#তোমার_পিছু_পিছু
পর্ব-২২+২৩+২৪
১ সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর……বর্ন আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই সিদ্ধান্ত নিলো অফিসে যাবে….. এবং যাবেই যাবে…… যেই ভাবা সেই কাজ…. সকাল সকাল উঠেই তৈরী হয়ে রুম থেকে বের হতেই পারভিন বেগমের আহাজারি শুরু…….. উনি কিছুতেই ছেলেকে ছাড়বেন…. এবং ছেলেও নাছোড়বান্দা যাবেই যাবে…..মা’কে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বর্ন যখন গাড়িতে উঠল তখন অলরেডী ১০.৪১বাজে।
বর্ন অফিসে এসেই সোজা তামান্নার ডেস্কের সামনে….
-গুড মর্নিং, মিস তামান্না।……… মিস তামান্না দুইকাপ কফি নিয়ে চট করে আমার কেবিনে আসুনতো…. আর্জেন্ট…. হারি আপ… হারি আপ….
তামান্না ওর নোটবুক থেকে চোখ না সড়িয়েই এতোক্ষন বর্নর কথা শুনলো… এবং বাধ্য মেয়ের মত উঠে গিয়ে কফি আনতে গেলো….
বর্ন নিজের কেবিনে প্রবেশ করে ছোট খাটো একটা ধাক্কা খেলো….
সোফায় বসে সামনের টি-টেবিলে পা তুলে… দুই হাত ভাজ করে নীলময়ী ঝিমুচ্ছে…… বর্ন এগিয়ে গিয়ে পাশে দাড়াতেই….
-হ্যালো দেয়ার…গুড মর্নিং মিস্টার……
-গুড মর্নিং নীলময়ী…. কেমন আছেন…..
নীলময়ী বড় বড় দু’টা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল
-হুম… অক্সিজেন ভিতরে যাচ্ছে,,,কার্বন-ডাইঅক্সাইড বাহিরে আসছে…. তার মানে জীবিত আছি……
বর্ন উত্তর দেয়ার আগেই দরজায় নক পড়ল। “কাম ইন” বলতেই,,,,তামান্না ভিতরে এসে একটা ছোট ট্রে থেকে দুই কাপ কফি নামিয়ে টি-টেবিলের উপর রাখল।এবং যেমন নিঃশব্দে এসেছিলো…. ঠিক তেমন নিঃশব্দেই চলে গেলো। বর্ন কিছুক্ষন ওর গমন পথের দিকে ভ্রু কুচকে চেয়ে রইল।
-হ্যালো মিস্টার….. আমি কিন্তু আজ শুধু শুধু আসিনি….. অনেক বড় একটা কারনে এসেছি…..
বর্ন শুধু তাকিয়ে রইল…..
-এভাবে তাকিয়ে কেনো!!! বাড়ে ভুলে গেছেন নাকি… আমি কিন্তু আপনার কাছ থেকে টাকা পাই……
বর্নর কনফিউশন আরো বেড়ে গেলো…..
-স… সরি….. আমার আসোলেই মনে নেই….. ইয়ে… কত…. মানে আপনি কত টাকা পান আমার কাছে…..
বিব্রত ভঙ্গিতে মাথার পিছন চুলকাতে লাগলো বর্ন….
-পুরো ১৫টাকা….
-জ্বী!?
-ওহহো…. সেদিন মাগনা মাগনা আইসক্রিম খেলেন…. টাকা দিবে কে?
-কিন্তু ১৫ টাকা যে ভাংতি নেই!!!
-আমি কি বলেছি আমি ১৫ টাকা নিবো!?
-ইয়ে,,,না,,,,মানে,,,,আসলে…..
-চলুন….আজকে আমার ঘুরার শখ হয়েছে…. ঘুরবো আমি আজকে….. আর ১৫ টাকা সময়মত না দেওয়ায় আপনার জরিমানা…… আপনিও ঘুরবেন আমার সাথে…..
-হুম… বুঝলাম….. আমি কিন্তু অতো কিছু একটা চিনি না…..
-নো সমস্যা….. চিনতে চিনতে ঘুরবো…… বুঝলেন….।
বর্ন আর নীলময়ী কেবিন থেকে বের হয়ে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো। কিন্তু কিছু দূর যেয়ে বর্ন আবার ফিরে এলো…… এবং তামান্নার ডেস্কের সামনে দাড়ালো।
-মিস তামান্না,,,,আপনাকে আমি ঠিক ৩০ সেকেন্ড সময় দিচ্ছি….আপনার টেবিলের এই ছড়ানো কাগজপত্র গুছাতে এবং ডেস্কটপ অফ করতে……
তামান্না কিছুটা বিরক্তি আর কিছুটা বিভ্রান্তি নিয়ে তাকালো বর্নর দিকে…..
-স্যার…..কিছু পেপারসের কাজ…………………
-মিস তামান্না…. আপনি আমার এসিস্ট্যান্ট…… যদি আমিই অফিসে না থাকি তাহলে আপনি কার জন্য থাকবেন………
-কিন্তু স্যার….. এই পেপার গুলো অনেক……………
-মিস তামান্না ইউ আর রানিং আউট অফ ইউর টাইম…. অনলি টেন সেকেন্ডস লেফট…..
-আরে ধুরররর…… এত ধানাই পানাই কেনো করছেন….. এক কাজ করুন মিস তামান্নাকে আপনার কাধে তুলে নিন…..
বর্নর পিছন থেকে নীলময়ী উচ্ছ্বসিত গলায় আইডিয়া দিলো……..
বর্ন কিছুক্ষণ নীলময়ীর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,
-হুম,,,গুড আইডিয়া…..
বর্ন কিছু করার আগেই,,,,,,,তামান্না তড়িঘড়ি করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো….. তাড়াতাড়ি ডেস্কটপ অফ করল। টেবিলের ফাইল পেপারস তাড়াহুড়ো করে ঠিক করতে গিয়ে হাতের ধাক্কায় পানির গ্লাস ফেলে দিলো…….
ফাইল পেপারস পানিতে ভিজে একাকার…. কাচের গ্লাস গড়িয়ে পড়ে গেলো ফ্লোরে।
👇👇👇
নীলময়ীর চিৎকার চেচামেচিতে প্রথমেই যেতে হলো একটা রেস্টুরেন্টে……. তামান্না কিছুই নিলো না….. শুধু হাত গুটিয়ে বসে রইল……. এভাবে হুমকি দিয়ে বাহিরে আনার কোন মানে হয়!!!! এই লোকের নামে কেস করতে পারলে হত……. হুহ!!!
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যেতে হলো…..কর্নফুলী গার্ডেন সিটি, শপিংমলে…….। ঢাকায় বছরকয়েক আগে এলেও তামান্না এদিকটায় আসে নি,,,,এমনকি তামান্না এর আগে এসব শপিং মলেও আসেনি….. তামান্নার শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। এরকম যায়গায় আসাতো ভাগ্যের ব্যাপার…… তামান্নার মনটা হঠাৎ অনেক খুশী খুশী হয়ে গেলো। খুশীতে একটু নাচলে কেমন হয়…… তামান্নার দুই গাল হাসিতে টুলটুল করতে লাগলো…… সামনের এই খবিশ বদমাশ স্যারটাকেও তামান্নার অতি মহান লাগতে লাগলো…….
তামান্না লক্ষ্য করল ও বর্ন আর নীলময়ী থেকে হাকলা একটু পিছনে হাটছে….. বর্ন আর নীলময়ী সামনা পাশাপাশি। কিছু একটা বলে নীলময়ী খুব হাসছে…….
তামান্নার ওদের দুইজনকে একসাথে দেখল একমনে……….. একদম পার্ফেক্ট ম্যাচ!!! একদম রাজকুমার আর রাজকুমারীর মত…… আর তামান্না!!! ওদের পেয়াদা…… আর দু-চারজন পাইক পেয়াদা সাথে থাকলে একদম খাপে খাপে মিলতো……..
মাথা নিচু করে ফোস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো…… এটাই কি বাস্তব না!!! বামুন হয়ে চাদে হাত দেওয়া খুবই ভয়ানক ব্যাপার……. ও একটা শান্তিপূর্ণ জীবন চায়…… এসব ভয়ানক কাজ করে জীবন ঝামেলাযুক্ত করার মানে হয় না…..।
👇👇👇
-মিস তামান্না…. হ্যালো মিস তামান্না….. শুনছেন!!
বর্নর ডাকে হুশ ফিরলো তামান্নার…. এতোক্ষন ও তাকিয়ে ছিলো গ্লাসের নিচে ডিসপ্লের ডায়মন্ড রিংগুলোর দিকে…. আসলে রিং না… তামান্না দেখছিলো প্রাইস ট্যাগগুলো …. প্রাইস দেখে তামান্নার মাথা ভনভন করতে লাগল। তামান্নার ডান পাশে নীলময়ী একটা রিং নিয়ে গুতাগুতি করছে….. আর বা পাশে বর্ন।
-মিস তামান্না আপনি ঠিক আছেনতো….. আপনার চেহারা এরকম ফ্যাকাসে হয়ে আছে কেনো!!!!
-না…. না স্যার আছি….. আমি আছি………..
-মিস তামান্না দেখুনতো কোন দুলটা বেশি সুন্দর…..
বর্ন তিনটা ডায়মন্ড ইয়ারিং দেখালো…… তামান্না বেশকিছুক্ষন দেখে ছোটজোরা ইয়ারিংটা দেখালো চোখের ইশারায়…..
-হুম…. আমারও এটাই পছন্দ হয়েছিলো…….
বর্ন সেলসম্যানকে বলল,,,
-আই উইল টেক দিস ওয়ান
-ওকে স্যার….. ইটস সেভেন্টি ফাইভ থাউজেন্ট টু হানড্রেড টাকা অনলি।
তামান্নার কান ঝাঝা করতে লাগল। কোনরকমে শুকনো গলায় বলল
-স্যার একগ্লাস পানি খাবো…….।
#তোমার_পিছু_পিছু
পর্ব-২৩
তামান্নার সারাটাদিন কাটলো শপিংমলেই। নীলময়ীর পিছন পিছন ও আর বর্ন সম্পুর্ণ শপিংমল বোধহয় ৫ বার চক্কর দিয়ে ফেলেছে….. শেষেরদিকে তামান্নার পা ব্যাথায় টনটন করতে লাগলো। তাই যখন ওরা মলের এক্সিট ওয়ের দিকে হাটা ধরল তামান্না যেনো হাফ ছেড়ে বাচল….…দ্রুত বাসায় যাওয়া প্রয়োজন….. এখন যদিও তামান্না একা থাকে…. দেড়ি করলেও কেউ কিছু বলার নেই……. কিন্তু এই উটকো ঝামেলা থেকে যত দ্রুত সম্ভব ছুটকারা পাওয়া প্রয়োজন।
শপিংমল থেকে বের হয়ে তামান্না একপ্রকার দৌড়াতে শুরু করল।
-মিস তামান্না…. ওহো মিস তামান্না….. আপনি এরকম দৌড়াচ্ছেন কেনো!!!
বর্নর কথায় পিছন ফিরলো তামান্না…..
-ইয়ে মানে স্যার….. আসলে এখনতো ৫টার বেশিই বাজে….. তাই ভাবছিলাম আর কি….. ইয়ে…. আমি নাহয় বাসায় চলে যাই!!
-আপনি আমাকে ফেলেই চলে যাচ্ছেন কেনো!!!
-জ্বী?
তামান্না ভ্রু কুচকে চেয়ে রইল বর্নর দিকে। এই ব্যাটা কি বলতে চায় !?
-চলুন গাড়িতে উঠুন…..
-না স্যার ঠিক আছে…. আমি স্যার কোন একটা বাসে উঠে যাবো….
-বাসে যাবেন কেনো….. আমি পৌছে দিচ্ছি….. আর তাছাড়া এখন বাস পা…………………
-অইতো,,, অইতো স্যার,,,,, আমার বাস চলে যাচ্ছে….. আমি আসি স্যার……
বর্নর জবাবের অপেক্ষা না করেই তামান্না প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে একটা বাসে উঠে পড়ল।
বর্ন তাকিয়ে রইল বাসের দিকে…… বাসে যাতায়াত করা কি এতোই মজার!!!
কাধে কারো হালকা চাপড় পেয়ে বর্ন ঘুরলো….. নীলময়ীর হাতে কোল্ড কফি,,,,স্ট্রটা কফিতে ঘুরাতে ঘুরাতে নীলময়ী বলল
-কি ব্যাপারে!!! আমাদের বিজোড় সংখ্যা কই?
-বাসায় চলে গেলো…..
-আর আপনি যেতে দিলেন!!!! ধুররর মিয়া!!! আমার ঘুরাঘুরিতো এখনো শেষই হয়নি…… আরে আমার ডিনারও বাকি!!! ওহ নো!!!!
বর্ন একবার আকাশের দিকে তাকালো…. মেঘ করতে শুরু করেছে……
👇👇👇
ঠিক ১০টার দিকে বর্নর গাড়ি নীলময়ীদের বাড়ির সামনে…হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে……. নীলময়ী ঘুমিয়ে পানি হয়ে আছে। বর্ন খুব সাবধানে ওকে ডাকতে শুরু করল। জেগে উঠে নীলময়ী খুব আয়েশ করে আড়মোড়া ভাংলো,,,,গাড়ি ছেড়ে একবার বের হওয়ার আগে….
-থ্যাংক্স টু ইউ….. আমার দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
নীলময়ী গাড়ির দরজার হাত রাখতেই বর্ন হালকা করে ডাকলো….. নীলময়ী দেখল,,বর্ন পকেট থেকে একটা ব্লু ভেলবেট বক্স বের করল।
-ইয়ে মানে নীলময়ী….. হ্যাপি বার্থডে…… এটা…. ইয়ে,,, আরকি,,,,, আপনার জন্য……
নীলময়ী এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে বক্সটা নিলো।
– আপনাকে কে বলল,,,,,আজ আমার………
-তখন,,,,,,,,,দুপুরে,,,,,,, রেস্টুরেন্টে আপনি একটা আস্ত বার্থডে চকলেট কেক অর্ডার করলেন….. এবং সারাদিন কিছুক্ষন পর পর আপনার ফোন চেক করছিলেন…….. তাই আমি ভাবলাম….. আর কি……. ইয়ে,,,,, আমার ধারনা ভুলও হতে পারে……
নীলময়ী বক্সটা খুলল,,,খুব সুন্দর একজোড়া ছোট ডায়মন্ড ইয়ারিং…..
-বাবা….. আজ সারাদিনেও একবার আমাকে উইশ করেনি জানেন…… তাই ফোন চেক করছিলাম
…।
তারপর কিছুক্ষন নিঃস্তব্ধতা।
-ধন্যবাদ…. গুড বয়…….
নীলময়ীর কেনো যেনো হঠাৎ খুব কান্না পাচ্ছে….. গাড়ির দরজায় আরো একবার হাত রাখতেই বর্ন আবার ডেকে উঠল।
-নীলময়ী……ধন্যবাদ আপনাকেও।
-অগ্রীম? ঠিক আছে….. আপনার বার্থডে -তেও আমি গিফট কিনে দিবো।
মুচকি হাসলো বর্ন….
-তার প্রয়োজন নেই….. আপনি নিজেই আমার জন্য গিফট……. নীলময়ী আপনি কি জানেন,,,,,,, আমার জীবনে আপনি আমার প্রথম বন্ধু…… আপনার আগে আমার কোন বন্ধু ছিলো না…….. ক্লাসমেট ছিলো,,,, যাদের আমি বন্ধু বলতাম……. কিন্তু আপনি আমার সত্যিকারের……,,এবং….. এবং………… এই বন্ধুত্বটা আমি খুব যত্ন করে রাখবো……… তাই আপনাকে ধন্যবাদ নীলময়ী।
কিছু না বলেই নীলময়ী গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে গেলো……. এখন ওর আরো বেশি করে কান্না পাচ্ছে……
👇👇👇
রাত ১১টার কাছাকাছি বাজে….তামান্না বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে। ওর মাথা প্রচন্ডরকম ধরেছে। টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ ওর মাথায় ডুমডুম আঘাতের মত লাগছে। কি মুসিবত!!! সারাদিন হাটাহাটি করে পা ব্যাথা করার কথা…… মাথা কেনো ব্যাথা করছে,!!!! মাথাটা কেটে ফেলল কেমন হয়!!
হঠাৎ ফোনের আওয়াযে তামান্না উঠে বসল,,, ফোনটা হাতে নিল। অপরিচিত নাম্বার। কার হতে পারে!! ফোনটা রিসিব করে “হ্যালো” বলতেই অপর পাশ থেকে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে প্রশ্ম এলো,
-মিস তামান্না,আপনাদের ওখানে কি বৃষ্টি হচ্ছে?
-শুধুমাত্র আমাদের এখানে না স্যার, পুরো ঢাকাতেই বৃষ্টি হচ্ছে।
-মিস তামান্না, আপনাদের বাসার উপর কি ছাদ নাকি টিনের চাল?
-টিনের চাল, স্যার।
– টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ খুব দারুণ শোনায় তাই না,,!
-জ্বী স্যার, এতোই দারুণ শোনায় যে তা একদম আমার মাথার ভিতর ঢুকে গেছে।
-আমাদের বাড়িতেতো ছাদ তাই আমি শুনতে পারবো না,, কিন্তু জানেন জানলার কাচে বৃষ্টি ঝাপটা মেরে যে শব্দ করে তাও কিন্তু দারুন।
-বলতে পারবো না স্যার, আমি টিনের চালে অথবা কাচের জানালায় বৃষ্টি পড়ার শব্দ কখনো মনযোগ দিয়ে শুনিনি।…………..কিন্তু…..…
-কিন্তু!
-কিন্তু ঝুম বৃষ্টিতে কোনো বিশাল বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গাছের পাতায় পাতায় বৃষ্টি পড়ার শব্দ শোনাটা আমার কাছে দারুন লাগত।
-তাই নাকি,,!! আসলেই তো,,এইদিকটা কখনোই আমি ভাবি নি।আচ্ছা, মিস তামান্না, আপনি কখনো এরকম বৃষ্টিতে ধোয়া উঠা গরম চায়ের কাপ নিয়ে বাগানে বসে কখনো চা খেয়েছেন।
-না স্যার, এরকম সৌভাগ্য আমার কখনো হয় নি।
-উপর দিয়ে ঠান্ডা বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে আর ভিতরে যাচ্ছে গরম গরম চা।ঠান্ডা গরম একসাথে।অন্যরকম এক অনুভুতি জানেন।
-কিন্তু স্যার, ঝুম বৃষ্টিতে পুকুরে চিৎ সাতার দেওয়ার অনুভূতিও কিন্তু অসাধারণ, তা জানেন কি!!
-কিন্তু আমি যে সাতার পারি না।
বর্ন এমনভাবে কথাটা বলল যে তামান্নার হাসি চলে এলো। কিন্তু হাসিটা চাপিয়ে গেল। বসের কথা শুনে কোনো এমপ্লয়ি যদি হাসে সেটা কি ভালো হবে,,,!!
-আচ্ছা মিস তামান্না আপনার কি গোলাপ ফুল ভালো লাগে,,লাল লাল গোলাপ ফুল?
– না স্যার। কোনো স্ট্রং স্মেলের ফুলই আমার পছন্দ না।
-ও তাহলে!!
– তাহলে,,,!!! আমার জাতীয় ফুল পছন্দ।
-মানে!!
-জাতীয় ফুল অর্থাৎ সাদা সাদা ধবধবে শাপলা ফুল। নৌকা বেয়ে শাপলা ফুল তোলা খুবই মজার একটা ব্যাপার…………….
-মিস তামান্না শু…………………..
ফোনটা কেটে গেল। ফোনটা নামিয়ে রেখে তামান্না দেখল ওর মনটা ফুড়ফুড়ে হয়ে গেছে। খুশি খুশি লাগছে। আর অবাক করা বিষয় ওর মাথা ব্যাথাটা নেই। যেই মাথা ব্যাথার জন্য কিছুক্ষণ আগে নিজের মাথা কেটে ফেলতে মন চাইছিল তা এখন একদম গায়েব। আশ্চর্য্য!!
বর্ন ফোনটা নামিয়ে রেখে হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল ফোনের উপর ভেসে থাকা নাম্বারটার দিকে। তারপর ফোনটা সামনে এগিয়ে ধরে বলল” জরজরি বেগম, ফোনটা কেটে গেল। মনে হয় আপনার ফোনের টাকা শেষ।” ঘুমে ডুলতে ডুলতে জরজরি বেগম ফোন হাতে বর্নর রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।
#তোমার_পিছু_পিছু
পর্ব-২৪
(গল্পের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কিছু স্ল্যাং ব্যবহার করে হয়েছে……….. পাঠক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)
পারভিন বেগন দিনে দুপুরে রুমের ভারি পর্দা ফেলে বিছানায় শুয়ে আছেন। মাথার ব্যাথার জন্য জরজরি বেগমকে সেই কখন বলেছেন ঔষধ আনতে…. অথচ মহিলার কোন খোজ নেই। প্রেসারটা বোধহয় আবার হাই হয়ে যাচ্ছে,,,,বুক ধড়ফড় করছে কেনো এমন!!!
নিজের ভুলে পারভিন বেগমের নিজের মাথা চাপড়াতে মন চাইছে…………… কোন দুঃখে সেদিন ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলো মেয়ে দেখতে!!!!!
কি ভেবেছিলো!! আর কোন মুসিবতে পড়ল।……………….. ছেলে এখন ওই পাগল মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়ায়!!! রাতে বিরাতে ওই মেয়ের বাড়ি যায়!!! ইয়া আল্লাহ,,, ইয়া মাবুদ…. এই দিনও কি দেখা বাকি ছিলো…………
দশটা না পাচটা নাহ একটা মাত্র ছেলে উনার………. ছেলেকে মাটিতে রাখে নি পিপড়া কামড়াবে…….. মাথায় রাখেনি উকুনে কামড়াবে………. আচলের নিচে রেখে বড় করেছেন ছেলেকে…………. ছোট থেকে গ্রাজুয়েট হওয়ার আগ পর্যন্ত সবসময় ছেলের সাথে সাথে থেকেছেন……………… ছেলেকে ফোন দেননি…… যেনো কোন আউল ফাউল মেয়ের সাথে কথা না বলে………. ছেলেকে বন্ধু বান্ধব এমনকি একা কোথাও ঘুরতে যেতে দেন নি………. দেশের বাইরেও না……..ওর বাবা কতবার বাইরে ঘুরার ব্যবস্থা করে দিলেন,,,,কিন্তু উনি যেতে দেননি…….. পাছে কোন বিদেশী সাদা চামড়ার পাল্লায় পড়ে গেলে!!!! পড়ে না পারবে ছাড়তে না পারবে রাখতে!!!!! আর সেই ছেলে কি এখন হাত ছাড়া হয়ে গেলো………। কোন না কোন পাগল মেয়ের পিছনে মজনু সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে!!! ওই মেয়েকে নিয়ে শপিং-এ যায়!!!! দামী দামী গিফট কিনে দেয়!!!! বিয়ের এতো বছরেও বর্নর বাপকে উনি এভাবে আঙ্গুলে নাচাতে পারলেন না,,,আর এই মেয়ে……………………..!!!!
এসব চিন্তা ভাবনায় পারভিন বেগমের বুক আরো জোরে জোরে ধড়ফড় করতে লাগলো………. হাত পা কাপতে লাগলো……. জরজরি বেগম রুমে প্রবেশ করলেন হাতে এক পাতা ইটোরিক্স নিয়ে…… দুটা টেবলেট খুলে দিলেন পারভিন বেগমের হাতে….. পারভিন বেগম শোয়া থেকে উঠে বসে ঔষধ নিলেন…….. ঔষধ খাওয়ার পর ফোন হাতে কল দিলেন মিলন সাহেবকে,
-হ্যালো………… শোনো….. তুমি আজ তাড়াতাড়ি বাসায় আসবে……. জরুরি কথা আছে…..।
বলেই ফোন কেটে,,,,,,আবার বিছানায় এলিয়ে পড়লেন তিনি……
-আম্মা……. আপনেরে আমি হতকরিবার কইসিলাম…… ছোড স্যারেরে দেইক্ষা রাইখেন….। হেবলা যহন কইলাম আপনে রাও করলেন না!!! দেখলেন আমার কতাই ঠিক হইল নি………
পারভিন বেগমের পা টিপতে টিপতে জরজরি বেগম বললেন। পারভিন বেগম কোন জবাব না দিয়ে আগেত মতই চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলেন।কোন সাড়া না পেয়েও জরজরি বেগমের উচ্ছ্বাস কমল না…..
-আম্মা,,,,, আপনেতো হেদিন রাইতে হোয়াত আছিলেন…..রাইতে ছোড স্যারে আমার ফোন লইয়া ওই মাইয়ার লগে এইযে ফুসুর ফাসুর করলগো……. ওই ছেড়িও কম না…. স্যারের লগে এইযে নিটকায়া নিটকায়া গল্ফ করললগো আম্মা……..আমার মনে কি লাগেছাইন আম্মা জানেন….. ছুডো স্যারের মনে শয়তান হাইন্দাইসে……. বুজলেননি……. ছেড়া মানুষ বুজুনিতো……. সুন্দর ছেমরি দেখলেই…
পারভিন বেগম চোখ মেললেন……. জরজরি বেগমের দিকে তাকালেন…… এবং সেই দৃষ্টি সম্পুর্ণ উপেক্ষা করে জরজরি বেগন আবার বলতে লাগলেন…..
-আমরার বাইতনি আম্মা….. ঝারু ফোরা বাবা আসে…. বুজছুইন….. হেয়েও গো আম্মা এমন ফোরা দেয়……এমতান শয়তান হগোল বাফ বাফ কইরা ফালায়…….. আম্মা আমি একবার………………
-জরজরি!
-জে আম্মা……..
-তুমি এখনই আর একটা কথা না বলে আমার রুম থেকে বের হয়ে যাবে…… বুঝলে….
-আম্মা হেইলারতো…………
-জরজরি তুমি আর একটা কথা বলেছো তো……. তোমার মুখ বরাবর আমি একটা কষিয়ে লাত্থি বসাবো….. আউট…….
জরজরি বেগম আর বসলো…… তড়িঘড়ি করে গোমড়া মুখ নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। বের হয়ে দরজা ভিরিয়ে দিয়েই একটা ভেংচি কাটল………..” বেত্তমিজ বেডি…….পারে তো খালি হেডা ভরা বিষ আমরার লগে দেহাইতেই…. হুহ…… হাছা কতা কইসি…. আর আমরাই এহন…………………….. ”
বিড়বিড় করতে করতে জরজরি বেগম সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলো…………
পারভিন বেগম পুরোপুরি তৈরি হয়ে আছেন………. নিজের স্বামীকে কিছু কঠিন কথা শুনাতে।……….আজ এসব কিছুর একটা ইতি টানবেন তিনি। অনেক হয়েছে…………… আপন ছেলেকে নিয়েই এই লোকের এত্ত অনীহা………
মিলন সাহেব চেয়ারে বসে আছেন….. গরন চা টেবিলে পড়ে থেকে ঠান্ডা হয়ে গেলো…… অথচ ওনার স্ত্রীর কোন সাড়াশব্দ নেই। কি এমন কথা বলবে যে,,,,,,,,,,,, সামনে বসে থেকে এমন নাটকীয়তা শুরু করেছে!!!! আশ্চর্য্য!!! এই মহিলা হিন্দি সিরিয়াক দেখে দেখে সবকিছুতে ওভাররিএক্টিং করা চাই -ই চাই!!!!!
হালকা একটু গলা খাকাড়ি দিয়ে মিলন সাহেবই শুরু করলেন,,,,,
-কি কিছু বলবেও!!!! নাকি,,,,,,,,,,একান্তে আমার সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্যই এই জরুরী তলব।
পারভিন বেগম অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন মিলন সাহেবের দিকে…….
-আমি!!! আমি বলবো!!!! কেনো তুমি জানো না কিছু!!!! চোখ নাই তোমার,,,,,,,,অন্ধ তুমি!
-আহা!!! এতো ভড়ং চড়ং না করে আসোল কথায় আসোতো…….
-আমি ভড়ং চড়ং করছি!! হ্যা,,,,, লাগবেইতো আমার কথা ভড়ং!!!!! বিয়ে করে,,,,সন্তান জন্ম দিয়ে সব ফেলে রেখেছো আমার ঘাড়ে!!!! আর এখন যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করছি!!!! তখন আমার কথা ভড়ং মনে হচ্ছে!!!!!
পারভিন বেগমের চড়া গলায় জবাব।
-পারভিন রিল্যাক্স!!!! হোয়াট হ্যাপেন্ড!!!! সিরিয়াস কিছু?
-ছেলে!! ছেলে কই তোমার কিছু খবর কি আছে!
-কেনো কি করেছে ছেলে!!!!
-জিজ্ঞেস করো কি করবে!!! দুদিন পড়ে তোমার ওই ক্লায়েন্টের পাগল মেয়েটাকে বিয়ে করে নিয়ে আসবে!
-পারভিন তুমি আবার গোল গোল কথা ঘুরাচ্ছো….. সোজাসুজি বলোতো…….. কি হয়েছেটা কি!
-তোমার ছেলে ওই পাগল মেয়ের সাথে সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়ায়…… শপিং-এ যায়…..রেস্টুরেন্টে যায়….. দামী দামী গিফট দেয়……
-তো!!! এগুলোতো আজকাল ছেলেমেয়েদের মধ্যে কমন ব্যাপার………
পারভিন বেগম নিজের দ্বিগুন বেড়ে উঠা রাগকে সংযত রেখে বললেন,,,,
-কমন… অকমন বুঝি না আমি….. ওই মেয়েকে রাস্তা থেকে সড়াও……
-পারভিন তোমার কাছে কি আমাকে খুনী বলে মনে হয়!!!!
-চুপ থাকো তুমি…… কালই তোমার ছেলের সাথে কথা বলে সব ঝামেলা ঠিকঠাক করবে…… আমি আমার ঘরকে পাগলা গারদ বানাতে চাই না……..
-আচ্ছা দেখি….
-কালই কথা বলবে!
-কাল আমাকে ব্যবসার কাজে সিলেট যেতে হবে।
-আবার এই ব্যবসা!!!! এক কাজ করো ছেলে বউ সংসার সব বিক্রি করে দাও…… সব বিক্রি করে তুমি ঝামেলা মুক্ত হয়ে যাও……… তারপর বসে বসে তোমার ব্যবসার সাথে পিরিত মারাও।
-মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ পারভিন।
-চুপ থাকো তুমি…… আমার ছেলে যদি ওই মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঢুকেছে তো……….. সবার আগে তোমাকে আমি ঘর থেকে বের করে দিবো মনে থাকে যেনো।
কথা শেষ করেই পারভিন বেগন গটগট করে রুমের ভিতরে চলে গেলেন। মিলন সাহেব অবাক দৃষ্টিতে স্ত্রীর গমন পথেত দিকে চেয়ে রইলেন।
#তোমার_পিছু_পিছু
পর্ব-২৪
মাহমুদ সাহেব বিধ্বস্ত অবস্থায় হসপিটালের করিডোরে পায়চারী করছেন। যদিও ডক্টর ইনফরম করে গেছেন যে নীলময়ী এখন অনেকটা সুস্থ আছে…. কিন্তু তারপরও নিজের চোখে একবার না দেখলেই নয়……..
কিন্তু বিপত্তি বাধলো…………………………..
পিছন থেকে কারো স্পর্শ পেয়ে মাহমুদ সাহেব পিছনে ফিরলেন।
-হাসান….. কি অবস্থা!?… মেয়ের কনডিশন এখন কেমন?
কাজী সাহেবের প্রশ্নে মাহমুদ সাহেব কোনরকম মাথা ঝাকালেন,,
-হু…. আছে…. আছে আমার মেয়ে…………..
তিনি বর্নর দিকে তাকালেন….. চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ ছেলেটার…… মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে আনাটা কি ঠিক হলো!!! কিন্তু উনিও বা করবেন!!!! নীলময়ী সবার প্রথম বর্নর সাথেই দেখা করতে চায়…….
-আমার মেয়েটা…. জানতো একটু জেদি…… কিছু মনে করোনা বাবা….. ও প্রথমেই………….
-নীলময়ী কি জেগে আছে আংকেল!!…… আমি…. দেখা করতে চাই………
-হু… হু…. আছে… তুমি যাও বাবা… একটু ভিতরে যাও………
বর্ন নীলময়ীর কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার বড় করে দম নিলো….. তারপর খুব আস্তে করে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করল।
নীলময়ী শুয়ে…. খুব শান্তিতে ঘুমিয়ে যেনো…… বেশকিছু নল হাতে লাগানো। এত নল কেনো!!!!! নীলময়ীর কোন নড়াচড়া নেই….. শ্বাস-প্রশ্বাসও কি নিচ্ছে না নাকি!!! বর্নর ভ্রু কুচকে গেলো…… দৃঢ় পায়ে এগুলো ও……..
বেডের পাশের স্টুলটায় বসল…. ফিসফিসিয়ে বলল
-নীলময়ী আপনি ভালো আছেন!!! নীলময়ী আমি এসেছি দেখুন…….
নড়াচড়া না দেখে,,,বর্ন আঙুল দিয়ে নীলময়ীর গালে আলতো করে গুতা দিলো……. নীলময়ী এবার একটু নড়ল….. পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো…. এবং আয়েশ করে বেশ বড়সড় একটা হাই তুলল……
-গুড বয়…… আমাকে দেখে কি আপনার ভালো মনে হচ্ছে……..!!!!
-……………………..
-খুব আরামের একটা ঘুম দিয়েছিলাম জানেন!!!!! পিলগুলো খুব ভালো কাজ করেছিলো……
-…………………………
নীলময়ী বর্নর থেকে চোখ ফিরিয়ে সিলিং-এর তাকালো…… এবং তাকিয়েই রইল…….
-আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম…… খুব সুন্দর ভয়ের একটা স্বপ্ন…………….. জানতে চাইবেন না…. কি স্বপ্ন দেখেছিলাম…….
বর্নর দৃষ্টি নীলময়ী ডানহাতের দিকে। দৃষ্টি সেদিকে স্থির রেখেই মাথা ঝাকালো।
-আমি দেখলাম কি…… আমি দৌড়াচ্ছি……খুব জোড়ে জোড়ে দৌড়াচ্ছি….. জংগলের ভিতর দিয়ে দৌড়ে চলেছি….. ডালপালায় টান লেগে আমার জামা কাপড় ছিড়ে যাচ্ছে….. তাও দৌড়ে চলেছি…… কারন আমার পিছনে একটা কালো ডায়নী তাড়া করছে….. ধরতেই পারলেই জাদু করে আমাকে আটকে রাখবে…… কিন্তু কি!!!! হঠাৎ করে আমি হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম…… সাথে সাথে ডায়নীটা আমার সামনে….. আমার গলা চেপে ধরল….. তারপর “আবড়া কা ডাবড়া” বলে মন্ত্র পড়তে লাগল……. আমি এতো চেষ্টা করেও নিজেকে ছাড়াতে পারছি না……….ঠিক তখনই…… ঝড় তুফান তুলে আমার সামনে এসে দাড়ালো….. লাল নীল ড্রেস পড়া সুপারম্যান………..
সুপারম্যান এসে “ইয়া ডিসুম” বলে কালো ডায়নীটাকে এমন একটা ঘুষি দিলো……………
এতোটুকু বলেই নীলময়ী খিলখিল করে হাসতে লাগলো….. হাসতে হাসতে চোখের কোন বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো…….
-তারপর জানেন কি হলো……. সুপারম্যান আমাকে সা করে উড়ে গেলো……. কিন্তু আমি যখন চোখ খুললাম দেখি আমি এখানে……..এবং পর পরেই আমার ভয় করতে লাগলো…… যদি ডায়নীটা আবার আসে….. আর সুপারম্যান যদি আমাকে এবার না বাচাতে পারে….. তখন!!!!
-…………………..
-বর্ন,,,,, আমি যদি বলি……আপনি কি আমার সুপারম্যান হবেন?
বর্ন নিজের দুইহাত দিয়ে নীলময়ীর ডান হাত চেপে ধরল……তারপর কাপা কাপা একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল
-আমি আছি নীলময়ী….. আছি আমি…..….. আপনার সুপারম্যান।
👇👇👇
তামান্না ঘরের দরজাটা লাগিয়েই বিছানায় এলিয়ে পড়ল। এতো পরিশ্রম করতে আর ভালো লাগে না….. বসের তো শান্তি,,,,,,, এলে এলাম না এলে নাই…… আর এদিকে এমপ্লয়িদের জান যায় যায় অবস্থা…… শুধু নামেরই বস….. আজ তিনদিন যাবৎ উধাও….. আর এদিকে এতো মিটিং ক্লায়েন্ট ডিলস!!! এবার বোনাস না দিলে….. ওই নিমচা স্যারের কান ছিড়ে ফেলবে একদম তামান্না……..
তামান্না ফোনের ক্যালেন্ডার চেক করল….. কাল শুক্রবার!!! কিন্তু তাও কত কাজ!!! উফফ!!
সকালে ঘুম থেকেই উঠেই ঘরের কাজে লেগে পড়তে হয়েছে তামান্নার….. কাল রাতে বালতি বালতি ভিজানো কাপড় গুলো মাত্র ধুয়ে উঠেছে…… ঠিক তখন দরজা ধুরুম ধারুম পিটানোর আওয়াজ পাওয়া গেলো……..
তামান্না হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুলতে গেলো…… দরজা খুলে তামান্না পুরোই অবাক…….
-মিস তামান্না…….. সেদিন আমাদের ঘোরাঘুরির মাঝে এভাবে ফাকি দিয়ে আপনি চলে এসেছিলেন……. তাই আমি আপনাকে আজ শাস্তি দিতে এসেছি…….আপনার শাস্তি,,, আপনি আজ সারাদিন আমার সাথে ঘুরবেন।
(আসছে)
নিয়মিত গল্পের লিংক পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন হয়ে সাথেই থাকুন।
https://facebook.com/groups/999645603764557/