তোকে অনেক ভালোবাসি পর্ব শেষ

#তোকে_অনেক_ভালোবাসি (অন্তিম পর্ব ৩১)
#মেঘা_আফরোজ
·
·
·
আদ্র একধ্যানে আরিশার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে কোনো কথা নেই। চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ৩ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে আরিশার এখনো সেন্স আসে নি।
আরিশার মা কেবিনের বাইরে বসে চোখের পানি ফেলছে মেয়ের এমন অবস্থা সহ্য করতে পারছে না। আদ্রর প্রতিও খুব মায়া হচ্ছে তার। আরিশার বাচ্চাটা কাঁদছে এতটুকু একটা শিশু জন্মের ৩ ঘন্টা সময় পেড়িয়ে গেলো অথচ মায়ের আদর মাখা ছোয়াটা পেলো না। এমনকি বাবার কোলে যাওয়ার ভাগ্যেটাও হয়ে ওঠে নি।
আদ্রর বাবা এসে আদ্রর কাধে হাত রাখলো,কারো হাতের ছোয়া পেয়ে আদ্র ঘার ঘুরিয়ে নিজের বাবাকে দেখতে পেয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো…….

বাবা আমার আরু চোখ খুলছে না কেনো? আমার সাথে ও কেনো কথা বলছে না? আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে ওর কি একটুও মায়া হচ্ছে না আমার ওপর? আমাদের পরীটা যে কাঁদছে ও শুনতে পাচ্ছে না। বাবা আরুকে বলো না চোখ মেলে তাকাতে।

আদ্রর বা ছেলেকে এতো ভেঙে পড়তে কখনো দেখে নি। কি বলে শান্তনা দেবে ছেলেকে সে ভেবে পাচ্ছে না। আদ্রর পিঠে হাত বুলিয়ে বললো…….

আরিশা মা চোখ মেলে তাকাবে,আর কারো জন্য না হলেও তোর জন্য তাকাতে হবে ওকে,তোদের মেয়ের জন্য তাকাতে হবে। নিজেকে শক্ত রাখ আল্লাহ কে ডাক।

আদ্র আরিশার হাত আলতো করে ধরে ঠোঁট ছুইয়ে বলতে লাগলো……আমি তোমাকে ছাড়া সত্যি বাঁচতে পারবো না,ফিরে এসো না জান। আমার মনে হচ্ছে আমার কলিজাটা কউ টেনে বেড় করে আনছে। এই আরু সোনা শুনতে পাচ্ছো আমার কথা? জানো আমাদের কিউট একটা প্রিন্সেস এসেছে। তুমি বলেছিলে না মেয়ে দেখতে বাবার মতো হয়। হ্যা আমাদের মেয়েটা আমার মতো হয়েছে। আমার ইচ্ছে করছে ওকে কোলে নিয়ে অনেক অনেক আদর করে দেই কিন্তু আমি ওকে এখনো কোলে নেইনি। তুমি যতক্ষণ আমার সাথে কথা না বলবে আমি পারবো না আমাদের পরীটাকে কোলে নিতে। তোমার মনে আছে আমাদের বিয়ের আগে আমি যখনি তোমাকে বকতাম তুমি আমাকে হনুমান বলে ডাকতে। আমি মনে মনে হাসতাম তোমার মুখে হনুমান ডাক শুনে।

আদ্রর এমন পাগলামো ওর মা সহ্য করতে না পেরে কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেলো। আরিশার মা ছোট্ট পরীটাকে কোলে নিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর মুখের দিকে। হয়তো মেয়ের মুখটা ভেসে উঠছে ওর মুখে।

আরিশা কোনো রেসপন্স করছে না,বামহাতে স্যালাইন চলছে,আর মুখে অক্সিজেন মাস্ক পড়ানো।
আদ্র পারছে না আর নিজেকে শান্ত রাখতে কি করে পারবে অনেক বেশি ভালোবাসে যে তার আরুকে। এদিকে সাদাফ আদ্রর এমন বিহেব সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষণ আগেই বেড়িয়ে গিয়েছে।
আদ্র আরুর ডানহাতটা ঝাকিয়ে চেঁচিয়ে বলতে লাগলো…….

এই আরু আমি তোকে এতো করে ডাকছি তুই শুনতে পাচ্ছিস না। এই তোর ভালোবাসা আমার প্রতি,তুই খুব স্বার্থপর খুব। তোকে ছাড়া বাঁচাটা অসম্ভব কি করে বাঁচবো বল আমার অক্সিজেন তো তুই,সেই তুই না থাকলে কি আমি বাঁচতে পারবো?
আমি তোকে অনেক ভালোবাসি আরু সোনা,অনেক বেশি ভালোবাসি তোকে।

আদ্র চোখের পানি আর আটকাটে পারছে না অঝরে চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে।
.
.
মনিকাকে অথই ফোন দিয়ে আরিশার কথা বলার পরেই ও ছুটে এসেছে হসপিটালে। বেস্ট ফ্রেন্ডের এমন অবস্থা শুনে খুব কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা। মনিকার ছেলে হয়েছে বয়স পাঁচ মাস চলছে। তন্ময় ও এসেছে ওর সাথে। আরিশার কেবিনের সামনে এসে সবাইকে নীরবে বসে থাকতে দেখে খানিকটা চমকে গেলো মনিকা। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো। আরিশার মায়ের সামনে যেতেই আরিশার মা মনিকাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পরলো।

আদ্রর মায়ের কোলের বাচ্চাটির দিকে চোখ পড়তে মনিকা হাত বাড়িয়ে দিলো কোলে নেওয়ার জন্য। মনিকা আরিশার মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করে ওকে নিয়েই কেবিনে ঢুকলো।
আদ্রকে কাঁদতে দেখে কিছুসময় তাকিয়ে থাকলো ওর দিকে। ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই, আর যদিও কাঁদে অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া ছাড়া কাঁদেনা। কিন্তু আদ্র কাঁদছে নিজের ভালোবাসারকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে।

মনিকা আদ্রর পাশে গিয়ে ডাকলো…….

ভাইয়া?

আদ্র মনিকাকে দেখে জড়ানো কন্ঠে বললো…….মনিকা তুমি এসেছো? দেখনা আরু কথা বলছে না আমার সাথে,আমি এতো কথা বলছি ও কি কিছুই শুনছে না?

ভাইয়া আরু কথা বলবে ধৈর্য রাখুন, এই ছোট্ট বাচ্চাটি ওর মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। আপনার এতো ভালোবাসা এমনকি আমাদের সকলকে আল্লাহ নিরাস করবেন না। ভাইয়া আপনার পরীটাকে একটু কোলে নেবেন না??

কেনো নেবো না অবশ্যই নেবো আমার আর আমার আরুর সন্তান ও আমার আরুর প্রিন্সেস ও নিতে তো হবেই। কিন্তু আরু চোখ মেলে তাকানোর আগে ওকে আমি কোলে নেবো না।

মনিকা খানিক চুপ থেকে বাচ্চাটিকে আরিশার ডানহাতের ওপর শুইয়ে দিলো,আদ্রকে বললো……..এই শিশুটি তো কিছুই বোঝে না, ওর জন্ম সাড়ে ৩ ঘন্টা হয়ে এলো এখনো মায়ের আদর পেলো না,তাই বলে বাবার আদরটা পাবে না?

আদ্র মনিকার দিকে একটু তাকিয়ে থেকে বাচ্চাটির দিকে তাকালো ওর দিকেই চেয়ে আছে। আদ্রর চোখ আবারো ভরে এলো ঝুকে বাচ্চাটির কপালে চুমু খেয়ে ওর ছোট হাতটি নিজের মুখে ছুইয়ে বললো…….

আমার পরীটার তার মাকে ছাড়া খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা। বাবাও আদর করছে না। তুমি কি বাবার ওপর রাগ করেছো মামনি? একদম রাগ করবে না তুমি তো তোমার মায়ের মতো গুড গার্ল তাইনা। দেখোনা মামনি তোমার মাকে কতো ডাকছি ও শুনছেই না। তোমাকে আমাকে আমাদের সবাইকে টেনশনে রেখে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে।

মনিকা চোখ মুছে আরিশার বামহাতের দিকে তাকাতে চমকে উঠলো। চেঁচিয়ে বলে উঠলো……..ভাইয়া দেখুন আরুর হাত নড়ছে!

আদ্র আরুর হাতের দিকে তাকাতেই দেখলো ওর বামহাতের আঙ্গুল গুলো নড়ছে।
আদ্র আরুর মুখে হাত দিয়ে বললো……..আরু তোমার সেন্স ফিরেছে! আমি জানি আমার ভালোবাসা হারাতে পারে না আরু চোখ খোলো দেখো তোমার প্রিন্সেস তোমার পাশে শুয়ে আছে।

আরিশা টিপটিপ করে চোখ খুলছে দেখে আদ্রর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আরিশা চোখ মেলে তাকাতেই আদ্রর মুখটা ঝাপসা দেখলো। আবারো চোখ বন্ধ করে কয়েকসেকেন্ড পর চোখ মেলে আদ্রর মুখটা স্পষ্ট দেখতে পেলো। আদ্রর ফ্যাকাসে মুখটা দেখে আরিশার চোখের কোনা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
.
.
আরিশার সেন্স ফিরেছে শুনে সবাই দৌড়ে কেবিনে এলো ওকে দেখতে। ডাক্তার এসে আরিশার অক্সিজেন মাস্কটা খুলে ওকে চেক করে বললো……উনি এখন বিপদ মুক্ত উনার মেইন প্রবলেমটা ছিলো শ্বাসকষ্ট। আমরা তো আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম যে পেসেন্ট হয়তো…যাই হোক উনি এখন ঠিকআছেন তবে শ্বাসের প্রবলেমটা দেখা দিতে পারে কেয়ারফুল থাকতে হবে।
আপনারা উনার সামনে কেউ কান্না কাটি করবেন না এতে প্রবলেম হতে পারে। আর ১জনের বেশি কেউ থাকবেন না এখানে।

ডাক্তার বেড়িয়ে গেলো। সবার চোখে পানি তবে মুখে হাসি। সবাই একটু আধটু কথা বলে বেড়িয়ে গেলো। কেবিনে এখন শুধু আরিশা আদ্র আর ওদের ছোট্ট পরী।
আরিশার বামহাতে এখনো স্যালাইন চলছে, আরিশা ডানপাশে তাকিয়ে দেখলো ওদের পরীটা হাত মুখে পুরে রেখেছে। আরিশা ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে আদ্রর দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো……আমাদের প্রিন্সেস??

হুম আরু সোনা ও আমাদের প্রিন্সেস।

আরিশা হাত হালকা নাড়াতে আদ্র বাচ্চাকে কোলে তুলে নিলো। ওর কপালে মুখে মাথায় চুমু খেয়ে বললো…….দেখেছো মামনি আল্লাহ তোমার আমার কষ্টটা বুঝতে পেরেছে,তোমার মাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

আরিশা হাত উচু করে আদ্রর মুখে হাত বুলিয়ে বললো…….অনেক পাগলামো করেছো তাইনা? কেঁদেছো কেনো জানো না ছেলেদের কাঁদতে নেই।

কই আমি কাদিনি তো। একটু কষ্ট হয়েছিলো।

হুম আমি জানি আমার বরটার কতোটা কষ্ট হয়েছিলো। তোমার চোখ মুখ দেখেই আমি বুঝতে পারছি। আমাকে একটু বসিয়ে দেবে,আমার প্রিন্সেস টাকে কোলে নেবো।

আদ্র একহাতে মেয়েকে ধরে অন্য হাত দিয়ে আরিশাকে দেয়ালে বালিশ রেখে হেলান দিয়ে বসিয়ে মেয়েকে আরিশার কোলে দিলো।
আরিশার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে…….আদ্র আমি মা হয়েছি,ও আমার মেয়ে আমার যে কতো খুশি লাগছে তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না।

আদ্র মুচকি হেসে বললো…….আমি জানি সোনা তুমি অনেক খুশি হয়েছো। আমিও খুব খুশি হয়েছি ওকে দেখে কিন্তু তোমাকে হারানোর ভয়টা আমার মনে গেথে গিয়েছিলো যার কারনে আমি ওকে কোলে নেইনি আদরও করিনি। আমি বলেছিলাম তোমার সেন্স না ফেরা পর্যন্ত আমি ওকে কোলে নেবো না। আমাকে তুমি মাফ করে দাও আরু আমাদের মেয়েকে আমি কোলে নেই নি তখন।

আরিশা আদ্রর অবস্থাটা বুঝতে পারছে। আরিশাকে যে আদ্র কতোটা ভালোবাসে সেটা ওর অজানা নয়। আরিশা মুচকি হেসে বললো…….মাফ কেনো চাইছো আমি বুঝতে পারছি তুমি কেনো এমন করেছো।

হুম আমার মিষ্টি বউ তো তুমি। আচ্ছা আরু আমাদের প্রিন্সেস এর কি নাম রাখবো বলোতো??

ওর নামটা তোমার আমার নামের সাথে মিলিয়ে রাখবো। উমমম ওর নাম আদ্রিশা রাখলে কেমন হয়?? তোমার আমার দুজনের নামই থাকবে।

ওয়াও,নাইস নেম। হুম খুব সুন্দর নাম। আমার মাথায় তো এমন কোনো নামই আসেনি। আমাদের নামের সাথে মিলিয়ে কি সুন্দর একটা নাম সিলেক্ট করেছো তুমি।
(গত পর্বে একটা আপু কমেন্ট এ আদ্রিশা নামটি বলেছিলো সেটাই দেওয়া হলো)
.
.
এক সপ্তাহ পরে আরিশা অনেকটাই সুস্থ। এই এক সপ্তাহ আদ্র তার আরু আর তাদের ছোট্ট পরী আদ্রিশাকে একা রেখে ১০ মিনিটের বেশি বাইরে থাকে নি। নিজের দিকে তার কোনো খেয়াল নেই। আদ্রর পৃথিবী বলতে নিজের ভালোবাসা আরু আর ওদের মেয়ে। আদ্রকে কেউ জোর করেও বাড়িতে নিতে পারেনি। আদ্রর এমন ভালোবাসা দেখে হসপিটালের ডাক্তার নার্সরাও অবাক হয়েছে।
আরিশা হসপিটালে আর থাকতে চাচ্ছে না। আদ্র ডাক্তারের সাথে কথা বলে আরিশাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

আদ্রদের বাড়িতে আজ খুশির আমেজ কেননা আরিশা সুস্থ হয়ে আবারো এই বাড়িতে পা রেখেছে। আর সাথে নতুন মেহমান এসেছে বাড়িতে।
আরিশাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আদ্র সবার সামনেই কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকছে। আরিশা তো লজ্জা পেয়ে আদ্রর বুকে মুখ লুকিয়েছে সবাই মুখ টিপে হাসছিলো আদ্রর কান্ড দেখে।
আরিশাকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও পাশে বসে পড়লো। অথই দৌড়ে এসে আরিশার অন্য পাশে বসে আরিশার গালে কিস করলো।
আরিশা হা করে ওর দিকে তাকাতেই হেসে বললো……..

আই মিস ইউ ভাবি। অনেক অনেক অনেক মিস করেছি তোমায়। আমি কিস করেছি বলে রাগ করেছো তুমি??

আরিশা হেসে অথই এর গাল টেনে বললো…….না বনু একটুও রাগ করি নি। আমিও তোকে খুব মিস করেছি।

ভাবি আদ্রিশা কোথায়??

ওই তো আদ্রিশা মায়ের কোলে।

আরিশার মা নাতনীকে কোলে নিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকছে। অথই দৌড়ে গিয়ে বললো…….ছোট কাকিমা আমার কাছে দাও ওকে।

অথই আদ্রিশাকে কোলে নিয়ে আরিশার পাশে বসলো। ওর সাথে কথা বলছে আর একটু পর পর চুমু খাচ্ছে।…….ভাবি ও কত্তো কিউট হয়েছে। দেখোনা আমার দিকে চেয়ে আছে কিভাবে। ইসস ইচ্ছে করছো খেয়ে ফেলি।

আরে অথই আমার মেয়ের মাঝে কি মিষ্টি পেয়েছিস যে খেয়ে ফেলবি?

ভাইয়া তোমার মেয়ে সত্যি মিষ্টি। আমার তো ওর দিক থেকে চোখ সরাতে মন চাইছে না।

আদ্র অথই এর পাশে বসে আদ্রিশার ছোট্ট হাতটি ধরে বললো…….মামনি এটা তোমার ফুপ্পি হয় বুঝেছো। সব সময় ওকে জ্বালাবে কেমন।

অথই হেসে উঠে বললো…….ও আমাকে জ্বালাবে তাতে আমার কোনো প্রবলেম নেই। এমন একটা মিষ্টিপরীর জ্বালাতন কোনো ব্যাপারি না। ভাবি ওকে কিন্তু আমি রাখবো সব সময় শুধু তোমাদের রোম্যান্স টাইমে ওকে তোমাদের রোম্যান্স এর ব্যাঘাত ঘটাতে পাঠিয়ে দিবো।
আরিশা জোরে হেসে উঠলো আদ্র চোখ বড় বড় করে বললো……

কি বললি তুই??

কই কিছু বলিনি তো। এইযে আমার মিষ্টপরীটা চলো আমরা যাই এখান থেকে।

অথই চলে যেতে আদ্র বললো……দেখেছো অথইটা কতো পাজি হয়েছে।

হবে না কেনো তোমারই তো বোন তাইনা।

আরু কি বললে তুমি আমি পাজি??

এমা এটা কখন বলেছি আমি! তুমিও না বেশি বুঝো।
.
.
দেখতে দেখতে ছয়মাস কেটে গিয়েছে। আরিশা এখন পুরোপুরি সুস্থ তবে শ্বাসকষ্টের প্রবলেমটা মাঝে মধ্যে হয় তখন ইনহেলার ব্যাবহার করে। আদ্রিশা এখন হাসে হাত পা নাড়িয়ে খেলা করে। আদ্রর বাবা আর আরিশার বাবা যতক্ষণ বাড়িতে থাকে আদ্রিশাকে নিয়েই সময় কাটায়। আরিশা আবারো ভার্সিটি যাওয়া শুরু করেছে মেয়েকে বাড়িতে মা আর শাশুড়ির কাছে রেখে যায়। বেশ ভালোই কাটছে ওদের নতুন জীবন।

আরিশা ডিনার শেষ করে সব গুছিয়ে উপরে আসতেই আদ্রিশার কান্নার আওয়াজ শুনে দ্রুত রুমে যায়।
আদ্র মেয়েকে কোলে নিয়ে রুমের এপাশ ওপাশে হেটে নানা রকম কথা বলে ওকে থামানোর চেষ্টা করছে।

কি হয়েছে আমার মামনির ক্ষিদে পেয়েছে? একটু অপেক্ষা করো মামনি তোমার আম্মু এখনি চলে আসবে। তুমি তো গুড গার্ল তাইনা কান্না অফ করো,বাবা তোমাকে অনেক গুলো চকলেট কিনে দিবো।

আরিশা দরজায় দাড়িয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো। হাসির শব্দ পেয়ে আদ্র পেছনে ঘুরে আরিশাকে দেখে বলতে লাগলো…….আরু এসেছো তুমি। নাও ওকে থামাও আমি আর পারছি না।

আরিশা হাসতে হাসতে আদ্রিশাকে কোলে নিয়ে বললো…….তুমি ওকে চকলেট কিনে দিবা! ওর চকলেট খাওয়ার বয়স হয়েছে নাকি??

তুমি এই কারনে হাসছো। এতো হাসির কি আছে ওটা তো ওকে থামানোর জন্য বলেছি যেমন তোমাকে বলতাম।

কি বলতে আমাকে তুমি??

আমার আরু সোনা তো এখন বড় হয়েছে সব বুঝতে পারে। আগে তো অবুঝ ছিলো তখন যদি রাগ করতো চকলেট বা আইসক্রিম এর কথা বললে তার রাগ পানি হয়ে যেতো। আর ও তো তোমার মেয়ে তাই ভাবলাম এটা বললে হয়তো থামবে।

মেয়ের সাথে থেকে থেকে তুমিও ওর মতো বাচ্চা হয়ে গেছো। ও যে এখনো কিছু বুঝতে শেখেনি এটা তোমার মাথায় নেই।

আদ্র কিছু বলতে চেয়ে অবাক হয়ে বললো…….একি আদ্রিশার কান্না থেমে গিয়েছে!!

হুম থেমে গিয়েছে কিছুসময়ের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়বে। তুমি হয়তো ওকে চিমটি কাটো তাই ওভাবে কান্না করে দেখো আমার কোলে আসতেই শান্ত হয়ে গিয়েছে।

আমি ওকে চিমটি কাটবো কেনো। ওর বাবা ওকে খুব ভালোবাসে বুঝেছো??

হ্যা তার জন্যই তো ওর জন্মের পর ওকে কোলে নাও নি।

আরু ও কথা বলোনা,আমার মাথা ঠিক ছিলো না তখন।

হুম। অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো।

আদ্রিশা ঘুমিয়েছে??

হ্যা।

আদ্র বেডে শুয়ে আরিশার হাত ধরে টেনে বুকে নিয়ো এলো। দুহাতে জড়িয়ে নিয়ে বললো……মেয়ে তো ঘুমিয়ে পড়েছে এখন অন্তত মেয়ের বাবাকে সময় দাও।

কেনো তোমাকে আমি সময় দেই না বুঝি??

হ্যা দাও তবে আমি আরো বেশি সময় চাই আমার মিষ্টি বউয়ের থেকে।

আরিশা আদ্রর বুকে মুখ গুজে দিয়ে বললো……আমার পুরোটা জুরে শুধু তুমি। তোমার মতো জীবনসঙ্গী পেয়ে আমি ধন্য। আমার জীবন বলতে তুমি আর আদ্রিশা তোমাদেরকে আগলে আমি বাকীটা জীবন বাঁচতে চাই।
জানো আদ্র তোমার বুকটা আমার জন্য পরম শান্তির জায়গা। অনেক বেশি ভালোলাগা কাজ করে। আমার প্রতি তোমার গভীর ভালোবাসা অনুভব করি এই বুকে।

আদ্র হাতের বাধনটা আরো শক্ত করে নরম স্বরে বলতে লাগলো…….আরু তুমি সত্যি আমার অক্সিজেন,তোমাকে বুকে জড়িয়ে আমিও খুব শান্তি পাই মন ভরে নিশ্বাস নিতে পারি। তোমাকে হারিয়ে আমি হয়তো সত্যি বাঁচতে পারতাম না। আমাদের মেয়ে আর তুমি আমার সব, তোমাদের ওপর আমি কখনো কোনো খারাপ ছায়া পড়তে দেবো না।

ভালোবাসি আদ্র অনেক ভালোবাসি তোমাকে।

আদ্র আরুর কপালে ঠোঁট ছুইয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো……..আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি আরু সোনা।

—(সমাপ্ত)—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here