নিষিদ্ধ সে পর্ব ৫

“নিষিদ্ধ সে”

(৫)

ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় ছটফট করছি। ঘুম থেকে উঠলে ততক্ষণাৎ আমার ব্রেন কাজ করে না। তার মধ্যে শ্বাস নিতে পারছি না। কেউ দুইহাতে শক্ত করে আমার গলা চেপে ধরে আছে। মুখ থেকে শব্দ বের করতে পারছি না। কেমন ভোটকা গন্ধ এসে বারি খাচ্ছে নাকে। হাত দিয়ে পাশে বেঘোরে ঘুমানো সায়রিকে ইচ্ছে মতো বারি দিতে লাগলাম। এমনভাবে অন্ধকারে মানুষটা আমার গলা টিপে থাকলে আরো একটু পর আমি দমবন্ধ হয়ে মরবো। খামচি দিয়ে বলিষ্ঠ হাতদুটোতে ইচ্ছেমতো আচড় কাটছি। লোকটা কিছুটা ব্যাথাদায়ক শব্দে গলা ছেড়ে দিলো শেষে। ঘন ঘন দম নিয়ে উঠে বসলাম। কিছুক্ষন ধাতস্থ হয়ে বুঝলাম কে জানি ড্রিম লাইটের আলোটাও নিভিয়ে দিয়েছে। কানের কাছে কারোর মাদকতা মাখা ছাড়া ছাড়া কিছু শব্দ ভেসে এলো “সব তোর দোষ! সব! তোর জন্য আমার সবকিছু পাল্টে যাচ্ছে। আমিও পাল্টে যাচ্ছি। তুই এসেছিস পর থেকে আমার জীবনের ছন্দটাই এলোমেলো হয়ে গেছে। আমি এখন আর নির্মার রাগ সহ্য করতে পারি না। তাকে মানাতে পারছি না। তুই এসেছিস পর থেকে নরক বানিয়ে দিয়েছিস আমার জীবনটা। আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যে কাজগুলোয় মুগ্ধ হয়ে নির্মা আমার জীবনে এসেছে তোর জন্য এখন তা তার কাছে নাকি বিষের মতো।” ভয়ে ভয়ে বেড থেকে উঠে হাতড়ে হাতড়ে সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে ড্রিম লাইটের আলো জ্বালালাম। এতোক্ষন অন্ধকার চোখে সয়ে আসায় ড্রিম লাইটের আলোই কেমন দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল লাগছে। সায়র ভাইকে ঢুলুঢুলু হয়ে দাঁড়াতে দেখলাম আমার বেডের কাছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি পরে যায় সে। তার কিছু পাশে নিচে কিছু পরে আছে। এগিয়ে গেলাম তার কাছে। কাঁপা হাত তার কাধে রাখতে আমার দিকে ফিরলো।

সায়রঃ তুই শেষ করে দিচ্ছিস আমাকে নিষ্ঠা। [ঢুলতে ঢুলতে পরে যেতে গিয়েও বেড সাইডের টেবিলে হাত রেখে দাঁড়ালো] তোর জন্য নির্মা আমার জান আমায় ভুল বুঝছে।

এবার পরেই গেলো ব্যালেন্স না রাখতে পেরে। আমি সাথে সাথে গিয়ে উনাকে তুলতে চাইলাম হাত ঝারা মারলো।

সায়রঃ ডোন্ট টাচ! আমার ভার্জিনিটিতে হাত দিবি না বেশরম বেহায়া। কি মনে করেছিস আমি বুঝি না? এমনিতে তুই আমার ঠোঁটকে চেপ্টা বানিয়ে দিয়েছিস তোর ধামড়া ঠোঁটের চুমুতে। ইয়াক! [বুকের দুই পাশে দুই হাত ক্রস করে আগলে] স্টে এওয়ে ফ্রম মি। ইউ রেপিস্ট গার্ল!

আক্কেলগুড়ুম হয়ে চেয়ে আছি বলে কি! গাঞ্জা খেয়ে এসেছে নাকি? কেমন দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে মুখ থেকে। আসলেও খেয়েছে কিনা পরখ করতে আরো সামনে গেলাম।

সায়রঃ আয়ায়ায়ায়া বাঁচাও! সি উইল রেপ মি! সাম ওয়ান হ্যাল্প!

চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধরলাম। ব্যাপার কি সায়রি এখনো উঠে না কেন! সে তো একটা টু শব্দে জেগে যায়। সায়র ভাইয়ের মুখ চেপে ধরে বিছানার দিকে তাকালাম। আমি যেখানে সুয়ে ছিলাম তার পাশে বড়সড় কোল বালিশ রাখা। বৈইমান মেয়ে। সায়র ভাই মুখ চেপে ধরা অবস্থাতেই আরো কেমন কেমন করে চিল্লাচ্ছে। শব্দটা বিকৃত হয়ে মুখ থেকে বেরোচ্ছে। হাতে কামড় দেওয়ায় ছেড়ে দিলাম হাত। আবারো চেঁচাতে গেলে মুখ চেপে ধরলাম আবার। বেশ জোরে এবার কামড় দেওয়ায় রেগে মাথায় কয়েকটা গাট্টা মারলাম।

সায়রঃ প্লিজ ডোন্ট ডু দিস। আ’ম এ পিওর ভার্জিন হ্যান্ডসাম ওম্যান!

আমিঃ শালা, নিজের জেন্ডারই পাল্টিয়ে ফেলসে!

সায়রঃ ইটস ভেরি প্রাউড থিং ইউ নো! আমি ওম্যান! [হাত দুইপাশে মেলে] আ’ম ওম্যান! এন্ড ইউ রেপিস্ট গার্ল ডোন্ট ডেয়ার টু ডু এনিথিং টু মি! আদারওয়াইজ এক লাত্থি দিবো বেশরম।

হা হয়ে চেয়ে এর কাহিনী দেখছি। আমার গলা চেপে ধরে রাখার সময় মনে হলো নিজ তালে আছে অন্তত এখন পরে গিয়ে মাথায় বারি খেয়ে বোধহয় যতোটুকু তাল ছিলো সবটাই খেয়ে ফেলেছে।

সায়রঃ [আমার মুখের কাছে মুখ এনে] ক্যান আই টেল ইউ আ সিক্রেট? বাট ফার্স্টলি ইউ হেভ টু প্রমিজ মি, ইউ উইল কিপ ইট এজ সিক্রেট এজ আই কিপ ইট। উইল ইউ?

এর থামা থামা কণ্ঠে আর মুখের গন্ধে মুখ সরিয়ে দূরে যেতে গেলে মাথায় ধরে নিজের মুখের কাছে টেনে আনলো আমাকে।

আমিঃ ছাড়েন সায়র ভাই।

সায়রঃ উমহু, তুই শুনবি আমার কথা। চুপচাপ শুন।

আমিঃ আচ্ছা, মাথাটা ছাড়েন তাহলে।

সায়রঃ নোহ, তুই ভেগে যাবি নিশ্চিত। [সব দাঁত বের করে পিচ্চিদের মতো কাধ উচিয়ে হেসে] আমি যেমন রনকের থেকে পালিয়ে এই রুমে এসেছি। হাহাহাহা।

হালকা আলোয় উনার মুগ্ধকর হাসি দেখছি। সত্যি খুব সুন্দর উনি। আজ প্রথম এতো কাছ থেকে উনাকে হাসতে দেখলাম। হাসলে চোখ দুটো ছোট হয়ে আসে। কাছ থেকে উনাকে দেখে হৃদস্পন্দনও তুমুল গতিতে ছুটছে। মন রেড এলার্ট দিচ্ছে। গেলাম এবার গেলাম। পা পিছলে এর প্রেমে পরলাম। কিন্তু ব্রেন আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিয়েছে মন চাইলেও আপোস করতে পারছে না বিবেক আর ব্রেনের তাড়নায়। কানে বাজছে একটাই কথা “নিষিদ্ধ সে!” “নিষিদ্ধ সে!” “নিষিদ্ধ সে!”

সায়রঃ কি হলো প্রমিজ কর।

আমিঃ আ আ আব, তাহলে বাংলায় বলুন। আমি ইংরেজিতে কাঁচা।

সায়রঃ মূর্খ! কি পড়ে মেডিকেলে উঠলি! [দাঁত বের করা হাসি হেসে] আমি তো তাহলে ইংলিশেই বলবো। তোকে গালি দিলেও বুঝবি না হাহাহা।

আমিঃ ঘাড় ব্যাথা করছে সায়র ভাই। বলুন আমি শুনছি আপনার মূল্যবান সিক্রেট।

সায়রঃ [ঘাড় চেপে আরো কাছে নিয়ে এসে আঙুল নাড়িয়ে] কারোর কাছে বলবি না গট ইট?

মুখের উপর পরা উনার গরম নিশ্বাস বারবার কাপাচ্ছে। উনি ভ্রু কুচকে তাকালেন।

সায়রঃ তোর শীত লাগছে নিশু?

চোখ বড়বড় করে তাকালাম। ছোট্টবেলায় যখন মুড ভালো থাকতো উনার মুখে এই “নিশু” নামটা আমার জন্য প্রযোজ্য ছিলো। অবশ্য খুব কম শুনেছি উনার মুখ থেকে নামটা।

আমিঃ ঘা ঘাড় ছাড়েন।

সায়রঃ [পৈশাচিক হাসি দিতে দিতে] ভয় পাচ্ছিস রেপিস্ট?

আমিঃ [কাঁদোকাঁদো হয়ে] আমি কিন্তু শুনবো না আপনার সিক্রেট!

সায়রঃ নো নো নো, তোকে শুনতে হবে। আর এভাবেই।

আমিঃ তো ব বলেন।

সায়রঃ [ফিসফিসিয়ে] আমি না একজন ওম্যান! সো ইফ ইউ ওয়ান্ট টু রেপ মি দ্যান ফার্স্টলি ইউ হেভ টু বি আ ম্যান। [ঘাড় ছেড়ে দিয়ে হাসতে হাসতে] আমাকে রেপ করলে তুই সমকামী হয়ে যাবি। লজ্জা লাগবে না তোর?

মাদক বা গঞ্জিকা যাই খাক এই ছেলে প্রচুর ভালো এফেক্ট ফেলছে জিনিসটা বেশ বুঝতে পারছি। পাশে জ্বলজ্বল করতে থাকা লাল ছোট আলো দেখে ফোন হাতে নিয়ে দেখি বেশ অনেকক্ষন হলো আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড হয়েছে। পা মুড়ে বসে গেলাম ফোন হাতে। বাচ্চাদের মতো নিষ্পাপ হাসি দিচ্ছে এখন সায়র ভাই। আমি একদৃষ্টে ফোন হাতে তার দিকে চেয়ে আছি। সে আমার মুড়ে রাখা পায়ে হঠাৎ মাথা রেখে সুয়ে পরলো ফ্লোরেই হাত-পা ছড়িয়ে। কোলে সুয়ে আমার সামনে আসা চুলগুলো কানে গুজে তাকিয়ে রইলো আমার দিকে।

সায়রঃ তুই না ছোট থেকেও বেশ সুন্দরী হয়ে গেছিস। বিশেষ করে তোর [থুতনিতে এক আঙুল দিয়ে] এই থুতনির খাজ বড্ড আকর্ষণ করে। মনে হয় ঢিল ছুড়ে মেরে ভর্তা করে দেই একবারে। কেন এসেছিস তুই? ছোটবেলার________

গাল থেকে হাত পরে গেলো। উনি চোখ বুজে নিলেন। বিরবির করছেন চোখ বন্ধ করে। কান উনার মুখের কাছে নিয়ে গেলাম।

সায়রঃ তোকে আমি বাঁচাবো! ডাকাত আসছে? শক্ত করে ধর আমায়। আমি, আমি_____

উনি ঘুমিয়ে গেলে উনাকে দেখতে লাগলাম কাছ থেকে। মানুষের চোখ দুটো মনে হয় সৌন্দর্য নির্ধারণ করে। যার চোখ যতো সুন্দর সে ততো সৌন্দর্যের অধিকারী। বুদ্ধিদীপ্ত মায়াময় চোখ দুটোর জন্যই ছেলেটাকে বেশি সুন্দর লাগে। মনকে মানাতে না পেরে একটা নিষিদ্ধ কাজ করে ফেললাম। মানুষ হিসেবে বড্ড খারাপ আমি। মস্তিষ্ক মানুষটা নিষিদ্ধ বলে সিগনাল দিলেও আমি সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উনার সোজা চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে আলতো চুমু দিলাম। জানি না কেন করলাম কাজটা। খালি জানি এই মূহূর্তে আমার মন বারবার তাড়না দিচ্ছিলো নিষিদ্ধ কাজটা করতে। ঠোঁটটা হাসির রেখায় রেখে মানুষটা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আমার কোলে। রেকর্ডার অফ করে সময় দেখলাম। তিনটা বাজতে চললো। উনাকে রুম থেকে সরাতে হবে। রনক ভাইকে কল লাগালাম।

রনকঃ [ঘুম ঘুম কণ্ঠে] হ্যালো!

আমিঃ ভাইয়া, আমাদের রুমে এসে আপনার জানে জিগার দোস্তকে ভোরের আলো ফোটার আগে নিয়ে যান। নয়তো সকাল হলে মানুষজন আমাদের ভুল বুঝবে।

কি বুঝলেন কে জানে। কলটা কেটে দিলেন। বেশ কিছুক্ষন পর দরজা খোলার শব্দ পেলাম। রনক ভাই হালকা স্বরে আমার নাম ধরে ডাকছেন। আমি নিচ থেকে উনাকে ডাকলাম আস্তে।

রনকঃ [সায়র ভাইকে কাধে নিতে নিতে] ও উল্টা বাল্টা কিছু করেনি তো?

আমিঃ আমাকে গলা চেপে মারতো আরো একটু হলে।

রনক ভাইয়া হাসলো। সায়র ভাইকে নিয়ে যেতে লাগলো। আমি দরজার কাছ পর্যন্ত এগিয়ে গেলাম। তাকিয়ে আছি যাওয়ার দিকে। মনটা এখন খচখচ করছে। আবেগের বসে নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলায়।

চলবে__________🖤

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here