তুমি শুধু আমার পর্ব -১৭

#তুমি_শুধু_আমার
#written_by_ayrin
#part 17

দুই মাস পর,,
রিহান আর মেহেরের সম্পর্ক স্বাভাবিক দম্পতির মতোই। রিহান আগের থেকেও মেহের কে অনেক বেশি কেয়ার করে।মেহের, নিহান, আকাশরা ভার্সিটিতে বসে গল্প করছে তখন মেহের তাড়াহুড়ো করে মুখ চেপে ধরে ওয়াশরুমের দিকে গেলো৷ আকাশ সেটা দেখে বললো এর আবার কি হলো?
নিহান- আবার মনে হয় ফুড পইজনিং হয়েছে,এর আগেও হয়েছে৷
এর মধ্যেই মেহের এসে বললো নিহান চল বাসায় চলে যাই। আমার মাথা ঘুরছে শরীর খারাপ লাগছে৷

নিহান মেহেরকে প্রেগন্যান্ট বলতে গিয়েও বললো না৷ যদি আগের বারের মতো নাহয়, তাহলে তাকে আবার সবার কাছে বকা শুনতে হবে। তাই কিছু না বলে সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হলো৷
বাড়িতে গিয়ে মেহেরের শরীর আরো খারাপ লাগছে দেখে সে শাওয়ার নিয়ে না খেয়েই ঘুমিয়ে পরলো৷

রিহান মেহেরকে ফোনে না পেয়ে তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বাড়িতে চলে আসছে৷ রুমে এসে মেহেরকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ওর কিছুটা চিন্তা হলো। কারণ মেহের কখনো এই সময় ঘুমায় না। সে ফ্রেস হয়ে মেহেরকে আস্তে আস্তে ডাকলো। মেহের রিহানকে দেখে বললো আপনি চলে এসেছেন? কয়টা বাজে এখন?

রিহান- সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, এই অসময়ে ঘুমাচ্ছো যে, শরীর খারাপ? মেহের বললো তেমন কিছু না একটু মাথা ব্যাথা হয়েছিলো,এখন ঠিক আছি।

রিহান বললো কিছু খেয়েছিলে?
মেহের না বলায় রিহান রাগী চোখে মেহেরের দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো৷
মেহের উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলো রিহান খাবার নিয়ে এসেছে।
মেহেরকে দেখে রিহান খাবার মেখে মেহেরের মুখের সামনে ধরলো। মেহের বাধ্য মেয়ের মতো খেয়ে নিলো। তা নাহলে আজ তার কপালে শনি লাগবে। একটু খাবার পরই মেহেরের বমি পাচ্ছে তাই তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে চলে গেলো৷ রিহান বুঝতে পারছেনা মেহের এভাবে কেন গেলো তাই সেও পিছু পিছু এসেছে৷
ওয়াশরুমে গিয়ে দেখলো মেহের বমি করছে। রিহান গিয়ে মেহেরকে ধরলো। মেহের বমি করে ক্লান্ত হয়ে রিহানের বুকেই মাথা এলিয়ে দিলো।
রিহান মেহেরকে কোলে নিয়েই রুমে এসে বেডে শুইয়ে দিলো৷

কিছুক্ষন পর,
রিহান মেহেরকে নিয়ে ডক্টরের চেম্বারে বসে আছে। ডক্টর মেহেরকে চেকাপ করে কয়েকটা টেস্ট করতে দিলো৷ মেহের টেস্ট গুলো করে বাড়িতে চলে আসলো৷ রিপোর্ট আগামীকাল দিবে।

রিহানের বাবা মা মেহের সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে। তখন নিহান এসে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো তোমরা যদি কিছু না মনে করো তাহলে কি আমি একটা কথা বলতে পারি?
রিহানের বাবা বললেন তোর কথা মানেই হলো আজগুবি কথা। ঐ ফাউল কথা শোনার মুডে এখন কেউ নেই।

নিহান- একজন্যই কারো উপকার করতে নেই। আমি তোমাদেরকে একটা খুশির খবর দিতে আসলাম। আর তোমরা আমাকে পাত্তাই দিচ্ছো না।
নিহান রিহানকে ডেকে বললো ভাইয়া একটু এদিকে আসবি তোর সাথে কিছু কথা ছিলো।

রিহান বললো আমি এখন উঠতে পারবোনা৷ তোর দরকার হলে তুই এখানে এসে বল।
নিহান- সবার সামনেই বলবো। ইয়ে মানে এর সাথে তোর প্রেস্টিজের সম্পর্ক আছে।
রিহান না চাইতেও নিহানের কথায় মেহেরের পাশ থেকে উঠে নিহানের কথা শুনতে গেলো। আর ভাবছে এই ছেলের বিশ্বাস কখন কি বলতে কি বলবে মাঝে আমার প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি হবে৷

নিহান রিহানকে বললো ইয়ে মানে বলছিলাম কি, আগের বার যখন বলেছিলাম মেহের প্রেগন্যান্ট তখন তো বলেছিলিস এখনো বেবি হওয়ার মতো কিছু করিস নি৷ বলছিলাম এবার কি বেবি হওয়ার চান্স আছে?

নিহানের কথা শুনে রিহান রেগে নিহানের পিঠে কিল বসিয়ে দিয়ে বললো, দিন দিন এতো বেয়াদব হয়ে যাচ্ছিস৷ বড় ভাইয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়, সেটা তোকে মনে হয় নতুন করে শিখাতে হবে৷

নিহান- আরে ভাই রাগ করছিস কেন? রাগ না করে ঠান্ডা মাথায় লজিক্যালি ভাব, আমার কথাটা।রিহান নিহানের কথাটা তেমন গুরুত্বই দিলোনা। নিহান সেটা দেখে বললো আমার কথা পাত্তা দিলি নাতো দেখবি আমার কথাই সত্যি হবে৷ যাই আমি আমার চাচ্চুর জন্য গিফ্ট নিয়ে আসি বলে চলে গেলো।
________

সিমি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছে। সিমির মা বুঝতে পেরেছিলো সিমি রিহানের প্রতি দূর্বল। আর সিমি ছোট থেকেই অনেক জেদি৷ যেটা চাই সেটা যেকোন মুল্যে তার আদায় করতেই হবে। জেদের বসে সিমি যদি রিহান বাবা মেহেরের কোন ক্ষতি করে ফেলে, সেই ভয়ে সিমির মা তার স্বামী কে বলে সিমিকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর সিমির বিয়েও ঠিক করে ফেলেছেন তারা৷ এখন শুধুমাত্র সিমির রাজি হওয়ার পালা।

________________

রিহান মেহেরের রিপোর্ট নিতে হসপিটালে এসেছে৷ কিন্তু রিপোর্টে যা আছে শুনে সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। চোখ থেকে পানি পরছে তার। সেটা দুঃখের নয় সুখের কান্না। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি ব্যাক্তি রিহানের নিজেকে মনে হচ্ছে। কারণ নিহানের কথাই সত্যি হতে চলেছে। রিহান বাবা হবে।

সে রিপোর্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরতেই রিহানের মা রিহানকে দেখে বললো, কিরে রিপোর্ট নিয়ে এসেছিস । রিহান কোন উত্তর দেয়না তাই তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন কিরে কি হয়েছে কোন সিরিয়াস কিছু, কথা বলছিস না কেন?

রিহান কিছু না বলে তার মা’কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো৷ রিহানের মা রিহানকে কান্না করতে দেখে বললো মেহেরের কি সিরিয়াস কিছু হয়েছে? এভাবে কান্না করছিস কেন?রিহান তার মা’কে ছেড়ে দিয়ে তার রুমে চলে গেলো।

মেহের ঘুমিয়ে ছিলো, কিন্ত তার ঘুমের মধ্যে মনে হচ্ছে কেউ তাকে জরিয়ে ধরে আছে। মেহের ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখলো রিহান তার পেট জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে। মেহের রিহানকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে বললো কি হয়েছে, এভাবে পেচিয়ে রেখেছেন কেন? রিহান কিছু না বলে মেহেরের কপালে চুমু খেলো। তারপর বললো আজকে আমি অনেক খুশি। মেহের রিহানের দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা কি এমন হয়েছে যে রিহান এতো খুশি।
রিহান মেহেরকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখতে বললো, আমার লাইফে স্পেশাল একজন আসছে তাই আমি খুশি।
মেহের- স্পেশাল মানে? কে সে জানতে পারি?(অভিমান মিশানো গলায় কথাটা বললো)

মেহের কে এভাবে কথা বলতে দেখে রিহানের মনে হলো মেহের জেলাস হচ্ছে ?রিহানের এটা ভাবতেই হাসি পাচ্ছে শেষ পর্যন্ত নিজের বেবির উপর জেলাস হলো মেহের।

রিহান মেহেরকে আরো রাগানোর জন্য বললো, অনেক স্পেশাল আমার লাইফে সে। আমি অপেক্ষা করছি তার। কবে সে আমাদের মাঝে আসবে।

মেহের- আমাদের মাঝে আসবে মানে কি? আপনি কি আবার বিয়ে টিয়ে করতে চাচ্ছেন নাকি?কাঁদো কাদো গলায় মেহের রিহানকে প্রশ্ন করলো।
রিহান বুঝতে পারলো বিষয়টা অন্যদিকে মোর নিচ্ছে। তাই সে আর মেহেরকে না রাগিয়ে বললো তোমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে।
মেহের রিহানের দিকে জিঙ্গাসু দৃষ্টিতে তাকালে রিহান মুচকি হেসে বললো তুমি মা আর আমি বাবা হবো।
মেহের কথাটা শুনে খিলখিল করে হেসে বললো মজা করছেন কেন?

রিহান- মজা না সত্যি আমাদের মাঝে ছোট্ট একটা বেবি আসবে। যে আমাদের কে বাবা মা বকে ডাকবে। তুমি প্রেগনেন্ট মেহের।
মেহের অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো সত্যি? মেহেরও খুশিতে কান্না করে দিয়েছে।

তখনই রিহানের মা রুমে আসলো। আর মেহেরকে কাঁদতে দেখে বললো কি হয়েছে তোরা বলবি আমাকে? দুজনেই কাঁদছিস আমার টেনশন হচ্ছে তো।

রিহান বললো বলবো তো, তার আগে বাবা আর নিহানকে ডেকে নিয়ে আসি।রিহান নিহানকে ডেকে নিয়ে এসে বললো তোর কথাই সত্যি হলো মেরে ভাই তুই চাচ্চু হবি।
নিহান দৌড়ে রুমে গিয়ে কালকে বেবির জন্য নিয়ে আসা গিফ্ট গুলো নিয়ে মেহেরের পেটে রেখে বললো ওয়েলকাম আমার মেয়ের জামাই,

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here