুমি যদি মেহেরকে আরেকবার অপমান করো তাহলে আজকেই আমার এ বাড়িতে শেষ দিন।বুঝতে পেরেছো,
#তুমি_শুধু_আমার
#written_by_ayrin
#part13

রিহান বললো মা তুমি যদি মেহেরকে আরেকবার অপমান করো তাহলে আজকেই আমার এ বাড়িতে শেষ দিন।বুঝতে পেরেছো,

রিহানের কথার প্রতুত্তরে রিহানের মা আর কিছু বলতে পারলোনা। যদি সত্যি সত্যি রিহান চলে যায় এই ভয়ে। রিহানের মাকে চুপ থাকতে দেখে সিমি বললো খালামুনি তুমি রিহানকে কিছু বলছোনা কেন?

রিহানের মা রিহানকে আর কিছু না বলে সিমিকে নিয়ে অন্যদিকে চলে গেলো। সিমি তখন থেকে রিহানের মাকে প্রশ্ন করেই চলেছে তিনি কি মেহের কে মেনে নিয়েছে নাকি? তাহলে তার কি হবে,
রিহানের মা উত্তরে বললো যা করার রিহানের অগোচরে করতে হবে সামনাসামনি করতে গেলে হিতে বিপরিত হতে পারে৷ রিহান এবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারে।
সিমি ও রিহানের মায়ের কথায় সম্মতি প্রকাশ করলো৷

এদিকে রিহান আর নিহান সবাইকে মেহেরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে৷ কেউ কেউ হাসিমুখে কথা বলছে আবার কেউ মেহেরকে দেখে জোরপূর্বক কথা বলছে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। মেহের এসব দেখে মন খারাপ করছে।
দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেলো সবাই যার যার বাড়িতে চলে গেছে। তাহিয়া, রাইসা, মিমি, রিহানের রুমে মেহেরকে নিয়ে এসে শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছে। মেহের বার বার বারণ করছে এসব করতে কিন্তু কে শুনে কার কথা। তারা তাদের মতো করে মেহেরকে সাজিয়ে রেখে দরজা লক করে বাহিরে চলে গেছে।
আকাশ নিহান আর মাহিম মিলে রিহানকে জোর করে পাঞ্জাবি পরিয়ে দিয়েছে। রিহানের ঘরের সামনে এসে রিহানকে বলে এখন যদি তুমি তোমার বউয়ের কাছে যেতে চাও তাহলে আমাদেরকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তারপর যেতে হবে।
রিহান- আমাকে কি দেখে তোদের ক্রেডিট কার্ড মনে হয়৷ বললেই আমি টাকা দিয়ে দিবো। আর তাছাড়া তোরা কিসের জন্য টাকা চাচ্ছিস৷

নিহান-আমরা যে কষ্ট করে সবাইকে ইনভাইটেশন দিলাম৷ তারপর মেহেরের যাবতীয় সব কিছু এখানে নিয়ে আসলাম,তারপর মিমিরা মেহেরকে সাজিয়ে দিলো এসবের জন্য কি আমরা কিছু পাবনা?

রিহান- সবাইকে ইনভাইট করেছিস তারজন্য আজকে ভালো ভালো খাবার খেতে পেরেছিস এটাই তোদের জন্য যথেষ্ট। আর সাজানোর কথা আমি কি বলেছিলাম সাজাতে। নিশ্চয়ই তোরা আমার বউকে আটা ময়দা দিয়ে পেত্নী সাজিয়ে রেখেছিস।
রিহানের কথা শুনে নিহান বললো ওকে নো প্রবলেম তুই ভেতরে যেতে পারিস।
রাইসা – কি বলছিস তুই নিহান। তোর ভাই দেখে তুই এতো তাড়াতাড়ি টাকা না নিয়েই ছেড়ে দিচ্ছিস? এটা কিন্তু ঠিক না আমরা সারাদিন কত কষ্ট করে সব কিছু করলাম।
নিহান- আরে কথা না শুনেই রিয়েক্ট করিস কেন? যা মেহেরকে ভাইয়ার রুম থেকে নিয়ে আয়।
রিহান- মেহের কে নিয়ে আসবি মানে, ও কোথায় যাবে?

নিহান- ও আজকে আমাদের সাথে থাকবে। আর কালকে যেখান থেকে এসেছে সেখানে চলে যাবে।
তারপর রিহানকে আর কোন কথা বলতে না দিয়েই মেহেরকে নিয়ে চলে যায় ওরা।
রিহান বার বার বলেও আটকাতে পারেনি নিহানদের। মেহের ও সুন্দর করে হেটে হেটে নিহানদের সাথে চলে গেছে৷

রিহান মন খারাপ করে নিজের রুমেই বসে আছে আর ভাবছে মেহের কিভাবে পারলো নিহানদের সাথে চলে যেতে। রিহানের মনে অভিমান জন্মেছে। কারণ সে আজকে মেহেরকে সব কিছুর জন্য সরি বলতো আরো অনেক কিছু প্লেন করে রেখেছিলেন। জানে এতো তাড়াতাড়ি ক্ষমা করবেনা আর আমিও ক্ষমার যোগ্য না। তাও চেষ্টাতো করতে চেয়েছিলাম। হয়তো এভাবেই কোন একদিন আমায় ক্ষমা করে দিতে। কিন্তু তুমি তো আমাকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ টাই দিলেনা। থাকো তুমি তোমার ইগো আর ফ্রেন্ডদেরকে নিয়ে। আমার কথা তোমার ভাবার সময়ই নেই।

এসব নিজের মনে একা একাই কথা বলছিলো রিহান। তারপর ভাবলো নিহানকে টাকা দিয়ে দিলেই আবার মেহেরকে এই রুমে নিয়ে আসতে পারবে।

এই ভেবে সে মেহেরদের খুজে রুম থেকে বের হলো। নিহানের রুমে খুঁজলো, না পেয়ে ছাদে গেলো। সেখানে গিয়ে দেখলো সবাই কেমন যেন মাতলামি করছে।

মাহিম- আকাশ আমার হাতটা কোথায়রে? একটু খুজে দে তো,
আকাশ- আমি কিভাবে খুজে দেবো আমিতো আমার চোখই খুজে পাচ্ছিনা।
নিহান- আরে আমার তো হাত পা সব পরি নিয়ে গেছে৷ শুধু মনে হয় মাথাটাকেই রেখে গেছে।

তখন মিমি এসে নিহানের পায়ে লাথি মেরে বললো এই নিহান তোর পা তো এখানেই আছে, কিন্তু পুরো বলের মতো হয়ে গেছে। আর আমার পা ব্যাট হয়ে গেছে এই যে দেখ আমি এখন ছক্কা মারবো,

রাইসা দুটো পেয়ারা পাতা হাতে নিয়ে এসে বললো দেখ আমার হাত কত বড় হয়ে গেছে। আমি এখন এই হাত দিয়ে তুই নিহানকে ছক্কা মারলে আমি কেচ করে নিবো।

তখন মেহের চেচিয়ে বললো কি হচ্ছে কি এখানে?মহা রানির ঘুম ভাঙ্গানোর অপরাধে তোদেরকে কারাগারে বন্ধ করে রাখা হবে।

তাহিয়া মেহেরের হাত টিপে দিতে দিতে বললো শান্ত হোন মহারানী, আপনার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন।

রিহান ওদের কাহিনি বসে বসে দেখছে আর ভাবছে এরা কি খেয়ে এমন মাতলামি করছে৷ এরা আবার বিয়ার টিয়ার খেয়ে নেয়নি তো। সে উঠে গিয়ে মেহেরের সামনে গিয়ে দাড়ালো। তারপর মেহেরকে ধাক্কা দিয়ে বললো কি করছো তোমরা এখানে?

মেহের ঘুৃুমু চেখে একবার রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো কে আপনি?আমার প্রাসাদে আপনি কি করছেন।
রিহান বললো মহারানী আমি আপনার মহারাজ। অনুগ্রহ করে একটু ভালো করে তাকিয়ে দেখেন।
নিহান- এতো তাকাতাকির কি আছে? তাকালেই টাকা দেয়া লাগবে। টাকা নাই বউ নাই বলে সবাই মিলে স্লোগান দিচ্ছে।
রিহান একবার সবার দিকে তাকিয়ে বললো তোরা কিরকম মাতাল। টাকা চাইতে তোদের ভুল হয়না।

মাহিম- কারা মাতাল? আমরা তো প্রেকটিস করছিলাম কিভাবে মাতাল হওয়ার অভিনয় করা যায়।

রিহান- তোদের কান্ডকারখানা শেষ হলে আমি আমার বউকে নিয়ে যাই। কাল সকালে টাকা পেয়ে যাবি। তারপর রিহান মেহেরকে কোলে তুলে নিলো মেহের হাত পা ছুটোছুটি করছে৷ রিহান নিহানকে বললো মিমিদেরকে একটা রুম দেখিয়ে দে? ওদের ও রেস্টের প্রয়োজন। আর তোরা সারারাত সারাদিন মাতলামি কর কেউ তোদের কিছু বলবেনা।

বলেই রিহান মেহেরকে নিয়ে তার রুমে চলে গেলো।
সিমিও ঘুমিয়ে পরেছিলো হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় ছাদের উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছিলো তখন রিহানের কোলে মেহেরকে দেখতে পেয়ে ও সেখানেই দাড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। দাড়িয়ে দাড়িয়ে নিজের মনে ভাবছে কিভাবে মেহেরকে এবাড়ি থেকে তাড়ানো যায়।

রিহান আর মেহেরের পিছু পিছু আকাশ ও নিচে নেমেছিলো। সিমিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললো বুক চিন চিন করছে হায় মন তোমায় কাছে চায়,

সিমি আকাশকে দেখে যত্তসব বলে, আর দাড়িয়ে না থেকে নিজের রুমে চলে আসলো৷ তারপর কালকে কিভাবে মেহেরকে শায়েস্তা করবে সেই প্লেন করছে।

রিহান মেহেরকে রুমে নিয়ে মেহেরকে বেডে বসিয়ে দিলো। মেহের চুপচাপ বসে আছে। রিহান মেহেরের কাছে গিয়ে মেহেরের হাতে একটা রিং পরিয়ে দিয়ে বললো আমি জানি আমি যা করেছি ক্ষমার যোগ্য না। তাও বলছি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর পরবর্তীতে কেউ যদি কোন রকম অপমান করে তাহলে তার উত্তর নিজ দায়িত্বে তোমাকেই দিতে হবে৷ নিজের অধিকারটা নিজে আদায় করে নিতে শিখো৷ অনেক রাত হয়েছে ড্রেস চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে পরো। চিন্তা করো না আমি সোফায় শুয়ে পরবো৷ তুমি বেডেই ঘুমিয়ে পরো।

মেহের এতক্ষণে হাফ ছেড়ে বাচলো৷সে এতক্ষণ ভেবেছিলো রিহান জোর করে তার অধিকার আদায় করবে। এই নিয়ে চিন্তিত ছিলো, এখন নিশ্চিন্তে একটা থ্রি পিস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো চেঞ্জ করতে৷

পরেরদিন সকালে,
মেহের যখন রুম থেক বের হলো তখন নয়টার মতো বাজে৷ রিহান তখন নিচেই ছিলো মেহেরকে দেখে খেতে বসতে বললো। মেহেরেরও ক্ষুধা লেগেছিলো তাই সে আরও না করেনি। রিহানের জরুরী ফোন আসায় সে একটু বাহিরে বের হয়েছিলো।মেহেরকে খাওয়া শুরু করতে বলেছিলো তাই মেহের খাবার বেড়ে নিয়ে খেতে বসলো। যখন মেহের খাবার মুখে দিতে যাবে তখন রিহানের মা এসে মেহেরকে বললো আসছে নবাবজাদী,
এসেই খাওয়া শুরু করেদিয়েছে।এসেছেই তো আমার ছেলেকে শেষ করতে অপয়া মেয়ে কোথাকার৷

তখন রিহান পিছন থেকে বললো মা আমি তোমাকে বলেছিলাম মেহেরকে যদি আরেকবার তুমি অপমান করো তাহলে আমি আর এবাড়িতে থাকবোনা। তুমি নিশ্চয়ই সে কথাটা আমলে নেওনি৷ আমার স্ত্রীকে আমার টাকায় খাওয়ানোর মতো ক্ষমতা আমাকে আল্লাহ দিয়েছে।
যাইহোক তুমিতো তোমার কথা রাখলে না৷ আমিই মেহেরকে নিয়ে চলে যাচ্ছি। রিহান উঠে মেহেরের হাত ধরে সোজা ওর রুমে নিয়ে এসে পরলো,,

#চলবে
#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here